সৌদি আরব ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপের জন্য অনন্য ও স্মার্ট স্টেডিয়াম নির্মাণে, যার মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। এটির নাম রাখা হয়েছে ‘নিওম স্টেডিয়াম’, যা আকাশের উচ্চতা থেকে আন্ডারগার্ডে মাঠের দৃশ্য দেখতে সক্ষম হবে। এই উদ্যোগটি বেশ অবাস্তব মনে হতে পারে মনে হলেও, সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। সৌদি আরবের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, এই স্টেডিয়ামসহ দেশটির অপর ১১টি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ৪টি বিদ্যমান স্টেডিয়াম সংস্কার করতেGoing করেছে। ফিফার বিড_FLAGS_ এর মধ্যে সৌদি আরবের বিশাল প্রবর্ণা জারি হয়েছে, যেখানে নিওম স্টেডিয়ামকে বিশ্বের অন্যতম অনন্য স্টেডিয়াম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মাঠটি থাকবে ৩৫০ মিটার উচ্চতায়, যেখানে বিশাল শহরের কাঠামো দিয়ে ছাদ তৈরি হবে, যা দর্শকদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হবে। এই স্টেডিয়ামটি ‘দ্য লাইন’ নামের ভবিষ্যতনির্ভর স্মার্ট সিটির অংশ হিসেবে নির্মিত হচ্ছে। এই শহরটি এখনও নির্মাণাধীন, তবে এর সম্পূর্ণতা আশা করা হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে, বিশ্বকাপের প্রায় ১১ বছর আগে। প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, নিওম স্টেডিয়ামে ধারণক্ষমতা থাকবে ৪৬,০০০ দর্শকের, যা ৩৫০ মিটারে মাঠ থেকে ওপরে অবস্থান করবে। এর পাশাপাশি রিয়াদ, জেদ্দা, আল খোবার ও আভা শহরেও নির্মিত হবে আধুনিক স্টেডিয়াম। প্রতিটি স্টেডিয়ামের ডিজাইন হবে আলাদা এবং অনন্য, যেখানে রঙিন আলোকসজ্জা, স্ফটিকের মতো নকশা বা স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করা হবে। দিনক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর ফিফার সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবকে ২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে। উল্লেখ্য, এই আসরে কমপক্ষে চারটি স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতাসহ ৪০,০০০ দর্শকের বেশি স্থান থাকলেই বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব। এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলো থেকে এই আয়োজনের জন্য শুধু সৌদি আরবই বিড জমা দেয়। ফিফার রোটেশন নীতিমালা অনুযায়ী, এই আয়োজন হবে ২১শ শতাব্দীর তৃতীয় বিশ্বকাপ। এর আগে ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান এবং ২০২২ সালে কাতারে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যতে, ২০৩৬ সালে বা পরবর্তীতে, এই অঞ্চলে আরও একটি বড় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরবের সামনে এখনও অনেক সময় রয়েছে বিনিয়মের শেষ ধাপে পৌঁছানোর জন্য, তবে তার আগেই নজর রাখা হবে ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে যেখানে সম্ভবত দেখা যাবে দুই লেজেন্ডের—ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসিকে, তাদের ক্যারিয়ারের বিদায়ী মুহূর্তগুলো।
Category: খেলাধুলা
-

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই তারকা এখনো ঘরোয়া লিগে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। তবে সম্প্রতি কিছুদিন ধরে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি এখন আরও এক বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা হলো অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
সম্প্রতি এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে দুইটি ম্যাচ খেলার পর তিনি আবারো ইনজুরিতে পড়েছিলেন, যার কারণে এরপর আর কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তবে তার ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি, পাশাপাশি নিয়মিত রিহ্যাভ সেশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এ সময়েই ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হন এই সাবেক ক্রিকেটার।
গত চার দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথমে জ্বর নিয়ে সমস্যা শুরু হলেও পরে চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর জানা যায় তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। এরপরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিসিবির মেডিকেল বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আপাতত হাসপাতালে রয়েছেন তিনি, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে তার শারীরিক পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
-

নিখোলনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বরিশালের ফিজিও মৃত্যুবরণ
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) খুলনা-বরিশাল ম্যাচের তৃতীয় দিনে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বরিশাল বিভাগের ফিজিও হাসান আহমেদ (৪৭) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ দুঃখজনক খবর নিশ্চিত করেছে বরিশাল টিম ম্যানেজমেন্ট।
হাসান আহমেদ বেশি সময় ধরে বরিশাল বিভাগের ক্রিকেট দলের ফিজিও হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। আজও তিনি দলের সঙ্গে মাঠে উপস্থিত ছিলেন, তার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ফর ট্রমা ভিকটিমসের (বিআরসিটিভি) প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
ফিজিও হাসানের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক শোকবার্তায় বিসিবি জানিয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানাতে আজ (সোমবার) চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ দল কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবে। এছাড়াও, ম্যাচের শুরুতে তার আত্মার শান্তির জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে।
বিসিবি আরও জানিয়েছে, চলমান এনসিএলের চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে হাসান আহমেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হবে।
এদিকে, উল্লেখ্য, এই আসরের প্রথম দিনেই বরিশালের ব্যাটার ফজলে মাহমুদ রাব্বি ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন। তবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়নি এবং তিনি এখন সুস্থ আছেন।
-

লিটন-সাইফদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা হতাশাজনক হয়েছে। ব্যাটিংয়ে কেউই নিজেকে শিল্পে পরিণত করতে পারেননি। তাবড় ক্রিকেটাররা পাওয়া যায়নি বলে মনে হয়েছে। মাঝে কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন তাওহীদ হৃদয় খানিকটা লড়াই করার, তবে তা ফলপ্রসূ হয়নি। বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরু হয় ৭৭ রানে ৬ উইকেট পতনের পর, তখনই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তরুণ ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম। তিনি আরও কিছু চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষমেশ উইকেটের পতন হয়। বাংলাদেশে মিডিয়াম পেসার নাসুম আহমেদ এবং অলরাউন্ডার সাকিব আল-হাসান ঝড় তুলেন, তারা ২৩ বলে ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের কিছুটা আশা জাগান। তবে এরই মধ্যে দলকে পুরোপুরি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হন উইকেটকিপার-ব্যাটার জেসন হোল্ডার এবং শর্টফাইন লেগের অক্ষরে ক্যাচ নিয়ে তাঁদের অর্ধেক দলের আশা শেষ করেন। বাংলাদেশ শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ৪২ রান করে ৪ উইকেট হারিয়ে, তখনই ম্যাচের মোড় মোড়ানো হয়। লিডিং এজের কারণে লিটন দাস দ্রুত ফিরতেই, অপরপ্রান্তে সাইফ হাসানও আউট হন। লিটন রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন এবং সাইফও আকিলের বলের শিকার হন। এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারি বোল্ড হন, বলের লাইনে ভুল করে। সব মিলিয়ে, পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ৪২ রান করে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। দলের আরেক ব্যাটার, তরুণ হৃদয় খানও রান করতে পারেননি। তার কেবিনে আউট হয়েছেন আকিলের বলে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে। ১০ বল খেলে তিনি মাত্র ৫ রান করেন। তানজিদ আর হৃদয়ের প্রস্থান এর পর, তরুণ নাসুম আহমেদ ও তানজিম হাসান দ্রুত রান তুলতে থাকেন। কিন্তু নাসুম ১৩ বলে ২০ রান করেই ফিরেন, এরপর রিশাদ খান শেষ দিকে সুবিধা করতে পারেননি। ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১৪৯ রানে, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সহজ লগ্নি। ওদের ওপেনাররা শুরুতেই দিন গড়ে ৫৯ রান যোগ করে, তবুও পুরোপুরি সুবিধা নেননি। শেষে শেরফান রাদারফোর্ড গোল্ডেন ডাক পেয়ে যান, এবং শাই হোপ ২৮ বলে ৪৬ রান ও ভরম্যান পাউয়েল ৪৪ রান করে দলের সংগ্রহকে ১৬৫ রানে নিয়ে যান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুই উইকেট নেন, রিশাদ নেন একটি। ওদের জন্য পেসার সিলস ও হোল্ডার তিনটি করে উইকেট শিকার করেন, বাংলাদেশের জয় স্বপ্ন এখনই বাস্তব হতে পারেনি।
-

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন লিওনেল মেসি
বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম তারকা লিওনেল মেসি ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ তিন দশকের শিরোপাখরা কাটানোর পাশাপাশি একজন চিরসবুজ কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। সেই ঐতিহাসিক অর্জনের পর থেকে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে—এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে এই মহান ফুটবল তারকাকে? এখন এই প্রশ্নের সদুত্তর মিলেছে। সম্প্রতি এনবিসি নিউজের এক সাক্ষাৎকারে মেসি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি পুরোপুরি ফিট থাকেন, তাহলে তিনি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলতে চান। তবে সিদ্ধান্ত নেবেন ধীরে-সুস্থে, নিজের শারীরিক অবস্থা দেখে। তিনি বলেন, যদি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি, সেটি হবে আমার জন্য সত্যিই অসাধারণ একটি খবর, এবং আমি সেটাই চাচ্ছি। সম্পূর্ণ ফিট থাকলে এবং মূল দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে আমি সেখানে থাকতেই চাই। তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি ডে-টু-ডে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। নতুন বছরটির (ইন্টার মায়ামির প্রি-সিজন শুরু হওয়ার সময়) আগে তিনি দেখবেন নিজের অবস্থা কেমন, এরপর সিদ্ধান্ত নেবেন। বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এ ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। ২০২৩ সালে ইউরোপের বাইরেও নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ডেভিড বেকহ্যামের ক্লাবে। দুই মৌসুমের সফলতা শেষে সম্প্রতি তিনি আরও তিন বছর জন্য মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তই তার ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করেছে। মেসি বিগত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পেশাদার ফুটবলে রয়েছেন। ২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তার। ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন ২০২২ সালের বিশ্বকাপ শিরোপা। তাঁর কাছে বিশ্বকাপ জেতা ছিল জীবনের স্বপ্ন, যা তিনি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন—এটাই তার পেশাদার ক্যারিয়ারে অর্জন করার মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জয়ে ১৯৫ ম্যাচে অংশ নিয়ে করেছেন রেকর্ড ১১৪ গোল। যদি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মাঠে নামেন, তাহলে এটি হবে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপের উপস্থিতি, যা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল নজির হয়ে থাকবে।
-

আইসিসিকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ক্রিস ব্রডের
মাঠে ভারতীয় দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আর তাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি অবশ্যই বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পাশাপাশি অনেকেরই মনে হয়, ভারতের ক্রিকেট বিষয়ে আইসিসি কিছু অসঙ্গত সুবিধা দিচ্ছে। সেই সংক্রান্ত বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন সাবেক ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড।
দ্য টেলিগ্রাফের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ব্রড বলেন, তিনি আইসিসির স্টাফ থাকাকালে এমন অনেক অপ্রকাশিত পরিস্থিতি দেখেছেন, যেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু সদস্য বা দেশের প্রভাববলয় সেই সময়ের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ভারতকে সুবিধা দিয়ে থাকতেন। তিনি বলেন, “একটি ম্যাচে ভারত নির্ধারিত সময়ের তিন-চার ওভার পিছিয়ে ছিল, আর তখনই আমাকে ফোন করে বলা হয়— ‘ক্ষমাশীল থাকো, কিছু বের করতে হবে, কারণ এটা ভারত।’ সেই চাপের মুখে আমি বিষয়টি অন্ধকারের ভিতর রেখেছি।”
এছাড়াও, ব্রড দাবি করেছেন যে পরের ম্যাচেও একই ধরণের পরিস্থিতি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি দ্রুত ওভার শেষ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ফোনে নির্দেশনা দেয়া হয়। ব্রডের মতো একজন অভিজ্ঞ রেফারি তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করলেও এই চাপ অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছিল।
তার দীর্ঘ ২১ বছর অর্থাৎ ২০০৩ থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি ১২৩ টেস্ট, ৩৬১ ওয়ানডে ও ১৩৮ টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে মোট ৬২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেন। তবে এতে লেগে থাকা চাপ ও অস্বস্তি দেখে এখন তিনি মনে করেন, এত বছর ধরে এই দায়িত্বে থাকাটা অনেক বড় এক সংগ্রাম ছিল।
ব্রড আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তানে লাহোরে শ্রীলঙ্কান দলের ওপর হামলার ঘটনা তার কর্মজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। তিনি বলেন, “আমি অনেকবার জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। এখন আমি খুশি যে অজেয় সেই পরিবেশ থেকে কিছুটা দূরে থাকতে পারছি। আমি বিশ্বাস করি, এমন পরিবেশে সত্য আর মিথ্যার বোঝা খুবই কঠিন। যেমন কোথাও কোথাও বাস্তবতা গঙ্গার মতো—দূষিত, আর অপ্রত্যাশিত।”
এছাড়াও, ব্রড তার ছেলে স্টুয়ার্ট ব্রডের ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্সের কথাও তুলে ধরেছেন। ২০২৩ সালে অ্যাশেজ সিরিজে ডেভিড ওয়ার্নারকে আউট করার পর নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে মজার এক মিম শেয়ার করেছিলেন ব্রড, যা আইসিসির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
ব্রডের মতে, আইসিসির মধ্যে কাজ করেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়। তিনি বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে ভিন্স ভ্যান ডার বিলের মতো মানুষের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছি। কিন্তু তার চলে যাওয়ার পর থেকে সংস্থার পরিস্থিতি অনেকটাই অপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারতীয় অর্থের প্রভাব অপরিসীম এবং বিভিন্ন উপায়ে আইসিসির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। আমি এখন অপরাজেয় এমন পরিবেশ থেকে বের হয়ে আসতে পেরে بہت খুশি, কারণ এখন এখানে থাকাটা এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার মতো।”
-

কালামের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে হারিয়ে আফগানিস্তান জিতল
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করতে পারেনি বাংলাদেশের টীমের তরুণ ব্যাটারেরা। বগুড়ায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ, দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে তারা দুঃসাহসিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তবে কালাম সিদ্দিকি ও রিজান হোসেনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে তারা ম্যাচে ফেরে। শেষ সময়ে আলোকস্বল্পতার কারণে পুরো ৫০ ওভার খেলা শেষ করা সম্ভব হয়নি, তবে ডিএল মেথডে ৫ রানে জয় লাভ করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
আফগানিস্তান আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ সফলতা লাভ করেন ইকবাল হোসেন ইমন, যিনি ৫ উইকেট শিকার করেন। রিজানও দুটি উইকেট পান। বাংলাদেশের রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় দল। ওপেনার জাওয়াদ আবরার ৩য় ওভারে ফিরিয়ে যান। এরপর আজিজুল হাকিম তামিম ব্যর্থ হয়ে দলের জন্য চাপ তৈরি করেন। রেফাত বেগ শুরুটা ভালো করলেও ৩০ বলে ২৬ রান করে আউট হন। দলের স্কোর তখন ৬০ রানে পৌঁছায়, এবং সেই সময় টপ অর্ডারের তিনজন ব্যাটারই ফিরে যান।
অবশেষে রিজান ও কালাম এক সাথে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা ১৩৯ রান যোগ করেন, যেখানে কালাম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১১৯ বলে ১০১ রান করে তিনি আউট হন। এরপর রিজান মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সাথে প্রয়োজনীয় রানের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যান। তবে শেষ মুহূর্তে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে অল্প ব্যবধানের জয়ে বাংলাদেশ ৫ রানে জয় লাভ করে।
এদিকে, আফগানিস্তানের পক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৫ রান যোগ করেন খালিদ আহমেদজাই ও ওসমান সাদাত। তবে পরপরই তারা ফিরে যান। খালিদ ৩৪ বলে ৩৪ রান ও ওসমান ২৬ বলে ১৫ রান করেন। পাকিস্তানির উজাইরউল্লাহ নিয়াজাই শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন, ১৩৭ বলে ১৪০ রান করেন এবং ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন। তার এই দুর্দান্ত শতক সহ ১৬টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত দলকে ধরে রেখে ১৬৫ রান সংগ্রহ করেন।
-

বিসিবির চাকরি ছাড়লেন ফিটনেস ট্রেনার নাথান কেলি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) থেকে মহামান্য ফিটনেস ট্রেনার নাথান কেলি তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ব্যক্তিগত কারণের কারণে তিনি বিসিবির সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ করেছেন, এটি নিশ্চিত করেছে বিসিবি ও ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগের সদস্যরা।
নাথান কেলি গত বছর এপ্রিল মাসে দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশে যোগ দিয়েছিলেন। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারকে আরও বেশি সময় দেয়ার জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার দুপুর ১টায় বিসিবিকে আনুষ্ঠানিক মেইল পাঠিয়ে নিজের অবসরের খবর নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, এশিয়া কাপের সময়কার একটি পিতৃত্বকালীন ছুটিও নিয়েছিলেন কেলি। ২৪ সেপ্টেম্বর তার বাবা হওয়ার পর তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে আর যোগ দেননি। এর ফলে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজটি ও দেশসেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে তাকে পাওয়া যায়নি। এই সময় দেশের জন্য ফিটনেস ট্রেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ইফতেখার রহমান।
নাথান কেলি যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন তিনি ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষায় কিছু নতুনত্ব এনেছেন। প্রচলিত বিপ এবং ইয়ো-ইয়ো টেস্টের বাইরে তিনি চালু করেছিলেন ‘টাইম ট্রায়াল’। এই পরীক্ষায় ক্রিকেটারদের চার চক্করে ১,৬০০ মিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হত এবং সময় অনুযায়ী পাস বা ফেল নির্ধারিত হতো। এশিয়া কাপের আগে ও ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেক ক্রিকেটার এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
নাথান কেলি এই পরীক্ষাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছিলেন। এর আগে, তিনি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস দলের ফিটনেস ট্রেনার হিসেবে কাজ করেছেন এবং একটি রাগবি দলের ফিটনেস ট্রেনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল।
-

