Category: আন্তর্জাতিক

  • এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সামরিক অভিযান বাড়ছে

    এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সামরিক অভিযান বাড়ছে

    অমেরিকা-ইরান পারমাণবিক চুক্তি এখনও অনেক দূরে। দুই দেশ দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় বসে থাকলেও কোনও ফলাফলের দেখা মেলেনি। এর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতি দ্রুত বেড়ে চলেছে, যা বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

    বর্তমানে সেখানে ৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ সহ একাধিক উন্নতমানের বিমান এই কার্যক্রমের অংশ। তবে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

    গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি মার্কিন বিমানবাহিনীর উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে मीडिया প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ তথ্যের সূত্র জানিয়েছে একটি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা। ঐ অঞ্চলে আরও কয়েকটি উন্নতমানের বিমান পাঠানো হয়েছে, যা আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বাড়তি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    এর আগে, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও তার সঙ্গে থাকা তিনটি ডেস্ট্রয়ার দক্ষিণ চীন সাগর থেকে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইরান উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে এই জাহাজগুলো। এর পাশাপাশি, দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন এক মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও এখন পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    অপর দিকে, ইরান পাল্টা শক্তি দেখাতে হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ফেলেছে। ইরানের দাবী, এগুলো ছিল পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, তবে মজুতদার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি হতে পারে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ। হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত মার্কিন জাহাজগুলো এই ঘটনাকে ঘিরে সমালোচনাও বাড়ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে, মার্কিন-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনাও চলতে থাকছে। যদিও বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে বলে এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভি ভান্স জানিয়েছেন, ইরান মূল শর্তগুলো মানতে ব্যর্থ হয়েছে।

    অন্যদিকে, মার্কিন পক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, তারা ইরানকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইরানের দাবি, দ্বিতীয় দফায় আলোচনা হয়েছে এবং কোনও সাধারণ সমঝোতা হয়েছে। তবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না। এ পরিস্থিতিতে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

  • আল আকসায় প্রথম রমজানের তারাবি আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি

    আল আকসায় প্রথম রমজানের তারাবি আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি

    আল-আকসা মসজিদ পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত, যা প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচিত। এক সময় এটি মুক্ত ছিল, কিন্তু ১৯৫৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পরে ইসরায়েল এই এলাকাটি দখল করে নেয়। বর্তমানে, এই অঞ্চল ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু হলে, জেরুজালেমে মুসল্লিদের প্রবেশে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। তবে, ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কিছু শর্ত শিথিল করে, মুসল্লিদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা কমে এসেছে।

  • করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধসে নিহত ১৬

    করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধসে নিহত ১৬

    পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি আবাসিক ভবনের গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণে ঘটে যাওয়া ঘটনার ফলে কমপক্ষে ১৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। ঘটনা ঘটার পরপরই উদ্ধার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

    ঘটনাটি মূলত গুল রানা কলোনির একটি বাড়িতে ঘটেছে। প্রতিবেদনে জানা গেছে, সিভিল হাসপাতালে ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন বলেছেন, মৃতের সংখ্যা এখন ১৩ জনে পৌঁছেছে এবং আহত ১৮ জনকে درمانের জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গ্যাস লাইনে লিকের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় দ্রুত উপস্থিত হয়ে উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উদ্ধারকারীরা গাঢ় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ঘটনাটির খবর নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেন, ওই মানুষজনের প্রাণহানির ঘটনায় তিনি দুঃখিত। তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে ফেঁপে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

    অতিরিক্তভাবে, তিনি করাচির ঘটনার ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসানও এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং আহতদের জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক আদালত দক্ষিণের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের ভিত্তিতে তাঁকে মূলত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা তিনি ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য করেছিলেন। দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা যেখানে একজন শাসককে অত্যন্ত কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি), সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট कोर्टের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে আরও জানানো হয়, অভিযোগের মধ্যে ছিল সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটক করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি, যা ইউনের বিরুদ্ধে আনীত হয়।

    প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছিলেন, কিন্তু আদালত প্রায় ৬৫ বছর বয়সী ইউনকে কঠিন শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়াও, এই মামলায় অন্য অভিযুক্তরা—সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উন, পুলিশ প্রধান চো জি-হো, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিক ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশ গার্ডের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েক—কে বিভিন্ন সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

    আদালত জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

    এ ছাড়া, এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনের সাথে আরও কয়েকজনকেও দণ্ড দেওয়া হয়। তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি মূলত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সরকারের সমালোচনামূলক গণমাধ্যমের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেন।

    অপরদিকে, গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে এই মামলাটি মূলত সামরিক আইন জারি বা না জারির ঘটনায় কেন্দ্রীভূত ছিল।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টা পরে সেটি প্রত্যাহার করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করলো, যেখানে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘশিক্ষাজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

  • পাঞ্জাবে ৮ মাসে বিচার বহির্ভূত হত্যার সংখ্যা ৯২৪ জন

    পাঞ্জাবে ৮ মাসে বিচার বহির্ভূত হত্যার সংখ্যা ৯২৪ জন

    গত নভেম্বরের একটি দিন পাকিস্তানের পাঞ্জাব রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাওয়ালপুরে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সেখানে উদ্বেগজনকভাবে পুলিশ বাহিনী বাহাওয়ালপুরের বাসিন্দা জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর পরিচালিত হয়। তখন এ পুলিশ বাহিনী ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের (সিসিডি) এক সশস্ত্র টিম বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং অলংকার লুট করে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে ধরে নিয়ে যায় জুবাইদা বিবির তিন ছেলে ইমরান (২৫), ইরফান (২৩) ও আদনান (১৮), এবং দুই জামায়াত ব্যক্তিকে।

    ঘটনার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা পর পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় উদ্ধার হয় তাদের পাঁচজনের মরদেহ। এক বিবৃতিতে জুবাইদা বিবি বলেছেন, পুলিশ বাহিনী তাদের বাড়িতে ঢুকে এমনভাবে হামলা চালায় যেন ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। তিনি বলেন, “তারা ঝড়ের মতো বাহাওয়ালপুরে এসে আমাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে দেয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়।”

    অবৈধভাবে তাদের পলায়ন-প্রয়াস ব্যর্থ করে দিতে জন্য, জুবাইদা ও তার স্বামী আবদুল জব্বার লাহোর পর্যন্ত গিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু এরপরই তাদের তিন ছেলে মারাত্মকভাবে হত্যা করা হয়। পরিবারটি আদালতের কাছে বিচার চাইলেও, পাঞ্জাব পুলিশের হুমকিতে তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। পুলিশ তাদের সতর্ক করে দেয়, যদি অভিযোগ উঠানো না হয়, তবে তাদের পরিবারের সর্বস্তরকেই হত্যা করা হবে। এই ভয়ঙ্কর হুমকির মুখে বাধ্য হয়েই তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করেন।

    আবদুল জব্বার বলেন, “আমরা ছিলাম সাধারণ মানুষ, অপরাধে জড়িত না, কোন অতীত অপরাধের রেকর্ডও নেই। তারা সবসময় আমাদের কর্মজীবী মানুষ, বিবাহিত ও সন্তানের পিতা।”

    এই ঘটনার কয়েক দিন পরে, ১৭ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, গত ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ মাসে পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় ৬৭০টি ‘এনকাউন্টার’ অভিযান চালিয়েছে সিসিডি। এই অভিযানের মধ্যে নিহত হয়েছেন মোট ৯২৪ জন।

    সিসিডি গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়, যা মে ২০২৫ সালে মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের অধীনে গঠিত হয়। এই বিভাগটি পাঞ্জাবের সংগঠিত অপরাধগুলো মোকাবিলা করতে, গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের ধরতে তৈরি। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিডি এক প্রশিক্ষিত বাহিনী, যারা গুরুতর অপরাধীদের দ্রুত এবং কঠোরভাবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম। এর এলাকা বা কর্তৃত্ব শুধুমাত্র পাঞ্জাবই, অন্যান্য অঞ্চলে এর কোন কার্যকারিতা নেই।

    তবে, এইচআরসিপির অভিযোগ হলো, বাস্তবে এই সিসিডি একটি ‘সমান্তরাল পুলিশ বাহিনী’ হিসেবে কাজ করছে এবং অলিখিত দায়মুক্তির সুবিধা নিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দিনকে দিন বাড়িয়ে তুলছে। সংস্থার পরিচালক ফারাহ জিয়া আলজাজিরাকে বলেন, “১৯৬০ সালের পর থেকে পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারের বাইরে হত্যাকাণ্ড শুরু। তবু এখন, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মাত্র ৮ মাসে, পাঞ্জাবেই নিখোঁজ হয়ে গেছে ৯২৪ জনেরও বেশি মানুষ—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নড়বড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির संकेत।” তিনি আরো বলেন, “পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে পর্যন্ত দুই রাজ্যে মোট ৩৪১টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে এই সংখ্যা মাত্র ৮ মাসে পাঞ্জাবেই পৌঁছে গেছে ৯২৪-এ, যা উদ্বেগজনক।

  • এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানদের উপস্থিতি বাড়ল প্রশান্ত মহাসাগরে রণতরীর পর

    এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানদের উপস্থিতি বাড়ল প্রশান্ত মহাসাগরে রণতরীর পর

    আমেরিকা-ইরান পারমাণবিক চুক্তি এখনো অনেক দূর। দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও কোনও স্পষ্ট সমাধান আসেনি। এর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক কার্যকলাপ নতুন করে বেড়ে গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে।সূত্রের খবর, এই অঞ্চলে এখন কার্যত ৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে মার্কিন সরকার এখনও কিছু জানাননি।গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি মার্কিন যুদ্ধবিমানদের উপস্থিতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খবর প্রকাশ করছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ সহ আরও অনেক উন্নত যুদ্ধবিমান এই অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, আরও কিছু উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমান পশ্চিম এশিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।দিন কয়েক ধরে পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রে মার্কিন পুলিশের উপস্থিতি ও শক্তি প্রর্দশন বেড়েই চলছে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শুরু হয়েছিল মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের অভিযাত্রা। এটি নিমিটজ-শ্রেণির একটি রণতরি, যার সঙ্গে রয়েছে তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার। এই মুহূর্তে, এই সমস্ত জাহাজগুলো ইরানের উপকূল থেকে খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি, দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন আরও একটি মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। মার্কিন শক্তির এই প্রভাব বিস্তার চলাকালীন, ইরান পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে, যা পর্যবেক্ষকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ঘটনাচক্রে, হরমুজ প্রণালী এখনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ বেশ কয়েকটি রণতরীর উপস্থিতিতে ঘিরে রয়েছে। ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ পরীক্ষা মাত্র, তবে অনেকের মনে সন্দেহ রয়েছে, এটি হয়তো ‘প্ররোচনামূলক’ পদক্ষেপ হতে পারে।এই উত্তেজনা চলাকালীন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে, বৈঠকের ফলাফল নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভি ভান্স জানিয়েছেন, ইরান তাদের মূল দাবিগুলিকে মানতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ, ইরান এখনো আমেরিকার শর্তগুলোর সঙ্গে সম্মতি দিতে প্রস্তুত নয়। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তারা ইরানের জন্য আরও দু’সপ্তাহ সময় extending করতে রাজি। তবে, ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য ধারণা দিচ্ছে, এবং শিগগিরই পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

  • কলকাতায় আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

    কলকাতায় আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

    পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পুলিশ মেয়াদোত্তীর্ণ মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতের অবস্থানের অভিযোগে ছয় বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে। এরা সবাই নিজেদের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়েছেন বলে অপর এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে।

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার তাদের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও তারা পার্কস্ট্রিটের একটি হোটেলে অবস্থান করে থাকছিলেন। এই খবর পেয়ে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ ওই হোটেলে অভিযান চালায় এবং ছয়জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বয়স হয় ২৫ থেকে ৩৫ বছর। এদের কাছ থেকে সবকিছু মিলিয়ে বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজনের নাম হলো আজম মোল্লা, আবির হোসেন, মোহাম্মদ মামুন রশিদ, মোহাম্মদ আলিমুন গাজী, ফয়জল আমিন এবং জায়দুল ইসলাম। এর মধ্যে আজম মোল্লা নিজেকে একজন বাংলাদেশি গায়ক হিসেবে পরিচয় দেন এবং কলকাতায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে আয় করার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন বলে জানায় পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা স্বীকার করেন, তারা সবই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ভয়ে তারা মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তারা মেডিকেল ভিসা সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু নভেম্বরে থেকে জানুয়ারির মধ্যে মেয়াদ শেষ হলেও তারা ভয়ে দেশে ফেরেননি। বরং কলকাতা থেকে অন্য দেশে যাওয়ার পরিকল্পনায় ছিলেন তারা।

    কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওই ছয়জনকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানিয়েছে।

  • পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে বিচারবহির্ভূতভাবে ৯২৪ জনের হত্যা

    পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে বিচারবহির্ভূতভাবে ৯২৪ জনের হত্যা

    গত নভেম্বরের এক দিন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাওয়ালপুরে ভয়ঙ্কর এক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের (সিসিডি) একটি সশস্ত্র টিম বাড়িতে ঢুকে জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন, ঘরে থাকা নগদ অর্থ, অলংকার লুট করে নেয় এবং একই সঙ্গে তিন ছেলে ও দুই জামাতাকে ধরে নিয়ে যায়।

    চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পাঞ্জাবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন পরিবারের তিন ছেলে ইমরান (২৫), ইরফান (২৩) এবং আদনান (১৮)। পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বতন্ত্রভাবে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। অপরাধের অভিযোগে জুবাইদা বিবি ও তার স্বামী আবদুল জব্বার আদালতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাদের হুমকি দেয় যে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা করা হবে। এই ভয়ে তারা নিরীহভাবে অভিযোগ তুলে নেন।

    জুবাইদা বিবির লিখিত বক্তব্যে বলেন, “তারা ঝড়ের মতো আমাদের বাড়িতে ঢুকে সব কিছু নিয়ে যায়। তারা ছেলেদের ফেরত দেওয়ার জন্য লাহোর পর্যন্ত গিয়েও ব্যর্থ হন। পরের দিন তাঁদের লাশ পাওয়া যায়।“ এই ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে পাকিস্তানের বৃহত্তম মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) এই ঘটনা ফাইলে রেকর্ড করে। সংস্থার দাবি, জুবাইদা-জব্বার দম্পতি ছাড়াও বহু পরিবার ভয়ংকর এই পুলিশি অভিযান ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

    প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গঠিত ‘সিসিডি’ বিভাগটি মূলত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকলেও, বাস্তবতা যেন আবার অন্য গল্প বলে। এই সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ গত আট মাসে, পাঞ্জাব প্রদেশে এই বাহিনী ৬৭০টি ‘অভিযান’ পরিচালনা করেছে, যার ফলে ৯২৪ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এই সংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে বেশি, যা দেশটির মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

    সিসিডির প্রতিষ্ঠা করেন মরিয়ম নওয়াজ, যিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে। এই বাহিনী গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর ও সংগঠিত অপরাধ দমন করা। তবে একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ও অলিখিত দায়মুক্তির সুবিধা নিয়ে দিনে দিনে অপরাধ দমন অভিযানকে ভয়ঙ্কর খুনখারাবিতে রূপান্তর করে চলেছে।

    এই পরিস্থিতিতে, বিশ্লেষকদের মতে, সিসিডি আসলে ‘সামান্তরাল পুলিশ বাহিনী’ হিসেবে কাজ করছে, যা রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের নামে অপ্রতিরোধ্য হত্যা চালাচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই অবস্থা উদ্বেগজনক বলছে, কারণ এটি দেশের আইনপ্রথার পরিপন্থী এবং পুলিশি আঘাতের ভয়াবহতা বাড়িয়ে তুলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৬০ বছরের মধ্যে এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যা অনেক গভীর ভয়ের সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালে, পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে যৌথভাবে ৩৪১টি এই ধরনের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও, ২০২৫ সালে মাত্র আট মাসে এই সংখ্যা দেড়গুণেরও বেশি, যা উদ্বেগজনক ও ভাবনার বিষয়।

  • আল আকসায় প্রথম রমজানের তারাবি আদায় মুসল্লিদের জমায়েত

    আল আকসায় প্রথম রমজানের তারাবি আদায় মুসল্লিদের জমায়েত

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো ফিলিস্তিনেও গতকাল মঙ্গলবার চাঁদ দেখা গেছে, যার ফলে ইসলাম ধর্মের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার পর হাজারো মুসল্লি আল আকসা মসজিদে উপস্থিত হয়ে এই প্রথম রমজানের তারাবি নামাজ সম্পন্ন করেন। তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই ঐতিহাসিক ঘটনার সময় আল আকসা মসজিদে ইমামতি করেন আল-আকসার খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনেহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ইসরায়েলি পুলিশ বাধ্যতামূলক উপস্থিতি ছিলেন। বুধবার ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইন রমজানের শুরুতে চাঁদের দেখা যাওয়ার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা অনুযায়ী, মুসল্লিরা ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যার পর আল আকসা চত্বরে জড়ো হয়ে প্রথম তারাবি নামাজ আদায় করেন। উল্লেখ্য, আল-আকসা মসজিদ পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত, যা ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী। অতীতে এই অঞ্চলটি মুক্ত ছিল, তবে ১৯৫৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েল ওই এলাকাটির দখল নেয়। বর্তমানে তা ইসরায়েলের অধীনে রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে জেরুজালেমে মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে, ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরে এই নিষেধাজ্ঞায় কিছু শিথিলতা দেখা গেছে।

  • করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ১৬ জনের মৃত্যু, আহত ১৮

    করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ১৬ জনের মৃত্যু, আহত ১৮

    পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘটে যায় এক দুর্যোগ। একটি আবাসিক ভবনের গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে ভবনটি ধসে পড়ে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। উদ্ধার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

    ঘটনাটি সোলজার বাজারের গুল রানা কলোনির একটি বাড়িতে ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস লিকের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়ে। ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন, সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের পরিচালক, জানান, এখন পর্যন্ত ১৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় ১৮ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাসের লিকের কারণেই এই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা কাজ শুরু করে রেখেছে ক্যারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং ভবনের চাপা পড়া অন্যান্য আহতদের সুরক্ষিত করে তোলার জন্য। পুলিশ এলাকাটিকে ঘিরে রেখেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তিনি দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবধরনের সহযোগিতা দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি সরকারি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এই মারাত্মক ঘটনার কারণ জানতে।

    সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসানও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধারকর্মীদের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং আহত নাগরিকদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।