Category: জাতীয়

  • ইশরাকের মেয়র পদ নিয়ে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে শুনানি

    ইশরাকের মেয়র পদ নিয়ে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে শুনানি

    বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট জারির বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শুনবেন আপিল বিভাগ।

    বুধবার (২৮ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৭ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এছাড়া ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

    আদালতে ইশরাকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।

  • নয়াপল্টনে বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ শুরু

    নয়াপল্টনে বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ শুরু

    জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নয়াপল্টনে শুরু হয়েছে বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’।

    বুধবার (২৮ মে) বেলা দুইটার কিছু আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এই সমাবেশ শুরু হয়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ঢাকা, সিলেট, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলা থেকে প্রায় ১৫ লাখ তরুণের জমায়েতের প্রত্যাশা তাদের।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা মিছিলসহ জড়ো হয়েছেন। এতে করে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশেপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিপরীতে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মিছিলকারীরা সবুজ, হলুদ ও লাল রঙের ক্যাপ ও টি-শার্ট পরে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলে আসছেন।

    তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায় এর আগে আমরা তারুণ্যের সমাবেশ করেছি। ঢাকার সমাবেশ তারই ধারাবাহিকতা। এটি শুধু একটি সমাবেশ নয়, বরং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অঙ্গীকার। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছি।’

    মে মাসজুড়ে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে বিএনপির এই তিন সংগঠন আট দিনের সেমিনার ও সমাবেশের কর্মসূচি গ্রহণ করে। ঢাকার এই আয়োজন ছিল শেষ পর্ব। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি নীতিগত প্রয়াস।

    আজকের সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তিনি তরুণদের উদ্দেশে দলের রাষ্ট্রদর্শন, ভবিষ্যৎ কৌশল ও রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

  • দেশের রিজার্ভ বেড়ে ১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার

    দেশের রিজার্ভ বেড়ে ১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার বা এক হাজার ৯২০ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার হয়েছে। এ রিজার্ভ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুসারে করা।

    আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করে।

    তথ্যমতে, এখন বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলসহ মোট রিজার্ভের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার ৪৭৫ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

    গত ১১ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মাধ্যমে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আমদানি পণ্যের বিল বাবদ ১.৫০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ১৮.৪৫ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম৬)। গত এক মাসে বিদেশি মুদ্রার এ সঞ্চয় বাড়তে বাড়তে আবার ১৯ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

    রিজার্ভের তিনটি হিসাব সংরক্ষণ করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথমটি হলো বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলসহ মোট রিজার্ভ। মোট রিজার্ভের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সহজ শর্তের ঋণ, বিমান কেনায় সোনালী ব্যাংককে দেওয়া ঋণসহ বেশ কয়েকটি তহবিল। দ্বিতীয়টি হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবায়ন পদ্ধতি, অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত তহবিল বা ঋণের অর্থ বাদ দিয়ে একটি তহবিল।

    এর বাইরে রয়েছে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। বর্তমানে যা ১৪ বিলিয়ন ডলারের কিছুটা ওপরে রয়েছে।

    দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন শেষ প্রান্তে রয়েছে।

    সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে আবার রিজার্ভ বাড়ায়। বর্তমান সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সোর্স থেকে ডলার যোগ হচ্ছে প্রতিদিনই। এর ধারাবাহিকতায় ক্রমেই বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

  • ঐক্যের ডাক হাসনাত আব্দুল্লাহর

    ঐক্যের ডাক হাসনাত আব্দুল্লাহর

    দলমত নির্বিশেষে দেশের অখন্ডতা, বিদেশি আগ্রাসন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

    হাসনাত বলেন, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্য থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই দেশের অখন্ডতা, বিদেশি আগ্রাসন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলবে না। সামনের পথ অতিক্রমের জন্য আমাদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে।

    বুধবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক জোট আয়োজিত ‘বিপ্লবোত্তর ছাত্র ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই ঐক্যের কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে জবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি সুবর্ণ আসসাইফের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান তানভীর।

    হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ফ্যাসিস্টদের আর কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া যাবে না। এবার যদি আমরা ব্যর্থ হই, তাহলে বাংলাদেশ আর কোনোদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি।

    অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, এই জাতি যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন জুলাই অভ্যুত্থানের কথা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই বিজয় যেন চিরঞ্জীব থাকে, সেই দোয়া আল্লাহ তায়ালার কাছে করছি। শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জবি শিক্ষার্থী শহিদ একরামুল হক সাজিদদের বোন ফারজানা হক বলেন, আমার মা এখনও সাজিদের কাপড় বুকে নিয়ে ঘুমায়। আমি আমার ভাই হারিয়েছি, আমার মতো অনেকে তাদের পরিবারের মানুষকে হারিয়েছে। যাদের হারিয়ে এই স্বাধীনতা সেটা যেন বৃথা না যায়। তার জন্য সবাইকে একতা ধরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

    জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের ভুলে যাবেন না। বিশ্বজিৎকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। জগন্নাথ যতদিন থাকবে, ততদিন বাংলাদেশে বিশ্বজিৎ, সাজিদকে মনে রাখবে। তাদের জন্য আজ আমাদের প্রতিজ্ঞা নিতে হবে, ছাত্রদের নিয়ে কাজ করতে হবে।

    রাকিবুল ইসলাম বলেন, আপনারা আদর্শের বক্তব্য রাখেন- কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে অপপ্রচার চালাবেন না। তাহলে আপনারা ছাত্রলীগের মতো হবেন। আপনাদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ছাত্রদলের দ্বারা সামান্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রদল অনেক বিসর্জন দিয়েছে।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ছাত্ররাজনীতির এজেন্ডা হওয়া উচিত ছাত্রদের নিয়ে কাজ করা। যারা করবে না তাদের ছাত্ররা গ্রহণ করবে না। ছাত্রলীগের মতো কেউ আচরণ করলে তাদের মতো পরিণতি হবে। আমাদের দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙতে হবে। আমাদের বর্তমান বড় সংকট হলো শিক্ষা। শিক্ষার যদি সংস্কার না হয়, তাহলে বারবার দিল্লির দাসত্ব করতে হবে। এদেশের জনগণ এবার দিল্লি আধিপত্য রুখে দাঁড়িয়েছে, আগামীতেও করবে। এজন্য দিল্লির সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দূর করতে হবে।

    তিনি বলেন, ছাত্রদের সঙ্কট কিভাবে সমাধান হবে, যদি ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হয়। এজন্য ছাত্র নির্বাচন করতে হবে। এখন সময় এসেছে ছাত্র রাজনীতির সংস্কার করা। তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রয়োজন। ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহাবস্থান প্রয়োজন।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, আপনারা কাজ করেন। আমরা সঙ্গে আছি। দরকার হলে আপনাদের জন্য আমরা আবার জীবন দেব। আবার রক্ত দেব। এখন আমাদের ঐক্যের দিকে এগোতে হবে। কাউকে পেছনে ফেলে রাখবেন না।

    বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, ভারতীয় মিডিয়া নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছে, তার নিন্দা জানাই। আমরা ভারতের দাসত্ব করার জন্য লড়াই করি নাই। আমরা ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিকতার জন্য লড়াই করেছি। মওলানা ভাসানীর ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান আমরা দিচ্ছি। তার আদর্শের ভিত্তিতে আমরা ঐক্যে আসতে পারি।

    জবি ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে গত ১৫ বছরে ছাত্রদল মাঠে ময়দানে ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। এ সময় তিনি আওয়ামী দুঃশাসনে নির্যাতন হওয়া সব নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন।

    জবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইকবাল হোসেন শিকদার বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা অনৈতিকতার দিকে চলে যাচ্ছে। জগন্নাথসহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা নৈতিকতার উন্নতির জন্য কোর্স চালু করার দাবি জানাচ্ছি।

    সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুল হাসান তানভীর বলেন, প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে এতক্ষণ ধৈর্য ধরে বক্তব্য শোনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এই ঐক্য যেন অটুট থাকে, আমাদের সবাইকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

    এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটায় কুরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

  • দেশের জন্য ক্ষতিকর চুক্তি বাতিলের দাবি করা হয়েছে

    দেশের জন্য ক্ষতিকর চুক্তি বাতিলের দাবি করা হয়েছে

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একত্রিত হয়েছিলেন দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা। বৈঠক থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ভারতের এসব অপপ্রচারকে শক্তিশালী ও বেগবানভাবে মোকাবিলা করার কথা বলেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমির সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের আলোচনার বিভিন্ন দিক জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    তিনি বলেন, বৈঠকে আমাদের প্রবাসী, সহযোগী বন্ধুরাষ্ট্র এবং বিদেশি সাংবাদিকদের দেশে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ ও আইনি দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে যত চুক্তি হয়েছে সেটা প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়েছে।

    আসিফ নজরুল বলেন, রামপালসহ বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর যেসব চুক্তি রয়েছে সেগুলো বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের যে অর্থনৈতিক নিপীড়ন, সাংস্কৃতিক আধিপত্য, অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর চেষ্টা সেটার নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতকে বাংলাদেশের প্রতি মর্যাদাশীল এবং সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশ বিরোধী যে অপপ্রচার চালাচ্ছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব সম্প্রদায়ের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো উসকানির মুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

    বৈঠকের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সবাই একটা কথা বলেছেন, আমাদের আর শক্তিহীন, দুর্বল, নতজানু ভাবার কোনো অবকাশ নেই। যেকোনো ধরনের অপপ্রচার এবং উসকানির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং আমাদের ঐক্য অটুট রাখব। আমরা সাহসী থাকব, ভবিষ্যতে যেকোনো অপপ্রচার বা উসকানি দিলে আমরা আমাদের ঐক্যকে আরো বেগবান রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, প্রস্তাব আকারে এসেছে— গোটা জাতি ভারতের অপপ্রচার বিরুদ্ধে যে ঐক্যবদ্ধ আছে; সবাই মিলে একটা সমাবেশ করতে পারি কি না, সবাই মিলে পলিটিক্যাল একটা কাউন্সিল করতে পারে কি না, নিরাপত্তা কাউন্সিল করতে পারে কি না; এজন্য প্রস্তাবনা এসেছে। আমাদের মধ্যে মত-পথ ও আদর্শের ভিন্নতা থাকবে, আমাদের রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকবে, অবস্থার ভিন্নতা থাকবে; কিন্তু দেশ, সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্বের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। সবার উপরে দেশ, এটা থেকে আমরা কখনো বিচ্যুত হবো না। বাংলাদেশকে দুর্বল, নতজানু, শক্তিহীন ভাবার কোনো অবকাশ নেই।

    ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন; ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ; গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি; গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক।

    বৈঠকে আরও অংশ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমার ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ চারজন; খেলাফত মজলিসের আমির আব্দুল বাসিদ আজাদ, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসাইন; রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম; জমিয়তে উলামে ইসলামের সহ-সভাপতি আব্দুর রউফ ইউসুফি ও মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেনদি।

  • স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য

    স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য

    দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যমতে পৌঁছেছে রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের প্রশ্নে কোনো ছাড় নয় বলে নেতারা একমত হয়েছেন।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় চলা সংলাপ শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সংলাপে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    আসিফ নজরুল জানান, সাম্প্রতিক ভারতের মিথ্যাচার, আগ্রাসনসহ নানা বিষয়ে সংলাপে আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রশ্নে কোনো ছাড় নয় বলে নেতারা একমত হয়েছেন।

    ড. আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল আজ উপস্থিত ছিল। এই বৈঠকে সবাই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন।

    তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের অপপ্রচার ও উসকানির বিরুদ্ধে আমরা সাহসী, অটুট ও ঐক্যবদ্ধ থাকব। ভবিষতে যে কোনো ধরনের উসকানি এলে আমরা আমাদের ঐক্য আরও বেগবান দেখানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

    তিনি আরও জানান, আমরা গোটা জাতি ভারতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। এ জন্য আমরা সবাই মিলে একটি সমাবেশ করতে পারি কি না, এমনকি নিরাপত্তার কাউন্সিল করতে পারি কি না- এই প্রস্তাব বৈঠকে আনা হয়েছে।

    আসিফ নজরুল বলেন, এই সভার মূল সুর ছিল আমাদের মধ্যে মত, পদ, আদর্শের ভিন্নতা থাকবে; কিন্তু দেশ, সার্বভৌমত্ব, অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে আমরা সবাই এক। সবার ওপরে দেশ এবং এটা থেকে আমরা কখনো বিচ্যুত হবো না।

  • চলমান অপচেষ্টা নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    চলমান অপচেষ্টা নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চলমান অপচেষ্টা নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    ড. ইউনূস বলেন, এখন গোটা বিশ্বকে জানাতে হবে যে আমরা এক। আমরা যা পেয়েছি তা একসাথে অর্জন করেছি। যারা আমাদের বুকে চেপে ধরেছিল তাদের আমরা বের করে দিয়েছি। আমরা নিজেদের মুক্ত করেছি। আমাদের একসঙ্গে বিশ্বের সামনে এটা দেখানো উচিত।

    এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ চেয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে গিয়ে যেন কোনো ভুল না হয়। আসুন একসঙ্গে কাজ করি। আমরা সবাই মিলে এটা করতে পারলে একটা সম্মিলিত শক্তি তৈরি হবে।

    তিনি বলেন, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিপীড়নের চরম ঐতিহাসিক পাথর উপড়ে ফেলা হয়েছে কিন্তু ‘আমাদের স্বাধীনতা’ অনেকে পছন্দ করেনি। তাই ৫ আগস্টের পর তারা তা উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    তিনি বলেন, যখন দুর্গাপূজা এগিয়ে আসছিল, তখন মনে হচ্ছিল যে এটি নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে এবং সে কারণেই সরকার ঐক্যের ডাক দিয়েছিল এবং সবাই সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। সারা দেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে এবং সকলেই পূজার আনন্দে অংশ নিয়েছেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, তবে অনেকে এটি পছন্দ করেন না। সেই মহল নতুনভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা যা গড়ার চেষ্টা করছি, সেসব নিয়ে সৃষ্টি করছে কাল্পনিক কাহিনী।

    তিনি বলেন, সব সময় তারা এটাকে বিভিন্ন রূপ দিচ্ছে। এটা শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে বড় বড় দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। যারা আমাদের মহান বিপ্লব পছন্দ করে না, তারা এটা মুছে ফেলতে চায় এবং লুকাতে চায়।

    তিনি বলেন, একটি মহল ন্যারেটিভ তৈরি করছে যে, বাংলাদেশে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে এবং এটি থেকে দেশকে রক্ষা করা উচিত। একে মিথ্যা প্রমাণ করে বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটি রাজনৈতিক মতাদর্শের বিষয় নয় বরং জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তারা (স্বার্থান্বেষী মহল) তা মুছে ফেলতে চায়। তারা আগের সরকারে ফিরে যেতে চায়। তারা মৌখিকভাবে বলেন না, কিন্তু তাদের মনোভাব হচ্ছে ‘ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠী ভালো ছিল’।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাস্তবতা দেখতে বারবার বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তারা (স্বার্থান্বেষী মহল) কাল্পনিক গল্প তৈরি করছে।

  • কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার

    কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার

    স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় জামিনের পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার।

    তিন বছর ৭ মাস পর বুধবার (৪ ডিসেম্বর) কারামুক্ত হলেন তিনি। গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইব্রাহিম।

    তিনি বলেন, বাবুল আক্তারের জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বাবুল আক্তারকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখে আদেশ দেন।

    ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসি এলাকায় ছেলেকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তে বাবুল আক্তার সেই মামলায় আসামি হন।

  • রমেন রায়ের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোনো, তিনি চিন্ময়ের আইনজীবী নন

    রমেন রায়ের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোনো, তিনি চিন্ময়ের আইনজীবী নন

    ইসকনের সাবেক নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি ছিল গতকাল মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর)। এ শুনানির আগের রাতে (২ ডিসেম্বর) একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে লড়াই করায় হামলার শিকার হয়েছেন আইনজীবী রমেন রায়। তাঁর বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে এসব প্রতিবেদনে।

    তবে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট ওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়- 
    ১। অ্যাডভোকেট রমেন রায়ের আহত হওয়ার ঘটনাটি গত ২৫ নভেম্বরের  
    ২। তাঁর বাড়িঘরে হামলার দাবিটিও সত্য নয়। 
    ৩। তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী নন। 
    তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।

    দাবিটি নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ, এবিপি লাইভ, দ্য ওয়াল, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে আদালতে লড়েছেন রমেন রায়। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) আবারও আদালতে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁর আগেই রমেন রায়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে এবং তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনগুলোতে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইসকন কলকাতার মুখপাত্র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাসের গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে করা একটি টুইটকে। টুইটটিতেও দাবি করা হয়েছে, আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণের হয়ে মামলা লড়ার কারণে ইসলামপন্থীরা রমেন রায়ের বাড়ি ভাংচুর করে এবং তাকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে।

    দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী রমেন রায়ের ওপর হামলার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়। এই নামে চট্টগ্রামে কোনো আইনজীবী নেই।’’ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির তালিকা খুঁজেও এমন কোনো আইনজীবীর নাম পাওয়া যায়নি।

    ফ্যাক্টওয়াচের হাতে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ওকালত নামা থেকে দেখা যায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী হিসেবে তাঁর মামলাটি লড়ছেন শুভাশিস শর্মা।

    দাবিটি সম্পর্কে জানতে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস বলেন, “রমেন রায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী ছিলেন না। চিন্ময় কৃষ্ণ যেদিন গ্রেপ্তার হয়েছিল (২৫ নভেম্বর), সেদিন সন্ধ্যায় শাহবাগে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচীতে রমেন রায়কে দূর্বৃত্তরা কুপিয়ে আহত করেছিল।”

    রমেন রায়ের সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিটিও তাঁকে দেখানো হয়। ছবিটি দেখে স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস নিশ্চিত করেন, এটি রমেন রায়েরই ছবি।

    এ ছাড়া সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদনের শুনানিতে চিন্ময়ের কোনো আইনজীবী না থাকা নিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিটিতেও জামিন শুনানি ঘিরে রমেন রায় নামে কোনো আইনজীবীর ওপর হামলার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাসের সূত্র ধরে কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে গত ২৫ নভেম্বর রমেন রায় নামে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

    রমেন রায়ের আহত হওয়ার ব্যাপারে গত ২৫ নভেম্বরে একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শাহবাগে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রমেন রায় (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    আহত রমেন রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আমরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। পরে হঠাৎ বেশ কয়েকজন লোক লাঠি হাতে নিয়ে এসে আমাদের ওপরে হামলা চালায়। এ সময় আমি মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হই। পরে কয়েকজন আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছে।

    পরে এই নামে খুঁজে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে রামেন্দ্রনাথ রায় নামে এক আইনজীবীর নাম পাওয়া যায়। এসব তথ্যের সূত্রে রমেন রায়ের এক নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্যাক্টওয়াচ। তিনি জানান, রমেন রায় পেশায় একজন আইনজীবী ও অ্যাডভোকেট। তিনি গত ২৫ নভেম্বর ঢাকায় হামলার শিকার হন এবং আহত হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। তিনি আরও জানান,  রমেন রায়ের বাড়ীঘরে হামলার দাবিটিও সঠিক নয়।

    সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ দাবিগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।

  • ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

    ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

    বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য নিজেদের পররাষ্ট্র সচিবকে ঢাকায় পাঠাচ্ছে ভারত।

    আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় আসার কথা রয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত আগস্টে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিনিয়র কোনও ভারতীয় কর্মকর্তার ঢাকায় এটিই প্রথম সফর হতে চলেছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

    হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, উভয় দেশের কেউই এখনও এই সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা দেয়নি। তবে বিক্রম মিসরি সম্ভবত আগামী ১০ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক আলোচনার জন্য বাংলাদেশে আসবেন। উভয় দেশের রাজধানীতে তথা ঢাকা ও দিল্লিতে বিক্রমের সফরের প্রস্তুতির বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একথা জানিয়েছেন।

    ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির এই সফরটি এমন এক সময়ে হতে চলেছে যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কে অভূতপূর্ব উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

    হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের অভিযোগে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কয়েকটি ভারতীয় রাজ্যে বিক্ষোভ হচ্ছে।

    এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা-ভাঙচুর এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার দায়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মাকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।

    এর আগে উভয় দেশের দুই পররাষ্ট্র সচিবের মধ্যে সর্বশেষ সংলাপ ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের সংলাপে ভারত-অর্থায়নকৃত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করা, ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা, আরও সরাসরি ফ্লাইট চালু করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত লোকেরা জানিয়েছে।

    ভারতের দ্বিতীয় একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ এই সফরটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য আগ্রহী। কারণ ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সম্ভাব্য এই সফরকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ শুরুর একটি সুযোগ হিসাবে দেখা হচ্ছে। সফর ঠিকঠাকভাবে অনুষ্ঠিত হলে মিসরি ও ড. ইউনূসের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।