Category: সারাদেশ

  • ১০ টাকার ইনজেকশন ৩০০ টাকা বিক্রি, ফার্মেসিকে জরিমানা ৫০ হাজার

    ১০ টাকার ইনজেকশন ৩০০ টাকা বিক্রি, ফার্মেসিকে জরিমানা ৫০ হাজার

    রংপুরে ওষুধের দাম বেশি রাখায় ফার্মেসি মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।‌ সোমবার (৯ জুন) রাতে নগরীর মেডিকেল মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

    জানা গেছে, নগরীর মেডিকেল মোড় এলাকার অবসর মেডিসিন কর্ণার ও সার্জিক্যালে এক রোগীর জন্য ওষুধ কিনতে আসেন রহমতুল্লাহ নামে একজন ভোক্তা। তার কাছে একটি ১০ টাকা মূল্যের ইনজেকশন ৩১০ টাকা, চারটি ইনজেকশন সিরিজ ১৮০ টাকা এবং ৬০ টাকা মূল্যের একটি মেডিকেল টেপ ৪৮০ টাকা বিক্রি করে দোকানটির কর্মচারীরা। ওই ভোক্তা দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরে সোমবার দুপুরে ওই দোকানে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী সেনাবাহিনীকে বিষয়টি অবগত করলে রাতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভুক্তভোগী রহমতুল্লাহ বলেন, আমি লালমনিরহাট‌ থেকে আমার অসুস্থ ছোট ভাইকে নিয়ে এসে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। চিকিৎসাপত্রে লেখা ওষুধগুলো জরুরি ভিত্তিতে অবসর মেডিসিন কর্ণার ও সার্জিক্যালে কিনতে এসে প্রতারণার শিকার হয়। ওই দোকানের কর্মচারীরা প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম কয়েকগুণ বেশি নেয়। বিষয়টি পরে বুঝতে পেরে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে দোকানের লোকজন দাম বেশি নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

    এ ব্যাপারে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সোহাগ বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে ওষুধ বিক্রি এবং ভোক্তার কাছ থেকে বেশি দাম নিয়ে এক ধরনের প্রতারণা করায় অবসর মেডিসিন কর্ণার ও সার্জিক্যালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আগামীতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • হান্নান মাসউদের মোটরসাইকেল বহরে হামলা, আহত ১

    হান্নান মাসউদের মোটরসাইকেল বহরে হামলা, আহত ১

    নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের মোটরসাইকেল বহরে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (৯ জুন) রাতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের পর্যটন কেন্দ্র কমলার দিঘীর পাড় থেকে ফেরার পথে চৌমুহনী বাজারের পশ্চিম পাশে একটি অন্ধকার স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা হঠাৎ করেই রাস্তার পাশে লুকিয়ে থেকে মোটরসাইকেল বহরের ওপর এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বহরে থাকা মো. সাহেদ নামের একজন আহত হন।

    জানা গেছে, ঘটনার সময় আশপাশে অন্ধকার থাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার সুযোগ পায়। এর আগেও চৌমুহনী খাদ্য গুদামের সামনে একই ধরনের হামলার শিকার হয় হান্নান মাসউদের প্রতিনিধিরা। বারবার এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হাতিয়া প্রতিনিধি মো. ইউসুফ রেজা বলেন, বহরে থাকা মোটরসাইকেলটিতে তিনজন ছিলেন, সাহেদ, হাসান ও সোহেল। তাদের মধ্যে পেছনে বসা সাহেদ সবচেয়ে বেশি ইটের আঘাতে আহত হন। এ হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

    এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমাদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক অবস্থান অনেকের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

    হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, হামলার বিষয়টি আমার জানা নাই অথবা কোনো লিখিত অভিযোগ নাই। হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বিয়ে বাড়িতে গরুর মাংস কম দেওয়ায় সংঘর্ষ, বরসহ আহত ২৫

    বিয়ে বাড়িতে গরুর মাংস কম দেওয়ায় সংঘর্ষ, বরসহ আহত ২৫

  • স্মৃতি-গান-আড্ডায় ঝালকাঠির হরচন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী

    স্মৃতি-গান-আড্ডায় ঝালকাঠির হরচন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী

    ঝালকাঠি হরচন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আয় আরেকটিবার আয়রে সখা/ এই মিলনমেলায় হোক আবার দেখা/ পুরোনো সেই স্মৃতির পাতায়/ লিখব মোরা নতুন কথা’—এমন সূচনা সংগীতের মধ্য দিয়ে আজ সোমবার সকালে বিদ্যালয়টির মাঠে এই আয়োজন শুরু হয়।

    অনুষ্ঠানটি ঘিরে উৎসবে মেতে ওঠেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর পরিচিত মুখগুলো কাছে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। সবাই যেন খুঁজে ফিরছিলেন পুরোনো সব স্মৃতি। গানে, আড্ডায়, স্মৃতিচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

    ঝালকাঠি সদর উপজেলায় হরচন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে বেলা ১১টার দিকে আকাশে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আমার প্রত্যাশা, একটি বাসযোগ্য, সুস্থ, সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে তোমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

    প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা সততা ও শৃঙ্খলা দিয়ে জয় করেছে পুরো দেশ। তিনি আশা করেন, শিক্ষার্থীরা এই মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখবে এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করবে।

    ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ স্কুলের বয়স প্রায় ৭৬ বছর। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাজানো হয় পুরো স্কুল। এতে অংশ নেন প্রায় ৯০০ প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী। আলোচনা সভা, স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, স্মৃতিচারণা, খেলাধুলা, র‍্যাফল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে সাজানো হয় পুরো অনুষ্ঠান।

    পুনর্মিলনীতে আসা সাবেক শিক্ষার্থী জাফরিন জেরিন বলেন, ‘সহপাঠী ও সিনিয়র আপুদের পেয়ে অন্য রকম একটি দিন কাটল। মনে হয়েছে, আবারও ছাত্রজীবনে ফিরে গেছি।’

  • এপ্রিল মাসে ভোট হলে নতুন সরকারকে বিশাল বিপদে পড়তে হবে: শামা ওবায়েদ

    এপ্রিল মাসে ভোট হলে নতুন সরকারকে বিশাল বিপদে পড়তে হবে: শামা ওবায়েদ

    এপ্রিল মাসে জনগণের ভোটের মাধ্যমে যে সরকারই গঠন হোক না কেন, নতুন সরকারকে বিশাল বিপদের মধ্যে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মাত্র এক মাস পরই সেই সরকারকে বাজেট ঘোষণা করতে হবে।

    নিজের নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শামা ওবায়েদ। আজ দুপুরে নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সরকার ঘোষিত নির্বাচনের সময়সীমা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, ‘এপ্রিল মাসে নির্বাচন দিতে চাচ্ছেন, এটা বাস্তবসম্মত কি না, আমি ইউনূস সাহেব ও তাঁর টিমকে ভেবে দেখতে বলব। কারণ, ফেব্রুয়ারি মাস যদি রমজান মাস হয়, ওই সময় মানুষ রোজা নিয়ে থাকবেন। রমজান মাসে ইলেকশনের ক্যাম্পেইন করা কতটুকু বাস্তবসম্মত, সেটাও এই সরকারের ভেবে দেখতে হবে। তারপরে ঈদ। ঈদের পর আপনারা নির্বাচন দিচ্ছেন।’

    এপ্রিল মাসকে নির্বাচন আয়োজনের অনুপযোগী সময় বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তাঁর ভাষ্য, ‘এপ্রিল ঝড়বৃষ্টি ও বিভিন্ন পরীক্ষার মাস। সুতরাং বিভিন্ন বাস্তবসম্মত কারণে এই মাস বাংলাদেশের জনগণ, ভোটার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য, বিশেষ করে আমার মা-বোনদের জন্য ও ইয়ং জেনারেশনের জন্য সমীচীন হবে কি না, এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আবার ভেবে দেখতে হবে। আপনারা যেই নির্বাচন এপ্রিল মাসে দিতে পারবেন, সেই নির্বাচন জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার আগেও দিতে পারবেন। ডিসেম্বর মাসেও দিয়ে দিতে কোনো সমস্যা নেই।’

    ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন, আফজাল হোসেন খান, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বাবুল তালুকদার, আলিমুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান প্রমুখ।

  • রাজশাহীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

    রাজশাহীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে এক কাঠ ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পাওয়ার জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এই ব্যবসায়ীর নাম আবদুল হান্নান। তিনি উপজেলার হাতিনাদা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। একই সঙ্গে তিনি বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

    আবদুল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, নন্দনপুর বাজারের চায়ের দোকানে তাঁর ছোট ছেলে তুষার আহমেদ মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছিল। এ সময় রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ছেলের চোখাচোখি হয়। এতেই রফিকুল ইসলাম কী বুঝে তার ছেলেকে মারধর করেছেন। তিনি ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়েছেন যে ওরা মেরেছে মারুক। এ নিয়ে কিছু করার দরকার নেই।

    আবদুল হান্নান আরও বলেন, তাঁর বড় ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন, ছুটিতে বাড়িতে আছে। ছোট ছেলেকে মারার কিছুক্ষণ পরেই বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম লোকজন সঙ্গে করে এসে তাঁর বাড়িতে হামলা চালান। বুঝতে পেরে তিনি বড় ছেলেকে নিয়ে পাশের একটি বাড়ির চাতালে পালিয়ে থাকেন। রফিকুল ইসলাম লোকজন নিয়ে বাড়ির সব জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছেন। যাওয়ার সময় আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এতে তাঁর বাড়ির রান্নাঘর, খড়ির ঘর ও একটি ছোট ঘর পুড়ে গেছে। দুটি ছাগল ও একটি গরু পুড়ে গেছে।

    খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। আবদুল হান্নান বলেন, ৫ আগস্টের পর রফিক মেম্বার তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। না দিলে মারার হুমকি দিয়েছিলেন, বাড়িঘর ভাঙচুর–অগ্নিসংযোগের হুমকিও দিয়েছিলেন। তিনি জবাব দিয়েছিলেন, মেরে ফেলে দিলেও তিনি চাঁদা দেবেন না।

    চাঁদা দাবির কারণ জানতে চাইলে আবদুল হান্নান বলেন, রফিকুল ইসলাম বিএনপির রাজনীতি করেন আর তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক। তবে শুধু ভোট দেন। মিটিং–মিছিল কোথাও যান না। কেউ প্রমাণ দিতে পারবেন না। তিনি দলের সক্রিয় কোনো কর্মীও নন, শুধু ভোটার। তাতেই ওরা মনে করে যে তিনি আওয়ামী লীগ করেন। এ জন্যই তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে তাঁর ধারণা।

    ঘটনার পর সোমবার বিকেলে আবদুল হান্নানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানের একটি ফলের গাছসহ একাংশের বাড়িঘর পুড়ে গেছে। তবে শোবার ঘরগুলো ভাঙচুর করা হলেও সেসব অংশে আগুন লাগেনি। এর আগেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।

    ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় যুবক ইকবাল হোসেনের ভাষ্য, চায়ের দোকানে আবদুল হান্নানের ছেলে তুষার তাঁর মামাতো ভাইকে নিয়ে হাসাহাসি করছিলেন। এটা দেখেই রফিকুল ইসলাম ধারণা করেছেন তাঁকে কটাক্ষ করে হাসাহাসি করা হচ্ছে। এরপর তিনি তুষারকে মারধর করেছেন। তুষার বাড়িতে এসে বলার পর তাঁর বাবা ক্ষোভে রফিকুল ইসলামের উদ্দেশে চিল্লাচিল্লি করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই রফিকুল ইসলাম লোকজন নিয়ে হান্নানের বাড়িতে হামলা করেন।

    অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বাড়ি পাশাপাশি। তাঁরা মূলত একই বংশের লোক। তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির প্রধান ফটকে তালা দেওয়া রয়েছে। বাড়িতে কোনো মানুষ নেই। বাড়ির মাটির দেয়ালে কুড়ালের কয়েকটি কোপ এবং টিনের চালায় একটি কোপ দেখা যায়। লোকজন বলেন, রফিক মেম্বার এগুলো দেখিয়ে তাঁদের কাছে দাবি করেছেন তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে আবদুল হান্নানের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    পুঠিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দুলাল হোসেন রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে আবদুল হান্নান বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার করেছেন। সেখানে রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • মায়ের সামনে যমুনার স্রোতে ভেসে গেল স্কুলছাত্র

    মায়ের সামনে যমুনার স্রোতে ভেসে গেল স্কুলছাত্র

    পাবনার বেড়া উপজেলায় মা–সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যমুনা নদীতে গোসলে নেমে এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের নতুন পেঁচাকোলা গ্রামের পেঁচাকোলা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, স্রোতের টানে ভেসে গেছে সে।

    নিখোঁজ উৎসব কর্মকার উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের নতুন পেঁচাকোলা গ্রামের উত্তম কর্মকারের ছেলে এবং রাজধানীর একটি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ঢাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত। ঈদের ছুটিতে সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সে।

    স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের যমুনা নদীতে মা–সহ পরিবারের আরও কয়েকজনের সঙ্গে গোসল করতে যায় উৎসব। সে কিছুদিন ধরে সাঁতার শিখেছিল। গোসলের একপর্যায়ে মায়ের চোখের সামনে হঠাৎ সে স্রোতের টানে নদীর কিছুটা ভেতরের দিকে চলে যায়। এ সময় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সে স্রোতের টানে তলিয়ে যায়।

    খবর পেয়ে কাশিনাথপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আজ বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, নদীতে প্রবল স্রোত আছে। তাই তাঁকে আশপাশে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। আপাতত উদ্ধার অভিযান স্থগিত হলেও পরে অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • প্রধান উপদেষ্টা দুটি রাজনৈতিক দলের কথায় এপ্রিল মাসে নির্বাচন ঘোষণা করেছেন

    প্রধান উপদেষ্টা দুটি রাজনৈতিক দলের কথায় এপ্রিল মাসে নির্বাচন ঘোষণা করেছেন

    নাছির উদ্দিন আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পরে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই সরকার আমাদের সরকার। এই সরকারকে কোনোভাবে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে, সেই রাজনৈতিক দলকে কীভাবে প্রয়োরেটি দেওয়া যায়, অথবা কীভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে তারা ব্যস্ত রয়েছে।’

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির কমিটির সদস্য সচিব বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল আলিম বাছির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর, সদস্যসচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা বিএনপির নেতা সহিদুল ইসলাম কিরণ। সঞ্চালনা করেন কৃষক দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান।

  • খাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

    খাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

    নাটোরের নলডাঙ্গায় খালের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার বাশিলা গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।

    সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের বাশিলা গ্রামের বাসিন্দা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এন্তাজ আলী (৫২), ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক (৩২), মৎস্যজীবী হাবিবুর রহান (৪৫) এবং হালতি গ্রামের মো. সেলিম (২৩) ও মো.উজ্জল (২২)। আহত ব্যক্তিদের নাটোর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালতি বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জিয়া খালের কিছু অংশ বাশিলা গ্রামের এবং কিছু অংশ হালতি গ্রামের অন্তর্গত। বিলের পানি শুকিয়ে গেলে খালে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। মাছ ধরার জন্য খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় গ্রামের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে।

    আরও জানা যায়, খাল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থেকেই আজ সকাল ১০টার দিকে হালতি গ্রামের বিএনপি কর্মী মো. ফলেনের (৫২) নেতৃত্বে কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে বাশিলা গ্রামে খাল দখল করতে আসেন। এ সময় বাশিলা গ্রামের বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পাঁচজন আহত হন এবং  তিনটি বসত-বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাশিলা গ্রামের এন্তাজ আলী সংঘর্ষের জন্য হালতি গ্রামের মো. ফলেনের ছেলে মো. সেলিক ও তার সমর্থকদের দায়ী করেন। তবে মো. সেলিম এ ঘটনার জন্য বাশিলা গ্রামের লোকজনকে দায়ী করেছেন।

    নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জানান, উভয় গ্রামের সংশ্লিষ্টরা বিএনপি নেতা-কর্মী। তবে ঘটনাটি দলীয় বিষয় নিয়ে ঘটেনি।

    নলডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোয়ার হোসেন বলেন, খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাশিলা ও হালতি গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তবে তখন কাউকে সেখানে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ জমা দেননি।

  • ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে সমালোচনা, বিএনপির রোষানলে কাদের সিদ্দিকী

    কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে শেখ হাসিনার প্রেতাত্মা আখ্যায়িত করে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে টাঙ্গাইল বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন তারা। এ ঘটনাকে  কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    শনিবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে পৌর শহরের তালতলা চত্বরে সমাবেশ করে।

    এর আগে শনিবার বিকেলে সখীপুরের বাসভবনে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখেন কাদের সিদ্দিকী। এসময় ‘চাঁদাবাজি’ ইস্যুতে বিএনপির নেতাকর্মীদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগ যে দোষে সর্বহারা হয়েছে, সরকার পতনের পর বিএনপি কিন্তু ওই দোষই করছে। জামায়াতেরা বেবি—ট্যাক্সি স্ট্যান্ড দখল করে নাই, বাজার দখল করে চাঁদা নেয় নাই। বিএনপি কিন্তু এমন করছে। আগে আওয়ামী লীগ যেখান থেকে চাঁদা নিত, এখন বিএনপি সেখান থেকেই চাঁদা নেয়। হয়তো চাঁদার রেট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে যেভাবে ভাগ নেওয়া যায় সব নেয়। এটা কিন্তু জামায়াত নেয় নাই।

    মূলত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর এই বক্তব্যর জের ধরেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পৌর শহরের তালতলা চত্বরে জড়ো হয়ে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

    সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সাজু বিলেন, কাদের সিদ্দিকী বিশ্বাসঘাতক ও মীরজাফর, এটা বাংলার মানুষ আগে বুঝতে পারে নাই। এটা প্রথমে বুঝতে পেরেছিল শেখ হাসিনা। তাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল। তাকে বাংলাদেশে আসতে দেয় নাই। পরে জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে (কাদের সিদ্দিকী) দেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। গত ৭ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার কাছ থেকে কাদের সিদ্দিকী ঢাকা—টাঙ্গাইলের বাড়ি এবং ১০০ কোটি টাকারও বেশি সুদ—ব্যাংক ঋণ মওকুফ করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাঙালি জাতির সঙ্গে মুনাফেকি করেছিলেন। তার আর বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নাই।

    ওই বক্তব্যের জেরে কাদের সিদ্দিকী ক্ষমা না চাইলে সখীপুরে কোথাও সভা—সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে শাজাহান সাজু আরও বলেন, কাদের সিদ্দিকীকে প্রতিহত করা হবে। ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দল, কৃষক দলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যেকোনো সময় নির্দেশ আসতে পারে কাদের সিদ্দিকীকে প্রতিহত করার। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর আবুল হাশেম, যুবদল নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।