Category: খেলাধুলা

  • শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ রানের হৃদয় ভাঙা পরাজয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা

    শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ রানের হৃদয় ভাঙা পরাজয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কার কাছে খুব কাছ থেকে হার মানে হৃদয় ভেঙে। শারমিন সুপ্তা ও নিগার সুলতানা জ্যোতির ব্যাটে জয়ের পথে ছিল বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা। তবে সুপ্তার ইনজুরি এবং শেষ দ্রুত উইকেট হারানোর কারণে ৭ রানের হার নিয়ে ম্যাচটি শেষ হয়ে যায়, যার ফলে বাংলাদেশ গ্রুপ থেকে বাদ পড়তে বাধ্য হয়। এক ম্যাচ হাতে থাকলেও সম্ভাবনাময় এই ইতিহাসের জন্য তাদের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

    ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল মাত্র আট বলের মধ্যে ২০২ রানের অলআউট হয়। ইনিংসের প্রথম বল থেকেই তারা উইকেট হারাতে শুরু করে, তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭২ রান যোগ করে। কিন্তু স্পিনার রাবেয়া খান ঝড়ো লাইন ও লাইন দিয়ে জুটিকে ভেঙে দিয়ে আক্রমণ চালান। তিনি ৪৩ বলে ৪৬ রান করা লঙ্কান অধিনায়ক আতাপাথুকে আউট করেন।

    এরপর ১০০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি কঠিন হয়। হার্শিতা সামারাবিক্রমা ৪ রান করে রানআউট হলেও, ষষ্ঠ উইকেটে আবার ৭৪ রান যোগ করে লঙ্কানরা বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে। তবে নিলাক্ষ্মী ৩৮ বলে ৩৭ রান করে আউট হওয়ার পর, ওপেনার হাসিনি পেরেরা ১৩টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারলে ৮৫ রানে আউট হন, যা তাদের মানসম্মত ইনিংস।

    বিপরীতে, বাংলাদেশের শুরু ভয়ানক ছিল। ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর, ওপেনার রাবেয়া হায়দার (শূন্য) ও ফারহানা হক ফিরে যান। তবে সুপ্তা ও জ্যোতি একসাথে ১৩২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কিছুটা সহজ করেন।

    কিন্তু সুপ্তা ৬৪ রান করে ইনজুরিতে মাঠ ছাড়লে দলের জন্য একটু ঝামেলা তৈরি হয়। স্বর্ণা ও জ্যোতি দলের ঝড় তুলতে থাকলেও, স্বর্ণা ২৭ বলে ১৯ রান করে ফিরে যান, যা দলকে চাপে ফেলে।

    শেষের দিকে বাংলাদেশকে জিততে দরকার ছিল ৯ রান। ৪৮তম ওভারে ৯ রান তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ৪৯তম ওভারে ৩ রান নিয়ে রবীন্দ্র মনিকে হারানো, তার কারণে শেষ ওভারে বাংলাদেশ ৯ রান তুলতে সক্ষম হয়নি। শেষ ওভারে বাংলাদেশের জেতার জন্য দরকার ছিল ৯ রান। প্রথম চার বলেই উইকেট হারিয়ে যায়, আর জ্যোতি ক্যাচ দিয়ে যান। তিনি ৯৮ বলে ৭৭ রান করেন।

    বাংলাদেশের হয়ে স্পিনার স্বর্ণা আক্তার ১০ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। রাবেয়া ৯ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। মারুফা, নিশিতা ও নাহিদা প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন। দলের দুই ব্যাটার রান আউট হয়ে যান। শেষ ওভারে ৪ উইকেট নেওয়া চামারি আতাপাথু ১০ ওভারে ৪২ রান দেন। সুগন্ধিকা কুমারী ২ উইকেট নিয়ে দলের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

  • রোনালদো ছাড়াই ভারতে arrived আল-নাসর, ক্ষোভে ভরেছে সমর্থকরা

    রোনালদো ছাড়াই ভারতে arrived আল-নাসর, ক্ষোভে ভরেছে সমর্থকরা

    আগামীকাল ভারতের ক্লাব এফসি গোয়ার বিপক্ষে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ মুখোমুখি হবে সৌদি ক্লাব আল-নাসর। তার জন্য পুরো দল সোমবার রাতেই ভারত সফরে এসেছে। তবে এই সফরে উপস্থিত নেই স্টার ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এটাই ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, কারণ আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল তিনি থাকবেন না। অবশেষে সেটাই সত্যি হয়েছে।

    সৌদি আরবের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পাওয়ার পর জানা যায়, গোয়া ম্যাচে রোনালদোকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। এ কারণেই তিনি ভারতে আসবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবুও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় রোনালদো-অনুরাগীরা আশা করছিলেন যে, হয়তো তিনি অংশ নেবেন। কিন্তু সব আশা ভেঙে গেছে, কারণ আল-নাসর কর্তৃপক্ষ এই অনুরোধ মানেনি।

    এখন পর্যন্ত আল-নাসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ দুটি ম্যাচ খেলেছে, যেখানে রোনালদো অংশ নেননি। দলের চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, সৌদি আরবের বাইরে ম্যাচ হলে রোনালদো নিজে নির্বাচন করবেন কবে খেলবেন ও কবে থাকবেন না। ফলে তার অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীরা যথেষ্ট হতাশ। বিশেষ করে গোয়ায়, যেখানে রোনালদোর আগমনের জন্য অনেক দিন থেকেই ব্যাপক উন্মাদনা ও আলোচনা চলছিল।

    গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত বলেছিলেন, রোনালদোর সম্ভাব্য সফর গোয়া নয়, বরং পুরো ভারতে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “গোয়া সফরের খবর শুনে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচণ্ড উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যদি রোনালদো আসতেন, আমাদের তালিকার সবাই তার বিশাল প্রশংসা করত।”

    তবে এখন দেখা যাচ্ছে, তার ভারতে আগমন সম্ভব হচ্ছে না। জানা গেছে, স্টেডিয়ামের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গিয়েছে, কারণ সমর্থকেরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন, যে তিনি আসছেন। বিশেষ করে, কিছু দিন আগে আল-ফাতেহের বিরুদ্ধে রোনালদোর করা গোল দেখার পর সমর্থকরা আশায় ছিলেন। কিন্তু এবার তারা দুঃখিত হচ্ছেন।

    অন্যদিকে, গোয়া এফসির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আল-নাসর দলকে দেখার জন্য সরকারিভাবে কোনো বাধা থাকবে না। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয় এবং তারা যাতে সহজে দর্শনার্থীদের সাথে চলাচল করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা হবে।

  • মেসির ইতিহাস রচনা: হ্যাটট্রিক করে গোল্ডেন বুট জিতলেন তিনি

    মেসির ইতিহাস রচনা: হ্যাটট্রিক করে গোল্ডেন বুট জিতলেন তিনি

    বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত ছিল। এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা ছিল। এবং অবশেষে সেই ঘোষণা এসে গেছে। Major League Soccer (MLS) মৌসুমের সেরা গোলদাতার পুরস্কার, অর্থাৎ ‘গোল্ডেন বুট’, জিতলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসি।

    গোল্ডেন বুট জেতা মানে তিনি রীতিমতো ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এই প্রথম কোনও ইন্টার মায়ামির ফুটবলার হিসেবে তিনি এই বিশেষ পুরস্কার অর্জন করলেন। এই মৌসুমে ২৯ গোল করে MLS এর নিয়মিত মৌসুম শেষ করেছেন মেসি। তার সাথে সতীর্থদের দিয়ে আরও ১৯ গোল করিয়েছেন, এভাবে তিনি মোট ৪৮ গোলের অবদান রেখেছেন। এই স্কোরের মধ্য দিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলারের মর্যাদা যথেষ্ট উজ্জ্বল করেছেন। মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় মৌসুমে এমন দারুণ পারফর্ম দেখে সবাই মুগ্ধ।

    মায়ামি ফ্লোরিডার এই ক্লাবটি ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে ৫-২ গোলের জয় দিয়ে মৌসুম শেষ করে। এই জয়ে তারা প্লে-অফের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে। আজ ভোরে, মায়ামির ঐতিহাসিক এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মেসি। এই ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন। নভোসিবিলিটির খেলোয়াড়ি হিসেবে, ন্যাশভিলের স্যাম সারিজ এবং এলএএফসি এর ডেনিস বুয়াঙ্গা সমান ২৪ গোল করে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে, মেসি স্পষ্ট এগিয়ে থেকে গোল্ডেন বুট জিতলেন।

    অতিরিক্তভাবে, এই দিন তিনি আরও একাধিক রেকর্ডের মালিক হলেন। MLS এর ইতিহাসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫০ গোল করে ফেললেন তিনি। যেখানে আগে সাবেক তারকা স্ট্রাইকার ইব্রাহিমোভিচ ৫৪ ম্যাচে ৫০ গোল করেন, সেখানে মেসি মাত্র ৫৩ ম্যাচে এই সাহসী অর্জন করে ফেলেছেন।

    একই সঙ্গে, তিনি দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে MLS এর গোল্ডেন বুট জেতার কৃতিত্ব লাভ করলেন। ২০২১ সালে, নিউ ইয়র্ক সিটির হয়ে লা আলবিসেলেস্তেদের প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জয় করেছিলেন ভ্যালেন্টিন ট্যাটি। এবার, মেসি সেই ইতিহাসের পাশে নিজের নাম লিখেছেন।

  • আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে মরক্কো ইতিহাস রচনা

    আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে মরক্কো ইতিহাস রচনা

    বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করল মরক্কো। ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে আফ্রিকার এই দেশটি। রোববার অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে জোড়া গোল করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন যুবক্ষেপ ইয়াসির জাবিরি।

    ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড প্রথম গোলটি করেন ম্যাচের ১২ নম্বর মিনিটে, বাঁ পায়ের নিখুঁত এক ফ্রি-কিকের মাধ্যমে। এরপর ২৯ মিনিটে ওসমান মা’আম্মার পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণের জন্য জাবিরি ছিলেন এক আতঙ্কের নাম।

    ডমিন্যান্ট বল দখলে (প্রায় ৭০% এর বেশি) থাকলেও আর্জেন্টিনা কোনো স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাদের একটি শটও ছিল না গোলমুখে। বিপরীতে, মরক্কো সুযোগ পেলেই দ্রুত কাউন্টার আক্রমণে উঠে বসত। গোলরক্ষক ইব্রাহিম গোমিস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

    দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। মাহের কাররিজোর একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর একটি সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনায় ভিএআর চেক হলেও পেনাল্টি পায়নি তারা।

    মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবির পরিকল্পিত রক্ষণাত্মক কৌশল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের স্ট্রাটেজি ফাইনালের মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। শেষদিকে পরিবর্তন কৌশল কাজে লাগিয়ে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে মরক্কো।

    এই জয়ে আফ্রিকান ফুটবলেও নতুন ইতিহাস লেখা হলো। ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম কোনো আফ্রিকান দল অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতল।

    মরক্কোর এই অভিযানে তারা গ্রুপপর্বে স্পেন ও ব্রাজিলকে হারিয়ে শীর্ষে উঠে আসে। এরপর নকআউটে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছে যান।

    এদিকে, আর্জেন্টিনা সপ্তম শিরোপার আশায় খেলতে নেমেছিল, কিন্তু ইয়াসির জাবিরির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স সেই স্বপ্নকে ভেঙে দেয়। এমনকি এই রাতেই আরও এক নতুন তারকার ওঠানামা হলো বিশ্ব ফুটবলে।

  • বাংলাদেশের বাকি ২ ওয়ানডের জন্য নাসুম আহমেদকে দলে অন্তর্ভুক্ত

    বাংলাদেশের বাকি ২ ওয়ানডের জন্য নাসুম আহমেদকে দলে অন্তর্ভুক্ত

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন। সিরিজের বাকি দুই ম্যাচের জন্য বিশ্বস্ত স্পিনার নাসুম আহমেদকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশ দল।

    প্রথম ম্যাচে মিরপুরের উইকেটে স্পিনাররা বিশেষ সুবিধা পেয়েছিলেন, যা ভবিষ্যতেও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, স্পিন বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নাসুমের মতো দক্ষ স্পিনারকে স্কোয়াডে স্থান দেওয়া হয়েছে।

    বাঁहাতি এই স্পিনার ওয়ানডেতে ১৮ ম্যাচ খেলে ১৬ উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তার ওভার প্রতি খরচ সাড়ে চারের কম। শেষবার তিনি বাংলাদেশ জার্সিতে খেলেছিলেন গত ডিসেম্বরে।

    প্রথম ম্যাচের জয়ে ইতিমধ্যেই সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২১ ও ২৩ অক্টোবর, যা মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে।

    বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে রয়েছেন: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জাকের আলি অনিক, শামিম হোসেন, কাজী নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, হাসান মাহমুদ ও নাসুম আহমেদ।

  • বাংলাদেশকে নয় কেন জ্বলছে? রুবেলের প্রশ্ন

    বাংলাদেশকে নয় কেন জ্বলছে? রুবেলের প্রশ্ন

    গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে আগুনের ভয়ঙ্কর শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনার পর দেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটাররা তাদের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ এবং রুবেল হোসেন তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন সামাজিক মাধ্যমে। এদের মধ্যে রুবেল হোসেনের পোস্টটি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। তিনি সহমর্মিতা জানিয়ে পাশাপাশি উঠে এসেছে বাংলাদেশে বারবার কেন এ ধরনের আগুন লাগছে, এর কারণ খুঁজে দেখার আহ্বান।

    নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রুবেল লিখেছেন, ‘একটি নয়, দুইটি নয় — পরপর তিনটি স্থানে আগুন! এর শেষ কোথায়? প্রশ্নটা একটাই… কেন বাংলাদেশ জ্বলছে? মাঝে মাঝে নিজেকে জিজ্ঞেস করি—এত অন্যায়, এত দুর্নীতি, এত মৃত্যু থাকা সত্ত্বেও আমি কেন এই দেশের সঙ্গে আছি? এর উত্তর খুবই সরল—প্রেম, ভালোবাসা, মাটির গন্ধ এবং এক টুকরো পতাকা। এই দেশটাই আমার হৃদয়ের গভীর থেকে আঁকা, আমার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে। এত সুন্দর একটা দেশের এত ধরনের দুর্নীতি ও অগ্নিকাণ্ড ভাবিয়ে তোলে আমাকে। আমি চাই, ভয় নয়, বরং ভরসা যোগান দেবে এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে অগ্নি নয়, আলোই থাকবে।

    তামিম ইকবাল তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ঢাকা বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সকল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য প্রার্থনা করছি। এই ক্ষতি খুবই ভয়ঙ্কর। আল্লাহ আমাদের শক্তি ও ধৈর্য্য দান করুন এই যন্ত্রণার মধ্যেও শক্ত থাকতে।’

    তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘ম্যাচের সময় আকাশে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পেয়েছিলাম, তবে তখন বুঝতে পারিনি এর পেছনে কত বড় ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে। কত স্বপ্ন, কত শ্রম এখন সেই আগুনে পুড়ে গেছে। এই কঠিন সময়ে আমি সবাইকে গভীর সংকোচের সঙ্গে অভিব্যক্তি জানাচ্ছি। আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের ধৈর্য্য ও সাহস দেয় এবং এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করেন।’

