Category: খেলাধুলা

  • সাইফ-সৌম্যে ঝড়ের পরও বাংলাদেশ তিনশ ছুঁতে পারেনি

    সাইফ-সৌম্যে ঝড়ের পরও বাংলাদেশ তিনশ ছুঁতে পারেনি

    সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচই ছিল তুলনামূলকভাবে কম স্কোরিং, ব্যাটারদের জন্য রানের জন্য বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। তবে আজ মিরপুরের স্পিন স্বর্গে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখিয়ে দলের ধারাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাদের রেকর্ড গড়া জুটিতে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের ভিত্তি সৃষ্টি করে। তবে মিডল অর্ডারে কিছু দুর্বলতা থাকায় রানের গতিতে ধীরগতি দেখা যায়, ফলে ৩ নম্বর ইনিংসেও তিনশ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি বাংলাদেশ।

    মিরপুরের কালো পিচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশিরা ব্যাটিংয়ে প্রচুর সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু আজ সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছেন বাংলাদেশের ওপেনাররা। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়া বাংলাদেশি দের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করেন সাইফ ও সৌম্য। আগের দুই ম্যাচের চেয়ে আজ তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং পাওয়ার প্লে’য় ১০ ওভারের মধ্যে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৪ রান সংগ্রহ করেন।

    এবার ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে টস জিতে বাংলাদেশ ব্যাটিং শুরু করে সেঞ্চুরির আশার সঙ্গে। আগের ম্যাচগুলোতে রক্ষণশীল খেললেও আজ তারা আক্রমণাত্মকভাবে খেলেন। দুই ওপেনার শুরু থেকে লড়াই চালিয়ে যান। তাদের ফিফটির পাশাপাশি, শুরুতেই তারা বেশ দাপুটে ব্যাটিং করেন। উভয়েই শতরানের ওপেনিং জুটির মাধ্যমে দারুণ এক ভিত্তি গড়ে দেন। এটি ছিল গত দুশো দশ বছর পর মিরপুরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশর প্রথম ওপেনিং জুটিতে শতরান।

    এর আগে ২০১৫ সালে ১১ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস গড়ে তুলেছিলেন ১৪৭ রানের জুটি, যা ভেঙে যায় দলীয় ১৭৬ রানে। সেই সময় সাইফ হাসান ৭২ বলে ৮০ রান করে আউট হন আর সৌম্য ঠিক তার পরেই ফিরে যান। তিনি ৯১ রান করতে ৮৬ বল ব্যয় করেন।

    সৌম্য ফিরে যাওয়ার পরে ক্রিজে তাওহিদ হৃদয় এবং নাজমুল শান্ত যুক্ত হয়। তারা একসঙ্গে ৫০ রান যোগ করেন। তবে রান করার গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ক্যারিবীয় বোলারদের দৃষ্টিতে খেলে ৪৪ বলে ২৮ রান করে হৃদয় আউট হন। এর পরে ব্যক্তিগত অর্ধশতকের কাছাকাছি যাওয়া শান্ত ৫৫ বলে ৪৪ রান করেন। শান্ত ফিরে যাওয়ার পর অঙ্কণ, রিশাদ, নাসুমও দ্রুত ফিরে যান। শেষের দিকে ক্যামিও হিসেবে নুরুল হাসান সোহান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখান।

    তিনিও মাহেদী মিরাজের সঙ্গে মিলে ২৪ বলে ৩৫ রান যোগ করেন। তারা একছোপে ব্যাট করে ১ চার ও ১ ছয়ে ৮ বলে ১৬ রান করেন। এই ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এটি ছিল সিরিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়ের জন্য বাংলাদেশের জন্য এক রেকর্ডের মতো।

  • এলপিএল স্থগিতের কারণে বিপিএলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল

    এলপিএল স্থগিতের কারণে বিপিএলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল

    শ্রীলঙ্কায় এলপিএল স্থগিত হওয়ায় দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নতুন এক আশার আলো দেখিয়েছে। এবারের বিপিএল ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিদেশি ক্রিকেটার সংকটের ঝামেলা কিছুটা কমবে বলে প্রত্যাশা জাগিয়েছে। মূলত, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) ঘোষণা করেছে, এলপিএলের আসর এখন নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে অন্য কোনো সময় অনুষ্ঠিত হবে। আগের পরিকল্পনায় ছিল, ২৭ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলম্বো, ক্যান্ডি ও ডাম্বুলায় এই টুর্নামেন্ট হবে। তবে এখন বলা হচ্ছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও ভেন্যুগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে বেশি মনোযোগ দিতে চাইছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। বিশ্বকাপের জন্য ভেন্যুগুলোতে সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়া খুব জরুরি, তাই এলপিএল পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা বোর্ডের মতে, ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্বকাপের, যেখানে ভেন্যু প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় সময়ের বিকল্প নেই। আইসিসির নির্দেশনা অনুসারে, ভেন্যুগুলোর সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন তুলনামূলকভাবে সময় সাপে গিয়েছে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজও বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, যা মূলত নারী ও মেয়েদের ওভর্স ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য। গত দুই বছর এলপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছিল জুলাই-আগস্টে, কিন্তু এবার নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। অপরদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই ডিসেম্বরে বিপিএলের আয়োজন করতে চায়, যা প্রায় একই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সঙ্গে থাকছে। এ সব টুর্নামেন্টের কারণে এমনিতেই বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিযোগিতা ও মানের প্রশ্ন উঠছিল। একদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা করছে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেশের বাইরে এখন অন্য লিগে খেলার অনুমতি দেবে না। এই পরিস্থিতিতে এলপিএলের পিছিয়ে যাওয়াটা বিপিএলের জন্য এক ধরনের স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্যস্ত এই মৌসুমে বিদেশি খেলোয়াড় সংগ্রহের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।

  • খুলনা ফাইটার কারাতে ক্লাবের অসাধারণ সাফল্য

    খুলনা ফাইটার কারাতে ক্লাবের অসাধারণ সাফল্য

    খুলনা ফাইটার কারাতে ক্লাবের অর্জন বছর ঘুরে বছর আরও বিস্ময়কর হয়ে উঠছে। প্রতিষ্ঠানটি তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি বছরই এখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্টে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক অর্জিত হচ্ছে, যা এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।

    তাজা উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিযোগিতা ‘ষষ্ঠ ইন্টারন্যাশনাল ওপেন কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫’। ওই প্রতিযোগিতায় খুলনা ফাইটার কারাতে ক্লাবের খেলোয়াড়রা বিশাল সাফল্য লাভ করে। তারা মোট ৮টি স্বর্ণ, ১৭টি রৌপ্য এবং ২৩টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। এই প্রতিযোগিতা যশোরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রা হলেন – সিয়াম, সামিন, সাজিম, ফারহান, রাফি, মাতিন, রিমি ও তানিয়া। এর পাশাপাশি, রৌপ্য পদকপ্রাপ্তরা হলেন – ওয়ালিদ, আহনাফ, শেখর, জিতু, মুগ্ধ, নাজিফা, মারজিয়া, এঞ্জেল, ফারিয়া, জেনান, ইরা, সুফী, জারা, অথৈ, মাতিন আহসান, রেজোয়ান ও তাবাছ্ছুম। ব্রোঞ্জ পদক বিজয়ীরা হচ্ছেন – তাসফিয়া তাহিয়া, রোজা, মারসা, মাহি, সৌরভ, অঙ্কুশ, জিতু, অরিন, রাহিল, মেহরাজ, অওরা, মরিয়ম, ফারজুন, ইসরাত জাহান, রারোই, জ্যোতির্ময়ী, ফিরোজা, রইফু, জয়, মেহেদী হাসান, তাসনিম বিনতে শরিফ ও জাহিদ হাসান।

    খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন ধরে এই কারাতে প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম, যিনি মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সে অবদান রেখে আসছেন। তাঁর প্রশিক্ষণে ধীরে ধীরে এই ক্লাবের পারফরমেন্স উন্নতি হচ্ছ এবং নতুন নতুন স্বর্ণ পদক জেতা খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে।

    বাংলাদেশ সোতোকান কারাতে এসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কোচ সিহান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘৮০’র দশক থেকে খুলনায় কারাতে প্রশিক্ষণের সূচনা হয়। তখন থেকেই এগিয়ে আসার পথ চালিত হয়ে আসছে। তবে কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করেন, কারণ রেফারির মান ভালো না থাকার কারণে কিছু সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। যথাযথ রেফারিং থাকলে আরও বেশি পদক অর্জিত হতে পারত। তিনি আশাবাদী, ভবিষ্যতে এই খাতে আরও উন্নতি হবে এবং আমাদের খেলোয়াড়রা আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’

    এসব সফলতা কল্যাণে, খুলনা জেলা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নতুন প্রেরণা পায়, যাতে করে ভবিষ্যতেও আরও অনুপ্রেরণামূলক কর্মসূচী ও পর্যায়ক্রমে অর্জন লক্ষ্য করা যায়।

  • রিশাদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬৫ ধাপ উন্নতি

    রিশাদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬৫ ধাপ উন্নতি

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের खेलে বাংলাদেশি স্পিনার রিশাদ হোসেনের অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ব্রেন্ডন কিং ও অ্যালিক আথানাজের শক্তিশালী ব্যাটিং জুটির মাধ্যমে সহজেই জয়ের পথে এগুচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পরিবেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসে তিনি বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে দেন। তার বিখ্যাত এই এক ওভারে তিনি প্রথম ডেলিভারিতে ব্রেন্ডন কিংকে আউট করেন, পরে অ্যালিক আথানাজসহ চার ব্যাটারকেও ফেরান। এই ম্যাচে তিনি ১০ ওভারে মাত্র ৩৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্স করেন, যা বাংলাদেশি স্বাভাবিক স্পিনারদের মধ্যে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ৬ উইকেট উঠানোর অনন্য কীর্তি।

    দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর দেশের প্রথম স্পিনার হিসেবে এই স্পেশাল রেকর্ডটি গড়লেন তিনি। তার এই অসাধারণ সংগ্রহের ফলে পরবর্তীতে আরো দুটি ম্যাচে তিনটি উইকেট নিয়ে তার পারফরম্যান্স ধরে রাখেন। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য আইসিসির রেকর্ডিংয়ে তিনি ৬৫ ধাপ এগিয়ে গিয়ে ৪৩০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশি স্পিনারদের মধ্যে ৬৬ নম্বরে অবস্থান নিয়েছেন। তার সঙ্গে আছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী ও কালিম সানা।

    সব মিলিয়ে, বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রিশাদ। প্রথম ম্যাচে ১৩ বলে ২৬ রান করে দলের জয়ের মূল কারিগর হয়ে উঠেছিলেন, দ্বিতীয় ম্যাচে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ১৪ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন—এভাবেই অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন তিনি। এর ফলস্বরূপ, ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে তিনি ৮৭ ধাপ এগিয়ে ৩৭ নম্বর স্থান egna।

    অপর দিকে, বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও তার পারফরম্যান্সে উন্নতি করেছেন। দুই ম্যাচে তিনি এক উইকেট নিয়েছেন, পাশাপাশি ৪৯ রান করে ১ ধাপ এগিয়ে ৫৭৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে অবস্থান করছেন, যা দলের সেরা। তার র‌্যাঙ্কিংয়ে আরও উন্নতি হয়েছে, যখন তিনি অস্ট্রেলিয়ান রশিদ খানকে পেছনে ফেলেছেন।

    অলরাউন্ডারদের মধ্যে শীর্ষে আছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই, দ্বিতীয় স্থানে সিকান্দার রাজা, আর তিন নম্বর বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজ।

    বল হাতে, দুই ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের আটকে রাখা ও মিতব্যয়ী বোলিংয়ে তিনি দলের মূল স্তম্ভ। প্রথম ওয়ানডেতে ১০ ওভারে ১৬ রানে এক উইকেট নেওয়া মিরাজ, দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৮ রান দিয়ে ২ উইকেট হাসিল করেন। তার এই ধারাবাহিকতা তাকে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬ ধাপ এগিয়ে ১৮ নম্বরে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে তার স্থান শীর্ষে। তবে, তাসকিন আহমেদ দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্রামে থাকায় ৪ ধাপ পিছিয়ে ৩৮ নম্বর হয়েছেন। মুস্তাফিজুর রহমান আগের মতোই ৫৬ নম্বরে থাকছেন।

    অন্যদিকে, নতুন মুখ নাসুম আহমেদ (৭১ নম্বর), তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম ধাপে ধাপে উন্নতি করছেন। নাসুম মাত্র এক ম্যাচ খেলে ১৬ ধাপ এগিয়ে গেছেন, ১০ ওভারে ৩৮ রান ও ২ উইকেট নিয়ে।

    ব্যাটিংয়ে, মিরাজ, তাওহীদ হৃদয় ও সৌম্য সরকারের পারফরম্যান্সে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম ম্যাচে ৫১ রান করা হৃদয়, দ্বিতীয় ম্যাচে ১২ রান করে ৭ ধাপ উপরে উঠে ৩৫তম স্থান অর্জন করেন। সৌম্যর পারফরম্যান্সও commendable—৪৫ রানে অপরাজিত থাকায় তিনি ৫ ধাপ এগিয়ে ৮৬ নম্বরে পৌঁছেছেন। লিটন দাস ও জাকের আলী অনিকের পারফরম্যান্স কিছুটা পিছিয়ে গেলেও, হঠাৎ করে উন্নতি করেছেন প্রগাত সিং ও সেদিকউল্লাহ অটল। চট্টগ্রাম সিরিজে সুযোগ না পাওয়ায় লিটন দাসের স্থান দুই ধাপ পেছিয়েছে। এছাড়া, চোট কাটিয়ে ফিরছেন তানভীর ইসলাম। তিনি ২ ধাপ এগিয়ে ৫৬ নম্বর হয়েছেন।

  • ভারতীয় দল ট্রফি গ্রহণে নাকভির শর্তে বিতর্ক

    ভারতীয় দল ট্রফি গ্রহণে নাকভির শর্তে বিতর্ক

    এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতের জয়োৎসব চলার মাঝেই শুরু হয় ট্রফি বিতর্ক। ফাইনালের পরে পাকিস্তানকে হারানোর পরও, ভারতীয় খেলোয়াড়রা মহসিন নাকভি, পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করেননি। ম্যাচের এক ঘণ্টা পরে নাকভি নিজেই মাঠ ছেড়ে ট্রফি সরিয়ে নেন, ফলে ভারতীয় দল আসল ট্রফি ছাড়াই দেশে ফিরে যায় এবং প্রতীকীভাবে শিরোপা উদযাপন করে। অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মহসিন নাকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে, এ কারণেই ভারতীয় খেলোয়াড়রা তার হাত থেকে ট্রফি নিতে চাননি। এই বিতর্কের কারণে ভারত এসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে জানানো হয়েছে যে, ১০ নভেম্বর দুবাইয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ট্রফি হস্তান্তর করার জন্য আলোচনা চলেছে। উল্লেখ্য, এবারের এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হয়েছে তিনটি, যার প্রতিটিতেই ভারত জয়লাভ করে। তবে, কোনো খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি। প্রথম ম্যাচের জয়টি উৎসর্গ করা হয় কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ভারতীয় সেনাদের উদ্দেশে, যার জন্য অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদবকে আইসিসি ৩০ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা করে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফ রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের জন্য দ্বিতীয় ম্যাচে জরিমানা 받고, এই বিষয়টি নিয়ে বিসিসিআই ভবিষ্যত আলোচনা করতে পারে আইসিসি ও এসিসি বোর্ড সভায়।

  • মুক্তিপণ না দিতে পেরে প্রাণ গেল গোলরক্ষকের

    মুক্তিপণ না দিতে পেরে প্রাণ গেল গোলরক্ষকের

    সেনেগালের ১৮ বছর বয়সী তরুণ গোলরক্ষক শেখ তোরে ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ার আশায় বিদেশি ক্লাবের ট্রায়ালে অংশগ্রহণের জন্য যান। তখন স্বপ্ন দেখছিলেন একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে হাজির করবেন। তবে সেই স্বপ্নই এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তিনি অপহরণের শিকার হন এবং তারপর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

    শেখ তোরে ছিলেন সেনেগালের ‘এস্প্রী ফুট ইয়েমবেল’ ফুটবল একাডেমির একজন পরীক্ষানিপুণ ভবিষ্যত ফুটবল তারকা। উন্নত প্রশিক্ষণের প্রত্যাশায় তাকে একটি প্রতারকচক্র ঘানা নামে পরিচিত এক দেশে নিয়ে যায়। কিন্তু ঠিক পৌঁছানোর পরই তাকে অপহরণ করে এই চক্র এবং পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে।

    দুর্ভাগ্যবশত, তোরের পরিবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুক্তিপণের অর্থ জোগাড় করতে না পারায়, তারা নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে। এই শহীদ جوانের মুক্তিপণের জন্য বঞ্চিত হয়ে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    সেনেগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনা নিশ্চিত করেছে, এবং জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের সরকার যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়াও, শেখ তোরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্রীড়াজগতে শোকের সুবাতাস বইছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না তা নিশ্চিত করতে চলছে নিরাপত্তা ও সতর্কতা বাড়ানোর প্রস্তুতি।

  • সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, দেখে নিন একাদশ

    সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, দেখে নিন একাদশ

    অবশেষে বাংলাদেশের জন্য সিরিজের চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয়েছে। ঘরের মাঠে উইকেটের সুবিধা নিয়ে সহজ জয়ের আশা করেছিল টাইগাররা, কিন্তু সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অসম্ভবের মতো ম্যাচ টাই করে বসে বাংলাদেশ। পরে সুপার ওভারে অদ্ভুত ব্যাটিংয়ের কারণে হেরে যাওয়ায় সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখন একটি অলিখিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে।

    আজ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে কোনো পরিবর্তন নেই একাদশে।

    টাইগারদের জন্য ওয়ানডে ফরম্যাটে সময়টা বেশ কঠিন যাচ্ছে। শেষ ১০টি ওয়ানডে সিরিজের মধ্যে মাত্র দুটি জয় পেয়েছে তারা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের পারফরম্যান্সও কিছুটা হতাশাজনক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের পর এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারোর শংকা বেড়ে গেছে বাংলাদেশে।

    ২০১১-১২ মৌসুমের পর থেকে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ হারায়নি। তাই দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর এবার সিরিজ হারার ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে টাইগারদের।

    বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য ক্রিকেটারদের র্যাংকিংয়ে সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে হবে (স্বাগতিক দেশ বাদে)। অন্য দেশগুলোকে অংশ নিতে হবে বাছাইপর্বে।

    বাংলাদেশের আজকের একাদশে রয়েছেন: সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, মাহিদুল ইসলাম, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তারুণ ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।

    অপরদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে উপস্থিত থাকবেন: ব্রেন্ডন কিং, আলিক আথানাজে, কেসি কার্টি, শাই হোপ (অধিনায়ক/উইকেটকিপার), আকিম অগাস্টে, শেরফানে রাদারফোর্ড, জাস্টিন গ্রেভস, রোস্টন চেজ, আকিল হোসেন, খারি পিয়েরে এবং গুদাকেশ মোতি।

  • সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচে বাংলাদেশ দলে চার স্পিনার সহ ব্যাটিং অপশন নিয়ে খেলবে

    সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচে বাংলাদেশ দলে চার স্পিনার সহ ব্যাটিং অপশন নিয়ে খেলবে

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ২০৭ রানের নিরস পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশ দল একটি বিশাল ব্যবধানে ৭৬ রানের জয় অর্জন করেছে। এখন লক্ষ্য সিরিজ নিশ্চিত করা, এজন্য দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচটি মিরপুরের শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর দেড়টায় শুরু হবে।

    পূর্বের ম্যাচে মিরপুরের কালো উইকেটের জন্য আলোচনা কম নয়। এই ম্যাচেও স্পিনের উপর নির্ভর করে ক্যারিবিয়ান খেলোয়াড়দের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে তারা তিন স্পিনার দিয়ে খেলেছিল—অপর দিকে ছিলেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান পেসার হিসেবে।

    দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও কালো পিচের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, তবে গত ম্যাচের তুলনায় উইকেট আজ খানিকটা আলাদা। সিরিজের মাঝপথে নির্বাচকরা স্পিনার নাসুম আহমেদকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আজকের একাদশে তাকে রেখেছেন টিম ম্যানেজমেন্ট, আর তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে বাদ পড়েছেন।

    বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আজ চারজন প্রামাণ্য স্পিনার ও একজন পেসার—মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে খেলবে। অন্যদিকে, উইন্ডিজ দলও স্পিনে শক্তি বাড়িয়েছে। তাদের দলে ঢুকেছেন আকিল হোসেন, এবং রোমারিও শেফার্ডের বদলে অভিষেক হচ্ছে অ্যাকিম অগাস্টের।

    বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মাহিদুল ইসলাম, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তানভির ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।

    অপরদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে আছেন ব্রান্ডন কিং, অ্যালিক অ্যাথানেজ, কিসি কার্টি, শাই হোপ (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), শেরফান রাদারফোর্ড, অ্যাকিম অগাস্টে, রোস্টন চেজ, জাস্টিন গ্রিভস, গুঁড়াকেশ মোতি, খারি পিয়েরে ও আকিল হোসেন।

  • মুশতাকের মতে, রিশাদের টেস্ট অভিষেক সময়ের ব্যাপার মাত্র

    মুশতাকের মতে, রিশাদের টেস্ট অভিষেক সময়ের ব্যাপার মাত্র

    ম Mirpur এ বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয় পরে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ মুখোমুখি হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এই ম্যাচটি জিতলে সিরিজে শিরোপা নিশ্চিত হবে টাইগারদের। স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তারা সিরিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতবে।

    মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ। একজন কোচ হিসেবে আমাদের মূল দায়িত্ব হলো ছেলেদের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে তোলা। বিশ্বাস ছাড়া কিছু হয়তো সম্ভব নয়। মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসই হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশি ক্রিকেটারের অগণিত প্রতিভা রয়েছে, যারা যে কোনো দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই আমাদের শুধু বিশ্বাস রাখতে হবে।’

    প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। একাই ৩৫ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি নজর কেড়েছেন। এই পারফরম্যান্সের পেছনে তিনি আফগান স্পিন জাদুকর রশিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে আলাপ করেছেন বলে মনে করেন মুশতাক, ‘আমি চেয়েছিলাম রিশাদ রশিদের সঙ্গে কথা বলুক। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছে। রিশাদ আলাদা একজন স্পিনার হলেও তারা কিছুটা একই রকম ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের উচিত সবার সঙ্গে আরও বেশি আলোচনা করা, বিশেষ করে রশিদ, আদিল রশিদদের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে। এতে অনেক লাভ হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রিশাদের গুরুত্ব এখন অনেক বেশি।’

    বাংলাদেশের স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুশতাক বলছেন, রিশাদ শুধু সীমিত ওভারের জন্যই নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বিকল্প হতে পারেন।

    প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২১ ম্যাচ খেলা ২৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার এখনও টেস্ট অভিষেক করেননি। তবে মুশতাকের বিশ্বাস—এই তরুণ ক্রিকেটার টেস্টে দ্রুত উঠতে পারবেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চিত, রিশাদ টেস্টে খেলার জন্য প্রস্তুত। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে তার লম্বা উচ্চতা ও বাউন্স সুবিধা কাজে লাগিয়ে যদি ভালো গুগলি বল করে, তবে তিনি খুবই কার্যকরী হতে পারেন। শেষ দিকের ব্যাটাররা তার গুগলি পড়তে না পারলে, তিনি টেস্টে আরও সফল হবেন। তবে সেটা তার নিজের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে।’

  • আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে মরক্কোর ইতিহাস রচনা

    আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে মরক্কোর ইতিহাস রচনা

    বিশ্ব ফুটবলে এক নজির সৃষ্টি করেছে মরক্কো। ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে বিশ্বসেরা আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে আফ্রিকার এই দেশটি। রোববারের ঐতিহাসিক এই ম্যাচে জোড়া গোলের জন্য দলের নায়ক হয়ে উঠেছেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইয়াসির জাবিরি।

    ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন তিনি ১২ মিনিটে, বাঁ পায়ের নিখুঁত ফ্রি-কিকের মাধ্যমে। এরপর ২৯ মিনিটে ওসমান মা’আম্মার পাস থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন জাবিরি। পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে আগ্রহী ও প্রভাবশালী ছিলেন তিনি।

    প্রথমার্ধে বল দখলে মরক্কো আধিপত্য দেখালেও (৭০ শতাংশের বেশি), আর্জেন্টিনা কোনও স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পালের সম্ভাব্য গোলের কোন শট ছিল না। বিপরীতে, মরক্কো সুবিধা পেলেই দ্রুত ক্যানটাউন্ট আক্রমণে উঠেছিল। গোলরক্ষক ইব্রাহিম গোমিস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

    দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা দলের মরিয়া চেষ্টা থাকলেও মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণ এই চেষ্টা খাটো করে। মাহের কাররিজোর একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর হ্যান্ডবলের একটি ঘটনা ভিএআর টেস্টে হলেও তাঁরা পেনাল্টি পায়নি।

    মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবির পরিকল্পিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশলই এই ফাইনালের মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে পরিবর্তন কৌশল কাজে লাগিয়ে মরক্কো গতি নিয়ন্ত্রণ করে খেলে।

    এই জয়ের মাধ্যমে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাস নতুন করে লেখা হলো। ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম কোনও আফ্রিকান দেশ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল।

    মরক্কোর এই অভিযান টিকে ছিল গ্রুপ পর্বে স্পেন ও ব্রাজিলকে হারানোর মাধ্যমে শীর্ষে উঠে আসার পর। এরপর নিখুঁত পারফরম্যান্সে তারা দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে যায়।

    অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা সপ্তম শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে খেলছিল, কিন্তু ইয়াসির জাবিরির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের কারণে সেই স্বপ্ন থেমে যায়। সম্ভবত এই রাতেই উঠে এল বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক তারকার ছবি।