Category: রাজনীতি

  • এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় নেতা, তারেক রহমানকে সমর্থন প্রকাশ

    এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় নেতা, তারেক রহমানকে সমর্থন প্রকাশ

    দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর বাংলাদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের পর, দেশজুড়ে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক। তিনি আজ (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, যা সকলের মনোযোগ কাড়ে। তার এই প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঠিক এই দিনই, তিনি এনসিপি ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমর্থনের বার্তা প্রকাশ করেন।

    ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি মীর আরশাদুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, পরিবেশ সেল প্রধান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারীসহ সব দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। আজ আমি এই ঘোষণা দিতে চাই যে, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরুত্থানের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। তিনি বলেন, আমি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করছি এবং চট্টগ্রাম-১৬ সংসদীয় আসনে (বাঁশখালী) নির্বাচন করছি না। এই দিনটি নির্বাচিত করেছি কারণ এই দিনটাই সেই ঐতিহাসিক দিন, যখন দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বাংলাদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটা আমাদের জন্য এক বিশাল স্বাগত ও শুভকামনা।

    তিনি আরও লেখেন, ‘আন্তরিকতার সাথে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি যে, এনসিপির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দলটির নেতারা যে প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। দলের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের দল এবং নেতাদের পথে ভুল আছে। আমি এই ভুল পথে থাকতে পারছি না। তাই আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমার এখন থেকে এনসিপির সাথে আর কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকবে। তাদের প্রতি আমি শুভকামনা রইল।’

    আরও যোগ করেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমি খুবই হতাশ। আমি তখন মনে করেছিলাম, এই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ হবে, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা প্রতিফলিত হয়নি। সতেরোটি শহীদ, হাজারো আহত এবং অসংখ্য ত্যাগের পরও একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য বাংলাদেশ দেখিনি। এনসিপি এর জন্য দায়ী। বর্তমানে দেশে বিভাজন, ধর্মের অপব্যবহার ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর বিভিন্ন বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। কিছু গোষ্ঠী দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে। তাই গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরাই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নামকরা তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি, নতুন উদ্যোগ গ্রহণ এবং বর্তমান দলগুলোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন বলে মনে করি।

    নিজের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজে সচেতনতার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রজীবনে রাজনীতি শুরু করেছি। আমি সব সময় বাংলাদেশের স্বার্থকে নিজের অগ্রাধিকার দিয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে, আমার বিশ্বাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও জোটের জোড়া জয় নিশ্চিত, ফলে সরকার গঠন সম্ভব। দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা একত্রে কাজ করে যেতে চাই।’

    শেষে, তারেক রহমানের নেতৃস্থানীয় কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বের উপর আমার বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয়েছে। তিনি বর্তমানে একমাত্র নেতা, যিনি ধ্যানধারনা, শিক্ষা, পরিবেশ ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে স্পষ্ট লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে পারেন। তরুণদের জন্য এটি এক দারুণ দৃষ্টান্ত। দেশের স্বার্থে, ভবিষ্যতের স্বার্থে, এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে আমি পুরোপুরি সমর্থন জানাচ্ছি।’

  • ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন জামায়াতের আমির

    ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন জামায়াতের আমির

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে প্রার্থীদের কার্যক্রম বেড়ে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর থেকে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এই কাজের নেতৃত্বে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, যারা একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী নিশ্চিত করে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামায়াতের এই নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এবারের নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর। এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে প্রার্থী হওয়ার জন্য ক্রাহি-প্রত্যাশার সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ অন্তত এক ডজন প্রার্থী ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে, একই দিনে ঢাকা-১৩ আসন থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ উল্লেখযোগ্য। রিটার্নিং অফিসার সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার মোট ২১ জন সম্ভাব্য প্রার্থী ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ফলে রাজধানীর এই দুই আসনে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও প্রাঞ্জল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • তরিক রহমানের জন্য রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও নানা প্রশ্নের উত্তর দিলেন মাহদী

