Category: আন্তর্জাতিক

  • পাকিস্তানকে আলাদা করে ফেলতে চেয়েছিলেন মোদি, শেষমেষ ভারতই বিচ্ছিন্ন—বিশ্লেষকরা

    পাকিস্তানকে আলাদা করে ফেলতে চেয়েছিলেন মোদি, শেষমেষ ভারতই বিচ্ছিন্ন—বিশ্লেষকরা

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কোনোভাবে উল্লেখ করেনি। ভারতের জারি করা নোটে পাকিস্তানের নাম নেই এবং ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে বিবৃতিতে নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।

    বিশ্ব নেতারা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রশংসা করলেও ভারতীয় বিবৃতির নীরবতা উল্লেখযোগ্য। MEA-র সরল ভাষার বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি, সংলাপ ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির জন্য অপরিহার্য, এবং সংঘাতের ধ্বংসাত্মক রূপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী তেল ও জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি তুলে এনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাধীন ও নিরাপদ চলাচলের প্রত্যাশা জানানো হয়েছে।

    তারপরও মন্ত্রক পাকিস্তানের ভূমিকাকে বাদ দিল কেন—এই প্রশ্ন অনেকেই তুলেছেন। পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিল, তখনই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী দলগুলো এটাকে ভারতের কূটনীতিতে বড় ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছে। এ প্রসঙ্গে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করও বলেছিলেন, ভারত ‘ব্রোকার নেশন’ বা মিডলম্যান হতে চায় না।

    বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান যে ভূমিকা নিয়েছে, সেটি ভারতের করা উচিত ছিল; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদির ইসরায়েল-সমর্থক অবস্থানের কারণে এমনটা সম্ভব হয়নি।

    সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তান এখানে আর্কিটেক্ট নয়—বরং মাধ্যম বা অনুঘটকের মতো কাজ করেছে। তারা বার্তা আদান-প্রদান সহজ করেছে, সময়সীমা শিথিল করেছে এবং একটি সংকীর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। এটা প্রচলিত অর্থে মধ্যস্থতা না হলেও, তা অস্বীকার করা যায় না। তার মতে, এখন যা দেখা যাচ্ছে তা সংঘাত সমাধান নয়, বরং অবস্থানের পুনর্বিন্যাস—যেখানে বলপ্রয়োগ ও আলোচনা একসঙ্গে চলছে। তিনি যোগ করেছেন, ভারতের উচিত স্পষ্ট ও পরিমিত কণ্ঠে নিজের অবস্থান জানান; উত্তেজনা প্রশমনকে সমর্থন করা, সমুদ্রপথে নেভিগেশন রক্ষা করা এবং সংঘাতের কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্মতা থেকে বিরত থাকা দরকার।

    বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের ‘বিজয়’ এবং পাকিস্তানের জন্য ‘সম্মানের’ ঘটনা আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতা প্রমাণ করে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আস্থাভাজন, পাশাপাশি চীনেরও প্রতি বিশ্বাসযোগ্য। সোয়াইনের মন্তব্য, মোদি যদি পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন, তাহলে উল্টোদিকেই ঘটেছে—ভারতই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    অন্য বিশ্লেষক অভিনব সিং বলেছেন, বর্তমানে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার সম্পর্ক রয়েছে তিনটি মহাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া—এবং আঞ্চলিক উপসাগরীয় দেশসমূহ ও ইরানের সঙ্গে। তিনি তুলনা করেছেন যে মোদির কাছে রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে নেতানিয়াহুর মতো নেতাদের সঙ্গে, কিন্তু সেই সম্পর্ক কূটনৈতিক ফলপ্রসূতা হারিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

    গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্কর লিখেছেন, যুদ্ধের চরম পরিস্থিতিতেও পাকিস্তান কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ করেনি এবং সময়সীমা শেষের কয়েক ঘণ্টা আগে তারা আলোচনার পথ সাফল্যের সঙ্গে তৈরি করতে পেরেছে—যা বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

    সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেউ কেউ বলছেন, মোদির কূটনীতির ব্যর্থতার ফলেই পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে গুরুত্ব পেয়েছে; কেউ দাবি করছেন যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রেখেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পরিশোধিত পণ্যের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরানের তেল ভারতে যাচ্ছে এবং তেলের একটি ট্যাংক চলতি সপ্তাহেই পৌঁছবে—একটি তথ্য যা অঞ্চলীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

    সাংবাদিক অঙ্কুর ভারদ্বাজ মনে করান, তুচ্ছ তিক্ততা ও বিভাজনের বদলে আমাদের উচিত স্বীকার করা যে এই যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এবং ভারতের কূটনীতিতে কোথায় ভুল হয়েছে—সেটা নিয়ে গভীর আত্মসমীক্ষা করা।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা।

  • আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা হতেই পারে: ট্রাম্প — রণতরি ‘রিসেট’-এ প্রস্তুত

    আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা হতেই পারে: ট্রাম্প — রণতরি ‘রিসেট’-এ প্রস্তুত

    ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় যদি কোনো চূড়ান্ত সমাধান না পাওয়া যায়, তাহলে ইরানের ওপর পুনরায় বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সেই হামলার ক্ষমতা রাখার জন্য মার্কিন রণতরিগুলোকে নতুন করে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে।

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বর্তমান সামরিক প্রস্তুতিকে তিনি একটি ‘রিসেট’ বা নতুন বিন্যাস হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি রিসেট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জাহাজগুলোকে আমরা এখন পর্যন্ত তৈরি করা বিশ্বের সেরা সব গোলাবারুদ এবং সেরা অস্ত্র দিয়ে বোঝাই করছি। আগে যা ব্যবহার করে তচনছ করে দিয়েছিলাম, এগুলো তার চেয়েও উন্নত।”

    ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আলোচনা থেকে কোনো চুক্তি না হয়, আমরা এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করব এবং অত্যন্ত কার্যকরভাবে তা প্রয়োগ করব।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ইসলামাবাদে আলোচনা সফল হবে ও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স; তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

    যাওয়ার আগে জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘উন্মুক্ত মনে’ এবং ইতিবাচক প্রত্যাশা নিয়েই আলোচনায় যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই কড়া হুমকি আলোচনার টেবিলে নতুন করে উত্তেজনা ও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

    ইতিমধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না করা এবং ইরানের জব্দ করে রাখা অর্থ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত কোনো কার্যকর আলোচনা সম্ভব নয়—এমন শর্ত তিনি আজ তুলেছেন।

  • বিশ্লেষক: মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতই বিচ্ছিন্ন হলো

    বিশ্লেষক: মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতই বিচ্ছিন্ন হলো

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে প্রশংসা করা হয়েছে এবং এটাকে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি আনার সম্ভাবনার কড়া হিসেবে দেখা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাতের ধ্বংসাত্মক প্রভাব স্পষ্ট এবং এটি বিশ্বব্যাপী তেল, জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যকে ব্যাহত করেছে; বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে সে আশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।

    তবে একটাই জিনিস—পাকিস্তানের ভূমিকা—এই সরকারি বিবৃতিতে পুরোপুরি উপেক্ষিত ছিল। বিশ্ব নেতারা যখন পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রশংসা করছিলেন, তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের নামই উল্লেখ করেনি এবং ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনাক্রম সম্পর্কেও কিছু বলেনি।

    পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে অনেকে বিশ্বমঞ্চে সফল বলে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বলেছেন, এমন ভূমিকা ভারতের করা উচিত ছিল। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলকে বিশেষ মর্যাদা দিলে তিনি কীভাবে যুদ্ধবিরতির কথা বলতে পারবেন? অন্যপক্ষে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারত ‘ব্রোকার নেশন’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় না।

