Category: খেলাধুলা

  • বিশ্বকাপ থেকে অস্ট্রেলিয়া বিদায়, সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে

    বিশ্বকাপ থেকে অস্ট্রেলিয়া বিদায়, সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে

    অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশ্বকাপের পথে অপ্রত্যাশিত বিপত্তি দেখা দিলে সুপার এইটে তাদের টিকিটটি ঝুঁকিতে পড়েছিল। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর তাদের পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আজ জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচে বৃষ্টির কারণে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়নি, ফলে অজিরা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল। অন্যদিকে, এই ম্যাচে এক পয়েন্ট লাভ করে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে রোডেশিয়ার দল।

    পাল্লেকেল্লেতে গ্রুপের শেষ ম্যাচে অতিক্রম করছিল জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার খেলা. তবে শুরুতেই বৃষ্টি বাধা সৃষ্টি করে। বৃষ্টি কখনো থামলেও ফেরা সম্ভব হয়নি মাঠের সংস্কার কাজ শেষ করতে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিচালকেরা খেলাটিকে বাতিল করার ঘোষণা দেন। এতে দুই দলেরই একেকটি পয়েন্ট করে জমা হয়, আর গ্রুপে মোট ৫ পয়েন্ট নিয়ে জিম্বাবুয়ে সুপার এইটে নিশ্চিত করে। তবে তাদের একটি ম্যাচ এখনও বাকি।

    বিজয়ীদের তালিকায় শ্রীলঙ্কা শীর্ষে রয়েছে, ৩ ম্যাচে তিনটি জিতেছে তারা। এই জয়ে তাদের ৬ পয়েন্ট, যা নিশ্চিত করে রেখেছে তাদের সুপার এইটের স্থান। অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড চার ম্যাচে এক জয় ও দুই হারসহ ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে। তারা একমাত্র দলের মধ্যে যারা সব ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছে। আর ওমান তিনটি ম্যাচে দুই হারের সঙ্গে এক জয় নিয়ে অপেক্ষায় আছে।

  • গোলপোস্ট থেকে রাজপথের সৈনিক, এখন ক্রীড়াঙ্গণের শীর্ষে: আমিনুলের অনন্য যাত্রা

    গোলপোস্ট থেকে রাজপথের সৈনিক, এখন ক্রীড়াঙ্গণের শীর্ষে: আমিনুলের অনন্য যাত্রা

    সুখবরটি ছিল সকালে। বিএনপির নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বাইরেও তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও ২০০৩ সালে দেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী তারকা। মঙ্গলবার সেই সাফল্যের খেতাবের সঙ্গে যুক্ত হলো আরও একটি স্বীকৃতি— তিনি শপথ নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। গোলপোস্টের নিচে সতর্কপ্রহরী থেকে রাজপথের লড়াকু সৈনিক, এখন তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গণের মূল ঐক্যবদ্ধ নেতা। ২০১৮ সালে ঢাকা-১৬ আসনে তফসিলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করেছেন আমিনুল, যদিও জয় পাননি। তবুও তার ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তা অটুট রয়ে গেছে। প্রত্যাশা ছিল, তার হাতে ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্ব থাকবে—এটাই ছিল রাজনৈতিক মহলের ধারনা। নির্বাচন পরাজয়ের পরেও তার প্রতি রাষ্ট্রপ্রধানের আস্থা অবিচল, যা তার গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। ফুটবল তাকে পরিচিত করে দিয়েছে। ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে তার। এরপর ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত ছিলেন দলীয় একাদশে; চোটের কারণে খুব কম সময়ই বাদ পড়তে হয় তাকে। ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পাশাপাশি ২০১০ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি—অবশ্য টুর্নামেন্টে তার জালে বল প্রবেশ করেনি একবারও। ২০১১ সালে ফুটবল থেকে বিদায় নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আমিনুল। প্রথমে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করলেও ধীরে ধীরে তার পরিচিতি ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়। আন্দোলন-সংগ্রাম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চারতা—এসবের মাধ্যমে তার নতুন পরিচয় গড়ে উঠে। এই পথচলায় তাকে কГО কিছু বাধা পেরোতে হয়েছে, এমনকি কারাভোগও করতে হয়েছে, পুলিশের হাতে নিগৃহীত হওয়ার কাহিনিও রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নিজের বেশি সময় দিয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো, পিছিয়ে পড়া ক্রীড়াবিদদের সহায়তা—এসব উদ্যোগ তাকে সমাজের গভীরে আরও স্থাপন করেছে। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের স্বীকৃতি এবার পায়। দীর্ঘ পথচলা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এখন তার দায়িত্ব বড়। সংস্কার আন্দোলনে তিনি আগে থেকেই সোচ্চার, এবার সেই দায়িত্ব আঁকড়ে ধরার পালা। সামনে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা রয়েছে, যেখানে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বড় স্বপ্ন দেখালেন আমিনুল— তিনি বললেন, ‘আমাদের দেশে ২৯৫টি উপজেলা রয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া অফিসার নিযোগ করব। এর সঙ্গে যোগ হবে, প্রতিটি উপজেলাতে পাঁচটি ইভেন্ট বাধ্যতামূলক করা—এ জন্য তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, একজন ক্রীড়া অফিসার ও ১৫ জন ক্রীড়া শিক্ষক। পাশাপাশি, আমরা চাই দেশের স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে আনতে। নিজেদের তৈরি করব প্রয়োজনীয় খেলাধুলার উপকরণ, যেগুলো রপ্তানি হবে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন—এই বিশ্বাসে আমি দৃঢ়।’

