Category: খেলাধুলা

  • রোহিত ও কোহলির জুটিতে বড় জয় ভারতের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে

    রোহিত ও কোহলির জুটিতে বড় জয় ভারতের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে

    প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে দেশের জন্য সিরিজটি অনেকটাই ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল ভারত। শেষ ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য মান-সন্মান ফিরিয়ে আনা এবং সিরিজের মোড় ঘুরিয়ে দেবার একটি সুযোগ। সিডনিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওয়ানডেতে কিংবদন্তি ব্যাটার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি আবারও নিজেদের অতীতের স্বর্গীয় ধারায় ফিরে আসেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে তাঁদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভারতের জয় হয় ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে, যা ছিল তাদের জন্য অনেকটাই স্বস্তির ও উল্লাসের মুহূर्तन।

    অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৬.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৩৬ রান। ভারতের জবাব দিতে নেমে ২৩৭ রানের লক্ষ্যে তারা মাত্র ৩৮ ওভারে পৌঁছে যায়, হাতে তখনও ৯ উইকেট বাকি থাকতেই। ম্যাচের মূল নায়ক হিসেবে খেলেছেন রোহিত ও কোহলি—উভয়ই অপরাজিত থেকে গেছেন। রোহিত খেলেছেন অনবদ্য ১২১ রান (১২৫ বল) যা তার ৩৩তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, আর কোহলি অপরাজিত থাকেন ৭৪ রান (৮১ বল) দিয়ে। এই জুটি ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪৮৩ রানের সমন্বিত স্কোর নিয়ে এসেছে, পাশাপাশি তারা এখন তৃতীয় স্থানে থাকেন বৃহৎ ওপেনিং পার্টনারশিপের তালিকায়।

    ম্যাচ শেষে রোহিত ও কোহলি দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, এবং ইঙ্গিত দেন এটি হতে পারে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় শেষ ওয়ানডে ম্যাচ। রোহিত বলেন, “এখানে এসে খেলাটা সবসময়ই দারুণ লাগে। ২০০৮ সালের স্মৃতি সংরক্ষিত এই দেশের সাথে। জানি না আবার কখনও এই মাঠে ফেরার সুযোগ হবে কি না। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো ক্রিকেট উপভোগ করা, সেটা যত বড় বা কঠিনই হোক না কেন। পার্থে নতুন করে শুরু করেছিলাম, বর্তমানে সেটা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।”

    অন্যদিকে, কোহলি বললেন, “রোহিতের সঙ্গে ব্যাটিং সবসময়ই সহজ ও উপভোগ্য। মাঝ মাঠে যে বোঝাপড়া, তা আমাদের সামর্থ্যের বড় শক্তি। যত কঠিনই হোক পরিস্থিতি, আমরা তা সামলে নিতে পারি। আজকের ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত রাখতে পেরেই আমি আনন্দিত।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমাদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে শুরু হয়েছিল এই জুটি। জানতাম, ২০ ওভার একসঙ্গে খেললে ম্যাচ আমাদের পক্ষেই যাবে। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর থেকে আমরা সব সময় ভাল খেলেছি, এখানকার দর্শকরা আমাদের খুব পছন্দ করে।”

    তাদের এ পারফরম্যান্স, যদিও সিরিজের ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গিয়ে থাকলেও, এটি প্রমাণ করে দেয় যে এখনও তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার। সিডনিতে শনিবারের ম্যাচে রোহিত–কোহলি জুটি গড়েছে ১৯তম ওয়ানডে শতকের পার্টনারশিপ। এই তালিকায় তারা এখন তৃতীয় স্থানে অবস্থান করে আছেন। এই জুটিতে সাধারণত চার হাজার পাঁচ শ’ রান পার করেছেন তারা, যা এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলির জুটি রয়েছে ১৭৬ ইনিংসে ৮২২৭ রানের ইতিহাস।

