বটিয়াঘাটার কিসমত ফুলতলা স্লুইসগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সরকারি ইউরিয়া সার বিক্রি ও পরিবহন সংক্রান্ত একটি চক্রের বিরুদ্ধে এক(Map) ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে তিনজন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়, পাশাপাশি প্রায় ৫ থেকে ৬ টন ইউরিয়া সার এবং একটি মালবাহী ট্রলার জব্দ করা হয়। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বটিয়াঘাটা থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও এসআই জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি সঙ্গীয় ফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করে। আটককৃত ব্যক্তিরা হচ্ছেন পিরোজপুর জেলার কাউখালি উপজেলার বিজয়নগর এলাকার মৃত মোখলেস মোল্লার ছেলে কুদ্দুস মোল্লা (৬৫), বেকুটিয়া এলাকার আল আমিন হাওলাদারের ছেলে রাজু হাওলাদার (২২), এবং ছিপাড়া এলাকার মৃত সোবহান শেখের ছেলে আসলাম শেখ (২৯)। উদ্ধারকৃত সারগুলো বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়া চলমান। পুলিশ জানিয়েছে, এই সারা কারবারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ না ঘটে।
Category: সারাদেশ
-

খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন ও নবীনবরণ
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর গলামারীস্থ এম এ বারী রোডে হয় খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন এবং নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগতম। এ অনুষ্ঠানে আড়ম্বরপূর্ণ র্যালি, ফলক উন্মোচন, পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ওড়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ডেজিগনেট ও অনারারি) প্রফেসর ড. মোঃ আনিসুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট ও কেকেবিএইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। বিশেষ অতিথির ভাষণে ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড সদস্য প্রফেসর ড. আবু তৈয়ুব আবু আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ ডা. এম এ জলিল। অনুষ্ঠান শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ও অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বক্তরা এই অনুষ্ঠানে আহছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা হযরত খান বাহাদুর আহছানউল্লা (রঃ) এর জীবন ও কর্মের আলোকপাত করেন। তিনি তার জীবন উজাড় করে সৃষ্টির ইবাদত ও সেবা কাজে নিবেদিত ছিলেন। ঢাকা আহছানিয়া মিশন তার দর্শন অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও সমাজসেবার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ধারায় দক্ষিণবঙ্গের উচ্চশিক্ষার বিস্তারে খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এক সুদীর্ঘ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস এম আতিয়ার রহমান। এছাড়াও বক্তৃতা করেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. মোঃ মউন উদ্দিন ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন রথীন্দ্র নাথ মহালদার। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাদিয়া সুলতানা।
-

সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল, দাম কমেছে কাঁচা মরিচের
সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি পেঁয়াজের আড়ৎ ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের বস্তা কাটা হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা, আর মাটিতে ঢেলে বিক্রি হচ্ছে ৬৭ টাকা কেজিতে। লাল জাতের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। অন্যদিকে, ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ বস্তায় কাটা হচ্ছে ৬০ টাকা, আর মাটিতে ঢালে এর দাম ৬২ টাকা। খুচরা বাজারে এই পেঁয়াজের দাম আরও একটু বেশি, ৫ থেকে ৭ টাকা কেজি। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যায়, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনো কমে যাওয়ার দিকে, কারণ সরবরাহ বেড়ে গেছে। বাজারের মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, সরকারের অনুমতি না থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে গুদামে পেঁয়াজ জমা রাখলেও, আমদানি বন্ধ থাকায় দাম অস্থির থাকেনি। কিন্তু এখন আমদানির পুনরায় শুরু হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ও চাষিরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে ভয় পেয়ে থাকেন, যার ফলে দাম এখনও স্বাভাবিক। ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে এটাই শেষ আমদানি ২৭ মার্চ, এরপর কয়েক মাসের জন্য বন্ধ ছিল। গত ১৭ আগস্ট আবার আমদানি শুরু হয়। প্রথম দিনে সাতটি ট্রাকে ২০২ মেট্রিক টন, দ্বিতীয় দিনে ১৩ ট্রাকে আরও ৩১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আনা হয়। মোট এই পাঁচ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৬৫০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। তবে সরকার ১৯ আগস্ট থেকে নতুন করে পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি বন্ধ করে দেওয়ায়, এখন কেউ নতুন করে আদানপ্রদান করছেন না, ফলে সরবরাহে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্যাংক ও বন্দরের সহযোগিতা থাকলে দ্রুত বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-

নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশাচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু
নগরীর নুরনগর এলাকায় বাংলাদেশ বেতারের সামনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক দুর্ভাগ্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশাচালক মনিরুল ইসলাম গাজী নিহত হয়েছেন। তিনি নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া মহিরবাড়ি ছোটখালপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং কুরমান আলীর ছেলে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই সময় একটি রিকশার সামনে একটি সিএনজি ট্রাক ঠেলে দেয়, যার ফলে রিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং চালকটি পড়ে যান। এর পর থেকে পেছন থেকে আসা সার বোঝাই ট্রাকটি তাদের উপর দিয়ে চলে যায়।
উপ-পরিদর্শক আব্দুল হাই বলেন, ট্রাকটি প্রথমে ওই সিএনজির সামনে আচমকা ধাক্কা দেয়। এরপর চালকটি পড়ে গেলে, অন্য ট্রাকটি তাকে চাপা দেয়। অভিযুক্ত ট্রাকটি আটক করা হলেও, চালক দ্রুত পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক ফেরারি হয়ে যায়। পরে উদ্ধার করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার লাশ মর্গে পাঠানো হয়। पुलिस বর্তমানে ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে।
-

লুটেরা আওয়ামী সরকার খুলনাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে
মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে লুটেরা আওয়ামী সরকার দেশ শাসন করছে। তারা নানা ধরণের দুর্নীতি, দালালী ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খুলনা, একসময়কার শিল্পনগরী, আজ ক্রমশ মৃত নগরীতে পরিণত হয়ে গেছে। এখানে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, বেকারত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব বেড়েছে। পাটকলসহ বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার অনাহারি ও অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এ শহরের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তিনি জানান, খুলনা এখন আর কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর নয়, বরং জনশূন্যতা, অবহেলা ও অচলাবস্থা তার চিহ্ন। সরকারের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত, তারা কেউই এই দুর্দশার জন্য দায়বদ্ধ নয়। বরং ক্ষমতা ধরে রাখারিহতে দমন-পীড়ন চালানো, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর মামলা-হামলা ও দমননীতি চালানোর মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে। আওয়ামী লীগের লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে খুলনাবাসী এখন দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে আছেন।
আলোচ্য অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খুলনার অর্থনীতি এখন আর গতিশীল নয়, বরং জনশূন্যতা ও অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের কষ্টের প্রতি সরকারের কোনো দায়িত্ব নেই। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতারা খোলা মাঠে শফিকুল আলম তুহিনের নেতৃত্বে ধানের শীষের প্রচার মিছিল বের করেছেন। এই মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তেঁতুলতলা মোড়ে পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ। বক্তারা বলেন, একদিকে সরকারের অপাঙ্খিত কর্মকাণ্ডের আওতায় খুলনা ধ্বংসের পথে, অন্যদিকে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
-

ডুমুরিয়ায় উন্নয়নে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে : আলি আসগার লবি
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলি আসগার লবি বলেছেন, ডুমুরিয়ার অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে অবহেলিত এলাকার রাস্তা-ঘাট, গ্রাম্য অবকাঠামো এবং জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ চলছে। জলাবদ্ধতা দূর করতে ঝুঁকিপূর্ণ সব নদী এবং খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী হবে। তার primo উদ্দেশ্য হলো, সকলের একত্রীকরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। এই কথাগুলো তিনি ছিলেন রোববার বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়ন বিএনপি উদ্যোগে আয়োজিত নোয়াকাটি বাজার চত্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায়। কল্যাণময় ডুমুরিয়াকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। লবি আরও বলেন, খুলনা জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর পর্যন্ত হাইওয়ের জরাজীর্ণ রাস্তার সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং আগামী নির্বাচনে সবাই মিলেমিশে কাজ করতে হবে। যদি বিজয় হয়, তাহলে অবহেলিত এই ডুমুরিয়াকে একটি উন্নত ও মডেল উপজেলা হিসেবে রূপান্তরিত করার সংকল্প ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত বক্তৃতা দেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনা। এই জনসভা আয়োজিত হয় স্থানীয় সাহস, ভান্ডারপাড়া, মাগুরখালি ও শরাফপুর চার ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে। সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা মোঃ মশিউর রহমান লিটন এবং সঞ্চালনা করেন শেখ ফরহাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, বদরুল আনাম খান, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলি, শেখ আব্দুর রশিদ সহ অনেকে। আরও বক্তব্য রাখেন কে এম আশরাফুল আলম নান্নু, মিরাজুর রহমান মিরাজ, উজ্জ্বল কুমার সাহা, এড. তছলিমা খাতুন ছন্দা, কেন্দ্রীয় জাসাস নেত্রী রুখসান রহমান, রোকসা রহমান, নাদিমুজ্জামান জনি, আবদুল মান্নান মিস্ত্রি, সরদার আব্দুল মালেক, এড. মোনিমুর রহমান নয়ন, নিত্যানন্দ মন্ডল, অরুন কুমার গোলদার, প্রফেসর আইয়ুব হোসেন, শেখ শাহীনেরুর রহমান, মোল্লা একরামুল ইসলাম, শেখ জামিনুর রহমান, শেখ মুস্তাইন, আব্দুর রব আকুঞ্জি, শাহাদাত হারদার, আজমল হুদা মিঠু, খান আফজাল হোসেন, অরুণ গোলদার, শাহানুর রহমান, যুবদল নেতা মোঃ মশিউর রহমান, ওলামাদল নেতা মাওলানা আব্দুস সালাম আজাদ, ও অন্যান্যরা। এর আগে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জনসমাবেশস্থলে উপস্থিত হন।
-

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিত কাজ করতে হবে: মঞ্জু
১৯৭১ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম দেশের পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতার মানচিত্র সেখানে আনেন। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম দিকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছিলেন। তবে বর্তমানে দেশ এখনও সেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করছে কিছু অন্ধকার শক্তি। খুনী হাসিনা এবং তার দোসররা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে এখনও দেশের শান্তি-শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এরা সবসময় রাষ্ট্রের ক্ষতি চাইছে আর দেশে আর যেনো কোন স্বৈরাচার সরকার না আসে, এ বিষয়ে সকলের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। দেশের গণতন্ত্র ফিরে আসতে চাইলে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রোববার বিকেলে নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ তেঁতুলতলা মোড়ে সোনাডাঙ্গা থানার বিএনপি কার্যালয়ে খুলনা বিএনপি-এর উদ্যোগে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য একটি প্রস্তুতি সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তিনি দলটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন, যাতে দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি সকলের কাছে পৌঁছে যায়। তিনি জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় তিনদিনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ তেঁতুলতলা মোড়ে বিএনপি কার্যালয়ে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র্যালি, সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ২ সেপ্টেম্বর বৃক্ষরোপণ ও মাছের অবমুক্তকরণ সকল থানা এলাকায় এবং ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় পলিমঙ্গল স্কুল মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। এই কর্মসূচি সফলভাবে পালন করতে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসাদুজ্জামান মুরাদের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনির, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউলাহ খান সাচ্চু, এডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, ইকবাল হোসেন খোকন, মেহেদী হাসান দিপু, নিজাম উর রহমান লালু, এডভোকেট গোলাম মওলা, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ হারুন মজনু, মজিবর রহমান ফয়েজ, নিয়াজ আহমেদ তুহিন ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দ। তারা প্রত্যেকেই কর্মসূচি সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
-

গণঅভ্যুত্থানের স্বপক্ষের শক্তিগুলো একযোগে দেশের সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে
মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বৈষম্য ও অন্যায্যতার জাঁতাকলে জনগণ যেন জর্জরিত হয়ে পড়েছে। কোটাবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানে সেই আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সম্ভব হয়। তিনি আরও বলেন, এখন যারা পিআর (প্রচারণা) পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে চাইছে, তারা মূলত পেছনের রাস্তা দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের চেষ্টা করছে। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যোমতই। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণঅভ্যুত্থানের মূল ভাবনাকে বিপন্ন করে। এই পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগের পুনর্বসতি ও ভারতের প্রভাবে দেশের সার্বভৌমত্বক্ষুণ্ন করার অপশক্তি সক্রিয় হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের স্বপক্ষের শক্তিগুলো শক্তি সমন্বয় করে সব দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবেলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে খুলনা টাউন জামে মসজিদ চত্বরে এবং পাইওনিয়ার স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণের আগে、র উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এই কথা তিনি বলেছেন। বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য শফিকুল আলম মনা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ পতনের মুখে থাকলেও তারা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা উস্কানি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র রুখে দিতেপ্রয়োজন সচেতন, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নেতৃত্বে একটি স্বাধীনতাবিরোধী অশুভ শক্তি ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। এই বক্তৃতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ২২নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি এস এম নুরুল আলম দিপু, পাশাপাশি অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা বদরুল আনাম, মো. খায়রুল ইসলাম, আশরাফুল আলম নান্নু, ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম খান জুয়েল, মোফিজুল সরদার, শহিদুল ইসলাম, সাহারুজ্জামান মুকুল ও জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
-

খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩
খুলনায় ইজিবাইক ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার স্থান হয়েছে ডুমুরিয়ার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের জিলেরডাঙ্গা এলাকায়, যা সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঘটে।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নুরুজ্জামান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় দুইটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। নিহত ইজিবাইক চালক মোজাহিদুল মোড়ল (খরসন্ডা, ডুমুরিয়া) ও যাত্রী রিনা খাতুন (উত্তর কালিকাপুর, ডুমুরিয়া)। এ ছাড়াও, এক ব্যক্তির পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, একটি ইজিবাইকয়ে সাতজন যাত্রীসহ ডুমুরিয়া বাজার থেকে খুলনা নগরীর গল্লামারির দিকে যাচ্ছিল। যখন তারা জিলেরডাঙায় পৌঁছায়, তখন দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে ইজিবাইকটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালক মোজাহিদুল ও যাত্রী রিনা ঘটনাস্থলেই মারা যান, তবে অন্য একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
অন্য যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দুর্ঘটনাকবলিত ইজিবাইকটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।
ডুমুরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের আবু রায়হান জানান, এই দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে।
-

খুলনা মহানগর বিএনপির চার দিনের কর্মসূচি ও উপ-কমিটি গঠন
খুলনা মহানগর বিএনপি আগামী ১ সেপ্টেম্বর তাদের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে চার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রোববার রাতে কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভায় এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এই চার দিনের কার্যক্রমকে সফল করতে sixটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহবায়ক শফিকুল আলম তুহিন। তিনি ছাড়াও বক্তৃতা দেন দলের নেতৃবৃন্দ শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, কে এম হুমায়ুন কবীর, মুর্শিদ কামাল, মজিবর রহমান, আব্দুল আজিজ সুমন, মিরাজুর রহমান মিরাজ, রবিউল ইসলাম রুবেল, এডভোকেট হালিমা আক্তার খানম ও কে এম জলিল। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে আরও দু’টি হিসেবে সফল করতে মোট ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
– ৫১ সদস্যের শৃঙ্খলা উপ-কমিটি, যার আহবায়ক শেখ সাদী ও সদস্য সচিব মিরাজুর রহমান মিরাজ।
– ৩১ সদস্যের সাজসজ্জা উপ-কমিটি, আহবায়ক কে এম হুমায়ুন কবীর ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ।
– যোগাযোগ উপ-কমিটি, চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজকে আহবায়ক ও মজিবর রহমানকে সদস্য সচিব।
– ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটি, মাসুদ পারভেজ বাবুকে আহবায়ক ও আব্দুল আজিজ সুমনকে সদস্য সচিব।
– মিডিয়া উপ-কমিটি, আহবায়ক মিজানুর রহমান মিলটন ও সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম মতি।
– সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি, শৈল্পিক নেতৃত্বে থাকবেন শেখ ইমাম হোসেন ও কো-আহবায়ক হিসেবে থাকবেন কে এম এ জলিল, সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম বাচ্চু।এছাড়াও, ১ সেপ্টেম্বর, সামনের প্রথম দিন, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মহানগরীর সকল কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের কবর জিয়ারত ও প্রয়াত নেতাদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এই দিনে মহানগরীর সকল কার্যালয়ে আলোকসজ্জা, বিকেল ৩টায় জিয়াহল চত্বরে সমাবেশ এবং নগরীতে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয় দিন ২ সেপ্টেম্বর, খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা।
তৃতীয় দিন ৩ সেপ্টেম্বর, শহিদ হাদিস পার্ক ও ঝিলপুকুরসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
অতঃপর, ৪ সেপ্টেম্বর মহানগরীর পাঁচটি থানায় বিএনপি উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালু এবং সন্ধ্যায় শহিদ হাদিস পার্কে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এই চার দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে মহানগর বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযথভাবে পালন করবে এবং দলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃঢ় ধারায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে।