  • বিগত পাকিস্তানি অধিনায়করা ইমরানের স্বাস্থ্যের জন্য দ্রুত চিকিৎসার দাবি জানালেন

    বিগত পাকিস্তানি অধিনায়করা ইমরানের স্বাস্থ্যের জন্য দ্রুত চিকিৎসার দাবি জানালেন

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে চিঠি লিখে ইমরান খানের অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের অনুরোধ জানিয়েছেন। সম্প্রতি ইমরান খানের চোখের জটিলতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পরিবার দাবি করেছে, কারাগারে চিকিৎসার অবহেলা আর কারণে তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারানোর পথে। এই খবরে পাকিস্তানসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে অজানা উদ্বেগ জাগে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা অনেক বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা, যারা খেলোয়াড় হিসেবে ইমরান খানের বিপক্ষে খেলেছেন কিন্তু এখন তার চিকিৎসার জন্য ব্যথিত। এই চিঠির খসড়া করেন গ্রেগ চ্যাপেল, যেখানে স্বাক্ষর করেছেন ইয়ন চ্যাপেল, সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, অ্যালান বর্ডার, মাইকেল অ্যাথারটন, নাসের হুসেইন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, ডেভিড গাওয়ার, স্টিভ ওয়াহ, জন রাইট, কিম হিউজ ও বেলিন্ডা ক্লার্ক।

    চিঠিতে লেখা হয়, “তার স্বাস্থ্যের সাম্প্রতিক অবনতি, বিশেষ করে হেফাজতে থাকা অবস্থায় দৃষ্টিশক্তির আশঙ্কাজনক ক্ষতি এবং গত আড়াই বছরে কারাবরণে তার অবস্থা আমাদের গভীর ব্যথিত করেছে।” আরও উল্লেখ করা হয়, ইমরান খানের ক্রিকেটে অবদান সর্বজনবিদিত। তিনি পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন, যা নেতৃত্ব, দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তার অনন্য পরিচায়ক।

    এই চিঠি এমন সময়ে লেখা হলো যখন ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার পরিবারের জন্য সাক্ষাতের অনুমতি এখনো দেওয়া হয়নি, তাদের চিকিৎসকদের সাথে দেখা করারও সুযোগ মেলেনি। সম্প্রতি খবর রটেছিল তিনি হাসপাতালে নেওয়া হতে পারেন, কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।

    এদিকে, পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস ও শোয়েব আখতার গত সপ্তাহে ইমরানের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অজয় জাদেজাও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা তিনি রাজনীতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে ১০, ১৪ ও ১৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তবে পরে কিছু সাজা বাতিল হয়। এর মাঝেই তার দল ২০২৪ সালের নির্বাচনে সিট না পেলেও প্রায় সর্বাধিক ভোটে বিজয় লাভ করে। সম্প্রতি বিবাহসংক্রান্ত মামলায় সাত বছরের সাজা স্থগিত হলেও মূলত তা বাতিল করা হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “ক্রিকেট মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হলেও আমাদের মধ্যে সম্মান অটুট রয়েছে। ইমরান তার ক্যারিয়ারে সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এখন কর্তৃপক্ষের উচিত শালীনতা ও ন্যায্যতার নীতি অনুসরণ করে তার প্রতি সমর্থন দেখানো।”

    বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলো, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন, ইমরান খানের বিচারপ্রক্রিয়া ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার পরিবারের ভাষ্য, তাকে হত্যা করার জন্য নির্যাতন ও মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

  • বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

    বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

    রাজধানী ঢাকায় এসেছেন জার্মানির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার’-এর আধুনিকায়ন ও নতুন একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন। এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ান, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। মিনহাজ উদ্দীন জানায়, আগামীকাল তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইফতার করবেন। এই সময়ে তার উপস্থিতি ও কর্মসূচি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

  • বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হচ্ছেন হাবিবুল বাশার

    বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হচ্ছেন হাবিবুল বাশার

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই বছরের চুক্তিতে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। এরপর থেকে তিনি এই পদে নিজেকে দায়িত্বশীলভাবে পালন করছেন। তবে এখন আর এই দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী নয় লিপু। চলতি মাসের ৫ তারিখে তিনি বিসিবিকে লিখিত এক চিঠি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই বছরের শেষের দিকে তার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে বিসিবি তাকে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিয়োগের উদ্যোগ নিলেও, পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে লিপু দীর্ঘমেয়াদে এই কাজ চালিয়ে যেতে চান না। তাই দ্রুতই প্রধান নির্বাচকের পদ শূন্য হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এরই মধ্যে জানা গেছে, সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনকে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবি। মূলত ক্রিকেট অপারেশনস শাখা থেকে এই প্রস্তাবটি এসেছে বলে জানা গেছে, যা নিশ্চিত করেছে বিসিবির একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র।

    বাশার এখনই এই প্রস্তাব গ্রহণ করছেন না বললেও আধ্যাত্মিকভাবে আগ্রহী তিনি। তিনি আরও কিছু দিন সময় চেয়েছেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। তবে বোঝা যাচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে তিনি বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাজ শুরু করবেন। এটা বোঝা যাচ্ছে যে, শীঘ্রই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

  • বিশ্বকাপে না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত, এই বক্তব্যে অটল আছি: ড. আসিফ নজরুল

    বিশ্বকাপে না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত, এই বক্তব্যে অটল আছি: ড. আসিফ নজরুল

    জানানো সিদ্ধান্তই বোর্ড‑ক্রিকেটারদের বলে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে একটি পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করে স্পষ্ট করে বলেছেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    পোস্টে ড. আসিফ লিখেছেন, ‘‘গতকাল একটি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচালায় আমাকে বিশ্বকাপ নিয়ে একটা প্রশ্ন করা হয়। আমি বলেছি, আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। এরপর যা বলার চেষ্টা করেছি, তা আমার কথার প্রেক্ষিত বা অন্তর্নিহিত বার্তা ঠিকমতো বোঝা না যাওয়ায় কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’’

    তিনি আরো জানান যে, জানুয়ারির শুরু থেকেই তিনি বারবার নিরাপত্তার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভারতে বিশ্বকাপে না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত বলেই জানিয়েছেন এবং এই অবস্থানেই তিনি এখনও অটল। ‘‘গতকাল কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এই বিষয়টি কোনো আলোচ্য বিষয় ছিল না এবং আমাকে এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্নও করা হয়নি,’’ পোস্টে যোগ করেছেন তিনি।

    উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ উন্নয়নের জন্য দুই কোটি টাকার চেক হস্তান্তরের অনুষ্ঠান। ড. আসিফ লিখেছেন, ‘‘ক্রিকেটের স্পর্শকাতর সময়ে তাদের এই দান আমাকে কিছুটা আবেগাপ্লুত করেছিল। সেসময় যখন সাংবাদিকরা ভেবে দেখার জন্য জিজ্ঞেস করলেন যে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে কোনো দুঃখ আছে কি না, তখন আমার মনে হয়েছে মূল বিষয়টি হল না—ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।’’

    তিনি আরও বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকার নিয়েছে, কিন্তু এটাও সত্য যে ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা বিনা প্রতিবাদে তা মেনে নিয়েছে। আর্থিক ক্ষতি, না খেলার বঞ্চনা ও শাস্তির আশঙ্কা সত্ত্বেও তারা এটি মেনে নিয়েছে—অতএব দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৃতিত্বের মূল দাবিদার তারাই।’’