    রোহিত–কোহলির ১৬৮ রানের অপরাজিত জুটি নিশ্চিত করেছে ভারতের সহজ জয়, আর দর্শকদের মনে ফিরিয়ে এনেছে সেই পুরোনো আধুনিক ব্যাটিং লুক। তবে সিরিজ ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দাঁড়ালেও, টি দল নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্বিত। এর আগে, ভারতের তরুণ পেসার হর্ষিত রানা দুর্দান্ত বোলিং করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি বোল্ড করেছেন অস্ট্রেলিয়াকে ২৩৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে অর্জন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

  • ভারতে ক্রিকেটার দুই অস্ট্রেলিয়ান নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

    ভারতে ক্রিকেটার দুই অস্ট্রেলিয়ান নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

    অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দল যখন ভারতীয় মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে আসছেন, তখনই ঘটে إচিত একটি ঘটনায় সাড়া ফেলে দেয়। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে হোটেল থেকে হেঁটে এক ক্যাফেতে যাচ্ছিলেন দুই অস্ট্রেলীয় নারী ক্রিকেটার, সেই সময় তাদের ওপর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। বৃহস্পতিবার সকালে, খাজরানা রোড এলাকার নির্জন পথে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তি তাদের পিছু নেয়। সেই ব্যক্তি কাছ থেকে তাদের অশালীনভাবে স্পর্শ করে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় আতঙ্কে পড়ে ক্রিকেটাররা একে অপরকে জানিয়েছেন এবং তারা অবিলম্বে দলনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেন। পরে, একজন দ্রুত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এবং পুলিশে অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, পিছু নেওয়া ব্যক্তির মোটরসাইকেল থেকে নম্বর সংগ্রহ করা হয়, যার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আখিল খান নামে এক ব্যক্তি, যিনি এর আগেও অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিলেন। তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারীশ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ (ধারা ৭৪) এবং পিছু নেওয়া বা স্টকিং (ধারা ৭৮) এর অধীনে এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • থাইল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলার নারীরা

    থাইল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলার নারীরা

    বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল গত শুক্রবার ব্যাংককের থুনবুরি ইউনিভার্সিটি ফুটবল ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার মানে থাইল্যান্ডের কাছে। এই ম্যাচটি ফিফা স্বীকৃত হলেও এটি ক্লোজড ডোর অনুষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশিরা সরাসরি ম্যাচটি দেখার সুযোগ পাননি।

  • ভারতে ইঁদুর আতঙ্কে জড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটাররা

    ভারতে ইঁদুর আতঙ্কে জড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটাররা

    চলমান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। টানা পাঁচটি জয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। মাঠের জয়জয়কারের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দারুণ উজ্জীবিত হলেও অস্ট্রেলিয়ান নারী ক্রিকেটাররা ভারতের বিশাখাপত্তনমে অবস্থান করার সময় ঘটেছে এক রহস্যজনক পরিস্থিতি।

    বিশাখাপত্তনমে একটি হোটেলে রাতে খাবার খাচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা যখন হঠাৎ তারা দেখেন ডাইনিং রুমে একটি ইঁদুর হানা দিয়েছে। ইঁদুরের উপস্থিতি দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বেশ কয়েকটি ক্রিকেটার চিৎকার করে ওঠেন, অভিভূত ও ভীতির কারণ হিসেবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য হোটেল কর্মীরা দ্রুত হাজির হন এবং ইঁদুরটি ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু সফলতা পাননি। ইঁদুরটি ডাইনিং রুমের চারপাশে দৌড়াদোড়ি করতে থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে যায়। অনেকেই চেয়ারে উঠে বসে ঘটনার থেকে রক্ষা চান।

    এ ঘটনার একটি ভিডিওও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) প্রকাশ করেছে যেখানে ক্রিকেটাররা নিজেরাও তাদের আতঙ্ক ও ভীতির অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, ‘আমরা ভাবছিলাম ইঁদুর চলে গেছে, কিন্তু তা নয়। ইঁদুর আবার ফিরে আসে, আর আমাদের চিৎকার আরও বেড়ে যায়।’

    ইঁদুরের এই অদ্ভুত চলাচলের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, কারণ টুর্নামেন্টের চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ান দলের থাকা হোটেলের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আপাতত এই বিষয়ে ভারত ও হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে।

  • উড়ন্ত হেডসহ জোড়া গোলে মায়ামিকে জেতালেন মেসি

    উড়ন্ত হেডসহ জোড়া গোলে মায়ামিকে জেতালেন মেসি

    পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে নিজের নাম লেখিয়েছেন লিওনেল মেসি, হাজারো রেকর্ড ভেঙে তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। যদিও হেড দিয়ে করা গোলসংখ্যায় তাঁর তুলনা খুব কম খেলোয়াড়ের কাছেই হয়, তবুও মেসি নিজেও পছন্দের গোলের তালিকায় বার্সেলোনার হয়ে করা একটি স্মরণীয় হেড গোলের কথা উল্লেখ করেন। সে স্মৃতি আবার স্পষ্ট হলো আজ, শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ইন্টার মায়ামির জার্সিতে উড়ন্ত হেডের মাধ্যমে তিনি জোড়া গোল করলেন এবং দলকে ৩-১ ব্যবধানে জেতালেন।

    মাত্র একদিন আগে, মেসি নতুন করে তিন বছরের জন্য ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। এর আগে, এমএলএসের মৌসুমে তিনি ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুটের নিশ্চিত মালিক হন। আজ, ম্যাচের আগে লিগের কমিশনার ডন গারবার তার হাতে শংসাপত্র তুলে দেন। এরপর ম্যাচের শুরুতেই উড়ন্ত গোলের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নেন মেসি, শেষে জোড়া গোল করে ম্যাচের সুন্দর সমাপ্তি ঘটান।

    নির্ধারিত সময়ে মায়ামি ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে নাটকীয়ভাবে ৯৬ মিনিটে ন্যাশভিলে এক গোল শোধ করেন। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৬ মিনিট আগে, বিরতির ঠিক আগে, মেসি একটি সহজ গোল করেন। খেলা হয় চেজ স্টেডিয়ামে, যেখানে ৫৩ শতাংশ বল দখলে রেখে ১২টি শট নেয় মায়ামি, এর মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে, ন্যাশভিলের তিনটি লক্ষ্যে থাকলেও, মোট শট ছিল ছয়টি।

    সপ্তাহখানেকের মধ্যে ন্যাশভিলেকে দ্বিতীয়বার হারাল মায়ামি। এর আগে লিগের শেষ ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকে ৫-২ ব্যবধানে জয় ছিল তাদের। আজ আবারো জয়ের মাধ্যমে প্লে-অফের ‘বেস্ট অব থ্রি’ পর্বের প্রথম রাউন্ডে এগিয়ে গেল হাভিয়ের মাশ্চেরানোর দল।

    ম্যাচের ১৯ মিনিটে প্রথম লিড এনে দিতে সাহায্য করেন মেসি। লুইস সুয়ারেজের کراস থেকে, বক্সের মাঝামাঝি থেকে, উড়ন্ত হেড দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ম্যাচের প্রথমার্ধের পরে, ৬২ মিনিটে তাদেও আলেন্দের গোলের মাধ্যমে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। সেই সময়ে মায়ামির গোলরক্ষকটি বলটি আটকাতে পারেননি, ফলে গোলটি সহজে জড়িয়ে যায়।

    ইনজুরি সময়ে খেলা আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে, সম্ভবত তাঁর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে সহজ গোলটির মাধ্যমে ব্যবধান আরও বাড়ান মেসি, যেখানে ন্যাশভিলে গোলরক্ষক বলটি ফেল করে ফেলেন, আর তিনি নরমভাবে ফাঁকা জালে জড়িয়ে দেন। শেষ মুহূর্তে হানি মুখতার ব্যবধান কমানোর জন্য গোল করেন, তবে এতে দলের জয় আটকায় না।

