Month: September 2025

  • ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুর পদত্যাগ

    ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুর পদত্যাগ

    ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রু পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে আস্থা ভোটে পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। এই খবর জানিয়েছিল বার্তা সংস্থা এএফপি, যা থেকে জানা যায়, সোমবার বায়রু নিজের আহ্বান করা ওই আস্থা ভোটে শোচনীয়ভাবে হেরে যান। এর ফলে দেশের রাজনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং মাখোঁর কাঁধে নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজে বের করার দায়িত্ব এসে পড়ে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাখোঁ আশপাশের কয়েক দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করবেন। এই ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে আগাম নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা समाप्त হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এএফপি কে বলেছেন, বায়রু তার পদত্যাগপত্র মাখোঁর কাছে জমা দিয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী এর নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বায়রু ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

  • নেপালে সেনাবাহিনীর কারফিউ জারি

    নেপালে সেনাবাহিনীর কারফিউ জারি

    নেপালে বর্তমান পরিস্থিতি খানিকটা আলাদা রকমের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রীর কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পরও দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসেনি। এখন দেশের শাসনক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে চলে গেছে, তারা রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে যাতে অশান্তি রোধ হয়। অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বুধবার সকালে বড় ধরনের কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয় বেশ কিছু এলাকায় ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকে জেলার সংশোধনাগারে হামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, দেশটির সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না নতুন সরকার গঠন হচ্ছে, তারা দেশটির শাসন ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। ছাত্র-যুবকদের আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশজুড়ে, যা সোমবার এবং মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। কাঠমান্ডু থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে, হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান, এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের আগুনে পুড়ে যায় নেপাল পার্লামেন্ট ভবন, ওলি ও তার মন্ত্রিসভার বাসভবন। এমনকি দেশের সুপ্রিম কোর্টেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নেন দুষ্কৃতকারীরা। অনেক জেলে হামলা চালিয়ে বিবদমান বন্দিরা পালানোর চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষী এবং পালানোর চেষ্টাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলি চালানো হয়। বন্দিদের গুলিতে সাতজন আহত হন, তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সাধীন অবস্থায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বাঁকে জেলার পোখরার জেলেও হামলা চালানো হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ বন্দি বিভিন্ন জেল থেকে পালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী নানা জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেনাপ্রধান অশোকরাজ সিগডেল বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বিক্ষোভের দাবিপত্র জানা। বুধবার রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদলের আবারও বৈঠক হতে পারে। এই বৈঠকে মধ্যস্থতা করবেন সেনাবাহিনী, যা থেকে একসময় সমাধানের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের প্রধান সচিবালয় ভবনের নিয়ন্ত্রণও সেনা গ্রহণ করেছে। লুটপাট বা ভাঙচুরের খবর পেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। দেশের নাগরিকের সহযোগিতা চেয়েছে সেনাবাহিনী। অশোকরাজ সেনাপ্রধান সকলের উদ্দেশে বলেছেন, প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকুন এবং আলোচনায় বসুন যাতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তারা নিশ্চিত করেছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে—সেই জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

  • হোয়াইট হাউসের দাবি: কাতারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল ইসরায়েলির হামলার বিষয়ে

    হোয়াইট হাউসের দাবি: কাতারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল ইসরায়েলির হামলার বিষয়ে

    ইসরায়েলে চালানো হামলার ব্যাপারে কাতারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট। তিনি মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই হামলার আগে তাদের জানিয়েছিলেন যে, তারা শিগগিরই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যক্রম চালাবে। এ খবরটি তখনই যুক্তরাষ্ট্র জানতে পারে। নেতানিয়াহু সঙ্গে কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্টাফের মাধ্যমে দোহাকে এই হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

    তথ্য আরও জানানো হয়, কেবল হোয়াইট হাউস নয়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাতারস্থ ঘাঁটিও দোহাকে সতর্কতা পাঠিয়েছিল। হামলার পর, ট্রাম্প কাতারের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে না।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিশ্বস্ত মিত্র হলো কাতার। সেখানে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়ে এই দেশ গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতা করছে। বর্তমানে, এই সংঘর্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