আফিফের দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে আড়াই দিনে খুলনার সহজ জয়
জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডে খুলনা বিভাগ বরিশালের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। চার দিনের এই ম্যাচটি মাত্র আড়াই দিনে সম্পন্ন হয়, যেখানে খুলনা এক বলেও পাত্তাকরমে পাননি বরিশালকে। শেষ দিন তারা মাত্র ৩৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে সহজ জিতে যায়। এটি ছিল একটি অসাধারণ ম্যাচ যেখানে অফ স্পিনের জাদু দেখে মুগ্ধ হন ক্রিকেটপ্রেমীরা। এমসাজে, ম্যাচ সেরা হিসেবে উঠে এসেছেন খুলনার অধিনায়ক আফিফ হোসেন ধ্রুব, যিনি দুই ইনিংসেই তার স্পিন বলের জাদু দেখিয়েছেন।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে খুলনা তাদের লক্ষ্য অর্জন করে বরিশালকে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে দেয়। প্রথম ইনিংসে ৩১৩ রান করে খুলনা, যেখানে তাদের দুই ব্যাটসম্যান – জিয়াউর রহমান ও শেখ পারভেজ জীবন – বিশাল অবদান রাখেন। জীবন ৯১ বলে ৬৯ রান করেন চারটি চারের মাধ্যমে, আর জিয়াউর ৯৮ বলে ৭৩ রান করেন পাঁচটি ছক্কাসহ। বরিশাল প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানে অলআউট হয়, যেখানে আফিফ ৩১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দ্বিতীয় ইনিংসেও আফিফ দেখিয়েছেন তার বিস্ময়কর বোলিং দক্ষতা, ৫ উইকেট সংগ্রহ করে দলের জন্য বড় অবস্থান তৈরি করেন। এরপর বরিশালের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন শামসুর রহমান শুভ, ইফতেখার হোসেন ইফতি ৪০ রান করেন। সব মিলিয়ে বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৪ রানে গুটিয়ে যায়। খুলনার লক্ষ্য তখন খুবই ছোট, মাত্র ৩৮ রান। দিন শেষ হওয়ার আগে, এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার ও ইমরানুজ্জামান বাংলাদেশের এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান। শেষ দিকে, অমিত মজুমদার অপরাজিত থেকে ২২ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে নেন। এই জয়ে খুলনা তাদের দুর্দান্ত ঘূর্ণি বলে দর্শকদের মন জয় করে তুলল।
-

খুলনায় ম্যাচ চলাকালে বরিশাল ফিজিও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু
জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) খুলনা-বরিশাল ম্যাচের তৃতীয় দিনে এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। বরিশাল দলের ফিজিও হাসান আহমেদ (৪৭) হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামি ভাষায়, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আজ (২৭ অক্টোবর, সোমবার) সকাল যখন খেলা চলছিল, তখন খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। দ্রুত চিকিৎসকদের বরাবর নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর নিশ্চিত করেছে বরিশাল দল ম্যানেজমেন্ট।
হাসান আহমেদ দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বরিশাল বিভাগের দলের ফিজিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি আজও সেই দায়িত্বে মাঠে উপস্থিত ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ফর ট্রমা ভিকটিমসের (বিআরসিটিভি) প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।
ফিজিও হাসানের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোকবার্তায় বিসিবি জানিয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানাতে আজ (সোমবার) চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ দল কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবে। এছাড়াও, তার আত্মার শান্তির জন্য ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালিত হবে।
বিসিবি আরও জানিয়েছে, চলমান এনসিএলের চতুর্থ দিনের খেলার শুরু থেকেই হাসান আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নীরবতা পালন করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে এই আসরের প্রথম দিনেই বরিশালের ব্যাটার ফজলে মাহমুদ রাব্বি ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন। তবে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়নি এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।