  • এনসিএল চারদিনের টুর্নামেন্ট শুরু ২৫ অক্টোবর থেকে

    এনসিএল চারদিনের টুর্নামেন্ট শুরু ২৫ অক্টোবর থেকে

    ময়মনসিংহ বিভাগকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের টুর্নামেন্ট। এই প্রতিযোগিতা ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে, যা দীর্ঘ দিন ধরেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিসিবি ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টের সম্পূর্ণ সূচি প্রকাশ করেছে, যাতে সব দল নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পেরেছে।

    এনসিএলের খেলা মূলত মিরপুর শের ই বাংলা স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও আউটার মাঠ, রাজশাহীর বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং বিকেএসপি’র ৩ নম্বর মাঠ ও কক্সবাজারের দুটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামসহ বেশ কিছু ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

    এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের আটটি দল তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, যেখানে খেলোয়াড়দের মধ্যে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেটাররা রয়েছেন। সব দলেরই লক্ষ্য শিরোপা জয়। নিচে প্রত্যেক বিভাগের দল ও তাদের নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিস্তারিত দেয়া হলো:

    **খুলনা বিভাগ:** সুযোগ পানেছেন সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন (উইকেটকিপার ও অধিনায়ক), এনামুল হক বিজয়, আফিফ হোসেন ধ্র“ব, জিয়াউর রহমান, নাহিদুল ইসলাম, অমিত মজুমদার, মোঃ ইমরানুজ্জামান, পারভেজ জীবন, টিপু সুলতান, সফর আলী ও মেহেদি হাসান রানা। স্ট্যান্ডবাই মোকাদ্দেস, আখের হোসেন, আরিফুল ও মাসুম।

    **রাজশাহী বিভাগ:** হাবিবুর রহমান সোহান (অধিনায়ক), সাব্বির হোসেন, ইমন আলী, সাব্বির রহমান, মেহরব হোসেন, প্রীতম কুমার, রহিম আহমেদ, শাখির হোসেন শুভ্র, তাইজুল ইসলাম, নিহাদুজ্জামান, সানজামুল ইসলাম, মোহাম্মদ ওয়ালিদ, শফিকুল ইসলাম, সুজন হাওলাদার ও আসাদুজ্জামান পায়েল। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা হলেন মোহর শেখ, মাইশুকুর রহমান, নাহিদ রানা, রায়হান আলি, সাকিব শাহরিয়ার, মিজানুর রহমান ও ওয়াসি সিদ্দিকী। রিজার্ভে থাকবেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম।

    **সিলেট বিভাগ:** মুবিন আহমেদ দিশান, মিজানুর রহমান সায়েম, আমিত হাসান, জাকির হাসান (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), সৈকত আলী, মুশফিকুর রহিম, আসাদুল­া আল গালিব, শাহানুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ, রেজাউর রহমান রাজা, এবাদত হোসেন চৌধুরী, আবু জায়েদ রাহী, নাবিল সামাদ ও নাঈম হোসেন সাকিব। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা ৬জন।

    **রংপুর বিভাগ:** আব্দুল­াহ আল মামুন, মিম মোসাদ্দেক, জাহিদ জাভেদ, নাইম ইসলাম, আকবর আলী (অধিনায়ক), তানবির হায়দার খান, নাসির হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, রবিউল হক, নবীন ইসলাম, মেহেদি হাসান, আবু হাসিম, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন ও শেখ ইমতিয়াজ শিহাব। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা বিভিন্ন।

    **ময়মনসিংহ বিভাগ:** নাঈম শেখ, আবদুল মজিদ, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, আইচ মোলা, আরিফুল ইসলাম, আল আমিন হোসেন, শুভাগত হোম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, গাজী মোহাম্মদ তাজিবুল, রাকিবুল হাসান, আরিফ আহমেদ, আবু হায়দার রনি, মারুফ মৃধা, শহিদুল ইসলাম ও আসাদুল­াহ গালিব। স্ট্যান্ডবাই থাকছেন আরও কিছু খেলোয়াড়।

    সব মিলিয়ে, এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন বিভাগের শক্তিশালী দল যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়তে খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করবেন। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় আছে এই ভিন্নমাত্রার প্রতিযোগিতার, যা আগামী ২৫ অক্টোবর শুরু হবে।

  • মেসির হাতে গোল্ডেন বুট, এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার

    মেসির হাতে গোল্ডেন বুট, এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার

    নির্বাচিতভাবে ন্যাশভিলে এসসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এমএলএস লিগের গোল্ডেন বুট পুরস্কার জেতলেন লিওনেল মেসি। চেজ স্টেডিয়ামে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন এমএলএসের কমিশনার ডন গারবার। ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে প্রথমবারের মতো এই সম্মান অর্জন করেন তিনি।

    ডন গারবার গোল্ডেন বুট তুলে দিয়ে বলেন, “আমরা কখনো কল্পনা করিনি যে লিওনেল এই ক্লাব, এই শহর ও এই লিগের জন্য এত গভীর প্রভাব ফেলবে। তিনি পুরো এমএলএস এর গতিপথ বদলে দিয়েছেন।”

    এর এক দিন আগে, ইন্টার মিয়ামি ঘোষণা করে যে, মেসি তিন বছরের জন্য নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ক্লাবে থাকবেন। এর মানে, তিনি চল্লিশের কাছাকাছি বয়সেও মিয়ামির হয়ে খেলে যাবেন।

    গারবার বলেন, “মেসি এমন এক খেলোয়াড়, যিনি ফুটবলকে ভিন্নভাবে ভাবেন। তার জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে সর্বকালের সেরা করে তুলেছে।”

    ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মেসি ক্লাবের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তার নেতৃত্বে ২০২৩ সালে লিগস কাপ জয় করে, এবং পরের বছর ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ডসহ এমএলএস এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড গড়ে।

    ব্যক্তিগতভাবে তিনি ২০২৪ সালের এমভিপি (মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার) পুরস্কার জয় করেছেন এবং ২০২৫ সালের সংস্করণে আবার এই পুরস্কার জেতার অন্যতম ফেভারিট হিসেবে থাকছেন। যদি তিনি আবার জয় করেন, তবে এমএলএস ইতিহাসে টানা দুইবার এমভিপি পুরস্কার জয়ী প্রথম খেলোয়াড় হবেন তিনি।

    মেসির আগমনের পর ইন্টার মিয়ামির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার। এমএলএস-এর টিকিট ও জার্সির বিক্রিও রেকর্ড ছুঁয়েছে।

    গারবার হাস্যরসে বলেন, “তিনি আসলে ‘ইউনিকর্ন অব ইউনিকর্নস’। তার চিন্তা, মনোযোগ ও জয়ের ইচ্ছাই তাকে সর্বকালের সেরা করে তুলেছে।”

    নতুন চুক্তির ঘোষণা উপলক্ষে ইন্টার মিয়ামি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করে যেখানে দেখা যায়, তিনি ক্লাবের নতুন স্টেডিয়ামে নিজে চুক্তি স্বাক্ষর করছেন। এই স্টেডিয়ামটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত এবং আগামী বছর উদ্বোধিত হবে।

    গারবার মন্তব্য করেন, “এটি দেখায়, ক্লাবটি কতটা পেশাদার ও বুদ্ধিদীপ্তভাবে কাজ করছে।” মেসি এখন শুধু মিয়ারামের জন্যই নয়, পুরো আমেরিকার ফুটবলের প্রতীক হয়ে উঠেছেন — এক কথায়, “দ্য গিফট দ্যাট কিপস অন গিভিং।“

  • ১৭ মাস পর ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

    ১৭ মাস পর ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সুপার ওভারে হেরে বসে বাংলাদেশ। আজকের তৃতীয় ও সিদ্ধান্তমূলক ম্যাচটি ছিল সিরিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে দুর্দান্তনৈপুণ্য দেখিয়েছে টাইগাররা। ব্যাটিংয়ে প্রথমে শুরু করে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারের রেকর্ড জুটিতে দলের স্কোর বোর্ডে ওঠে ২৯৬ রান। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের স্পিনাররা ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের ঘূর্ণিতে ৩০.১ ওভারে ১১৭ রানেই অলআউট করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এজন্য তারা বড় জয় লাভ করে ১৭৯ রানের ব্যবধানে। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক বিশেষ দিন, কারণ এটি একদিনের ক্রিকেটে ১৭ মাস পর তাদের প্রথম সিরিজ জয়। শেষবার টাইগাররা এমন জিতেছিল মার্চ ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে।

    কলেজের বিরুদ্ধে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৬ রানেই তাদের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। নাসুম আহমেদ তাঁর বলেই অলীক আথানেজকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন। অতো কিছু করার আগেই তিনি করেন ২১ বলের মধ্যে ১৫ রান। এরপর বাকী দুই উইকেটও তুলে নেন নাসুম। ২৮ রানে আউট হন আকিম অগাস্টে, ৩৫ রানে ব্র্যান্ডন কিং। এরপরই অন্যদের ওপর চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা, কারণ তারা ৬৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। এর পর তাদের ব্যাটসম্যানরা কিছু সংগ্রাম করে, তবে বড় সংগ্রহ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান হয় ১১৭, যা বাংলাদেশের জন্য বিশাল জয়। এটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়, প্রথমটি ছিল ১৬০ রানের জয় ২০১২ সালে খুলনায়।

    টাইগার স্পিনাররা আজ বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে। রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদ তিনটি করে উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে দলকে বিপদে ফেলাönen। মিরাজ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে শুরুতেই সাইফ ও সৌম্যর রেকর্ড ১৭৬ রানের উদ্বোদনী জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর বিশাল ২৯৬ রানে পৌঁছে। দলের ওপর মোস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতি ছিল, কারণ তিনি খেলতে আসেননি। সব ওভারই স্পিনাররা করেন, এখন বাংলাদেশ সফলভাবে এই সিরিজ জিতল।

  • পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন বাবর আজম

    পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন বাবর আজম

    অবশেষে পাকিস্তান টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বাবর আজম পুনরায় মাঠে ফিরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ খবর নিশ্চিত করে বাবর আজমের ক্রিকেটে ফেরার খবরটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    বাবর সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, যা সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর তাঁকে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশের সঙ্গে খেলানো হয় নি এবং চলতি বছরের এশিয়া কাপেও তাঁকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল।

    পিসিবি নতুন এই সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের টি-টোয়েন্টি দলে ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের স্কোয়াডও প্রকাশিত হয়েছে। যদিও সালমান আলি আগের মতোই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, তবে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্বের ব্যাটন এখনও তার হাতে। অপরদিকে, ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পেয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।

    এছাড়াও, টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন আবদুল সামাদ এবং নাসিম শাহ। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার উসমান তারিক, যারা সবাই এখন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে।

    তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে। এরপর, ৪ থেকে ৮ নভেম্বর ফয়সালাবাদে হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ১১ থেকে ১৫ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। অবশেষে, নভেম্বরের ১৭ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত পাকিস্তান আয়োজন করবে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যেখানে অংশ নেবে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ে।

    পাকিস্তানের বিভিন্ন স্কোয়াডের মূল সদস্যরা হলেন:

    টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, হাসান নওয়াজ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান খান (উইকেটকিপার), এবং উসমান তারিক।

    ওয়ানডে স্কোয়াড: শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, ফখর জামান, হ্যারিস রউফ, হাসিবুল্লাহ, হাসান নওয়াজ, হুসাইন তালাত, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, নাসিম শাহ, সাইম আয়ুব, সালমান আলি আগা।

  • সাকিবের ইচ্ছা দেশের মাটিতে বিদায় নেওয়ার

    সাকিবের ইচ্ছা দেশের মাটিতে বিদায় নেওয়ার

    বাংলাদেশ থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্রে মাইনর লিগ ক্রিকেটে খেলতে গিয়ে নিজেকে আবারও পুরনো স্মৃতিতে মুক্তি পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার বর্তমান ক্রিকেট জীবন, অবসর পরিকল্পনা এবং তার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নানা গুজবের বিষয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন।

    অস্ট্রেলিয়ায় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত উপভোগ্য বলে উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ‘আসলেই এটা খুবই আনন্দের বিষয়। আমার সঙ্গে অনেক স্থানীয় খেলোয়াড়ের পরিচয় হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু খেলোয়াড়ের সাথেও দেখা হয়েছে যাদের সঙ্গে আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরুতেই খেলেছি। এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য অনেক স্মরণীয়। আমি কখনও ভুলবো না সেই দিনের কথা, যখন আমার ছোটবেলার পরিবেশকে মনে পড়ে আমার হৃদয় ভরে উঠত। এই মুহূর্তগুলো আমাকে আবারও নিজের আগের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’

    বাংলাদেশে নিজের জনপ্রিয়তা ও বিরুপ মন্তব্য নিয়ে সাকিব তার মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন সময় আমাকে অর্থকেন্দ্রিক বা শোরুম আল হাসান বলে সমালোচনা করেছে, যা আমি মনে করি অনেকটাই সাংবাদিকদের তৈরি গল্প। এগুলো হলো কিছু মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের আনা কল্পকাহিনী, যা বলে মানুষ ভাবতে থাকে আমি অন্যরকম। সত্যি বলতে, আমি জানি বাংলাদেশে আমি যা করেছি, তা অন্য কেউ করেনি। আমার এসব কীর্তি তাদের জন্য নতুন, আর সেই জন্য তারা আমাকে সমালোচনায় ভরিয়ে দেয়। তবে আমি মনে করি, এই সব কিছুই এক সময় সবাই বুঝে যাবে।’

    নিজেকে কেন্দ্র করে গুজব বা নেতিবাচক মন্তব্যের ব্যাপারে তিনি বিতরণ করিছেন কোনো দুশ্চিন্তা না থাকাও। তিনি বলেন, ‘মানুষের নিজের ভাবনা থাকতে পারে, আমি সেটা নিয়ে কোনও চিন্তা করি না। আমার আগের দিনগুলো বা ভক্তরা কী ভাবছে, তা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছের মানুষরা কী ভাবছে। আমি নিশ্চিত, তারা এমন ধারণা পোষণ করে না।’

    ২০২৪ সালে যখন দেশে গণ-আন্দোলনের সময় তিনি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেননি বলে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে সাকিব স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এটি কেবল এক মুহূর্ত ছিল যা খুবই অসুবিধাজনক হয়ে পড়েছিল। হয়তো তারা অন্য কিছু প্রত্যাশা করেছিল, আমি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি, বা আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন ছিলাম না। এই সময়ে আমি বাড়ি থেকে অনেক দূরে ছিলাম, আর এই কারণেই হয়তো তারা আমার বিরুদ্ধে গিয়েছিল। আমি এটির কোনও অনুশোচনা করছি না বরং আমি মনে করি, মানুষ এখন বুঝে উঠতে শুরু করেছে।’

    সাক্ষাৎকারে তিনি অবসর সংক্রান্ত জল্পনায় স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘না, আমি কোনো ফরম্যাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিইনি।’ তবে, তিনি যেনাকেন দারুণ একটি ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, ‘দেশের মাটিতে যেন শেষবারের মতো ভক্তদের সামনে বিদায় জানাতে পারি। আমি মনে করি, এটা আমার জন্যে নয়, বরং তাদের জন্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি সেটা ঘটে, তা একদম সবার জন্য একটা সুন্দর মুহূর্ত হবে।’