Category: জাতীয়

  • শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষনা

    শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষনা

    বিশেষ আদালত সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বর্তমানের নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরকে। এই মামলার বিচারবিষয়ক বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করে, ২৪ জুলাই-আগস্টের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায় বাংলায় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    বিচারকরা আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রায়ের প্রথম অংশ পড়ে শোনান। তাঁরা ৪৫৩ পৃষ্ঠার মামলার ডকুমেন্টের ছয়টি অধ্যায় বিশ্লেষণ করেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক বিচারপতি প্যানেল এই রায় দেয়। এরপর দুপুর ২টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায় পড়া সম্পন্ন হয়।

    বিশেষ এই বিচারে যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কাদের। তবে তারা বিভিন্ন কারণে এখন পলাতক থাকলেও মামলার অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক আইজিপি মামুন প্রায় এক বছর ধরে তার কারগারে আছেন। তিনি রাজসাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং এর ফলে তার শাস্তির ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। প্রসিকিউশন এই দুজনের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন।

    মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়, এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড, চানখারপুলে হত্যাযজ্ঞ ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। মোট অভিযোগপত্রের পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় আট হাজার সাতশ’। এতে অন্তর্ভুক্ত তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচশ’ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার সাতশ’ বিশ পৃষ্ঠা। এতে মোট সাক্ষীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ জন।

    প্রথম দিন থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চলছে। গত ১৩ নভেম্বর থেকে রায় ঘোষণা অনুষ্ঠানের দিনকে কেন্দ্র করে যান চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

    সবশেষে, এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার প্রধানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত নেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্পূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি, প্রসিকিউশন ও স্টেটের পক্ষে যুক্তিতর্ক চলে মোট নয় দিন। এসব প্রক্রিয়ার শেষে রাষ্ট্রের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য দাবি করেন।

    অন্যদিকে, মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন, তবে তার খালাসের জন্য বেশ কিছু আইনি দপ্তর আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা মনে করেন, এই মামলার সব দোষীদেরই যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে। তবে, পুরো প্রক্রিয়া আইনি নিয়মবলে চলবে এবং সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

  • হাসিনা খোঁজার জন্য ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বিভ্রান্তিকর মাইকিং

    হাসিনা খোঁজার জন্য ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বিভ্রান্তিকর মাইকিং

    রাজধানীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সোমবার ভোর থেকেই অদ্ভুত এক মাইকিং শোনা যায়, যা সাধারণত কেউ হারিয়ে গেলে প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে বলা হচ্ছিল, ‘একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি… আমাদের হাসিনা খালা (শেখ হাসিনা) গত ৫ আগস্ট সপরিবারে হারিয়ে গেছেন। যদি কেউ তার সন্ধান পান, তবে তাকে হাইকোর্টের ফাঁসির মঞ্চে পৌঁছে দেবেন।’ এই ধরনের বক্তব্য শুনে আশেপাশের মানুষরা অবাক হয়ে যান। এটি সম্ভবত কোনো ধরণের অপপ্রচারের অংশ বা অনাকাঙ্ক্ষিত একটি মিসইনফরমেশন যা পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।

    শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন হওয়ায় আদালতের চারপাশে সকাল থেকেই ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায় বিভিন্ন পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন রায়ের ফলাফলের জন্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর থাকলেও রাজধানীর যানবাহন স্বাধীনভাবেই চলাচল করা চলছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।

    এদিন জনসম্মুখে পতিত আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির কোন প্রভাব পড়েনি, বরং বিভিন্ন ইসলামিক দলসহ আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সকাল থেকেই মাঠে ছিল। একদিকে রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে তৎপরতা চলছে অপর দিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভে প্রায় এক হাজার চারশোর বেশি মানুষ নিহত ও বিশাল সংখ্যক আহতের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের হয়।

    অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান রায়ের জন্য বিচারক বিনা বিরতিতে চার দশকের বেশি সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এ মামলার শুনানি করেন। এতে মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়, যার মধ্যে বিভিন্ন প্রভাবশালী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষ্যপ্রমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন আহত ও নিহত ব্যক্তি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, পুলিশ আদিত আহত ও নিহতের পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    উল্লেখ্য, এই মামলার একাধিক আসামি—including শেখ হাসিনা, অঙ্গীকার ধরা হয়েছে—অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আনা হয়। বিচারকাজে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণের পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তি দেন।

    এছাড়াও মামলার শুনানিতে অংশ নেন বিভিন্ন স্বাক্ষী, যারা ২১শে আগস্টের হামলার বিষয়ে পরবর্তী তথ্য ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাক্ষ্য দেন, যেমন আহত শিক্ষার্থী, পুলিশি গুলিতে আহত ব্যক্তি, সাংবাদিক ও চিকিৎসক। এছাড়াও, বিভিন্ন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীর কথাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    গত ১৩ নভেম্বর, রায়ের তারিখ নিশ্চিত হওয়ার পর, নানা ধরণের পরিস্থিতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সেকারণে, সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে লকডাউন, হরতাল ও কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অংশে অগ্নিসংযোগসহ নানা প্রকার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দলের কর্মসূচির ভয়াবহতা ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এভাবে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্রামীণ ব্যাংকে পেট্রোলবোমা হামলা

    গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্রামীণ ব্যাংকে পেট্রোলবোমা হামলা

    গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত একটি গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় দুর্বৃত্তরা পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যাংকের সাইনবোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অফিসের অভ্যন্তরে কোনও ক্ষতি হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার (১৫ নভেম্বর)午夜 আড়াইটার দিকে শ্রীপুর উপজেলার বারোতোপা এলাকার মাওনা-শ্রীপুর শাখায়।

    প্রতিষ্ঠানের এরিয়া ম্যানেজার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাধারণত প্রতিদিন কাজ শেষ করে শাখার ব্যবস্থাপকসহ চার কর্মকর্তা অফিসে ঘুমিয়ে থাকেন। তবে রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ একটি বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আশপাশের মানুষের উপস্থিতিতে তারা দ্রুত পেছনের গেট দিয়ে বাইরে বের হন। বাইরে এসে তারা দেখতে পান মূল ফটকে আগুন জ্বলছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    তিনি আরও জানান, এই হামলায় কোনো হতাহত হয়নি। যদিও সাইনবোর্ডে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অন্য কোনও ধরনের ভাঙচুর বা ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. মামুন বলেন, শ্রীপুরের বারতোপা এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের ভেতরে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ফায়ার সার্ভিসের নজরে আসেনি।

    অপরদিকে, শ্রীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহম্মদ আব্দুল বারিক বলেছেন, পুলিশি টহল জোরদার থাকায় হামলাকারীরা বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারেনি। ঘটনাস্থল থেকে বোতল উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে তা জানাতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

  • ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিভিন্ন জেলার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর এবং মাদারীপুর জেলা গুলোর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকায় কিছু দুর্বৃত্ত নানা কৌশলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে এবং বিভিন্ন রাস্তা ও এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য সব সংশ্লিষ্ট বাহিনীই কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে, বিজিবিও নিজের দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়ে মাঠে কাজ করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপ্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সচেষ্ট।

  • কক্সবাজারে তরুণ-তরুণীর আত্মহত্যার দু’ঘটনা উদ্ধার

    কক্সবাজারে তরুণ-তরুণীর আত্মহত্যার দু’ঘটনা উদ্ধার

    কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক দুই ঘটনায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে রত্নাপালং ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে এক তরুণের মরদেহ এবং রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জিয়াউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    প্রথম ঘটনায়, রত্নাপালং ইউনিয়নের কাটিরমাথা এলাকার মৃত তাতু বড়ুয়ার ছেলে জিশু বড়ুয়া তাঁর নিজ বাড়ির আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিশুর মা মল্লিকা বড়ুয়া বলেন, তাঁর ছেলে সুস্থ ছিল, তবে কেন তিনি এমন করেছেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

    দ্বিতীয় ঘটনায়, একই দিন রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮-ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৈয়দ আমিনের মেয়ে আসমা আক্তার গাছের ভীমে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর মা জরিনা বেগম বলেন, তিনি দেখতে পান মেয়েকে শয়নকক্ষে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে। তিনি চিৎকার করে সাহায্য চান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক জানান, সম্প্রতি স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অকাল মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। পাশাপাশি মারামারি, খুন-খারাবি ও আত্মহত্যার প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

    উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, দুই ঘটনাতেই পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে মনে করা হচ্ছে, দুটি ঘটনাই আত্মহত্যা, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • অর্থনীতি উন্নতির পথে, অর্থ উপদেষ্টার বর্ননায়

    অর্থনীতি উন্নতির পথে, অর্থ উপদেষ্টার বর্ননায়

    আজ রোববার (১৬ নভেম্বর), রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ব্যতিক্রমী বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক উন্নত অবস্থানে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছে।

    ড. সালেহউদ্দিন আরও জানান, মূল্যস্ফীতি বেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। যেখানে এক সময় এটি ১৪ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, এখন তা কমে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে যারা বলছেন অর্থনীতিতে কোনও অগ্রগতি হয়নি, তাদের এই মন্তব্য মনোভাব সঠিক নয়, বলে মত দেন তিনি।

    উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, দেশের সমসাময়িক সমস্যা নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে হবে। আর্থিক অগ্রগতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে ডিআরইউ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্রতিবেদনের জন্য প্রিন্ট, টিভি ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করা হয়।

  • আশুলিয়ায় পুড়ে ফেলা আবদুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর নির্দেশ

    আশুলিয়ায় পুড়ে ফেলা আবদুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর নির্দেশ

    জুলাই হত্যা মামলার ১৪তম দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে দুইজন সাক্ষ্যদাতা উপস্থিত ছিলেন। মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়, আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পুড়ানোর ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া আবদুলের মরদেহ কবর থেকে সংগ্রহ করে তার পরিবারকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে, তার নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আদেশও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল-১ এ ঢাকার কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ীতে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের নামে নয়জনকে গুলিতে হত্যা করার ঘটনায় আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। তদ্ব্যতীত, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আজ সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনও নির্ধারিত সময়ে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে লাখো মানুষের সমাগম

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে লাখো মানুষের সমাগম

    খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপচে পড়া মানুষের ঢল দেখা গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন, যা সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ আয়োজিত, আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে ৯টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়ে এটি দুপুর পর্যন্ত চলবে। মহাসম্মেলনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানটি এক হয়ে গেছে হাজারো আলেম, ওলামা, শিক্ষার্থী, ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে। সবার অংশগ্রহণে উদ্যানে এক অসাধারণ জনসভা সৃষ্টি হয়েছে।

    সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ও দায়িত্বশীল মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী জানান, এই মহাসম্মেলন মূলত কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও খতমে নবুওয়তের পবিত্র আকিদা রক্ষা করার জন্য আয়োজিত। এতে দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকেও শীর্ষ আলেমরা অংশগ্রহণ করছেন। তিনি আরও জানান, বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— জমিয়তে উলামা এ ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের (ভারত) সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি, পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী, এবং মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম।

    বাংলাদেশ থেকেও উপস্থিত রয়েছেন বিশিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, যেমন— হেফাজত ইসলামের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, দরুল উলুম হাটহাজারীর মুহতামিম মাওলানা খলিল আহমাদ কুরাইশী, আল হাইয়্যাতুল উলিয়া চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল মালেক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করীম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ আরো অর্ধশতাধিক বিশিষ্ট আলেম।

    আয়োজক সংস্থা জানিয়েছেন, খতমে নবুওয়তের সত্য আকিদা রক্ষায় এই মহাসম্মেলন বৈশ্বিক আলেম সমাজের ঐক্যের প্রতীক। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এটি এক ঐতিহাসিক দৃশ্য রচনা করবে। সভার সভাপতিত্ব করছেন, সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশের আমির, মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব, মধুপুর)।

  • প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের জন্য হত্যা: র‌্যাবের প্রকাশ

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের জন্য হত্যা: র‌্যাবের প্রকাশ

    রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য পরিকল্পনা করে হত্যাকারীরা। এ হামলার মূল আসামি হলো বন্ধু জরেজুল ইসলাম এবং তার প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর (৩৩)। এক মাস আগে শামীমা আশরাফুলের সাথে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যাতে তার বিশ্বাস অর্জন করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরে সেই সুযোগে তাকে হত্যা করে লাশ ২৬ টুকরো করে ফেলে রাখা হয়। আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) র‌্যাবের কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এসব তথ্য প্রকাশ করেন। র‌্যাবের অনুসন্ধানে জানা যায়, ১১ নভেম্বর আশরাফুল তাঁর ব্যবসার পাওনা আদায়ের জন্য বন্ধু জরেজুলের সাথে রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা দেন। অদ্যাবধি আশরাফুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর ১৩ নভেম্বর আশরাফুলের মরদেহ পানির পাম্প সংলগ্ন দুটি নীল রঙের ড্রামে পাওয়া যায়, যেখানে অজ্ঞাত পরিচয় একজনের ২৬ খণ্ডের দেহ ছিল। সিআইডি তার অঙ্গুলির ছাপ বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয় লাশটি আশরাফুলের। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়, যেখানে জরেজুল ইসলামকে আসামি করা হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, জরেজুলের প্রেমিকা শামীমা তাকে বলেছিল, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতে। শামীমা উদ্যোগ নেয়, আশরাফুলের সাথে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীর একাউন্টে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হবে। আহত অবস্থায় আশরাফুলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ওই ভিডিও সুযোগে জরেজ অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। তারপর ১২ নভেম্বর আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন থাকাবস্থায় জরেজ তার হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে, মুখ স্কচটেপ দিয়ে বন্ধ করে দেয়, এবং অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের উত্তেজনায় তার উপর আঘাত করে চলে গেলে। হত্যার পরে লাশ গোপন করার জন্য জরেজ ১৩ নভেম্বর চাপাতি ও ড্রাম কিনে ২৬ টুকরা করে লাশগুলো দুই ড্রামে ভরে রাখে। ঘটনাস্থল থেকে ড্রামগুলো গাড়িতে তুলে হাইকোর্টের পাশে ফেলে দিয়ে দ্রুত সড়ক পরিবর্তন করে অন্য পথে চলে যান তারা। এই পুরো চক্রের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী এবং আসামী এখন গ্রেপ্তার। এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং মূল আসামি জরেজুল ইসলামকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • হেফাজতে থাকা আসামির মিডিয়ায় বক্তব্য, রাজশাহীর পুলিশ কমিশননারের তলব

    হেফাজতে থাকা আসামির মিডিয়ায় বক্তব্য, রাজশাহীর পুলিশ কমিশননারের তলব

    রাজশাহীর বিচারকের ছেলে হত্যা ও স্ত্রীর শরীরে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় আটক আসামির স্বজনের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের কারণে আদালত রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনারকে তলব করেছে। আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালেই মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মামুনুর রশীদ এই নির্দেশ দেন। আদালত আগামী ১৯ নভেম্বর রাজশাহী পুলিশ কমিশননারকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

    আদালত সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের আদালতের দেয়া নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত লিমন মিয়া কৌশলে নগরীর রাজপাড়া থানার ডাবতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে তার নাবালক পুত্র তাওসিফ রহমানকে ধারালো ছুরি দিয়ে বিভিন্ন দফা আঘাত করে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে রাখে এবং উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    তবে, পুলিশ হেফাজত থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত লিমন মিয়ার ভাষণে দেখা যায়, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দোষারোপ করে মিডিয়ায় বক্তব্য প্রদান করেন। এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশের ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অমান্য ও আইন লঙ্ঘনের শামিল।

    এমতাবস্থায়, পুলিশ হেফাজত থাকা অবস্থায় এ ধরনের বক্তব্য দিতে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে আগামী ১৯ নভেম্বর রাজশাহীর আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, আরেক মামলায় একই দিন (১৪ নভেম্বর) রাজপাড়া থানায় নিহত তাওসিফের বাবা আব্দুর রহমান অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, লিমন মিয়া ওই ঘটনার প্রধান আসামি, যার সাথে পুলিশের আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল।

    প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় তাওসিফ হত্যার ঘটনা ঘটে। এই সময় অভিযুক্ত লিমন মিয়া ও তার স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি আহত হন। দুইজনকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল (১৪ নভেম্বর) সকালে নিহত তাওসিফের মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয় এবং মৃত্যু হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে।