Category: রাজনীতি

  • নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুবার শপথ নিলেন এনসিপির

    নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুবার শপথ নিলেন এনসিপির

    অবশেষে নানা গুঞ্জনের পর সংসদ অধিবেশনে শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তারা একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় ধাপের শপথটি সম্পন্ন করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় দলের তরুণ সদস্যরা সংসদে শপথ গ্রহণ করেন, যা নির্বাচন কমিশনের প্রধান এএমএম নাসির উদ্দিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

    এনসিপির সংসদ সদস্যরা হলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাহিদ ইসলাম, আকতার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ ও আব্দুল্লাহ আল আমিন।শপথ নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে শপথ নিয়েছেন জামায়াত জোটের অন্যান্য এমপি। তারা একসঙ্গে দুই দফা শপথ গ্রহণ করেন। তবে এ সময় এনসিপির এমপিরা শপথে অংশ নেবেন না বলে কিছু গণমাধ্যমে খবর ছড়ায়। হান্নান মাসুদ ও আতিকুর ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তারা শপথে অংশ নেবে না। তবে শেষ পর্যন্ত তারা শপথ গ্রহণে অংশ নেন।

    শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় দুপুর ১টা ২২ মিনিটে, যখন সংসদ ভবনের লবিতে কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ গ্রহণের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহকে দেখা গেছে চিরচেনা গেঞ্জি পরে, আকতারকে কোট এবং নাহিদ ইসলামের পােলে শার্ট পরে শপথ নিতে। এই আয়োজনে সবার মধ্যে গৃহীত হয় বাংলাদেশের সংসদে নতুন সদস্যদের দৃঢ় প্রত্যয় ও আনুষ্ঠানিকতা।

  • বিএনপি জুলাই সনদ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল বিএনপি নিশ্চিতভাবে বছরের জুলাইয়ে প্রদত্ত অঙ্গীকারপত্র (জুলাই সনद) সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের বিপুল আস্থা ও সমর্থন দিয়েছে, তা পূরণে দল কঠোর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই সনদে নির্ধারিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এই সনদ স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ব্যাপারে দল দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং দেশের উন্নয়নকে নতুন দিশায় পরিচালনার জন্য সংসদই হবে মূল মাধ্যম। প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও আইনি পরিবর্তন দিয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ অনুমোদিত বা তার সদস্যদের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই। এজন্য এমন কোনো কার্যক্রম অংশ নেয়া হয়নি বা অনুসরণ করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সবাই সংবিধানের নিয়মনীতি মেনে চলছেন। ভবিষ্যতেও রাষ্ট্র পরিচালনা পুরোপুরি সংবিধান অনুসারে চালানো হবে।

    সালাহউদ্দিন আরও জানান, নির্বাচনের বিজয়, শপথ গ্রহণ, সরকার গঠন এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা—all কিছুই আজকের সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং এভাবেই চলবে। এ ছাড়া, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে, এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    শপথের ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও নির্বাচনী ফলাফল বাস্তবায়নের জন্য সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পরে তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত সংসদই নেবে।

    তারেক রহমানের সংসদীয় নেতা নির্বাচনের পর তিনি জানান, বৈঠকে সবাই একমত হয়ে তাকে দলের নেতা নির্বাচিত করেছেন। একই সঙ্গে, তাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যারা শপথ নিয়েছেন—সবার স্বাক্ষর রয়েছে এই সিদ্ধান্তে।

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নিয়মের ভিত্তিতে, সংসদ সদস্য হিসেবে সুবিধা পেতে অপসংস্কৃতি দমন করতে হবে। বিশেষ সুবিধা লাভ বা সরকারি প্লট গ্রহণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে অবিলম্বে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন থেকে বদলাচ্ছে প্রথাগত ধারণা—সংসদ সদস্যরা যেন শুধু সুবিধাবঞ্চিত নয়, দেশের উন্নতিতে সত্যিকারভাবে অংশ নেয়।

  • সরকারি দল গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ

    সরকারি দল গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে, গণভোটে যারা হ্যাঁ’র পক্ষে গণরায় দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শপথ গ্রহণের দিন এবং মন্ত্রিসভার শপথের সময় থেকেই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা শুরু হয়েছে। সেই সময় তারা গণভোটে অংশ নেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে হ্যাঁ’র ভোট দেওয়া সব মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সচেতনভাবে নির্বাচিত ত্রয়োদশ সংসদ এবং গণভোট ছিল দেশের জন্য এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি ছিল দেশের গণতন্ত্রের পুনর্বিবেচনা ও সংস্কারের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সড়ক থেকে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও, নানা বিষয়বার কারণে সেটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যদিও ভোটপ্রক্রিয়া সুষ্ঠ ছিল, কিন্তু ফলাফলে কারচুপি পরিলক্ষিত হয়েছে। তারপরও দেশের স্বার্থে এবং স্থিতিশীলতার জন্য এই ফল মেনে নেওয়া হয়। এরপর তারা শপথ গ্রহণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু সেখানেও প্রতারণার আশংকা দেখা দেয়। তিনি বলেন, যেদিন শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান হয়, ঠিক সেই দিনই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, যারা সংস্কার চাইছিল, গণভোটে ভোট দিয়ে যাদের প্রত্যাশা ছিল, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারের দল শপথ নেয়নি, যা খুবই দুঃখজনক।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতির জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল যে, সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা একই দিনে শপথ নেবেন এবং এক সঙ্গে কাজ করবেন। তবে কিছু ভুল ব্যাখ্যার কারণে সেই প্রতিশ্রুতি অমান্য করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এটি দেশের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতারণা এবং গণরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তারা শপথ নেবেন এবং এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করবেন। তিনি আরও বলেন, এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া বর্তমান জাতীয় সংসদ কোনো মূল্য রাখে না, তাই তাদের শপথ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

  • সরকারের প্রধান দায়িত্ব ভূমিকা পালন করে আসামিদের ফেরত আনা ও বিচার সম্পন্ন করা

    সরকারের প্রধান দায়িত্ব ভূমিকা পালন করে আসামিদের ফেরত আনা ও বিচার সম্পন্ন করা

    জুলাই মাসে সংগঠিত গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা সরকারের একান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সম্মেলন কক্ষে এ ব্যাপারে এক প্রেস ব্রিফingtে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিদেশ থেকে আনতে হবে এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এটাই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনওভাবেই যেন বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতি ও বাধাগ্রস্ত হয়।’

    তিনি বলেন, ‘জুলাই-অগাস্টে সংঘটিত গণহত্যার মূল আসামিদের এখনো গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে পারেনি সরকার। এটি আমাদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা শুধুমাত্র বিএনপি সরকারের ওপর আরোপ করা যায় না, বরং বর্তমান সরকারেরও দায়।’’

    এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে বিএনপি শপথ নিচ্ছে না, তার মানে তারা প্রমাণ করছে যে, যারা সংস্কারে সমর্থ হবে, তাদের সঙ্গে তারা পক্ষপাতিত্ব করবে। তারা শুরু থেকেই সংস্কারের বিরুদ্ধে ছিল। জনদাবিতে পড়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য প্রচার করেছে।’

  • জামায়াতের আমিরের অভিযোগ: গণমাধ্যমে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ ও প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

    জামায়াতের আমিরের অভিযোগ: গণমাধ্যমে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ ও প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

    সরকারের বিরোধী দলকে পরিকল্পিতভাবে অ obedience করছি বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, গণমাধ্যমের ওপর নির্লজ্জভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘সরকার যদি বিরোধীদলের পরামর্শ না মানে, তাহলে আন্দোলন ও প্রতিবাদ আরও কঠোরভাবে গড়ে তোলা হবে। কেউ যদি শুধু দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিকarputে জুলুমের শিকার হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হবো। আমরা চাই, সকলের অধিকার রক্ষা ও বিচার প্রতিষ্ঠা হোক।’’

    তিনি আরও জানান, সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে দেশের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হবে। জননেতাদের একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব—এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

    এতিম শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা চাই এতিমদের মন থেকে মনিমুক্তা বের করে আনি। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে তারা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’ তিনি এও বলেন, ‘‘অ Allah সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কাজ আমরা করব, এমন প্রত্যাশা রয়েছে।’’

    একে অপরাধ হিসেবে দেখছেন, সম্প্রতি টেলিভিশনের চার সাংবাদিকের চাকরি হারানোর ঘটনায় প্রশ্নে সাংবাদিকদের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘‘এটি হল সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর নির্লজ্জ আঘাত। আমরা সরকারের কাছে প্রত্যাশা করব— তাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে। অন্যথায় মনে করব, সরকার একনায়কতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’’

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

    সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ ইসলাম ও কোরআনপ্রিয়। তারা কোরআনের চেতনায় বিশ্বাস করে ও জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে মানে।’’ এটাও উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে সবাই একযোগে কাজ করলে স্বস্তি আসবে।

    উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং থানা নেতৃবৃন্দ।

  • বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল বিএনপি স্পষ্ট করে বলেছে, তারা ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের গঠিত সরকারের প্রারম্ভিক থেকেই বিএনপি এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত এই ‘জুলাই সনদ’ এক ঐতিহাসিক দলিল। এটি অনুযায়ী সব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আরো জানান, জনগণের রায় এবং রাষ্ট্রকে নতুন পথে চালিত করতে সংসদ হবে মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ এর সদস্যের শপথ করানোর ক্ষমতা স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে নেই। এজন্য কোনো প্রক্রিয়াও এখন পর্যন্ত প্রয়োগ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যত রাষ্ট্র পরিচালনা হবে পুরোপুরি সাংবিধানিক পদ্ধতিতে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়, শপথগ্রহণ এবং সরকার গঠন—সবকিছু সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এছাড়া, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত করে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    শপথপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, গণভোটের ফল ও জনগণের ইচ্ছা প্রকাশে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পর তৃতীয় তফসিলের মধ্যে শপথের ফরম সংযুক্ত করা হবে, যা সংসদ ঠিক করে দেবে।

    সালাহউদ্দিন সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক) ধারার উল্লেখ করেন। বলেন, যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ করাতে অপারগ থাকেন বা উপস্থিত না থাকেন, তবে তিন দিনের মধ্যে তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। যদি তা না হয়, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এভাবেই শপথ পড়িয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

    তিনি আরো জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিতে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংসদ সদস্যরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানবেন: এক- কেউ ট্যাক্স-মুক্ত গাড়ি গ্রহণ করবেন না; দুই- সরকারি প্লটও গ্রহণ করবেন না। সালাহউদ্দিন বলেন, আজ থেকেই পরিবর্তনের শুরু। সংসদ সদস্য হিসেবে সুবিধা পাবার ধারণা বদলে দিতে হবে।

  • নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দু’বার শপথ নিলেন এনসিপির

    নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দু’বার শপথ নিলেন এনসিপির

    নানান গুঞ্জনের মধ্যে আলোচনার শেষে অবশেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই শপথের পাশাপাশি তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দ্বিতীয় দফায় শপথ নেন।

    মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টায় তারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংসদে শপথ গ্রহণ করেন। এই শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এমএম নাসির উদ্দিন।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সাধারণ সম্পাদক, সংসদ সদস্যরা এবং অন্যান্য প্রার্থীরা। শপথ নেওয়া এনসিপির সংসদ সদস্যরা হলেন- হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাহিদ ইসলাম, আকতার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ এবং আব্দুল্লাহ আল আমিন।

    শপথের আগে, অন্য দলগুলো যেমন জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। তারা একসঙ্গে দুপক্ষের শপথ সম্পন্ন করেন। তবে এই সময় এনসিপির এমপিরা শপথে অংশ নেবে বলে খবর ছিল না। আসলে, হান্নান মাসুদ ও আতিকুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তারা শপথে নিজেরা অংশ নেবেন না। তবে শেষ পর্যন্ত তারা শপথ গ্রহণে সিদ্ধান্ত নেন।

    এনসিপির এমপিরা সংসদ ভবনের লবিতে উপস্থিত হয়ে দুপুর ১টা ২২ মিনিটে কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে তাদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ চিরাচরিত গেঞ্জি পরা থাকনের পাশাপাশি আকতার তার কোট ও নাহিদ ইসলাম শার্ট পরে শপথ গ্রহণ করেন। এই দৃশ্যগুলো খুবই সাধারণ ও মানবিক উপভোগ্য ছিল।

  • হাসিনা ও অন্যান্য আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা সরকার的重要 দায়িত্ব

    হাসিনা ও অন্যান্য আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা সরকার的重要 দায়িত্ব

    যৌলি গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বৃহস্পিতবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন, যেখানে তিনি মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।

    আখতার হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিকে বিদেশ থেকে আনিয়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এটি সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনোভাবেই যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতি বা বাধার মুখোমুখি না হয়।’ তাঁর মতে, ‘জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মূল আসামিদের এখনো গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়নি, যা আমাদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা সরকারের উপর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়েও বিএনপি শপথ না নেওয়ায় প্রমাণ হয়, তারা কেবল নিজেদের স্বার্থে সংস্কার চায়। এরা শুরু থেকেই সংস্কারবিরোধী ছিল। জনচাপের মুখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ শুভেচ্ছা প্রচার চালিয়ে নিজেদের অজুহাত দেখিয়েছে।’

  • সরকারি দল গণরায়কদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য নাহিদ ইসলামের

    সরকারি দল গণরায়কদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য নাহিদ ইসলামের

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকারী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে একটি প্রতারণার মাধ্যমে জনগণের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেদিন সংসদে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল, সেই একই দিনে সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও সরকার তাদের সেটি করাননি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই শপথের মাধ্যমে যোড়ানো ওই প্রক্রিয়াটিও ছিল একটি বড় ধরনের নিস্পত্তিহীনতা। নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ও স্ব স্ব দলের শপথ নেয়া হলেও, সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশগ্রহণের জন্য শপথ গ্রহণে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর ফলে গণভোটে জনেমতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে অবিচার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে, যাতে বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক মানসিকতা জাগ্রত হওয়ার আশা ছিল, পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু নানা কারনে সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেছে, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা এই নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে, তবে তার সঙ্গে কিছু আলাদা দিকও লক্ষ্য করা উচিত। সেই সঙ্গে, এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, শপথ না নেওয়া সরকারের এক ধরনের প্রতারণা, কারণ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই দিনে শপথ নেওয়া লাগবে। অথচ, ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে অনেকের শপথ না নেয়া থেকে সরকার তাদের বিচ্যুত করছে, যা দেশ ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলে মনে করেন তিনি। আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তারা শপথ গ্রহণ করবেন। এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া ভবিষ্যতের দেশের কোনো মূল্যই নেই এবং এর মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব।

  • ইন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা থামাতে না পারলে আবারো অভ্যুত্থানের আশঙ্কা জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    ইন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা থামাতে না পারলে আবারো অভ্যুত্থানের আশঙ্কা জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার ১১ দলীয় ঐক্য কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের পূর্ব সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় ঐক্যের নেতারা দেশের সব রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানান।

    নির্বাচন 후 পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন এলাকা হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

    গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই সহিংসতা দ্রুত না থামে, তবে বাংলাদেশ আবারো অভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, রক্ত দিয়ে গড়া ৭৫ সালের বিভীষিকাময় স্বাধিকৃতি যদি পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হয়, তবে আগের মতই নতুন ফ্যাসিবাদও ফিরে আসবে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ১১ দলের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো যদি দ্রুত নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে জনগণ তাদের ভোটের ফল নিজেদের হাতেই ফলাসহ নিতে রাস্তায় নেমে আসবে।

    এদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশের মানুষকে প্রতারণার মধ্যে ফেলা হয়েছে। তার মতে, ফলাফল যেন সাবেক ও প্রহসনমূলক ছিল, যা দেশজুড়ে শত্রুতা ও জুলুম সৃষ্টি করছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর আর কোন ফ্যাসিবাদ এই দেশের মানুষের মানসিকতা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, যদি জুলুমের এই অবস্থা চলতেই থাকে, তবে আমরা আবারো আন্দোলনে নামব।