Category: জাতীয়

  • মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    আজ মঙ্গলবারের (২২ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার ফেসবুক আইডি থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, “শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব মাহফুজ আলমের সাক্ষাত হয়েছে। আজকের (মঙ্গলবার) এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা। এডমিন।”

  • উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক

    উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক

    রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মঙ্গলবার(২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং দেশের এই শোকাবহ মুহূর্তে সংহতি প্রকাশে অন্তর্বর্তী সরকার এই  সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোমলমতি শিশু ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় সরকার গভীরভাবে শোকাহত। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। শোক দিবসে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

    এছাড়া, নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য মঙ্গলবার দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

    এর আগে, সোমবার দুপুর ১টার কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভবনে আগুন ধরে যায়। তখন ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। এতে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয়। আহতদের দ্রুত হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। আহত হয়ে শতাধিক ব্যক্তি এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

  • আজ রাষ্ট্রীয় শোক, সারাদেশে বিশেষ প্রার্থনা

    আজ রাষ্ট্রীয় শোক, সারাদেশে বিশেষ প্রার্থনা

    রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় আজ মঙ্গলবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় রাষ্ট্রীয় শোক পালনের বিষয়টি জানানো হয়।

    বার্তায় বলা হয়, শোক পালনের উদ্দেশ্যে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি সব সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশি মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এছাড়া আহত ও নিহতদের জন্য দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

    রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টার শোক :রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমবার পৃথক শোকবার্তায় তারা নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

    শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ দুর্ঘটনায় বিমানসেনা ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-কর্মচারীসহ অন্যদের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। জাতির জন্য এটি একটি গভীর বেদনার ক্ষণ। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালসহ সব কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দেন। সরকার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সকল ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে বলে জানান।’

    বিভিন্ন দল ও সংগঠনের শোক :বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘মাইলস্টোন কলেজে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আমরা শোকাহত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে একটি শিশু, কিশোর কিংবা তরুণ তার শিক্ষা, বিকাশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠে, সেই পরিবেশে এমন ভয়াবহতা কখনো কাম্য নয়। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’ এ সময় তিনি বিএনপির নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই দুঃসময়ে আমাদের জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।’

    শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার, ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তারা নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

    জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন।

    এক শোক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনায় শোক জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। আমি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি, আল্লাহ যেন তাদের এই বিশাল শোক সহ্য করার ক্ষমতা দান করেন।’ বিবৃতিতে তিনি বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

    গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া আজ বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    এদিকে জামায়াত ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস, নেজামে ইসলামসহ কয়েকটি দল থেকে পৃথক শোকবার্তা দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চলমান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা বিমান দুর্ঘটনার পরপরই মুলতুবি ঘোষণা করা হয়।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সরকারকে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বলেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন।’

    শোক প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম হতাহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় দলের নেতাকর্মীদের সহায়তার নির্দেশ দেন। গতকাল এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের হতাহতদের চিকিৎসায় সহায়তা, রক্তদান, অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত এবং উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সব বাহিনীকে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। এছাড়া জাতীয় যুবশক্তি ও এনসিপির ডক্টরস উইংকে আহতদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করতে হবে, না হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।’ অতীতে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার কথা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, বিমানগুলোর পরীক্ষানিরীক্ষা করে যেন প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে শোক জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম (অব.), জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাতীয় পার্টির (জাপা) জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, জনতা পার্টি বাংলাদেশ-জেপিবির নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন ও মহাসচিব শওকত মাহমুদ,  জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল এবং এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান।

    ফেসবুক জুড়ে ‘প্রে ফর মেইলস্টোন’: প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের শোক ও সমবেদনা জানান। অনেকেই নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস ও প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করেছেন।  ‘প্রে ফর মাইলস্টোন’ শিরোনামে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় হাজার হাজার পোস্ট শেয়ার করা হয়। আবার অনেকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি আহদের জন্য প্রয়োজনীয় রক্তসহায়তা চেয়ে পোস্ট দেন।

  • ‘নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন শিশু’

    ‘নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন শিশু’

    রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন শিশু বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

    নিহত বাকি দুইজনের মধ্যে একজন পাইলট, অপরজন শিক্ষিকা বলে জানান তিনি।

    চিকিৎসার সব রকমের প্রস্তুতি আমাদের আছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    বার্ন ইউনিটে দুইজন ভেন্টিলেশনে আছে বলেও জানান তিনি।

  • ঈদে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ঈদে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ঈদ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। সোমবার (৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঈদুল আজহার সময় দেশে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া রাজধানীসহ অন্যান্য স্থানে কোনো উল্লেখযোগ্য অঘটন ঘটেনি। তাই ঈদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমি মোটামুটি খুশি।

    পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যাত্রাবাড়ি থানার ডিউটি অফিসারের ডেস্ক, নারী ও শিশু ডেস্ক, আসামিদের রাখার হাজতখানাসহ পুরো থানা ঘুরে দেখেন।

    তিনি থানার ফোর্সের থাকার ব্যবস্থা ও খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    ঈদুল আজহা ও ঈদ-পরবর্তী ছুটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর বিভিন্ন থানা পরিদর্শন করছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি আজ যাত্রাবাড়ী থানা পরিদর্শন করেন।

  • করোনার নতুন ধরন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারতে না যাওয়ার পরামর্শ

    করোনার নতুন ধরন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারতে না যাওয়ার পরামর্শ

    পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেসব দেশে ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, করোনার ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সব স্থল, নৌ এবং বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট, বিশেষ করে অমিক্রন এলএফ.৭, এক্সএফজি, জেএন-১ এবং এনবি ১.৮.১ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এর সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত ও অন্যান্য সংক্রামক দেশ এবং বাংলাদেশ থেকে ভারত ও অন্যান্য সংক্রামক দেশে ভ্রমণকারী নাগরিকদের জন্য দেশের সকল স্থল, নৌ, বিমানবন্দরের আইএইচআর (International Health Regulations) ডেস্কে নজরদারি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবিলায় কিছু কার্যক্রম নিতে হবে।

    গত বৃহস্পতিবার দেশে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি এখনো আশঙ্কাজনক নয়, তবে দেশে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে। আইসিডিডিআরবি’র গবেষকেরা করোনার নতুন একটি ধরন এক্সএফজি শনাক্তের কথা বলছেন। এর পাশাপাশি এক্সএফসি ধরনটিও পাওয়া গেছে। এই দুটোই করোনার শক্তিশালী ধরন অমিক্রনের জেএন-১ ভ্যারিয়েন্টের উপধরন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধের কিছু নির্দেশনা নিচে দেওয়া হলো—

    সাতবার প্রয়োজনমতো সাবান দিয়ে হাত ধোবেন (অন্তত ২৩ সেকেন্ড)।
    নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।
    আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে থাকতে হবে।
    অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না।
    হাঁচি-কাশির সময় বাহু/টিস্যু/কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।

    দেশে প্রবেশের পথের জন্য নির্দেশনা—

    দেশের বিভিন্ন স্থল/নৌ/বিমানবন্দরসমূহে আইএইচআর (IHR-2005) স্বাস্থ্য ডেস্কসমূহে সতর্ক থাকা, স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং এবং নজরদারি জোরদার করুন।
    দেশের পয়েন্টস অব এন্ট্রি (প্রবেশপথ) সমূহে থার্মাল স্ক্যানার/ডিজিটাল হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটারের মাধ্যমে নন-টাচ পদ্ধতিতে তাপমাত্রা নির্ণয় করুন।
    চিকিৎসা কাজে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক, গ্লাভস এবং রোগ প্রতিরোধী পোশাক (পিপিই) মজুত রাখুন।
    ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রোগ প্রতিরোধ নির্দেশনাগুলো প্রচার করুন।
    জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ভারত ও অন্যান্য আক্রান্ত দেশসমূহে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।

    সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে করণীয়—

    অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, মারাত্মক অসুস্থ হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
    রোগীর নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন।
    প্রয়োজন হলে আইইডিসিআর-এর হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন (০১৪০১-১৯৬২৯৩)।

  • নির্বাচন অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে : বিএনপি

    নির্বাচন অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে : বিএনপি

    প্রায় দেড় যুগ ধরে মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য গুম, খুন, জেল-জুলুম, আহত ও নির্যাতিত হয়েও অব্যহত লড়াই চালিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টের ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে তার বিজয় অর্জিত হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানে অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটি রমজান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমপর্যায়ের পরীক্ষা এবং আবহাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করছে।
    শুক্রবার (০৬ জুন) ভার্চুয়ালি দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি সভায় এসব কথা বলা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণের বিষয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
    সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থায়ী কমিটির সভায় প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে যে, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রদত্ত তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গকে অতিক্রম করে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে পরিনত হয়েছে। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি বন্দর, করিডোর ইত্যাদি এমন সব বিষয়ে অবতারনা করেছেন যা তাঁরই ভাষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩টি ‘ম্যান্ডেটের’ মধ্যে পড়েনা। ভাষণে তিনি শব্দ চয়নে রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

