Month: September 2025

  • ফখরুল জানান, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে শঙ্কা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে

    ফখরুল জানান, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে শঙ্কা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে

    অযাচিতভাবে কিছু রাজনৈতিক দল বর্তমানে জাতীয় নির্বাচনে অস্থিরতা এবং শঙ্কা সৃষ্টি করা চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, ‘আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন, তবে আমি বিশ্বাস করি তাৎক্ষণিক না হলেও সময় মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবং এই নির্বাচন জনগণের সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, আগামী সোমবার অনুষ্ঠিতব্য জেলা বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনের জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়েছে, এবং আমরা আশাবাদী এটি সফল একটি অনুষ্ঠান হবে। বড়ো কথা হলো, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই সম্মেলন নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এছাড়া, জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সম্মেলনস্থল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানের বক্তব্যে যখন আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ‘ক্লিন ইমেজ’ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। যোগাযোগের এই সময়, সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের উপস্থিত দেখা যায়।

  • বিএনপি বললো, ফ্যাসিস্ট শাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ক্ষমতায় আনবে

    বিএনপি বললো, ফ্যাসিস্ট শাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ক্ষমতায় আনবে

    ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা চলাকালে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে, বিএনপি সেই সব প্রতিষ্ঠানকে আবার শক্তিশালী করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই উদ্দেশ্যে বিএনপিকে শক্তিশালী করে তুলতেই হবে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। গণতন্ত্রের ধ্বংস, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ক্ষতি, পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার লুটেরূপে ধ্বংস হয়েছে। এই সময়টিতে বিএনপি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দলগুলো ব্যাপক সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়ে গেছে। তাদের নেতাকর্মীদের অনেককে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে এবং চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ২৪শে জুলাই কেন্দ্রীয়ভাবে ছাত্র, তরুণ, শিশু, নারীসহ সর্বস্তরের জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য রাস্তায় নেমে আসে। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর জুড়ে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। ঠাকুরগাঁওয়েও গত ১৫ বছরে আমদানিন্তরে প্রায় ১২ জন শহীদ হয়েছেন। জুলাই মাসে চারজন শহীদ হয়েছেন। এই অঞ্চলসহ সমগ্র দেশে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টরা শতাধিক মামলা করে হাজারো গণতান্ত্রিক কর্মীকে হয়রানি ও নির্যাতনের পালা চালিয়েছে।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিএনপি একটি ঐতিহাসিক দল। আজ আমরা একটি মুক্ত পরিবেশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির সম্মেলন করতে যাচ্ছি, এই উপলক্ষে আমরা আমাদের ১২ জন শহীদ সহকর্মীকে স্মরণ করছি। তিনি স্মরণ করেন, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতंत्रের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতीयতাবাদী দল গঠিত হয়, যা দীর্ঘ ৪৭ বছর আন্দোলন করে আসছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, প্রাণ দিয়েছে এবং কখনোই গণতন্ত্রের লড়াই থেকে সরে আসেনি।

    তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়াও দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গণতন্ত্র ফিরে এনেছেন। তিনি কোনদিন মাথা নত করেননি। সেই মহান নেত্রী এখনো দেশের নেতৃত্বে আছেন এবং তার জন্য আমরা গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তিনি আশাবাদী যে, দেশের তরুণ ও এমন সব নেতৃবৃন্দের প্রতি সকলের নজর রয়েছে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনগুলোতে জাতি আবারও গণতন্ত্রের পথ শক্তিশালী করবে। তিনি বুঝানোর মাধ্যমে জানান, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনে দেশ ভেঙে গেছে, সব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী করার জন্য বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, আমি নিজেও এই সংগ্রাম ঘরানার একজন।

    ২০১৭ সালে সর্বশেষ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর নানা জটিলতার কারণে আর সম্মেলন হয়নি। তবে এখন সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে। সম্মেলনের জন্য সুবিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।

    নেতৃবৃন্দের ধারণা, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পয়গম আলী, ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শরিফুল ইসলাম শরীফ। এর মধ্যে শরিফুল ইসলাম গত রোববার রাতে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এই নির্বাচনে মোট ৮০৮ জন কাউন্সিলর ভোটাধিকারে নেতৃত্ব বেছে নেবেন।

    জেলা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল হান্নান হান্নু জানান, সম্মেলনে পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার মোট ৮০৮ জন কাউন্সিলর,সংগঠনের আরও ৪ হাজার নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি ও সমাজকর্মীদের উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • তারেক রহমানের আশঙ্কা: সহজভাবে নেওয়া ভুলের সংকেত

    তারেক রহমানের আশঙ্কা: সহজভাবে নেওয়া ভুলের সংকেত

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি সহজভাবে নেয়া ভুল উদ্যোগ বলে মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা যদি সব কিছু সহজ করে ভাবি, তাহলে বিপদে পড়তে পারি। এক বছর আগে তিনি বলেছিলেন, আমাদের পরিস্থিতি সহজ নয়, বরং এটা জটিল একপ্রকার।
    সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
    তারেক রহমান জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও জাতীয় ঐক্য কমিশন বিষয়ে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে অংশগ্রহণ করেছে। তারা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছে, তবে কিছু বিষয় নিয়ে মতান্তর থাকায় সেগুলো দেশের জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি বললেন, আসুন জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখি, তাদেরই শেষ কথা। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য জনগণের আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
    তিনি আরও বলেন, ‘দেশে জবাবদিহিতা, নির্বাচনী ব্যবস্থা সবকিছু একসময় ধ্বংস করে দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করা হলেও, এখনও নানা ষড়যন্ত্রের কারণে গণতন্ত্র ধুলোয় মিশে গেছে। শাসক দলের শোষণ, গুম, খুনের ঘটনা সাধারণ মানুষের জীবনে টানা একটি অন্ধকার যুগের শুরু করে।’
    তারেক রহমান স্মরণ করে, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যে স্বপ্ন দেখেছিল মানুষ, তা এখন অনেকাংশে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশে এখনো স্বৈরাচার চেষ্টার কোনও সুযোগ নেই। গণতন্ত্রের জন্য যারা জীবনদান করেছে, তাদের আত্মত্যাগের বদলেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন।
    বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গত ১৬ বছরে আমাদের দেশে বিভিন্ন রাজপথে রক্তপাত, আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়েছে সাধারণ জনগণ। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা, নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা—সবই আমাদের চোখে পড়ে। কিন্তু শেষমেশ বিজয় দেশের মানুষেরই হয়, শোষকরা পালিয়ে যায়। দেশের মুক্তি ও স্বাধিকার অর্জনে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের জায়গা অপ্রতিরোধ্য।’
    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে নীতিও রয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, অন্য দলগুলোরও নিজস্ব পরিকল্পনা ও নীতিসহ রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বশীল রাজনীতির জন্য প্রয়োজন সবার মাঝে একত্রে কাজ করা। দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠন, কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করা, বেকার সমস্যা কমানো ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের বক্তব্য দিচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, অবাঞ্ছিত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, স্বৈরাচার ফিরে আসার পরিবেশ তৈরি হবে, যা দেশের জন্য সঙ্গত হবে না। সবাইকেই দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। সরাসরি বক্তব্যের পাশাপাশি যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’
    প্রসঙ্গত, সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এখন যখন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখনই দেশের শত্রুরা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করতে চায় তারা।
    তিনি আরও সাবধান করে বলেন, যারা ভোটের পথে বাধা সৃষ্টি করার চিন্তা করছে, তাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা—ভুল পথে চললে দেশের মানুষ উপকারী হবে না। জনমত ও গণতন্ত্র রক্ষা আমাদের দায়িত্ব।
    সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিনকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তিনি সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এছাড়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

  • সবকিছু এখন পর্যন্ত ইতিবাচক: সাদিক কায়েম

    সবকিছু এখন পর্যন্ত ইতিবাচক: সাদিক কায়েম

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মনোনীত ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সাদিক কায়েম সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক ও সুন্দর রয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে কার্জন হলের চত্বরে তিনি এসব কথা বলেন। সাদিক কায়েম বলেন, আমি সকাল থেকেই বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। সব কিছুই স্বাভাবিক ও সুবিন্যস্ত। যদি শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়, তবে আমি আশাবাদী যে আমরা জয়ী হব। এখন পর্যন্ত পরিবেশের সব কিছুকেই পজিটিভভাবে দেখছি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আমি মনে করি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ফলাফল আসবে। এ ছাড়াও, এবারের নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেলে দলের মূল নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী, আপ বাংলাদেশ ও ইনকিলাব মঞ্চের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনের জন্য তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে মোট ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবিরত চলবে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোটদানের জন্য লাইনে থাকা শিক্ষার্থীরাও ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ সারা দিন বন্ধ থাকবে, যা আগামী বুধবার সকালের ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

  • ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী বলেছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ঢুকেছি

    ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী বলেছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ঢুকেছি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার পথে নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে চলেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের নিয়ম ভাঙচুরের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি জানান, তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভোটকেন্দ্রের সামনে উপস্থিত থাকাকালে এই কথা বলেন।

    অভিযোগ রয়েছে, প্রার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বিশেষ কার্ড বা পারমিশন দেয়নি, ফলে তাকে মেয়েদের হলে অবস্থিত ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই তিনি বলেন, আমি এ ঘটনাকে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া ভোটের অংশ হিসেবে দেখছি এবং অভিযোগ করতে চাই না।

    প্রথম থেকেই অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল সমর্থিত পক্ষের বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে তারা অনিয়মের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এই কেন্দ্রটিতে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দিচ্ছেন।

    প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকেরা বাইরে থেকেও ভোট প্রার্থী ও প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা যায়। কিছু নারী ভোটার এই কার্যক্রমে আপত্তি জানিয়ে প্রতিবাদ করেন, কিন্তু আবিদুল ও তার সমর্থকরা দাবি করেন, তারা ভোট চাইছেন না; তারা মূলত প্রার্থীদের ব্যালট নম্বর সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করছেন কারণ ভোটাররা এই নম্বরগুলো মনে রাখতে অসুবিধা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো প্রার্থী কেন্দ্রে ঢুকে ভোটের জন্য প্রার্থনা বা ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে না। এমনকি কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে এসব অনুমোদিত নয়।

    প্রতিপক্ষের অভিযোগের মাঝে দেখা গেছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রের কাছেই বুথ ও টেবিল স্থাপন করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা কোনো নিয়মভঙ্গের কাজ করিনি। আমাদের হেল্প ডেস্ক কেন্দ্র থেকে অন্তত ১৫০ মিটার দূরে আছে।

    অতীতে এই নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ধরণের অনিয়মের অভিযোগ ওঠলেও, এ ফালতু অভিযোগ ও গুজব থেকে মুক্ত থাকাই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন। নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্ব ও সতর্কতা অবলম্বন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

  • গোয়ালন্দে মাজারে হামলার ঘটনায় ইমামসহ ১৮ জন গ্রেপ্তার

    গোয়ালন্দে মাজারে হামলার ঘটনায় ইমামসহ ১৮ জন গ্রেপ্তার

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরু পাগলার মাজারে হামলা, পুলিশ বাহনের ভাঙচুর, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে অন্যতম হলো স্থানীয় মসজিদের ইমাম লতিফ হুজুর, যিনি ঘটনার সময় পলাতক ছিলেন। আজ ভোরে তাকে মানিকগঞ্জের চর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশাসনের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে জানানো হয়, গোয়ালন্দে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, মাজার ভাঙা, মারামারিতে আহত, নিহতের ঘটনা, সম্পদ লুট, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    এদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরাল পাগলার দরবারে অগভীর অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায় জনতার এক দল। এই ঘটনার সময়, নুরাল পাগলার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলস্বরূপ একজন নিহত ও দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এর পাশাপাশি, হামলাকারীরা নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুড়িয়ে দেয়।

    নুরাল পাগলার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. আজাদ মোল্লা (৫৫) সোমবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছে।

  • ডাকসু নির্বাচনে পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি

    ডাকসু নির্বাচনে পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের সময় কার্জন হলে এক ভোট কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা এক নতুন ঘটনা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের সময় এমন একটি পরিস্থিতির জন্য এক পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যখন একজন শিক্ষার্থীকে দুইটি ব্যালট দিতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অধিদফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কার্জন হলে দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অমর একুশে হলের ভোটকেন্দ্রে এক ভোটার ভুল করে একের বেশি ব্যালট পেয়েছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার, জিয়াউর রহমান, তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই ঘটনা অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল এবং অভিযোগকারী ভোটারও বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। এরপর বিষয়টি দ্রুত সচেতনতা ও সতর্কতার সঙ্গে সমাধান করা হয়। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, নির্বাচন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খলার জন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দুর্ঘটনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

  • সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামসহ আ.লীগের ৭ নেতাকে গ্রেফতার

    সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামসহ আ.লীগের ৭ নেতাকে গ্রেফতার

    ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য বলে জানা গেছে। গোপন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগে রয়েছে, এই দলের সঙ্গে তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।

    ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব।

    অপরদিকে, এর আগে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকেও একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • রংপুরে গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির অভিযোগ

    রংপুরে গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির অভিযোগ

    রংপুরে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের মরদেহ নিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিস্ফোরক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান মরদেহের গুলির চিহ্ন বা মৃত্যুর কারণ সুরতহালে যথাযথভাবে উল্লেখ না করতে পুলিশের একটি অংশের চাপ দিয়েছিলেন। এই তথ্য আশ্চর্যজনক এবং উদ্বেগজনক, কারণ এতে স্পষ্ট হয় যে, গোয়েন্দা ও তদন্তের স্বচ্ছতা রক্ষায় বাধা দেওয়ার জন্য পুলিশের একটি অংশ এই ঘটনা ধামাচাপা রাখার চেষ্টা করছিল।

    আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে এই বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন এসআই তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৬ জুলাই বিকেলে তিনি তাজহাট থানায় দায়িত্বে ছিলেন। হঠাৎ ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে জানতে পারেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি মরদেহ রয়েছে। প্রথমে আন্দোলনের ভিড় থাকায় তিনি তা দেখতে যাননি। পরে উর্ধতন কর্মকর্তা নির্দেশ দিলে আবার হাসপাতালে গিয়ে আবু সাঈদের মরদেহ দেখতে পান, যেখানে তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল এবং মাথার পেছনের অংশ থেঁতলানো ছিল।

    এসআই তরিকুল ইসলাম আদালতকে জানান, তিনি যখন মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করছিলেন, তখন সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান তাকে স্পষ্টভাবে বলেন যে, রিপোর্টে লেখা যাবে না যে ওই ব্যক্তিকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। যখন তিনি অভিযোগ করেন যে তিনি সত্য লিখতে চান, তখন তাকে না করার জন্য রেগে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক হুমকি দেন। তিনি তাকে চাকরি খোয়ানোর কথাও বলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, 당시 পুলিশের একটি অংশ বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিল।

    উল্লেখ্য, এই মামলার পক্ষে বিভিন্ন সময়ের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা এক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমগ্র পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মামলার তদন্ত ৬২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে এখনও ২৪ জন পলাতক। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চারজন আইনজীবী নির্দেশিত হয়েছেন। মামলার আর্জি ও অভিযোগ নিয়ে আদালতে শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান।

  • মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সম্মান রক্ষা করবই

    মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সম্মান রক্ষা করবই

    সেনার সদর দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, কোনো আন্দোলন বা কোনো চক্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখার বা ক্ষুণ্ণ করার সুযোগ নেই। সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য ব্যক্ত করেন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক কর্নেল স্টাফ কর্নেল মোঃ শফিকুল ইসলাম।

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বাসায় দুর্বৃত্তের সৃষ্টি করা মব বা হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে এবং এই গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান অটুট থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যারা এ ধরণের অবাঞ্চিত কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, তারা কখনোই আমাদের সম্মান পায় না, বরং তাদের কঠোর দৃষ্টিতে দেখা হয়।

    উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে যখন এক মব সৃষ্টি হয়েছিল, তখন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। সেনা কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেন, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যাবে ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরও জানান, মবের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখবে। যেখানে যেখানে মব সৃষ্টি হয়, সেখানে দ্রুত সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কখনও কখনও কিছু বিলম্ব হয়, যা মূলত তথ্য সংগ্রহের জন্য। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে মোতায়েন করে, এরপর সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে দেরি হলে পরিস্থিতি জটিলতা দেখা দিতে পারে, তবে সেনাবাহিনী কখনোই লুকোচুরি করে না, বরং সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

    বিশ্লেষণে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে নৃশংসভাবে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা মব সৃষ্টি করে আইন হাতে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তবে, আইনশঙ্খলা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী একা দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে, কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, একই ঘটনা যখন ঘটে, তখনই সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেখানে যায়। কখনও কখনও বিলম্ব হয়, কারণ পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য জানাতে একটু দেরি হয়। ফলে, কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

    অবশেষে, রাজবাড়ীতে নুরুল হক বা ‘নুরাল পাগলারের’ মরদেহ পোড়ানোর ঘটনাসহ অন্য কয়েকটি ঘটনার ব্যাপারে তিনি জানান, পুলিশ যখন ঘটনাস্থল জানতে পারে, তখনই সেনাবাহিনী সেখানে মোতায়েন করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১১টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া, দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী একযোগে কাজ করছে।