Category: রাজনীতি

  • আসিফের সতর্কতা: ২৬-২৭ সালে আবারও সম্ভাব্য অভ্যুত্থান সংকেত

    আসিফের সতর্কতা: ২৬-২৭ সালে আবারও সম্ভাব্য অভ্যুত্থান সংকেত

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিএনপি সরকার সম্প্রতি বারবার দাবী করে আসছে যে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে এর উল্টো ছবি। ৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনগুলো রক্ষা করতে না পারায় ফলশ্রুতিতে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে, যদি আগামী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জন রক্ষা না করা হয়, তাহলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারো সেই ধরনের অব্যাহত ঘটনার আশঙ্কা করছে তিনি।

    রোববার (৫ এপ্রিল) শহীদ নগরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের মধ্যে ভোটের রায় উপেক্ষা, সরকারী সংস্কার বিলম্বে অবহেলা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি বিএনপি সংবিধানের কথা বলে, কিন্তু তাদের কাজের মধ্যে দেখা যায় সংবিধান লঙ্ঘনের অপপ্রয়াস। রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধি নিয়োগের সময়, সংবিধানের স্পষ্ট বিধান থাকলেও শাসকরা সরকারি অধ্যাদেশের দোহাই দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা রাখছে। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হয়েও অপসারণের আতঙ্কে থাকছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী।

    অপর এক আলোচনায় তিনি ফোনে আড়ি-পতানোর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সরকারের সময় এজেন্সিগুলোর ব্যক্তিগত ফোনে নজরদারি করার ক্ষমতা ছিল বলেও উল্লেখ করেন। আগের পরিমার্জনা অনুযায়ী, অন্তর্বতীকালীন সরকার বাজেয়াপ্ত ক্ষমতা অর্ধেক করে ৪টি সংস্থায় সীমাবদ্ধ করলেও বর্তমান সরকার তা তুলে দিয়ে আবারও আড়ি পাতার ক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

    মুখপাত্র আরও বলেন, গতকাল অপ্রতিরোধ্যভাবে আমরা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারী লক্ষণগুলো দেখেছি। যদি সরকার ২০২৪ সালের গণভোটের রায় মানে না, তাহলে তাদেরকে অদ্যুত সরকার হিসেবে ঘোষণা দিতে দ্বিধা করবো না। পাশাপাশি, আমাদের অর্জনগুলো ধুলিসাৎ করতে তারা যত সময় নিচ্ছে, আমরা তত দ্রুত তাদের অবৈধ ঘোষণা করবো।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগে থেকেই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সকল অংশীজনের সাথে বসে কাজ করতে চান। তবে, গণভোট নিয়ে চলমান নাটকীয়তা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখন রাজপথে নামা আর বিকল্প নেই। এ আন্দোলন কোনোভাবেই কারো জন্য ক্ষতিকর হবে না।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদের রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে।

  • জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: সংসদ মানুক বা না-মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব

    জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: সংসদ মানুক বা না-মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব

    জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না-মানুক—গণভোটের রায় আদায় করে বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে। তিনি দাবি করেন, সংসদ নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং জনগণের রায় ধ্বংস করা হয়েছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘৭০ শতাংশ জনগণ হ্যাঁ-র পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ-র পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। জনগণের সুপ্রিম উইলকে সম্মান দিয়ে আমরা রায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবো—সংসদ মানুক বা না মানুক, আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’’

    তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, দেশের ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে জাতি গঠন করতে হলে আগে একটি দলের ভেতরেই ন্যায়, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে। ‘‘যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র বলতে জানে না, যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারে না—সেরাই ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না, জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না।’’

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, ‘‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে এবং চব্বিশে তাদের রায়ও দেয়। আপনাদের রায় থাকলে কেন সরকার গঠন করতে পারলেন না—এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে এবং এর সাক্ষ্য ইতোমধ্যে মিলেছে।’’

    বাংলেশিকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ঘুঘু বারবার এসে ধান খায়, কিন্তু কপাল মন্দ হলে জালে আটকা পড়ে। ঘুঘু, তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছো—এবার তোমার লেজ, পা ও ডানাও অবশ করা হবে।’’

    সংসদ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যখন সংসদে ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থা বা অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, তখন আমরা জনগণের শক্তির ওপর ভর করে দাবি আদায় করেছি। এবারে ও সংসদে ইতিবাচক বিতর্কের সুযোগ থাকলে সমাধান চাইতাম, কিন্তু তা না হওয়ায় জনগণের কাছে ফিরে যাওয়াই একমাত্র পথ বলে আমরা মনে করছি।’’

    জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা ওঠালেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিচালনায় দুর্বলতার কারণে সংকট বাড়ছে, যা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রেও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে যদি শিক্ষাপ্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয় তাহলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে—শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা চলবে না।

    ডা. শফিকুর রহমান আশ্বাস দেন, ‘‘সংসদে থাকা আমাদের প্রতিনিধি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং কোনো অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।’’

    অনুষ্ঠানে জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রমুখ।

  • সংসদ মানুক না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব: জামায়াত আমির

    সংসদ মানুক না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়বেন তারা। তিনি বলেন, বিচার ও আদায়ের মাধ্যমে এই রায় বাস্তব করবে জামায়াত।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন যে সংসদ নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং ‘‘৭০ ভাগ জনগণ হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ’র পক্ষে ছিলাম, আছি এবং জনগণের সুপ্রিম উইলকে সম্মান দেখিয়ে যাব।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘এই সংসদ মানুক বা না মানুক—গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব, আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’’ তিনি বলেছিলেন যে তাদের রায় হাইজ্যাক করা হয়েছে, রায়কে ডাকাতি করা হয়েছে এবং জনগণকে অসম্মান করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে প্রমাণও মিলেছে।

    বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একটি দেশ ও জাতিকে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে গড়তে হলে ওই দলের ভেতরেই ন্যায়, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে। যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র পালন করতে পারে না, যাদের নেতাকর্মীদের নিজেদের দলের নেতাকর্মীরাই নিরাপদ রাখে না—তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবেন না, জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবেন না।’’

    তিনি বলেন, ‘‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে; চব্বিশে জনগণ রায় দিয়েছে। হয়তো কেউ প্রশ্ন করবেন, রায় পেয়ে থাকলে কেন সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি—তাতে আমাদের রায় হাইজ্যাক হওয়ার বিষয়টি আসে।’’

    জামায়াত আমির এক সমকালের উপমা দিয়ে বলেন, ‘‘ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যায়। কিন্তু কপাল যখন খারাপ তখন জালে আটকে পড়ে—ঘুঘু, তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছো; এবার তোমার লেজ, পা আর ডানা ঠিকই অবশ করে দেওয়া হবে।’’

    তিনি জানান, যদি সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্দোলনের মাধ্যমে রায় বাস্তবায়ন করা হবে। ইতিহাসে যে বিষয়ে ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থার মাধ্যমে দাবি আদায় করা হয়েছে, এবারও পরিস্থিতি একই থাকলে জনগণের ক্ষমতার ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

    এছাড়া জ্বালানি সংকট ও তার প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর। তিনি বলেন, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি; ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সংকট বেড়েই চলেছে এবং এর প্রভাব কৃষি উৎপাদনেও পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াবে।

    শিক্ষাখাতে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, শিক্ষা কখনই সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, ‘‘সংসদে থাকা আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং কোনো অন্যায়ের কাছে আমরা নতি স্বীকার করব না।’’

    সভায় জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রমুখ।

  • বিভাজনের চেষ্টাকে রোধ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    বিভাজনের চেষ্টাকে রোধ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যা সবাই মিলে রোধ করতে হবে। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ‘ইস্টার সানডে’ অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি ও আহ্বান জানিয়েছেন।

    ফখরুল বলেন, আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। ঘৃণার বদলে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আমাদের চলার মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি যোগ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাই জাতিকে এগিয়ে নেবে।

    তিনি বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলেন, এই দেশটি সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করার এক অনন্য উদাহরণ। ইসলাম ছাড়াও এখানে সনাতন, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ নানা ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করে নিজেদের প্রাণ ও সংস্কৃতি মেলে ধরছে। খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল অতীতের কিছু অপচেষ্টার কথাও স্মরণ করিয়ে বলেন, এক সময় ধর্মভিত্তিক বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছিল, তেমন অপচেষ্টা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মিলে একটি সুসংহত এবং সহনশীল সমাজ গড়ে তোলাই প্রয়োজন।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, আপনারা যে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছেন তা আমাদের ভবিষ্যৎ কাজকর্মে গুরুত্ব বহন করবে। আমরা চাই সমৃদ্ধি ও সুবিচারে ভর করে এমন একটি সরকার গঠন করতে, যাতে সকলের ভাগ্য আরও ভালো হয়।

    শেষে তিনি সবাইকে সংগে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, একটি সহনশীল, প্রেমভিত্তিক ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

  • সংসদ মানুক না মানুক—গণভোটের রায় আদায় করেই ছাড়ব: জামায়াত আমির

    সংসদ মানুক না মানুক—গণভোটের রায় আদায় করেই ছাড়ব: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক না মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই তারা শেষ করবেন। তিনি বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে সংসদ নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করা হয়েছে। তার কথায়, ‘‘৭০ ভাগ জনগণ হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ’র পক্ষে ছিলাম এবং আছিও। জনগণের সুপ্রিম উইলকে আমরা সম্মান দেখিয়েছি, দেখিয়ে যাব। সংসদ যদি মানুক বা না মানুক—গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব, আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’’

    বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি জাতি ও দেশের মধ্যে ন্যায়, ইনসাফ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেই মূল্যবোধ প্রথমে দলের ভেতর থেকে শুরু করতে হবে। তিনি আহতদের হাতে নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র চর্চা করতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে এবং জাতির কাছে ন্যায়-ইনসাফ উপহার দিতে পারবে না।

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, ‘‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে। ২৪-এ জনগণ রায় দিয়েছে। হয়তো কেউ প্রশ্ন করতে পারেন—আপনারা রায় পেয়ে থাকলে কেন সরকার গঠন পারেননি। আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে। এবং তার রাজসাক্ষীও মিলেছে।’’

    তিনি এক ক্ষেপ্তূপকতা তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘‘হ্যাঁ, ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যায়। কিন্তু কপাল খারাপ হলে জালে বেঁধে যায়। ঘুঘু তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছো—এবার তোমার লেজ, পা, ডানা ঠিকই অবশ করে দেওয়া হবে।’’

    সংসদ যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করে রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে—এমনbrite সিদ্ধান্ত পুনরায় জোর দিয়ে বলেন জামায়াত আমির। তিনি স্মরণ করান, ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সংসদে উদ্যোগ না হওয়ায় জনগণের শক্তি ভর করে দাবি আদায় করা হয়েছিল; এবারও একই পথে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকবে।

    জ্বালানি সংকটের মোকাবেলায় সংসদে আলোচ্যতা থাকলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে জ্বালানি সংকট বাড়ছে, যা কৃষি উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ফলস্বরূপ খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়বে।

    শিক্ষা খাতে জ্বালানি সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটকে অজুহাত করে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে। শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, আগে নয়।

    ডা. শফিকুর বলেছেন, সংসদে থাকা জামায়াতের প্রতিনিধি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং অন্যায়ের সামনে নতি স্বীকার করবে না।

    সভায় জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রমুখ।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সামাজিক ঐক্য বজায় রেখে ভ্রাতৃত্ব ও প্রেমের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ‘ইস্টার সানডে’ অনুষ্ঠানে তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং সেটি রুখে দিতে হবে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটি চিরতরে নির্মূল করা উচিত। বিভাজন নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের চলার পথের মূল শক্তি। তিনি সবাইকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক অনন্য দেশ। এখানে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও সমানভাবে ভোগোচিত অংশ। এ ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে, এবং সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী একটি সময় ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টার কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের সবাইকে সেই বিভাজনের চক্রান্ত থেকে বেরিয়ে এসে একসাথে এগোতে হবে।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি এবং বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ আছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে সবাইকে নিয়ে এগোতে হবে।’’

    অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল সকল ধর্মাবলম্বীর প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং বলেছিলেন, সামাজিক সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধই হবে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মূল ভিত্তি।

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি ১১ দলের ঐক্য

    গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি ১১ দলের ঐক্য

    গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে রাজধানীতে বিশাল এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলের ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এই মিছিলের পূর্ব সমাবেশে নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ফ্যাসিবাদী মনোভাব দেখাচ্ছে। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি এই ফ্যাসিবাদ কায়েম করার চেষ্টা চলতে থাকে, তাহলে অতীতের সরকারগুলোর মতো বিএনপিকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেমন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ও ‘গণভোট মানতে হবে’। নেতাকর্মীরা slogans দেন গণভোটের পক্ষে এবং সরকারের অবস্থানের বিপক্ষে। এই ঐক্যবদ্ধ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের আকাঙ্খাকে গুরুত্ব না দিয়ে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া অবস্থায় আছে। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, যদি অবিলম্বে এই রায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সংবিধানে সংশোধনের উপরও জোর দেন বক্তারা।

  • বিএনপি দ্রুততম সময়ে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিল

    বিএনপি দ্রুততম সময়ে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিল

    দ্রুত সময়ের মধ্যে দলীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আজ শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন দলের নেতারা। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার জন্য দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এই কাউন্সিল খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি আরও জানান, বৈঠকে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি, হামের প্রাদুর্ভাবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার সম্প্রতি ৪৭ দিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়েও অবহিত করা হয়।

    উল্লেখ্য, শনিবারের এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    বিএনপি গঠনের ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা যায়, দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়া রহমান ১৯৭৮ সালের ১ মার্চ বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, যার ভিত্তিতে দলটি গঠিত হয়।

    বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী কমিটি বা পরিষদ গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে শেষবারের মতো ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা জটিলতার কারণে আর কোনও কাউন্সিল হয়নি। এখন সংবিধানগতভাবে দলটি আবারও নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে যাচ্ছে।

  • নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভের আহ্বান জানালেন

    নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভের আহ্বান জানালেন

    বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে অগ্রসর করার জন্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে নেমে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা রক্তের ওপর দিয়ে তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়, প্রত্যাশার বাইরে নোটবাড়িয়েছে। তবে যতটুকু সংস্কার বা অর্জন হয়েছে, তা ধরে রাখতে তাঁদেরকে অবশ্যই মাঠে নামতে হবে। আমি ড. ইউনূসকেও বিক্ষোভে মাঠে নামার دعوت জানাচ্ছি।’ এই বক্তব্য তিনি পবিত্র ওমরাহ পালনশেষে আজ শনিবার দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ব্যক্ত করেন।

    সংস্কার নিয়ে যা কিছু হচ্ছে তা অপ্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশে যা কিছু হচ্ছে, বিশেষ করে সংস্কারকে কেন্দ্র করে, এটা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। ৫ আগস্টের পর থেকে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনের জন্য এগিয়ে আসবে।’ তিনি আরও জানান, তারা মূলত আমূল পরিবর্তন চেয়েছিলেন, আর বিএনপি আগের অর্থাৎ পুরোনো ধারাকে ধরে রাখতে চেয়েছিল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়ে।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর বিএনপি অর্জন করা দুই-তৃতীয়াংশ আসনের পরও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় আইনের বিরোধিতা করছে। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনা থেকে বিরত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, উচ্চ আদালত ও বিচারক নিয়োগ বিষয়ক অধ্যাদেশ রয়েছে। তারা এই সব বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন করতে চাইছে, যেখানে নির্বাহী বিভাগের একচেটিয়া ক্ষমতা থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৬ বছরে এই দলটি বড় ধরনের নিপীড়নের মুখে পড়েছে, আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়েছে, কিন্তু মানুষের এ দলের প্রতি আস্থা কমেছে, কারণ নেতৃত্বে তারা আস্থা অর্জন করতে পারেনি।’ ফলে, এনসিপির নেতারা সংসদে সমাধান না পেয়ে এখন রাজপথে নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা সরকারের কাছে দাবি, সংবিধান সংস্কার ও অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করতে হবে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার বুঝতে পারছে না যে, সামনে আর অর্থনৈতিক মন্দা আসছে, যদি জনগণের আস্থা না থাকে তাহলে তারা আর সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।’ তিনি অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ অন্য উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বলতে চান, তাদের উচিত এখন এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে কথা বলা, মুখ খুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ড. ইউনূসসহ যারা এই আইনগুলো করেছিলেন, তাদের এখন ঘোষণা দিয়ে বলতে হবে, এগুলো বাতিল হচ্ছে। না হলে, তারা এদিক-সেদিক মুখোশ আড়াল করবেন। তাদেরকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

    প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে ওমরাহ পালন ও জেয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম ঢাকার বিমানবন্দর ছেড়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় যান। ৩০ মার্চ পবিত্র ওমরাহ পালন ও মহৎ নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের পরে, শনিবার বেলা প্রায় ২টার দিকে বাংলাদেশের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি দেশে ফেরেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সাংগঠনিক ও অন্যন্য সেবার জন্য তাঁকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ।

  • সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় কিছু শক্তি: মির্জা ফখরুল

    সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় কিছু শক্তি: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবাইকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা অবশ্যই রুখে দিতে হবে।

    শনিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমাদের অবশ্যই সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটি চিরতরে বিদায় দিতে হবে। আসল শক্তি হলো মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সৌহার্দ্য, যা আমাদের পথচলার মূল চালিকা শক্তি হওয়া উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখাতে পারে কীভাবে সব ধর্মের মানুষ এখানে এক সাথে বসবাস করে। দেশটি একদিকে যেমন ইসলাম ধর্মকে ধারণ করে, তেমনি Hindu, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধধর্মের অনুসারীরাও এই দেশের অংশ। অতীত থেকে এই ভূখণ্ডে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস করে আসছে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এককালীন সময়ে ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে সবাইকে মুক্তির পথ খুঁজে বের করতে হবে।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করা, যেখানে সবাই থাকবে সম্পৃক্ত। সামনে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে, যা সবাই মিলে সম্পন্ন করতে হবে।’