  • মুশতাকের মতে, রিশাদের টেস্ট অভিষেক সময়ের ব্যাপার মাত্র

    মুশতাকের মতে, রিশাদের টেস্ট অভিষেক সময়ের ব্যাপার মাত্র

    মিরপুরে প্রথম ওয়ানডে জয়ের পর, বাংলাদেশ মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এই ম্যাচ জিতলেই সিরিজে ২-০ এক দৃঢ় ব্যবধানে জিততে পারবে টাইগাররা। দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতবে বলে তার বিশ্বাস।

    তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ। আমাদের দায়িত্ব হলো ছেলেদের মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টি করা। বিশ্বাসই সবকিছু। যদি দলের মনোভাব দুর্বল হয়, খেলোয়াড়রা তা সহজেই বুঝে ফেলবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানসিক শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে, তারা যে কোনও দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আমাদের কিংবদন্তি হওয়ার জন্য শুধু বিশ্বাস রাখতে হবে।’

    প্রথম ম্যাচের হিরো ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। একাই ক্যারিয়ার সেরা ফিগারে ৩৫ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। এশিয়া কাপে আফগান স্পিনার রশিদ খানের সঙ্গে রিশাদের আলাপচারিতা হয়, যা তার উন্নতিতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন মুশতাক। তিনি বলছেন, ‘আমি চাইছিলাম রিশাদ রশিদের সঙ্গে কথা বলুক। তারা নিজেদের ভাবনাচিন্তা বিনিময় করেছে। রিশাদ রশিদের মতো স্পিনার আলাদা, কিন্তু দুজনের মধ্যে ভালো ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা আছে। তরুণ ক্রিকেটাররা উচিত সেরকম প্রফেশনালদের সঙ্গে কথা বলা। এটা ভালো বিষয় যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রিশাদকে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

    বাংলাদেশের স্পিন কোচ হিসেবে মুশতাক বলেন, রিশাদ শুধু সীমিত ওভারের জন্যই নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও একযোগে সফল হতে পারেন একজন বিশ্বস্ত বিকল্প।

    ২৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার এখন পর্যন্ত ১২টি ওয়ানডে এবং ৫০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে তার টেস্ট অভিষেক এখনও হয়নি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২১ ম্যাচ খেলা রিশাদের ভবিষ্যৎ বিষয়ে মুশতাকের বিশ্বাস, তিনি বলছেন, ‘আমি নিশ্চিত, রিশাদ টেস্টে বলবেন। বিশেষ করে, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো গভীর ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে যদি সে তার উচ্চতা ও বাউন্স সুবিধা নিয়ে ভালো গুগলি বল করতে পারে, তাহলে সে খুবই কার্যকর হতে পারে। শেষের ব্যাটাররা তার গুগলি পড়তে পারবে না। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য রিশাদ একেবারে উপযুক্ত হতে পারে, কিন্তু নিজেকে উন্নয়নের মাধ্যমে তার যোগ্যতা দেখাতে হবে।’

  • অতীতে রানখরা, তারপর বিজয়ী বাংলাদেশ

    অতীতে রানখরা, তারপর বিজয়ী বাংলাদেশ

    মিরপুরের উইকেট অনেক বছর থেকেই ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। এ কারণেই বেশিরভাগ সময় আঙুল ধরা হয় ইতিহাসের অন্যতম মানসম্পন্ন কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার দিকে। তবে দীর্ঘ দিন পর এই দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয় এবং টনি হেমিংকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু হেমিংও নতুন উইকেটে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারেননি। প্রথমবারের জন্য মিরপুরের নতুন উইকেটে খেলতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হন। ক্রমান্বয়ে স্পিনাররা বড় টার্ন দিয়ে দারুণ সুবিধা গ্রহণ করে, যা সামলাতে গিয়ে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের মিরাজ ও সোহান। তবে বিপরীতে ক্যারিবীয় স্পিনারদের সফলভাবে সামলে নিজের উইকেট আগলে রাখলেন তাওহিদ হৃদয়। তার দুর্দান্ত ফিফটি বাংলাদেশের মোট রান দুইশ ছুঁয়ে দেওয়ার মূল কারণ।

    শুরুতেই দুই ওপেনার আউট হওয়ার ফলে দলের উপর চাপ তৈরি হয়, তবে নাজমুল শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়ের দৃঢ় অংশগ্রহণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। হৃদয়ের ফিফটির পর অপ্রতিরোধ্য ৪৬ রানের ইনিংস খেলে অভিষেককারী মাহিদুল ইসলাম অঙ্কণ দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। ৪৯.৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০৭ রান, যা বাজেটের মধ্যে ছিল।

    করিবীয়দের বিপক্ষের সিরিজের মাধ্যমে দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। তিনি একাদশের প্রথম দিকেই ছিলেন, সাইফ হাসানের সঙ্গে ওপেনিং করেন। তবে প্রথম ওভারে ৮ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারে বল করার সময় সাইফকে আউট করেন শেফার্ড; তিনি ৬ বলে ৩ রান করেন।

    সাইফের বিদায়ের পর পরই সৌম্যও ফিরে যান, চার হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত ৬ বলে ৪ রান করেই সাজঘরে যান। এরপর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নাজমুল শান্ত ও হৃদয় ক্রিজে আসেন। দুজন হয়তো কঠিন সময়ে অস্থির ছিলেন, তবে ধীরস্থির খেলে রান করে যান। শান্ত-হৃদয় জুটি গড়ে তিনের মধ্যে পরিস্থিতি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।

    শান্ত ৩২ রানে ফিরলেও হৃদয় লড়াই চালিয়ে যান। এরপর অঙ্কণের সঙ্গে গড়ে দেন ৩৬ রানের জুটি। ৮৭ বলে হার মানেন তাঁর ফিফটি। তবে ফিফটি পাওয়ার পর তিনি ক্যাচ তুলে দেন হোপের হাতে।

    পরবর্তী সময়ে অঙ্কণ দলের হাল না হারিয়ে ১৭ রান করে ফিরে যান, তার পরে ক্যামিও হিসেবে রিশাদ হোসেন ১২ বলে ২৬ রান করে দলের জন্য অবদান রাখেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ২০৭ রানে অলআউট হয় ৪৯.৪ ওভারে, এবং এই সংগ্রহের জন্য তাদের অবদান ছিল তরুণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের। এভাবে তারা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।

  • ক্রিকেটে নতুন ‘টেস্ট টুয়েন্টি’ ফরম্যাট শুরু হচ্ছে

    ক্রিকেটে নতুন ‘টেস্ট টুয়েন্টি’ ফরম্যাট শুরু হচ্ছে

    ক্রিকেট বিশ্বে আসছে এক নতুন যুগ, যার নাম হলো ‘টেস্ট টুয়েন্টি’—একটি অভিনব ক্রিকেট ফরম্যাট যা পারস্পরিক সংযুক্ত করবে টেস্টের গভীরতা ও টি–টোয়েন্টির গতি ও উত্তেজনা। এই ধারণাটির মূল প্রেরণা এসেছে ভারতের প্রখ্যাত ক্রীড়া উদ্যোক্তা গৌরব বাহিরওয়ানি থেকে, যিনি ‘দ্য ওয়ান ওয়ান সিক্স নেটওয়ার্ক’-এর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট।

    নতুন এই বৈচিত্র্যপূর্ণ ফরম্যাটে প্রতিটি দল দুই ইনিংস খেলবে, যেখানে প্রতিটি ইনিংস হবে ২০ ওভার, অর্থাৎ এক দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ শেষ হবে। এতে থাকবে টেস্টের মতো ফলাফল—জয়, পরাজয় বা ড্র—অর্থাৎ এটি হবে একদম নতুন এক ধরনের ক্রিকেট অনুষ্ঠান। লাল বলের গভীরতা ও ছোট ফরম্যাটের গতি একে অন্যের সঙ্গে মিশে গেছে, যা ক্রিকেটের নতুন এক স্বাদ এনে দিচ্ছে। এছাড়া, ডিজিটাল যুগের হিট দর্শকদের জন্যই এটি তৈরি, যা ক্রিকেটের ‘চতুর্থ ফরম্যাট’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।

    বিশেষ করে, এই ফরম্যাটে জটিল পরিকল্পনা, ধৈর্য্য ও টেকনিকের মূল্য আরও বাড়বে। ম্যাচটি চারটি ২০ ওভারের সেশনে বিভক্ত হবে, যেখানে সেশনের মাঝে বিরতিতে কৌশল সাজানোর সময় থাকবে। আয়োজকরা বলছেন, ‘টি–টোয়েন্টির সময়সীমায় টেস্টের ভাবনা’—এই ভাবনায় ব্যাটার এবং বোলার উভয়ের জন্যই আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকবে, যেখানে দলীয় পরিকল্পনা এবং ধৈর্য্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এই নতুন ফরম্যাটের পিছনে রয়েছে ক্রিকেটের দ-moiার বিশ্বপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব—এবি ডি ভিলিয়ার্স, স্যার ক্লাইভ লয়েড, ম্যাথিউ হেইডেন ও হরভজন সিং। ডি ভিলিয়ার্স মন্তব্য করেছেন, এটি একটি ‘উদ্দেশ্যপূর্ণ উদ্ভাবন’ যা তরুণ প্রজন্মকে নতুন স্বপ্নের পথে দৌড়ানোর সুযোগ করে দেবে। লয়েড মনে করেন, ক্রিকেট সবসময় পরিবর্তিত হলেও এই আধুনিক ফরম্যাট ক্রিকেটের শিল্প ও ছন্দে নতুন প্রাণ যোগ করবে। হেইডেন বলছেন, এটি দুটি যুগের সংযোগ যেখানে তরুণ দর্শকরা ক্লাসিক ক্রিকেটের স্বাদ পাবেন, তবে একই সঙ্গে আধুনিক উত্তেজনাও একই সঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন। হরভজন সিং বলেন, এটি ক্রিকেটের নতুন হৃদস্পন্দন, যা ঐতিহ্যকে এডিয়ে বর্তমানের তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুক্ত করে।

    বর্তমানে এই ফরম্যাটটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের সাবেক সিইও মাইকেল ফোর্ডহ্যাম, যিনি এখন ‘টেস্ট টুয়েন্টি’র চিফ অপারেটিং অফিসার। এই নতুন ফরম্যাট শুধু খেলায় নয়, বরং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ক্রিকেটারদের জন্য একটি জোনিয়র টেস্ট টুয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করা হবে, যা মোট ৫০টিরও বেশি দেশে অনুষ্ঠিত হবে। এই মাধ্যমে উঠে আসবে আগামী দিনের পেশাদার ক্রিকেটাররা।

    বাহিরওয়ানির লক্ষ্য, যোগ্যতা ও প্রতিভার ভিত্তিতে একটি সিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে লিঙ্গ বা অঞ্চল বিবেচনা না করে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা সুযোগ পাবেন। তথ্য বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে উপযুক্ত খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করা হবে।

    ‘টেস্ট টুয়েন্টি’র প্রথম মৌসুম শুরু হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে়, যেখানে অংশ নেবে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি—তিনটি ভারতীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক দল। দলগুলো হবে দুবাই, লন্ডন ও অজানা একটি শহরে (ঠিক কোথা হতে পারে তা এখনও ঘোষণা হয়নি)। প্রতিটি দলে থাকবেন ১৬ জন ক্রিকেটার—৮ জন ভারতীয় ও ৮ জন আন্তর্জাতিক। এই মৌসুমে মোট ৯৬ জন ক্রিকেটার নিলামের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে, পাশাপাশি রয়েছে ২০৪ জন ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ প্লেয়ার, যাদের দলে নেওয়া সম্ভব হবে মৌসুমের মধ্যভাগে।

    সর্বশেষ বলা যায়, লাল বলের ঐশ্বর্য ও ছোট ফরম্যাটের রোমাঞ্চকর পরিবেশ একত্রিত করে ‘টেস্ট টুয়েন্টি’ ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এটি শুধুই একটি নতুন ফরম্যাট নয়, বরং ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন যা পুরনো সম্মান রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পথ প্রস্তুত করছে।

  • রিশাদের ঘূর্ণিতে ৭৪ রানে জিতল বাংলাদেশ

    রিশাদের ঘূর্ণিতে ৭৪ রানে জিতল বাংলাদেশ

    সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। এর পর খুব বেশি অনুশীলনের সুযোগ না পেয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা দ্রুতই ফিরে যান আন্তর্জাতিক মাঠে। দিন তিনেকের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ, এবং সেই চাপে তারা সফল হয়েছেন মিরপুরের মাঠে। এই ম্যাচে বাংলাদেশের দুর্দান্ত বলেঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট করে দিয়েছে টাইগাররা, ফলে ৭৪ রানের বড় জয়ে সিরিজে ১-০ betekent। 

    মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ, তবে শুরুটা খারাপ হয়নি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তাওহিদ হৃদয়, ৫১ রান। এরপর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৪৬ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই দোটানা সৃষ্টি করতে পারেননি। উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় তারা ৪৯ ওভার ৪ বলের মধ্যে সব উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করে।

    জবাব শুরু হয় বাংলাদেশি ওপেনারদের উড়ন্ত ব্যাটিং দিয়ে। তবে প্রথম ইনিংসের শুরুতেই বোঝা যায় তারা বেশ সাবধান। প্রথম ১০ ওভারে শুধুই সংগ্রহ, কিন্তু ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিজেরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাওহিদ হৃদয় ৩১ বলে ৫১ রান করে দলের অবদান রাখেন। এরপর অঙ্কন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭৬ বলের মধ্যে ৪৬ রান আনেন।

    অপর দিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শুরু হয় ভালোই। উদ্বোধনী জুটিতে ৫১ রান যোগ হলেও বাংলাদেশের বলার মানসিক চাপ থেকে উতরাতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। রিশাদ হোসেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মেন্স দেখিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন, এটি তার ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা বোলিং। প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে পঞ্চম উইকেটের জন্য তিনি ৫ উইকেট শিকার করেন। প্রথম ইনিংসে তাদের ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ ছিল অফ স্পিনের সঙ্গে রিশাদের দুর্দান্ত স্লো বল।

    বিশেষ করে, ৩৯তম ওভারে জেডন সিলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শেষ করেন তিনি। তার এই দারুণ পারফর্মেন্সের ফলে ম্যাচের টাইটেল হয় তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এর আগে ব্যাটসম্যানরা শুরুতেই ধাক্কার মুখে পড়লেও, বাংলাদেশি স্পিনাররা তাদের ধৈর্য্য ধারণ করে মূলত এভাবেই জয় নিশ্চিত করে।

    অন্তিম সময়ে, রিশাদের লেগ ব্রেক পরের ওভারে জাদুকরী শটে ৬ উইকেট অর্জন করে বাংলাদেশ। এই পারফরমেন্স তাকে ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি ব্যাটাররা শুরুতেই কিছু ঝামেলা বাঁধলেও শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের কারণে তাদের সংগ্রহ দুইশোর কাছাকাছি পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকভাবে, এই জয়ে বাংলাদেশ এখন সিরিজে ১-০ এগিয়ে রয়েছে।