Category: খেলাধুলা

  • তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

    তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শেষ নির্বাচন স্বচ্ছভাবে হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তদন্তটি শেষ করে আজ সংশ্লিষ্টরা তাদের প্রতিবেদন এনএসসিতে জমা দিয়েছে। তবে সেই তদন্ত কমিটির সামনে নিজেকে হাজির করেননি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    কেন তিনি কমিটির ডাকে সাড়া দেননি, তার ব্যাখ্যা নিজ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। সেখানে তিনি কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, তিনি মনে করেন যে মন্ত্রণালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর তার এখতিয়ারের বাইরে তদন্ত চালাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, তাঁর অভিযোগ—তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনে এমনভাবে সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত রয়েছে যে সবকিছু আগেভাগেই টেনে রাখা হয়েছে।

    তৃতীয়ত, তিনি লক্ষ্য করেছেন যে তদন্তটি এমন একটি বিষয়ের ওপর করা হচ্ছে যেটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন; তাই এমনভাবে তদন্ত চালালে তা কখনো কখনো আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। চতুর্থত, তিনি অভিযোগ করেছেন যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড পরিচালকদের ভবিষ্যৎ পদকে প্রলোভন দেখিয়ে বা ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।

    আসিফ আরও লিখেছেন, তদন্ত কমিটি থেকে তাকে বলা হয়েছিল যে সাক্ষাৎকার বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর মন্ত্রণালয় কীভাবে এমন তদন্ত পরিচালনা করতে পারে—এই ব্যাপারে তিনি কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি। সরকার পরিচালনা, প্রজ্ঞাপন জারি, কোন প্রতিষ্ঠানকে স্বায়ত্তশাসিত বলা হবে, কোন বিষয় বিচারাধীন এবং কোন কাজ আদালত অবমাননা—এই ধরনের জটিল বিষয়গুলোকে তিনি নিজের জনগণগতভাবে বা সুগঠিতভাবে বোঝা ও মেনে নেওয়া ছাড়া অংশ নেবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন। তাই সংশ্লিষ্ট নোটিশে তিনি সাড়া দেননি।

    এনএসসি ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল জানুন নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের সময় দেয়া হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

    গত বছরের ৬ অক্টোবর ঢাকার কিছু ক্লাব সংগঠন বিসিবির নির্বাচন বর্জন করে; সেই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই দেশের ক্লাব ক্রিকেট কার্যত থমকে আছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখনও মাঠে না গড়ানোয় ক্রিকেটাররা সামাজিক মাধ্যমে তাদের হতাশা প্রকাশ করেছেন।

  • আসিফ নজরুল বিতর্কে বিসিবির স্পষ্ট ব্যাখ্যা

    আসিফ নজরুল বিতর্কে বিসিবির স্পষ্ট ব্যাখ্যা

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা পরিস্কার করেছে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের পরিচালকরা বলেন, ক্রিকেটারও বোর্ডও বিশ্বকাপে অংশ নিতে চেয়েছিল; কিন্তু তখনকার অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তই তাদের হাত-পা বেঁধে দেয়।

    সবকিছুর সূত্রপাত হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকে আর) থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে হঠাৎ রিলিজ করে ফেলার ঘটনা থেকে। আইপিএল-২০২৬-এর জন্য কেনা মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই নিরাপত্তার অজুহাতে ওই নির্বাচনকালীন সরকার ভারতের উদ্দেশ্যে দলের পাঠানো বন্ধ করে দেয়। তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন এবং শুরুতে বলেছিলেন ক্রিকেটাররাই ভারতে যেতে চাননি। কিন্তু বিসিবি এখন সেই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আমরা ক্লিয়ার সিগনাল পেয়েছিলাম। আলাপচারিতাও হয়েছিল।” তার কথায় বোর্ড এবং ক্রিকেটাররা মূলত যাবার পক্ষে ছিলেন।

