Category: রাজনীতি

  • অভ্যুত্থানের দিগন্ত উন্মোচন: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবার সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা

    অভ্যুত্থানের দিগন্ত উন্মোচন: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবার সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকার গণতন্ত্রের অখণ্ডতা এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার প্রায়ই বলে যে আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনও গণঅভ্যুত্থান হবে না, কিন্তু ইতিহাস তার বিপরীতটা দেখিয়েছে। ৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সফলতা যখন রক্ষা করা হয়নি, তখনই ৭১ সালে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। যদি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনগুলো সংরক্ষণ না করা হয়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবর্ধনাসম্পন্ন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই সংবাদ সম্মেলনটি বিএনপি সরকারের বেআইনি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটের রায় উপেক্ষা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের নিয়োগের আইন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আয়োজন করা হয়েছিল।

    আসিফ বলেন, অনেক সময় আমরা দেখছি, বিএনপি সংবিধানের কথা বলে। কিন্তু নিজে যখন প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে আসে, তখন তারা সংবিধান লঙ্ঘন করে। সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, স্থানীয় সরকারের প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়োগ সাধারণ ভোটের মাধ্যমে হতে হবে। কিন্তু বর্তমান অধ্যাদেশগুলো বহাল রেখে তারা নির্বাহী বিভাগকে এত ক্ষমতা দিয়েছে, যাতে কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে যেকোনো সময় অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের কেউ যদি নির্বাচিত হন, তাদের নতুনভাবে আঘাত করে মনোভাবপ্রদর্শন বা অপসারণের হুমকি দেয়া হয়, যা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

    ফোনে অডিও-প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে ১৮-১৯টি এজেন্সির ব্যক্তিগত ফোনে অডিও ফাঁসের ক্ষমতা ছিল, এবং এই কাজে কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে অস্থায়ী সরকার সেই ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে রাখে এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করে দেয়। কিন্তু এখন বর্তমান সরকার সেই বাধ্যবাধকতা সরিয়ে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে ফাঁসের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

    এনসিপির মুখপাত্র আরো জানান, জনগণের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের দিকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদি এই সরকার গণভোটের রায় না মানে, তবে তাদের “অবৈধ সরকার” ঘোষণা করা হবে। তারা বলছেন, যেমন তারা তাদের অর্জনগুলো ধুলিসাৎ করতে মরিয়া, তেমনি তারা তাদেরকেও অবৈধ ঘোষণা করতে অপেক্ষা করছে না।

    আসিফ আরও জানান, তারা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সরকারের দুঃনীতি ও অপ্রিয়তায় তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় সব রাজনৈতিক অংশীজনের সঙ্গে বসে সমাধানের জন্য তিনি প্রস্তুত। তবে গণভোটের নাটকীয়তার কারণে তাদের রাজপথে নামা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। এটি কারো জন্যই সুখকর হবে না বলে মনে করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে।

  • চব্বিশের অর্জন রক্ষা না হলে ২০২৬-২০২৭ সালে পুনরায় অভ্যুত্থানের আশঙ্কা—আসিফ

    চব্বিশের অর্জন রক্ষা না হলে ২০২৬-২০২৭ সালে পুনরায় অভ্যুত্থানের আশঙ্কা—আসিফ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনাকে রক্ষা করা না হলে ২০২৬ কিংবা ২০২৭ সালে একই ধরনের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করা হয়নি—এর ফলেই ১৯৭১ সালের ঘটনার পথ তৈরি হয়েছিল।

    সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে—বিশেষ করে গণভোটের ফল উপেক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশ বাতিল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে।

    আসিফ বলেন, বিএনপি বারবার সংবিধান কথা বললেও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানই ভঙ্গ করছে। সংবিধানে স্থানীয় সরকার সংস্থায় জনপ্রতিনিধি নিয়োগে ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের থাকার কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে; কিন্তু যে অধ্যাদেশগুলো আগেই জারি ছিল সেগুলো বজায় রেখে নির্বাহী প্রশাসনের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে যে, কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে anytime অপসারণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিকে ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরী হচ্ছে—যা স্পষ্টতই সংবিধান লঙ্ঘন।

    তিনি ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ উত্থাপন করেন। বলেন, আওয়ামী শাসনের সময় প্রায় ১৮-১৯টি সংস্থার কাছে ব্যক্তিগত ফোনে নজরদারি চালানোর ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো কার্যকর আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার সে ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করেছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অপ্রতিবদ্ধ নজরদারি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে—এটি জনগণের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক, বলেছেন তিনি।

    মুখপাত্র আরও বলেন, অতীতেই আমরা ফ্যাসিবাদের ছাপ দেখেছি, আর এখন সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের লক্ষণ পরিষ্কার হয়ে উঠছে। যদি বর্তমান সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, উত্তর থেকেই তারা ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে, সতর্ক করে বলেন আসিফ। তিনি আরও জানায়, যেভাবে সরকার আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছে না, আমরাও তাদের অবৈধ ঘোষণায় দেরি করব না।

    আসিফ দাবি করেন, শুরু থেকেই এনসিপি এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে, কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সব অংশীজনকে নিয়ে আলোচনা־সমাধান করতে চান তারা; তবে গণভোটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া নাটকীয়তার কারণে বাধ্য হয়ে সড়কে নামার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজপথে নামা কারোর জন্যই মঙ্গলজনক হবে না, কিন্তু বিকল্পও আর নেই।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারি করে একটি নতুন বাংলাদেশের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তা রুখে দিতে হবে। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    তিনি জোর দিয়েছেন যে বাংলাদেশ এমন একটি ভূখণ্ড যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বেঁচে এসেছে। ‘‘এই দেশে ইসলামসহ সকল ধর্মের লোকেরা রয়েছে; খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ সবাই একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ,’’ বলেন তিনি। অতীতে ধর্মীয় ভিত্তিতে যে বিভাজনের চেষ্টা হয়েছে, সেগুলো থেকে সবাইকে সরে এসে সংহতি গঠনের পথে হাঁটতে হবে—এই বার্তাটিও তিনি দিচ্ছেন।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, তা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।’’

    অনুষ্ঠানে তিনি সকল মহলকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বিদ্বেষ ও বিভাজনকে প্রতিহত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিল ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিল ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদ ও সেই রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে শনিবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেছিলেন, সরকারের এই অবস্থান দেশকে ফ্যাসিবাদী পথে ঠেলে দিতে পারে এবং তা প্রতিহত করা হবে।

    দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল করে সমাবেশস্থলে পৌঁছতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘গণভোট মানতে হবে’—এমন বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। জমায়েতটি শুরুর পর উপস্থিতরা সরকারের বিরুদ্ধে এবং গণভোটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা পরপর বক্তব্যে সরকারকে সমালোচনা করে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়া অনৈতিক। তারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকারকে মর্যাদা দিতে সরকার গঠিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

    বক্তারা কঠোর সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সরকার ফ্যাসিবাদী নীতি কায়েম করতে চায় তবে বিএনপিকেও অতীতের মতোই কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেন, রায় দ্রুত কার্যকর না হলে তীব্র আন্দোলনের ঘোষণাও দিতে পারে ঐক্য।

    একই সঙ্গে সমাবেশে বক্তারা সংবিধান সংস্কারের ওপর জোর দেন যাতে ভবিষ্যতে জনগণের ভোটাধিকার ও মতামত প্রতিফলিত হয়। তারা বলেছিলেন, শুধুমাত্র প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থার দাবিতে সংগঠিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।

    সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়; নেতৃত্ব প্রতিনিধি ও কর্মীরা আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।

  • গণভোট ইস্যুতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোট ইস্যুতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদ ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর বায়তুল মোকার্রম প্রাঙ্গণে শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। জাতীয় মসজিদের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মিছিলপূর্ব সমাবেশে ঐক্যের নেতারা সরকারের সিদ্ধান্তকে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

    দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিলে করে সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে থাকেন। তাদের হাতে লেখা ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘গণভোট মানতে হবে’ মূলক প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং তারা সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে গণভোটের রায়ের বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। তাঁরা বলেন, এই ধরনের আচরণ থেকে সরকার ফ্যাসিবাদী মনোভাব প্রদর্শন করছে এবং এ অবস্থায় জনগণের মৌলিক ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

    বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কায়েম করে বা গণভোট রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে শক্ত ভিত থেকে কঠোর আন্দোলন ছাড়াও বিকল্প পথ বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি বক্তারা সংবিধান সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে জানান, জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংশোধন দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

    সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতারা ও কর্মীরা একত্রে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন তীব্র করবে এবং সরকারের এমন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে জনগণের দাবি আদায় করা হবে।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সতর্ক করে বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে এবং সেটি রুখে দিতে হবে। তিনি সমাজ থেকে ঘृণার শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে ভিত্তি করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।’

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের অনন্য উদাহরণ। ‘এ দেশে ইসলাম ধর্ম রয়েছে; তেমনই সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এ মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতকাল থেকেই আমরা মিলেমিশে বসবাস করে এসেছি,’ তিনি বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, কিছু সময় আগে ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা দেখা গেছে, সেটি থেকে সবাইকে উত্তোরণ করতে হবে। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, তাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠনে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান তারা।

    চলমান সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামাজিক ঐক্য ও শরিকতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি সবাইকে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ১১ দলীয় ঐক্যের

    গণভোট ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ১১ দলীয় ঐক্যের

    গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদ ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এই মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে ঐক্যের নেতাদের বক্তব্যে দাবি করা হয়, সরকার গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করে ফ্যাসিবাদী দমননীতিতে তৎপর হয়ে উঠছে। নেতা-কর্মীরা হুঁশিয়ারি দেন, যদি এই ফ্যাসিবাদী শক্তি কায়েম করতে চায়, তাহলে পূর্ববর্তী সরকারগুলো যে পরিণতি ভোগ করেছে তার মতোই খেসারত দিতে হবে বিএনপিকে।

    দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন, হাতে নানান প্ল্যাকার্ড যেন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ এবং ‘গণভোট মানতে হবে’ লেখা। এ সময় তারা সরকারের গণভোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। পর্যায়ক্রমে জোটের শীর্ষ নেতারা সেখানে বক্তব্য রাখেন।

    বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থ ও আকাক্সক্ষা উপেক্ষা করে একদমই গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা তীব্র সমালােচনা করেন এবং বলছেন, যদি অবিলম্বে এই রায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে কঠোর কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সংবিধানে প্রয়োজন আরও সংস্কার।

  • নাহিদ ইসলামের ডাক: ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান

    নাহিদ ইসলামের ডাক: ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান

    বিএনপি বিরোধী নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে আরো কঠোর আন্দোলন ও সচেতনতা জরুরি। তিনি দৃঢ়ভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তিনি রাজপথে নেমে এই আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া কিছু সংস্কার প্রকৃতপক্ষে জনগণের স্বার্থে ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়নে তারা সফল হননি। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা পুনরুদ্ধার করতে হলে নেতৃত্বের অঙ্গীকার ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    শনিবার দুপুরে হজের ওমরাহ শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাহিদ বলেন, দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া এখন যেখানে দাঁড়িয়েছে, সেখানে সংসদে সমাধান না পাওয়ায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন ক্ষমতা দখলের জন্য পুরোনো ধ্যানধারণা থেকে সরে এসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর না করে এলে দেশের সার্বিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ এভাবে চলতে থাকলে স্বৈরশাসন আর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বৃদ্ধি পাবে।

    নাহিদ বলেন, “বিএনপি এখন সংস্কারবিরোধী দল হিসেবে পরিচিত। তারা গত ১৬ বছর বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিপীড়িত হয়েছে, কিন্তু জনগণের মধ্যে তাদের আস্থা কমে গেছে। তারা সত্যিকার অর্থে দেশের পরিবর্তন চায় না, বরং নিজের স্বার্থে রাজনীতি চালাচ্ছে।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি এই পরিস্থিতিতে, যদি জনগণের আস্থা সরকারের উপর থেকে না যায়, তবে বিএনপি সরকারের পরিচালনা কার্যকর হবে না। এজন্য তিনি সকল অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান, এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সোচ্চার হবেন। “অ্যাডভাইজার ড. ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের দায়িত্ব হলো মানসিকতা বদলানো, লুকানো ষড়যন্ত্র থেকে সরে এসে জনগণের কথা শুনা। তাদের উচিত হলো নিজেদের স্বার্থের জন্য নয়, দেশের স্বার্থে কথা বলা।”

    তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ওমরাহ পালন শেষে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে উষ্ণ স্বাগত গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ও দেশের স্বার্থে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সূত্র মতে, তিনি তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে আগামীর সংকটে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে সাকি এক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। জানা গেছে, মূলত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার সুবিধার্থে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই ঘোষণা দেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করে রাখতেই আমি এ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’

    এছাড়া, জোনায়েদ সাকি জুলাই মাসে বাস্তবায়নযোগ্য Juliya সনদ ইস্যুতে বলেন, ‘এই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সে নিয়ে এখন বিতর্ক চলছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই প্রাধান্য পাবে।’

    উল্লেখ্য, জোনায়েদ সাকি গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পাঁচম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচন হন। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গণসংহতি আন্দোলন জাতীয় নিবন্ধন লাভ করে। চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

    বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন। এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তীতে তাকে শুধুমাত্র পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য তিনি পদত্যাগ করেন, দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

  • জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ ছাড়তে যাচ্ছেন

    জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ ছাড়তে যাচ্ছেন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সংগঠনের শীর্ষ নেতা জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই ঘোষণা দেওয়ার জন্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এতে জানানো হয়, প্রধান সমন্বয়কারীর দলীয় দায়িত্বের বিষয়ে অবহিত করার জন্য এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। খবর অনুযায়ী, জোনায়েদ সাকি নিজে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া, দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, মনির উদ্দিন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার ও হাসান মারুফ রুমীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গত বছর ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত সংগঠনের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন। এই সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।