Category: খেলাধুলা

  • জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার চালু করলেন হজ্জ এজেন্সি ‘ফ্লাই রিহলার’

    জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার চালু করলেন হজ্জ এজেন্সি ‘ফ্লাই রিহলার’

    জাতীয় দলের দুই ফাস্ট বোলার তানজিম হাসান সাকিব ও মোঃ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বৃহৎ পরিসরে হজ্জ এজেন্সি ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের আরএন রোডে ‘ফ্লাই রিহলার’ নামে এজেন্সির প্রধান কার্যালয় উদযাপন ও উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এই দুই ক্রিকেটারের পাশাপাশি আরও একজন ফাস্ট বোলার এবাদাত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধনী ককটেলে কার্যালয়টি দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন যশোরের দারুল আরকাম মাদ্রাসার মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস মাওলানা আব্দুল মান্নান কাসেমী।

    তানজিম হাসান সাকিব বলেন, হজ্জ ও ওমরা শুধু একটা ভ্রমণ নয়; মানুষের হৃদয়ে থাকা একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা। আল্লাহর ঘরে যাওয়ার স্বপ্ন যেন প্রতিটি মুসলিমের জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে আমার সামনে অনেক ব্যবসার অপশন ছিল, তবুও এই সেবামূলক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা শুধু বাণিজ্য নয়—এটি দাওয়াত এবং মানুষের স্বপ্ন পূরণের একটি দায়িত্ব। আমাদের মাধ্যমে কোনো মানুষের আল্লাহর ঘরে পৌঁছে দেওয়াটা সবচেয়ে বড় সাফল্য।

    অন্য ফাস্ট বোলার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বলেন, অনেক হজ্জ এজেন্সির অনিয়ম, প্রতারণা, বাড়িভাড়া ও ভিসা জটিলতার কারণে প্রতিবছর হাজিরা হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগভোগ করেন। এ কারণেই ‘ফ্লাই রিহলার’ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে হজ্জগমন প্রার্থীদের মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য সেবা দেয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে ঢাকা, যশোর ও ঝিনাইদহে শাখা রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সিলেটসহ দেশের সব জেলায় তাদের কার্যক্রম প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল মুদাররেসীন-এর সহ-সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম, যশোর মহিলা আলিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মতিন, ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার ম্যানেজার জামিনুর রহমান, আল-ফিকহ ও আকীদা বিভাগের একাধিক লেকচারার, আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর খালিদ আবদুল্লাহ মাদানি প্রমুখ।

    স্থানীয় সমাজ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা আয়োজনকে প্রশংসা করেছেন এবং ক্রিকেটারদের এই সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

  • বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে বিসিবির উদ্যোগ

    বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে বিসিবির উদ্যোগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এডহক কমিটি এখন বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লার স্টেডিয়ামগুলোকে আবার আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে সেখানে বিদেশি ও জাতীয় দলগুলোর খেলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে একচেটিয়া হয়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভেন্যু বিস্তৃত করতে চাইছে।

    ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব মাঠে সর্বশেষ কখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল, সেটা উল্লেখযোগ্য। বগুড়ায় ছেলেদের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে; এর পর সেখানে নারী ক্রিকেটের এক ম্যাচ ছাড়া আন্তর্জাতিক খেলা হয়নি। খুলনায় ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর ফতুল্লার মাঠে শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে ২০১৪ সালে, বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ওয়ানডেতে।

    বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিতুল ইসলাম বাবু শুক্রবার জানিয়েছেন, এসব মাঠ সংস্কার করে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, “এই মাঠগুলো একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন খেলা না হওয়ায় স্বীকৃতি হারিয়েছে। এখন আমাদের অনেক মাঠের প্রয়োজন। তাই এগুলোকে আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য কাজ করব।”

    কমিটি শুধু অস্থায়ী সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাঠগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে ফেরাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সঠিক উইকেট প্রস্তুতি, বৈদেশিক দলের প্রয়োজনীয় সুবিধা ও দর্শকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দলের ও বিদেশি দলের খেলার ভেন্যু বাড়ার পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেটে উৎসাহ ফিরবে, দর্শক সুবিধা বাড়বে এবং মাঠ সংলগ্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রমও সজীব হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

    বিসিবির এডহক কমিটি এখন মাঠগুলো মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা বানাচ্ছে। কবে করে কোন স্টেডিয়ামে কাজ শুরু হবে বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন হবে— তা সংস্থাটি পরবর্তী ঘোষণা করবে।