    তরিক রহমানের জন্য রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও নানা প্রশ্নের উত্তর দিলেন মাহদী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠেছে দেশজুড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী এবং সাধারণ মানুষ সবাই নানা প্রশ্ন তুলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দলের উপদেষ্টা মাহদী আমিন স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে উত্তর দিয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্ব প্রকাশ করেছেন। এই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অন্যতম অনুপ্রেরণা হলো দেশের জন্য গভীর বাসনা ও জাতীয় স্বার্থ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একজন নেতার দেশে ফেরার ঘটনা নয়, এটি দেশের মানুষজনের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান, আশা-আকাঙ্ক্ষার এক সংযোগ। এটি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    বিদ্যমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিবেচনায়, মাহদী আমিন জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে একই ফ্লাইটে ফিরছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ফ্লাইটটি সকাল ১১:৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবতরণের পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    তারেক রহমানের প্রথম লক্ষ্য হলো তার অসুস্থ মা-বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। এই জন্য তিনি সরাসরি বিমান থেকে গুলশানের নিজ বাসায় যাবেন। তবে, আগেভাগেই দায়িত্বশীলতা ও জনসমাগমের কথা বিবেচনা করে তিনি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট প্রশস্ত) এলাকার একটি সংক্ষিপ্ত পথ দিয়ে মাত্র কিছু সময়ের জন্য জনগণের সাথে দেখা করবেন ও ধন্যবাদ জানাবেন। এরপর তিনি হাসপাতালে গিয়ে মায়ের পাশে থাকবেন এবং পুনরায় গুলশানে নিজ বাসায় ফিরে যাবেন।

    স্থানীয় ঐতিহাসিক স্থানগুলো উত্তমভাবে এড়ানোর কারণ হিসেবে মাহদী আমিন ব্যাখ্যা করেন, এটি একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত ও মানবিক সিদ্ধান্ত। জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও স্থানগুলো এক্ষেত্রে এড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, রাজধানীর কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থিত এই ৩০০ ফুট প্রশস্ত ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ এর এক পাশের সার্ভিস লেনকে নির্বাচিত করা হয়েছে মূল কর্মসূচির জন্য—যেখানে তারেক রহমানের সফর সংশ্লিষ্ট সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।

    এটি কোনো সংবর্ধনা বা জনসমাবেশ নয়, এটি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি, যেখানে শুধুমাত্র তারেক রহমানই বক্তা থাকবেন। এই অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মী থেকে সাধারণ জনগণ—সবাই উপস্থিত থাকবেন। ইতোমধ্যে লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, নেতাকে এক নজর দেখার আবেগে উদ্বেল।

    জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও ওষুধের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া, হাসপাতালে যাওয়ার পথে আইসিইউসহ অ্যাম্বুলেন্স ও ব্রেকডাউনের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানির সরবরাহ, স্বেচ্ছাসেবকদের সেবা নিশ্চিত করে জনমনে স্বস্তি দেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিবেশী ও বিদেশগামী যাত্রী, রোগী ও জরুরি যানবাহন অবাধে চলাচল নিশ্চিত করতে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে আলাদা বাস পার্কিং লেনের ব্যবস্থা, অ্যাম্বুলেন্স ও বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এই সব উদ্যোগের পাশাপাশি, ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশ ও ট্রাফিক কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এমনকি এ সব প্রচেষ্টার মধ্যেও প্রতিযোগিতা থাকছে, এবং কিছু অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিএনপি ও এর সহযোগীরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

    অন্তর্বর্তী সরকারি ও নির্বাচনকালীন ছুটির কারণে, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিন নির্ধারিত হয়েছে। পরে দিনগুলোতেও ছুটি থাকায় মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নেতাকর্মীদের জন্য নির্দেশনা হিসেবে যোগ করা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখতে ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর অপেক্ষার পর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দেশের সকল প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা এক সূচনায় মেতে উঠেছেন। বেশিরভাগ নেতাকর্মীকে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলো ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    অবশেষে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বেশকিছু বিশ্লেষক এটি দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে প্রত্যাশা করছে সবাই। এটি দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা, সহনশীলতা ও ঐক্য বাড়াতে সহায়ক হবে—একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  • মাত্র ১৪ ঘণ্টায় তাসনিম জারার অ্যাকাউন্টে ২৩ লাখ টাকার অনুদান

    মাত্র ১৪ ঘণ্টায় তাসনিম জারার অ্যাকাউন্টে ২৩ লাখ টাকার অনুদান

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহের জন্য ভোটারদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জানিয়েছেন যে, তিনি ২৩ লাখ টাকার বেশি অনুদান পেয়েছেন। এটি এমন এক অপ্রত্যাশিত ও মনোমুগ্ধকর সাড়া—যা তিনি নিজেও কল্পনাও করেননি। ডা. তাসনিম জারা ধীরে ধীরে জানিয়েছেন, নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবে, যা ভোটার সংখ্যা ও আনুসঙ্গিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। ঢাকার ৯ নম্বর সংসদীয় আসনে এর ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার, ফলে তিনি অর্থের মোট প্রয়োজনীয় পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন প্রায় ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এই লক্ষ্য পূরণ হলে ফান্ডরেইজিং বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাত ২টার পরে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম হওয়ায় এখন বিকাশের মাধ্যমে আর অর্থ পাঠানো সম্ভব নয়; বর্তমানে অনুদান গ্রহণের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে, ডা. তাসনিম জারা একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভোটার, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন, যেন তিনি নির্বাচনী খরচ নির্বিঘ্নে চালাতে পারেন।

  • বিএনপি শরিকদের জন্য আরও ৮ আসন ছেড়েছে

    বিএনপি শরিকদের জন্য আরও ৮ আসন ছেড়েছে

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি আরও বেশ কয়েকটি আসন শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। একদিন আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।এতে উল্লেখ করা হয়, এলডিপি থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-7, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর মোস্তফা জামান পিরোজপুর-1, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-3, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-2, বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ ঢাকা-13 ও গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-6 ও ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি রশিদ যশোর-5 থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ফখরুল বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপি আর কোনো প্রার্থী দেবে না। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়লেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও জানান, যেসব আসনে দলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে, সেগুলোর জন্য বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। কেবল ঐসব আসনে যেসকল শীর্ষ দল বা শরিক দলকে বিশেষ সমঝোতার মাধ্যমে আসন দেয়া হবে, তারাই প্রার্থী হতে পারবে। এতে আওয়ামী লীগ বা অন্য দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রয়োজনে বিএনপি তাদের প্রার্থী না দিয়ে সমঝোতায় যেতে চায় বলে জানা গেছে। এ ছাড়া, বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় দলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, এই অংশের মতে, বলাই বাহুল্য যে, বিএনপি এই নির্বাচনে শরিক দলগুলোকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্যই তারা তাদের দলের মধ্য থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেশেবিচ্ছিন্ন করে ও দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান শাদাহাৎ হোসেন সেলিম নিজ দল বাজেয়াপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একইভাবে, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও নিজেদের দল ঢাকা-১ পুর্নবিবেচনা করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হতে চান। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে বিএনপি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।গতকাল মঙ্গলবার, বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, জমিয়তের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে তারা চারটি আসনে প্রার্থী দেবে না। এ চার আসন হলো, নিলফামারী-১ (মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী), নারায়ণগঞ্জ-৪ (মনির হোসাইন কাসেমী), সিলেট-৫ (মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (জুনায়েদ আল হাবীব)।এ পর্যন্ত, আওয়ামী লীগের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টির প্রার্থী তালিকা দুই দফায় প্রকাশ করেছে বিএনপি। আর বাকি ২৮টির মধ্যে চারটি আসন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারিত হলেও আরও আটটি আসন শরিক দলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে, এখনও বাকি রয়েছে ১৬টি আসন।

  • সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ছাড়া কেউ বক্তব্য দেবেন না

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ছাড়া কেউ বক্তব্য দেবেন না

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি নিজে ছাড়া অন্য কেউ ভাষণ দেবে না। এই বিষয়টি তিনি বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তারেক রহমান এমন কোনো কর্মসূচি সমর্থন করেন না যা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। তিনি ইতিমধ্যেই লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেননি। এ জন্য তিনি সাধারণ মানুষের অসুবিধা দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা রাজধানীর একপাশে ৩০০ ফুট প্রশস্ত সড়কের সার্ভিস লেনে সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন, যেখানে শুধু তারেক রহমানের উপস্থিতি ও বক্তব্য থাকবে। অন্য কোনো বক্তা থাকবেন না এবং নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাঞ্চন ব্রিজ ব্যবহার করে পাঠানবাড়িতে আসার জন্য।

    তিনি আরও জানান, তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মায়ের কাছে যেতে চান। তিনি পিতার ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করতেও আগ্রহী। তিনি এমন একটি দিন নির্ধারণ করেছেন, যা বাংলাদেশের সরকারি ছুটির মধ্যে পড়ে, যাতে তিনি স্বদেশে ফিরে আসতে পারেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে সকাল ১১:৫০ মিনিটে রাজধানীতে অবতরণ করবেন। এরপর বিএনপির অন্যান্য নেতা-নেত্রীরাও তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, এর পথে সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।

