Category: আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত করল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত করল ইরান

    হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ স্থগিত করে দিয়েছে ইরান। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরান আমেরিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—উভয়ভাবে—সব কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বার্তা আদানপ্রদান বন্ধ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এসেছে। ওই সময়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-ে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতার মৃত্যু হতে যাচ্ছে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত তা-ই হতে চলেছে।’

    এরপরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছাড়াও পাল্টা হামলা হতে পারে।

    সেই背景ে হলেও, মঙ্গলবার সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তিনি সংঘাতের একটি সন্তোষজনক সমাধানের আশাও প্রকাশ করেন।

    সিএনএন ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা করছে। একটি পাকিস্তানী নিরাপত্তা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব একটি বড় ধরনের অগ্রগতির জন্য কাজ করছিল।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    ইরান তেহরানকে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চাওয়ার নীতিতে অনড় রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবর গত সোমবার ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট: ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতকে সাময়িকভাবে নয়, স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বিরোধিতার মুখে টিকেই আছে; ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা বিতর্কিত মন্তব্যও এ প্রেক্ষিতেই এসেছে।

    ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি খোলার দাবি জানালে প্রথমে বলপ্রয়োগের হুমকি দিলেও কূটনৈতিক বিকল্পও খোলা রেখেছিল। তবে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার দিক থেকে এই নৌপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত তারা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছে। হরমুজ সঙ্কটের গুরুত্ব অর্থনৈতিক: এই প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় এবং বর্তমানে বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে।

    তেহরান মার্কিন ১৫ দফার বদলে নিজস্ব ১০ দফার প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে উল্লেখযোগ্য দাবি হলো—হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার মেনে নেওয়া, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণের দাবিসহ অনান্য বিষয়। সবচেয়ে মূল দাবি হচ্ছে—হরমুজ প্রণালির ওপর স্বীকৃত নিয়ন্ত্রণ।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে হরমুজ এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চোক পয়েন্ট’। প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার এবং ভূগোলগত নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের—ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান বেশ কয়েকবার জাহাজ-ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত করে এবং চলাচল সীমিত করে দেয়, ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বাড়ে এবং জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যায়।

    পরে গোপন আলোচনার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়; এর বিনিময়ে ইরান ‘টোল’ ধার্য করেছে—প্রতি জাহাজে প্রায় ১–২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (কিছু কনজারভেটিভ হিসাব ১০–১৫ লাখ ডলার ধরে থাকে), যেগুলোর বেশিরভাগই চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। এমন নিয়ম চালু হলে ইরানের জন্য রাজস্ব ও স্বার্থ দ্বিগুণ হবে: কনজারভেটিভ হিসাব ধরলে শুধু অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর উপর হারে মাসিক প্রবাহ থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার) আয় হতে পারে। গ্যাসবাহী জাহাজে একইভাবে টোল আরোপ করলে তা থেকে আরও প্রায় ৮০ কোটি ডলার মাসিক আয় আসতে পারে।

    এই পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে। অবরোধ ও তেল-অবকাঠামোর ওপর হামলার খবরের প্রেক্ষিতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে—২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড় জ্বালানি মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—যুদ্ধ শেষ হলে সরবরাহ পুনরায় স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে এবং দাম ধীরে নামার সুযোগ আছে। কিন্তু যদি শান্তি-চুক্তির শর্তে হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে ‘টোল’ কস্ট আমদানিতে যোগ হবে এবং পরিবহন ও বিমা ব্যয় বাড়বে—ফলশ্রুতিতে জ্বালানির দাম পুনরায় বাড়তে পারে। কতটা বাড়বে তা অনিশ্চিত; বিশেষ করে যদি বড় আমদানিকারক দেশগুলো (যেমন ভারত) বিশেষ ছাড় বা বিকল্প পথ খোঁজে।

    আর্থিক সংস্থাগুলোর অনুমান ভিন্ন: গোল্ডম্যান স্যাচস বলেছে, সরবরাহ ব্যাহত হলে প্রতি ব্যারেলে ৪–১৫ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত হতে পারে; অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এই ঝুঁকি প্রিমিয়ামকে ২৫ ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য মনে করেছে।

    দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ থেকে অর্জিত টোল আয়কে টেকসই বলে দেখা সহজ নয়—এমন রাজস্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং তাতে প্রাপ্ত অর্থ পুনরায় ইরানকে সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার করার আশঙ্কাও আছে। তেহরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তহবিল যুদ্ধকালে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংগ্রহ বাড়াতে ব্যবহার করা হতে পারে।

    বর্তমানে তেহরান নির্দিষ্ট কিছু দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান) জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়ে রেখেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ। যদি শান্তির পরও এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা থাকে, তা নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে ও সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে পারবে।

    সমাপ্তিতে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব তাকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের একটি প্রহরী বা গেটকিপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে—যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তেহরানের نفوذ বাড়াবে এবং ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। এই সম্ভাব্য ফলাফলকে নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ও বিশ্লেষকরা সতর্কতা জাহির করেছেন—যদি যুদ্ধ এইভাবে শেষ হয়, তবে বিশ্ববাজার ও অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘ সময়ের প্রভাব পড়বে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • দেশ রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত: পেজেশকিয়ান

    দেশ রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত: পেজেশকিয়ান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশ রক্ষার জন্য ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি বেসামরিক ইরানি অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া এবং জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত। তিনি এই কথা মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জানিয়েছেন।

    পেজেশকিয়ান পোস্টে লিখেছেন, “১ কোটি ৪০ লাখের বেশি সাহসী ইরানি এখন পর্যন্ত দেশ রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন।” নিজের প্রতিশ্রুতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, আমি আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

    পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মূলত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাব হিসেবে এসেছে বলে সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনগণকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আনার ব্যাপক আহ্বান জানিয়েছে। ওই আহ্বানের জবাবে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও সৈন্যরাও ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ সালের গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার ইরানে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সামরিক কর্মী এবং প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে। ইরানে মূলত দুটি আলাদা বাহিনী কার্যকর—নিয়মিত সামরিক বাহিনী ‘আরতেশ’ এবং প্রভাবশালী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। আইআরজিসির আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ নিয়মিত সদস্য এবং কয়েক লাখ রিজার্ভ সদস্য আছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • মোজতবা খামেনি: শীর্ষ কমান্ডার হত্যা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীকে দমানো যাবে না

    মোজতবা খামেনি: শীর্ষ কমান্ডার হত্যা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীকে দমানো যাবে না

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি সোমবার ভোরে এই মন্তব্য করেছেন, যখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেরি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়। খবরটি খবর সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে।

    লিখিত এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, খাদেরি নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা খাতে কয়েক দশক ধরে নীরবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি খাদেরির ত্যাগ ও অবদানের প্রশংসা করে বলেন, এমন যোদ্ধাদের অব্যাহত সারি ও আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনী এমন শক্তিশালী ও গভীর প্রতিরোধ তৈরি করেছে, যা সন্ত্রাস ও অপরাধের মাধ্যমে ভাঙা যাবে না।

    খামেনির বক্তব্য তার লেখা বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্রে বলা হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধে ঝোঁক দেওয়া থেকে ইসরায়েল ইরানের বহু শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

    মাজিদ খাদেরির হত্যা বিষয়টি নিয়ে তেহরান ও ইসরায়েল—উভয় পক্ষই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, খাদেরি ‘‘ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী’’ এবং তিনি আইআরজিসির তিন শীর্ষ ব্যক্তির একজন ছিলেন।

    একই সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী আইআরজিসি কুদস ফোর্সের বিশেষ অভিযান ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে ‘নির্মূল’ করেছে। বাঘেরি ২০১৯ সাল থেকে ওই দায়িত্বে ছিলেন। তেহরান এখনও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    ঘটনাগুলো ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এবং খামেনির কড়া মন্তব্যে অঞ্চলটিতে পরিস্থিতি আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।

  • হরমুজ টোলে ইরানের কপাল বদল? মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

    হরমুজ টোলে ইরানের কপাল বদল? মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

    ইরান গত সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা তারা গ্রহণ করেনি। তেহরানের দাবিটি স্পষ্ট — ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে স্থায়ীভাবে শেষ করতে হবে, সাময়িকভাবে নয়। একই সঙ্গে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর মন্তব্য ও কূটনৈতিক চাপেও প্রতিরোধ গড়েছে; সম্প্রতি ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যও তেহরানের বিরোধিতা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে।

    ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী খোলার আবেদন রেখেছিল এবং প্রয়োজন হলে যেখানে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়েছিল; তবু কূটনৈতিক পথও খোলা ছিল। কিন্তু ইরানের ওপর পশ্চিমা—বিশেষত মার্কিন ও ইসরায়েলি—চাপের মধ্যে তেহরান নিজের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার অবস্থান থেকে সীমান্তগত নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করেছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানির আনুমানিক ২০ শতাংশ পরিবহন করে; যুদ্ধের আগে এখানে দিনে প্রায় ১০০–১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, যা প্রতিদিন আনুমানিক ২০–২৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করত।

    এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটির প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার, এবং ভৌগোলিকভাবে এর নিয়ন্ত্রণই আছে ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হতেই তেহরান প্রথমদিকে ঘোষণা করে যে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না; পরে ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে এই হুমকি বাস্তবায়ন করা হয়। হামলার ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়।

    কয়েক দফা গোপন আলোচনা ও দরকষাকষির পরে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের সম্প্রসারণ করা হয়; তার বিনিময়ে প্রায়শই ‘টোল’ দাবি করা হয়েছে—কিছু রিপোর্ট বলছে প্রতি জাহাজে প্রায় ১.৫–২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত টোল নেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব ১০ দফার একটি তালিকা দিয়েছে; সে তালিকায় রয়েছে—হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার নিশ্চিত করা, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি দাবি।

    যদি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়, তাহলে অর্থনৈতিক দিক থেকে তা বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। কনজার্ভেটিভ হিসাব ধরলে, যদি প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ১ থেকে ১.৫ মিলিয়ন ডলার টোল নেওয়া হয় এবং দৈনন্দিন চলাচল আগের মতো হয় (প্রতিদিন ১০০–১৩৫ জাহাজ), তাহলে কেবল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ইরানের সম্ভাব্য মাসিক আয় পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে। তদুপরি, গ্যাসবাহী জাহাজের ওপর একই ধরনের টোল আরোপ হলে সেখানে থেকে আলাদা করে মাসিক প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ থাকতে পারে—যদি চলাচল ও টোলের হার একই রকমেই ধার্য রাখা হয়।

    বর্তমান সংঘাত ও অবরোধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতোমধ্যেই ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে; ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন—যদি সরবরাহ ব্যাহত থাকে, তাহলে প্রতি ব্যারেলে বাড়তি ঝুঁকি প্রিমিয়াম হিসেবে গোল্ডম্যান স্যাচ প্রাথমিকভাবে ৪–১৫ ডলার বলেছে, আর অক্সফোর্ড ইকোনমিকস তা ২৫ ডলার পর্যন্ত দেখেছে।

    তবে এই টোলভিত্তিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা অন্য প্রশ্ন। এশিয়ার বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে তেল আমদানিবেশগুলো—এমন অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সহ্য করতে পারবে কি না সন্দেহজনক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে টোল আদায় করে পাওয়া অর্থ যদি পুনরায় সামরিক শক্তি বিকাশে বা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা হয়, তাহলে তা নতুন সঙ্কটের জন্মও দিতে পারে—এমনটাই ইরানের অভ্যন্তরীণ কিছু প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

    সংঘাত চলাকালীন তেহরান কিছু নির্দিষ্ট দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান) জাহাজকে পারাপার নিশ্চিত করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজকে প্রায় পুরোপুরি আটকে দিয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার পরও যদি এই নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে নতুনভাবে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে তেহরান ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ পরিচালনা করে ঝুঁকি কমাতে পারে এবং সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

    ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে হরমুজে আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ইরানকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহের ‘গেটকিপার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে—এবারকার সংঘাতই দেখিয়েছে ইরান কেবল হরমুজেই প্রভাব বিস্তার করছে না, ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থান ইরানের জন্য কূটনৈতিক সুবিধা, প্রতিরক্ষা ইশতেহার ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ খুলে দিতে পারে—তবে তা একই সঙ্গে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও জাগাবে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • মঙ্গলবারের সময়সীমা শেষ, ইরানের প্রস্তাব যথেষ্ট নয়: ট্রাম্প

    মঙ্গলবারের সময়সীমা শেষ, ইরানের প্রস্তাব যথেষ্ট নয়: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, মঙ্গলবারের মধ্যে ইরানের কাছ থেকে উপস্থাপন করা নতুন প্রস্তাবের জন্য শেষ সুযোগ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, যদিও ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে তার কাছে তা যথেষ্ট মনে হয়নি। তারা যদি তা অনুসারে কাজ করে, তাহলে যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইরান ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে আলোচনা করছে।

    প্রথমে যেমন হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, তেমনি এবারেরও মঙ্গলবারের শেষ তারিখ দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, তার কাছে অনেক বিকল্প রয়েছে এবং যদি তারা এখনই না মানে, তবে দেশের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষতি হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি তারা এখনই মানতে না চায়, তবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য সফল হবে না। তবে, ইরান এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, তার প্রশাসন গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে অস্ত্র পাঠিয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, এই অস্ত্রগুলো জনগণের আত্মরক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কারা তা নিয়ন্ত্রণ করছে, তা স্পষ্ট করেননি।

    ইরানের বিশাল তেল সম্পদ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানরা চাইলে দেশের বাইরে থেকে সব তেল দখল করে নিত, যা অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভজনক হতো। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, বলছেন, আমি এটা করতে চাই না, কিন্তু আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করছি। তার মতে, ইরানের কোনও সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অবকাঠামো থাকবে না। তিনি বলছেন, এই যুদ্ধের লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা।

    বিশ্বের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ। তবে ট্রাম্প এই বিষয়গুলোকে অগ্রাহ্য করে বলেন, যারা এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন তারা ‘নির্বোধ’। তিনি মনে করেন এই যুদ্ধের একমাত্র লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র নিরোধে বাধ্য করা, যাতে বিশ্বের শান্তি বজায় থাকে।

  • ইরান যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল

    ইরান যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল

    এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে নিরসনের জন্য পাকিস্তান কর্তৃক পাঠানো একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হলেও, তা ইরান স্বত্বে প্রত্যাখ্যান হয়েছে। তেহরান মনে করছে যে এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাস্তবিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভবিষ্যতে হামলার সুযোগ তৈরি করে দেয়, যেখানে তারা নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তুতি নেয়। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে এই ধরনের যুদ্ধবিরতি কেবল চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং মূল সমস্যা সমাধানে অন্য কিছু নয়।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫-দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অযৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সময়সীমা বেঁধে বা যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিয়ে আলোচনায় বসা যায় না। এর ফলে তেহরান বলেছে, এই ধরনের আলোচনা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বাঘাই আরও বলেন, “অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মানে হলো শত্রুপক্ষের শক্তি পুনর্গঠন এবং আবারো হামলা করার সুযোগ সৃষ্টি করা। এমন পদক্ষেপ কোনো সুস্থ দেশই গ্রহণ করবে না।” তিনি যোগ করেন, জাতিসংঘ প্রায়ই শক্তিশালী দেশের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তাই নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে।

    এছাড়াও, প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান যে, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান তার স্বার্থের ভিত্তিতে কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে, যা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    প্রথমে, গতকাল রাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষ নিরসনের জন্য একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। এই পরিকল্পনায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও বৃহৎ চুক্তির জন্য দৃষ্টি দেয়া হয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খোলা এবং চুক্তির ব্যাপক আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ চুক্তি ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত, যেখানে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে এবং তিনটি পর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।

  • মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানি গোয়েন্দা প্রধান শাহাদাৎপ্রাপ্ত

    মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানি গোয়েন্দা প্রধান শাহাদাৎপ্রাপ্ত

    যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি শহীদ হয়েছেন। এ খবরটি সোমবার (৬ এপ্রিল) আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগ নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, মেজর জেনারেল খাদেমি ভোরের দিকে চলমান এক সেনা অভিযানে মার্কিন-ইহুদিবাদী শত্রুর এক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন।

    বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, তার দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতক ধরে তিনি নিজের জীবনের অর্ধেক সময় দেশের বিপ্লব, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ইসলামী মাতৃভূমির নিরাপত্তায় নিবেদিত ছিলেন। তার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অবদান অগণন এবং এটি দেশের স্বার্থে এক গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত। আইআরজিসি আরও জানায়, মজিদ খাদেমির এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকবে। বিশেষ করে, বিদেশি শত্রুদের কৌশলগত দিক থেকে মোকাবিলা, তাদের অনুপ্রবেশ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তার নির্দেশনা ও কার্যক্রম চলমান থাকবে।

    এই মারাত্মਕ হামলার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও আধা সামরিক কর্মকর্তা সহ বহু সাধারণ নাগরিক ও civilians-কে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ব্যাপক আকারে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযান চলাকালে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে এক মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়।

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা হামলায় মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত চালিয়েছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

    সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

  • ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নতুন বার্তা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নতুন বার্তা

    ইরানের最高 নেতা মোজতবা খামেনি বক্তব্য রেখেছেন যে, দেশের শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ডের পরও সশস্ত্র বাহিনীকে স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেরির্র নিহত হওয়ার পরে, এই বার্তা প্রকাশ করা হয়। খবর সিএনএনের। খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, খাদেরি দীর্ঘকাল ধরে নিরাপত্তা, গোয়েন্দা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নিঃস্বার্থ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। তিনি আরো বলেন, ইসলামিক ইরানের সত্যের পথে থাকা সাহসী যোদ্ধাদের সারি এবং আত্মত্যাগকারী সশস্ত্র বাহিনী এভাবে একটি শক্তিশালী ও গভীরভাবে প্রোথিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যা এখনো সন্ত্রাস ও অপরাধের মাধ্যমে ভাঙা সম্ভব নয়। এই মন্তব্যগুলো তিনি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে সংঘটিত যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। মাজিদ খাদেরির মৃত্যুর বিষয়টি তেহরান এবং ইসরায়েলের উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, খাদেরি ‘ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী’ এবং আইআরজিসির তিন শীর্ষ ব্যক্তির একজন ছিলেন। সেই সাথে, ইসরায়েলীয় সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের বিমানবাহিনী কুদস ফোর্সের বিশেষ অভিযান ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে ‘নির্মূল’ করেছে, যিনি ২০১৯ সাল থেকে এই দায়িত্বে ছিলেন। তবে, এখনো তেহরান এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেনি।

  • ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: এক রাতেই ইরানকে ধ্বংস করা সম্ভব, হতে পারে মঙ্গলবারই

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: এক রাতেই ইরানকে ধ্বংস করা সম্ভব, হতে পারে মঙ্গলবারই

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইচ্ছে করলে এক রাতেই ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারেন তিনি, আর সে রাতটি হতে পারে আগামী মঙ্গলবার। সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে কোনওطرفে ছাড় দেওয়া হবে না, আর সম্প্রতি সে উদ্দেশ্যই এগিয়ে নিতে তিনি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, যদি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি না আসে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যত্র ব্যাপক হামলা চালাতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘এক রাতেই ইরানের পুরো দেশ শেষ করে দেওয়া সম্ভব, আর সেই রাতটি হয়তো আগামীকালও হতে পারে।’ এই মন্তব্যের ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। একই সময়ের ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ইরানের বিরুদ্ধ চলমান অভিযান এখন সবচেয়ে বড় আকারে পৌঁছেছে এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন পাইলটের উদ্ধার অভিযানে অনেক বিপদজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তারা সফল হয়েছেন। ট্রাম্প জানান, ভূপাতিত হওয়ার পর ইরানের পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকা ওই মার্কিন পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্ধার অভিযানে শত শত মার্কিন সেনা অংশ নেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশল কাজে লাগানো হয়। গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক জন রেটক্লিফ জানান, তারা একটি ‘প্রতারণামূলক অভিযান’ চালিয়েছিলেন যাতে ইরানের মনোযোগ অন্য দিকে ফেলা যায় এবং পাইলটের বাস্তব অবস্থান গোপন রাখা যায়। পরে শনিবার সকালে নিশ্চিত হয় যে, পাইলটটি জীবিত থাকেন এবং পাহাড়ের গুহায় লুকিয়ে আছেন। এর পরে, অপ্রতিরোধ্য নিশ্চয়তা নিয়ে জানা যায়, শত্রুর চোখ এড়িয়ে তিনি সিআইএর নজরে ছিলেন। গত শুক্রবার নিখোঁজ হওয়া ওই পাইলটকে রোববার সকালে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনাদের তৎপরতায়, নির্দিষ্ট কৌশল ও অসাধারণ দক্ষতার মাধ্যমে তারা শত্রুকে প্রতিহত করে পাইলটকে উদ্ধার করে, কোন ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া ইরানের এলাকা ত্যাগ করে। অবশেষে, এই পুরস্কারজনিত অপারেশনে পাইলট একটি জরুরি ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান জানালে, তিনি প্রথমে বলেছিলেন—‘ঈশ্বর মহত্ম্ব’। এই ঘটনাই বার্তা দিয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত আরও বড় আক্রমণের জন্য, যদি প্রয়োজন হয়।