    শেষে তিনি স্বীকার করেছেন যে অন প্রতিপালিত আলাপে বিষয়টি ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারা তার ব্যর্থতা ছিল এবং পুনরায় জোর দিয়েছেন—বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকারী, কিন্তু সেটি বোর্ড ও খেলোয়াড়রাও মেনে নিয়েছে।

  • সোহান, আকবর ও রুমানা প্রথমবার ভোট দিলেন

    সোহান, আকবর ও রুমানা প্রথমবার ভোট দিলেন

    জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই মাঠ-ঘাটে উৎসবের আমেজ; বহু ভোটার কক্ষপথে এসে ভোট দিতে দেখা গেছে। এ নির্বাচনে মোট ৫০টি নিবন্ধিত দল অংশ নিয়েছে, তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

    ভোটগ্রহণের এ উৎসবে খেলোয়াড়রাও অংশ নিয়েছেন। রংপুরের নিজ এলাকা থেকে প্রথমবার ভোট দিতে যান যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি। জাতীয় দলের ক্রিকেটার নূরুল হাসান (সোহান) দৌলতপুরে গিয়ে প্রথমবার ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া নারী দলের ক্রিকেটার রুমানা আহমেদও প্রথমবার ভোট দিয়েছেন এবং তিনি নিজের অঞ্চলে ভোট দিয়ে উৎসাহী ছিলেন।

    সামগ্রিকভাবে 이번 নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার নাম তালিকাভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

    ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকলেও শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক তৎপরতা জোরদার রাখা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী দিনগুলোর ভোটার উপস্থিতি ও প্রক্রিয়া নিয়েও 관심 চোখ রেখে দেখা হচ্ছে।

  • ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে শ্রীলঙ্কায় বাড়তি নিরাপত্তা

    ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে শ্রীলঙ্কায় বাড়তি নিরাপত্তা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শ্রীলঙ্কা অংশগ্রহণকারী দলের নিরাপত্তায় এলিট সশস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করবে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি ম্যাচগুলোর দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে, বলে এএফপিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজক দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপদেশে অনুষ্ঠিতব্য মোট ২০টি ম্যাচের আয়োজন করবে। ওই তালিকার একটি প্রধান ম্যাচ—গ্রুপ ‘এ’-এর ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই—নির্ধারিত হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে।

    দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেট মাঠে প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের চার দিনের সংঘাতের পর সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া মন্ত্রী সুনিল কুমারা গামাগে এএফপিকে বলেন, সরকার টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করাকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে’ রেখেছে এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোর ব্যাপারে ‘বিশেষ নজর’ রাখা হচ্ছে।

    পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত элিট কমান্ডো ইউনিটগুলোই এবার সব দলের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খেলোয়াড়দের বিমানবন্দর ত্যাগের মুহূর্ত থেকে ফের বিমানবন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত সশস্ত্র নিরাপত্তা দেয়া হবে।

    ইতিহাসগতভাবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে খেলতে নাও যেতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ‘‘হাইব্রিড মডেল’’ অনুসরণ করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় আইসিসি তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়েছে।

    নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে বাংলাদেশও শুরুতে তাদের ভারতে হওয়ার ম্যাচ আয়োজন না করার অনুরোধ করেছিল; কিন্তু আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে এবং তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিল, যদিও বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

    শ্রীলঙ্কা এ সময় আঞ্চলিক বিরোধে জড়াতে নারাজ থাকার বার্তাও বারবার দিয়েছেন। দেশটির ক্রিকেট সেক্রেটারি বান্দুলা দিসানায়েকে এএফপিকে বলেছেন, কলম্বো কোনোভাবেই আঞ্চলিক বিবাদে ভগ্নদৈত্য হতে চায় না এবং ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধে শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ থাকবে—এই তিন দেশই শ্রীলঙ্কার বন্ধু।

    প্রয়োজনে ভবিষ্যতে যেকোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করতেও শ্রীলঙ্কা প্রস্তুত বলে তিনি যোগ করেছেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোর উন্নয়নের কাজও চালানো হয়েছে: কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে নতুন ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়াম গত নভেম্বরে আঘাত হানা প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে থেকে রক্ষা পেয়েছে। ওই স্টেডিয়ামে শুক্রবার শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে একটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।

  • চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত খুলনা গড়ার অঙ্গীকার রকিবুল বকুলের

    চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত খুলনা গড়ার অঙ্গীকার রকিবুল বকুলের

