জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা আজ পদত্যাগ করেছেন। এ ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন মূলত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের বিপর্যয়ের পর। নির্বাচন শেষে জাপানের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, যা দলের মধ্যে ব্যাপক চাপ তৈরি করে। অনেক নেতাই তখনই ইশিবাকে পদত্যাগের জন্য প্রাথমিক দাবি জানায়, যদিও তিনি প্রথমে সেটিকে মানতে চাননি। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা শুল্ক চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চান। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ও পার্লামেন্টে জোটের পতনের কারণে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকায় অবশেষে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূলত তাঁর নেতৃত্বে জাপানের বিভিন্ন নির্বাচনে দল বারবার হেরেছে। এর ফলে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই তাঁর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভেঙে পড়ে এবং নিম্নকক্ষের ভোটে দল ও জোট সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়। ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে অধিক উদ্বেগের ফলে জনমত ক্ষোভে রূপ নেয়, যা তাঁর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক দল ও ডানপন্থী নেতাদের পক্ষ থেকে তাঁকে পদত্যাগের জন্য চাপ বাড়তে থাকে। শনিবার রাতে, ইশিবার সঙ্গে তার দলীয় নেতারা বৈঠক করে তাকে পদত্যাগে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। যদিও, এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে ইশিবার ঘোষণা আসার কথা রয়েছে চলমান পরিস্থিতিতে। আগামী দিনগুলোয় নতুন নেতা হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে রক্ষণশীল নেতা সানায়ে তাকাইচি, যিনি গত বছর দলের শীর্ষ পদে নির্বাচিত হন, এবং বর্তমান কৃষিমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে জাপানের রাজনীতিতে সক্রিয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইশিবার পদত্যাগ অনিবার্য ছিল। তাদের মধ্যে কোইজুমি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবেন না বলেই প্রত্যাশা হলেও, তাকাইচির দৃষ্টিভঙ্গি দেশের অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাপানি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা জুলাইয়ের চুক্তির অংশ। তবে, টোকিওর শুল্ক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই বাণিজ্য চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টরসের ওপর শুল্ক সংক্রান্ত কয়েকটি আদেশ এখনো জারি করেনি। এই পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তির কার্যকারিতা এবং তার প্রভাব এখনো ঝুঁকি বহন করছে।
Month: September 2025
-

ইউক্রেনের মন্ত্রিসভার ভবনে রুশ হামলা
রোববার সকালের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে দেখা গেছে, রাশিয়া ব্যাপকভাবে আঘাত হেনেছে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের লক্ষ্যে। এই হামলার বিশেষ দিক হলো, প্রথমবারের মতো রুশ সেনারা ইউক্রেনের মন্ত্রিসভার ভবনটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিডেনকো এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, যুদ্ধের শুরু থেকে এFirstTime ইউক্রেনের সরকারি ভবনে এমন হামলা ঘটলো। হামলায় ভবনটির ছাদ ও উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চালাচ্ছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, ড্রোন হামলায় ভবনটিতে আগুন ধরে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানায়, গত দিনটি ছিল রাশিয়ার দিক থেকে ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহারে সর্বোচ্চ, যেখানে আটশর বেশি ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিসাইল ও ৫৬টি ড্রোন বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হেনেছে, যা এক দিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আলাদা করে জানানো হয়, এই হামলায় আটটি আলাদা জায়গায় ড্রোন ও মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। বিবিসির সাংবাদিক সারাহ রেইনসফোর্ড বলেছেন, সকালে তিনি দেখেছেন ইউক্রেনের স্বাধীনতা চত্ত্বর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে, এবং কিছুক্ষণ পর রাশিয়ার দুটি ক্রুস মিসাইল দ্রুতগতিতে উড়ে আসতে দেখে তিনি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত ইউক্রেনের মহানগরাঞ্চলে এ ধরনের শক্তিশালী হামলা খুবই বিরল, কারণ সেখানে সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে রোববার সকালে রাশিয়া এত ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে যে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তার পুরো সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এই হামলায় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। এছাড়া অন্যান্য অঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
-

শ্রম সংকট মোকাবিলায় থাইল্যান্ডের চোখ শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশে
শ্রম সংকটের কারণে বিদেশি শ্রমিকদের প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলেছে থাইল্যান্ডে। এর অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথমে ১০ হাজার শ্রমিক আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন থেকেও শ্রমিক আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। থাইল্যান্ডের কৃষি, নির্মাণ ও মৎস্যশিল্প দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা শ্রমিকরা এই খাতের মূল শক্তি। দেশের শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত কম্বোডিয়ার শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৬০৬ জন। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অনুমান করছে, আরও প্রায় ৫ লাখ নিবন্ধনবিহীন কম্বোডিয়ার শ্রমিক থাইল্যান্ডে কাজ করছে। কিন্তু ২৪ জুলাই থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের পর অনেক শ্রমিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় কয়েক লাখ শ্রমিক শ্রমবাজার ত্যাগ করেছেন। ফলে শিল্পখাতে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী পংকাভিন জুয়াংরুয়াংকিত বলেছেন, শ্রীলঙ্কা এখনই ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাতে প্রস্তুত। এর মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি শ্রীলঙ্কান শ্রমিক থাইল্যান্ডে কাজের জন্য নিবন্ধন করেছেন। পাশাপাশি ক্যাবিনেট বৈঠকের সারে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকেও শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার শ্রমবাজারে কাজ করছেন। ভালো মজুরি ও কর্মপরিবেশের কারণে তারা বেশ জনপ্রিয়, তবে এখনও থাইল্যান্ড বাংলাদেশীদের জন্য খুব বেশি গন্তব্য হয়নি। তবে বর্তমান সংকট নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশের বেকারত্বের হার ছিল মাত্র ৮.১ শতাংশ। এর অর্থ, স্থানীয় শ্রমিকের অভাব বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। থাইল্যান্ড চেম্বার অব কমার্সের গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক আনুসর্ন তামাজাই বলেছেন, ‘থাইল্যান্ডের শ্রমনির্ভর শিল্প বিদেশি শ্রমিক বWithout more context or information about the specific news article, it’s challenging to add further elaboration. If you’d like, I can help expand or clarify specific parts or provide a more detailed version based on additional details.
-

গাজা শহরে আরও এক বহুতল ভবন ধ্বংস, নিহতের সংখ্যা ৬৫ ছাড়ালো
ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটিতে ইসরায়েল আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে, যার ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলার ফলে এই অঞ্চলে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৬৫ জনে, তাদের মধ্যে আশ্রয়হীন বহু পরিবার এখন মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিনী সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে হাজারো পরিবার তাদের বসবাসের স্থান হারিয়েছেন। গাজা শহরের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েলের এই আক্রমণ। বিশেষ করে, তারা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে এই অঞ্চলের দখলকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
দখলদার বাহিনী আরও জানিয়েছে, আল-রুয়া টাওয়ারসহ আরও বেশ কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। রোববারে, এই ভবনগুলোর ওপর আঘাত হানে ইসরায়েলি সেনারা। এর ফলে, গাজার সবচেয়ে বড় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে।
অপরদিকে, গাজার উত্তরাঞ্চলে রোববার আরও অন্তত ৬৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই আশ্রয়শিবিরে থাকাকালীন নিহত হয়েছেন। বলাও হয়, ইসরায়েলি সেনারা ভবনটিতে হামলা চালানোর আগে বাসিন্দাদের সরতে বলেছিল। ফলে, আশ্রয় নেওয়া বহু পরিবার আহত অথবা পালিয়ে গেছেন।
ফিলিস্তিনি বিভিন্ন এনজিও ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে এখন এক মানবিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে। আমজাদ শাওয়া নামের একজন ফিলিস্তিনি এনজিও নেতা বলেন, “অবস্থা ভয়ঙ্কর, চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বহু পরিবার আশ্রয় হারিয়েছেন। ইসরায়েল এখন মানুষকে দক্ষিণে সরিয়ে নিতে চাইছে, কিন্তু সেখানে নিশ্চয়তামূলক নিরাপদ স্থান এখনও পাওয়া যায়নি।”
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন যে, তাদের সেনারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও উচ্চ ভবন’ ধ্বংস করছেন। তবে, আল-রুয়া টাওয়ার ছিল একটি পাঁচতলা ভবন, যেখানে ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান, একটি ক্লিনিক ও জিম ছিল। এর আগেও আল-জাজিরা ক্লাব এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত শনিবার সউসি টাওয়ার এবং গত শুক্রবার মুশতাহা টাওয়ার ধ্বংসের ফলে আশ্রয়হীন পরিবার কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক পরিবার জানায়, “আমাদের কিছুই অবশিষ্ট নেই। কিছু আনতে পারিনি। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।”
আগস্ট মাসে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করে, যার ফলে ইতোমধ্যেই কমপক্ষে এক লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে তারা বলছেন, ইসরায়েল যেখানে বলুক না কেন, গাজায় কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। গাজা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের ‘মানবিক নিরাপদ অঞ্চল’ সংক্রান্ত দাবি মিথ্যা। অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও এলাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ সংবাদ দেন, “প্রতি পাঁচ থেকে দশ মিনিটে গাজা সিটির চারপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চলছে। ইসরায়েল দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন ও বোমা রোবট ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। ধ্বংসের ভয়ে বহু মানুষ এখন আশ্রয়ে রয়েছেন। শনিবার আল-ফারাবি স্কুল কেন্দ্র করে হামলার সময় কমপক্ষে আটজন নিহত হন, তাদের মধ্যে শিশু ও অসংখ্য নারী রয়েছেন।”
-

মোগল সিনাই পর্বতের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি আর উন্নয়ন ঝুঁকিতে
পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থান সিনাই পর্বত, যা বিশ্বের অন্যতম ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত, বর্তমানে বহুমাত্রিক পরিবর্তনের মুখোমুখি। এই পাহাড়ের ওপর অবস্থান করে রয়েছে সেই প্রাচীন স্থান যেখানে নাবী মুসা (আঃ) আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছিলেন। এই বিশেষ স্থানটি হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত থাকলেও এখন মিসর সরকার এর উন্নয়ন কাজের জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সিনাই পর্বতটি শুধুমাত্র ইসলাম בלבד নয়, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের জন্যও অত্যন্ত পবিত্র স্থান। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই মহান নবী মুসা (আঃ) ঐশ্বরিক বাণী পেতেন। স্থানীয়রা এই পর্বতটিকে ‘জাবালে মুসা’ বা মুসার পর্বত নামে ডেকে থাকেন। বাংলায় অনেকের কাছে এটি তুর পাহাড় নামে পরিচিত হলেও প্রকৃত নাম সিনাই পর্বত, আর আরবিতে এন্টি বলা হয় ‘তুরে সিনাই’। এই অঞ্চলের ধর্মীয় গুরুত্ব অন্যরকম, যেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা বছরভর ইখতিয়ারে এই স্থানে গিয়ে তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করে থাকেন। এখন মিসর সরকার এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিতে বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিতর্ক দানা বাঁধছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলে জেবেলিয়া নামে এক বেদুইন সম্প্রদায়ের বাসবাস রয়েছে, যাদের বহু বছর ধরে এ জায়গায় বসবাস। তবে সম্প্রতি এই বসতি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি তাদের অনেকের মরদেহও সমাধিস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ লেখক বেন হফলার জানিয়েছেন, এই প্রকল্পকে দেশের উন্নয়ন ও টেকসই বিকাশের একটি অংশ হিসেবে দেখানো হলেও, স্থানীয়দের স্বার্থ উপেক্ষা করে বহিরাগতদের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সিনাইয়ে প্রায় ৪ হাজার জেবেলিয়া বেদুইনের বাস রয়েছে, কিন্তু তাদের বেশির ভাগই এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই পরিকল্পনা নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার হয়েছে গ্রিস, যেখানে সেন্ট ক্যাথরিন মঠের ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। চলতি বছর মে মাসে এক মিসরের আদালত ঘোষণা দেয়, এই প্রাচীন খ্রিস্টান মঠটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। এর ফলে গ্রিসের সঙ্গে মিসরের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। গ্রিসের আধিপত্যবাদী ধর্মীয় নেতা আর্চবিশপ দ্বিতীয় ইয়েরোনিমোস এই রায়কে অপ্রীতিকর বলে সমালোচনা করেন। দীর্ঘদিনের আর্চবিশপ দামিয়ানোস এই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়াবহ’ আঘাত বলে মনে করেন, যা দলীয় বিভাজন তৈরি করে। অন্যদিকে, জেরুজালেমের গ্রিক প্যাট্রিয়ার্ক বলেছেন, এই স্থান তাঁদের ধর্মীয় অধিকার ও ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, বাইজেন্টাইন যুগ থেকে এ স্থান মুসলমানদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয়। এলাকাটি এখনো আদালতের রায় বহাল থাকলেও, কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। গ্রিস ও মিশর যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছে, এই স্থানটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সালে শুরু হয় ‘গ্রেট ট্রান্সফিগারেশন’ প্রকল্প, যার মধ্যে রয়েছে নতুন হোটেল, ইকো-লজ, পর্যটন কেন্দ্র, ছোট বিমানবন্দর এবং ক্যাবল কার। তবে, এই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যের ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবী করে পরিবেশবাদীরা। ইউনেসকো পর্যটন অনুরূপ এ অঞ্চলের সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে আহবান জানায়। ২০২৩ সালে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্য নির্দেশ দেয়। গত বছর, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচ সতর্ক করে দেয় যে, সিনাইয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, ব্রিটেনের রাজা চার্লসের পক্ষ থেকেও আবেদন জানানো হয় এই প্রাচীন স্থাপনার সংরক্ষণে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অজুহাতে বহু ঐতিহাসিক স্থানসহ সিনাইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক জমিই ngày দিন ճিে ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা আবারো পর্যটন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ক্রমশ, দেশের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে তিন কোটি পর্যটক আকৃষ্টের। স্থানীয় বেদুইনরা দীর্ঘদিনই মৌখিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, বলছেন, তাঁদের মতামত ও অধিকার উপেক্ষা করা হচ্ছে। ১৯৬৭ সালের ইসরায়েল সংগ্রাম ও অন্তর্দ্বন্দ্ব শেষে সেনা দখলদারিত্বের পরেও পরিস্থিতি আরও জটিল। জনসংখ্যা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও পর্যটনপ্রেমীদের কাছে এক রহস্যময় সত্য। সেন্ট ক্যাথেরিন মঠ হাজার বছরেরও বেশী সময় ধরে টিকে আছে, যেখানে অনেকে দেখতে আসেন নবী মুসা (আঃ) এর ঐতিহাসিক আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের স্মারক, বা প্রাচীন কোডেক্সগুলো। এই সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য এ যেনো এক অনন্য নিদর্শন, যা আতিথেয়তা ও সংরক্ষণ জরুরি।
-

অভিষেক নির্বাচনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে
সাবেক সংসদ সদস্য, বিসিবির সাবেক সভাপতি এবং খুলনা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলী আসগর লবী বলেছেন, সাতাশ বছর ধরে একটানা আন্দোলন সংগ্রামে নারীরা শুধু সাহস দেখিয়েছেনই না, বরং জাতির মুক্তির জন্য রক্তক্ষরণ করেছেন। তিনি বলেন, Juli বাঙালির মহান বিপ্লবের সময় নারীরা রাজপথে থেকে সাহসিকতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে ফ্যাসিস্ট এবং স্বৈরশাসক সরকার পতন হয়েছে। আগামী নির্বাচনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য Prepare করা প্রয়োজন।
তিনি রোববার বিকেলে উপজেলা বিএনপি’র নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ফুলতলা উপজেলা মহিলাদলের কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফুলতলা উপজেলা মহিলাদলের সভাপতি মিতা পারভীন। প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন খুলনা জেলা মহিলা দলের সভাপতি তছলিমা খাতুন ছন্দা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক শেখ আবুল বাশার, জেলা মহিলাদের সাধারণ সম্পাদক এড. সেতারা বেগম। এছাড়া, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসমিন ভূঁইয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিদা বেগম সভায় বক্তব্য দেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। -

বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবি নিয়ে হরতাল and প্রতিবাদে জেলা জুড়ে ধর্মঘট