    সংবর্ধনা পুষ্পস্তবক প্রদান, দোয়া ও দেশ ও দলের কল্যাণ কামনায় আয়োজনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হেল্প ডেস্ক, পার্কিং এবং অন্যান্য সুবিধার জন্য প্রস্তুত থাকবো। তবে এই বড় আয়োজন যেন কোনও ত্রুটি ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, এ জন্য নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

  • নির্ধারিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান, শুরু হবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আয়োজন

    নির্ধারিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান, শুরু হবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আয়োজন

    নেতাকর্মীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর দেশের মাটি ছেড়ে নিজ দেশের জন্য উড়াল দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের পরপরই তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যার প্রথম কয়েক দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ খতিয়ে বলেছেন।

    তিনি বলেন, এই দিনটি যে ইতিহাস হয়ে থাকবে, দেশবাসী তার সাক্ষী হবে। তবে এই কর্মসূচির ফলে কিছুটা জনদুর্ভোগ হতে পারে, তাই তিনি আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও তারেক রহমানের ব্যপারে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

    তিনি জানিয়েছেন, বিমান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যরাতে বাংলাদেশের সময়ে রওনা হবেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন। বিমানবন্দরে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে আন্তরিক সংবর্ধনা দেবেন। এরপর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংকেতিতভাবে বক্তব্য রাখবেন, শুধুমাত্র সংক্ষিপ্তভাবে। অন্য কেউ এ সময় বক্তব্য দিতেহবেন না। তার পরে তিনি বাসতবাবরে ফিরে যাবেন।

    সালাহউদ্দিন বলছেন, ২৬ ডিসেম্বর জুমআ’র পর তারেক রহমান প্রথমে যাবেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে। এরপর সাভার স্মৃতিসৌধে সশ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন। ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে ভোটার ও এনআইডি কার্যক্রম সম্পন্ন করে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। পরে পঙ্গু হাসপাতালে জুলির আহত যোদ্ধাদের দেখতে যাবেন।

    তিনি আরও জানান, জনদুর্ভোগ না হয়, এ জন্য রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোর অভ্যর্থনা কর্মসূচি এড়ানো হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠানের পরিবর্তে বিএনপি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছেন সাধারণ মানুষের কষ্টের জন্য। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমা চাচ্ছি মানুষের অসুবিধার জন্য। তারেক রহমান এ সব পছন্দ করেন না। নির্দেশনা অনুযায়ী চেষ্টা করেছি, তবে মানুষের আবেগের কারণ এ অনুষ্ঠান হয়েছি।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে দেশবাসী। তবে এত বড় আয়োজন সম্পন্ন করা ছোট দলের পক্ষে শতভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি সকলকে শৃঙ্খলা বজায় রেখে অনুষ্ঠানের সফলতার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘জনদুর্ভোগ এড়ানোর জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আয়োজনে মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল ক্যাম্প ও আইসিইউ সুবিধাসহ পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।’

  • নাহিদ ইসলাম: এই ধরনের হামলা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে

    নাহিদ ইসলাম: এই ধরনের হামলা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে

    প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেছেন, এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এর সঙ্গে জড়িত যারা, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘মব ভায়োলেন্স’ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতা বিরোধী এক প্রতিবাদ সভায় তিনি তাদের বক্তব্য ব্যক্ত করেন। সেখানে বলেন, বর্তমানে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত একটি অপরাধ বলে মনে হয়। সমাজের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধেই সোচ্চার হওয়া।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, যে হামলাগুলো ওই রাতে ঘটেছে, সেগুলো নিঃসন্দেহে পরিকল্পিত একটি হামলা। এ জন্য সবাইকে একত্রিতভাবে সরকারকে বাধ্য করতে হবে সঠিক তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করতে। পাশাপাশি ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও তদন্তের আওতায় এনে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের নামে যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। মিডিয়ার উপর এমন হামলাও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও চরম অন্যায়। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এটি সমাজের স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অপরিহার্য।

  • তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: নিরাপত্তা ও জনসাগমের ব্যাপক প্রস্তুতি

    তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: নিরাপত্তা ও জনসাগমের ব্যাপক প্রস্তুতি

