Category: আন্তর্জাতিক

  • অবশেষে ৪০ দিন পর আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়া হলো

    অবশেষে ৪০ দিন পর আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়া হলো

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সোমবার পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আল-আকসা মসজিদটি পুনরায় খোলেন, যা চলতি বছরের ৩ নভেম্বর থেকে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ ছিল। এই বিরতিটা ছিল নজিরবিহীন, যেখানে মুসল্লিদের জন্য এই পবিত্র স্থানটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলার পর এই প্রথমবারের মতো মুসল্লিদের জন্য আল-আকসা পুনরায় খুলে দেওয়া হলো। প্রথম দিন ফজরের নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০০-এর বেশি, যারা এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিতে দীর্ঘ সময়ের বিরতির পর ফিরে আসামাত্রই আনন্দে আত্মহারা হন।

    অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, মসজিদের ফটক খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি সেখানে প্রবেশ করছে এবং তারা দীর্ঘদিন পর হতেই এই পবিত্র স্থানটিতে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত। একই সঙ্গে ভিডিওগুলো দেখাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পূর্ণ প্রস্তুতির কাজ, যেন আগের মতোই ইসলামি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য সব কিছু প্রস্তুত।

    প্রায় দুবছর ধরে ইসরায়েল এই স্থানটি বন্ধ করে রেখেছিল, এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়েও আল-আকসা বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই বন্ধকে নিরাপত্তা উদ্বেগের নাম দিয়েও নির্দেশ দিয়েছে, তবে ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে, এই সমস্ত কঠোরতা এবং দখলদারিত্বের মাধ্যমে ইসরায়েল পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এই সময়ে অন্যত্র ইহুদিদের বড় ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে, যা তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে চলেছে।

    অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে ইসরায়েল এই ঐতিহাসিক স্থানটির নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। প্রবেশের সময়, কার্যক্রম এবং কার্যপ্রণালীতে প্রবল পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা মূলত এই স্থানের প্রাথমিক কর্তৃত্বের সাথে সাংঘর্ষিক।

    আল-আকসা মসজিদটি মূলত পুরোনো জেরুজালেম শহরে অবস্থিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম কর্তৃপক্ষকে এই স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া ছিল। কিন্তু ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার লঙ্ঘন করে আসছে, যেখানে মুসলিম ছাড়াও উগ্র জাতীয়তাবাদী কিছু ইসরায়েলি প্রার্থনা ও প্রবেশের অনুমতি পেয়ে থাকেন।

    বিশেষ করে, পশ্চিম জেরুজালেমসহ এই অঞ্চলে দখলদারিত্বের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই কার্যক্রমের বিরোধিতা করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, দখলদার শক্তির এই নিয়ন্ত্রণের কোনও বৈধতা নেই এবং শর্ত অনুসারে এই ভূমির সার্বভৌমত্ব বর্তমান দখলদারদের নয়।

    পুনরায় মসজিদটি খোলার পর থেকে এই অঞ্চলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রোজই উগ্র সম্প্রদায়ের প্রবেশ ও কার্যক্রম বাড়িয়েছে, এমনকি প্রবেশের সময়সীমাও বেড়ে গেছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে এই প্রবেশের সময়কাল সাড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি। আগে এই সময় ছিল ছোট ছোট পর্যায়ে বিভক্ত এবং সীমিত সংখ্যক মুসল্লির জন্য। এখন এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যা আল-আকসার নিয়ন্ত্রণ ও অবস্থা আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    জেরুজালেমের গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধি নিয়ে বলছে, এটি হঠাৎ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং এই পরিবর্তনটি আল-আকসার পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তারা বলছেন, এই অপ্রত্যাশিত সময় বাড়ানো ‘স্ট্যাটাস-কো’ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলছে এবং নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি ও উদ্বেগের মধ্যেই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মুসলিম নীতিনির্ধারকেরা এই পরিস্থিতিকে শান্তিপূর্ণ ও ধারণাপূর্ণভাবে মোকাবেলা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

  • ৪০ দিন পর নামাজের জন্য খুলল আল-আকসা মসজিদ

    ৪০ দিন পর নামাজের জন্য খুলল আল-আকসা মসজিদ

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পুনরায় খুলে দেয়। প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর এই প্রথম সেখানকার ফজরের নামাজে অংশ নেন তিন হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি মুসল্লি — যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর ঘটে।

    অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদের গেট খুলে দেওয়ার পর ভিড় করে মানুষ আঙিনায় ঢুকছে এবং দীর্ঘদিন পর ফিরে আসায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। আরও কিছু ক্লিপে দেখা যায় স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীরা মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে এবং মুসল্লিদের ব্যবস্থা করছে।

    ইসরায়েল পূর্বে মসজিদটি বন্ধ করে দিয়ে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইরানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; তবে ফিলিস্তিনি নেতারা এই যুক্তি প্রশ্ন করে বলেছেন যে যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে। একই সময়ে অন্যত্র বড় ইহুদি ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা হয়েছে।

    সমালোচকরা বলছেন, এই সময়কে ব্যবহার করে আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা হচ্ছে—যেখানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সময়সূচি ও অনুমোদিত কার্যক্রম নির্ধারণের মাধ্যমে বাস্তবতা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছে।

    পুরোনো জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে স্থাপিত ‘স্ট্যাটাস কো’ অনুসারে পরিচালিত হতে বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মসজিদের প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা উচিত। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এই নিয়ম লঙ্ঘন করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের মসজিদে প্রবেশ ও প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়ে এসেছে, অনেকে তাদের সম্মতি ছাড়াই যাওয়ায় বিরক্তি বেড়েছে।

    মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়ার পরেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আবারও প্রায় প্রতিদিনের মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং সেই সময়ও বাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার পরই বহু ইসরায়েলি সেখানে ঢুকছে; অনেককে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্রার্থনা ও নাচছে দেখা গেছে।

    যুদ্ধের পূর্বে এই ধরনের প্রবেশ সাধারণত সপ্তাহের কর্মদিবসে দুই শিফটে সীমাবদ্ধ হত—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ২:৩০ পর্যন্ত। এই নিয়ম ২০০৩ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদের সময় শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে আরও কাঠামোবদ্ধ করা হয়; তখন সীমিত সংখ্যক গোষ্ঠীকে সকালে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো। পরবর্তী বছরগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।

    ইরান-সংকটের আগে অনুমোদিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এখন অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬:৩০ থেকে ১১:৩০ এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ৩:০০ পর্যন্ত, মোট ছয় ঘনাঘণ্টার বেশি সময়। জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং বলেছে, এটি স্ট্যাটাস কোর ওপর নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ও সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার লক্ষণ, বিশেষ করে চারত্রিশ দিনের বিরতির পর মসজিদ পুনরায় খোলার পরিপ্রেক্ষিতে।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তার নিহতের দাবি: পরিণতি ও প্রভাব

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তার নিহতের দাবি: পরিণতি ও প্রভাব

    বর্ণনা

    বহু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক আঘাত লেগেছে; অভিযোগ অনুযায়ী অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরিধি ও ধরন কেবল ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় — বরং ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সামরিক সমন্বয় এবং আঞ্চলিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার কৌশলে গভীর ইঙ্গিত বহন করে। তবে লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে এই ধরনের ঘটনাসমূহের বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে; নীচের বর্ণনা মূলত বিভিন্ন প্রতিবেদনে থাকা দাবির সংকলন ও বিশ্লেষণ।

    ক্ষমতার কেন্দ্রেই আঘাত (প্রতিবেদনভিত্তিক)

    কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও এই হামলার শিকার হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব স্তরে শূন্যতার সৃষ্টি ঘটেছে, যা দেশীয় প্রশাসনিক ও সামরিক সমন্বয়ে বড় ধরনের জটিলতা ডেকে আনতে পারে। সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে—শীর্ষ পর্যায়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যক্তিদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ দেশটির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘাটতি তৈরি করেছে।

    সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক ক্ষতি

    রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড স্তরে একের পর এক বড় ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের ধাক্কা সামরিক সমন্বয় ও অপারেশনাল সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রভাব পড়েছে সামরিক স্টাফ, অপারেশন প্রধান ও কৌশলগত প্ল্যানিং বিভাগে—ফলস্বরূপ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভাঙা এবং প্রতিক্রিয়া নেয়ায় সময় ও দক্ষতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    আইআরজিসি ও আঞ্চলিক শক্তিতে প্রভাব

    প্রতিবেদন অনুযায়ী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু ছিল। আইআরজিসির কয়েকটি শাখা—স্থল, নৌ ও মহাকাশ—প্রতিবেদিতভাবেই আঘাত পেয়েছে। মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হলে এই কর্মসূচির গতি ও সক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে নৌবাহিনী ও সামুদ্রিক উপস্থিতি দুর্বল হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

    গোয়েন্দা কাঠামোয় ধ্বস

    রিপোর্টগুলোতে ইরানের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও গুরুতর ক্ষতি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হত্যা ও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহকারীর মৃত্যু গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমন্বয়হীনতা ও আভ্যন্তরীন দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। ফলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।

    পারমাণবিক কর্মসূচি লক্ষ্যবস্তু

    কিছু রিপোর্টে ইরানের পারমাণবিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরপর হামলায় পারমাণবিক প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্মূলের মাধ্যমে ওই কার্যক্রমে পরিচালকীয় স্তরে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা দেখায়—যা সুপরিকল্পিত এবং তথ্যভিত্তিক অপারেশন হওয়া নির্দেশ করে।

    কুদস ফোর্স ও প্রক্সি নেটওয়ার্কে প্রভাব

    কয়েকটি সূত্রে বলা হয়েছে কুদস ফোর্স ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কের শীর্ষ কমান্ডারদের লক্ষ্য করা হয়েছে; এর ফলে সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে ইরানের সক্রিয়তা ও নির্দেশনামূলক ক্ষমতা ক্ষীণ হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি প্রক্সি ইউনিটগুলোর সমন্বয় ও নেতৃত্ব প্রদানে ফাঁক তৈরি করতে পারে।

    অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রভাব

    প্রতিবেদনগুলো বলছে যে বাসিজ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের ক্ষতির ফলে স্বাধিকার ও বিক্ষোভ দমন ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। এগুলো দেশের অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

    কৌশলগত মূল্যায়ন ও প্রতিকূলতা

    জরুরি বিশ্লেষণগুলো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলে: প্রথমত, উচ্চস্তরের লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশনগুলি ইঙ্গিত করে যে প্রতিপক্ষের কাছে তথ্য-ভিত্তিক পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল; দ্বিতীয়ত, অপারেশনগুলো অত্যন্ত নির্ভুল ও পরিকল্পিত হওয়ায় উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলের ব্যবহার পরিলক্ষিত; এবং তৃতীয়ত, ধারাবাহিক নেতৃবৃন্দের ক্ষতি ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতাকে দূরপ্রসারীভাবে দুর্বল করতে পারে।

    ভবিষ্যৎ পথ

    ইরানের সামনে এখন দুইটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—কেনা নতুন নেতৃত্ব বিকাশ করা এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কৌশল ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের প্রয়াসও জরুরি। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের নীতিনির্ধারণ ও স্থিতি পুনর্গঠন জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রদক্ষিণ হতে পারে।

    সতর্কতা

    উপরের বিশ্লেষণটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিবেদনে থাকা দাবির ভিত্তিতে পুনর্লিখন; নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যু ও ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে সরকারি বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণে ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই ঘটনাগুলো সম্পর্কিত চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও স্থির উপসংহার টানা রিপোর্টিং ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করবে।

  • ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজর নামাজে ফিরেছেন ৩ হাজারের বেশি মুসল্লি

    ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজর নামাজে ফিরেছেন ৩ হাজারের বেশি মুসল্লি

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ বৃহস্পতিবার ৪০ দিনেরও বেশি সময়ের সুনির্দিষ্ট বন্ধের পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। মসজিদটি বন্ধ থাকা বিরল পরিস্থিতির পর ফজরের নামাজে দাঁড়ান ৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি।

    অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে—মসজিদের মূল ফটক খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ভিড় আঙিনায় প্রবেশ করছে, অনেকেই দীর্ঘদিন পর এখানে ফিরে এসে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। আরেক থিস ভিডিওতে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে মুসল্লিদের নামাজের জন্য প্রস্তুত করছেন।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই মসজিদটি আগে বন্ধ করে রেখেছিল এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। অবরোধে এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়ও একে খোলা হয়নি। ইসরায়েল বলেছে এটি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে নিয়েছিল—বিশেষত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠায়। তবে ফিলিস্তিনি নেতারা এই নিরাপত্তা-অজুহাতকে প্রশ্ন করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে যুদ্ধকে অজুহাত বানিয়ে ইসরায়েল স্থানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। একই সময়ে অন্যত্র ইহুদিদের বড় ধর্মীয় সমাবেশ উদযাপনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে, বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়ার পরই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রায় প্রতিদিন অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং তাদের মসজিদে উপস্থিতির সময়ও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সকালে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করে; তাদের মধ্যে অনেককে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্রার্থনা ও নাচা-গান করতে দেখা গেছে।

    এ ধরনের প্রবেশ স্বতন্ত্রভাবে যুদ্ধের আগে সাধারণত সপ্তাহের কর্মদিবসে দুই ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ২:৩০ পর্যন্ত। এই প্রক্রিয়া মূলত ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে আরও কাঠামোবদ্ধ হয়; তখন সীমিত সংখ্যক দলকে সকালে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো। এরপর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ও সময় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার আগে নতুন অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬:৩০ থেকে ১১:৩০ এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ৩:০০—মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টা।

    পুরোনো জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা мног বছর ধরেই ‘স্ট্যাটাস কো’ মেনে পরিচালিত হওয়ার কথাই বলা হয়ে থাকে—অর্থাৎ মসজিদে প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা উচিত। তবে ফিলিস্তিনি পক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই স্ট্যাটাস কো লঙ্ঘন করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের অনুমতি দিয়ে এসেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় ফিলিস্তিনি সম্মতি ছাড়া তাদের প্রবেশ ও প্রার্থনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    জেরুজালেম গভর্নরেট বলেছে, মসজিদের ওপর সময় বৃদ্ধি ‘‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’’ এবং স্ট্যাটাস কোকে দুর্বল করার ব্রতশীল প্রচেষ্টার অংশ—এটি আল-আকসা মসজিদে নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার ও সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষত ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় খোলার পর এই পরিবর্তন আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

    এই ঘটনার পর পার্থক্যপূর্ণ দাবি-প্রতিদাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রশ্নগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে—বিশেষত পূর্ব জেরুজালেমসহ এই অঞ্চলের দখলকে অনেক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈধ বলে মনে করা হয় না এবং সেখানে দখলদার শক্তির সার্বভৌমত্ব নেই বলে বিবেচনা করা হয়। অচিরেই পরিস্থিতি কিভাবে উন্নীত বা অবনতি হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ওপর।

    (সূত্র: মিডল ইস্ট আই)

  • হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলমূল্য বেড়েছে

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলমূল্য বেড়েছে

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রফতানি পথ হরমুজ প্রণালির পুনরায় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গ্রিনিচ সময় সকাল ১০:৫৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.৬৯ ডলার বা ৩.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭.৭১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ২.৯৯ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

    এর আগে বুধবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ায় স্বল্প মেয়াদে আশার আলো দেখা গেলে উভয় বেঞ্চমার্ক একসময় ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু একই রাতেই লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানোর পর বাজার আবারও আশঙ্কায় ওঠানামা শুরু করে এবং দাম বেড়ে যেতে শুরু করে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধাগ্রস্ত। যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে তেলের সরবরাহ ও রফতানিতে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তেলের বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভান্দা ইনসাইটস-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বন্দনা হরি বলেন, ‘শিগগিরই হরমুজ প্রণালি অর্থপূর্ণভাবে পুনরায় খোলার সম্ভাবনা ক্ষীণ মনে হচ্ছে; সেজন্যই বাজারে অস্থিতিশীলতা রয়েছে — নইলে দাম এখনো যুদ্ধবিরতির আগের স্তরে ফিরে আসার কথা ছিল।’

    গতকালই ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। তেহরান বলেছে, যেই ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি হয়েছে তার মধ্যে তিন দফা লঙ্ঘিত হয়েছে — লেবাননে ইসরায়েলের চালানো হামলা অব্যাহত থাকা, ইরানে ড্রোন হামলার অভিযোগ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত শর্তভঙ্গ উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলোর মধ্যে।

    ইরানের দক্ষিণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বহু দেশীয় তেলবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে যেতে হয়েছে, যা সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট — বা তো যুদ্ধবিরতি, বা তো ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ চালানো; দুইটি একসঙ্গে চলবে না। লেবাননের পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বের সামনে।’ তেহরানের বক্তব্য, ‘এখন আমেরিকার কোর্টে বল — তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, সেটার ওপর বিশ্ব অপেক্ষা করছে।’

    সূত্র: রয়টার্স

  • ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করতে সিনেটে ভোট আগামী সপ্তাহে

    ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করতে সিনেটে ভোট আগামী সপ্তাহে

    মার্কিন সিনেটে আগামী সপ্তাহে একটি ভোটের আয়োজন করা হচ্ছে যা উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরবর্তী কোনো সামরিক হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য করা। সিনেটের বিরুদ্ধ দলীয় নেতা চ্যাক শুমার বুধবার (৮ এপ্রিল) এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

    শুমার বলেন, কংগ্রেসকে তার সাংবিধানিক কর্তৃত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে—বিশেষ করে যে মুহূর্তগুলো এতটাই বিপজ্জনক। তার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। এর আগে ট্রাম্প তেহরানকে অবরুদ্ধ হওয়া হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আল্টিমেটামও দিয়েছিলেন।

    শুমার ট্রাম্পের ভাষা ও পদক্ষেপকে কড়াভাবে সমালোচনা করে তাকে ‘উন্মাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ইরানকে দুর্বল করতে বা তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বাড়ার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় থাকা ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অপরিহার্য অবকাঠামোতে হামলা নিষিদ্ধ করে। পরিস্থিতির তীব্রতা এবং বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় শুমার ও অন্যান্য ডেমোক্র্যাট নেতারা কংগ্রেসের ভূমিকা জোরালো করার পক্ষেই রয়েছেন।

    ইরান বারবার তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন meanwhile এই সংঘাতকে একটি চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে যে সীমিত সামরিক অপারেশন নির্দেশ দেওয়া ট্রাম্পের আইনগত অধিকার এবং মার্কিন সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ।

    গত কয়েক মাসে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটরা বারবার চেষ্টা করেছেন যাতে ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার আগে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে বাধ্য করা হয়, কিন্তু তাতে সফল হননি। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের — যারা উভয় কক্ষে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ— বেশিরভাগই ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থন করে এসেছে।

    মার্কিন সংবিধানে বলা আছে যুদ্ধ ঘোষণা করার কর্তৃত্ব কংগ্রেসের হাতে, তবে সংবিধানগত এই বিধান প্রথাগতভাবে স্বল্প মেয়াদী অভিযানের ক্ষেত্রে বা যদি দেশ কোনো তাৎক্ষণিক হুমকির সম্মুখীন হয় তখন পুরোপুরি প্রয়োগ করা হয় না বলে ব্যাখ্যা করা হয়।

    অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক নেতা এবং নিউইয়র্কের প্রতিনিধি হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে প্রতিনিধি পরিষদেও ভোট হওয়া উচিত। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বেপরোয়া এবং ইচ্ছাকৃত সংঘাতের স্থায়ী অবসান প্রয়োজন।’’

    সামনের সপ্তাহে সিনেটে যে ভোট হবে, তা কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্টের মধ্যে ক্ষমতা শৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করবে—এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিদেশে সামরিক পদক্ষেপ নেবে তার ওপর তা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

  • শেহবাজের এক্সবার্তা কি অন্য কেউ লিখে দেন, প্রশ্ন ফোর্বসের

    শেহবাজের এক্সবার্তা কি অন্য কেউ লিখে দেন, প্রশ্ন ফোর্বসের

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংকটের মধ্যে মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের এক্সপোস্ট নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পোস্টের সত্যতা আর কোথাও তিনি নিজে লেখেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ জাগছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই বার্তার লেখা কি কোনো পাকিস্তানি কর্মকর্তা বা অন্য কেউ করেননি, নাকি এগুলো শরিফের নিজস্ব ধারণা বা বক্তব্য, তা স্পষ্ট নয়।

    প্রায়ই চুক্তি বা সংকটের সময় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানো হয়। তবে এই অনুরোধের আগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্স-এ এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠান, যেখানে তিনি ভারতের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য অপেক্ষা করার আবেদন করেন। তিনি স্বর্ণমূর্তি টেলিগ্রামে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক পথে অগ্রসর হওয়া জরুরি, এবং তিনি ট্রাম্পের কাছে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে অনুরোধ করেন। এর কিছু সময় পর ট্রাম্প নিজেই এই সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।

    তবে এই বার্তার খসড়া কপি পেয়ে ফোর্বস প্রশ্ন তোলে, এই বার্তা কি সত্যিই শরিফ নিজে লেখেছেন নাকি অন্য কারো লেখা? প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, ওই পোস্টের নিচে তারুর নামের পাশে ‘@সিএমশেহবাজ’ লেখা রয়েছে, যা শরিফের নিজস্ব পরিচিতি নয় বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, হয়তো এই খসড়া পোস্টটি পাকিস্তানি কোনো কর্মকর্তার বা অন্য কারো দ্বারা লেখা হয়েছে।

    এ বিষয়ে ফোর্বস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। সুতরাং, এই ব্যাপারে স্পষ্টতর তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশের নেতাদের বার্তা ও এ ধরনের খসড়া পোস্টের পেছনে কে বা কারা থাকছেন, তা নিয়ে তদন্ত ও আলোচনা চলছে।

  • ইরানে মার্কিন পরাজয়: রাশিয়ার মন্তব্য

    ইরানে মার্কিন পরাজয়: রাশিয়ার মন্তব্য

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও ইরানের বিরুদ্ধে একমুখী ও আগ্রাসী হামলার পন্থা ‘চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ’ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও সক্রিয় থাকা এবং ‘জয়’ নিশ্চিতের আশায় প্রকাশ করা একের পর এক উসকানিমূলক হুমকি আবারও প্রতিহত হয়েছে। জাখারোভা আরো বলেন, শুরু থেকেই রাশিয়া ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধের পক্ষে এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান আনা জরুরি বলে মনে করে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই। এর আগে, স্থানীয় সময় ৭ এপ্রিল ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রেখেছেন। এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করে, যা অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। এতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি সহ এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। জবাবে, ইরান জোরালোভাবে জারি করে জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন সীমাবদ্ধতাও আরোপ করে অধীনস্থ তেহরান।

  • ইরানের আশপাশে থাকবে মার্কিন সেনারা: ট্রাম্প

    ইরানের আশপাশে থাকবে মার্কিন সেনারা: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির মধ্যে থাকলেও ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক শক্তির অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি তেহরান যুদ্ধবিরতি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও শক্তিশালী হামলা চালাতে প্রস্তুত। খবর রয়টার্সের।

    বুধবার ট্রাম্পের ভাষানুযায়ী, সমস্ত মার্কিন জাহাজ, বিমান এবং সেনা সদস্যরা যাতে ইরান এবং তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান করে থাকেন, যতক্ষণ না চুক্তির সব শর্ত সম্পূর্ণভাবে মানা হচ্ছে। তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, যদি তারা চুক্তি মানতে ব্যর্থ হয়, তবে আবারও বৃহৎ ও ভয়াবহ গোলাবর্ষণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির আলোচনা শুরু করা এখন অযৌক্তিক। ওই হামলায় শত শত মানুষের জীবন হানি হয়েছে।

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় আকারের মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি শর্ত অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে।

    অতিরিক্ত ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে এক আলোচনা বৈঠকের স্থিতি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রগতিের চেষ্টা করাও হবে।

  • লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেবে ইরান

    লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেবে ইরান

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। দখলদার বাহিনীর শতাধিক বিমান হামলায় বর্তমানে রাজধানী বৈরুত ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আমরা যদি আমাদের প্রিয় লেবাননের ওপর হামলার পরিমাণ কমাতে না পারি, তবে এই অঞ্চলের দুষ্ট অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, ‘লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধের জন্য আমরা আজকের দিনটি শেষ সীমা হিসেবে নির্ধারণ করছি। যদি এই আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী শুক্রবারের আলোচনা বাতিল বলে বিবেচিত হবে এবং আমরা তাতে অংশ নেব না।’ আরও এক উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা আল কাবাসের সাথে কথোপকথনে বলেছেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের জবাবে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এই ঘটনা প্রতিরোধে পুরো অঞ্চল জুড়ে কঠোর সত্তা থাকা প্রয়োজন। ইসরায়েল কথায় কি মানে, তা তারা শুধুমাত্র বুলেট দিয়ে প্রতিহতই করা যাবে।’ পাশাপাশি, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজে একজন অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তেজনাপূর্ণ, এবং যদি আরও বিস্তারিত তথ্য আসে, তা অবশ্যই জানানো হবে। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে আবারও বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ইরানি সংবাদ মাধ্যম। ফার্স নিউজে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের অনুমতি নিয়ে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিল, তবে এখন এই ট্রাফিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকাকালীন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, তাদের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর কেন্দ্রস্থলের ওপর আকস্মিক আরোপ করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমরা নাঈম কাসেমের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতাকে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের স্বার্থে হামলা অব্যাহত থাকবে।’ লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের ১০০টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত হামলা ও আহতদের চিকিৎসায় কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘বৈরুত ও অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলের হামলার ফলে হাসপাতালগুলোতে আহত ও নিহতের সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে।’ লেবাননের আনুষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ব্যুরো প্রধান মাজেন ইব্রাহিম বলেছেন, ১৯৮২ সালে ইসরায়েলে বৈরুত আক্রমণের কথাই মনে পড়ছে। তখনো এমনসব এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে সাধারণ হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকত না। প্রধানমন্ত্রীর নওয়াফ সালাম বলেছেন, ইসরায়েল ভয়ঙ্করভাবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে টার্গেট করে সাধারণ মানুষের জীবন নাকোচ করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুদ্ধ চালাচ্ছে, মানবিক আইনকে উপেক্ষা করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উপেক্ষা করে নিজের মতেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি সকল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিকে এই আগ্রাসন বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা করে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েল লক্ষ্য করে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়। এরপরই, লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে তেহরানেSupport linkে আরও আক্রমণ চালাতে প্রস্তুতি নেয়। গত ৩৯ দিন ধরে চলা এই সংঘর্ষ শেষ হওয়ার জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তিতে দাবি করা হয়, যুদ্ধের সমস্ত রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করতে হবে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে লেবাননে যুদ্ধস্থগিতের বন্দোবস্ত করা হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে জানান, লেবাননসহ সবক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এ চুক্তির অংশ নয়।’