Category: সারাদেশ

  • বিএনপি মানুষের সেবা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতায় যেতে চায়: এড. মনা

    বিএনপি মানুষের সেবা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতায় যেতে চায়: এড. মনা

    মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্টবিরোধী সফল আন্দোলনের ফলে ২০০৭ সালে সরকার উৎখাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এই আন্দোলনের কারণে ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার পতন হয়েছে এবং তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন। দেশের মানুষ এখন মুক্তি পেয়েছেন। এই সফল আন্দোলনের মূল নায়ক তারেক রহমান। বিএনপি হচ্ছে সাধারণ মানুষের দল, যারা ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ দিন সংগ্রাম করে আসছে। তারা সেবা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করে ক্ষমতায় উঠে আসতে চায় এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

    গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামকে অধিকাংশ চেতনা ও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টাকারীরা আসলে সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধ ও সালামাতের ইতিহাসকে অস্বীকার করছে। বলা হচ্ছে, দেশটি আবার নতুন করে স্বাধীন হয়েছে; কিন্তু বাস্তবে আমরা ৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকেই অপরিহার্য মনে করি। মূলত ৭১ এর পরাজিত শক্তিরাই এখন দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, যা পুরোপুরি ভুল। তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য শহীদদের আত্মাহুতি ও সম্ভ্রমহানি অপমানিত করছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ’৭১ এর পরাজিত শক্তির সঙ্গে আপস করার কোনও স্থান নেই।

    এছাড়াও, ২৪নং কাউন্সিলর কার্যালয়ে ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দা রেহানা ঈসা, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সদর থানা বিএনপি সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, নগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন, শ্রমিক দলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনসহ অনেকে।

    এবং আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ, যুব নেতারা, মহিলা দলের নেত্রী ও অন্যান্য কর্মী। তাঁরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ও সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিহাসের ঐতিহ্য রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

  • আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নের নামে লুট করছে : লবি

    আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নের নামে লুট করছে : লবি

    সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি, খুলনা-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্মদ আলি আসগর লবি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছরে দেশের উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট চালিয়েছে। তিনি বলেন, বহু গ্রাম রয়েছে ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেখানে যোগাযোগের অবস্থা খুবই খারাপ। এ সব উন্নয়নের নামে সরকার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সম্পদ লুট করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলার সাজিয়াড়া শামছুল উলুম মাদ্রাসায় জোহার নামাজের পরে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    মো. আলি আসগর লবি আরও জানান, বিলডাকাতিয়া এলাকায় ১ হাজার ৬০০ একর জমির ওপর সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেয়াল অঞ্চলের মানুষদের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশে কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি। বিশ্বে বেশ কিছু দেশে কম্পিউটার ব্যবহারে লোক নেওয়া হয়। এই সুযোগ বাংলাদেশেও সৃষ্টি হলে এখানকার তরুণরা বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেই জন্য সাজিয়াড়া মাদ্রাসায় একটি আধুনিক কম্পিউটার ক্লাসরুম তৈরি করে শিশু ও যুবকদের প্রশিক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    অতিরিক্তভাবে, আগামী সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে বিপুল সংখ্যক উন্নতমানের মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আলি আসগর লবি। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি প্রত্যেক গ্রামে উন্নত মানের বিভিন্ন ধর্মীয় এবং শিক্ষামূলক অবকাঠামো নির্মাণ করবেন।

    বক্তৃতায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ, সাজিয়াড়া মাদ্রাসার সভাপতি অধ্যাপক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার, সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওঃ আব্দুর রহমান, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতাকর্মী ও মুসল্লিরা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওঃ আব্দুল গফফার, মুফতি শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শেখ ফরহাদ হোসেন, খান আবজাল হোসেন, জিন্নাত আলী মোড়ল, আব্দুল মান্নান ও মাওঃ খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন মুসল্লি ও শুভাকাঙ্ক্ষী গণ।

  • পাইকগাছার কালিনগর ভেড়িবাঁধে ভাঙনের আতঙ্ক, ১৩ গ্রাম ঝুঁকিতে

    পাইকগাছার কালিনগর ভেড়িবাঁধে ভাঙনের আতঙ্ক, ১৩ গ্রাম ঝুঁকিতে

    পাইকগাছার দেলুটি উপজেলার কালিনগর ওয়াপদার ভেড়িবাঁধে মারাত্মক ধরণের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভদ্রা নদীর প্রবল স্রোত এই বাঁধের ৪০০ মিটার এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এভাবে অব্যাহত থাকলে যে কোনও মুহূর্তে বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে যেতে পারে, ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার অসঙ্গতি ও প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে ২২নং পোল্ডারের ১৩টি গ্রামে বসবাসরত হাজার হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় মানুষগুলো বাঁধের উপরে এক মানববন্ধন కార్యక్రమ করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের দ্রুত মেরামতের আহ্বান জানান।

    দেলুটি উপজেলা একটি দ্বীপের মতো এলাকা, যেখানে ২২নং পোল্ডার দিয়ে বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশ রয়েছে। এই পোল্ডারে মোট ৫টি ওয়ার্ডে ১৩টি গ্রাম রয়েছে এবং এখানে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করেন। কৃষিকাজে, বিশেষ করে তরমুজসহ অন্যান্য ফসলের জন্য এই এলাকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ফসল যেমন তরমুজ উত্পাদন হয়। চারপাশে নদী থাকায় এবং পানিবন্ধকতা স্থাপনের অভাবে, এই এলাকার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। অতীতে, প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্বল ভেড়িবাঁধের ভাঙন এবং প্লাবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত বছর ২২ আগস্ট বাঁধের ভেঙে যাওয়ায় পুরো পোল্ডার পানিতে তলিয়ে যায়, বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন শুরু করেন। আশ্রয় কেন্দ্রের সংকটের কারণে অনেকে রাস্তায় বসবাস করতেও বাধ্য হন। বিগত ২০ বছর ধরে এই ভাঙনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে, অগণিত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

    আলোর মধ্যে, এই বছরের ভাঙনের ঘটনা গত বছরের একই স্থানের কিনা জানাতে গেলে, জানা যায় যে, ভাঙনের ক্ষেত্রটি গত বছরের ভাঙনের এক কিলোমিটার উত্তরে, কালিনগর সাধু ঘাটে অমল কবিরাজের বাড়ি থেকে প্রভাষ মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত ৪শ’ মিটার এলাকাজুড়ে নতুন করে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এটি উদ্বেগজনক কারণ, এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী পানি প্রবাহের ঝুঁকি মোকাবেলা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে, তারা দ্রুত ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ প্রকল্প চালুর দাবি জানান।

    মানববন্ধনে অংশ নেয়া শত শত মানুষ বাঁধের ক্ষতি দ্রুত মেরামত ও টেকসই বাঁধের দাবিতে আলোচনা করেন। দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুকুমার কবিরাজের সভাপতিত্বে এবং ইউপি সদস্য পলাশ কান্তি রায়ের পরিচালনায় এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ত্রাণ নয়, টেকসই ভেড়িবাঁধের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হোক।” বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সমরেশ হালদার, ইউপি সদস্যরা রামচন্দ্র টিকাদার, রিংকু রায়, বদিউজ্জামান, মেরি রাণী, স্থানীয় ছাত্র-আরও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে হয়, সেজন্য টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বাঁধের প্রয়োজন।

  • পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা আজ, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা

    পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা আজ, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা

    আজ বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ে বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। এই দিনে মানুষের ধর্মীয় অনুশীলন ও সবার মধ্যে ঐক্যের ভাব জোরদার হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে না, এটি একটি ঐচ্ছিক ছুটি। তবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দিনটি উপলক্ষে কর্ম বন্ধ থাকছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বার্ষিক ছুটির তালিকায় আখেরি চাহার সোম্বার জন্য একদিনের ছুটি অনুমোদন করেছে। ফলে দেশের সব ধরনের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আজ বন্ধ থাকবে।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বার কারণে ২০ আগস্ট বুধবার সব কেন্দ্রীয় ও অধীনস্ত কলেজ বন্ধ থাকবে।

    এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নিজ নিজ ঘোষণা দিয়ে明 আজকের দিনের জন্য ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০ আগস্ট বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বার দিন শ্রেণি পাঠদান বন্ধ থাকবে। পরবর্তী দিন অর্থাৎ ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সবকিছু আগের মতো সচল হবে এবং ক্লাস আবার চালু হবে।

  • খুলনায় গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান

    খুলনায় গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান

    খুলনায় পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এই অপপ্রয়াসের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষিত আশা সম্পন্ন করার আকর্ষণে পেট্রোবাংলার হস্তক্ষেপ ও কার্যকলাপের স্বচ্ছতা কামনা করেছেন। গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় নগর ভবনে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও কেসিসি প্রশাসক মো. ফিরোজের কাছে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা এড. আ ফ ম মহসীন, সদস্য সচিব এড. মোঃ বাবুল হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মূলত, স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০১২ সালে খুলনায় গ্যাস সরবরাহের জন্য পেট্রোবাংলার অধীনে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি ভেড়ামারা থেকে খুলনায় পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করে। তবে, যথাসময়ে এই প্রকল্পটি অজানা কোনও কারণে স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে রাষ্ট্রীয় পরিমাণ অর্থের অপচয় হয় এবং এই প্রকল্পের উন্নয়ন প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয়। ভবিষ্যত পরিকল্পনায় ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে গ্যাস সরবরাহের প্রকল্পেরও স্থগিতাদেশের কারণে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আটকে যায়, যা স্থানীয় জনগণের আশার ঝলককে হ্রাস করে। এর পাশাপাশি, স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, খুলনার পুরনো পাটকলগুলো রেহাই না পেয়ে বন্ধ হয়ে যায় এবং শিল্পনগরী হিসেবে এর ঐতিহ্য ধ্বংস হয়। তবে, যদি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হয়, তবে বন্ধ কারখানাগুলোর যান্ত্রিক উন্নতিনির্দেশের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জমি ও অবকাঠামো পুনরায় সক্ষম হবে। এই অঞ্চলে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ সমুদ্রবন্দর এবং পদ্মাসেতুর নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং সেই সঙ্গে নতুন শিল্পকারখানা ও উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পাবে। এই অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে, দেশের অর্থনীতিতে মূখ্য ভূমিকা রাখবে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দেশীয় সম্ভাবনাগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। খুলনায় শিল্পের প্রসার ও বন্ধ কারখানা চালু হলে, শুধু এই অঞ্চলের মানুষই নয়, সারা দেশের জন্য সুফল আসবে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা শুধুমাত্র একটি দয়ার বিষয় নয়, বরং এটি জাতীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একটি অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলকে উপেক্ষা করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সীমিত সম্পদ ও ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দরসহ অন্যান্য সুবিধার উন্নয়নই এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা আশা করি, এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং দেশের সমগ্র উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই সমান উন্নয়নের আওতা দরকার, যা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির মূলকাঠামো।

  • দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ায় মৎস্যজীবী ও চাষিদের আয় বৃদ্ধি

    দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ায় মৎস্যজীবী ও চাষিদের আয় বৃদ্ধি

    অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারন করে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে সোমবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ হুসাইন শওকত। তার ভাষণে তিনি বলেন, মাছ আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষীদের আয় বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে অনেক পোড়া ও পতিত জমি এখন মাছ চাষের উপযোগী হয়ে উঠেছে, এগুলিকে ব্যবহার করে মাছের উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব। এতে দেশের মাছের চাহিদা পূরণ হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মৎস্যখাত দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলছে এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করলে কম জায়গায় বেশি উৎপাদন সম্ভব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগের পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান। এ ছাড়া বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, চিংড়ি চাষি মোঃ আবু হাসান সরদারসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, মাছ রপ্তানি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খুলনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে এই আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে জেলার ছয়জন সফল মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এর আগে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শহিদ হাদিস পার্কের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। শোভাযাত্রাটি শহিদ হাদিস পার্ক থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এই উৎসবের মাধ্যমে মৎস্যক্ষেত্রে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পথে এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

  • মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় স্বর্ণ পদক পেলেন গোলাম কিবরিয়া রিপন

    মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় স্বর্ণ পদক পেলেন গোলাম কিবরিয়া রিপন

    নগরীর রায়মহলের বাসিন্দা ও পাইকগাছা চিংড়ি চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রয়্যাল ফিস কালচারের স্বত্বাধিকারী তরুণ মৎস্য ও ঘের ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া রিপন সম্প্রতি মৎস্য খাতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় মৎস্য স্বর্ণ পদক লাভ করেছেন। এই অর্জনের জন্য তিনি চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোঃ ইউনুস-এর কাছ থেকে এ পদক গ্রহণ করেন। এর আগে, ১৭ জুলাই মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ভারপ্রাপ্ত ড. মোঃ আবদুর রউফ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গোলাম কিবরিয়া রিপন নগরীর বয়রা রায়ের মহল এলাকার মৃত নজির উদ্দিন আহমেদের পুত্র। তিনি সরকারি বিএল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে, পিতাকে অনুসরণ করে ২০০১ সালে পাইকগাছায় চিংড়ি পোনা ব্যবসায় হাত দেন। তাঁর কঠোর পরিশ্রমে এই ব্যবসায় তিনি সফলতা পেয়েছেন। ২০০৭ সালে ১৫০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করেন। তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য দেখে তিনি আরও ব্যাপকভাবে চিংড়ি চাষে মনোযোগী হন এবং বর্তমানে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় মোট ৬টি চিংড়ি ঘের রয়েছে, যার মোট আকার প্রায় ১৮৫০ বিঘা। তিনি আধুনিক উন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করে চিংড়ি চাষ করে থাকেন, যা দেশের সামুদ্রিক ও অবিচ্ছিন্ন জলাশয় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই চাষের ফলে তিনি প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা আয় করেন। তাঁর ঘেরগুলোতে কাজ করে থাকে ৪ থেকে ৫শ’ শ্রমিক, যা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। তাঁর সফলতা অনুরূপ অন্য ঘের মালিকরাও উন্নত মানের পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত হচ্ছেন। দেশের মানুষের নিরাপদ প্রোটিনের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের অবদান গভীর। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ জলাশয় রয়েছে প্রায় ৩৮.৬ লক্ষ হেক্টর, এবং সামুদ্রিক জলসীমা ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের মাছের অন্যতম প্রধান সম্পদ। সরকার এই সম্পদ রক্ষা, উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও টেকসই ব্যবহারের জন্য সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে। ফলে বাংলাদেশ এখন মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। গোলাম কিবরিয়া রিপন ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন, যেমন ২০১৩, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ সালে উপজেলা পর্যায়ে এবং ২০২৩ সালে জেলা পর্যায়ে। তিনি বলেন, “যেকোনো পুরস্কার মানুষকে উৎসাহিত করে কর্মে অনুপ্রাণিত করতে। জাতীয় মৎস্য স্বর্ণ পদক পেয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও সৌভাগ্যবান। এই সুন্দর অর্জনের জন্য আমি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, মৎস্য অধিদপ্তর এবং সকল শুভাকাক্সক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

  • ভোমরা বন্দর থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরুতেই দাম কমতে শুরু করেছেঃ বাজারে শঙ্কা কেটে গেছে

    ভোমরা বন্দর থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরুতেই দাম কমতে শুরু করেছেঃ বাজারে শঙ্কা কেটে গেছে

    সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজের প্রথম বিতরণ শুরু হতেই বাজারে তার প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে শুরু করেছে। সোমবারের সকালে শহরের বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমে গেছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি বাজারে দেশের পেঁয়াজের দামমানের পরিবর্তন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি হলে আগামী দিনগুলোতে দেশীয় পেঁয়াজের দাম আরও কমে যাবে।

    ভোমরা কাস্টমসের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর রোববার প্রথমবারের মতো ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে সাতটি ট্রাকের মাধ্যমে ২০২ মেট্রিক টন পণ্য ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করে। এরপর সোমবার আরও ২৫ ট্রাকের মাধ্যমে মোট ৭৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। দুই দিন মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩২ ট্রাকের মাধ্যমে ৯৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাংলাদেশের বাজারে এসেছে।

    বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম কমতে শুরু করেছে। সাতক্ষীরার বড়বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, “ভারতীয় পেঁয়াজের প্রবেশের ফলে দেশীয় পেঁয়াজের দাম এখন কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা কমে গেছে। আশা করছি, আরও বাড়তি সরবরাহের ফলে দাম আরও নেমে আসবে।” তিনি আরও জানান, এখন দেশি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য ৬৫ থেকে ৬৭ টাকা কেজি, যা খুব শীঘ্রই কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর এই প্রথম রোববার সন্ধ্যার দিকে দেশের বিভিন্ন বন্দরে ভারতীয় পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশ শুরু হয়। সোমবারের মধ্যে আরও ২৫ ট্রাকের মাধ্যমে আমদানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত থাকলে দ্রুতই বাজারের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে আসবে।

    ভোমরা কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মোঃ শওকত হোসেন বলেন, ‘রোববার থেকে ভোমরায় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে মোট ৩২ ট্রাকের মাধ্যমে ৯৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে। এর আগে শেষবার এই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল গত ২৭ মার্চ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম কমে যাবে।’

  • শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও সফট স্কিল বিকাশে গুরুত্ব নিবন্ধন: ইউজিসি

    শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও সফট স্কিল বিকাশে গুরুত্ব নিবন্ধন: ইউজিসি

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন বর্ষের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৪৭৫ জন শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি মেধাবৃত্তির মাধ্যমে স্বীকৃতি জানানো হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন-ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, অন্যদিকে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক, সনদপত্র এবং শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন অতিথিরা।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের জন্য মেধাবৃত্তি ও তার স্বীকৃতি—সনদপত্র প্রদান—একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু তাদের মেধার স্বীকৃতি নয়, বরং পরিশ্রম, সততা ও আত্মনিবেদনেরও পরিচয়। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি, তাদের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে সফলতা অর্জন করতে পারে।

    অতিরিক্তভাবে তিনি 강조 করেন যে, শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক চর্চায় মনোযোগ দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং কমিউনিকেশন দক্ষতা, কম্পিউটার জ্ঞান ও সফট স্কিলেও পারদর্শী হতে হবে। সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্কুল ও কয়েকটি কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেকে আধুনিক ও প্রস্তুত করে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন ও মাদক থেকে দূরে থাকাও জরুরি। জীবনে হতাশা এলে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্থির করে সে অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

    অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তৃতায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিই হলো এই সনদপত্র। এটি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সিভি সমৃদ্ধ ও গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়ক। তিনি আরও বলেন, সিভিতে শুধু একাডেমিক তথ্য নয়, বিভিন্ন প্রজেক্ট, থিসিস, কর্মশালা, সেমিনার ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের তথ্যও যোগ করতে হবে।

