Category: খেলাধুলা

  • লিটন-সাইফদের ব্যর্থতায় হারলো বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম ম্যাচ

    লিটন-সাইফদের ব্যর্থতায় হারলো বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম ম্যাচ

    তানজিদ হাসান, তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, লিটন দাস, শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও নুরুল হাসান সোহান— এই ক্রিকেটাররা কেউই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি। মাঝে তাওহীদ হৃদয় খানিকটা চেষ্টা করলেও তা বেশি কিছু কাজে আসেনি। প্রথমে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলার জন্য এগিয়ে আসেন তানজিম হাসান সাকিব ও নাসুম আহমেদ। তাদের দুজনের ২৩ বলে ৪০ রানের জুটি কিছুটা আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় বাংলাদেশ। এই জুটি ম্যাচের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও আদৌ সেটা সম্ভব হয়নি। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ১৬ রানে হেরে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হারলো স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে।

    চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাট করে ১৬৬ রানের লক্ষ্য নির্ধারিত করে। ইনিংসের তৃতীয় বলেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আকিল হোসেনের ডেলিভারিতে ছক্কা মারেন। পরের বলে চার মেরে শুরু করেন ভালোভাবেই। দ্বিতীয় ওভারও শুরু হয় দারুণ, জইডেন সিলসের সংক্ষিপ্ত বলে চার মারেন বাঁহাতি ওপেনার। তবে পরের বলেই সে ফিরে যান ক্যাচ দিয়ে।

    তানজিদের ওই সমাপ্তির জন্য রোমারিও শেফার্ডের দুর্দান্ত ক্যাচ ছিল কারণ তিনি আর পারেননি। তিনি ৫ বলে ১৫ রান করে আউট হন। চোট কাটিয়ে ফিরে আসা লিটনও পারেননি খুব ভালোভাবে মনোযোগ দিতে। আগের বলেই আকিলের রিভার্স সুইপ করে চার মারলেও পরের বলেই লিডিং এজ হয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। তিনি ৮ বলে ৫ রান করেন।

    সাইফ হাসানও একইভাবে আউট হন আকিলের বলে প্যাডেল সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে শেফার্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে। মাত্র ৭ বলে ৮ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারি আউট হন জেসন হোল্ডারের সুইং ডেলিভারিতে। ৪ বল খেলা এই বাঁহাতি ব্যাটার করেছেন মাত্র ১ রান। ছয় উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে powar প্লেতে। এর মধ্যে দলের অন্যতম উপভোগ্য ব্যাটসম্যান হৃদয়ও পারেননি নিজেকে আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রাখতে।

    উল্লেখ্য, খ্যারি পিয়েরের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ব্যাকফুটে কাট করতে চেয়েছিলেন হৃদয়। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে তা সরাসরি স্টাম্পে লাগে। ফলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ১০ বল খেলে ২৫ রান করে ফিরে যান সোহান। তিনি একসময় দলের আস্থারপুর্ন ওপেনার হলেও, শেষমেষ নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি।

    ডানহাতি এই ব্যাটার ফেরার পর তানজিম ও নাসুম ঝড় তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান। তারা দ্রুত রান তোলার জন্য চেষ্টা করলেও হোল্ডার জানিয়ে দেন। ডেপুটি পেসার হোল্ডার অফ স্টাম্পের বাইরের বল ডিপ পয়েন্টে খেলতে গিয়ে ২৭ বলে ৩৩ রান করে আউট হন। এরপর নাসুম করেছেন ১৩ বলে ২০ রান। শেষ দিকে দলের জন্য বড় সংগ্রহের আশা থাকলেও, রিশাদ জ্বলে ওঠার আগেই বাংলাদেশ ম্যাচ হেরে যায় ১৪৯ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সিলস ও হোল্ডার তিনটি করে উইকেট সংগ্রহ করেন।

    এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ভাল হয়নি। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৯ রান যোগ করেন গোল্ডেন ডাক মারেন শেরফানে রাদারফোর্ড। তবে শেষের দিকে শাই হোপ ২৮ বলে ৪৬ এবং রভম্যান পোলের ৪৪ রান করে যথাক্রমে দলকে ১৬৫ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেন। বাংলাদেশের জন্য দুটি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, আর একজন উইকেট নেন রিশাদ।

  • মেসির ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার স্পষ্ট বার্তা

    মেসির ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার স্পষ্ট বার্তা

    দীর্ঘ তিন দশকের শিরোপা অপেক্ষার শেষটুকু করে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জিতেছিল তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির নেতৃত্বে। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—আরে, কি আসছে পরবর্তী বিশ্বকাপেও কি দেখা যেতে পারে এই আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে?

    তারপর, এবার মেসি স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি যদি শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট থাকেন, তাহলে ২০২৬ সালে তার খেলার সম্ভাবনা বেশ শক্ত। এনবিসি নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সিদ্ধান্ত পুরোপুরি শারীরিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে।

    মেসি বললেন, আমি যদি পুরোপুরি সুস্থ থাকি এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারি, তাহলে বিশ্বকাপে খেলা অসাধারণ হবে বলে মনে করি। আমি চাই, দলের অন্য ফুটবলাররা যেমন কাঙ্ক্ষিত, আমিও সেখানে থাকতে চাই। কিন্তু সব কিছুই আমি ডে-টু-ডে মূল্যায়ন করে দেখছি। যখন ইন্টার মায়ামির প্রি-সিজন শুরু হবে, তখন বুঝতে পারব কী আমি পুরোপুরি প্রস্তুত কিনা। যদি মনে হয়, আমি সিদ্ধান্ত নেব।

    বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির জার্সিতে খেলছেন। ইউরোপে তার পথচলা ছেড়ে তিনি ২০২৩ সালে ডেভিড বেকহ্যামের ক্লাবে যোগ দেন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে। দুই মৌসুমের সফলতা শেষে সম্প্রতি তিনি আরও তিন বছর জন্য মায়ামির সাথে চুক্তি নবায়ন করেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সিদ্ধান্তই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মেসির অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

    মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৪ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার সিনিয়র দলে অভিষেকের মাধ্যমে। এর পর থেকে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে অসংখ্য ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২২ বিশ্বকাপ শিরোপা।

    বিশ্বকাপ নিয়ে মেসির অনুভূতি স্পষ্ট—এটি তার জীবনের স্বপ্ন ছিল। তিনি মনে করেন, পেশাদার ক্যারিয়ারে কেবল এই একটি ট্রফিই তাদের পাওয়ার বাকি ছিল। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন, তার অর্জন ও জয়ের সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য।

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৫ ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে করেছেন রেকর্ড ১১৪ গোল। যদি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মাঠে নামেন, তাহলে এটি হবে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে।

  • হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে হারাল রিয়াল Madrid, প্রথম ক্লাসিকো জয় এমবাপ্পের

    হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে হারাল রিয়াল Madrid, প্রথম ক্লাসিকো জয় এমবাপ্পের

    শক্তিশালী ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে এখনই প্রতিশোধের কথা ভাবা হয়তো বাড়াবাড়ি হবে, তবে শিরোপাহীন মৌসুম কাটানোর দুঃখ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে তারা মারাত্মক আক্রমণে বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। তবে, কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি মিস এবং অফসাইডে দুটি গোল বাতিল না হলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

    সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আজকের (রোববার) ম্যাচের আগে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছিল লামিনে ইয়ামালের কৃতিত্বে ‘চোর’ ও ‘ছিঁচকাঁদুনে’ তকমার বদৌলতে। তবে মাঠে উপস্থিত হয়ে বার্সেলোনার ফুটবলাররা এর জবাব দিয়েছে। মূল ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয় প্রথমার্ধেই, যখন রিয়াল পক্ষে প্রথম গোল করে ১-০ লিড নেওয়ার পর, বার্সার হয়ে ফিরিয়ে আনেন ফার্মিন লোপেজ। তবে, ম্যাচের শেষভাগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন বার্সার মিডফিল্ডার পেদ্রি, যার কারণে তারা শেষ পর্যন্ত ১০ জন খেলোয়াড়ের মত নিরাশ হয়ে ম্যাচ শেষ করে। এরই মাঝে হাতাহাতির ঘটনাও দেখা যায়।

    ম্যাচের আগে বার্সেলোনার জন্য কিছুটা ক্ষত ছিল, কারণ চোটের কারণে রাফিনিয়া, লেভানদফস্কি ও গাভি কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মাঠে নামতে পারেননি, অন্যদিকে কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও নিষেধাজ্ঞার জন্য ডাগআউটে ছিলেন না। তবুও, পরিকল্পনা ও রণকৌশল যথেষ্ট ছিল। অন্যদিকে, রিয়াল গত মৌসুমে চারটি লিগ ম্যাচে হেরে যাওয়ার ক্ষত suffered। এই হারে তারা মোট ১৬ গোল হজম করে। তবে এই প্রথম মৌসুমর প্রথম এল ক্লাসিকোর মাধ্যমে, তারা এই ক্ষত parcialmente পুরেছে।

    বলে দখলে থাকলেও, ম্যাচে বলের অধিকার ছিল বার্সেলোনার। তারা ৬৩ শতাংশ বলের পজেশন ধরে রেখেছে এবং ১৫টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, রিয়াল শটের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও, বলের নিয়ন্ত্রণে ছিল বার্সেলোনা। মধ্যমাঠ থেকে উদ্ধার করা দারুণ এক পাসের মাধ্যমে শুরু হয় অঘটন, যেখানে এমবাপের শটটি গোলের কাছাকাছি যেত, তবে গোলরক্ষক ভয়চেক সিজনির তৎপরতায় সেটি ঠেকানো হয়।

    খেলা শুরু হয় মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই, যেখানে রিয়াল পেনাল্টি পায়, তবে ভিডিও পানেল রিভিউয়ে দেখা যায়, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ভুলফলে ফাউল করা হয়নি—যদিও ফাউলের জন্য শট নেওয়ার সময় ইয়ামাল কেকিকে কিক দিয়েছেন। নবম মিনিটে প্রথম শট নেন ইয়ামাল, কিন্তু সেটা গোলের বাইরে। কয়েক মিনিটের মধ্যে এমবাপের গোলে রিয়াল এগিয়ে গেলে, বার্সেলোনা দ্রুত পুনরায় সমতা ফেরায়। এরপর কিলিয়ান এমবাপে স্বাভাবিকভাবেই দারুণ এক শট নেন, তবে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।

    ৩৩ মিনিটে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেসের দুর্বল শটের কারণে অতিরিক্ত সুযোগ নষ্ট হয়, তবে ৩৬ মিনিটে কোর্তোয়ার সতর্কতা এবং সিজনির আক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে রক্ষণদূষিত চেষ্টা করে। তিন মিনিটের মধ্যে আর্দা গুলার বল দখল করেন এবং পেদ্রি তাকে বল খুঁজে পান, resulting in a goal at close range। এরপর, ৪৩ মিনিটে পেরিয়ে যায়, যখন রিয়াল পেয়েছিল আবারও লিড, এইবার স্কোরবোর্ডে নাম লেখান বেলিংহ্যাম, যা তার মৌসুমের দ্বিতীয় গোল।

    বিরতিতে রিয়ালের সঙ্গে ২-১ এগিয়ে থেকে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে উভয় দলই আক্রমণে লড়ে, তবে গোলের জন্য কষ্ট করে। রিয়াল আক্রমণে থাকলেও, বার্সেলোনা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য চমৎকার তৈরি করে। ৬৮ মিনিটে রিয়ালের এক গোল বাতিল হয় অফসাইডের জন্য, যা তাদের মনোবল হেলে দেয়। শেষমেশ, খেলায় কোন পরিবর্তন আসেনি এবং স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকায়, রিয়াল ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। তারা লা লিগার টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখে, যেখানে তাদের পয়েন্ট ২৭, আর বার্সেলোনা দুইয়ে থেকে ২২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে।

  • আফিফের হ্যাটট্রিকের কারণে বরিশালের দুশ্চিন্তা বাড়ল

    আফিফের হ্যাটট্রিকের কারণে বরিশালের দুশ্চিন্তা বাড়ল

    জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৭তম আসরে খুলনা বিভাগের স্পিনার আফিফ হোসেন ধ্রুবের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে বরিশাল বিভাগ কঠিন দুঃশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছে। প্রথম ইনিংসে খুলনার ৩১৩ রানের জবাবে বরিশাল দল ১২৬ রানে অলআউট হওয়ায় ফলো-অনে পড়ে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে তারা ১৮৭ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১১৯ রান করেছে, ফলে তাদের পিছিয়ে রেখেছে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৬৮ রানের ব্যবধানে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি যেখানে বরিশাল পরে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে। খুলনা বিভাগের প্রথম দিন (শনিবার) শেষে তাদের স্কোর ছিল ৯ উইকেটে ৩১২ রান, যা শেষ করে ৩১৪ রান করা হয় বাকী এক উইকেটে। বরিশালের জন্য রুয়েল মিয়া ও মইন খান ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। জবাবে আফিফের স্পিন ঘূর্ণিতে বরিশাল দল মাত্র ১২৫ রানে ৭ উইকেট হারায়, যেখানে তিনি ৩ উইকেট সংগ্রহ করেন। তবে আফিফ একের বেশি উইকেট নিতে থেমে থাকেননি। ৪২তম ওভারের প্রথম তিন বলে তিনি তিন ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন—শামসুল ইসলাম অনিক, ইয়াসিন আরাফাত মিশু ও রুয়েল মিয়া। এর ফলে তিনি পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। আফিফ ১০.৫ ওভারে বল করে ৩১ রানে ৬ উইকেট নেন, যা তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। এর আগে ২০১৮ সালে রাজশাহীর বিপক্ষে খেলিয়ায় তিনি ৬৭ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। ফলো-অনের কারণে বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে সুবিধা করতে পারেনি, তারা ১১৯ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায়। ইফতেখার হোসেন ৪০ ও ফজলে মাহমুদ ৩২ রানে আউট হন। শামসুর রহমান ২৪ এবং তাসামুল হক অপরাজিত আছেন ৩ রানে। নাহিদুল ইসলাম দুটি উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে, রংপুর বিভাগ এগিয়ে রয়েছে নাইমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে। তিনি ডাবল সেঞ্চুরি তুলে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। প্রথম ইনিংসে ঢাকার ২২১ রানের জবাবে রংপুরের প্রথম দিন শেষে তারা ৬৫ রানে ২ উইকেটের জয় নিয়ে ব্যাট করছে। দ্বিতীয় দিন নাইমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রংপুর লিড পেয়েছে। তিনি ১১১ রান অপরাজিত থাকেন, যেখানে তার ইনিংসে ছিল ১৬টি চার। ২২১ বলের এই ইনিংসের সময় তিনি এক জুটি গড়ে ৮৮ রান তানভীর হায়দারের সাথে। দলের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন তানভীর, এছাড়া অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ৩৭, আবু হাসিম ২৮ এবং আলাউদ্দিন বাবু ২১ রান করেন। রংপুরের রিপন মন্ডল ৫৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। সালাউদ্দিন শাকিল ও তাইবুর রহমান দুটি করে উইকেট নেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগের ক্রিকেটাররা রাজশাহী দলের বিপক্ষে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ৬ উইকেট দিয়ে দলকে বড় লিড এনে দিয়েছেন, আর মাহমুদুল হাসান জয় সেঞ্চুরির পর ফিফটি করেছেন। আর রাজশাহীর জন্য রোববারের মূল আবহ ছিল ২ উইকেটে ১ রানের সূচনা। মুরাদের স্পিনে ৫৪.৪ ওভারে দলটি প্রথম ইনিংসে ১৯৬ রানে গুটিয়ে যায়। আবার, আফিফ হোসেনের হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেটের পারফরম্যান্সে তিনি দিনের সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

  • বাবর-শাহিনরা গোলাপি জার্সি পরে খেলবেন

    বাবর-শাহিনরা গোলাপি জার্সি পরে খেলবেন

    ক্রিকেটে সাধারণত নিজেদের নির্দিষ্ট পোশাকের বাইরে বিশেষ জার্সি পরার ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিশেষত স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দলই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলো ইতিমধ্যে এই পথ অনুসরণ করে আসছে। এবার পাকিস্তান ক্রিকেট দলেরও এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে সামনে আসছে। তারা আগামীকাল ২৮ অক্টোবর রাওয়ালপิน্ডিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গোলাপি জার্সি পরে মাঠে নামবেন। এই ম্যাচটি তাদের ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে পুরোদমে সিরিজ খেলছে দুই দল।

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, এই উদ্যোগটি ‘পিঙ্কটোবর’ প্রকল্পের অংশ, যার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার নিয়ে মানুষকে সচেতন করা ও এই রোগের প্রাদুর্ভাবের প্রভাব সম্পর্কে জানানো হয়। প্রতি বছরের অক্টোবর মাসটি স্তন ক্যান্সার সচেতনতার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়, যেখানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে পিসিবির সব ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল, সাপোর্ট স্টাফ ও ধারাভাষ্যকাররা গোলাপি ফিতা সংযুক্ত পোশাক পরবেন।

    পিসিবির প্রধান নির্বাহী সুমাইর আহমেদ সৈয়দ বলেছেন, ‘ক্রিকেটের শক্তি ও মানুষের মধ্যে সংযোগের মাধ্যমে আমরা সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চাই। পিংক রিবন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরতে চাই, যা অনেক জীবন বাঁচাতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই উদ্যোগ আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমরা উভয় দল, ম্যাচ অফিসিয়াল ও ভক্তদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞ, যাতে আমরা এই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারি।’ এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তান-আফ্রিকা ম্যাচের স্টাম্পও গোলাপি রঙে সাজানো হবে, এবং ডিজিটাল স্ক্রিনে ক্যাম্পেইনের বিষয়বস্তু দেখানো হবে। এই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলাপি জার্সি পরা বা স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতার উদ্যোগ নিয়েছে পিসিবি। এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগেও ‘পিঙ্ক ডে’ পালন করা হয়েছে।

    তথ্য মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া বহু আগে থেকেই স্তন ক্যান্সার সচেতনতার জন্য এই ধরনের উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছে। ২০১৩ সালে প্রোটিয়া দল সীমিত ফরম্যাটে প্রতিযোগিতায় নিয়মিতভাবে গোলাপি জার্সি পরে মাঠে নামে, এবং আয়কৃত অর্থ স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যয় করা হয়। অস্ট্রেলিয়া বক্সিং ডেতে টেস্ট ম্যাচেও গোলাপি ক্যাপ পড়ে খেলার রীতি চালু রয়েছে, যা স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় সহায়ক।

  • নিজ বাড়ি থেকে ভারতীয় অ্যাথলেটের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ ধারণা আত্মহত্যা

    নিজ বাড়ি থেকে ভারতীয় অ্যাথলেটের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ ধারণা আত্মহত্যা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাধাগঞ্জের অর্জুন নগরে এক আন্তর্জাতিক জুজুৎসু খেলোয়াড় ও মার্শাল আর্ট কোচ রোহিণী কালামের মরদেহ শুক্রবার নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তারা ধারণা করছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। রোহিণী ৩৫ বছর বয়সী একজন দক্ষ অ্যাথলেট, যিনি এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোহিণীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন তার বোন রোশনি। এরপর তিনি দ্রুত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খবর দেন। পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোাষণা করেন। ঘটনার সময় পরিবারের অন্য কেউ বাড়িতে ছিলেন না।

    বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে রোশনি বলেছেন, রোহিণী মার্শাল আর্টের একটি মাল্টিন্যাশনাল স্কুলে কোচ হিসেবে কাজ করতেন, যেখানে চাকরি সংক্রান্ত কিছু চাপের মুখে ছিলেন তিনি। শনিবার দিওয়ায়াসে এসে তিনি বেশ কিছু সময় অন্যের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপর নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। রোশনি বলেন, চাকরির কারণে তিনি চিন্তিত ছিলেন, স্কুলের সহকর্মী ছাড়াও স্কুলের প্রিন্সিপালও এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তার কথার ধরন ও আচরণ দেখে বোঝা যায়, মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি।

    তার বাবা জানিয়েছেন, রোহিণী পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তিনি বেশ কিছু সময় ধরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন এবং তার স্বপ্ন ছিল আইপিএস অফিসার হওয়া। গত দুই বছর ধরে তিনি সাফল্যের জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, তবে তেমন সাফল্য পাননি। পাঁচ মাস আগে তার অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।

    অভিজ্ঞ অ্যাথলেট হিসেবে, ২০০৭ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেন রোহিণী। তিনি ২০১৫ সালে পেশাদার জুজুৎসু খেলা শুরু করেন। তিনি হ্যাংজুতে অনুষ্ঠিত ১৯তম এশিয়ান গেমসেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং বার্মিংহামের ওয়ার্ল্ড গেমসে ভারতের একমাত্র অ্যাথলেট হিসেবে অংশ নেন। এশিয়ান জুজুৎসু চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি বিভিন্ন পদকও জিতেছেন। এই মৃত্যু তার স্বজনরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্থানীয় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • অস্ট্রেলিয় নারী ক্রিকেটারদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় ভারতের মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য

    অস্ট্রেলিয় নারী ক্রিকেটারদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় ভারতের মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য

    ভারত সফরে এসে অস্ট্রেলিয়ার দুই নারী ক্রিকেটারকে অপ্রত্যাশিতভাবে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার পর পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়ভার্গিয়া একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘শিক্ষা’ ও ‘স্মরণীয়’ বলে উল্লেখ করে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্বগতোক্তি করেছেন। মন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজনীতি মহলেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

    এনডিটিভির সঙ্গে আলাপকালে কৈলাশ বিজয়ভার্গিয়া বলেছেন, ‘যখনই কোনও খেলোয়াড় বাইরে যাওয়ার আগে আমরা বা অন্য কেউ, সাধারণত স্থানীয় অভিভাবক বা নিরাপত্তা কর্মীদের জানানো উচিত। এটি ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য একটি শিক্ষা হিসেবে থাকবে। তারা যেন জানেন কীভাবে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যেন এই ঘটনা থেকে শেখার থাক। খেলোয়াড়দের বুঝতে হবে, নিজের নিরাপত্তার জন্য সচেতন থাকতে হবে।’

    তবে এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেস। তারা বলেছে, ‘এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য জঘন্য এবং অবিচারমূলক। দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের মন্তব্য যোগ্য নয়।’

    ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইন্দোরের খাজরানা রোড এলাকার একটি ক্যাফেতে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা হোটেল থেকে বেরোনোর সময় মোটরসাইকেল আরোহী তাদের অনুসরণ করে শরীরের অশ্লীল স্পর্শ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ক্রিকেটাররা দ্রুত হোটেলে গিয়ে পরিস্থিতি জানায়। পুলিশ এফআইআর করে অভিযুক্ত আকিল আলিয়াস নৈত্রকে গ্রেপ্তার করে।

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উল্লেখযোগ্য, চলমান নারী বিশ্বকাপের ম্যাচের সময় এই ঘটনাটি ঘটে। ২৫ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯৭ রানে নিয়ে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে জয়ওল করেছে। এই জয়ে তারা ৭ ম্যাচে ৬ জয় দিয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে ৩০ অক্টোবর।

  • এমএলএসে গোল্ডেন বুট জিতে পেলেন মেসি

    এমএলএসে গোল্ডেন বুট জিতে পেলেন মেসি

    ন্যাশনাল লিগে এসসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগেই এমএলএস লিগের সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার, গোল্ডেন বুট, নিজের হাতে তুলে নিলেন লিওনেল মেসি। চেজ স্টেডিয়ামে এটি প্রদান করেন এমএলএসের চিফ কমিশনার ডন গারবার। ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে তিনি ২৮ ম্যাচে remarkable ২৯ গল করে এই অবিষ্কার অর্জন করেন।

    ডন গারবার তাঁর মুখে মুখে বলেন, ‘আমরা কখনো কল্পনা করিনি যে লিওনেল এই ক্লাব, এই শহর ও এই লিগের জন্য এতটা প্রভাব ফেলবেন। তিনি পুরো এমএলএস-এর গতিপথই বদলে দিয়েছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘মেসির হাতে গোল্ডেন বুট তুলে দিতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত।’

    একদিন আগেই ইন্টার মিয়ামি ঘোষণা করে, মেসি তিন বছরের জন্য নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে তিনি ২০২৮ সাল পর্যন্ত মিয়ামিতে থাকবেন। এই চুক্তির মাধ্যমে তিনি চল্লিশের কোঠায় পৌঁছেও খেলবেন এই ক্লাবের হয়ে।

    গারবার বলেন, ‘মেসি এমন এক ফুটবলার, যিনি ফুটবলকে ভিন্নভাবে ভাবেন। তার জেতার তীব্র ইচ্ছা এবং প্রতিটি ম্যাচে পারদর্শিতা তাকে সর্বকালের সেরা করে তুলেছে।’

    ২০১৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে মেসি দলের ভাগ্য পালটে দেন। তার নেতৃত্বে ক্লাবটি ২০২৩ সালের লিগস কাপ জয় করে। এরপর ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ড এবং এমএলএসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড গড়ে।

    ব্যক্তিগতভাবে, তিনি ২০২৪ সালে এমভিপি (মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার) পুরস্কার জয় করেন এবং ২০২৫ সালের সংস্করণেও ফেভারিট হিসেবে থাকছেন। আবার যদি তিনি জয় করেন, তবে এমএলএসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই বার এমভিপি হয়েও থাকবেন।

    মেসির আগমনের পর থেকে ইন্টার মিয়ামির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি, এমএলএসের টিকিট বিক্রি এবং জার্সি বিক্রিতে রেকর্ড গড়ে গেল।

    ডন গারবার হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলেন, ‘তিনি আসলে প্রজাতির ইউনিকর্ন — একেকজন যতই অনন্য হোক না কেন, মেসি তা আরও অনেক ব্যতিক্রম করে তুলেছেন। তার চিন্তা, মনোযোগ এবং জেতার ইচ্ছে তাকে সর্বকালের সেরা করে তুলেছে।’

    নতুন চুক্তির ঘোষণা দিয়ে এক ভিডিও প্রকাশ করেন ইন্টার মিয়ামি যেখানে দেখা যায়, তিনি নিজের চুক্তি স্বাক্ষর করছেন ক্লাবের নতুন স্টেডিয়ামের মধ্যবর্তী স্থানে। এই স্টেডিয়ামটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে এবং ভবিষ্যতে আগামী বছর এটি উদ্বোধন হবে।

    গারবার মন্তব্য করেন, ‘এটি দেখায় যে ক্লাবটি কতটা পেশাদার ও বুদ্ধিদীপ্তভাবে কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেসি এখন শুধু মিয়ামির নয়, পুরো আমেরিকার ফুটবলের প্রতীক হয়ে উঠেছেন — এক কথায়, দ্য গিফট দ্যাট কিপস অন গিভিং।’

  • বিগ ব্যাশে খেলতে অনুমতি পেলেন বাবর-রিজওয়ানসহ পাকিস্তানি তিন ক্রিকেটার

    বিগ ব্যাশে খেলতে অনুমতি পেলেন বাবর-রিজওয়ানসহ পাকিস্তানি তিন ক্রিকেটার

    আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হচ্ছে জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগ বিগ ব্যাশ (বিবিএল)। এই লিগে পাকিস্তানের শীর্ষ ক্রিকেটাররা এবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকছেন, যা এ বছরের অন্যতম বড় খবর। গত সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র বা এনওসি দেওয়ার ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে বর্তমানে ওই বাধা ইতিমধ্যে দূর হয়েছে, এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য লেগে অংশ নেওয়ার পথ খুলে গেছে।

    এবারের বিগ ব্যাশে মোট ছয়জন পাকিস্তানি ক্রিকেটার প্রতিযোগিতা করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম, যিনি সিডনি সিক্সার্সের হয়ে খেলবেন; পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি ব্রিসবেন হিটের হয়ে মাঠে নামবেন; এবং ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান মেলবোর্ন রেনেগেডসের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এছাড়া অন্য খেলোয়াড়রা হলেন হাসান আলী (অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স), হারিস রউফ (মেলবোর্ন স্টারস), এবং শাদাব খান, যিনি সিডনি থান্ডারের হয়ে খেলবেন। বিশেষ করে শাদাবের সতীর্থ হিসেবে থাকবেন ভারতের চেন্নাই সুপার কিংসের সাবেক তারকা রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

    ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিইও টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সকল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে এই লিগে পাকিস্তানি কিছু দারুণ ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এই খেলোয়াড়রা থাকায় বিগ ব্যাশের মান আরও উন্নত হবে এবং এই লিগটি আরও আকর্ষণীয় হবে।’

    উল্লেখ্য, বিগ ব্যাশ লিগের এবারের আসর ১৪ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলবে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। একই সময়টায় অনুষ্ঠিত হতে পারে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। তবে পিসিবি এখনই বিপিএল খেলার জন্য কোনও ঘোষণা দেয়নি।

  • রোহিত ও কোহলির জুটিতে বড় জয় ভারতের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে

    রোহিত ও কোহলির জুটিতে বড় জয় ভারতের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে

    প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে দেশের জন্য সিরিজটি অনেকটাই ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল ভারত। শেষ ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য মান-সন্মান ফিরিয়ে আনা এবং সিরিজের মোড় ঘুরিয়ে দেবার একটি সুযোগ। সিডনিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওয়ানডেতে কিংবদন্তি ব্যাটার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি আবারও নিজেদের অতীতের স্বর্গীয় ধারায় ফিরে আসেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে তাঁদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভারতের জয় হয় ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে, যা ছিল তাদের জন্য অনেকটাই স্বস্তির ও উল্লাসের মুহূर्तन।

    অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৬.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৩৬ রান। ভারতের জবাব দিতে নেমে ২৩৭ রানের লক্ষ্যে তারা মাত্র ৩৮ ওভারে পৌঁছে যায়, হাতে তখনও ৯ উইকেট বাকি থাকতেই। ম্যাচের মূল নায়ক হিসেবে খেলেছেন রোহিত ও কোহলি—উভয়ই অপরাজিত থেকে গেছেন। রোহিত খেলেছেন অনবদ্য ১২১ রান (১২৫ বল) যা তার ৩৩তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, আর কোহলি অপরাজিত থাকেন ৭৪ রান (৮১ বল) দিয়ে। এই জুটি ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪৮৩ রানের সমন্বিত স্কোর নিয়ে এসেছে, পাশাপাশি তারা এখন তৃতীয় স্থানে থাকেন বৃহৎ ওপেনিং পার্টনারশিপের তালিকায়।

    ম্যাচ শেষে রোহিত ও কোহলি দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, এবং ইঙ্গিত দেন এটি হতে পারে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় শেষ ওয়ানডে ম্যাচ। রোহিত বলেন, “এখানে এসে খেলাটা সবসময়ই দারুণ লাগে। ২০০৮ সালের স্মৃতি সংরক্ষিত এই দেশের সাথে। জানি না আবার কখনও এই মাঠে ফেরার সুযোগ হবে কি না। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো ক্রিকেট উপভোগ করা, সেটা যত বড় বা কঠিনই হোক না কেন। পার্থে নতুন করে শুরু করেছিলাম, বর্তমানে সেটা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।”

    অন্যদিকে, কোহলি বললেন, “রোহিতের সঙ্গে ব্যাটিং সবসময়ই সহজ ও উপভোগ্য। মাঝ মাঠে যে বোঝাপড়া, তা আমাদের সামর্থ্যের বড় শক্তি। যত কঠিনই হোক পরিস্থিতি, আমরা তা সামলে নিতে পারি। আজকের ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত রাখতে পেরেই আমি আনন্দিত।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমাদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে শুরু হয়েছিল এই জুটি। জানতাম, ২০ ওভার একসঙ্গে খেললে ম্যাচ আমাদের পক্ষেই যাবে। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর থেকে আমরা সব সময় ভাল খেলেছি, এখানকার দর্শকরা আমাদের খুব পছন্দ করে।”

    তাদের এ পারফরম্যান্স, যদিও সিরিজের ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গিয়ে থাকলেও, এটি প্রমাণ করে দেয় যে এখনও তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার। সিডনিতে শনিবারের ম্যাচে রোহিত–কোহলি জুটি গড়েছে ১৯তম ওয়ানডে শতকের পার্টনারশিপ। এই তালিকায় তারা এখন তৃতীয় স্থানে অবস্থান করে আছেন। এই জুটিতে সাধারণত চার হাজার পাঁচ শ’ রান পার করেছেন তারা, যা এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলির জুটি রয়েছে ১৭৬ ইনিংসে ৮২২৭ রানের ইতিহাস।

    রোহিত–কোহলির ১৬৮ রানের অপরাজিত জুটি নিশ্চিত করেছে ভারতের সহজ জয়, আর দর্শকদের মনে ফিরিয়ে এনেছে সেই পুরোনো আধুনিক ব্যাটিং লুক। তবে সিরিজ ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দাঁড়ালেও, টি দল নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্বিত। এর আগে, ভারতের তরুণ পেসার হর্ষিত রানা দুর্দান্ত বোলিং করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি বোল্ড করেছেন অস্ট্রেলিয়াকে ২৩৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে অর্জন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।