Category: আন্তর্জাতিক

  • হরমুজ খুলে দেওয়া হলো, জাহাজ চলাচল শুরু

    হরমুজ খুলে দেওয়া হলো, জাহাজ চলাচল শুরু

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খোলা হয়েছে। বুধবার, ৮ এপ্রিল, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলের জাহাজ চলাচল শুরু হয়। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করেছে মেরিন ট্রাফিক নামের প্রতিষ্ঠান। হরমুজ দিয়ে যাওয়া প্রথম দুটি জাহাজের মধ্যে একটি ছিল গ্রিসের পতাকাবাহী, অন্যটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী।

    মেরিন ট্রাফিক তাদের এক্স+(এক্সে) মাইক্রো ব্লগে লিখেছে, “মালিকানাধিকার প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিসের আন্তর্জাতিক মান সময় রাত ৮টা ৪৪ মিনিটে ‘এনজে আর্থ’ জাহাজটি হরমুজ প্রণালীর অতিক্রম করে। অন্যদিকে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ডেটোনা বিচ’ ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে বন্দর আব্বাস থেকে রওনা হয় এবং আন্তর্জাতিক মান সময় অনুযায়ী সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটে হরমুজ পার করে।

    এর আগে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটটি আবার চালু করেছে, যার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এখন থেকে সেখান দিয়ে চালানো প্রত্যেক জাহাজ থেকে ইরান টোল আদায় করবে। এর সঙ্গে, ওমানও আগে ঘোষণা দিয়েছিল যে, হরমুজ দিয়ে চলা কোনো জাহাজ থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে না। তবে পরে ওমান জানায়, তারা হরমুজ দিয়ে চলা জাহাজ থেকে কোনো অর্থ আদায় করবে না।

    প্রায় তিন মাস আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায়। এরপরই ইরান হরমুজ বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে, এই প্রণালীটি আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে বিবেচিত হত, যেখানে কোনো দেশ অর্থ আদায় করতে পারত না। এখন থেকে, ইরান এই রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় করবে।

    সূত্র: এএফপি

  • লেবাননে হামলা থামাতে না হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে: আইআরজিসি

    লেবাননে হামলা থামাতে না হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে: আইআরজিসি

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ব্যাপক বোমা বর্ষণে হাজারো সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। শতাধিক বিমান হামলায় বৈরুত ও দক্ষিণ লেবানে বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার প্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

    আইআরজিসি-র ওই সতর্কবার্তা ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “আমাদের প্রিয় লেবাননের ওপর আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে, আমরা এই অঞ্চলের দুষ্ট আগ্রাসনকারীদের কঠোর জবাব দেব।”

    লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, তারা আজ পর্যন্ত সময়সীমা ঘোষণা করেছে—যদি ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী শুক্রবারের পরিকল্পিত আলোচনা তারা বাতিল ভাববে এবং তাতে অংশগ্রহণ করবে না।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানী কর্মকর্তাও আলজাজিরার কাছে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ও যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে তেহরান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতিটি পুরো অঞ্চল জুড়ে প্রযোজ্য। ইসরায়েল বরাবরই কথা ভঙ্গে পরিচিত; তাদের প্রতিহত করতে শুধুমাত্র কথাবার্তা যথেষ্ট নয়।”

    একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এক অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনার পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদটি বলেছে, পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে এবং আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

    এই উত্তেজনার প্রভাব সামুদ্রিক পথে দেখা গেছে—বহু ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের অনুমতিতে দুটি ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করলেও পরে চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটেও চোখ রাখতে হবে। সূত্রে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা আঘাত হানে; এরপর ইরানের পক্ষে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহই ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালায়। এরপর থেকে ইসরায়েল লেবাননে প্রতিক্রিয়ায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। কয়েকদিন আগে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুত ও দক্ষিণ লেবানে একসঙ্গে শতাধিক বিমান হামলারও ঘটনা ঘটে, যার ফল স্বরূপ ব্যাপক প্রাণহানি ও আহতের খবর পাওয়া গেছে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যেয়াব গালান্ট–কাটজ (Israel Katz) বলেছে, তাদের সামরিক বাহিনী লেবানন জুড়ে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও অবস্থানগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। তিনি হিজবুল্লাহ নেতৃবৃন্দকে কড়া শব্দে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ-সমর্থক ও লেবাননের কর্মকর্তারা বেসামরিক জনগণের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নয় এমন আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং হাসপাতালে মৃত ও আহত মানুষের উপসাগর ভরা বলেও জানানো হয়েছে।

    দীর্ঘ ৩৯ দিনের সংঘাত শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলা হয়; ইরান ১০ দফার শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করার কথাও। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, লেবাননসহ সবক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে—কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন, লেবানন এখানে অন্তর্ভুক্ত নয়।

    মানবিক তথা কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে—লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সব প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে মিত্র ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি।

  • রাশিয়া বলছে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া বলছে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে একমুখী, আগ্রাসী ও উসকানিমূলক কৌশল গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছে। এই মন্তব্যটি আসে তখনই যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার কথা বলা, আরও আগ্রাসী হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতবাদ ছড়ানো এবং ‘জয় খুব কাছেই’—এ ধরনের বক্তব্য এবং একটি একতরফা, উসকানিমূলক হামলার কৌশল চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই নীতিই পুনরায় ফলপ্রসু হচ্ছে না।

    জাখারোভা বলেন, শুরু থেকেই মস্কো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা এবং বিষয়টির একটি বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার ওপর জোর দিয়েছে। রাশিয়ার অবস্থান হচ্ছে, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

    রেলিজিয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে যেখানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশঃ জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই সংঘর্ষে ইরানে এক হাজার ৩৪০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে তখনকার শীর্ষ নেতারও উল্লেখ আছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জবাবে ইরান মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুগুলোকে প্রতিহত করতে জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নানা রকম বিধিনিষেধ আরোপ করে তেহরান।

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনীতিক প্রচেষ্টার ওপর এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এই ঘটনাগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট থেকে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • রাশিয়া: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একমুখী ও আগ্রাসী কৌশলটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন।

    জাখারোভা বলেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় হয়ে ‘জয় খুব কাছেই’—এ ধরনের উসকানিমূলক ও একপক্ষীয় বাগযুদ্ধ ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে বিনা উসকানিতে চালানো আক্রমণের কৌশলও ফলপ্রসূ হয়নি।”

    তিনি আরও জানান, শুরু থেকেই রাশিয়া দাবি করে আসছে যে ইরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আগ্রাসন বন্ধ করা উচিত এবং একটি বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে বলাৎকার করা উচিত। মস্কোর অবস্থান, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই জটিল সমস্যার সামরিকভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান নেই।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আরও কোনো প্রতিশোধমূলক আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখবেন।

    এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ অভিযান শুরু করার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১,৩৪০ জনের অধিক নিহত হওয়ার খবর এসেছে।

    প্রতিবাদের জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে লক্ষ্যবস্তুতে জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত কিছু ঘাঁটি ছিল। পাশাপাশি তেহরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।

    এই ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রাশিয়া মস্কোতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং সম্প্রতি সংঘটিত ঘটনাগুলোকে নিয়ে পুরোদমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলল, জাহাজ চলাচল শুরু

    হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলল, জাহাজ চলাচল শুরু

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবারের বদলে বুধবার (৮ এপ্রিল) দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতার পরেই প্রথম দুটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করে।

    বার্তাসংস্থা এএফপির সূত্রে মেরিন ট্রাফিক (MarineTraffic) এই খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে জানিয়েছে, গ্রিসের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এনজে আর্থ’ আন্তর্জাতিক মান সময় সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘ডেটোনা বিচ’ বরাদ্দ সময় অনুযায়ী ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে বন্দর আব্বাস থেকে রওনা হওয়ার পরে সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটে প্রণালী পার হয়েছে।

    ইরান ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমুখী হামলার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগে ওই প্রণালীকে আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে ধরা হতো এবং সাধারণত সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলি কোনো দেশকে টোল দিতে হতো না। তবে ইরান যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজ থেকে টোল নেওয়ার ঘোষণাও করেছিল।

    প্রাথমিকভাবে তেহরান বলেছিল, হরমুজে প্রবেশদ্বারের দেশ ওমানও টোল নেবে — কিন্তু পরে ওমান জানায়, তারা এমন কোনো অর্থ আদায় করবে না। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য দক্ষ সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    এফএপি সূত্রে এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

  • শেহবাজের এক্স পোস্ট কি তাঁরই লেখা? ফোর্বসের সন্দেহ

    শেহবাজের এক্স পোস্ট কি তাঁরই লেখা? ফোর্বসের সন্দেহ

    মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রশ্ন তুলেছে যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের এক্স (পুরনো টুইটার) পোস্টগুলো কি তিনি নিজে লেখেন নাকি বাইরে থেকে কেউ লিখে দেন। ফোর্বস তার প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, vulnerability বা কূটনৈতিক আলোচনায় সময় বাড়ানোর আহ্বান-ভিত্তিক এক পোস্টে শেহবাজ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন যে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি স্থগিত রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানো হোক। তিনি লিখেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দৃড়ভাবে এগোচ্ছে এবং তা সম্ভবত অচিরেই ফলপ্রসূ হবে।

    ফোর্বস নথিপত্রের একটি খসড়া অনুলিপি প্রকাশ করেছিল। ওই অনুলিপি প্রকাশের পরেই পোস্টটির লেখকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ এবং ড্রপ সাইট সাবস্ট্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফোর্বসকে বলেন, পোস্টটি সম্ভাব্যভাবে শেহবাজ নিজে লিখেছেন বলে মনে হচ্ছে না। তিনি বিশেষ করে লক্ষ্য করেছেন যে পোস্টে শেহবাজের নামের নিচে যে হ্যান্ডেল ব্যবহার করা হয়েছে—@CMShehbaz—তা এবং কিছু টোনাল বৈশিষ্ট্য সাধারণত পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বা তাঁদের অফিসের স্বভাবসুলভ নয়। তিনি আরও সন্দেহ প্রকাশ করেন যে পোস্টটি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের কোনো পক্ষ থেকে লেখা হতে পারে।

    অন্যান্য ব্যবহারকারীরাও খসড়া পোস্টটি পাকিস্তানী কর্মকর্তাদের লেখা নাও হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফোর্বস জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ফোর্বসের প্রতিবেদন সূত্র: ফোর্বস।

  • যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপসাগরীয় দেশগুলিতে সতর্কতা তীব্রতর

    যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপসাগরীয় দেশগুলিতে সতর্কতা তীব্রতর

    যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাঝেই উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও সীমান্ত ও আকাশসীমায় অস্থিরতা রয়ে গেছে।

    কুয়েত

    দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্বিচারে উড়ানো ড্রোনগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

    বাহরাইন

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারাদেশে সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজিয়েছে। জনসাধারণকে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি সেবাসমূহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    সৌদি আরব

    বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আগাম সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সম্ভাব্য বড় ধরনের আঘাতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত

    কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা অত্যন্ত ‘উচ্চ’ বলে জানিয়েছে এবং জনসাধারণকে ঘরের ভেতর অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে, যাতে কোনো সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।

    কেন সতর্কতা বাড়ল

    যৌথভাবে দুই সপ্তাহকালীন যুদ্ধবিরতির ওপর জন্মানো সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান এবং ইসরায়েলি বাহিনীর চূড়ান্ত নির্দেশ না পাওয়ার কারণে অনিশ্চয়তা কমে না। উপসাগরীয় দেশগুলো এই অনিশ্চয়তা থেকে হওয়া প্রক্সি হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার আশঙ্কা করে সতর্কতা বাড়িয়েছে।

    এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই নিরাপত্তাজনিত সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় ছড়াছড়ি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা ত্রুটিহীন নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন যাতে নাগরিক নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।

  • হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীনের ভেটো

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীনের ভেটো

    রাশিয়া ও চীনের ভেটোতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পক্ষে আনা একটি প্রস্তাব বাতিল হয়েছে। প্রস্তাবটি উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষে পেশ করা হয়েছিল। (বিবিসি)

    নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, আর পাকিস্তান ও কলম্বিয়া ভোটদান থেকে বিরত থাকে। স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনের ভেটোতে প্রস্তাবটি পাস করেনি।

    কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র আলোচনার পর মূল খসড়া বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছিল। শুরুতে খসড়াটিকে ‘চ্যাপ্টার সেভেন’—অর্থাৎ সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি—এর আওতায় রাখা হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। এরপর ‘প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি’সংক্রান্ত অংশটিও বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত শুধু সম্মিলিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টাকে ‘জোরালোভাবে উৎসাহিত’ করার ভাষায় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়।

    বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। ভোটের আগে তিনি সদস্যদের বলেন, প্রস্তাবটি নতুন কোনো বাস্তবতা তৈরি করছে না; বরং ইরানের ক্রমাগত শত্রুভাবাপন্ন আচরণকে রোধ করার জন্য একটি কড়া পদক্ষেপ, যা বন্ধ করা জরুরি।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া — যে কোনো এক সদস্যের ভেটোই পরিশেষে কোনো প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। 이번 ভেটোর ফলে হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ওই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাস্তবে রূপায়িত হয়নি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত করল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত করল ইরান

    হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ স্থগিত করে দিয়েছে ইরান। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরান আমেরিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—উভয়ভাবে—সব কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বার্তা আদানপ্রদান বন্ধ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এসেছে। ওই সময়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-ে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতার মৃত্যু হতে যাচ্ছে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত তা-ই হতে চলেছে।’

    এরপরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছাড়াও পাল্টা হামলা হতে পারে।

    সেই背景ে হলেও, মঙ্গলবার সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তিনি সংঘাতের একটি সন্তোষজনক সমাধানের আশাও প্রকাশ করেন।

    সিএনএন ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা করছে। একটি পাকিস্তানী নিরাপত্তা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব একটি বড় ধরনের অগ্রগতির জন্য কাজ করছিল।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    ইরান তেহরানকে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চাওয়ার নীতিতে অনড় রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবর গত সোমবার ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট: ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতকে সাময়িকভাবে নয়, স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বিরোধিতার মুখে টিকেই আছে; ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা বিতর্কিত মন্তব্যও এ প্রেক্ষিতেই এসেছে।

    ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি খোলার দাবি জানালে প্রথমে বলপ্রয়োগের হুমকি দিলেও কূটনৈতিক বিকল্পও খোলা রেখেছিল। তবে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার দিক থেকে এই নৌপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত তারা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছে। হরমুজ সঙ্কটের গুরুত্ব অর্থনৈতিক: এই প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় এবং বর্তমানে বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে।

    তেহরান মার্কিন ১৫ দফার বদলে নিজস্ব ১০ দফার প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে উল্লেখযোগ্য দাবি হলো—হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার মেনে নেওয়া, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণের দাবিসহ অনান্য বিষয়। সবচেয়ে মূল দাবি হচ্ছে—হরমুজ প্রণালির ওপর স্বীকৃত নিয়ন্ত্রণ।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে হরমুজ এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চোক পয়েন্ট’। প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার এবং ভূগোলগত নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের—ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান বেশ কয়েকবার জাহাজ-ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত করে এবং চলাচল সীমিত করে দেয়, ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বাড়ে এবং জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যায়।

    পরে গোপন আলোচনার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়; এর বিনিময়ে ইরান ‘টোল’ ধার্য করেছে—প্রতি জাহাজে প্রায় ১–২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (কিছু কনজারভেটিভ হিসাব ১০–১৫ লাখ ডলার ধরে থাকে), যেগুলোর বেশিরভাগই চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। এমন নিয়ম চালু হলে ইরানের জন্য রাজস্ব ও স্বার্থ দ্বিগুণ হবে: কনজারভেটিভ হিসাব ধরলে শুধু অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর উপর হারে মাসিক প্রবাহ থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার) আয় হতে পারে। গ্যাসবাহী জাহাজে একইভাবে টোল আরোপ করলে তা থেকে আরও প্রায় ৮০ কোটি ডলার মাসিক আয় আসতে পারে।

    এই পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে। অবরোধ ও তেল-অবকাঠামোর ওপর হামলার খবরের প্রেক্ষিতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে—২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড় জ্বালানি মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—যুদ্ধ শেষ হলে সরবরাহ পুনরায় স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে এবং দাম ধীরে নামার সুযোগ আছে। কিন্তু যদি শান্তি-চুক্তির শর্তে হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে ‘টোল’ কস্ট আমদানিতে যোগ হবে এবং পরিবহন ও বিমা ব্যয় বাড়বে—ফলশ্রুতিতে জ্বালানির দাম পুনরায় বাড়তে পারে। কতটা বাড়বে তা অনিশ্চিত; বিশেষ করে যদি বড় আমদানিকারক দেশগুলো (যেমন ভারত) বিশেষ ছাড় বা বিকল্প পথ খোঁজে।

    আর্থিক সংস্থাগুলোর অনুমান ভিন্ন: গোল্ডম্যান স্যাচস বলেছে, সরবরাহ ব্যাহত হলে প্রতি ব্যারেলে ৪–১৫ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত হতে পারে; অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এই ঝুঁকি প্রিমিয়ামকে ২৫ ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য মনে করেছে।

    দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ থেকে অর্জিত টোল আয়কে টেকসই বলে দেখা সহজ নয়—এমন রাজস্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং তাতে প্রাপ্ত অর্থ পুনরায় ইরানকে সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার করার আশঙ্কাও আছে। তেহরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তহবিল যুদ্ধকালে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংগ্রহ বাড়াতে ব্যবহার করা হতে পারে।

    বর্তমানে তেহরান নির্দিষ্ট কিছু দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান) জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়ে রেখেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ। যদি শান্তির পরও এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা থাকে, তা নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে ও সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে পারবে।

    সমাপ্তিতে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব তাকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের একটি প্রহরী বা গেটকিপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে—যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তেহরানের نفوذ বাড়াবে এবং ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। এই সম্ভাব্য ফলাফলকে নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ও বিশ্লেষকরা সতর্কতা জাহির করেছেন—যদি যুদ্ধ এইভাবে শেষ হয়, তবে বিশ্ববাজার ও অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘ সময়ের প্রভাব পড়বে।

    সূত্র: এনডিটিভি