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য তার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। মাত্র দু’দিন পর তিনি দেশে ফিরছেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৭ বছর পর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে তোলার জন্য দলটি বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। দলের নেতারা সর্বোচ্চ জনসমাগম এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও সামরিক প্রস্তুতিতে জোর দিয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে দলের নিজস্ব পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ৩০০ ফুটের গণসংবর্ধনা মঞ্চ তৈরি শুরু হয়েছে, যাতে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নিতে পারেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের স্বাগত জানাতে রাজধানীতে Estimated ২০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন এবং আগামী দিনগুলোতে উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিধানে কঠোর নির্দেশনা জারি হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুটের গণসংবর্ধনা স্থান ও গুলশান পর্যন্ত বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে তারেক রহমানের সঙ্গে থাকা দলের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানাবেন। সেই সঙ্গে, কি তিনি সরাসরি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন নাকি ৩০০ ফুটের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি; তবে সম্ভবত তিনি আগে খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতাল যাবেন। তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার জন্য বিশেষ ট্রেন ও চাস্তা প্রস্তুত করা হয়েছে। সূত্র জানায়, তিনি ইতোমধ্যে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করেছেন। তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত ফ্লাইটটি ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় রওনা হবে। আশা করা হচ্ছে, ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১১:৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। ফ্লাইটে থাকবেন তার পরিবারের সদস্যরা, যেমন তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান, পাশাপাশি তার মিডিয়া টিমের কয়েকজন সদস্য। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় নিরাপত্তা টিমের প্রধান হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি নেতৃত্ব দেবেন সিকিউরিটি টিমের, যারা বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত তার নিরাপত্তার সব দিক দেখভাল করবেন। বিষয়টি নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নেতাকর্মীরা বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। তাদের অংশীদারিত্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও সতর্কতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তার জন্য কোনও বিশেষ ঝুঁকি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার দেশে ফেরার পর তার চলাফেরা পুলিশের পাহারায় থাকবে। বাসভবন ও অফিসেও থাকবে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা স্তর। কাউকে অনুমতি ছাড়াই তার ধারে কাছেও যেতে দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা ও পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক তার নিরাপত্তা দেখবেন। তারেক রহমানের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে হাজারো পুলিশ সদস্য। আরও থাকবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট দল, বেম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডের সদস্যরা। তিনি বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন ও দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের এই সময়ে প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, এর মধ্যে উপস্থিতির জন্য যেন কোন বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি নেতারা জানান, এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন জেলায দলীয় নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন এবং মূল শহর ঢাকায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেবে। স্বেচ্ছাসেবক ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অনুষ্ঠান স্মরণীয় করে তোলার পরিকল্পনা করেছেন। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারাদেশ থেকে দলীয় সমর্থকদের সমাগম বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক কাজে জন্য প্রস্তুতি সুনির্দিষ্ট ও সুসংগঠিত।

  • এহসানুল হুদা দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলেন

    এহসানুল হুদা দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলেন

    বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘোষণা দেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

    যোগদানের আগে এহসানুল হুদা বলেন, চরম এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা এসে দুই দলের সঙ্গে একত্রীকরণের পথে। তিনি আরো বলেন, আমরা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে বিএনপিতে যোগদান করেছি। ভবিষ্যতে বিএনপি ও তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে, দেশের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বললেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার বাস্তবায়নে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন, যেন দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারেন।

    সাংবাদিকরা জানতে চান, দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে সক্রিয়ভাবে যোগদান করেছেন কিনা, এ বিষয়ে এহসানুল হুদা কিছুটা অবসরে থাকেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘হ্যাঁ, দল বিলুপ্ত করে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেছেন।’ পরে এহসানুল হুদা মহাসচিবের কাছে প্রশ্ন করেন, ‘এটা বলতে হবে?’ উত্তরে ফখরুল বলেন, ‘হ্যাঁ, আপনি দলের কোনও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ নেননি।’

    অবশেষে, এহসানুল হুদা স্বীকার করেন, ‘হ্যাঁ, আমি দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেছি।’ এবং সাংবাদিকদের আরো জানিয়ে দেন, তিনি একা নন, তার সাথে দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। সবাই একসঙ্গে নতুন রাজনৈতিক ধারায় অগ্রসর হতে চাইছেন, এমনটাই জানিয়েছেন এই যোগদানকারীরা।