    নাজমুল আবেদিন ফাহিম পরিস্থিতির বিস্তারিত বলেছেন। তিনি জানান, মুস্তাফিজ ইস্যুর পর বোর্ড প্রথমে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখালো এবং বোঝাপড়া, দর-কষাকষি বা ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশ্বাসের ওপর চিন্তা করছিল। “কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত চলে আসায় আর কোনো পথ খোলা ছিল না,” তিনি বলেন।

    ফাহিম আরও জানান, ‘বিপিএল ফাইনাল ২৩ তারিখে ছিল। চট্টগ্রামে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে সূচিতে পরিবর্তন হয়ে সিলেটে বেশি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, তারপর দ্রুত ঢাকা ফিরে আসতে হয়েছে। আমরা চাইলে দুই দিন সময় নিয়ে চট্টগ্রামে খেলা শেষ করে যেতে পারতাম এবং ২৮ তারিখে বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে রওয়া দিতে পারতাম। আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সরকার যখন নিরাপদ নয় বলল, তখন আমাদের আর কিছু বলার সুযোগ ছিল না।’

    অন্যদিকে পরিচালক মোখসেদুল কামাল বাবু সরাসরি বলেছেন, “বোর্ড অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলার পক্ষে ছিল।” ঐ সম্মেলনে উপস্থিত সব পরিচালকই একেবারেই দলের ভারত যাত্রার বিরোধী ছিলেন না বলে জোর দিয়ে বলা হয়।

    বিসিবি জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; বরং সরকারের নির্দেশনায় বোর্ডকে তা মেনে নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে রাখার অনুরোধ অগ্রাহ্য করে এবং সবশেষে বাংলাদেশকে প্রতিস্থাপিত করে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    সংক্ষিপ্তভাবে, বিসিবি বলছে—বোর্ড ও খেলোয়াড়রা খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তখনকার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত পুরোপ্রকারে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। আসিফ নজরুলের বক্তব্য যে ক্রিকেটাররাই যেতে চায়নি—বিসিবি তা সরাসরি বরখাস্ত করেছে।

  • চীনের কাছেও হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা

    চীনের কাছেও হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা

    বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের শুরুটা ছিল প্রতিরোধমূলক ও দৃঢ়তার সাথে লড়াই করা। তবে শেষ পর্যন্ত আবারও তাকেই হার মানতে হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে পরাজয়টি ভারতীয় দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে পরবর্তী পর্বে অাগানো কঠিন করে তুলেছে। কিছু দিন আগে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে দুটি গোল করে লড়াই করেছিল বাংলাদেশ, আজ শনিবার অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ বাছাই খেলাতেও চীনের কাছে হার মানতে হলো পিটার বাটলারের দলকে।

    শুরু থেকেই চীন একচেটিয়াভাবে দাপট দেখিয়ে গেলেও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধ লক্ষ্যণীয় ছিল। ফলে প্রতিপক্ষের গোলের দেখা মিলেনি। ২৫ মিনিটে চীনের তারকা ফুটবলার লি কিরের ফ্রি কিক মিলির হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৪৩ মিনিটে তার সতীর্থের পাসে দুই ডিফেন্সের মাঝ দিয়ে বল নিয়ে বাংলাদেশি গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি লি জুয়ায়ু। মিলি সেই শট দক্ষতার সাথে রুখে দেন।

    এরপর এক ক্রস থেকে হেড করে চীনের একজন খেলোয়াড় বল পাঠালেও তা ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

    বিরতির পরে চীনের দাপট আরও বেড়ে যায়। ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। জেং ইউজিয়ার কাটব্যাক থেকে ইউ জিনজু ৬ গজের মধ্যে পজিশন নিয়ে প্লেসিং শটে গোল করেন। ৭১ মিনিটে ফ্রি কিকে চীনের অধিনায়ক হেড করে গোলের কাছে পৌঁছান। তবে ৮২ মিনিটে চীন আরও একটি গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দেয়। ওয়াং এইফাংয়ের বাঁকানো শট জালে জড়ানোয় গোলকিপার মিলি ঝাঁপিয়েও সেটি ঠেকাতে পারেননি।

    শেষে কিছু চাপ সৃষ্টি করলেও চীন ব্যবধান আরও বাড়াতে পারেনি। তবে গোলকিপার মিলির না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে মাঠে নামবে।

  • বিশ্ব ক্রিকেটে রেকর্ডে সবার ওপরে মুস্তাফিজ

    বিশ্ব ক্রিকেটে রেকর্ডে সবার ওপরে মুস্তাফিজ

    পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) শুক্রবার রাতে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে দুটি উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন করে কাজল। তিনি এখন স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মোট ৪১৬ উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা বিশ্বের জন্য এক নতুন রেকর্ড।

    এতদিন পর্যন্ত এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন পাকিস্তানের ভয়ংকর পেসার মোহাম্মদ আমির। তিনি ৩৫৬ ম্যাচে ৪১৪ উইকেট নেন। কিন্তু ওই সমস্ত কীর্তির জন্যে প্রয়োজন ছিল দীর্ঘ সময় আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। অন্যদিকে, মুস্তাফিজ মাত্র ৩২৫ ম্যাচ খেলেই এই রেকর্ড নিজের করে নেন, অর্থাৎ ৩১ ম্যাচ কম খেলে তিনি আমিরের চেয়ে এগিয়ে গেলেন।

    তৃতীয় স্থানে আছেন পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ, যিনি এখন পর্যন্ত ৪১৩ উইকেট শিকার করেছেন।

    পিএসএলের শুরুর আগে মূলত তৃতীয় স্থানে ছিল মুস্তাফিজ। কিন্তু টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়াহাব রিয়াজকে, এবং তৃতীয় ম্যাচে মোহাম্মদ আমিরকে ছাড়িয়ে যান তিনি। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৪ উইকেট।

    তবে এই রেকর্ড তো এখানেই শেষ নয়। মোহাম্মদ আমিরও এখনো পিএসএলে খেলছেন এবং শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারলে মুস্তাফিজের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে। এখনো পর্যন্ত আমির ২ উইকেট নিয়েছেন। তাই মুস্তাফিজের জন্য আগামী কিছু ম্যাচে আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখানো জরুরি।

    মুস্তাফিজের মোট ৪১৬ উইকেটের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রয়েছে ১৫৮টি, যা বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ। বাকি উইকেটগুলো তিনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে সংগ্রহ করেছেন। এই রেকর্ড তাকে একজন বিশ্বসেরা পেসার হিসাবে প্রমাণ করে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদান অসামান্য।

  • শিরোপা জয় করে বাংলার যুবারা ফিরলো দেশে

    শিরোপা জয় করে বাংলার যুবারা ফিরলো দেশে

    অনূর্ধ্ব-২০ দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত থেকে ঐতিহাসিক সফলতার স্বর্ণযুগ সৃষ্টি করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি ফুটবলাররা। ড্রামাকম্পাসের মতো সাফল্যের গৌরব নিয়ে তারা ফিরে এসেছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাতটা চব্বিশ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফি হাতে চ্যাম্পিয়নরা অবতরণ করেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা দেশে পৌঁছান, যেখানে বিমানবন্দরে স্বাগতম জানান হয় বিশাল উৎসবমুখর পরিবেশে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের উপলক্ষে সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীসহ দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের অনেক উঁচু ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সাফ জয়ী দলটির প্রথম কৃতিত্বের নায়ক ২০০৩ সালের সাবেক জাতীয় ফুটবল গোলরক্ষক আমিনুল হক নিজে উপস্থিত থেকে দলের নেতৃত্বে থাকা অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদীসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বোশো দিতে দিতেই ট্রফি জয়ী দলের সদস্যদের স্বাগত জানান। দেশের ফুটবল ইতিহাসে এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত, যেখানে পুরুষ দলের প্রথমবারের মতো পুরো দেশে ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা দেওয়া হলো, যা আগে নারী দলের সফলতার পরও দেখা যায়নি। 

  • বোর্ড সভায় আরও একজন পরিচালকের পদত্যাগ

    বোর্ড সভায় আরও একজন পরিচালকের পদত্যাগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বোর্ডের একটি সভার শেষে দায়িত্ব অবসানের ঘোষণা দেন পরিচালক ফাইয়াজুর রহমান। তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়। এছাড়াও তিনি ঢাকা সিসিডিএমে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে ফাইয়াজুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। অন্য কোনও কারণ নেই।’ উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে তিনি ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হন। তার এই পদত্যাগের ফলে বর্তমান বোর্ডে পদত্যাগকারী পরিচালকের সংখ্যা দাঁড়াল চারজন। এর আগে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সালও বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ালেন। পাশাপাশি, গত মাসের শেষের দিকে বিসিবির পরিচালক হিসেবে থাকাকালীন আমজাদ হোসেনও পদত্যাগ করেন। এর আগে, বিসিবির আরেক পরিচালক ইশতিয়াক সাদেকও পদত্যাগ করেছিলেন।

    তরফে, সবাই তাদের পদত্যাগের কারণ ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। তবে, এখনো পর্যন্ত বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কারো পদত্যাগপত্র গ্রহণের ঘোষণা দেয়নি।

  • পাবলা সবুজ সংঘ ক্লাবের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    পাবলা সবুজ সংঘ ক্লাবের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    খুলনার দৌলতপুরের ঐতিহ্যবাহী পাবলা সবুজ সংঘ ক্লাবের ৫১তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। অতিথির বক্তৃতায় তিনি ক্লাবের ঐতিহ্য রক্ষা ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলো যেন আধুনিক খেলাধুলায় উপযুক্ত হয়ে ওঠে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া, তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ক্লাবের কার্যক্রম যেন সরাসরি মানুষের কল্যাণে কাজ করে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়, এ লক্ষ্যকেই সামনে রেখে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যুব সমাজকে মাদকের দশা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প কিছু নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি জেলা শিল্পাঞ্চলগুলো পুনরায় চালু করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে আহ্বান জানান। খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনই সমাজ থেকে অপরাধ ও নেশার অন্ধকার কাটিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এমন উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে সহায়ক হবে। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি সরদার রাফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, সরকারি বিএল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সাইফুল ইসলাম। পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর থানা বিএনপি সভাপতি মোঃ মুর্শিদ কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শেখ ইমাম হোসেন ও বিএনপি নেতা শেখ মোশাররফ হোসেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা। এ সময় ক্লাবের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরল অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলাররা

    শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরল অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলাররা

    অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত থেকেই ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। শনিবার সন্ধ্যায় ট্রফি হাতে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিজ্ঞতা-ভরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন।

    ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দেশে ফেরেন মিঠু চৌধুরী ও রোনান প্রমুখ খেলোয়াড়রা; আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফি নিয়ে বিমানবন্দরে অবতরণ ঘটে সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে। বিমানবন্দরে তাদের বরণ করতে জড়ো হয়েছিল উитал উল্লাস-উৎসবমুখর সফরপ্রেমীরা।

    টিমকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক আমিনুল হক—২০০৩ সালের সাফ জয়ের অন্যতম নায়ক—যিনি নিজ হাতে অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন। বাফুফে সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদীও সেখানে ছিলেন।

    ট্রফি বিজয়ী দলের জন্য বিমানবন্দরের ভেন্যুতে কাঁটাছেঁড়া করতালি ও উষ্ণ অভিনন্দন ছিল। এরপর খেলোয়াড়রা উঠে বসলেন বিশেষভাবে সাজানো ছাদখোলা বাসে এবং ছুটলেন হাতিরঝিলের উদ্দেশ্যে—রাতের রাস্তায় তাদের দেখা ও বরণ করতে মানুষ দুই পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দেশবাসীর হাতে তোরণ, জাতীয় পতাকা আর মুখে বিজয় স্লোগান নিয়ে রাস্তায় শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন; তারা দলকে অভিনন্দন জানাতে না থামায় ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ দৃশ্যত চোখে পড়ার মতো ছিল।

    বাসের ওপর থেকে ফুটবলাররাও হাত নাড়ে তাদের ভালোবাসার জবাব দিয়েছিলেন। পুরো হাতিরঝিল এলাকা আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে এবং রোনানদের পোস্টারগুলো সেখানে টানে মন কেড়ে নেয়। পুরুষ দলের ক্ষেত্রে এটি প্রথমবারের মতো ছাদখোলা বাসে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা—এর আগে দেশের নারী দল তিনবার এমন অভ্যর্থনা পেয়েছিল।

    বাফুফে সেখানে একটি জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে অ্যাম্ফিথিয়েটারে, যেখানে আরও আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও অভিনন্দন জানানো হবে। দেশের তরুণরা যে সাহস, নৈপুণ্য ও একগুলিয়াসূত্র দেখিয়েছে, সেগুলোকে উদযাপন করেই ছিল পুরো অনুষ্ঠানমালা।

  • বোর্ড সভা শেষে আরও একজন পরিচালক পদত্যাগ

    বোর্ড সভা শেষে আরও একজন পরিচালক পদত্যাগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আবারও একজন পরিচালকের পদত্যাগের খবর এসেছে। গত শনিবার অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার পর ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধান ফাইয়াজুর রহমান নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    ফাইয়াজুর রহমান শুধু ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, তিনি ঢাকা সিসিডিএমে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছিলেন। পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। অন্য কোনো কারণ নেই।’

    ফাইয়াজুরকে গত বছরের অক্টোবরে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তার পদত্যাগের ফলে বর্তমানে চলমান বোর্ডে মোট চারজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন।

    এর আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল, গত মাসের শেষের দিকে আমজাদ হোসেন এবং তার আগেই ইশতিয়াক সাদেক বিসিবির পরিচালক পদ থেকে সরে গেছেন। তাঁরা সবাই পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করেছেন।

    তবে এখনও পর্যন্ত বিসিবি কোনো পরিচালকের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে বা নয়—এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি। অফিসিয়ালি কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বোর্ডের ঘোষণা অপেক্ষায় ক্রিকেট মহল।

  • চীনের কাছে ২-০ হেরে টানা দ্বিতীয় পরাজয় বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-২০

    চীনের কাছে ২-০ হেরে টানা দ্বিতীয় পরাজয় বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-২০

    শুরুটা ছিল প্রতিরোধে তীব্র, শেষটা দেশের নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলের কাছে হতাশাজনক। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইপর্বে চীনের কাছে শনিবার ২-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পরাজিত হলো পিটার বাটলার পরিচালিত বাংলাদেশ নারী দল। কিছু দিন আগে এশিয়ান কাপের মূল পর্বেও চীনের কাছে দুই গোলের ব্যবধানে পরাজয় হয়েছিল তাদের।

    প্রথমার্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ছিল প্রশংসনীয়। চীন আক্রমণে চাপ রাখলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ২৫ মিনিটে চীনের এক ফ্রি কিকে মিলির হাতে লেগে বল ক্রসবারে ঠেকেছে। ৪৩ মিনিটে লি জুয়ায়ু বক্সে ঢুকে কিপারের সামনে শট নিলেও মিলি দারুণ রিফ্লেক্সে সেই শট রুখে দেন। আর একটি ক্রস থেকে আধটু উপরে হেডও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল, তবে শেষমুহূর্তে গোলফ্রন্টে বাংলাদেশের প্রতিরোধ কার্যকর ছিল।

    বিরতির পর মাত্র দুই মিনিটেই চীনের আক্রমণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৭ মিনিটে জেং ইউজিয়ার কাটব্যাক থেকে ইউ জিনজু সাত থেকে আট গজের মধ্যে থেকে প্লেসিং শটে গোল করে পরিস্থিতি বদলে দেন। ৭১ মিনিটে চীনের অধিনায়কের হেডও মিলির হাতে উঠে আসে, তবে ৮২ মিনিটে ওয়াং এইফাং বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে জাল ধরিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

    শেষ রক্ষা না হওয়া সত্ত্বেও মিলির কয়েকটি সেভ না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশ কিছু আক্রমণ তৈরি করলেও সমতা ফেরাতে ব্যর্থ রইল। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ হবে ৭ এপ্রিল, যেখানে তারা ভিয়েতনামের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচে ভালো ফল না হলে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার রাস্তা আরও কঠিন হয়ে যাবে।