Category: আন্তর্জাতিক

  • করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে আবাসিক ভবন ধসে নিহত ১৬

    করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে আবাসিক ভবন ধসে নিহত ১৬

    পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক গুরুতর বাসাবাড়ির গ্যাস পাইপলাইনের অগ্নিসংযোগে একটি ভবন ধসে পড়েছে। এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও আরও ১৮ জন আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটে গুল রানা কলোনির একটি ভাড়াবাড়িতে, যা ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়। করাচির সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন জানান, এখন পর্যন্ত ১৩টি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলমান।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই বিস্ফোরণের কারণ সম্ভবত গ্যাস পাইপলাইনে লিকের জন্য। বিস্ফোরণের ফলে ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়ে এবং আঘাতপ্রাপ্তদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুতই উদ্ধারকারী দল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খোঁজা ও নিখোঁজদের উদ্ধারে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ওই ঘটনার খবর নিয়েছেন এবং এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি অচিরেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার ও আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য বলেছেন এবং ঘটনার কারণ তদন্তের জন্য করাচি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

    সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসানও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কাজ চালানোর গতি বাড়াতে এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

  • পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনার উদ্বেগ

    পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনার উদ্বেগ

    গত নভেম্বরের এক দিন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাওয়ালপুরে ঘটে এক চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। সেই দিন পাঞ্জাব পুলিশে ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট (সিসিডি)-এর একটি সশস্ত্র দল বাড়িতে প্রবেশ করে ধরপাকড় চালায়। তারা জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মোবাইল ফোন, ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও অলঙ্কার লুট করে নেয় এবং ধরিয়ে নিয়ে যায় তার তিন ছেলে ও দুই জামাতাকে।

    ঘটনার মাত্র ঘণ্টা খানেকের মধ্যে পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হয় মোট পাঁচজনের লাশ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩) এবং আদনান (১৮)— রয়েছেন। এই ঘটনার বিস্তারিত ছবি ভারতের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি)-এর নথিতে উঠে এসেছে। এইচআরসিপিকে জুবাইদা বিবি বলেন, “তাদের ঝড়ের মতো বাহাওয়ালপুরে ঢুকে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে সব Some মূল্যবান জিনিস লুট করে নিয়ে যায়।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের ছেলে-জামাতাদের ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য আমরা লাহোর পর্যন্ত গিয়ে চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। পরবর্তীতে তাদের লাশ উদ্ধার করে আমরা জানতে পারি, তারা হত্যা করা হয়েছে।” এই ঘটনার বিচার চেয়ে জুবাইদা বিবি ও তার স্বামী আবদুল জব্বার আদালতেও গিয়েছিলেন। কিন্তু পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের হুমকি দেওয়া হয়, যদি অভিযোগ প্রত্যাহার না করেন, তাহলে পরিবারের সবাইকেই হত্যা করা হবে। এই ভয়াবহ হুমকির মুখে বাধ্য হয়েই অভিযোগ প্রত্যাহার করেন তারা।

    আবদুল জব্বার বলেন, “আমরা তাদের অপরাধী বলছি না। তারা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ছিল, বিবাহিত এবং সন্তানের পিতা-মাতা।” গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এইচআরসিপি এই ঘটনা নিয়ে একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মাত্র ৮ মাসে পাঞ্জাবের সিসিডি ৬৭০টি ‘এনকাউন্টার’ অভিযান পরিচালনা করে, যার نتیجے ৯২৪ জন নিহত হয়েছেন।

    পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের নেতৃত্বে ২০২৫ সালে গঠন করা হয় এই বিভাগ। মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর অপরাধ ও সংঘবদ্ধ গ্যাংদের দমন। তিনি এক ভাষণে ঘোষণা করেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে পাঞ্জাবকে অপরাধমুক্ত করার জন্য আমরা কঠোর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সিসিডি একটি প্রশিক্ষিত বাহিনী, যারা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কঠিন অপরাধীদের ধরতে সক্ষম।”

    সিসিডির কার্যক্রম কেবল পাঞ্জাবের ভেতর সীমিত। এই বাহিনী অলিখিতভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এইচআরসিপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বাহিনী ‘সমান্তরাল পুলিশ’ হিসেবে কাজ করছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

    পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন জোটের অন্তর্গত পাকিস্তান মুসলিম লীগের অবদান আর রাজনৈতিক যোগসূত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়। মরিয়ম নওয়াজ, যারা পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের নেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের চাচী, তারাও এই সিসিডির গুড পারফরম্যান্সের জন্য ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

    তবে, এইচআরসিপির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সিসিডি ‘সমান্তরাল পুলিশ’ হিসেবে কাজ করে আসছে এবং অলিখিত দায়মুক্তি সুবিধা নিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির প্রবণতা প্রবল হয়ে পড়েছে। এর পরিচালক ফারাহ জিয়া আলজাজিরাকে বলেন, “১৯৬০ সালের পর থেকেই পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলার নামে হত্যা বেড়ে চলেছে। তবে বর্তমানে এই প্রবণতা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঞ্জাব ও সিন্ধু মিলিয়ে ৩৪১টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে মাত্র আট মাসে পাঞ্জাবেই নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৯২৪। এটি খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।”

  • দিল্লিতে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু করল বাংলাদেশ

    দিল্লিতে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু করল বাংলাদেশ

    প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবার চালু হয়েছে বাংলাদেশি ভিসা কার্যক্রম। বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ, শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি, দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশি ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি ছিল দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সূচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন দিনের মধ্যে ঘটে। এটি সম্ভব হয়েছে যখন বাংলাদেশি সরকার দ্রুতই সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়। এ পরিস্থিতিতে, গত ডিসেম্বর মাসে কিছু অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছিল, যেমন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের ঘোষণা অনুযায়ী, সাময়িকভাবে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখা হয়। এর পেছনে মূল কারণ ছিল, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনা এবং তার পরের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। ডিসেম্বরের শেষ দিকে, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ঢাকায় বিভিন্ন পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা হয়। পাশাপাশি, চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে গত ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামে ভারতে যাওয়ার ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) কার্যক্রম স্থগিত করা হয়, যদিও ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ভিসার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় না। অল্পপরে, ভারতের দিল্লি ও আগরতলার মিশনগুলো থেকে বাংলাদেশে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে, ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অনেকটাই উন্নতি ঘটে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের আগে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। নির্বাচনের পর, মোদী তার সাথে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলে সমর্থন ও শুভকামনা প্রকাশ করেন। এরপর, ঢাকা ও দিল্লির শপথ অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার জন্য মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, কিন্তু ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি আসতে পারেননি। পরিবর্তে, অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন দিশায় এগোতে শুরু করেছে।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে দেশের একটি আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তাকে ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যা তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের মূল অভিযোগের আওতায় করেছেন। একইসঙ্গে তার কারাদণ্ডের সঙ্গে সামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে জানা যায়, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মোংকে সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে আটক করার জন্য নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগেও ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের দণ্ড হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের জন্য আবেদন করেছিল, তবে আদালত বোঝে ৬৫ বছর বয়সী ইউন ইওলকে আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

    অপরদিকে, একই মামলায় সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছর, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছর, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছর এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশ গার্ডের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে আদালত জানিয়েছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি, দেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৬১ বছর বয়সী লি কেএনপি-র পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকে সরকারের সমালোচক মিডিয়া ও গণমাধ্যমের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হন।

    এছাড়াও, জানুয়ারিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুককে ২৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি সামরিক আইন জারির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং এই মামলার দ্বিতীয় মন্ত্রী হিসেবে দণ্ডিত হয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল শক্তিশালী ও প্রচণ্ড বিতর্কিতভাবে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে একই দিন সন্ধ্যায় মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর, ১৪ ডিসেম্বর, ইউনকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় এবং তার সাময়িক পদচ্যুতি ঘটে। এরপর, ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। সূত্র: রয়টার্স

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ছে

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ছে

    বিশ্ববাজারে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দামে আবারও বড় পতনের আভাস দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি), ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৭১.৯৯ ডলাররে পৌঁছিয়েছে, যেখানে আগের দিনের তুলনায় ৩৩ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬৭.০৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় ৬২ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেশি।

    বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো, কূটনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে, কারণ এই অঞ্চল থেকে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ব্যাঘাত ঘটলে বিশ্বের তেল সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে দাম আরও চড়া হতে পারে।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি তারা পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দ্রুত কোনো সমঝোতা না করে, তাহলে আনুমানিক খারাপ ফলাফল হবে। তিনি ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার পরিকল্পনা করেছে। এর আগেও সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি, অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার কারণেও দাম বাড়ছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ তেলের মজুত ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। এই সময় শোধনাগারের ব্যবহার ও রফতানি বেড়ে গেছে, যা জ্বালানি দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

    অতএব, এই পরিস্থিতি বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। উত্তেজনা কমে না গেলে আরও বড় দামের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে।

  • এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা বেড়েছে রণতরীর পর

    এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা বেড়েছে রণতরীর পর

    আমেরিকা-ইরান পারমাণবিক চুক্তি এখনও দূর প্রসারিত। দুটো দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা সম্পন্ন হলেও কোনও ফলাফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি প্রদর্শনে ব্যাপক বাড়তি নজর দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে রয়েছে আধুনিক এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫। তবে কেন এই শক্তি প্রদর্শনী, তা এখনো স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের মতে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি অনেকগুণ বেড়েছে, যা কেবল একেবারে নজরদারির জন্য নয়, সম্ভবত আরও শক্তিপ্রদর্শনের একটি অংশ। একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, মার্কিন শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন সহ তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। জানুয়ারির শেষের দিকে এই জাহাজগুলো এই অঞ্চলে গিয়ে ঘাঁটি গেড়ে বসে। এর পাশপাশি, দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন হয়েছে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। অন্যদিকে, এই শক্তিপ্রদর্শনের উত্তেজনা চলাকালে ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সেনার এই পদক্ষেপকে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা, যদিও ইরান দাবি করেছে এগুলো শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক। তবে অনেকের বিশ্বাস, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নিছক পরীক্ষা নয়, বরং একপ্রকার প্ররোচনা। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চলার পাশাপাশি, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বৈঠক থেকে ফলাফল স্পষ্ট নয়। আমেরিকা জানিয়েছে, তারা ইরানকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দিচ্ছে, আবার ইরান বলছে, ভবিষ্যতের আলোচনায় কোনও বড় অগ্রগতি ঘটেনি। ইরানের দাবি, তাদের সাথে আরও আলোচনা হবে, কিন্তু শীঘ্রই পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

  • আল আকসায় প্রথম তারাবি নামাজ আদায় করলেন হাজারো মুসল্লি

    আল আকসায় প্রথম তারাবি নামাজ আদায় করলেন হাজারো মুসল্লি

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো ফিলিস্তিনেও গতকাল মঙ্গলবার চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে ইসলাম ধর্মের নিযম অনুযায়ী, গত রাতের সন্ধ্যার পর প্রথমবারের মতো তারাবির নামাজ সম্পন্ন করা হয় আল আকসা মসজিদে। এটি ছিল রমজানের প্রথম তারাবির নামাজ। এই খবর তুরস্কের সরকারি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

    গতকাল মঙ্গলবার আল আকসায় ইমামতি করেন খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনেহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বেশকিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, নিরাপত্তার কারণের জন্য বহু ইসরায়েলি পুলিশও আল আকসা চত্বরে মোতায়েন ছিলেন।

    ফিলিস্তিনের গেরাঁ্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইন চাঁদ দেখার ঘোষণা দেন, যা রমজানের শুরুকে চিহ্নিত করে। এই ঘোষণার পরে, ধর্মীয় রীতিনীতির পরিপূর্ণ অনুসারে, সন্ধ্যার সময় হাজার হাজার মুসল্লি আল আকসা মসজিদে জড়ো হন তারাবির নামাজ পড়তে।

    আল আকসা মসজিদ অবস্থিত পূর্ব জেরুজালেমে, যেখানে প্রাচীন সময় থেকে ফিলিস্তিনের রাজধানী বলে বিবেচিত। একসময় এই অঞ্চল ছিল মুক্ত, কিন্তু ১৯৫৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েল এই এলাকাটি দখল করে নেয়। এখনো এই দুই দলের মধ্যে বিভাজন রয়ে গেছে। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের পর থেকে জেরুজালেমে মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরায়েল। তবে, ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতির পর থেকে কিছুটা শিথিলতা এসেছে।

    আমরা আশা করি, এই পবিত্র রমজান উপলক্ষে মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে ইবাদত চালিয়ে যেতে পারবেন। এই ঐতিহাসিক স্থান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সময়গুলো মনে রাখতে হবে।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে দেশের আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ। এই মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে তার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছরের কারাদণ্ডের কথা ঘোষণা করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে উঠে আসে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটকানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছিলেন, তবে আদালত তাকে ৬৫ বছর বয়সের এই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

    তবে এটি একমাত্র নয়। একই মামলায় দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছর, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছর, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছর এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েককে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবে, বলেও জানানো হয়।

    এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকে তার দায়িত্বের সময় ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত। ৬১ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী গণমাধ্যমগুলোকে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    তাছাড়া, জানুয়ারিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যিনি সামরিক আইন ঘোষণায় ভূমিকা রাখার জন্য দায়ী ছিলেন। তিনি ইউনের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় সদস্য।

    আর এই পুরো ঘটনাবলি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যখন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেন। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এর ফলে ১৪ ডিসেম্বর তাকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করে বরখাস্ত করা হয়, এবং পরে ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    সবশেষে, এই ঘটনাক্রমে উল্লেখযোগ্য ভাবে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনের শাসন পরিস্থিতি আবারো আলোচনায় এসেছে।

  • করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধ্বসে নিহত ১৬

    করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধ্বসে নিহত ১৬

    পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি আবাসিক ভবনের গ্যাস পাইপলাইনের বিস্ফোরণে трагির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনাটি সোলজার বাজারের গুল রানা কলোনির এক বাড়িতে ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, 初তঃ গ্যাস লিকের কারণে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। খবর দিয়া ডন।

    সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন জানান, এখন পর্যন্ত ১৩টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ১৮ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    পুলিশের দাবি, এই দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ হয়েছে গ্যাস লাইনের লিক, যা দিনভর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। এলাকাটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই ঘটনার খবর নিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতের পরিবারে গভীর শোক প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সহায়তা দিতে এবং ঘটনাস্থলের কারণ খতিয়ে দেখতে।

    তথ্য অনুযায়ী, করাচির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া উল হাসান এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেছেন।

  • পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা

    পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা

    গত নভেম্বরের এক দিনে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাউয়ালপুরে ঘটে যায় তারকা একটি জঘন্য নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। তখন পাঞ্জাব পুলিশ ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের (সিসিডি) একটি সশস্ত্র দল বাড়ি ঢুকে মা জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়, পাশাপাশি তাদের তিন ছেলে ও দুই জামাতাকে অপহরণ করে।

    ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হয় পাঁচজনের মরদেহ। নিহতরা হলেন জুবাইদা বিবির তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩), ও আদনান (১৮)—সহ আরও দুজন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পাকিস্তানের বৃহত্তম মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) এর নথিপত্রে তালিকাভুক্ত হয়েছে। জুবাইদা বিবি মিডিয়াকে বলেছিলেন, ‘তারা ঝড়ের মতো বাহাউয়ালপুরে আমাদের বাড়িতে ঢুকে সব কিছু নিয়ে যায়।’

    তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ‘আমরা তাদের পিছু পিছু লাহোর পর্যন্ত গিয়েও জেলখানার গেটে পৌঁছালাম, তবুও তাদের খুঁজে পেলাম না। পরের দিন আমাদের ছেলে ও জামাতাদের লাশ পেয়েছি।’

    অভিযোগের ভিত্তিতে তারা আদালতেও গিয়েছিলেন, কিন্তু পাঞ্জাব পুলিশের হুমকির মুখে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। জুবাইদা বিবি ও তার স্বামী আবদুল জব্বার জানিয়েছেন, ‘আমরা বুঝতে পারিনি যে তারা আমাদের পরিবারকে এভাবে হত্যা করবে। তারা কোনও অপরাধী নয়, তারা ছিল খেটে খাওয়া মানুষ, বিবাহিত ও সন্তানের পিতা।’

    ২০৫৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছেন হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গঠিত হয় সিসিডি, যার লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবে সংগঠিত অপরাধ ও গ্যাংসভার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেছিলেন, ‘আমরা চাই সব অপরাধ দূর করে একটি নিরাপদ পাঞ্জাব গড়ে তুলতে।’ তবে, বাস্তবে দেখা যায়, সিসিডি কার্যক্রমের নেপথ্যে অলিখিত অনুমোদন ও এক ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। প্রেস ট্রাস্টের রিপোর্ট অনুসারে, গত ৮ মাসে পাঞ্জাবে নিখোঁজ ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯২৪ জনের বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে।

    সিসিডি গঠনের পরে থেকে শুরু হয় এই নির্যাতনের কল্পনা। এই বাহিনী, নির্মিত হয় মূলত অপরাধ দমন ও গ্যাংসভার বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল হতে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এটি অনেক সময় অবৈধ হত্যা ও অপপ্রয়োগের আসরে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তব পরিস্থিতিতে তারা বিচারহীনতার সুবিধা নিয়ে দিনকে দিন অপরাধের মাত্রা বাড়াচ্ছে।

    প্রাদেশিক বাহিনীটির কার্যক্রম শুধুমাত্র পাঞ্জাবেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এই অভিনেতা অন্য রাজ্যে কোনো কার্যক্রম চালায় না।

    বিশ্লেষকদের মতে, এইচআরসিপি’র প্রতিবেদনে বলেছে, এই বাহিনী একটি ‘সমান্তরাল পুলিশ’ হিসেবে কাজ করছে এবং অলিখিত দায়মুক্তির সুবিধা গ্রহণ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। ফারাহ জিয়া, এইচআরসিপির পরিচালক, আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘১৯৬০ সালের পর থেকে পাঞ্জাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। ২০২৪ সালে, যেখানে শুধুমাত্র জানুয়ারি থেকে ডিসেম्बর পর্যন্ত ৩৪১টি such হত্যাকাণ্ডের নিদর্শন পাওয়া গেছে, সেখানে ২০২৫ সালে মাত্র ৮ মাসে ৯২৪টি ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা আবশ্যক।’