    দীর্ঘ অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তানের ভূমিকা সরল অর্থে মধ্যস্থতা বললে ভুল হবে—বরং তারা মেসেজ আদান-প্রদান, সময়সীমা শিথিল এবং সংকীর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়ে পরিস্থিতি մեղন করেছে। তিনি বলেন, এটা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নয়; বরং অবস্থানগুলোর পুনর্বিন্যাস, যেখানে বলপ্রয়োগ ও আলোচনা একসঙ্গে চলছে। তাই ভারতের উচিত স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানানো—উত্তেজনা প্রশমনকে সমর্থন করা, সমুদ্রপথে নেভিগেশন রক্ষা করা এবং সংঘাতকারীদের বিবৃতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করার থেকে বিরত থাকা। তিনি উল্লেখ করেন, নীরব থাকা ঠিক নেই; বদলে পরিমিত কণ্ঠে বক্তব্য রাখা জরুরি।

    বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের জয় ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, বিশ্বমঞ্চে মোদি যখন পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন উলটে ভারতই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অতীতেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতা করে এসেছে—এবং এখনও তারা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানের মধ্যকার আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

    অপর বিশ্লেষক অভিনব সিং সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, উপসাগরীয় দেশসমূহ ও ইরানেরও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের কূটনীতি ও নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু টুইট ও মন্তব্য তােমনি গুরুত্ব পেয়েছে—কেউ কেউ পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ‘বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ বলছেন, আবার অনেকে বলছেন ভারতের কূটনীতি ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন। সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্কর ও কয়েকজন লেখকও প্রকাশ্যভাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার তাৎপর্য স্বীকার করেছেন।

    একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল ও পরিশোধিত পণ্যের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবে সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরান থেকে তেল ভারত পৌঁছাতে পারে—এই সপ্তাহেই একটি তেল ট্যাংকো এসে পৌঁছাবে।

    নাগরিক-শ্রেণি ও মন্তব্যকারীরা এখন ভারতের কূটনীতি, মতামত প্রকাশের সময় এবং ভুবনীয় সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তানের যেসব কূটনৈতিক উদ্যোগ এবার কার্যকর হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ভারতকে আত্মসমীক্ষা করতে হবে—কী কারণে আমরা সে জায়গায় ছিলাম না, আর ভবিষ্যতে কিভাবে আমাদের অবস্থান সুসংহত করা যাবে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান

    লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান

    ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকবে। এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং ইসরায়েলি জেরুজালেম পোস্ট।

    তাসনিমের বরাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, লেবাননের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি হলো পাকিস্তানের প্রস্তাবিত শান্তি সমঝোতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে এবং জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তাহলে আলোচনা স্থগিত থাকবে। বাঘাইয়ের ভাষ্য, ‘‘ইরান ও লেবাননের জনগণের প্রতি সহানুভূতি এখন পূর্বের যে কোনও সময়ের চেয়েও বেশি। যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি রাখবে না, ততদিন আলোচনার কোনো অর্থ নেই।’’

    একই সময়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার উভয় পক্ষকে ইসলামাবাদে এসে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে; এই আমন্ত্রণ ও আলোচনার সময়সূচি এখনো পর্যালোচনার এবং পরিকল্পনার পর্যায়ে আছে। ভ্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে ইরান কোন প্রতিনিধিদল পাঠাবে—তার তালিকাও পরে ঘোষণা করা হবে, যোগ করেন তিনি।

    এদিকে ইরানের আরেকটি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান মার্কিন পক্ষের সঙ্গে ইসলামাবাদে যে কোনও শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না। ফার্স নিউজ দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে, যাতে বলা হয় ইরানি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে—ফার্স সেটিকে মিথ্যা বলেছে।

    পূর্বে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছিলেন যে ইরানি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে; পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও এখনো ইসলামাবাদে পৌঁছেছে—এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    সূত্র: তাসনিম নিউজ, ফার্স নিউজ, জেরুজালেম পোস্ট, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (প্রতিবেদনের উল্লেখ ও ফার্সের প্রত্যাখ্যান)

  • ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দিয়েছে, যা প্রায় ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নজিরবিহীনভাবে বন্ধ ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো সেখানে ফজরের নামাজ আদায় করেন বেশী করে বলা যায় ৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি। অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা গেছে মসজিদের গেট খুলতেই সিংহভাগ মানুষ অঙ্গিনায় ঢুকছে, দীর্ঘদিন পরে আল-আকসায় ফিরে এসে খুশি ও облегчতাবোধ করছে।

    কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে, মসজিদ এবং মুসল্লিদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময় আল-আকসা বন্ধ করে ফেলে এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়ও মসজিদ বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বললেও ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তি মানতে অস্বীকার করেছে। একই সময়ে ইসরায়েল অন্যান্য জায়গায় বড় ইহুদি ধর্মীয় সমাবেশকে অনুমতি দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    অনেকে বলছেন, যুদ্ধে উদ্বেগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে—যার মধ্যে আছে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সময়সূচি নির্ধারণ এবং অনুমোদিত কার্যক্রম সীমিত করা।

    পুরনো জেরুজালেমের আল-আকসা দীর্ঘকাল ধরে ‘স্ট্যাটাস কো’ নামে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আওতায় চালিত হয়ে আসে—অর্থাৎ মসজিদে প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকার কথা। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেছেন ইসরায়েল বহু বছর ধরে এই ব্যবস্থাকে লঙ্ঘন করে আসছে, বিশেষ করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রবেশ ও প্রার্থনার অনুমতি দিয়ে ফিলিস্তিনিদের সম্মতি উলঙ্গ করে।

    এই এলাকার ওপর ইসরায়েলের দখল আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে অনৈতিক বা অবৈধ বিবেচিত হয়; অংশবিশেষে বলা হয়—দখলকারী শক্তির ওই ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব নেই এবং সেখানে স্থায়ী পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া যায় না।

    মসজিদ পুনরায় খোলার পরই উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিরা প্রায় প্রতিদিন অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং তাদের সেখানে থাকা সময়ও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ফজরের নামাজের পর মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু ইসরায়েলি সেখানে ঢোকে; তাদের মধ্যে অনেককে পুলিশি নিরাপত্তায় প্রার্থনা ও নাচ করতে দেখা গেছে।

    যুদ্ধের আগে এই ধরনের ইহুদি অনুপ্রবেশ সাধারণত কর্মদিবসে দুই শিফটে সীমাবদ্ধ ছিল—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে ২টা ৩০ পর্যন্ত। এই পদ্ধতি প্রথম চালু হয় ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদের সময় এবং ২০০৮ সালে এটি আরও কাঠামোবদ্ধ করে নেওয়া হয়; তখন সকালে সীমিতসংখ্যক দলে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার অনুমতি দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সময় ও শিফট দুটোই ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছিল।

    ইরান যুদ্ধের আগে যে নতুন সময়সূচি অনুমোদিত হয়েছিল, তাতে এখন অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬টা ৩০ থেকে ১১টা ৩০ এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত—মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টার মতো সময়। জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বাড়াকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং জানিয়েছে, এ ধরনের পরিবর্তন স্ট্যাটাস কোকে দুর্বল করার এবং সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নির্দেশ করে—বিশেষ করে ৪০ দিন পর মসজিদ খোলার এই প্রেক্ষাপটে।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    কয়েকটি মিডিয়া ও অনলাইন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—ইরানের সামরিক কمان্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গভীর ভাঙন তৈরি করবে। তবে উল্লেখ্য, এই দাবিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে যাচাই যোগ্যতা পাননি এবং সরকারিভি বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

    ক্ষমতার কেন্দ্রকে আঘাত—দাবি ও অনিশ্চয়তা

    কিছু রিপোর্টে তালিকার শীর্ষেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যত্র বলা হয় শীর্ষ পর্যায়ের আরও একাধিক রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন—যেমন আলী লারিজানি, আলী শামখানি ইত্যাদি। তবে এসব সংবাদের সত্যতা নিয়ে নানামুখী দাবি-প্রতিমত চলছে এবং স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ ধরনের রিপোর্টে সরাসরি কৃতকার্য বলে ঘোষণা না করে ‘দাবি করা হয়েছে’ বা ‘সূত্র বলছে’ বলে উপস্থাপন করা জরুরি।

    সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক ক্ষতি—প্রতিবাদের প্রভাব

    রিপোর্টগুলোর ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, গঠনতান্ত্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে একের পর এক শীর্ষ ব্যক্তি হত্যা হওয়ায় সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে вакুম তৈরি হয়েছে। যেমন চিফ অব স্টাফ, উচ্চ র‌্যাঙ্কিং কমান্ডার এবং অপারেশন প্রধানদের দাবিকৃত হত্যাকাণ্ড ইরানের সামরিক সমন্বয়কে দুর্বল করেছে—যদি এই দাবিগুলো সত্যি হয়। ধারাবাহিক নেতৃত্বক্ষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও оператив নির্দেশনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে, ফলে সামরিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ে।

    আইআরজিসি এবং আঞ্চলিক শক্তি

    রিপোর্টে বলা হয়েছে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)-এর উচ্চপদস্থ কমান্ডার ও তিনটি প্রধান শাখা—স্থল, নৌ ও মহাকাশ—লক্ষ্যবিহিতভাবে আঘাত পেয়েছে। মহাকাশ বাহিনী বা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রোগ্রামের প্রধানদের ওপর হামলা হলে এসব কর্মসূচি কার্যকারিতাহীন হয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। নৌ বাহিনীর শীর্ষ সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হলে পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতি ও অপারেশনাল ক্ষমতা সীমিত হবে, যা আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    গোয়েন্দা কাঠামোতে টেকনিক্যাল আঘাত

    রিপোর্ট অনুযায়ী ইরানের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বা আইআরজিসি-র গোয়েন্দা শাখার একাধিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের হত্যার দাবি উঠেছে। এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নির্দেশ করে যে হামলাকারীরা গভীর গোয়েন্দা-infiltration ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণের মাধ্যমে উচ্চস্তরের বৈঠক পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহে সক্ষম হয়েছে—যা দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে। আবারও বলছি, এসব দাবির স্বাধীন যাচাই বহুলাংশে অনুপস্থিত।

    পারমাণবিক কর্মসূচি ও কুদস ফোর্সে প্রভাব

    কয়েকটি আলাদা ও পুরনো ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করে রিপোর্টগুলো বলছে, পারমাণবিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের ওপরও লক্ষ্যবস্তু অবস্থান করছিল—যেমন মোহসেন ফাখরিজাদেহর হত্যাকাণ্ড (যা কয়েক বছর আগে ঘটেছিল)। কুদস ফোর্সের উচ্চপদস্থদের হত্যার ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক—সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে—ও দুর্বল হয়েছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কাসেম সোলাইমানির ২০২০ সালের হত্যাকাণ্ডই ছিল এ ধরনের নেটওয়ার্কে বড় আঘাতের একটি পূর্বসূরী।

    অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব

    রিপোর্টে বলা হয়েছে বাসিজ বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপরও আঘাত হয়েছে, যা ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে তুলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদিভাবে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশন দুর্বল নেতৃত্ব, ভীতি এবং অভ্যন্তরীণ অবিশ্বাস বাড়াতে পারে—যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    কৌশলগত মূল্যায়ন

    এই আক্রমণ/নির্ধারণগুলো যদি যাচাইযোগ্য হয়, তাহলে কয়েকটি জিনিস স্পষ্ট হবে: একটি, হামলাগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও তথ্যনির্ভর ছিল; দুই, শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক ক্ষতি সামরিক ও গোয়েন্দা সমন্বয়কে দুর্বল করেছে; তিন, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, এসব দাবি যাচাই না হলে পরিস্থিতি সম্পর্কে কেবল অনুমানেই সীমাবদ্ধ থাকা ছাড়া উপায় নেই।

    ভবিষ্যৎ चुन challenge

    ইরানের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে—নতুন দক্ষ নেতৃত্ব গঠন, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ-আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। তাত্ত্বিকভাবে এসব করাই সম্ভব হলে দেশটি ধীরে ধীরে সমন্বয় ও প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারে; কিন্তু ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ থাকলে তা সহজ হবে না।

    নোট: এই প্রতিবেদনে যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মৃত বা আহত বলে দাবি করা হয়েছে, সেগুলো প্রধানত তৃতীয় পক্ষের উৎস ও অনলাইন রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব খবর সরকারি বা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাস্তবতা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তা নিহত

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তা নিহত

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানের ফলে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যাপক আঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। এই বছরগুলিতে অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রভাব ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ ছাড়িয়ে গেছে; এটি মূলত ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গুরুতর পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

    ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিত্বদের ওপর এই আঘাত খুবই নাটকীয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোতে অভূতপূর্ব শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি ছিলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা, যার অভাবের ফলে দেশের সংহতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

    তাঁর মৃত্যুর পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে আব্দুল্লা লারিজানি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পরিচিত এই রাজনীতিবিদের ওপরও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে আঘাত হানা হয়। একইভাবে, প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলী শামখানি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আদর্শ ব্যক্তি। তাঁর ওপরও হামলা হয়, যা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোকে আরও প্রভাবিত করে।

    সামরিক নেতৃত্বের ধারাবাহিক ক্ষতি দেখা গেছে। আইআরজিসি চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরিকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই হত্যা করা হয়। তাঁর দায়িত্ব ছিল সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করা। তার পরে, এই দায়িত্বে থাকা অন্যরা দ্রুত মারা গেলে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলামালি রশিদও যুদ্ধকালীন অপারেশনের প্রধান ছিলেন, তাকে হত্যা করে ইরানের যুদ্ধ পরিকল্পনা দুর্বল হয়ে যায়।

    আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার হোসেইন সালামি, যিনি মার্কিন ও ইসরায়েলের অদম্য বিরোধিতার জন্য পরিচিত ছিলেন, তিনি নিহত হন। এরপর দায়িত্ব পান মোহাম্মদ পাকপোর, কিন্তু তিনিও খুব দ্রুত মারা যান। এই ধারাবাহিকতাটি ইরানের সামরিক শক্তির অঙ্গপ্রতঙ্গকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ, নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও এতে সহায়তা করেন। ফলে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক দাপট কমে যাওয়ার আশঙ্কা দানা বাঁধে।

    গোয়েন্দা বিভাগের ক্ষতি ছিল আরও মারাত্মক। গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব ও তার বেশ কয়েকজন সহকারী দ্রুত মারা যান। আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি একজন বিভ্রান্তিমূলক অপারেশনে নিহত হন, পরে দায়িত্ব নেয়া মজিদ খাদেমিও। এর ফলে বোঝা যায় যে, ইরানের গোয়েন্দা কার্যক্রমে ভেঙে পড়েছে সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে এসেছে।

    প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, যাঁরা এদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। মোহসেন ফাখরিজাদেহ, যাঁর ওপর হত্যাজনক অস্ত্র হামলা হয়, ছিল অন্যতম। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন বৈঠক ও নেতৃত্বও আক্রান্ত হয়। এতে বোঝা যায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের ওপরও শত্রুপক্ষের নজরদারি ও আঘাত পরিচালিত হচ্ছে।

    আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। কাসেম সোলাইমানি, যিনি ইরানের মূল আঞ্চলিক নেতৃস্থানীয় ছিলেন, ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। এর ফলে সিরিয়া, লেবানন এবং অন্যান্য অঞ্চলে ইরানের প্রতিলিপি ও নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়। মোহাম্মদ রেজা জাহেদি ও আব্বাস নিলফোরোশানসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের ক্ষতি হয়, যা ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

    অভ্যন্তরীণ দমননীতি ও নিরাপত্তাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বাসিজ বাহিনী প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি ও তার ডেপুটি মারা যাওয়ায় দেশের ভেতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অসুবিধায় পড়ে। এই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ দমন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরানে গভীরভাবে গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ হয়েছে, যা শীর্ষ সিদ্ধান্তের স্তর পর্যন্ত ট্র্যাক করা সম্ভব। হামলাগুলো খুবই নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছে, যা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিকল্পনামূলক আক্রমণের দিক নির্দেশ করে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সামরিক সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছে। আঞ্চলিক শক্তি ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো শুধুমাত্র সামরিক ক্ষতি নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাতের বহুমাত্রিক চিত্র। এটি নিঃসন্দেহে ইঙ্গিত দেয় যে, আধুনিক যুদ্ধ এখন আর শুধু ময়দানে নয়; বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যবস্তু হত্যার মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। ইরানের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্ব গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। তবে এই ধারাবাহিক ক্ষতির পরে সেই পথ কতটা সহজ হবে, তা সময়ই স্থির করবে।

  • হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগে বিশ্ববাজারে তেল Prices উদ্বেথ

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগে বিশ্ববাজারে তেল Prices উদ্বেথ

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রীষ্মকালীন মানদণ্ডের ব্রেন্ট ক্রুড ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল দাম প্রায় ২.৬৯ ডলার বা ৩.১ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৭১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ২.৯৯ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    এর আগে, গত বুধবার ইরান ও মার্কিন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রত্যাশায় হরমুজ প্রণালি আবার চালু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, যার কারণে তেলবাজারে এর দামের কিছুটা পতন হয়। দ্রুতই, বিকেলের দিকে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর সামনে আসতেই আবারও তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের দোদুল্যমান করে তুলেছে। যদি যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়, তবে তেল সরবরাহের ওপর এর প্রভাব কতটা গুরুতর হবে, এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত বার্তা আসেনি।

    তেলবাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভান্দা ইনসাইটস-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বন্দনা হরি উল্লেখ করেছেন, শিগগিরই প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণভাবে পুনরায় খোলার সম্ভাবনা খুবই কম, যা বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, কিছু আবহাওয়া ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকায় এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    গত বুধবারই যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেয়। ইরানের দাবি, তিনটি মূল শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ও ড্রোন আক্রমণের মতো ঘটনা। পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রশ্নেও তারা শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

    এ পরিস্থিতিতে, ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজগুলোতেও চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলছেন, ‘ইরান ও মার্কিন যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট। বা তো যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে, বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পূর্ণ যুদ্ধ শুরু হবে। এই দুইটি বিষয় একসাথে চালানো সম্ভব নয়। লেবাননের হামলা সব বিশ্ব দেখছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পুরো দায়িত্ব মার্কিন পক্ষের হাতে। তারা কি প্রতিশ্রুতি রাখবে, তা বিশ্ব দেখছে।’ সূত্র: রয়টার্স।

  • ইরানের শর্তে হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনা

    ইরানের শর্তে হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনা

    ইরান এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে চায়, তবে এর জন্য নিজের কিছু শর্তাবলি পূরণ করতে হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটির উপর নির্ভর করে অনেক দেশ তাদের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখে। তবে, ইরানের বার্তাটা স্পষ্ট—‘যুদ্ধ’ এবং ‘যুদ্ধবিরতি’ একসাথে চলতে পারে না, একে অন্যের পরিপূরক নয়। তাই এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে চরমভাবে জানিয়েছেন তেহরানের পক্ষ থেকে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ এই বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হাজার বছর ধরে এই প্রণালী বন্দরে ছিল, এবং এটি কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয়। ইরানের ভাষায়, নিরাপদ চলাচল প্রমাণ করতে হলে তেহরান ও ওমানে ‘সদিচ্ছার’ ঠিকঠাক দেখাতে হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই আগ্রাসনের থেকে সরে না এলে, প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না। মূলত, এই বক্তব্যে ইরান লেবাননে ইসরায়েলি হামলার দিকেও আঙ্গুল তুলেছেন বলে ধারণা করা হয়। সাংবাদিক নিক রবিনসনের প্রশ্নে, তিনি জানিয়েছেন, ইরানের লক্ষ্য প্রণালিটিকে ‘শান্তিপূর্ণ’ রাখা। ইরান আন্তর্জাতিক আইন মানবে, তবে নিরাপদ চলাচল দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজের অপব্যবহার বরদাস্ত করবে না। এর আগে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরে, ইরান অভিযোগ তোলে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত সপ্তাহে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। এর ফলে তারা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ইরানের ভাষ্য, যে ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার মধ্যে তিন দফা লঙ্ঘিত হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকছেও নতুন করে অভিযোগে উঠেছে, ড্রোন হামলার শিকার হওয়ারও কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ফলে, ইরানের এই কার্যক্রমের কারণে বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজরা ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ বলে দিয়েছেন, ‘ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট। Either যুদ্ধবিরতি থাকবে বা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, দুটিই একসঙ্গে চালানো সম্ভব নয়। লেবাননের হামলা বিশ্বজুড়ে নজরদারি করছে।’ তেহরানের বার্তাটি দিয়ে বোঝানো হয়, ‘এখন সময় এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য তারা ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, এই প্রণালী দিয়ে চলা জাহাজগুলির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, এখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে এবং ইরানের শর্তের প্রতি গুরুত্ব দিয়েই পরিস্থিতির সমাধান খুঁজে বের করতে তৎপরতা চলছে। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

  • মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা কমানোর জন্য ভোটের প্রয়োজনীয়তা উঠলো

    মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা কমানোর জন্য ভোটের প্রয়োজনীয়তা উঠলো

    আগামী সপ্তাহে মার্কিন সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, কোনও সামরিক পদক্ষেপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। সিনেটের বিরোধী দলীয় নেতা চাক শুমার জানিয়েছি, এ ব্যাপারে উচ্চকক্ষের ভোটাভোটির আয়োজন করা হবে। খবর রয়টার্সের।

    বুধবার (৮ এপ্রিল), সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের অস্ত্রের ক্ষমতা কেবলই একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থে এই ক্ষমতা স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া দরকার। এর আগে কয়েক ঘণ্টা আগে, ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। নিউ ইয়র্কের তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শুমার বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কংগ্রেসের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা অত্যাবশ্যক, যাতে কোন অপ্রয়োজনীয় সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানো যায়।

    গত মঙ্গলবার, ট্রাম্প তেহরানকে অবরুদ্ধ করে রাখার হুমকি দেয়ার পাশাপাশি, তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার আল্টিমেটাম দেন। তবে ঐ দিনই, ট্রাম্প নিজেই হঠাৎ ঘোষণা করেন যুদ্ধবিরতি। এর আগে, ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, আজ রাতে পুরো পৃথিবী ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। এই উস্কানিমূলক ভাষা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা ও পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।

    বৈঠকগুলোতে, মানবিক আচরণের বাধ্যবাধকতা হিসেবে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন উল্লেখ করে বলা হয়, সেগুলোর স্থানগুলোতে হামলা বন্ধ করতে হবে, যেখানে বেসামরিক নাগরিকেরা নিরাপদ। এই পরিস্থিতিতে, শুমার ট্রাম্পের ক্রোধ ও মন্তব্যকে উসকে দিয়ে একে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এই যুদ্ধের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    ইরান দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন একে চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। হোয়াইট হাউস বলছে, সীমিত সামরিক অভিযান ঘোচানোর জন্য ট্রাম্পের নেওয়া নির্দেশ নিশ্চয়তা দেয়, যেখানে সরকারি দৃষ্টিতে তার পদক্ষেপ আইনসম্মত।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা বারংবার ট্রাম্বের পার্মানিক যুদ্ধের অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করেন; তবে সফল হননি। বিপরীতে, সহকর্মী রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা ট্রাম্পের নীতিগুলির ব্যাপক সমর্থন দিয়ে আসছেন। তবে সংবিধানে বলা আছে, যুদ্ধের ঘোষণা কেবলই কংগ্রেসের অধিকার; তবুও, তাৎক্ষণিক হুমকি বা স্বল্পমেয়াদী অভিযানে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

    অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের জন্যও সংসদে ভোট হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অযৌক্তিক ও অনির্বচনীয় এই যুদ্ধের পরিকল্পনাকে রুখে দিতে হবে, এজন্য একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।