  • ডিপিএল শুরু হতে পারে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে

    ডিপিএল শুরু হতে পারে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে

    ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) শুরু নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আপাতত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে টুর্নামেন্ট মাঠে আনার পরিকল্পনা করছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি ক্লাব সংগঠকদের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে সম্মতি পেয়েছেন। বিসিবি চান আগামী ২২-২৫ এপ্রিলের মধ্যে লিগ শুরু করতে; কিন্তু ক্লাবগুলো নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষ হওয়ার পরে, অর্থাৎ ৫ মে থেকে শুরু করতে অনুরোধ করেছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে ১৩ এপ্রিল (সোমবার)।

    পটভূমি জানতে গেলে বলা চলে, বিসিবির পুরনো পরিচালনা পরিষদ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অধীনে ঢাকার ক্লাব সংগঠকরা নির্বাচনের সময় থেকে বিসিবির সব কর্মসূচি বয়কট করেছিলেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) অভিযোগ ওঠার পর বুলবুলের বোর্ড ভেঙে দেয় এবং তাত্ক্ষণিকভাবে তিন মাসের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন তামিমের এডহক কমিটিকে। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ডিপিএল নিয়ে ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি প্রধান।

    বৈঠকে ঢাকার ১০ ক্লাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন; তবে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের কেউ ছিলেন না। উপস্থিত ক্লাবগুলো মূলত লিগ শুরুর সময় নিয়ে দুই ধারণার মধ্যে বিভক্ত ছিলেন—বিসিবির প্রস্তাবিত ২২-২৫ এপ্রিল বনাম ক্লাবদের চান্স ৫ মে। ক্লাবদের যুক্তি, নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালীন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা লিগে পারবেন না, তাই সিরিজ শেষ হওয়ার পরই টুর্নামেন্ট শুরু হলে সেরা প্লেয়াররা পাওয়া সহজ হবে। নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের পরিকল্পনায় রয়েছে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, যা শেষ হবে ২ মে।

    সময় সংকট বিবেচনায় এবারের ডিপিএল দুই লেগের পরিবর্তে সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সুপার লিগ আলাদা রাখার সময় নেই বলে প্রতিটি ক্লাব গ্রুপ পর্বে একে অপরের বিরুদ্ধে একবার করে খেলবে। মোট ১১ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। বিসিবির বিপর্যয়ের সুবাদে মরসুমের অনেক সময় নষ্ট হওয়ায় এমন পরিবর্তনকে ক্লাবগুলো ইতিবাচক হিসাবে দেখছে।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া হান্নান সরকার বলেন, বড় একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে; আমরা ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সাধারণত ডিপিএলে সুপার লিগের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন ঠিক করা হয়—এবার সেটি থাকছে না। ১১টি লিগ ম্যাচের মাধ্যমে এবারের শিরোপা নির্ধারণ হবে এবং এই সিদ্ধান্তে বেশিরভাগ ক্লাব একমত হয়েছে, বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে মৌসুম অনিশ্চিত থাকায়।

    ভেন্যু সংখ্যাও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ক্লাব সংগঠকরা। কয়েক বছর ধরে মূলত বিকেএসপি ও মিরপুরে ডিপিএল হয়েছে; এবার ছয়টি ভেন্যু রাখা হতে পারে। প্রস্তাবিত ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে বিকেএসপি, বসুন্ধরা গ্রাউন্ড, ক্রিকেটার্স একাডেমি ও সিলিকন ভ্যালি—তবে চূড়ান্ত তালিকা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ধানমন্ডি ক্লাবের প্রতিনিধি এ আর মল্লিক রনি বলেন, ‘‘আমরা চাই একসাথে ছয়টি মাঠে ম্যাচ হলে সমন্বয় করা সহজ হবে এবং রিজার্ভ-ডে রেখে পরিকল্পনা মেলানো যাবে।’’

    আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এপ্রিল-মে তরো তাপমাত্রা বেশি থাকে, তাই মাঠগুলোর পাশে আইসিইউ সাপোর্টসহ এম্বুলেন্স রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিমের কমিটি। এছাড়া রিজার্ভ-ডে রাখার বিষয়টি বৃষ্টির সম্ভাব্যতায় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

    অবশেষে এবারে ডিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটাররা খেলবেন না—গত কয়েক মৌসুমে ডলার সংকট এবং ক্লাবের অনুরোধের কারণে বিদেশিদের দেয়া হয়নি এবং এবারও সেই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

    সংক্ষেপে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মাঠে ফিরতে যাচ্ছে—শুরু হবে সম্ভবত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বা মে শুরুতে, চূড়ান্ত ঘোষণা ১৩ এপ্রিল দেয়ার সম্ভাবনা রয়েই গেছে। ক্লাব ও বিসিবি দুই পক্ষই এখন দ্রুত সময়সূচি চূড়ান্ত করে দ্রুত টুর্নামেন্ট আয়োজন নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছে।

  • ডব্লিউটিসিতে বাড়ছে দল, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্ত হতে পারে এক-ম্যাচ টেস্ট

    ডব্লিউটিসিতে বাড়ছে দল, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্ত হতে পারে এক-ম্যাচ টেস্ট

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) প্রসার ও কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপুর্ণ প্রস্তাব বিবেচনা করছে। আলোচনা চলছে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১২ করা এবং এক-ম্যাচের টেস্ট (ওয়ান-অফ টেস্ট)কে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে।

    এই অগ্রগতি নিয়ে কাজ করছে আইসিসির একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টউস। গ্রুপের সুপারিশগুলো চলতি মাসের শেষে বা মে মাসের শুরুতে বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।

    আইসিসি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সূচি জটিলতা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রভাব সামলাতে কৌশল খুঁজছে। পূর্বে দুই স্তরের (টু-ডিভিশন) মডেল প্রস্তাব করা হলেও কিছু পূর্ণ সদস্য দেশের আপত্তিতে তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি। বর্তমান প্রস্তাব মূলত ওই সুচি এবং প্রতিযোগিতার ভারসাম্য পুনর্বিবেচনার অংশ।

    নতুন পরিকল্পনায় ডব্লিউটিসিতে যোগের সম্ভাব্য দলের তালিকায় রয়েছে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। ডব্লিউটিসি ২০১৯ সালে চালু হওয়ার সময় এই তিন দলকে প্রথম দলে রাখা হয়নি, ফলে তারা নিয়মিত টেস্ট খেললেও বড় দলের বিপক্ষে সুযোগ সীমিত ছিল।

    এখনকার নিয়ম অনুযায়ী কোনো সিরিজে অন্তত দুইটি টেস্ট থাকা বাধ্যতামূলক, কিন্তু অনেক বড় বোর্ডের কাছে ছোট দলের সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজ দেওয়া আর্থিকভাবে অল্প লাভজনক হতে পারে। তাই দীর্ঘ সফর ও সূচি জটিলতা কমাতে এক-ম্যাচের টেস্টের ধারণা উঠে এসেছে—যাকে পয়েন্ট দেওয়ার যোগ্য করা হলে ছোট দলগুলোর সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন সহজ হবে।

    এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে, উদাহরণস্বরূপ, কোনো দল যদি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায় তবে সফরে যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটি ওয়ান-অফ টেস্ট খেলা যেতে পারে। আবার ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন সূচির মধ্যে ইংল্যান্ডের মতো দেশও এমন একটি একক টেস্ট সামঞ্জস্য করতে পারবে। এর ফলে ছোট দেশগুলোও বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাবে।

    তবে বাস্তবায়নের আগে দুটো বড় বিষয় যাচাই করতে হবে—ওয়ান-অফ টেস্টকে ডব্লিউটিসির অংশ হিসেবে স্বীকৃত করা উচিত কি না এবং নতুন তিন দলের জন্য পরবর্তী দুই বছরে অতিরিক্ত টেস্ট খেলা আর্থিকভাবে টেকসই হবে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    অন্য দিকে, আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় আছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে পূর্ববর্তী বৈঠক স্থগিত হয়েছিল; এবার সরাসরি বৈঠক করার পরিকল্পনা থাকলেও তার সময় ও স্থল এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে গ্রুপের সুপারিশ বোর্ডের অনুমোদন পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

    সংক্ষেপে, ডব্লিউটিসিতে দল বাড়ানো ও ওয়ান-অফ টেস্ট অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব ক্রিকেটের সূচি ও প্রতিযোগিতাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্য রাখে—তবে তা কবে ও কীভাবে বাস্তব হবে তা এখনই নিশ্চিত নয়।

  • ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানার ৩ উইকেট, শরিফুল পেলেন ১

    ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানার ৩ উইকেট, শরিফুল পেলেন ১

