তামিমের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ দাবি বুলবুলের, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট স্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শেষ নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্বলতা দেখেছে—তার পরিপ্রেক্ষিতে এনএসসি অভিভাবক হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে। তবে সেই কমিটিকে অবৈধ দাবি করেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি বুলবুল, এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)কে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে দিয়েছেন যাতে নতুন এডহক কমিটি কার্যক্রম শুরু করতে না পারে।

বুলবুল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে, যা বিসিবির সংবিধান এবং আইসিসির নিয়মের পরিপন্থী। তিনি বলেন, এনএসসিতে ৫ এপ্রিল জমা হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনটি পূরণকর্তৃত্বহীন এবং অনভিপ্রেত; তাই তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খণ্ডন করেছেন।

তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘অনিয়ম ও কারসাজি’সহ বহু দূর্বলতা পেয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে—তবে বুলবুল সে সব অভিযোগ নাকচ করে দাবি করেছেন, নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠভাবে হয়েছে। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন; প্রতিবেদনের উপসংহারকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।

বুলবুলের তর্ক, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনে কাজ করেছে। সেই কমিশনে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। বুলবুল দাবি করেছেন, তামিম ও জড়িতদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল—ক্লাব কাউন্সিলরপদ সংক্রান্ত ১৫টি বিষয়—তেগুলোও আংশিক বিচারিক শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তার নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার সাবলীলতা এনএসসির নেই। আইসিসির নিয়ম অনুসারে কোনো ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকা বারণ—এটি তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে যে তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে অভিহিত করেছেন।

এনএসসি যখন বুলবুলের বোর্ড ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করে, সে তথ্য তারা আইসিসিকে ইমেইলে পাঠিয়ে নিশ্চিত করেছে বলেও জানানো হয়। 이에 বুলবুল ওই এডহক কমিটিকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ ও ‘ভুয়া সংস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, এটি বিসিবির সংবিধান ভঙ্গ করার পাশাপাশি আইসিসির সরকারি হস্তক্ষেপ সম্পর্কিত নিয়মও লঙ্ঘন করছে।

বুলবুল আইসিসিকে অনুরোধ করেছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং নতুন এডহক কমিটিকে কাজ করতে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, এনএসসির এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

শেষে বুলবুল পুনরায় দাবি করেছেন—এডহক কমিটি ও তদন্ত প্রতিবেদন দুটোই অবৈধ, এবং হাইকোর্ট কোনো ভিন্ন রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি বলেই থাকবেন। তিনি চেয়েছেন দ্রুত আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিক।