বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে তার ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির উপর। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচিত সরকারগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সেই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুব্যবস্থাপনার পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজে চালানো যেতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যেন নিরাপদে নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে পারলেই দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।
Category: সারাদেশ
-

সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশি ফিরতে পারল
সাতক্ষীরা সীমান্তে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্যালঞ্চে আটক নারী ও শিশু সহ ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবি ফিরিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টায়, যখন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর রাত সোয়া ১০টায় তাদেরকে বিজিবি নিরাপত্তার মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করে। জানা গেছে, এ সব নাগরিকরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ উদ্যোগে ভারতের বিএসএফ হাকিমপুর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এরপর দুই দিন ধরে তারা সেখানে ছিল। শেষ পর্যন্ত, বৃহস্পতিবার রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামের মোঃ সেকেন্দার হোসেন (৩৩), নকিপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল্লাহ গাজী (৩৮), ঝর্ণা খাতুন (৩৮), কালিঞ্চি এলাকার নাজমা বিবি (৩৩), তার মেয়ে মাহেরা আক্তার (৬), নাজমুল হাসান নাইম (১৬), মিনার (১৩), নওয়াবেঁকীর পূর্ব বিড়ালক্ষীর মোছা. মাফুজা খাতুন (৩৪), তানিয়া সুলতানা (১০), মাফুজ রহমান (২), খুলনার বাটিয়াঘাটা এলাকার মৃত জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৪), তার মেয়ে হাসিনা খাতুন (১০), serta পিরোজপুরের খানাকুনিয়া গ্রামের রুহুল আমিন (৪০), তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫) ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭)।
বিজিবি জানায়, অবৈধভাবে ভারতের প্রবেশের দায়ে মঙ্গলবার রাতেই হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকা থেকে তাদের আটক করে বিএসএফ। পরে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই ১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত দেওয়া হয়। এই সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন সাতক্ষীরার তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আবুল কাশেম। তিনি জানান, প্রত্যেককে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আব্দুল্লাহ গাজী জানান যে, প্রায় ১৬ মাস আগে তিনি বৈকারী সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং কলকাতার নিউটাউন-রাজারহাট এলাকার মোলাপাড়ায় দিনমজুরের কাজ করতেন। সম্প্রতি, ভারতের পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালানোর পর তারা ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বেচ্ছায় বিএসএফ ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করে, যেখানে দুই দিন আটকে রাখার পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিনুল হক নিশ্চিত করেছেন, তাদের সোমবার রাতে বিজিবি হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে ১৪ জনকে তাদের স্বজনদের কাছে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর একজনের পরিবারের লোক এলে শুক্রবার তারও ফিরিয়ে দেওয়া হবে। -

খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে বিদায়ী সংবর্ধনা
খুলনা জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বদলি হওয়ার কারণে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের আয়বIBUTES, এনামুল হক, এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (રાજস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন, খুলনা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও কৌশিক দে, আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা মোঃ এরশাদ আলী, মোঃ রাশিদুল ইসলাম, এইচ এম আলাউদ্দিন, মোস্তফা জামাল পোপলু, এহতেশামুল হক শাওন, কে এম জিয়াউস সাদাত, আব্দুর রাজ্জাক রানা এবং মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আহমদ মুসা রঞ্জু, ক্লাবের সদস্য কাজী শামীম আহমেদ, এস এম ইয়াসীন আরাফাত রুমী, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ কামরুল হোসেন মনি, অভিজিৎ পালসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
শুরুর দিকের অধিবেশনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে ক্লাবের পক্ষ থেকে তার জন্য সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এ অভিনন্দন ও সংবর্ধনা আড়ম্বরপূর্ণ ও গভীর শ্রদ্ধার ছিল উপচে পড়া।
-

রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ, ইট তৈরির পট বানিয়ে ব্যবসা চলমান
খুলনার আঠারোবেঁকী নদীর তীরে অবস্থিত রূপসার নেহালপুর মিস্ত্রিপাড়ায় সরকারি রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে ইট তৈরির জন্য পট (মাটি দিয়ে ইটের ছাই বা বিন্যাস) তৈরি করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নেহালপুর থেকে পুরান হাট পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তাটি কেটে সেখানে ইটের পট বানিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এমএনএস ব্রিকসের মালিক। এই ঘটনায় এলাকার সচেতন মহল জোর দিচ্ছেন সরকারি রাস্তা দ্রুত পুনরুদ্ধারে।
নেহালপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজিব বিশ্বাস বলেছেন, জনস্বার্থে এ রাস্তা অবিলম্বে দখল মুক্ত করে পুনর্দখল জরুরি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে, মোঃ সুজন নামে একজন বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালানো বন্ধ না হলে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ আরও কঠোর আন্দোলনে যাবেন। হাবিবুর রহমান বলেন, এ রাস্তা দখলমুক্ত না করলে খুব শিগগিরই পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাস্তাটির গুরুত্ব আরেকটু ব্যাখ্যা করে সাধন দে বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যদি কোনো মহৎ কাজ, যেমন সৎকারের জন্য মৃতদেহ শ্মশানে নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন এই রাস্তা দিয়ে যেতে হতো। কিন্তু দখল ও ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত পট বানানোর কারণে রাস্তা ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নেহালপুরের রাকিব শেখ জানান, এ রাস্তা ঐতিহ্যবাহী একটি পুরোনো রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এই রাস্তা দখল করে ইটের পট বানানোর মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সিএনবি ব্রিকসের মালিক মিঠু। এর আগেও একইভাবে অন্য ব্রিকসের মালিক সাত্তার এ ধরনের অব্যাহত কার্যকলাপ চালিয়ে গেছেন।
মেসার্স এমএনএস ব্রিকসের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, কোম্পানির মালিক মিঠু সাহেব পাঁচ বছরের জন্য ইটভাটা লিজ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারি রাস্তা নিয়ে কোনও অজুহাত নেই। সরকার চাইলে রাস্তা সহজেই উদ্ধার করতে পারে।
নৈহাটীর সার্ভেয়ার মোঃ খবিরুদ্দিন বলেন, এটি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে অনেক গ্রামবাসী নদীর খেয়োঘাট পার হয়ে শহরে আসতেন। পূর্বে তিনি এই সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের জন্য মেপে দিয়েছিলেন, তবে বর্তমানে কাউকে কিছু করার অনুমতি দেননি। উপজেলা প্রশাসনের নায়েবও রাস্তাটির সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছেন, তবে কার্যকর কোনও উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি।
খুলনা জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও নৈহাটী কালিবাড়ি বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির বিল্লাহ বলেন, জনসাধারণের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা কেটে ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই বছর ধরে এমএনএস ব্রিকস ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অবিলম্বে এই রাস্তা পুনরুদ্ধার জরুরি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সিবিআই ব্রিকসের সাবেক মালিক আঃসাত্তার সাহেব বছরের পর বছর এ রাস্তা দখল করে রেখেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর চাপের পরও তিনি নিষ্পত্তি করেননি। গত দুই বছর আগে, সিবিআই ব্রিকসের মালিক মোঃ মিঠু কোম্পানিকে পাঁচ বছরের জন্য ইট-ভাটা লিজ দিয়ে একইভাবে রাস্তা দখল করেন। এর কোনও সমাধান হয়নি।
উপজেলা প্রশাসনের নায়েব বর্তমানে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছেন, তবে তিনি এ ব্যাপারে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, যদি দ্রুত দখলমুক্ত না করা হয়, তাহলে কঠর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা আক্তার রিক্তা বলেন, দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হলো: শফিকুল আলম তুহিন
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন আজ বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন গোপন বৈঠক ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পাঁয়তারা করে আসছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সামনে ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তুহিন উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ভিতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পনা করে চলছে। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনোই গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারকে সমর্থন দেয়নি। তাদের ষড়যন্ত্র জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে রুখে দিতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শফিকুল ইসলাম জোয়াদ্দার জলি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে.এম হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানমঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোস্তফা আলম, শেখ হাফিজুর রহমান, রিপন তরফদার, শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, নাজমুস সাকিব, মাহবুবর রহমান লিটু, সৈয়দ আজাদ হোসেন, মোঃ আলী মিঠু, কে.এম বেলাল হোসেন, শেখ বেলাল, নাজমুন নাহার শিখা, জামিলা খাতুন, মোঃ ইব্রাহীম, শিল্পী আকতার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল হোসেন, নওফেল বিন মাহবুব, সাইফুল ইসলাম হাইসাম, মেহেদি হাসনাত আবির, সৌমেন সাহা ও অন্যান্য।
-

সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত দিলো বিএসএফ
সাতক্ষীরার সীমান্তে পতাকা বৈঠকের আয়োজনের মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আটকের পর তারা স্বেচ্ছায় ভারতীয় বিএসএফ হাকিমপুর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে, যখন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনে এই পতাকা বৈঠক পরিচালিত হয়। এরপর রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবি তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর থানায় সোপার্দ করে। জানা গেছে, তারা সবাই অবৈধভাবে ভারতের পথে পা বাড়িয়েছিলেন, তবে সাম্প্রতিক ভারতীয় পুলিশের ব্যাপক ধড়পাকড়ের কারণে তারা দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা, যেমন- শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালীর আব্দুর রব সরদারের ছেলে মো: সেকেন্দার হোসেন (৩৩), নকিপুর গ্রামের কালাচাঁদ গাজীর ছেলে মো: আব্দুল্লাহ গাজী (৩৮), যোগেন্দ্রনগরের ঝর্ণা খাতুন (৩৮), কালিঞ্চি গোলাখালী এলাকার মো: মিকাইল মোলার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বিবি (৩৩), তার মেয়ে মাহেরা আক্তার (৬), ছেলে নাজমুল হাসান নাইম (১৬), আরও রয়েছে অন্যরা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকালে তারা স্বেচ্ছায় ভারতের বিএসএফের হাকিমপুর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর দুই দিন ধরে সেখানেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের পরিবার ও স্বজনের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া হয়।
ডিবি সূত্র বলছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সাতক্ষীরার পুলিশ বলছে, ১৪ জনের পরিবারকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর একটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর ওই ব্যক্তিকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
অফিসার ইনচার্জ শামিনুল হক বলছেন, আটকদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পরে রাতে তাদের স্থিতি বুঝে চারজনের পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।
-

খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিদায়ী সংবর্ধনা
খুলনা জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার সাম্প্রতিক বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিদায়ী সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি शुक्रवार সন্ধ্যায় ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়। এতেই সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি এনামুল হক, এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তা তার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, তিনি খুলনা প্রেসক্লাবের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নিজের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। বক্তব্য দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন, প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও কৌশিক দে, পাশাপাশি ক্লাবের অন্যান্য সদস্যগণ, যেমন মোঃ এরশাদ আলী, মোঃ রাশিদুল ইসলাম, এইচ এম আলাউদ্দিন, মোস্তফা জামাল পপলু, এহতেশামুল হক শাওন, কে এম জিয়াউস সাদাত, আবদুর রাজ্জাক রানা এবং মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।
অতিরিক্তভাবে, প্রসঙ্গক্রমে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্যরা—আহমদ মুসা রঞ্জু, কাজী শামীম আহমেদ, এস এম ইয়াসীন আরাফাত রুমী, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ কামরুল হোসেন মনি ও অভিজিৎ পালসহ অন্যান্য সাংবাদিকগণ। অনুষ্ঠানটির শুরুতেই মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ফুলেল শুভকামনা জানানো হয় এবং শেষে ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এই সমাবেশের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়, যা তাদের জন্য এক স্মরণীয় ও সুন্দর মুহূর্তে পরিণত হয়।
-

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো פעילי হয়ে উঠেছে: তুহিন
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলো আবারো সক্রিয় হয়ে উঠছে। তারা বিভিন্ন গোপন বৈঠক এবং ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের শক্তিগুলো সব সময়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনের পথ রুখতে চায় এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পাঁয়তারা করে আসছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপির এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন। তুহিন বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরাই এ আসন্ন নির্বাচনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীলনকশা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, এই শক্তিগুলো কখনোই গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারকে সমর্থন করেনি। তাদের ষড়যন্ত্রগুলো জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার জলি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে.এম. হুমায়ুন কবির। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোস্তফা আলম, শেখ হাফিজুর রহমান, রিপন তরফদার, শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, নাজমুস সাকিব, মাহবুবর রহমান লিটু, সৈয়দ আসাদ হোসেন, মোঃ আলী মিঠু, কে.এম. বেলাল হোসেন, শেখ বেলাল, নাজমুন নাহার শিখা, জামিলা খাতুন, মোঃ ইব্রাহীম, শিল্পী আক্তার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ নজমুল হোসেন, নওফেল বিন মাহবুব, সাইফুল ইসলাম হাইসাম, মেহেদি হোসনাত আবির, সৌমেন সাহা প্রমুখ।
-

জামায়াতের সরকার গঠনে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবেন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেছেন, একজন দেশের উন্নতি এবং অগ্রগতি নির্ভর করে সেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কেমনভাবে চলবে তার উপর। এই কারণে একটি নির্বাচিত সরকার কর্তৃপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি উল্লেখ করেন, যখন ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে এবং নিরাপদে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন, তখন তারা দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের দেশে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারি করে জিনিসপত্রের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন, যা প্রচুর মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সৎ ও নৈতিক মানসম্পন্ন বিবেকবান মানুষ এ ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন না। জামায়াতে ইসলাম চায়, দেশসুদ্ধ সৎ, নৈতিক ও বিবেকবান ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাবেন। কিন্তু আমাদের দেশে দুর্বৃত্তদের দ্বারা ব্যবসায়ীদের উপরে নিরব চাঁদাবাজি ও চরম হুমকি-ধামকি চালানো হচ্ছে। এক শ্রেণির চাঁদাবাজ ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যা করার মতো ন্যংরা ঘটনাও ঘটছে, যা এমনকি আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানায়। আমরা এসব বর্বর ও অসভ্য সমাজের প্রবৃত্তি অবশ্যই মেনে নেব না। যদি আল্লাহর রহমত এবং আপনাদের ভালোবাসায় জামায়াত একটি শোষণহীন, শান্তিপূর্ণ সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে। আর কোনো ব্যবসায়ী চাঁদাবাজের ভয়ে জীবনের নিরাপত্তা হারাবেন না, পালিয়ে বেড়ে আতঙ্কিত হবেন না। তিনি আহ্বান জানান, ব্যবসায়ীরা একত্র হয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবেন।
-

রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল এবং ইট তৈরির ব্যবসা: এলাকাবাসীর করুণ আকুতি
খুলনাসহ রূপসার আঠারোবেঁকী নদীর কোলঘেঁষা নেহালপুর মিস্ত্রিপাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তা দীর্ঘ দিন ধরে জবরদখল ও অবৈধভাবে ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রথমদিকে জনগণ বিনা বাধায় চলাচল করলেও, সম্প্রতি এর দখলদাররা মাটি দিয়ে তৈরি ইটের পট বানিয়ে ব্যবসা চালু করায় সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছ, নেহালপুরের প্রাইভেট কোম্পানি এমএনএস ব্রিক্সের মালিক মিঠু ও তার ব্যবসায়ীরা এই রাস্তা জোড়পূর্বক দখল করেছেন এবং সেখানে ইটভাটা চালু করেন। এর আগে সিবিআই ব্রিক্সের সাবেক মালিক সাত্তারও একইভাবে সরকারি রাস্তা দখলে এনে অবিচল ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মাটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টানালেও কোন বাধা দেয়া হয়নি। এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এটি ঐতিহ্যবাহী ও জনঝুঁকিপূর্ণ একটি রাস্তা যা বহু বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছিল। দুর্ভাগ্যবশত, দখলদাররা রাস্তাটি সরিয়ে না নেওয়ায় সাধারণ জনগণের চলাচল ও প্রাকৃতিক স্বাভাবিক ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। এলাকাবাসীর মত, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সচেতন মহল ও স্থানীয় জনগণের একত্রিত আর্জি, অবিলম্বে এই রাস্তা দখল মুক্ত করে নাগরিক সুবিধার জন্য সচল রাখার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারি রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ ও দখল মুক্ত করার জন্য প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সংশ্লিষ্ট সবাই এ দাবি মান্য করে, এই গুরুত্বপূর্ণ জনচলাচলের রাস্তা দ্রুত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য মুক্ত করে দেয়ার জন্য প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।