    পিএসএল ম্যাচে পেশাওয়ার জালমি একদমা বিধ্বংসী ক্রিকেট খেলেছে—বিধ্বস্ত করেছে করাচি কিংসকে। জালমি ২৪৬ রানে ইনিংস গড়ে ভারতের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখানোর পর কিংসকে মাত্র ৮৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়।

    জয়ের মূল কারণ ছিল বোলিংয়ে ধারাবাহিক ওয়ান-টুচারের কাজ। তরুণ পেসার নাহিদ রানার শীতল ও কনসেন্ট্রেটেড বোলিং দেখবার মতো ছিল। ৪ ওভার বল করে তিনি মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন এবং ২৪ বলে ২০টি ডট বল গড়া তার প্রভাব স্পষ্ট ছিল—ব্যাটসম্যানরা ধরাছোঁয়ার সুযোগই পেল না।

    অফ স্পিনে ইফতিখার আহমেদও দুর্ধর্ষ ছিলেন—৩ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৯ রানে। এছাড়া বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও পাওয়ার প্লেতে আঁটসাঁট বল করে ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দলের ভালো শুরু এনে দেন।

    বাতিল করে দেওয়ার মতো এক ব্যাটিং কীর্তি ছিল কুসাল মেন্ডিসের। ৫২ বলে ১৪ চার ও ৪ ছয় দিয়ে তিনি ১০৯ রান করে ম্যাচসেরা হলেন। অন্যদিকে অধিনায়ক বাবর আজম ইনিংস জুড়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৫১ বলে অপরাজিত ৮৭ রানে থাকেন, যা দলকে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।

    কিংসের ইনিংস শুরুতেই সমস্যা। প্রথম ওভারে ইফতিখার মুহাম্মাদ ওয়াসিমকে ফেরান। পরের ওভারে শরিফুলের প্রথম বলেই ডেভিড ওয়ার্নার আউট হওয়া ম্যাচের অন্যতম মোড়—ওয়ার্নারকে তার ব্যাক অফ লেংথ ডেলিভারিতে থামাতে পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, বেটের ওপর থেকে বাউন্ডারি উদ্দেশ্যে গিয়ে অফ সাইডে লেগে যায়। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দৌড়ে এসে ফারহান ইউসুফ দুর্দান্ত ডাইভ করে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেন। এ ম্যাচের আগে ওয়ার্নার সিডনিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন—আরও একদমই দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায় ছিল তার জন্য, কারণ এদিন তিনি প্রথম বলেই ফেরেন।

    কিংসের চেজ শুরু থেকে ধারাবাহিক উইকেট হারায়। নাহিদের প্রথম ওভারে (ইনিংসের পঞ্চম ওভার হিসেবে) আজম খান একমাত্র রান নেন; দ্বিতীয় ওভারেই নাহিদ সাদ বেগকে শর্ট বল টপ করার চেষ্টা করতে গিয়ে ওপরে তুলে দেন এবং নিজেই ক্যাচ ধরেন—এটাই নাহিদের দ্বিতীয় ওভার থেকে তার প্রথম উইকেট। পরে ১৪তম ওভারে তিনি খুশদিল শাহকে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়তে দেন এবং একই ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকেও সরাসরি বোল্ড করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। নিজের কোটার শেষ ওভারে নাহিদ কেবল এক রান খরচ করে বোলিং শেষ করেন।

    মোটের ওপর ইফতিখার ও নাহিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং শরিফুলের পাওয়ার প্লে আক্রমণই কিংসকে ভেঙে দিয়েছেন। নাহিদের আগের ম্যাচে (হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে) ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটহীন ছিলেন—তবে আজ তিনি চমক দেখালেন। আর আসরে শরিফুলও আগের দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন; আজ তাঁর বোলিং ফের দলের জন্য ফলপ্রসূ প্রমাণিত হল।

    মোটকথা, পেশাওয়ার জালমির ব্যাটিং–বোলিং মিলেই এ দারুণ জয়। কিংসের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশাজনক, আবার জালমির হয়ে কুসাল মেন্ডিস ও নাহিদ রানার প্রদর্শন বিশেষভাবে দৃষ্টিগ্রাহ্য ছিল।

  • বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় বদলে, সব ম্যাচ হবে দিনের আলোতে

    বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় বদলে, সব ম্যাচ হবে দিনের আলোতে

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম ঘোষণায় সিরিজের সবকটি ম্যাচ দিবারাত্রির—that is, রাতের আলোতে—খেলা হবে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সময়সূচি বদলিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিসিবি জানিয়েছে, ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচ শুরু হবে বেলা ১১টায়। ওয়ানডের পর যে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি হবে, সেটিও দিন খেলায় করা হবে এবং এসব ম্যাচ দুপুর ২টায় শুরু হবে। এর ফলে ফ্লাডলাইট ব্যবহার ন্যূনতম রাখা হবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য ত্বরান্বিত হবে।

    বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তের আগেই বুধবার বিসিবির এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় পরিবর্তন—ওয়ানডে ম্যাচে ১১টা অথবা সাড়ে ১১টা, টি-টোয়েন্টি বেলা ২টা অথবা আড়াইটায় হতে পারে।’

    বিসিবির এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য খেলার অভাব ছাড়াই বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা, পাশাপাশি দর্শক ও সম্প্রচারকে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময় দেওয়া। নতুন সময়সূচি মেনে মাঠে গড়ালে ম্যাচগুলো দিনের আলোয় অনুষ্ঠিত হবে এবং খেলা নির্বিঘ্নে আয়োজন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হবে।

  • বুলবুলের অভিযোগে নীরব আইসিসি, তামিমের কমিটিকে আশাবাদী দেখছে ভারত

    বুলবুলের অভিযোগে নীরব আইসিসি, তামিমের কমিটিকে আশাবাদী দেখছে ভারত

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, তামিমের অধীনে বোর্ডটি ভারতের জন্য বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হচ্ছে, যা সম্ভবত দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মনোভাবের পরিবর্তন সূচিত করছে।

    বিশেষ করে, এই উদ্যোগ মূলত দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটের বিপর্যস্ত সম্পর্কের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে, ভারতের বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে, যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি ঢাকার নতুন প্রশাসনের কূটনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক আবার ফিরিয়ে আনা যায়।

    প্রসঙ্গত, গত কিছু সময়ে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, যখন নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়। ভারতের ম্যাচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের ফলে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে, যা দুই দেশের ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

    তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই ১১ সদস্যের কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বোর্ডের প্রশাসনিক সংস্কার ও পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে, যেখানে সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    বুলবুল আইসিসির কাছে হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করে একটি চিঠি পাঠিয়ে বলেছিলেন, তার অপসারণ সরকারি হস্তক্ষেপ ও আইসিসির নীতিমালা লঙ্ঘন। যদিও আইসিসি সূত্রগুলো বলছে, এই আবেদনের গুরুত্ব বেশ কম, কারণ তার অবস্থানে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে।

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বুলবুল আইসিসিকে জানিয়েছিলেন, সরকারি নির্দেশনায় দল ভারতে যেতে পারেনি। এখন একই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আইসিসির সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছেন।

    আইসিসির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এটি সত্যিই অবাক করা পরিস্থিতি। এই একই বোর্ডের সভাপতি কয়েক বছর আগে আইসিসির চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সরকারের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেননি। এখন আবার সরকারি হস্তক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে আইসিসির সুরক্ষার জন্য আবেদন করছেন—এটি সত্যিই বিস্ময়কর।’

  • দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং জাতি গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, কারণ এ শিক্ষা সন্তানদের নৈতিক, চারিত্রিক গুণাবলী উন্নত করে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসাটিকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সন্তানদের জন্য সুখ、安全 ও শিক্ষাকার্যক্রমের সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন করতে হবে, যেন তারা নিশ্চিন্তে তাঁদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করতে উৎসাহিত হন।

    বুধবার দুপুরে নগরীর খালিশপুরে কেসিসি পরিচালিত এই মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, এদের আন্তরিকতা ও সততার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আরও প্রথমস্থান লাভ করবে। তিনি শিক্ষকদের উৎসাহিত করে বলেন, পাঠদানে আরো মনোযোগী হতে হবে যেন তারা সকলের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারেন।

    উল্লেখ্য, কেসিসি পরিচালিত এই মাদ্রাসায় ১ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছে। এ বছর ৫ম শ্রেণিতে ৯ জন এবং ৮ম শ্রেণিতে ২ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি শিক্ষাকার্যক্রমের মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন।

    মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুন্নাহার বেগমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেক, মাস্টার শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল আলম এবং সমাজসেবক মোঃ জাহিদুর রহমান রিপন। এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • নাহিদ রানা ও শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পেশাওয়ার জিতল করাচি কিংস

    নাহিদ রানা ও শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পেশাওয়ার জিতল করাচি কিংস

    পিএসএল-এর অভিষেকের পর প্রথম ম্যাচে খরচের জন্য সমালোচিত হন নাহিদ রানা। তবে দ্রুতই তিনি বদলে যান এবং পরের ম্যাচে নিজের গতির ঝড় তুলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশি পেসার শরিফুল ইসলামও তার নিখুঁত আঁটসাঁট বোলিং দিয়ে দলের জন্য বিশাল সফলতা অর্জন করেন। যার ফলে তাদের দল করাচি কিংস বিশাল এক জয় তুলে নেয়।

    করাচি কিংসের প্রতিপক্ষ ছিল পেশাওয়ার জালমি, এবং এই ম্যাচে জালমির জয় নিশ্চিত করতে তারা ২৪৬ রানের লক্ষ্য অর্জন করে। বল হাতে দুর্দান্ত কৌশলে একে একে বলিঙিং করতে থাকেন জালমির পেসাররা। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়েন নাহিদ রানা, যিনি চার ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ৭ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন। তার ২৪ বলের মধ্যে ২০টিতে ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারেননি।

    অন্যদিকে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ স্পিনার ইফতিখার আহমেদও তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শরিফুল ইসলামও দারুণ বোলিং করেন, তিন ওভারে ২৩ রান দিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারকে আউট করেন।

    শ্রীলঙ্কার কুসাল মেন্ডিস ম্যাচের সেরা ছিলেন। তিনি ৫২ বলে ১০৯ রান করে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেন চার চার ও চার ছক্কা সহ। অধিনায়ক বাবর আজমও ৫১ বলে ৮৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

    ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং দেখা গেছে। প্রথম ওভারে ইফতিখার ওয়াসিমকে আউট করেন, এরপর শরিফুল ওয়্যার্নারকে ডেলিভারির মাধ্যমে ফেরত পাঠান। বোলাররা সঠিক সময়ে সঠিক ডেলিভারির মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের ধীর করে দেন।

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কিছু দিন আগেই ওয়ার্নার দেশে ফিরে যান, এমনকি সিডনিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তবে এই ম্যাচে তিনি প্রথম বলে আউট হন।

    শরিফুলের প্রথম ওভার ছিল ১১ রান, এরপর তিনি আরও দুটি বাউন্ডারির মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন বোলিং চালিয়ে যান। হাফটাইমের পরে নাহিদ প্রথম উইকেটের দেখা পান, শর্ট বল পুল করার চেষ্টা করে সাদ বেগের তালুবন্দী হন। তার শেষ ওভারে তিনি কোনো রান না দিয়ে এক উইকেট তুলে নেন।

    বিরতিতে উইকেট পতনের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকা কিংসের ইনিংস শেষ হয়ে যায়। ১৪তম ওভারে নাহিদ আবারও বল হাতে নেওয়ার সময় কোনও রান দেননি। তিনি খুশদিল শাহ ও অ্যাডাম জ্যাম্পারকে আউট করেন এবং একমাত্র রান নিয়ে নিজের শেষ বলটি করেন।

    প্রথম দিন পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অভিষেকের সময় ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন নাহিদ। শরিফুলের আগের দুই ম্যাচে উইকেট পাননি, তবে আজ তিনি দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে চেহারা বদলে যায়।

  • বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন

    বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন

    চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে হওয়া ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজের সবকটি ম্যাচ ছিল আগে দিবারাত্রির, কিন্তু বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে সময়সূচি পরিবর্তনের।

    আজ বৃহস্পতিবার, বিসিবি নিশ্চিত করেছে যে ওয়ানডে সিরিজের সবকটি ম্যাচ শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে। একই সঙ্গে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের পরে টি-টোয়েন্টি সিরিজও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সব ম্যাচ হবে দিনকে আলোয়। এই ম্যাচগুলো শুরু হবে দুপুর ২টায়।

    গতকাল বুধবার, বিসিবির এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই সময়সূচি পরিবর্তনের। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওয়ানডে ম্যাচগুলো ১১টা বা সাড়ে ১১টায় হতে পারে, আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো দুপুর ২টা বা আড়াইটায়।’ এই সিদ্ধান্তের ফলে দর্শকদের জন্য নতুন সময়ে খেলা উপভোগের সুযোগ বাড়ছে এবং স্মার্ট সঞ্চালন নিশ্চিত হচ্ছে।