    সভায় প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে সময়সীমা প্রস্তাব করেছেন তা পর্যালোচনা করে সভা মনে করে যে, এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে একদিকে আবহাওয়ার সংকট এবং অন্যদিকে রমজানের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারনা ও কার্যক্রম এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে যা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অধিকন্তু কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়,এমন কোন সুনির্দিষ্ট কারণ তাঁর ভাষণে উল্লেখ করা হয়নি।
    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার কথা বললেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সিংহভাগ রাজনৈতিক দলের মতামত অগ্রাহ্য করে নিজেদের নিরপেক্ষতাকেই যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে দেশের জনগণ সঙ্গতভাবেই শংকিত হতে পারে বলে সভা মনে করে।

  • ২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

    ২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

    ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকল পক্ষের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। পাশাপাশি, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন সংক্রান্ত চলমান সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমি আজ দেশবাসীর কাছে ঘোষণা করছি, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধের যেকোনো একটি দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময়ে আপনাদের কাছে নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রদান করবে।

    তিনি বলেন, আমরা এমন নির্বাচন চাই যা দেখে অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মা তৃপ্তি পাবে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। আমরা চাই আগামী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটার, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ও দল অংশ নিক। এটা সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে জাতির কাছে স্মরনীয় থাকুক।

    ড. ইউনূস বলেন, দেড়যুগ পরে দেশে সত্যিকারের একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠিত হবে। বিপুল তরুণ গোষ্ঠী এবার জীবনে প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। এসব লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

    তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা সকল রাজনৈতিক দল এবং আপনাদের এলাকার প্রার্থীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার আদায় করে নেবেন যেন আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যেসব সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে তা কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া ছাড়াই যেন তারা অনুমোদন করেন।‌

    ‘আপনারা ওয়াদা আদায় করে নেবেন যে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কখনও কোনো প্রকার আপোষ করবেন না এবং দেশের বাইরের কোনো শক্তির কাছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেবেন না। আপনারা তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেবেন এই মর্মে যে তারা কখনই, কোনো অবস্থাতেই আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করবেন না।’

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনারা তাদের (নির্বাচনী প্রার্থী) কাছে অঙ্গীকার আদায় করে নেবেন যে তারা সম্পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সাথে দেশ পরিচালনা করবেন এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি, সিন্ডিকেটবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ইত্যাদি গণবিরোধী কাজ থেকে নিজেদেরকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত রাখবেন।

    তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার বিষয় নয়। এটা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনে পরিচিত দলগুলোই থাকবে। তাদের পরিচিত মার্কাগুলোই থাকবে। কিন্তু ভোটারকে বের করে আনতে হবে যে এই মার্কার পেছনে আপনার কাছে ভোটপ্রার্থীরা কে কতটুকু ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য প্রস্তুত। কে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

  • ইশরাকের শপথের গেজেট স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার

    ইশরাকের শপথের গেজেট স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার

    বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দিন ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শোনার জন্য রেখেছেন আপিল বিভাগ।

    এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা আপিল আবেদন মঞ্জুর করে বুধবার (২৮ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

    আদালতে লিভ টু আপিলকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। ইশরাকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার একেএম আহসানুর রহমান।

    এর আগে ইশরাকের ট্রাকের মেয়র পদ ঘোষণা ও শপথ নিয়ে প্রকাশিত গেজেটের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) সুপ্রিম বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এর চেম্বার জজ আদালত শুনানির এই দিন নির্ধারণ করে আদেশ দেন।

    এর আগে ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে ২২ মে আদেশ দেন হাইকোর্ট। সেদিনই পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশিত হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে মেয়র ঘোষণা ও গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে গত সোমবার (২৫ মে) লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন রিট আবেদনকারী।

    এটি লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় ১২৫ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

    এ সংক্রান্ত বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন। একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তাপস।

    নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক। এর গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। একই বছরের ১৯ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে ইশরাকের করা নির্বাচনী মামলায় চলতি বছরের ২৭ মার্চ রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল।

    ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করা হয়। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গত ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

  • সব মামলা থেকে খালাস তারেক রহমান

    সব মামলা থেকে খালাস তারেক রহমান

    আওয়ামী লীগ আমলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়। এতে যুক্ত ছিলেন গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের পাচার করা সম্পদ শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পাচার করা এসব অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান চারটি প্রভাবশালী সংস্থার সহায়তা নিচ্ছে সরকার।

    সংস্থাগুলো হচ্ছে- দ্য স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (এসটিএআর), ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আইএসিসিসি), যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি (আইসিএআর)।

    শেখ হাসিনা পরিবারের পাচার করা সম্পদ উদ্ধার কার্যক্রমে এ সংস্থাগুলোও সরকারকে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি তদন্তও চালাচ্ছে সংস্থাগুলো। তাদের তদন্তে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জে সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরও বিশদ অনুসন্ধান চলছে। এ প্রক্রিয়ায় সম্পদের তথ্য সুনর্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে ওইসব সম্পদের আরও তথ্য চাওয়া এবং সম্পদ জব্দ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে মিচুয়্যাল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআর পাঠানো হবে।

    বিএফআইইউ এবং ওই চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এক লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে দেশে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের নামে বিদেশে এক লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা পাচার বা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একাধিক তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পাঁচটি দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলে রাজউকের ছয়টি প্লট দখল, সূচনা ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন বা সিআরআই ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের দুর্নীতি, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ৪৮৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ কোটি ডলার বা ৩৭ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং আটটি সরকারি প্রকল্প থেকে ১৭৭ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

    এসব অভিযোগে কয়েকটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোয় এখন পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে দেশের ভেতরে ৮৮৭ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং এক হাজার ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। অবরুদ্ধ করা হয়েছে এক হাজার ৯৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকার সম্পদ। এসব দুর্নীতির সপক্ষে সব ধরণের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে তদন্ত সংস্থাগুলো।

    আদালত কর্তৃক স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্তকরণের মধ্যে রয়েছে, পূর্বাচলে ৬০ কাঠা জমি বা ছয়টি প্লট। দলিল মূল্যে যার দাম এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে বাজার মূল্যে এসব জমির দাম ১২০ কোটি টাকা। গুলশান ও সেগুনবাগিচায় ৯টি ফ্ল্যাট, গুলশানে একটি বাড়ি ও খুলনার দিঘলিয়ায় দুই দশমিক ০৪ একর জমি। দলিল মূল্যে যার দাম ১৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বাজারমূল্যে ৭৬৭ কোটি টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ১৫৬টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এগুলোয় স্থিতি হিসাবে আছে এক হাজার ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

    শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ৫৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৪৬৫ কোটি টাকা। এখন স্থিতি আছে ৬৭ কোটি টাকা।

    প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ব্যাংকের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সিএসআর তহবিলের টাকা থেকে সূচনা ফাউন্ডেশনে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার জোগান দেওয়া হয়েছে। এক্সিম ব্যাংক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকগুলো থেকে এসব অর্থ সূচনা ফাউন্ডেশনের হিসাবে জমা করতে সহায়তা করেন। ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ডের টাকা সূচনা ফাউন্ডেশনে দিতে বিএবি থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) নামে ৩৫ কোটি ২১ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। সংস্থাটির লেনদেন সম্পর্কে আরও তদন্ত হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে আছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ভাইস চেয়ারম্যান এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এর ট্রাস্টি।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সঙ্গে রয়েছেন শেখ হাসিনা, বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবে স্থিতি ১৬ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর লেনদেন নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

    এদিকে, গত সোমবার রাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বোন ও যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানার মালিকানাধীন লন্ডনের একটি বাড়ি ফ্রিজ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এটি জব্দ করেছে। ভবিষ্যতে যাতে বাড়িটি বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৪ বছর ধরে এটি টিউলিপ পরিবারের প্রধান বাড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। শেখ রেহানা ২০১১ সালে ১২ লাখ পাউন্ডে এটি কিনেছিলেন। পাউন্ডের বর্তমান বাজার দর ১৬৯ টাকা হিসাবে ১২ লাখ পাউন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়াচ্ছে ২০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

    গত ১৭ থেকে ২১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর লন্ডন সফর করে এসেছেন। ওই সময়ে তিনি দেশটির মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওইসব বৈঠকের পর লন্ডনে বাংলাদেশিদের পাচার করা সম্পদের একটি তালিকা পাঠানো হয়। সেগুলোর বিষয়ে দেশটির সরকার এখন অনুসন্ধান করছে বলে জানা গেছে।