Category: খেলাধুলা

  • বিসিবি মঞ্জুরুলকে ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করল যৌন হয়রানির অভিযোগে

    বিসিবি মঞ্জুরুলকে ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করল যৌন হয়রানির অভিযোগে

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে আলোচিত এবং বিতর্কিত যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রিকেট প্রশাসন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে দুটি প্রমাণিত হওয়ার পর বোর্ড তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল। আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর তিনি দেশের সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ হয়েছেন। এর পাশাপাশি, একজন সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের অভিযোগের ভিত্তিতে বোর্ড তার পাশে আছি এবং আইনি লড়াইয়ে সার্বিক সহযোগিতা করবে—এমন আশ্বাস দিয়েছে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে।

    জানা যায়, চীনে অবস্থানরত জাহানারা আলম একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। এরপরেই বোর্ড একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান ছিলেন প্রথমে বিচারপতি তারিক উল হাকিম, পরে তা পাঁচ সদস্যে সম্প্রসারিত হয়। তিন দফা সময় বাড়ানোর পর, ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। সোমবার বোর্ড সভায় তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঞ্জুরকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি ভুক্তভোগীর სურვ অনুযায়ী, সে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সুদৃঢ় সহায়তা পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদন ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলে একদিকে ক্রিকেটের শৃঙ্খলে তার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে, অন্যদিকে দেশের ক্রিকেট পরিচালনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় এটি একটি বড় পদক্ষেপ হয়ে থাকবে। এখন সবাই উৎসুক এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিকতার জন্য। বোর্ডের এই পদক্ষেপ দেশের ক্রিকেটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সাউথ আফ্রিকার কাছে হারল ভারত, বড় ধাক্কা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে

    সাউথ আফ্রিকার কাছে হারল ভারত, বড় ধাক্কা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ভারতের প্রথম ম্যাচে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। তারা সাউথ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের হার স্বীকার করে, যা তাদের জন্য হতাশাজনক এক শুরু। আগে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়ারা ৭ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে, যা ভারতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ ডেকে আনেছিল। জবাবে ভারতের ইনিংস শুরুতেই বিপর্যয় শুরু হয়। ওপেনার ইশান কিশান মাত্র shূন্য রানে ফিরে যান, আর তিলক ভার্মা কিছু সংগ্রাম করলেও বেশি এগিয়ে যেতে পারেননি। অভিষেক শর্মও সফল হননি এবং ১৫ রান করেই আউট হন।

  • জিম্বাবুয়ের উপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড জয়

    জিম্বাবুয়ের উপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড জয়

    আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল জিম্বাবুয়ের শিবির, কারণ তারা গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে জয় পেলে সুপার ফোরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজও পুরো গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে নিজেদের প্রমাণ করেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করেছিলেন, এই দুই অপরাজিত দলের মুখোমুখি লড়াই হবে দারুণ জমজমাট। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি; পুরো ম্যাচটাই একপেশে হয়ে যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই বড় লক্ষ্য দেয়, যা জিম্বাবুয়ের জন্য ছিল এক বিশাল চাপ। ২৫৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে খুব দ্রুত চাপের মধ্যে পড়ে, মাত্র ১৪৭ রানে অল আউট হয়। ফলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৭ রানের বড় জয় তুলে নেয়।

    বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ের শুরুতেই বিপর্যয় ঘটে। উইকেট হারাতে থাকে দ্রুতই; পঞ্চাশের আগেই ৩ উইকেট হারায় তারা। এরপর ডিওন মেয়ার্স ২৮, সিকান্দার রাজা ২৭ রান করে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু অন্যান্য ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত উইকেট হারানোর কারণে ম্যাচে ফিরে আসতে পারেননি। শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্স ২১ বলে ৪৩ রানের ঝালুক innings খেলেন, তবে তা যথেষ্ট ছিল না। ফলে, দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রানে।

    জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ধস নামায় দেশের পেসাররা। গুড়াকেশ মোতি ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন, আর আকিল হোসাইন ৩ উইকেট শিকার করেন। ম্যাথিউ ফোর্ড ২৭ রানে পান ২ উইকেট এবং জেসন হোল্ডার ১ উইকেট যোগ করেন। এই ম্যাচে গ্রুপ ওয়ানে এক ম্যাচে জয় পেয়েছে সাউথ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

    প্রথমে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। বল হাতে শুরু করেন রিচার্ড এনগারাভা, তিনি প্রথম ওভারেই ব্র্যান্ডন কিংকে আউট করেন। ওপেনার ক্যারিবিয়ান শাই হোপ দ্রুত চলে যান, ১২ বলে ১৪ রানে আউট হন। এরপর হেটমায়ার ও পাওয়েল মিলেই ১২২ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরী করেন। তবে হেটমায়ার ৭৫ বলে ৮৫ রান করে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। তিনি ৭ ছক্কা ও ৭ চারে ৩৪ বলে ৮৫ রান করেন, যা দলের জন্য বড় প্লাস। পাওয়েলও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি, ৩৫ বলে ৫৯ রান করে আউট হন।

    এরপর রাদারফোর্ড ও শেফার্ড নিজেদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ক্যারিবিয়ান দলের ইনিংস টেনে নেন। রাদারফোর্ড ১৩ বলে অপরাজিত থাকেন ৩২ রান করে, জেসন হোল্ডার ৪ বলে ১৩ রান করেন। ম্যাথিউ ফোর্ড ১ বলে ১ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই ধারা ধরে ক্যারিবিয়ানরা ভয়ঙ্কর ব্যাটিং প্রদর্শন করে ম্যাচ জয় করে নেয়।

  • খুলনায় জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

    খুলনায় জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় ও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে বসন্তের সূচনালগ্নে আজ “৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ” এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের মাঠে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনের খেলায় দর্শকরা দেখেন বাগেরহাট ও মেহেরপুর দলের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মোঃ জুলফিকার আলী খান। আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা, যেমন শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, জাকির হোসেন রিপন, এম সাইফুল ইসলাম ও শাহনাজ খাতুনসহ অন্যান্য অতিথিরা। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও সিনিয়র ডিভিশন ক্রিকেট লীগ কমিটির চেয়ারম্যান মোল্লা খায়রুল ইসলাম।

    অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং এটি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের আয়োজন ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রতিভাদের উন্মোচনে সহায়তা করবে। এই ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে তরুণ প্রতিভাদের সামনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে অনুরাগীরা আশা করছেন।

  • বিসিবিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ আকবর

    বিসিবিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ আকবর

    দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ততা জারি রয়েছে। বর্তমানে বিট umpire ও ওয়ানডে ফরম্যাটের ক্রিকেটে চারটি দল অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্গত বিভিন্ন টুর্নামেন্টে। এরই অংশ হিসেবে গেল রোববার বিসিবির পরিচালকমণ্ডলীর সদস্যদের একটি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় আসিফ আকবরকে।

    আগে যে ইশতিয়াক সাদেক এই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি আবার বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করলে, এই দায়িত্বটি বর্তমানে আসিফ আকবরের হাতে দেওয়া হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিসিবির এক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সে সময় থেকেই আসিফকে নতুন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, সবশেষ বিসিবি নির্বাচনে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরিচালক পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন ইশতিয়াক সাদেক। তবে, নিজের ব্যস্ততা ও সময়ের অভাবে তিনি এই দায়িত্বে থাকতে পারেননি বলে প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি গেম ডেভেলপমেন্টের কাজ ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না, এ কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

    তবে, তার পদত্যাগপত্র এখনো বিসিবি গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে, নতুন পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আসিফ আকবরের দায়িত্বে যোগ হয়েছে দেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের উন্নয়ন। এখন তিনি গেম ডেভেলপমেন্টের ব্যাপারে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

  • বিসিবির প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল বাশার

    বিসিবির প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল বাশার

    বর্তমান প্রধান নির্বাচনক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দুই বছরের চুক্তি এই মাসেই শেষ হচ্ছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত বোর্ডকে আগে থেকেই জানিয়েছেন। এর ফলে বিসিবি নতুন প্রধান নির্বাচক খুঁজতে শুরু করে। অনুকূল পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকেই সিদ্ধান্তের উপর আনুষ্ঠানিকভাবে আস্থা রাখে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) হাবিবুল বাশারকে নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে নিশ্চিত করে। তিনি এর আগে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি নারী দলের নির্বাচক হিসেবেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুরুষ দলের নির্বাচক প্যানেল থেকে অব্যাহতি নিলেও তিনি ক্রিকেট প্রশাসনে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্বে আছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেট জ্ঞানকে বিবেচনা করে বিসিবি তাকে আবারও নির্বাচক প্যানেলে ফিরিয়ে আনেছে। বোর্ড মনে করছে, তার নেতৃত্বে জাতীয় দলের নির্বাচনী কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও গতির যোগ হবে।

  • লঙ্কানদের ৯৫ রানে অলআউট করে ইংল্যান্ডের বড় জয়

    লঙ্কানদের ৯৫ রানে অলআউট করে ইংল্যান্ডের বড় জয়

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে ব্যাট করে শুরুতেই বেশ ভালো লাভ করতে না পারলেও ইংল্যান্ড দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় হাসিল করেছে। স্মারক হিসেবে দেখানোর জন্য ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১৪৬ রান সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা তাদের ইনিংসটি শেষ করে মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ইংল্যান্ডের বড় জয় নিশ্চিত হয়। তাদের রান তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কা শুরুতেই ধাক্কা খায়। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই পাঁচজন ব্যাটার ফিরে যায়। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য উইল জ্যাকস তিন টি উইকেট, জোফরা আর্চার, লিয়াম ডুসন ও আদিল রশিদ দুইটি করে উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যায়ে ভারতের দাসুন শানাকা ৩০ ও কামিন্দু মেন্ডিস ১৩ রান করেন। অন্য ব্যাটাররা কেউই দশের মধ্যে যেতে পারেননি। ইংল্যান্ডের হয়ে বোলিংয়ে জ্যাকস তিনটি এবং অন্য বোলাররা উল্লেখযোগ্য দুটি করে উইকেট লাভ করেন। ম্যাচের শুরুতে টস জিতে লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা ইংল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। শুরুতেই ইংলিশরা চাপের মধ্যে পড়ে যায়; ওপেনার জস বাটলার মাত্র ৭ ও জ্যাকব বেথেল ৩ রানে আউট হন। তবে ফিল সল্ট ৫২ রান করে দলের জন্য অনুকরণীয় অঙ্গিনী ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন। তিনি ৪০ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছয়ে খেলেন। অপর দিকে উইল জ্যাকস ২১ ও জোফরা আর্চার শূন্য। শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলার দুনিথ ভেল্লালাগে, ৪ ওভারে ২৬ রানে তিন উইকেট শিকার করেন। এছাড়া দিলশান মধুশাঙ্কা ও মহেশ থিকসেনা দুজন দুটি করে উইকেট পান, অপরজন দুশমন্থ চামিরার জন্য একটি উইকেট। এই দুর্দান্ত বোলিং আর ভালো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড সহজ জয় লাভ করে।

  • ভারতের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে

    ভারতের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে

    নারী এশিয়া কাপের রাইজিং স্টারসের ফাইনালে বাংলাদেশ নারী দল ভারতের কাছে ৪৬ রানে হেরে গেছে। এই হার একара কারণেই বাংলাদেশের শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায়। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত, আর বাংলাদেশ হয় রানারআপ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে। এর জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সব উইকেট হারিয়ে ৮৮ রানে গুটিয়ে যায়, ফলে তারা ম্যাচটি হেরেছে।

    টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয় দিয়ে ভারত ফাইনালে উঠে যায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়।

    শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ১৩৫ রানের লক্ষ্য নিয়েছিল। শুরুটা ভালো হলেও ছন্দপতন ঘটে দ্রুত। পাওয়ার প্লে-তে এক উইকেট হারিয়ে ৩৬ রান তুলতেই দল এখন শঙ্কার মধ্যে পড়ে যায়। এরপর ম্যাচের ধারাবাহিক উইকেট পতনের ফলে দলের ইনিংস ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই অবস্থান থেকে আরউৎসাহ ফিরে পায়নি। ফলে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য জেতা সম্ভব হয়নি।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন ওপেনার শামিমা সুলতানা। শারমিন সুলতানা করেন ১৮ রান, ফাহিমা খাতুন করেন ১৪ রান, আর সাদিয়া আক্তার করেন ১০ রান। অন্য ব্যাটাররা কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

    ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার প্রেমা রাওয়াত, যিনি তিনটি উইকেট নেওয়ার ধারাবাহিকতায় দলকে সাহায্য করেন। এছাড়া সোনিয়া ও তানুজা দুটি করে উইকেট তুলে নেন। তিনজন বোলার একেকটি করে উইকেট নেন।

    এর আগে, ব্যাংককের ম্যাচে ভারতের শুরু হয়নি ভাল। প্রথমে মাত্র ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা বেশ চাপের মুখে দাঁড়িয়েছিল। তবে দলনেতা রাধা যাদব এবং তেজাল হাসাবনি বেশ ভালো ভাবে চাপ সামলে ৬৯ রানের জুটি গড়েন। এই জুটির সুবাদে দলীয় সংগ্রহ বাড়তে থাকে।

    রাধা ৩০ বলে ৩৬ রান করেন, তার থেকে এগিয়ে যান তেজাল, যিনি ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূরণ করেন এবং ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসটি ৩৪ বলেরমধ্যে তিনটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো। দিনেশ ভ্রিন্দার ব্যাট থেকেও আসে ১৯ রান। বাকিরা কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন, আরও দুটি করে উইকেট নেন দুইজন বোলার।

  • সাউথ আফ্রিকার কাছে হেরে বড় ধাক্কা খেল ভারত

    সাউথ আফ্রিকার কাছে হেরে বড় ধাক্কা খেল ভারত

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ভারতের প্রথম ম্যাচেই হতাশ করেনি। খেলেছেন দুর্দান্ত কৌশলে, তবে সাউথ আফ্রিকা দলের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের সামনে পরাজিত হয়েছে ভারত। প্রোটিয়ারা সোহয়ার ৭৬ রানের ব্যবধানে জয় লাভ করে। আগে ব্যাট করে তাদের দল ৭ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে। জবাবে নেমে ভারতির ইনিংস ১১১ রানে থেমে যায়।

    শুরুতেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বিপর্যয়ে পড়ে। ওপেনার ইশান কিশান শূন্য রানে আউট হয়েছেন। তিলক ভার্মা রানের খাতা খোলার চেষ্টা করলেও এক রানের বেশি করতে পারেননি। অভিষেক শর্মাও অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিংয়ে সফল হননি, মাত্র ১৫ রান করে আউট হন।

    উইকেটের নিচে ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ওয়াশিংটন সুন্দর (১১ বলে ১১) ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (২২ বলে ১৮)। তবে তাদের আউটের পর ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫১ রান বা ৫ উইকেট হারিয়ে। এরপর ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ম্যাচটিকে টেনে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যান শিভম দুবে ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার মাঝে। দুবে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৩৭ বলে ৪২ রান করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্যা কাটাতে পারেননি। হার্দিকের ১৮ রানের ইনিংসও খুব কাজে আসেনি। দুঃখজনকভাবে, ভারত ম্যাচটি হেরেছে।

    সাউথ আফ্রিকার জন্য সালটা ছিল দুর্দান্ত। তাদের বোলাররা অসাধারণ পারফর্ম করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কৌশলে দুর্বল করে দেয়। কেশভ মহারাজ ৩ উইকেট নিয়ে দলের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মার্কো জানসেন ও করবিন বশ দুটি করে উইকেট নেন এবং এইডেন মার্করাম একটি উইকেট লাভ করেন।

    প্রথমে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তাদের জন্য সমস্যা তৈরি হয়। দ্বিতীয় ওভারে কুইন্টন ডি কক আউট হয়ে যান। বাঁহাতি ওপেনার উপরের দিকে বিশিষ্ট জসপ্রিত বুমরাহের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে মার খেয়ে ফিরে যান। তৃতীয় ওভারে মারকামও আউট হন। রায়ান রিকেলটন লিডিং এজে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান, এছাড়া বেশ কিছু ব্যাটসম্যানই অল্প কিছু সময় টিকতে পারেননি।

    মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়ারা ব্যাটিং বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দ্রুত রান তোলা কঠিন হয়ে উঠায়, মিলার ও ব্রেভিস ধীরস্থির থেকে খেলতে থাকেন। যখন তারা কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেন, তখনই জুটি গড়ে ওঠে। তাদের মধ্যে ৯৭ রানের দুর্দান্ত জুটি হয় যে সময়ে ব্রেভিস ২৯ বলে ৪৫ রান করে আউট হন। তাকে শর্ট ডেলিভারিতে আউট করে দেন ডুব।

    মিলার মারকামকে ছক্কা হাঁকিয়ে ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এই অর্ধশতকের পরে তিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বরুণ চক্রবর্তীর বলে লং অফের উপর দিয়ে ছক্কা মারার চেষ্টায় ৩৫ বলে ৬৩ রান করে আউট হন। এরপর জানসেন দ্রুত ফিরে যান। তবে শেষ দিকে স্টাবস ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন, যা দলকে দুর্দান্ত পুঁজি এনে দেয়। ব্রেভিস, স্টাবস ও মিলারের দারুণ ব্যাটিংয়ে সাউথ আফ্রিকা সংগ্রহ তৈরী করে ১৮৭ রান। ভারতের জন্য বল হাতে অসাধারণ পারফর্ম করেন বুমরাহ তিন উইকেট ও আর্শদীপ দো উইকেট নেন।

  • জাহানারা আলমের অভিযোগে মঞ্জুরুলকে নিষিদ্ধ করল বিসিবি

    জাহানারা আলমের অভিযোগে মঞ্জুরুলকে নিষিদ্ধ করল বিসিবি

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় বড় এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাবেক ক্রিকেটার এবং নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের দায়ের করা চারটি অভিযোগের তদন্ত শেষে বোর্ডের স্বাধীন তদন্ত কমিটি দুটি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এর ফলस्वরূপ, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর নামে পরিচিত সাবেক এই ক্রিকেটারকে দেশের সব ধরণের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যদি তিনি আইনি পথে যান, তবে বোর্ড তার পক্ষেও সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অভিযোগের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর, যখন জাহানারা আলম চীনে অবস্থানকালে একটি ইউটিউব চ্যানেলে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি হৈচৈ সৃষ্টি করে।

    এর আগে, জানুয়ারি মাসে বিসিবি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্ব দেন সাবেক আপিল বিভাগের বিচারপতি তারিক উল হাকিম। কমিটি শুরুতে তিন সদস্যের হলেও পরে পাঁচ সদস্যে রূপান্তরিত হয় এবং তিন দফায় সময় বাড়িয়ে শেষমেশ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তের মাধ্যমে পত্রে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বোর্ড প্রমাণ পায় যে, মঞ্জুরুলের কিছু কর্মকাণ্ড দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশিকায় বর্ণিত অসদাচরণ এবং হয়রানির সংজ্ঞায় পড়ে।

    প্রশংসার জন্য, বোর্ডের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঞ্জুরুলকে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, ভুক্তভোগী চাইলে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেন, আর বোর্ড তার পাশে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

    সবার এখন মূল চাওয়া হচ্ছে, বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, এটি দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দুর্নীতি ও অসদাচরণ বিরোধী জোরালো বার্তা দেবে।