    সম্প্রতি, ট্রাম্প গাজা পরিস্থিতি শান্ত করতে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছেন এবং সেই বিষয়ে আলোচনা চলার সময়, কাতারিয়ার এক ভবনে হামাসের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। ঠিক সময়ে, ইসরায়েলের বিমান হামলা চালায় ওই ভবনটিকে লক্ষ্য করে। ইসরায়েলির প্রতিরক্ষা বাহিনী বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই হামলাটি হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল হায়া ও পশ্চিম তীর শাখার নেতা জাহের জাবারিনকে হত্যার লক্ষ্যেই চালানো হয়েছিল। তবে সেই লক্ষ্য সফল হয়নি; গত ঘটনার মধ্যে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে পাঁচজন হামাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে কোনো উচ্চপদস্থ নেতা ছিল না।

    সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘হামাসকে নিশ্চিহ্ন করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য জরুরি লক্ষ্য, তবে দোহায় ইসরায়েলের এই হামলা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাবে না।’ সূত্র: এএফপি।

  • ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু

    ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু

    ফ্রান্সের আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি নিয়োগ পেয়েছেন সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু। এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন এক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে, ফ্রান্সের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু তার সরকারে অনাস্থা ভোটে হার মানেন এবং তার পদত্যাগের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জায়গা খালি হয়।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৯ বছর বয়স্ক লেকোর্নু খুব দ্রুতই দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বের জন্য শীর্ষ পছন্দের একজন হয়ে ওঠেন। তিনি গত তিন বছর ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং এই সময়ে তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের ঘটনায় ফ্রান্সের ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

    ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাখোঁ দায়িত্বপ্রাপ্ত লেকোর্নুর কাছে কাজের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগামী বাজেট পাস করা। বিশেষ করে, সাবেক সরকারের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বাজেট পাসে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাইরুর সরকারের পতনের মূল কারণ ছিল বাজেটের জন্য সংসদে আস্থা ভোটে_FAIL}াৱা়।

    নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেকোর্নু দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য হলো ফ্রান্সের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের সেবা এবং দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

    তাঁর সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশটির অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। বর্তমানে ফ্রান্সের সরকারী ঋণ ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউরো, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১১৪ শতাংশ। বাইরুর বিশ্লেষনে, অর্থনীতি সচল রাখতে ৪৪ বিলিয়ন ইউরো বাজেট কাটা প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু সংসদে সেই প্রস্তাব পাস হয়নি। ফলে, তার সরকার অনাস্থার মুখে পড়ে।

    বিভিন্ন রাজনৈতিক মিত্ররা এখন লেকোর্নুর নিয়োগে স্বস্তি ব্যক্ত করেছেন। মোদেম দলের মন্ত্রী মার্ক ফেনো বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধার আনতে সকলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি। অন্যদিকে, বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’-এর নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশো মন্তব্য করেছেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কিছু হচ্ছে না, আর মনে করছেন, এ সময় প্রেসিডেন্ট মাখোঁর অধিকার শেষ হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মাখোঁ হয়তো মধ্যবামের রাজনৈতিক দিক থেকে কিছু করণীয় করছেন। এমনকি, সমাজতান্ত্রিক নেতা অলিভিয়ে ফোর সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত নিরবে থেকেছেন। অন্যদিকে, চরম ডানপন্থী নেতা মারি ল পেন অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট এখন তার ঘনিষ্ঠদের নিয়ে ‘বাঙকার থেকে’ মাখোঁর বিরুদ্ধে শেষ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

    গত বছর ইউরোপীয় নির্বাচনে ফলাফল অপ্রত্যাশিতভাবে খারাপ হওয়ার পর, মাখোঁ আনুমানিকভাবে জাতীয় নির্বাচন ডেকে দেন। সেই নির্বাচন ঝুলন্ত সংসদ তৈরির ফলে দেশে বিশেষ ধরণের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এখন, প্রাধান্যপ্ৰাপ্ত তিনটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হলো – বামপন্থী, চরম ডানপন্থী ও কেন্দ্র।

    প্রসঙ্গত, ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল অবধি মাখোঁর প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এদুয়ার ফিলিপ। তিনি মনে করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে লেকোর্নুর অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। ফিলিপ মন্তব্য করে বলেন, আমি লেকোর্নুকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি; তিনি বিতর্কে পারদর্শী এবং এই ধরনের পরিস্থিতিতে এই দক্ষতা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, বাজেট বিষয়ে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও সমঝোতা না হলে দেশে আবারো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা নতুন নির্বাচনের দরকার পড়তে পারে।

    অতীতের মতোই, এখন নতুন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বৃহৎ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা। সম্প্রতি, দেশে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ ট্রিলিয়ন ইউরোতে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১১৪ শতাংশ। বাইরু বাজেট কাটছাঁটের প্রস্তাব দিলেও, সেটি সংসদে পাশ হয়নি। ফলে, তার সরকার অনাস্থা পায় এবং নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়।

    অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। মহামারি আন্দোলন ‘ব্লোকোঁ তু’ নামে দাবিটা করছে, যেখানে এর পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৮০ হাজার পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • গাজায় নিহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক, নতুন করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হলো ফিলিস্তিনিদের

    গাজায় নিহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক, নতুন করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হলো ফিলিস্তিনিদের

    ২৩ মাস ধরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার মানুষ আবার রক্তাক্ত হয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ এখন কাতারে থাকলেও, গাজায় চলমান সামরিক অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনের অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি বাহিনী উপত্যকায় আরও অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে সাতজন নিহত হয়েছেন উপত্যকার দক্ষিণে ত্রাণ সংগ্রহের সময়।

    ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে ফিলিস্তিনিরা দক্ষিণের এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে যেতে বলা হয়। তা না মানলে জীবনহানির সতর্কতা দেওয়া হয় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি হুমকি দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, গাজার বন্দরে ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। গাজার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-মুখাবারাত এলাকাতেও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বেশ কিছু বাস ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ এলাকাতেও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে অনেক বাড়িঘর ধ্বংসের মুখে পড়ে এবং দুজন নিহত হন।

    অন্যদিকে, গাজার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে ইসরায়েলি সেনারা তীব্র হামলা চালাচ্ছে। স্থানীয় উদ্ধার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় গাজায় পাঁচটি বহুতল ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। ওই ভবনগুলোতে ছিল দুই শতাধিক ফ্ল্যাট। এ ছাড়া, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য গড়ে তোলা ৩৫০টিরও বেশি তাঁবু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৭ হাজার ৬০০ মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।

    এদিকে, গত সোমবার গাজা শহরের জামাল আবেদ স্ট্রিট থেকে ফিলিস্তিনিদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি প্রশাসন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই এলাকায় হামলার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। একারণে, দ্রুত সময়ে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের ‘নিরাপদ’ তালিকায় থাকা অস্থায়ী এলাকা আল-মাওয়াসিতে যেতে বলা হয়েছে।

    অভিযান শুরুর পর থেকে আল-মাওয়াসিকে নিরাপদ এলাকা হিসেবে প্রচার করা হলেও, সেখানে বেশ কিছু ভয়ঙ্কর অ্যাটাক চালিয়েছে আইডিএফ। যুদ্ধের শুরুতে এই এলাকায় বাস করত ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ, তবে বর্তমানে এই এলাকাটি মাত্র ১৬ বর্গ কিলোমিটার হলেও বাস করছেন এর দেড় লাখের বেশি মানুষ, যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় তৃতীয়াংশ।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৬৪,০০০, যেখানে শিশুর সংখ্যা ২০,০০০ এর বেশি। মানুষ এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে, নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় চাইছে, কারণ এই সংঘর্ষের ছিন্নভিন্ন পরিস্থিতিতে গাজা আজ জেগে উঠছে এক বিভীষিকা হয়ে।

  • খুবিতে ‘রিসার্চ প্রসেস এন্ড টুলস’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত

    খুবিতে ‘রিসার্চ প্রসেস এন্ড টুলস’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটি (কেইউআরএস) এর উদ্যোগে ‘রিসার্চ প্রসেস এন্ড টুলস’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গবেষণাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ResearchMate এর সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।তিনি বলেন, গবেষণা হতে হবে বিশ্বমানের ও প্রভাববিস্তারকারী। বিশ্বমানের গবেষণা করার জন্য গবেষণার কৌশল, ডাটা সংগ্রহের পদ্ধতি ও আধুনিক গবেষণা টুলসের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ গবেষকদের উন্নতির জন্য বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের মধ্যে যুক্ত হতে হবে, মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি সহযোগিতা চালিয়ে যেতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে। তিনি আরও জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি বিভাগে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা গবেষণামূলক কার্যক্রমে শিক্ষকদের সহায়তা করবেন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে উৎসাহিত করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী এবং ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আজিম। তিনি গবেষণা প্রক্রিয়া, তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক গবেষণা টুলস ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। ResearchMate’র সভাপতি দেবাশীষ অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন সাবেক সভাপতি মিনহাজুল আবেদীন সম্পদ। সেশনের পরে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়, যার সভাপতি চয়ন বকশি এবং সাধারণ সম্পাদক গৌড় মুন্ডা। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণার জন্য নতুন দিক নির্দেশনা ও প্রেরণা পাওয়া যায়, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের গবেষণা প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • সুন্দরবনের জলদস্যু কাজল-মুন্নার বাহিনীর তিন সদস্য গ্রেফতার

    সুন্দরবনের জলদস্যু কাজল-মুন্নার বাহিনীর তিন সদস্য গ্রেফতার

    সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবনের নদ-নদীতে জলদস্যু কাজল-মুন্না বাহিনীর দাপট বেশই ছিল। মঙ্গলবার রাতে শ্যামনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই দস্যু দলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এই সময় তাদের কাছ থেকে ৭৪ হাজার টাকা মুক্তিপণ ও ব্যবহৃত মোবাইল ও সীম জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শ্যামনগরের ছিত্তরঞ্জন মালিকের ছেলে সাহা সুব্রত মালিক (৪৩), পরিতোষ রায়ের ছেলে বিপ্লব রায় (৩২) এবং মৃত কৌতুক বিশ্বাসের ছেলে লক্ষণ বিশ্বাস (৭২)। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সুন্দরবনে অপহৃত দুই জেলেও উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলো, শ্যামনগর উপজেলার কালেন্সি গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে আব্দুসালাম (২৫) ও ভেটখালী নতুনঘেরি গ্রামের হরে কৃষ্ট ধীবর (২৭)। এর আগে, সোমবার ভোরে এই জলদস্যু বাহিনী সুন্দরবনের পায়রাটুনি খাল থেকে জিম্মি করে দুই জেলেকে, পর পর মুক্তিপণ আদায় করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিরা জলদস্যু করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই সব জেলেদের অপহরণ করে বিকাশ নম্বরে মুক্তিপণ পাঠানোর নির্দেশ দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ এই তিন দস্যুকে আটকের পাশাপাশি জেলেদের মুক্তি ও উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের টাকার অনেকাংশ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হয় বলে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যে এই দালালের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু ব্যক্তি ও সংগঠনের সন্ধান পাওয়া গেছে। পুলিশ বলেছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এই বিষয়ক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • খুলনার রূপসা খেয়াঘাটে ভোগান্তির অব্যাহত অবস্থা

    খুলনার রূপসা খেয়াঘাটে ভোগান্তির অব্যাহত অবস্থা

    খুলনার রূপসা খেয়াঘাটটি একদিকে যেমন নদী পারাপারে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, অন্যদিকে এটি ভোগান্তির এক নিত্যনৈমিত্তিক অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই ঘাট দিয়ে নদী পাড়ি দেন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগই অভিযোগ করেন ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার, অসাধু মনোভাব ও অনিয়মের কারণে দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে রাতে এই অনিয়মের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। রাতে আগেভাগেই, অর্থাৎ নয়টায় যাওয়ার আগে, জনপ্রতি পারানি (প্রতি যাত্রীর জন্য নেওয়া অতিরিক্ত ভাড়া) পাঁচ টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়াও Sাড়ে ১১টার পর থেকে রাতের অন্ধকারে পুরুষ ও মহিলাদের কাছ থেকে দশ টাকা করে পারানী নেওয়া হয়। আইনি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই মোটরসাইকেল ভাড়া হয় বিশ থেকে ত্রিশ টাকা। ট্রলারে সাধারণত ধারণের ক্ষমতার চেয়েও বেশি যাত্রী নেওয়া হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মাঝিয়ারা দুর্ব্যবহার করে থাকেন। উপরন্তু গ্যাংওয়ে দিয়ে জনসাধারণের চলাচল ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে ভাটা অবস্থায় গোটা পদ্ধতিই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রশাসনের কোন কার্যকর নজরদারি না থাকায় বিভিন্ন অনিয়ম এখন পর্যন্ত অব্যাহত। সম্প্রতি রূপসা ঘাট কর্তৃপক্ষ কিছু কাঠ বিছিয়ে দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন নতুন গ্যাংওয়ে স্থাপন ও পুরাতন গ্যাংওয়ের দ্রুত অপসারণের জন্য। বাইনতলা গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, “ট্রলার মাঝিরা অনিয়ম করছে, দেখার মতো কেউ নেই।” যাত্রী জাহিদুল ইসলাম জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মাঝিদের অপমান ও হাততালি করা হয়। ট্রলার হয়তো ২০ জনের জন্য তৈরি, কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো হচ্ছে অব্যাহতভাবে। এতে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন সময় নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন তাঁরা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ নিয়মিত এই ভোগান্তিতে পড়েন। বিগত সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হলেও বর্তমানে তা আর হয় না, ফলে মাঝিয়ারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। খেয়াঘাটে পারাপার করতে সাহস পাওয়া যেকোনো যাত্রীর জন্য পারানী গুণতে হয় আট টাকা। এই সব অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে নদী পার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

  • সুশাসন ও কার্যকর নীতি সংস্কার আদর্শের বিকল্প নয়, ড. দেবপ্রিয়

    সুশাসন ও কার্যকর নীতি সংস্কার আদর্শের বিকল্প নয়, ড. দেবপ্রিয়

    দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও পাবলিক পলিসি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় সুশাসন, অর্থনীতি ও নীতিগত সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র এসব সংস্কার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে উপযুক্ত নীতি প্রণয়ন করা অপরিহার্য, যা দেশের উন্নয়ন ক্ষেত্রের অগ্রগতি and টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) সফল বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

    আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের লেকচার থিয়েটারে ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘Bangladesh in Transition: Governance, Economy and Policy Reforms’ শীর্ষক সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা তুলে ধরেন।

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংস্কার কার্যকর করতে প্রথমে আমাদের মানসিকভাবে দৃঢ়তা অর্জন করতে হবে, যেখানে স্পষ্টভাবে সমস্যার দিকগুলো চিহ্নিত করতে হবে। ধারণাগুলোকে বাস্তবায়নে পর্যায়ে নামানোর জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি নীতিগত সমন্বয় জরুরি। এই সময় বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে হবে এবং সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে নির্ধারণ করতে হবে। কিছু স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ হতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, টেকসই সংস্কারের জন্য একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সকল অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিনিয়োগের গতি বাড়াতে হবে এবং সংস্কার কার্যক্রমকে সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নিতে হবে। এই প্রক্রিয়া একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়; এটি একটি মানসম্পন্ন এবং সামগ্রিক উদ্যোগ। এজন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, যিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি আরও গতিশীল করার জন্য সুশাসন ও নীতিগত সংস্কারকে যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। তিনি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বের উপর জোর দেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তুলতে এবং দেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে উঠিয়ে রাখতে সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।

    সেমিনারটি প্রধানত সভাপতিত্ব করেন ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ড. কাজী হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজবিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জোবায়ের হোসাইন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক এবং প্রভাষক আইরিন আজহার ঊর্মি।

    সেমিনারে মূল বক্তা ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন বর্ষের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।

    এর আগের দিন সকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউל করিমের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘটে, যেখানে উপাচার্য ড. দেবপ্রিয়কে স্বাগত জানিয়ে মনোগ্রাম খচিত একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।

    উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ড. কাজী হুমায়ুন কবীর এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

  • মানবকল্যাণে বিশাল ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিভাগীয় কমিশনারের মন্তব্য

    মানবকল্যাণে বিশাল ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিভাগীয় কমিশনারের মন্তব্য

    অন্ধত্ব নিরসন ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তর ও দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর অংশ হিসেবে খুলনায় বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন, চশমা বিতরণসহ ব্যাপক চক্ষু চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সাইটসেভার্সের সহযোগিতায় ব্র্যাক এবং খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে এই বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয় এবং ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালিত হয়। এই ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার নগরীর নূরনগর পানি উন্নয়ন বোর্ড মিলনায়তনে, যেথায় সকাল ১০টায় শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক বিএফইউজের সহ-সভাপতি রাশিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও কেসিসির প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা অপরিহার্য। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যসেবা ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সবাইকে মানবসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, এ ধরনের সেবামূলক কাজের ক্ষেত্রে সরকার সর্বদা পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম এবং ব্র্যাক খুলনা জেলা সমন্বয়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (অ) আবুল হাসান হিমালয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা সাইটসেভার্সের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর বনফুল চুমকি, দৈনিক দিনকাল খুলনা ব্যুরোর প্রধান সোহরাব হোসেন, বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার খান নাহিদ মুরাদ অনিক, ব্র্যাকের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মোঃ মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, শামসুজ্জামান মুক্তা, বাবা হোসেনসহ অনেকে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পে বিনামূল্যে ৩৬ জনের ছানি অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়, যাঁদের চোখে এই অস্ত্রোপচার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রাহকদের মধ্যে ৫২ জনকে বিনামূল্যে রিডিং গ্লাস দেওয়া হয় এবং মোট ২৪৫ জনের চক্ষু চিকিৎসা হয়। এই ক্যাম্পে হতদরিদ্র রোগীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষণীয় ছিল। বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের সুযোগ পেয়ে অনেকের চোখে আনন্দের ঝলক দেখা যায় এবং তারা নতুন জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখছে।