ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী সাদিক কায়েম। বিজয়ের পরদিন আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই জয়কে ব্যক্তিগত বলা থেকে বিরত থাকেন। সাদিক কায়েম বলেন, এটি শুধুমাত্র আমার নয়, বরং এটি ‘জুলাই প্রজন্ম’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর সম্মিলিত জয়। এটি হচ্ছে এক বৃহৎ ছাত্র আন্দোলনের জয়, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়েছে, যেখানে জয়ী হয়েছে শহীদদের আত্মঅর্পণের স্বপ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্বাধীনতার অভিলাষ। তিনি আরও বলেন, এই বিজয় শহীদদের আত্মত্যাগের ফল। আমরা অশ্রুসিক্ত সাহসীর আত্মা স্মরণ করছি—মুক্তিযোদ্ধা, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ, আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামের শহীদ এবং শহীদ আবরার, যিনি ছাত্ররাজনীতির সহিংসতায় প্রাণ হারান। মহান আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। সাদিক কায়েম তার দায়িত্ব সম্পর্কে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাকে এবং আমার প্যানেলকে যে আস্থা ও ভালোবাসা দিয়েছেন, আমি তার মর্যাদা জানাই। আমরা চেষ্টা করব সেই আস্থার সত্যিকার মূল্য দিতে। আমাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার অঙ্গীকার রক্ষা করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উন্নত ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে। গবেষণার জন্য সুযোগ নিশ্চিত, নিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যের নিরাপত্তা হবে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ যত্ন এবং সমানাধিকার। নারী শিক্ষার্থীদের সাহসী অংশগ্রহণের জন্য আমি তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দিচ্ছি, যা আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি চাই, সবাই যাতে আমাকে শুধু ভিপি হিসেবেই না, বরং ভাই, বন্ধু ও সহপাঠী হিসেবে জানুক। আমি আমার ভাষা ও আচরণে সম্পূর্ণ বিনয়ী থাকব, যেন অহঙ্কারের কোনো ছাপ না পড়ে। আমি ঢাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত করতে আশাবাদী। একটি উন্নত, গবেষণাধর্মী, নিরাপদ ও সমানাধিকার নিশ্চিত ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। নারীর অবদানকে আমি বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছি, কারণ তাদের সাহসী অংশগ্রহণ আমাদের প্রেরণা দিয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সবাই এখন আমাদের পরামর্শদাতা। সবাই একসঙ্গে কাজ করবে যাতে আমাদের ভবিষ্যত আরো স্মারক ও শক্তিশালী হয়। শেষ বিভাগে, সাদিক কায়েম বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকর্মীর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি, তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। পাশাপাশি, যারা এই নির্বাচন কাভার করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এই দায়িত্ব একটি কঠিন পরীক্ষা, আমরা চাই সফলভাবে তা উত্তীর্ণ হতে। শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও একটি মানবিক, আধুনিক ক্যাম্পাস গড়তে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া চাচ্ছি।
Month: September 2025
-

ডাকসু নির্বাচনে শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, যারা এই নির্বাচনে জিতেছেন, তাদের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং গণতন্ত্রের মূল রীতি হলো সকলকে শুভেচ্ছা জানানো। তবে নির্বাচনে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে গেছে, যা বহুদিন পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ। এসব স্বাভাবিক বিষয়, যা উপযুক্তভাবে মনোযোগ দিয়ে সমাধান করা উচিত। শেষ পর্যন্ত এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অবস্থিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকলেও অনেক ডাকসু বিজয়ী শিক্ষার্থী পরে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। কেউ কেউ এখনো সক্রিয়ভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির বাস্তব চিত্র, যা তিনি ‘পোস্টমর্টেম’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ডাকসু ও সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা অনেক সময় দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে বর্তমানে এই নির্বাচিত নেতাদের কেউ কেউ বড় রাজনীতিতে এগোতে সক্ষম হয়েছেন, আবার অনেকে এখনও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ছবিটা দেশের শিক্ষা ও রাজনীতির সম্পর্কের বাস্তবতার প্রতিফলন।
সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া ডাকসুর নেতারা দেশের রাজনীতিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। তাই, ছাত্র রাজনীতি এবং বৃহৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংযোগ থাকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে দেশের সমাজে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে, যা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। ছাত্র সংসদ ও ছাত্র রাজনীতির গুরুত্বকে তিনি অস্বীকার করেন না, কারণ এর মাধ্যমেই পরিবর্তনের সূচনা হয়।
-

আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল তা আদায় করব: আবিদুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, তিনি নির্বাচনের ইশতেহারে যা ঘোষণা করেছিলেন, তা বাস্তবে পূরণ করার জন্য উঠে পড়ে লড়বেন। তাঁর কথায়, এটি তাঁর যাত্রার শেষ নয়; বরং নিজস্ব সীমাবদ্ধতা এবং নতুন ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তনে তাঁর হাতেই ভবিষ্যতের নতুন সূচনা হবে। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্রার্থী সাদিক কায়েমের কাছে হেরে যাওয়ার পর আবিদুল ইসলাম একটি ফেসবুক পোস্টে ফলাফলকে কারচুপি এবং নির্বাচনকে প্রহসন বলে উল্লেখ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।
উল্লেখ্য, ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদের নির্বাচনে শিবিরের পক্ষই বিজয় লাভ করে। ভিপি পদে ১৪ হাজার ৪২ ভোট অর্জন করে শিবিরের প্রার্থী মোঃ আবু সাদিক কায়েম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।
বুধবার দুপুরে একটি পোস্টে আবিদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘আমি কখনো ভাবি নি যে আমি এত দূর আসব। নির্বাচনের আগের রাতে খালেদ মুহিউদ্দিন ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ৫ বছর পর নিজের ভবিষ্যৎকে কোথায় দেখতে চান? আমি সেই সময় নিশ্চিত উত্তর দিতে পারেনি। আমি জানতাম না কখনো নিজেকে কোথায় দেখতে চাই। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে রাজপথে সরিয়ে নিয়েছি; এবং সেই মেজাজে আজও আছি। এই নির্বাচনের দিন শুরু হয় মিডিয়ার অপপ্রচার দিয়ে, দিনভর আমি বিভিন্ন জায়গায় ভোটের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত আসার আশায় আমি এখনো রয়েছি।’
আবিদ আরও লিখেছেন, ‘আমরা সবাই পরিপূর্ণ মানুষ নই। আমি জানি, আমি আপনাদের জন্য সবসময় যথেষ্ট কিছু করতে পারিনি; জীবন একেক সময়ে তেমন সুযোগ দেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভাই-বোনের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যারা ভোট দেওয়ার জন্য এসেছেন। মাত্র ২০ দিনের ক্যাম্পেইনে আমি চেষ্টা করেছি সব ছাত্রের কাছে পৌঁছানোর। অনেকের কাছাকাছি গিয়েছি, কিন্তু সবকে স্পর্শ করতে পারিনি। আমি আশ্বস্ত করে বলছি, আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়; বরং আরও দীর্ঘ হবে।
নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন ছাত্রনেতা হিসেবে উল্লেখ করে আবিদ বলেন, ‘কথা দিচ্ছি, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে যা যা ছিল, তা বাস্তবে আদায় করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করব। নতুন ছাত্ররাজনীতির শুরু আমাদের হাত ধরে হবে। আমরা রাজপথে সতর্ক দেহে থাকব, দেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কাজ করব। ইনশাআল্লাহ, আপনি এই পরিবর্তনটি পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনে দেখবেন। আমি কখনো 여러분কে ছেড়ে যাব না।’
পোস্টটি শেষ করেন আবিদুল কিংবদন্তি নাগরিক অধিকার ও বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উক্তি দিয়ে: “আমরা ক্ষণস্থায়ী হতাশা গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু কখনো অজেয় আশাকে হারাতে পারব না।”
-

ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে: মান্না
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যত জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, এ প্রজন্ম বর্তমানে দুর্বৃত্তায়িত ও চাঁদাবাজী রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তনের জন্য কিছু করার প্রত্যাশা করছে। বুধবার ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ: সংস্কার বাস্তবায়নের পথ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ।
মান্না বলেন, রাজনীতি এখন শুধু মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে, যা টেকসই নয়। তিনি আশ্বস্ত করেন, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব, কারণ জনগণ এখন বিকল্প খুঁজছে।
ডাকসু নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের মতো অপ্রস্তুত দলগুলো এখন শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যা আগে অনেক ভয়ংকর ছিল। এখন তারা মাথা উঁচিয়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে এবং বড় দলগুলোর জন্যও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এর পিছনে বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা কাজ করছে, যা অনেক কিছুই পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।
তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানুষের প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন, ভোট হবে কি না? তবে ডাকসু নির্বাচন দেখিয়েছে পুরোপুরি সুষ্ঠু ভোট সম্ভব এবং এটি এখন জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য। ছাত্রসমাজের সাহসিকতা প্রশংসনীয়, যা আগের প্রজন্মের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
বক্তা উল্লেখ করেন, অতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দাঁড়াতে পারতেন না, এখন তারা সাহস করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সূচক এটাই যে, এখন আর বিশাল জনসভা নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া ও নতুন প্রজন্মের ভাবনায় রাজনীতি গড়ে উঠছে। এই প্রজন্ম প্রথাগত দখলদার ও প্রোটোকল-ভিত্তিক রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে এবং বোঝে, রাজনীতি মানে আন্তরিকতা, সংগ্রাম ও অঙ্গীকার; এটি লুট ও ক্ষমতার শর্টকাট পথ নয়।
মান্না আরও বলেন, ছাত্ররা ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সুবিধাবাদের পথে হাঁটলেও, ছাত্ররা পরিবর্তনের নতুন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নত, দুর্নীতিমুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য একে অন্যের সঙ্গে ঐক্য ও সংস্কার জরুরি। সংকট নিরসনে সুপ্রিম কোর্টের রায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যা সব দলেরই মানতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনীতি হালকাভাবে না নেওয়া উচিত। এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত এক সংগ্রাম। তাই সবাইকে সৎ, অংশগ্রহণমূলক ও সংস্কারমুখী রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর নির্বাচন ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আলোচনা সভায় কিছু মতের দ্বিমতও উঠে আসে। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, যদি ডাকসুর মতো ফল অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে হয়, তবু চিন্তার কোনো কারণ নেই। এই নির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতির সফলতা বা ব্যর্থতার সংজ্ঞা মনে করা ভুল। এটি একটি সামান্য বড় নির্বাচন, যা অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়ার দরকার নেই। তিনি আরও বলেন, বৃহৎ ভোটপ্রবাহের বিপরীতে চাইল্ডোটের সংখ্যা খুবই কম।
আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেন, স্বৈরশাসনের মাধ্যমে দুর্বৃত্তায়িত প্রশাসন গঠিত হয়েছে, গণপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত ও আইনগত সংস্কার, যা সরকারের অঙ্গীকার ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক অপরাধের মাঝে কিছু অভিজাত পরিবারের সদস্যরা সুবিধা নিচ্ছেন, তবে আন্দোলনের সংগ্রাম ভুলে গেছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমের সভাপতিত্বে এবং দিদারুল ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় অংশ নেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, যেমন – গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল-াহ কায়সার, ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য আকবর খান, ও অন্যান্য।
-

দাকসু নির্বাচনে হারেও প্রশংসিত ছাত্রদল নেতা হামিম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় না পেলেও ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম এখন প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই ছাত্রনেতা তাঁর ঢাবি শিক্ষার্থীদের রায়কে সমীচীনভাবে গ্রহণ করেন এবং এতে তিনি নিজেকে পরম গর্বিত মনে করেন। তিনি ঢাকার ভোটের ফলাফল থেকে কোনো ক্ষোভ না দেখিয়ে, কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার রাতের ফল প্রকাশের পর ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে একটি বক্তব্য দেন হামিম। এতে তিনি বলেন, ব্যতিক্রমি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে ভোট সম্পন্ন হলেও কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম এবং গণনার সময় মেশিনের ত্রুটি, জালিয়াতি ও কারচুপি দেখা গেছে। তিনি যোগ করেন, শিক্ষার্থীরা যদি মনে করেন এটাই তাঁদের চূড়ান্ত রায়, তাহলে তিনি সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তবে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন।
হামিম আরও বলেন, আমি সবসময়ই আপনাদের পাশে থাকতে চাই, কারণ আমি আপনাদের ভালোবাসায় ঋণী। আমি আমাদের এই মহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য গর্বিত। আমি সবসময়ই আপনাদের সঙ্গে আছি এবং থাকবো।
তার এই সৌজন্যপূর্ণ বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী শাহ আলম মন্তব্য করেন, “সঠিক সিদ্ধান্ত। এটাই নতুনত্ব, এটাই জুনের চেতনা।” একইভাবে সাদিকুর রহমান লিখেন, “তুমি এই রকম আচরণ করে প্রমাণ করো যে তুমি একজন বড় নেতা হবেন।” মিলন হাসান স্বাধীন বলেন, “সহনশীলতা একজন নেতার গুণাবলি, আর তুমি সেটা দেখাতে পারো।” মোহাম্মদ মিলনও প্রশংসা করেন, “আজিজুল বারী ভাইয়ের ভাতিজা বলে, খানদানী বংশের সত্যি একজন রাজনীতিবিদ।”
এই পোস্টের উপর নানা জনের উচ্ছ্বাস ও শুভেচ্ছা বার্তা দেখা যায়। এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “এটাই একজন সত্যিকারের নেতার স্বাভাবিক আচরণ।” এই মন্তব্যে এক হাজারের বেশি রিঅ্যাক্ট আসে। অন্যদিকে, সারজিস আলম লিখেছেন, “আসন্ন নেতা তুমি,” যার রিঅ্যাক্ট সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। হামিমের এই প্রীতিকর আচরণ ও প্রশংসা ফিরিয়ে দেন অনেকেই, যা তার দলের ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অনুসরণ ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
-

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির হোতা মোতাজ্জরুল ইসলাম মিঠু গ্রেপ্তার
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ব্যক্তি মোতাজ্জরুল ইসলাম মিঠুকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে। ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মিঠুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে গুলশান থেকে তাকে আটক করে দুদকে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজই তাকে আদালতের মাধ্যমে মামলার জন্য পাঠানো হবে।
এদিকে, স্বাস্থ্য খাতের আরও এক আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জানা গেছে, মিঠু তাঁর মালিকানাধীন লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষিজমি ক্রয়, জমি লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার, বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, ব্যাংক হিসাব, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মাধ্যমে আরও ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ তিনি নিজের নামে অর্জন করেন। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
তাঁর পারিবারিক ব্যয় হিসাবেও মোট ৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। ফলে, মিঠুর মোট সম্পদ ও ব্যয়সহ হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তবে, অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে যে এই সম্পদের উৎস বৈধ নয়, কারণ তাঁর বিকল্প আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের উৎসের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা গেছে, তার নামে থাকা এই সম্পদ ও ব্যয়ের বৈধ উৎসের পরিমাণ ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যেখানে অবৈধ সম্পদ বা অসঙ্গতিপূর্ণ আয় ৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার মতো। এজন্য দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মোটপক্ষে, ২০১৬ সালে প্রকাশিত পানামা পেপারসে মোতাজ্জরুল ইসলাম মিঠুর নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়নকাজের নামে প্রভাবশালী কৌশলে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
-

ফুটবল দল নেপাল থেকে দেশে ফিরতে পারে বিকেল ৩টায়: আইএসপিআর
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল আজ বিকেল ৩টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমানের মাধ্যমে নেপাল থেকে ঢাকায় ফিরে আসার প্রত্যাশা রয়েছে, জানান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল আজ আনুমানিক বিকেল তিনটায় বাংলাদেশে ফেরার জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে রাজি হয়েছে। এই বিমানে আরও জানানো হয়েছে, আজ সকাল ১১:৫৩ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করে নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
এর আগে, গত সোমবার নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক, এক্স, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটিতে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশ গুলি চালালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কিছু সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে, যা সহিংসতা আরও বাড়ায়।
এই সংঘর্ষের মাঝেই দেশের প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ শর্মা ওলি বুধবার পদত্যাগ করেন। দেশের প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল নতুন সরকার গঠনের নির্দেশ দেন। তবে ওলি এখনো কোথায় রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে রেহান রাজ দঙ্গল জানিয়েছেন, তারা সেনা কর্মকর্তাদের কাছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য সুশীলা কার্কিকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তাব দিয়েছেন।
সুশীলা কার্কি, যিনি ২০১৬-২০১৭ সালে নেপালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবং দেশের ইতিহাসে একমাত্র নারী এই পদে ছিলেন, তার দিকে আন্দোলনকারীরা চেয়ে আছেন। তবে কিছু আন্দোলনকারী তার প্রার্থিতার বিরোধিতা করছে।
বুধবার কাঠমান্ডু শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সেনারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। গাড়ি ও লোকজন তল্লাশি করা হয় এবং সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ব্যর্থ হলেও সেনারা মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে অঙ্গীকার করে।
বৃহস্পতিবার শহরের প্রধান কারাগারে বন্দিদের দমনেও সেনারা অংশ নেয়। তাঁরা যদি কোনো কয়েদিদের পালানোর চেষ্টা করে বা আগুন ধরিয়ে দেয়, সেনারা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পালানোর চেষ্টা করে বিপদে পড়া বন্দিদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
প্রধানত ‘জেনারেশন জি’র বিক্ষোভ নামে পরিচিত এই আন্দোলন শুরু হয় যখন সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সরকার বলেছিল, এসব প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন ও সরকারি তত্ত্বাবধানে আসে নি।
যদিও মঙ্গলবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, তবুও বিক্ষোভ ঝুঁকির পরিমাণ কমেনি। পুলিশ গুলিতে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার কারণে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পেল। তারা বলছেন, সংসদীয় নেতাদের সন্তানরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও সাধারণ যুবকদের কর্মসংস্থান সংকট এখন মারাত্মকভাবে প্রকট।
বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে নেপালে তরুণদের বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ২,০০০ এর বেশি যুবক জীবিকার সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাড়ি দিচ্ছে।
-

অধ্যাপক আলী রিয়াজের ঘোষণা: কমিশন চাপিয়ে দেবেনা, যুক্তির ভিত্তিতে যাবে সমঝোতা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কোনোভাবেই কঠোরতা বা জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ। তিনি elaborately জানান, এই সনদের বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরাসরি কমিশনের হাতে নয়। আসলে, কমিশন শুধু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারকে সুপারিশ পাঠানোর দায়িত্ব পালন করে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের সূচনায় নিজের বক্তব্যে আলী রিয়াজ এই কথা বলেন। নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রায় ২৯টি রাজনৈতিক দল এই বৈঠকে অংশ নেয়।
অভিযোগের অবসান করে তিনি বলেন, আগে Conversations চলাকালীন বেশ কিছু বিষয়ে পক্ষপাতিত্বে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি, যার জন্য একটি খসড়া প্রস্তুত ছিল। এই খসড়াটিতে আপনারা মতামত দিয়েছেন। এছাড়াও অঙ্গীকারনামার বিষয়েও বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে, এবং বিশ্বাস করা হচ্ছে আগামীকাল বিকেলে চূড়ান্ত খসড়াটি আপনার হাতে পৌঁছে যাবে।
আলী রিয়াজ আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। এই বিশেষজ্ঞ প্যানেলে দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, তিনজন আইনজীবী এবং একজন আইনের শিক্ষক ছিলেন। এই মতামত বিশ্লেষণ করে, এবং রাজনৈতিক দলের মতামত সংগ্রহ করে বোঝা গেছে যে, এই সনদের কিছু বিষয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বারা বাস্তবায়িত হতে পারে।
অধ্যাপক আলী রিয়ाज জোর দিয়ে বলেন, কমিশন নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বরং, আমরা বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট সুপারিশ পাঠানোর আগ্রহী। এই manner of কাজের মাধ্যমে, আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, সিদ্ধান্তগুলো আলোচনা ও ভাবনা-চিন্তার মাঝেই গৃহীত হবে এবং সকলের সম্মতিকৃ্ত হবে।
-

শক্তিশালী মৌসুমি বৃষ্টিবলয় আসছে দেশের উপর দিয়ে
দেশের উপরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে একটি শক্তিশালী মৌসুমি বৃষ্টিবলয়, যা ‘ঈশান ২’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, এই বৃষ্টিবলয় ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় থাকবে। এই মৌসুমি ঝরঝরি আকাশের নিচে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বর্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের এলাকাগুলো। তবে এর প্রভাব দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াবে এবং তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে দেবে, যা দুর্যোগের পাশাপাশি কিছু স্বস্তিও বয়ে আনতে পারে।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুকের মাধ্যমে বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের মাঝে দেশজুড়ে এই শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রংপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের অনেক স্থানে এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি, দমকা হাওয়া, বর্ষণ বা বজ্রসহ ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বিস্তৃতি রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। এর একটি শাখা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত। ফলে মহাবিপদের পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে স্বস্তিরও আসা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৃষ্টিবলয় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে জনজীবন কিছুটা ব্যাহত করতে পারে। উত্তরাঞ্চলে নদীভাঙন, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দাদের সাবধান থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্টো, অনেক অঞ্চলে দীর্ঘদিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার অবসান হতে পারে, যা জনজীবনে স্বস্তি এনে দেবে। মনে করা হচ্ছে, ‘ঈশান ২’ এর প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেলে অনেকেই আরাম পাবেন।
বৃষ্টিবলয় কতটা শক্তিশালী হবে এবং এর ফলে কত পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা মূলত এর সক্রিয়তা ও প্রভাবের উপর নির্ভর করবে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ধারা দেখে মনে হচ্ছে, এই ধরণের বৃষ্টিবলয় এখন আরও প্রায়ই এবং বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তাই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে আগাম সতর্কতা এবং প্রস্তুতি নেয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও বিডব্লিউওটি সাধারণ মানুষের প্রত্যেককে নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
-

ঘুষের অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএ’র ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের জ্বালানি তেলের ঠিকাদারি কাজের জন্য উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগে দুইজন কর্মকর্তাকে এ Week সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে, বিআইডব্লিউটিএর নৌসংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মোঃ আব্দুর রহিম এবং উপ-পরিচালক মোঃ ওবায়দুল করিম খানকে এই সিদ্ধান্তের আওতায় বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতরা বিচারের মুখোমুখি হবে বলে ধারণা।