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে একটিকে কমিয়ে জেলাকে তিনটি সংসদীয় আসনে বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এলাকাজুড়ে বিশাল আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি করে। ৩০ জুলাই প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাগেরহাটের চারটি আসনকে তিনটিতে সংক্ষেপিত করা হবে। এরপর থেকেই বাগেরহাটের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, চারটি সংসদীয় আসন বহাল থাকুক এবং জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বের স্বার্থে কোনও পরিবর্তন আনতে না। তবে ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে, যেখানে চারটি আসন পরিবর্তন করে তিনটি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে বাগেরহাটবাসীর মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা তাদের আন্দোলনের সূচনা করে। সোমবার সকালে শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে গাজীপুর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে ব্যাপক হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি। মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট, মোংলা ও পিরোজপুর মহাসড়কসহ জেলার অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গাড়ি, গাছের গুড়ি ও বেঞ্চ রেখে নানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। হরতালের সময় বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা জেলা প্রশাসকের ভবনের সামনে অবস্থান নেন, যাবতীয় কার্যক্রমে অংশ নেয়। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, জামায়াত, বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। নেতৃত্বরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি উঠে আসলেও কর্তৃপক্ষ এর গুরুত্ব দেয়নি। তাঁদের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রতিবাদের দাবি রাখে এবং এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষের গণআস্থা নষ্ট হয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের আন্দোলন জোরদার করতে সবাই যাত্রা চালিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।
-

চিতলমারীতে অর্থের সংকটে বর্জ্য অপসারণে বিঘ্ন
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও সদর বাজারের বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজ অর্থ সংকটের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সময়মত যেখানে বর্জ্য না সরালে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে। পরিবেশের এসব দূষণজনিত কারণে দূর-দূরান্ত থেকে বাজারে আসা মানুষ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বসবাসকারী কিছু হাজার মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। যদি দ্রুত বর্জ্য অপসারণের গাড়ি মেরামত বা নতুন গাড়ি কেনার ব্যবস্থা না হয়, তাহলে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। এই ব্যাপারে আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের গোপনীয় সহকারী মোঃ আনোয়ার হোসেন পারভেজ জানান, এ জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদে মোট ১৭টি দপ্তর ও ১৮টি পরিবার বসবাস করে। সদর বাজারে প্রায় এক হাজার দোকান ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে অনেক মানুষ কাজ করে। এ ছাড়া আরও প্রায় ২০০ পরিবার বসবাস করছেন এই এলাকায়। এখানে রয়েছে একটি হাসপাতাল, বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিদিন বাজার ও বিভিন্ন সরকারি কাজে আসা লাখো মানুষ এই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশে ব্যবহৃত কাচামাল, আবর্জনা জমা করে রাখে। এই আবর্জনা জমাট বাঁধে গভীর গন্ধ সৃষ্টি করে এবং পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যায়। মূলত এই বর্জ্য স্থানীয় উপজেলা পরিষদ ও হাসপাতালের চত্বরে, সদর বাজারের অলিগলিতে ফেলা হয়, যেখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ চলাফেরা করে। এই আবর্জনা নদী ও খালে গিয়ে জমা হয়, যার ফলে নদী ও জলাধার মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। প্রতিদিন চিত্রা নদীতে ১০ থেকে ১২ টন আবর্জনা নিক্ষিপ্ত হয়।
২০২১ সালের জুলাই থেকে শুরু করে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় বর্জ্য অপসারণের কাজ চালু হয়। তবে এখন পর্যন্ত এই কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরিবহন বা গাড়ির অভাবে। উপজেলা পরিষদের জন্য এই বর্জ্য অপসারণের জন্য একটি গাড়ি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচে তৈরি করা হয়। এই গাড়ির মাধ্যমে চারজনের একটি টিম কাজ করে থাকে, যাতে রয়েছে মোঃ হাবিবুর রহমান, ড্রাইভার মোঃ ওয়াবায়দুল শেখ এবং পরিছন্নতাকর্মী রফিকুল ইসলাম ও হোসেন তালুকদার। এই দলে প্রত্যেকের বেতন মাসে ২৯ হাজার টাকা। তার সঙ্গে ড্রাইভারের জন্য মাসিক ৯,৫০০ টাকা ডিজেল ও মবিলের খরচ যোগ হয়। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও খরচ হয়। প্রতিমাসে এই গাড়ি থেকে ৩৬ হাজার টাকা আদায় হয়, যা বিভিন্ন দপ্তর ও জনগণ থেকে সংগ্রহ করা হয়। তবে বর্তমানে ড্রাইভার ও কর্মীদের তিন মাসের বেতন বেশ কিছু বকেয়া রয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা সচেতন হলেও সরকারি সহায়তা না থাকলে এই পরিষেবা সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চিতলমারী বাজারের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা সেতু কর্মকার, ননী গোপাল কর্মকার, গৌর সুন্দর ঘোষ, মোঃ নজরুল মীর ও মোঃ মাসুদ গাজী জানান, আগে তার পরিবারজনের আবর্জনা নিয়ে বড় দুর্ভোগে পড়তে হতো। তবে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু হওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তারা বলেন, এখন যদি এটি অব্যাহত থাকে, আমরা খুবই উপকৃত হবো।
স্কুল শিক্ষক মোঃ সাফায়েত হোসেন বলেন, বর্জ্য হচ্ছে কঠিন, তরল, গ্যাসীয়, বিষাক্ত ও বিষহীন ধরনের। জীববৈচিত্র্য রক্ষা, রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। তাই এই কার্যক্রম চালু থাকা খুবই জরুরি এবং এ ব্যাপারে সবদিক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
-

বাগেরহাটের চার আসন পুনঃবহালের দাবিতে হরতাল চলছে; নির্বাচন অফিসে তালা
মোংলা ও রামপালসহ বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনঃবহালের দাবিতে সংঘটিত হচ্ছে ব্যাপক হরতাল। প্রথম দিনের এই অবরোধের কারণে মোংলার সব পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পরিবর্তে থেমে গেছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই হরতাল চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, যেখানে নদী পারাপার, ইপিজেড, মোংলা বন্দরসহ সব ধরনের শিল্প ও সরকারি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবহন ও নৌপরিবহন বন্ধ রেখেছেন হরতালকারীরা। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতৃবৃন্দের নির্দেশে এ কর্মসূচি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চালানো হবে। এই প্রথম দিন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন এবং মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌকানাল দিয়ে সব নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে। নদীর দুই পাশে ইপিজেডের গার্মেন্টস শ্রমিকসহ শত শত মানুষ কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। দুরপাল্লার বাসগুলোও শহর থেকে ছেড়ে যায়নি, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনমান বিঘ্নিত হয়েছে। সকাল থেকে মোংলা শহরজুড়ে সড়ক-মহাসড়কে টায়ার জ্বালানো হয়েছে এবং বিভিন্ন মোড়ে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে হরতাল কার্যক্রমে সহায়তা করছে। এছাড়াও তারা নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং মোংলা উপজেলা নির্বাচন অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন স্বাধীনতার পর থেকে থাকছে। তবে ৩০ জুলাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচ কমিশন একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে এই চারটি আসন একটিকে তিনটিতে পরিবর্তন করার প্রস্তাবনা থাকছে। এর বিরুদ্ধে মোংলা ও বাগেরহাটবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। আসন্ন সিদ্ধান্তে যদি নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে তারা আরো কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
-

খালিশপুর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিখা গ্রেপ্তার
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে খালিশপুর এলাকার একটি অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খালিশপুর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শারমিন রহমান শিখাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছে থাকা বিভিন্ন তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে বিভিন্ন যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
প্রথমে এটি জানা যায় যে, বিগত সরকার আমলে বিএনপি ছাত্রধরনের নেতাদের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় শিখার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সন্দেহ দেখা দেয়। পুলিশের হাতে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ এসে পৌঁছালে এ বিষয়টি আরও নিশ্চিত হয়। পলাতক অবস্থায় থাকলেও পুলিশ তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে। শেষ পর্যন্ত, রোববার সন্ধ্যায় শিখাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা ও আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান রয়েছে।