    খুলনার পবিত্র মাটিতে যদি জনগণের ভোটে তিনি নির্বাচিত হন, তবে সেখানে কোনো চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীর স্থান থাকবে না—এমন শক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।

    বুধবার বিকেলে পাবলা সবুজ সংঘ মাঠে অনুষ্ঠিত পথসভায় বকুল বলেন, গত কয়েক বছরে খুলনাবাসী নানাভাবে শোষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারেননি এবং সাধারণ মানুষের জীবন-মালরক্ষাও বিঘ্নিত হয়েছে। এ অবস্থা বদলে দিতে তিনি সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেবেন এবং চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন বলে সংকল্প ব্যক্ত করেন।

    পাবলা সবুজ সাথী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বকুল আরও বলেন, জনগণের আস্থায় নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারলে তিনি একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত খুলনা উপহার দেবেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীককে শান্তির প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই প্রতীক জয়ী হলে সাধারণ মানুষের অধিকার পুনরায় ফিরে আসবে।

    বকুল অভিযোগ করেন, খুলনার সম্পদ লুটে খাওয়া এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শাসন করার পেছনে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাত রয়েছে। এই অনিয়ম থামাতে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেনোর আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি জানান, তার মূল লক্ষ্য খুলনার প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় শান্তি ফিরিয়ে আনা। নির্বাচিত হলে কোনো দলীয় পরিচয় নিয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা জমি দখল করতে পারবে না—এমন কড়া হুশিয়ারিও দেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সবুজ সাথী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শাহীন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মুশাররফ হোসেন, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির, পাবলা সবুজ সংঘের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, খুলনা মহানগর জাসাসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নুর ইসলাম বাচ্চু এবং পাবলা সবুজ সংঘ মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ.এ. রহিম।

    আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মতলেবুর রহমান, মিতুল, প্রফেসর সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, শেখ আনসার আলী সহ দৌলতপুর থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মী।

  • ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বাড়তি নিরাপত্তা

    ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বাড়তি নিরাপত্তা

    আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে এলিট সশস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করবে শ্রীলঙ্কা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের ম্যাচগুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা বাড়ানো হচ্ছে।

    ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজক শ্রীলঙ্কা এই টুর্নামেন্টের সব আয়োজন করবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপদেশটিতে মোট ২০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে গ্রুপ ‘এ’-র ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তান ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে মুখোমুখি হবে।

    রাষ্ট্রীয় এবং ক্রীড়া কূটনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ থাকা এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রেমেটিভ হয়ে ক্রিকেট মাঠেও ফুটে উঠেছে। গত বছরের চার দিনের সংঘাতের পর সেই উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া মন্ত্রী সুনিল কুমারা গামাগে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নভাবে আয়োজন করাটা সরকারের ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ এবং ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচগুলোতে ‘বিশেষ নজর’ রাখা হচ্ছে।

    পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্রে বলা হয়েছে, সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট কমান্ডো ইউনিটগুলোই এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর নিরাপত্তা দেবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় থেকে আবার বিমানে ওঠার মুহূর্ত পর্যন্ত খেলোয়াড়দের সশস্ত্র নিরাপত্তা থাকবে।

    অতীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন; তখন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করে ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দুই দলের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে এনেছে।

    নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে বাংলাদেশও আগে অনুরোধ করেছিল তারা ভারতে তাদের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে চায় না; আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেকে তুলে নেন এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

    এই সব টানাপোড়েনের মধ্যে শ্রীলঙ্কা আঞ্চলিক বিরোধে জড়াতে চায় না—এমন অবস্থান নিয়েছে। দেশের ক্রিকেট সচিব বান্দুলা দিসানায়ে বলেছেন, কলম্বো কোনোভাবেই এই ধরনের বিভেদে পড়তে চায় না এবং ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিবাদে শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে যে কোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে শ্রীলঙ্কা প্রস্তুত।

    একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোর উন্নয়নও চালিয়েছে। কলম্বোর সিংহলেজ স্পোর্টস ক্লাবে নতুন ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে, আর ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়াম গত নভেম্বরে আঘাত হানা প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে রক্ষা পেয়েছে। এই স্টেডিয়ামে শুক্রবার শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে একটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।

    শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্য হচ্ছে সব ধরনের নিরাপত্তা ও ভেন্যু প্রস্তুতি নিশ্চিত করে টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা, যাতে খেলা ও দর্শক উভয়েই নিরাপদে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে।