Category: রাজনীতি

  • বিএনপি দ্রুততম সময়ে কমিটি ও কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিল

    বিএনপি দ্রুততম সময়ে কমিটি ও কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিল

    দলে নতুন করে সংগঠন ও স্থায়ী কমিটি গঠনের জন্য দ্রুত সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিলো বিএনপি। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয় আজ শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের একজন শীর্ষ নেতা ও নীতিনির্ধারকরা, যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্রিফিংয়ে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কাউন্সিলের আয়োজন করা হবে।’

    আলোচনায় দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি, হামের প্রাদুর্ভাব ও সরকারের ৪৭ দিনের কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে জানানো হয় যে, দলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন নেতৃত্ব গঠনের জন্য এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। এর আগে, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে, ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, যা ভিত্তিতে দলটি গড়ে ওঠে।

    বিএনপির গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, প্রতি তিন বছর পর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী পরিষদ বা কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। তবে, শেষবার দলটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এরপর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা জটিলতার কারণে আর কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। এখন দল নতুন করে সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

  • জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ ছাড়ছেন

    জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ ছাড়ছেন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সংগঠন থেকে رسميভাবে তার দায়িত্বে থেকে সরে যাচ্ছেন। শুক্রবার সাঁঝের দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া। এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বিস্তারিত উদ্বোধনের জন্য আগামী শনিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব নিয়ে দলের সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হবে। এই অনুষ্ঠানে জোনায়েদ সাকি নিজে উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, মনির উদ্দিন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। ওই সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

  • বিএনপি দ্রুত সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত

    বিএনপি দ্রুত সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত

    দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলীয় পরিকল্পনা ও সংগঠনের পুনর্গঠনের জন্য বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শিগগিরই কাউন্সিল সম্পন্ন করা হবে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, হামের প্রাদুর্ভাবসহ বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং সরকারের ৪৭ দিনের কার্যক্রম সর্ম্পকে আপডেট দেওয়া হয়। জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, “দলের সুসংগঠিত ভবিষ্যত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগগিরই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এটি দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী কমিটি বা পরিষদ গঠন করার বিধান রয়েছে; তবে শেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে, তারপর থেকে নানা রাজনৈতিক ও জটিল পরিস্থিতির কারণে আর কেউ কাউন্সিল করেনি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দলের অংগসংগঠনের নবায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া hızের সঙ্গে এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১ মার্চ, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে। এর আগে, ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই দফাগুলির ভিত্তিতেই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলের ঐক্য

    গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলের ঐক্য

    গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করে সরকারের মানসিকতা ওয়াখ্যাচ্ছন্ন করার জন্য রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এই সমাবেশের পূর্বে এক মিছিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে দলের নেতারা সরকারের বর্তমান অবস্থানকে ফ্যাসিবাদী বল করে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা অনুরোধ করেন, গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বা না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সত্যিকার গণভরে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে তারা।

    দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশের স্থলে জড়ো হতে থাকেন। এসময় তাদের হাতে ছিল দেশের হাল নাগাল, গণভোট এবং সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নানা দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড। নেতাকর্মীরা নানা স্লোগানের মাধ্যমে গণভোটের পক্ষে ও সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

    এই বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। এতে জোটের শীর্ষ নেতারা ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য রাখেন।

    বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্খা উপেক্ষা করে গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করছে। তারা কড়া ভাষায় বলেন, এই রায় যদি দ্রুত বাস্তবায়ন না হয়, তবে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে। বক্তারা জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের প্রকৃত প্রকাশ নিশ্চিত করতে সংবিধান সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন।

  • নাহিদ ইসলামের ড. ইউনূসকে রাজপথে আন্দোলনে আসার আহ্বান

    নাহিদ ইসলামের ড. ইউনূসকে রাজপথে আন্দোলনে আসার আহ্বান

    বিগত সরকারের উদ্যোগে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোকে এগিয়ে নিতে নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা কৌশলগত পথে এগোনোর জন্য একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (এনকপিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিশেষভাবে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, তাঁর মতে, সমাজের মানুষের জীবন ও রক্তের ওপর দিয়ে সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে কিন্তু এখন তারা আশা অনুযায়ী উন্নয়ন ও সংস্কার চালায়নি। নাহিদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ও সংস্কার কার্যক্রমের সাফল্য ধরে রাখতে জনগণের সরাসরি আন্দোলনে নামা দরকার। আমি ড. ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তিনি যেন শেখেন, সংগ্রাম করেন ও মাঠে নামেন।” বৃহস্পতিবার দুপুরে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে নাহিদ এসব কথাবার্তা বলেন। তিনি যোগ করেন, সংস্কার নিয়ে যা কিছু হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত ছিল না। তাঁর মতে, “এ এর জন্য শুরু হয়েছিল ৫ আগস্টের পর থেকে, যখন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচন ও ক্ষমতা লাভের জন্য মূলত পুরোনো পন্থাগুলো 유지 করতে চেয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “বিএনপি এখন আর আগের মতো রাজনীতি করছে না। তারা সবকিছু উপেক্ষা করে অধিকাংশ আসন পেয়ে শেখের এক সংখ্যার সংসদে উন্নত সংস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, বিচার বিভাগ, গুম এবং গোপন তথ্য বাতিলের ষড়যন্ত্র।” তিনি মন্তব্য করেন, “শুধু এই দল নয় বরং বিএনপি মূলত সংস্কারবিরোধী। গত ১৬ বছর তারা নানা নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘন করে আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা আজ তাদের প্রতি কমে গেছে।” আন্দোলনের পক্ষে তিনি জানিয়েছেন, “আমরা সংসদে সমাধান চাইছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমরা চাই, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া চালু হোক এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইন হিসেবে রূপ দিতে হবে। বিশেষ করে মানবাধিকার, বিচারপ্রক্রিয়া ও গুমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি পদক্ষেপ জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যেন এই বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো তৈরি করে ক্ষমতা দখল করে ফেলেছিল, এখন যখন এগুলো বাতিল হচ্ছে, তখন তাদের সঙ্গে থাকা ও কথা বলা জরুরি। জনগণের সামনে দাঁড়াতে হবে, তাদের প্রকৃত দায়িত্ব উন্নয়নে নিতে হবে।” এই প্রসঙ্গে, জানানো হয় যে, নাহিদ ইসলাম গত ২৯ মার্চ ওমরাহ পালনের জন্য দেশের বাইরে যান। তিনি ৩০ মার্চ সৌদি আরবে পৌঁছান এবং মর্যাদাপূর্ণ ওমরাহ সম্পন্ন করে শনিবার দেশে ফেরেন। তার সঙ্গে দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং বিমানবন্দরে তেজস্পর্শী স্বাগত জানানোর মাধ্যমে স্বাগত সুরে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সাকি সরে দাঁড়ালেন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সাকি সরে দাঁড়ালেন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি। এর ফলে দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব কেড়ে নেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। মনে করা হচ্ছে, মূলত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই ঘোষণা দেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য আমি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।’ এ বিষয়ে তিনি আরও জানান, জুলাইয়ে জাতীয় সনদ ইস্যুর বিষয়ে বিতর্ক চললেও, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের ৫ম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গণসংহতি আন্দোলন নিবন্ধন লাভ করে। এর আগে, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন, তবে পরে তাকে শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পাশাপাশি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন বিবেচনামূলকভাবে সাংঘর্ষিক মনে হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, যা দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন

    নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে সংস্কারগুলো অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণ করেছিল, সেগুলো রক্ষা করতে প্রয়োজন হলে মাঠে নামতেও হবে। ‘‘মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি,’’ বলেন নাহিদ।

    পবিত্র ওমরাহ পালনের পর আজ শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের করা সংস্কার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

    নাহিদ বলেন, সংস্কারকে কেন্দ্র করে এখন যা হচ্ছে তা অপ্রত্যাশিত নয়। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হয়েছে; ঐকমত্য কমিশন থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল—তখন তারা নতুন সংবিধান চেয়েছিল, আর বিএনপি নির্বাচন চেয়েছিল।

    তিনি দাবি করেন, তারা (নাগরিক দল) আমূল পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু বিএনপি পুরোনো ব্যবস্থাকে অক্ষুন্ন রেখে নির্বাচনেই ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল। নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসার পর থেকে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুচ্ছ করছে বলে নাহিদর অভিযোগ। ‘‘তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনছি গুরুত্বপূর্ণ ১০–১১টি অধ্যাদেশ তারা সংসদে আনছে না—এসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করবে না,’’ বলেন তিনি।

    নাহিদ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোকে। তিনি বলেন, এসব বাতিল করে বিএনপি একটি নির্বaysanতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে যেতে চায় যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকবে।

    সংগে তিনি বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী দলের কাতারেই আখ্যা দেন এবং বলেন, ‘‘গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত দাবি করে আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা তাদের প্রতি ছিল না; তাই তাদের আন্দোলনে তেমন সাড়া মেলেনি।’’

    রাজপথে আন্দোলনের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, তারা প্রথমে সংসদে সমাধান চেয়েছিল, কিন্তু উপযুক্ত সমাধান না मिलने কারণে এখন রাজপথে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি—সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হোক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত আইন রূপে বহাল রাখা হোক। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসতে পারে; এমন পরিস্থিতিতে যদি সরকারের ওপর জনগণের আস্থা না থাকে তবে বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।

    নাহিদ অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরস্ম হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তিনি ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ সকল উপদেষ্টাকে নিজেদের করা অধ্যাদেশ নিয়ে বক্তব্য রাখার এবং দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেন। ‘‘তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন যে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না—তারা চুপ করে ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে, সেটা চলবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে,’’ যোগ করেন নাহিদ।

    প্রসঙ্গত, নাহিদ ইসলাম ২৯ মার্চ রাতে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন এবং ৩০ মার্চ সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছান। উমরাহ এবং রওজা জিয়ারত শেষে শনিবার বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দরে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান; এ সময় জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি ঘোষণা: দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল হবে

    বিএনপি ঘোষণা: দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল হবে

    বিএনপির স্থায়ী কমিটি শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান যে কাউন্সিল আয়োজন করে দলকে সুসংগঠিত করা হবে।

    বৈঠক সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মির্জু ফখরুল বলেন, ‘দলকে সুসংগঠিত রাখতে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কাউন্সিল হবে।’

    স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় হতাশাজনক জ্বালানি পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য সার্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া সরকার ঘোষিত ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ডের প্রতি স্থায়ী কমিটি অবহিতও হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার আগে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি ১৯ দফার কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা দলের ভিত্তি হিসেবে গণ্য।

    বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছরে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দলটি সর্বশেষ কাউন্সিল আয়োজন করেছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ; এরপর দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা জটিলতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি। দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুকে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে এবং দল ও সরকারের মধ্যে সীমরেখা সুস্পষ্ট রাখার উদ্দেশ্যে জোনায়েদ সাকি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    সাক্ষাতে জোনায়েদ সাকি বলেন, “রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।” তার ভাষায়, সরকারের কার্যক্রম ও দলীয় দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করলে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই সহজভাবে দায়িত্ব আলাদা করাই মেনে নেওয়া হয়েছে।

    জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে বিতর্ক চলমান। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গণসংহতি আন্দোলন নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পায়। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    বর্তমানে জোনায়েদ সাকি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে পুনর্গঠন করে কেবল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেখেছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় এবং দলীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনে সম্ভাব্য দ্বৈততা এড়াতে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।

    দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি শিগগিরই বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।

  • নাহিদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন

    নাহিদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে এসে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারগুলো রক্ষা করতে হলে শুধু কথায় নয়, মাঠে নামে লড়াই করতে হবে—এতে ড. ইউনূসকেও যুক্ত হতে হবে।

    পবিত্র ওমরাহ শেষ করে শনিবার বেলা পৌনে দুইটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের কাছে ব্যর্থ হয়েছে। যে সংস্কারগুলো করা হয়েছিল, সেগুলো ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। তাই আমি ড. ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান জানাচ্ছি।’’

    নাহিদ বলেন, সংস্কার কেন্দ্রীক রাজনীতির যে ধারা চলছে, তা অপ্রত্যাশিত নয়। তার বক্তব্যে, ‘‘এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পরে শুরু হয়ে ঐকমত্য কমিশন থেকে সৃষ্টি—এর পর থেকেই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নতুন সংবিধান চাইছিলাম, আর বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়।’’

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি আমূল পরিবর্তন চেয়েছিল, যেখানে বিএনপির ইচ্ছা ছিল পুরনো কাঠামো রেখে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা। কিন্তু নির্বাচনের পরে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ লাভের পর অন্য সবকিছুকে উপেক্ষা করছে। নাহিদের অভিযোগ, ‘‘তারা গণভোটের গণরায়কে বাতিল করে দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ১০–১১টি অধ্যাদেশ সংসদে আনার বদলে বাতিলের পথে যাচ্ছে। এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আছে গুম প্রক্রিয়ার প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ—এগুলো বাতিল করলে স্বাধীন সিদ্ধান্তপরায়ণ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে নির্বাহী শাসনের একনায়কতান্ত্রিক শক্তিকেই ক্ষমতা দেবে।’’

    নাহিদ বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী বলেও আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, ‘‘গত ১৬ বছরে তারা নানা অনাড়ম্বর আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা তাদের নেতৃত্বে ছিল না—তার ফলে জনসমর্থন পাননি।’’

    সংসদে সমাধান না পাওয়ায় রাজপথে নামার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমরা প্রথমে সংসদে সমাধান চেয়েছিলাম; যেহেতু সেখানে উপযুক্ত ফল মিলছে না, তাই জনভিত্তিক অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হোক এবং যে অধ্যাদেশগুলো রয়েছে সেগুলোকে দ্রুত আইনে পরিণত করা হোক।’’ তিনি আরও সতর্ক করলেন যে সামনের সময়ে সাম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দায় সরকারকে পরিচালনা করার জন্য জনগণের আস্থা অপরিহার্য।

    নাহিদ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদেরও কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘যারা সেই সময় দায়িত্বে ছিলেন — ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ অন্যান্য উপদেষ্টা—তারা এই অধ্যাদেশগুলোর জন্য দায়িত্বশীল। এখন এগুলো বাতিল করা হচ্ছে; তাদের এগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে, মুখ খুলতে হবে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপিকে ক্ষমতা দিয়ে তারা চলে গেছেন—এবার যদি অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যায় এবং সংস্কার ধ্বংস হয়, তাহলে তারা নীরবuthe করে ফিরে গেলে চলবে না; জনগণের সামনে তাদের জবাব দিয়েই দাঁড়াতে হবে।’’

    প্রসঙ্গত, নাহিদ গত ২৯ মার্চ রাতে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় থেকে রওনা হন এবং ৩০ মার্চ সৌদির জেদ্দায় পৌঁছেন। শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে তাঁকে দলের শান্তকর্মী এবং নেতারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান; উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতারা।