Category: খেলাধুলা

  • ভিয়েতনামের কাছে হারিয়ে স্বপ্ন ভেঙে গেল বাংলাদেশের

    ভিয়েতনামের কাছে হারিয়ে স্বপ্ন ভেঙে গেল বাংলাদেশের

    থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এএফসি উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম ছিল একটি শক্তিশালী দল। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের লড়াই জমে উঠেছিল। প্রতিযোগিতার তিনটি গ্রুপে চারটি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম জন্য জন্য এই ম্যাচ ছিল অনেক কিছু। গ্রুপের অন্য দুই দল চীন ও থাইল্যান্ড ইতিমধ্যে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে ফেলেছে, তাই এই ম্যাচের ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের জন্য। তবে বাংলাদেশের আশা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তারা পারলো না। গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে শেষ করে জাতিকে হতাশ করে তারা। কারণ ভিয়েতনাম জিতল—a victory that kept their hopes alive and eliminated Bangladesh from the tournament।

    ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ কিছু দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছিল। ১৩ মিনিটে সাগরিকা সতীর্থের থ্রু পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলকিপারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু শটটি ঠিকমত হয়নি। ২৬ মিনিটে আবারও উজ্জ্বল আক্রমণে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ, তবে অফসাইডে পড়ে গেলেন সাগরিকা, বলে চলে যায় গোলরক্ষকের কাছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম শেষের দিকে আক্রমণ বাড়াতে থাকলে বাংলাদেশ রক্ষণদলে চাপ পড়ে। ২৯ মিনিটে এনগান থি থানের শট ক্রসবারের উপরে দিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর, ৩৩ মিনিটে ভিয়েতনামের চাপ সামলেও, বাংলাদেশের মিলি আক্তার দুর্দান্ত রক্ষার মাধ্যমে গোলের সম্ভাবনাকে রক্ষা করেন।

    দ্বিতীয়ার্ধে ভিয়েতনাম এগিয়ে যায়। ৫৩ মিনিটে থি থুই লিনহের দক্ষ হেডে ভুলে যায় বাংলাদেশের রক্ষা। এরপর ৮৬ মিনিটে, সতীর্থের আড়াআড়ি ক্রসে, থি থুই লিনের হেডটি পোস্টের বাইরে গেলে ব্যবধান দ্বিগুণ হওয়া থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। এর আগেও, এই টুর্নামেন্টের অন্যান্য ম্যাচের মতো, বাংলাদেশের চোখে স্বপ্ন দেখতে দেখা শেষ হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো উইমেন’স এশিয়ান কাপের মতো আয়োজনের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে, তিন ম্যাচে সবখানে হারে তারা। গ্রুপ পর্ব থেকে এবারও বিদায় নিতে হয় তাদের। এই হারে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারের স্বপ্নভঙ্গ হয়, তবে এই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ করবে।

  • আইসিসির নীরবতা ও তামিমের আস্থা: ভারত বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কের নতুন দিশা

    আইসিসির নীরবতা ও তামিমের আস্থা: ভারত বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কের নতুন দিশা

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা ও প্রত্যাশার জন্ম দিচ্ছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে গঠিত ১১ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বোর্ডের কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, তামিমের নেতৃত্বে বোর্ড ভারত সফরে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বছরের শেষের দিকেই ভারতীয় দলকে বাংলাদেশে আক্রোশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের পুনরুদ্ধার ও সৌহার্দ্য ফেরানোর একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি সাম্প্রতিক দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা অসন্তোষ কাটিয়ে আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এক নতুন প্রত্যয়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের ক্রিকেটের মধ্যে অবনতি ঘটে যাওয়ার পর, যখন বাংলাদেশ নিরাপত্তার বিষয় তুলে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়। বিশেষ করে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজনে অস্থিরতা দেখা দেয়, যেখানে আইসিসি বাংলাদেশে না এসে স্থানীয় বোর্ডের অনুরোধে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ঘটনায় দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

    নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এই আংশিক বোর্ড আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দায়ভার গ্রহণ করেছে। এটি বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার করার অংশ, যেখানে সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আইসিসির কাছে হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি লিখলেও, আইসিসি সূত্রগুলো বলছে, তার আবেদন খুবই গুরুত্ব পাবে না, কারণ তার অবস্থানে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে।

    প্রায় একই সময়ে, সেদিন বুলবুল আইসিসিকে বলেছিলেন, সরকারি নির্দেশনায় দল ভারতে যেতে পারেননি। এখন তিনি আবার একই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইসিসির সুরক্ষা পেতে চান। আইসিসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক। এই সেই বোর্ড সভাপতি যিনি আগে আইসিসির চুক্তি সত্ত্বেও সরকারী হস্তক্ষেপের ভয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি, এখন আবার সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টিতে আইসিসির সহায়তা চাইছেন।’

    এখন দ্রুত পদক্ষেপ ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট আবারও নিজেকে নতুন উচ্চতায় দেখতে পাবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হবে, যা দুই দেশের সকল ক্রিকেটপ্রেমীর জন্যই সুখবর।

  • দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব জাতি গঠনে অতুলনীয়। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত পরবর্তী প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় আলোকিত করে গড়ে তুলা। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাই একজন সন্তানকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এ কারণে তিনি অভিভাবকদের বলেন, যেন তারা নিজ সন্তানের জন্য এই শিক্ষাকার্যক্রমে ভর্তি হতে উৎসাহিত হন এবং এর গুরুত্ব বুঝে সচেতনতায় এগিয়ে আসেন।

    প্রশাসক বুধবার সকালে নগরীর খালিশপুরে কেসিসি পরিচালিত দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা প্রদান করেন। তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সেইসঙ্গে সকলের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে শিক্ষকদের আরো বেশি আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

    তাঁর ভাষ্য, এই মাদ্রাসায় বর্তমানে ১ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছে। চলতি বছর ৫ম শ্রেণিতে নয়জন এবং ৮ম শ্রেণিতে দু’জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে। অনুষ্ঠানে তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন।

    উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুন্নাহার বেগম, বিশেষ অতিথিরা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেক ও মাস্টার শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল আলম এবং সমাজসেবক মোঃ জাহিদুর রহমান রিপন। এ ছাড়াও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বড় מספרে উপস্থিত ছিলেন।

  • তামিমের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ দাবি করে বিসিবির আগের সভাপতি বুলবুলের হস্তক্ষেপ চান

    তামিমের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ দাবি করে বিসিবির আগের সভাপতি বুলবুলের হস্তক্ষেপ চান

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে গোপন তদন্ত কমিটি বিরূপ মত গ্রহণ করেছে, যা অনিয়ম ও দুর্বলতার ভিত্তিতে গঠিত। এই কমিটি, যা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) দ্বারা গঠিত, অভ্যন্তরীণ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা ও কারসাজির দিকগুলো উন্মোচন করেছে। এর ফলে বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, তার অধীন পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে দিয়ে নতুন ১১ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই নতুন কমিটি অবৈধ এবং তার অধীন বোর্ডের কার্যক্রম অর্থহীন।

    বুলবুল আরও অভিযোগ করেছেন, সরকারের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আইসিসির কাছ থেকে এ হস্তক্ষেপের বিষয়ে নীরবতা প্রকাশ করে, জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তির ক্ষতি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিসিবির স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই নির্বাচন ও তদন্তের কোনও গ্রহণযোগ্যতা বা আইনগত ভিত্তি নেই। বাবদে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের প্রবণতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে তিনি সরব হয়েছেন।

    বুলবুল বলেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি সংবিধানের পরিপন্থী এবং আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘন করে গঠিত হয়েছে, যা তিনি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে দেখছেন। এই কমিটিকে তিনি ‘ভুয়া সংস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি বোর্ডের স্বাধিকার ও আইনি বৈধতা লংঘন করেছে।

    তিনি আবারো নিশ্চিত করেছেন, বিসিবি বা আইসিসি এই কমিটিকে স্বীকৃতি দেবে না এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুর্বল ছবি ফলপ্রসূ হচ্ছে। তার মতে, সরকারের হস্তক্ষেপ তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে। তিনি তড়িৎ হস্তক্ষেপের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে এই অবৈধ কমিটিকে বাতিল করার দাবি করেন। সবশেষে, বুলবুল উল্লেখ করেছেন, যতক্ষণ না হাইকোর্ট অন্য কোন সিদ্ধান্ত দেয়, ততক্ষণ তিনি বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে থাকবেন।

  • খালিশপুরে দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ

    খালিশপুরে দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার দুপুরে খালিশপুরে কেসিসি পরিচালিত দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন মুসলিম হিসেবে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলা প্রয়োজন, কারণ ধর্মীয় শিক্ষাই তাদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

    মাদ্রাসাটিকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে—এমনটাই তার আহ্বান। তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষাদানে আরও আন্তরিক হলে প্রতিষ্ঠানটি সমাজে আরও বেশি আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করবে।

    মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। চলতি বছরে পঞ্চম শ্রেণির ৯জন এবং অষ্টম শ্রেণির ২জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্ট পুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে, যাদের মধ্যে কৃতি শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।

    প্রশাসক নিজে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নাজমুন্নাহার বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেক, মাস্টার শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল আলম এবং সমাজসেবক মোঃ জাহিদুর রহমান রিপন। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • বুলবুলের অভিযোগ: তামিমের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি ‘অবৈধ’, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    বুলবুলের অভিযোগ: তামিমের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি ‘অবৈধ’, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্বলতা দেখায়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে এনএসসি সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে আছেন তামিম ইকবাল। তবে বুলবুল ওই এডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি)-র হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

    বুলবুল একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, সরকারিভাবে হস্তক্ষেপ করে তার পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিনি চান আইসিসি যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে ও ওই কমিটিকে কাজ করতে না দেয়। তিনি জানাচ্ছেন, তামিম যখন দায়িত্ব নেন, তখনই তিনি এনএসসিতে জমা হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    তদন্তে অংশ নেয়া পাঁচ সদস্যের কমিটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া নির্বাচনে একগাদা নিয়মবিরতি, কারচুপির চেষ্টা ও বিভিন্ন দুর্বলতা পেয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে। কিন্তু বুলবুল তার বক্তব্যে বলছেন, ওই নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠভাবে হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি ও আইনগতভাবে অব্যাহতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    বুলবুলের মতে, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনে কাজ করেছে। গত নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ছিলেন — সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। তিনি দাবি করেন, তামিম ও ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোই তখন আধা-বিচারিক পদ্ধতিতে সমাধান করা হয়েছিল।

    বুলবুল আরও বলেন, কিছু সাবেক ক্রিকেটার বোর্ডকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই ‘নির্বাচন ফিক্সিং’ ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এনএসসির হাতে এমন ধরনের তদন্ত করার বা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান—বিসিবি—ভেঙে দেওয়ার আইনি এবং নির্দেশিকার এখতিয়ার আছে কি না।

    বুলবুল আইসিসির নিয়মাক্রমের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—আইসিসি কোনো জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ সহ্য করে না। তাই তিনি এই ঘটনার উপরকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, এনএসসির পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাবলিক ইমেজ ক্ষুণ্ণ করছে।

    এনএসসি বুলবুলের বোর্ড ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠনের খবর আইসিসিকে ইমেইল করে জানানো হলেও, বুলবুল তা ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এডহক কমিটিকে বিসিবির সংবিধানের পরিপন্থী ও সরকারি হস্তক্ষেপজনিত বলে অভিহিত করে ‘ভুয়া সংস্থা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

    বুলবুল আইসিসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং মুলতুবি না দিয়ে এডহক কমিটিকে স্বীকৃতি না দেয়। এ পরিস্থিতিতে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন। সমাপ্তিতে বুলবুল আবারও বলেন, হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হবেন।

  • তামিমের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ দাবি বুলবুলের, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    তামিমের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ দাবি বুলবুলের, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট স্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শেষ নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্বলতা দেখেছে—তার পরিপ্রেক্ষিতে এনএসসি অভিভাবক হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে। তবে সেই কমিটিকে অবৈধ দাবি করেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি বুলবুল, এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)কে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে দিয়েছেন যাতে নতুন এডহক কমিটি কার্যক্রম শুরু করতে না পারে।

    বুলবুল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে, যা বিসিবির সংবিধান এবং আইসিসির নিয়মের পরিপন্থী। তিনি বলেন, এনএসসিতে ৫ এপ্রিল জমা হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনটি পূরণকর্তৃত্বহীন এবং অনভিপ্রেত; তাই তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খণ্ডন করেছেন।

    তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘অনিয়ম ও কারসাজি’সহ বহু দূর্বলতা পেয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে—তবে বুলবুল সে সব অভিযোগ নাকচ করে দাবি করেছেন, নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠভাবে হয়েছে। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন; প্রতিবেদনের উপসংহারকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।

    বুলবুলের তর্ক, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনে কাজ করেছে। সেই কমিশনে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। বুলবুল দাবি করেছেন, তামিম ও জড়িতদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল—ক্লাব কাউন্সিলরপদ সংক্রান্ত ১৫টি বিষয়—তেগুলোও আংশিক বিচারিক শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তার নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার সাবলীলতা এনএসসির নেই। আইসিসির নিয়ম অনুসারে কোনো ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকা বারণ—এটি তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে যে তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে অভিহিত করেছেন।

    এনএসসি যখন বুলবুলের বোর্ড ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করে, সে তথ্য তারা আইসিসিকে ইমেইলে পাঠিয়ে নিশ্চিত করেছে বলেও জানানো হয়। 이에 বুলবুল ওই এডহক কমিটিকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ ও ‘ভুয়া সংস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, এটি বিসিবির সংবিধান ভঙ্গ করার পাশাপাশি আইসিসির সরকারি হস্তক্ষেপ সম্পর্কিত নিয়মও লঙ্ঘন করছে।

    বুলবুল আইসিসিকে অনুরোধ করেছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং নতুন এডহক কমিটিকে কাজ করতে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, এনএসসির এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

    শেষে বুলবুল পুনরায় দাবি করেছেন—এডহক কমিটি ও তদন্ত প্রতিবেদন দুটোই অবৈধ, এবং হাইকোর্ট কোনো ভিন্ন রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি বলেই থাকবেন। তিনি চেয়েছেন দ্রুত আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিক।

  • মাঠ থেকে নেতৃত্বে: বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফেরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    মাঠ থেকে নেতৃত্বে: বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফেরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়েছিলেন তামিম ইকবাল। সেই সময় সংবাদমাধ্যম ও ভক্তরাও তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা সেই সংবাদই সকলের জন্য স্বস্তির ছিল।

    এক বছর পর আবার এপ্রিল। কিন্তু এখন মাঠ নয়, প্রশাসনের শীর্ষদলেই দেখা গেল তাঁকে—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের পর বোর্ডের সর্বোচ্চ পদে আসা এই দিনটি হয়তো তাঁর জন্য আরও বিশেষ হয়ে থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতায় নয়—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ঘোষণার পর—মঙ্গলবার বিকেলের পরই দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দায়িত্ব নেওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি কার্যালয়ে হাজির হয়ে পরিচিতি-বৈঠক ও অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রথম বোর্ড সভা করেন তিনি। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম তাঁর অগ্রাধিকার ঘোষণা করেন: ‘‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্থ ভাবমূর্তিটা ফেরাতে হবে, সেটাই আমাদের প্রথম কাজ।’’

    তামিম বলেন, গত এক-দেড় বছরে ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে যে নষ্ট হওয়া অংশ দেখা গেছে, তা ঠিক করা তাদের সবচেয়ে জরুরি কাজ। সেটা শুধুমাত্র কথায় নয়—কাজ করে প্রমাণ করতে হবে। ‘‘আমরা সবাই মিলে উপলব্ধি করছি যে প্রথমেই আমাদের এটি মোকাবিলা করতে হবে।’’

    অ্যাডহক কমিটির ১১ সদস্যের মূল বাধ্যবাধকতা তিন মাসের মধ্যে বোর্ডের সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করা। তামিম জানান, তারা সেই দায়িত্ব নেবে সততা ও দ্রুততায়—একই সঙ্গে দৈনন্দিন কার্যক্রমও মসৃণভাবে চালিয়ে নেবে। তিনি বলেন, ‘‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন আয়োজন করা আমাদের দেওয়া দায়িত্ব; আমরা যতটা সততা ও যতটা দ্রুততা করা সম্ভব, সেটাই করব। পাশাপাশি যে সকল কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে করা হয়েছে—বিশ্বকাপ ইস্যু সহ সবকিছু—তার সঠিক সমাধান করাও আমাদের কাজ।’’

    নতুন বোর্ড প্রধান হিসেবে তামিম বারবার জোর দেন যে ক্রিকেটকে আবার গর্বের জায়গায় নিয়ে আসাই তাদের চিরকাজ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘বিগত সময়গুলিতে যে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, সেটি শোধরাতে আমাদের সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। সমালোচনা থাকবে, ভুলও হবে—কিন্তু আমরা ভুল থেকে শিখব এবং তাদের শুধরে উন্নতি করব।’’

    তিনি আরও বলেন, বিসিবিতে যারা কাজ করেছেন, তারা বাইরে গিয়েও গর্ব করে বলতেন ‘‘আমি বিসিবিতে কাজ করি’’—এটা আবার ফিরিয়ে আনাই হবে তাদের লক্ষ্য। ক্রিকেটারদের সম্মান নিশ্চিত করা এবং সব স্টেকহোল্ডারকে সম্মান দেখানোও তাঁদের অগ্রাধিক্য।

    সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানান, অ্যাডহক কমিটির সদস‍্য তানজিল চৌধুরীকে বোর্ডের মুখপাত্র মনোনীত করা হয়েছে; তিনি ভবিষ্যতে বিসিবির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেবেন।

    সাবেক অধিনায়ক ও সফল ওপেনার হিসেবে তামিম বার্তা দিয়েছেন—কথার বাইরে থেকে কাজ করে পরিবর্তন আনবেন তারা। ‘‘আমরা বদল আনব; কথার জন্য বলছি না, কাজ করব। ভুল হবে তো হবে—কিন্তু আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার চেষ্টা করব।’’

    নতুন দায়িত্বে তামিমের এই ঘোষণাগুলোকে মাঠ ও প্রশাসনের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হিসেবে দেখছেন অনেকে। এখন প্রত্যাশা থাকবে—দাবি মোতাবেক দ্রুত বাস্তবায়ন ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গিয়ে কতটা খেলাধুলার স্বচ্ছতা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারে।

  • তামিম নেতৃত্বের এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ বললেন বুলবুল, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    তামিম নেতৃত্বের এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ বললেন বুলবুল, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এনএসসির গঠিত ১১ সদস্যের এডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি) থেকে হস্তক্ষেপ চাইেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন কমিটি করা হয়েছে এবং সেটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বায়ত্তশাস্যের বিরুদ্ধে।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠন করা স্বাধীন তদন্ত কমিটি শেষ বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ও দূর্বলতা খুঁজে পেয়েছে—এই প্রতিবেদনের পর এনএসসি আমিনুল বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি ঘোষণা করে। যদিও বুলবুল সেই তদন্ত প্রতিবেদন ও এডহক কমিটি দুটিই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    বুলবুল জানান, তামিম যখন বিসিবির দায়িত্ব নেন, রাতেই ৫ এপ্রিল এনএসসিতে তদন্তপ্রতিবেদনের কাগজ জমা হয়—তৎক্ষণাৎ তিনি প্রতিবেদনকে খামখেয়ালি ও আইনগতভাবে অগোছাল দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালিপূর্ণ ও আইনগত ভিত্তিহীন।

    সাবেক এই অধিনায়কের দাবিতে, গত নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী কাজ করেছে। ওই নির্বাচন কমিশনে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। বুলবুল বলেন, ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলর পদের বিষয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেটি আধা-বিচারিক শুনানির মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন তদন্ত করার অধিকার এনএসসির নেই। আইসিসির নিয়ম অনুসারে কোনো ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়—এই বিষয়টিও তিনি উঠে ধরেছেন এবং বলেন, এনএসসির হস্তক্ষেপ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    বুলবুল এনএসসির এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলেও আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেন, এনএসসি নিজেদের গঠন করা এডহক কমিটি সম্পর্কে আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে। তিনি আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং ওই এডহক কমিটিকে কার্যক্রম চালাতে না দেয়।

    তাঁর সতর্কতায়, সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং দেশের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসন ঝুঁকিতে আছে। শেষ পর্যন্ত বুলবুল দাবি করেছেন, উচ্চ আদালত অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে থাকবেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এডহক কমিটির স্বীকৃতি তিনি দেবেন না।

  • মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    ২০২৫ সালের Abril-এ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তখন পুরো দেশের মানুষ তার স্বাস্থ্যের খোঁজে উদ্বিগ্ন ছিলেন; ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার খবর সবাইকে স্বস্তি দিয়েছিল।

    ঠিক এক বছর পর আবার এপ্রিল মাসে তিনি ফিরলেন—but এবার ক্রিকেটার হিসেবে না, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে। জাতীয় দলের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে বোর্ডের সর্বোচ্চ দায়িত্ব নেওয়া এই দিনটি তামিমের জীবনের জন্যও বিশেষ হয়ে থাকল।

    প্রতিষ্ঠানের চেয়ার হিসেবে প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা তাদের প্রথম কাজ। সেই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা তাদের অনিবার্য কর্তব্য। কথার চেয়ে কাজ করে_result দেখাতে চাই—এটাই তার বার্তা।

    নিয়োজনের পর বিকেল ৪টার পর দায়িত্ব নেওয়ার দু’ঘন্টার মধ্যে বিসিবিতে উপস্থিত হওয়া তামিম বোর্ডের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করে ছোটখাটো বৈঠক করেন এবং অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রথম বোর্ডসভা করেন। দায়িত্ব নেওয়া মুহূর্তটিকে তিনি বিশেষ দিনের সঙ্গে তুলনা করেছেন; যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে অভিষেকের মতো একটা দিনই হয়।

    তামিম বলেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে ও আমাদের টিম মিলেই আমরা উপলব্ধি করেছি—প্রথম কাজ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ঠিক করা। গত এক-দেড় বছরে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠাই আমাদের অগ্রাধিকার।’’

    তিনি জানান, কমিশনকে দেওয়া দায়িত্বটি তারা সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে শেষ করবেন। ‘‘আমাদের ওপর তিন মাসের মধ্যে ফ্রি‌ এন্ড ফেয়ার ইলেকশন আয়োজনের দায়িত্ব এসেছে; আমরা যত দ্রুত ও দক্ষভাবে পারি, তা করবো। একই সঙ্গে প্রতিদিনের কাজের ধারা মসৃণ রাখা এবং বিশ্বকাপ সংক্রান্ত বা অন্যান্য খুলে থাকা ইস্যুসমূহ সমাধান করাও আমাদের দায়িত্ব হবে।’’

    নতুন বোর্ড প্রধান হিসেবে তামিম বারবার জোর দিয়ে বলেন, বিসিবি ও দেশের ক্রিকেট ফের গৌরবের জায়গায় ফেরাতে হবে। যারা বিসিবিতে কর্মরত ছিলেন বা আছেন, তারা যেন গর্ব করে বলেন ‘‘আমি বিসিবিতে কাজ করি’’—সেই গর্ব পুনরুদ্ধার করাই লক্ষ্য। ক্রিকেটার ও সব স্টেকহোল্ডারকে সম্মান জানানোও তার তালিকায় প্রথম সারির কাজ।

    তিনি স্বীকার করেছেন, ভুল হবে, সেটা নিয়েই শেখা দরকার। ‘‘আমরা কাজ দিয়েই প্রমাণ করব—শুধু কথায় নয়। দলের মধ্যে ভুল হলে সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়ে উন্নতি করবো’’—কমিটির মানসিকতা এভাবেই থাকবে বলে জানালেন।

    শেষে তামিম জানান, অ্যাডহক কমিটির সদস্য তানজিল চৌধুরি-কে বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে; তিনি বিসিবির নানান সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেবেন।