এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে নিরসনের জন্য পাকিস্তান কর্তৃক পাঠানো একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হলেও, তা ইরান স্বত্বে প্রত্যাখ্যান হয়েছে। তেহরান মনে করছে যে এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাস্তবিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভবিষ্যতে হামলার সুযোগ তৈরি করে দেয়, যেখানে তারা নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তুতি নেয়। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে এই ধরনের যুদ্ধবিরতি কেবল চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং মূল সমস্যা সমাধানে অন্য কিছু নয়।
সোমবার (৬ এপ্রিল) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫-দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অযৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সময়সীমা বেঁধে বা যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিয়ে আলোচনায় বসা যায় না। এর ফলে তেহরান বলেছে, এই ধরনের আলোচনা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাঘাই আরও বলেন, “অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মানে হলো শত্রুপক্ষের শক্তি পুনর্গঠন এবং আবারো হামলা করার সুযোগ সৃষ্টি করা। এমন পদক্ষেপ কোনো সুস্থ দেশই গ্রহণ করবে না।” তিনি যোগ করেন, জাতিসংঘ প্রায়ই শক্তিশালী দেশের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তাই নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে।
এছাড়াও, প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান যে, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান তার স্বার্থের ভিত্তিতে কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে, যা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রথমে, গতকাল রাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষ নিরসনের জন্য একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। এই পরিকল্পনায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও বৃহৎ চুক্তির জন্য দৃষ্টি দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খোলা এবং চুক্তির ব্যাপক আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ চুক্তি ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত, যেখানে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে এবং তিনটি পর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।