    বৃত্তি নীতিমালার বিষয়ে আলোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা একটি অপ্রত্যাশিত রীতি—যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বৃত্তির জন্য যোগ্য নয়। এটা একটিভির অমূলক উল্লেখ করে, তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী পূর্বের অর্জনের পাশাপাশি নতুন করে যোগ্যতা প্রমাণ করলে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। এ বিষয়ে সরকারের নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজন আছে।

    বিশেষ অতিথির ভাষণে জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেন ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বৃত্তি কমিটির সভাপতি ও কলা ও মানবিক বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান কবীর।

    শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ইংরেজি বিভাগের এস এম রেদোয়ান, শিক্ষা বিভাগের নাবিলা ইসলাম এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রাধিকা চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুমাইয়া আক্তার ও খান মোহাম্মদ মুশফিক আকিব। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রধান, প্রভোস্ট, বিভাগীয় পরিচালক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন, এ উদ্যেশ্য মূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

  • বিএনপি বেহেশতে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করে না: এড. শফিকুল আলম মনা

    বিএনপি বেহেশতে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করে না: এড. শফিকুল আলম মনা

    খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বিএনপি একটি ধর্মাবিধানপ্রিয় রাজনৈতিক দল, তবে ধর্মের নামে রাজনীতি করে না। বিএনপি সমাজে সততা, মানবতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সমুন্নত রাখতে উদাহরণ স্বরূপ কাজ করে, বেহেশতে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করে না। গতকাল সোমবার খুলনা ইউনাইটেড ক্লাবের মিলনায়তনে ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    শফিকুল আলম মনা আরও বলেছিলেন, বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, আল্লাহর অখন্ড আস্থা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলে দেশের শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার পাশাপাশি বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম শব্দ যুক্ত হয়েছিল, যাতে ধর্মের ভিত্তিতে সকল মানুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন সতর্ক করে বলেন, ৫ আগস্টের পর যারা পাড়া-মহল্লায় গিয়ে বেহেশতের টিকিট বিক্রির অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের ষড়যন্ত্র থেকে দেশবাসীকে সচেতন থাকতে হবে। বিএনপির মূল শক্তি হলো সাধারণ মানুষ, যারা সব সময় দলটির পক্ষে। কোনো ষড়যন্ত্র এই দলকে দমানো বা বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। যারা এই বিশ্বাসের বিরোধিতা করছেন, তারা ভুল বুঝছেন বা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ পতনের দৃঢ়তা দেখিয়েছে এই দেশের জনগণ। ভোটাধিকার রক্ষায় দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও স্বাধীনতা বিরোধীরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটের অধিকার খর্ব করতে চাইছে।

    প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তৃতা করেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ শেখ, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক সৈয়দা রেহানা ঈসা, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, শহর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নাসিরউদ্দিন, মহিলা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এডভোকেট হালিমা আক্তার খানম, মো: নুরুল ইসলাম, আলতাফ খান, জাহাঙ্গীর আলম, মনির খান, শহিদুল ইসলাম, মহিলা দল নেত্রী রাশিদা আক্তার ময়না, এডভোকেট জাহানারা পারভীন, আসাদুজ্জা মিঠু, শাহিনুল ইসলাম, মুরাদ হোসেন, শেখ মিজানুর রহমান, মো: কামাল, জিয়াউর রহমান, বাবুল জমাদ্দার, সওগাতুল আলম সগির, রিয়াজ সাহেদ, আসাদুজ্জামান মিঠু, রুবেল জমাদ্দার, মো: জালাল, ফারুক আহম্মেদ, মো: গাউস, মো: জামাল, মিজান সরদার, রিপন আকন, রবিউল ইসলাম রবি, মাওলানা আফসার উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আজম খান, মোস্তফা পাটোয়ারি, মোস্তফা মাস্টার, হিরণ দেবনাথ, মো: রুম্মান, রিয়াজ, জাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাফিয়া খাতুন, অক্লিমা খাতুন, পুতুল আক্তার, মো: মাসুদুর রহমান, খলিলুর রহমান, মাহাবুব নোমান, আব্বাস, হায়দার আলী, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।