Category: আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কার্যক্রম বন্ধ করছে ট্রাম্পের আদেশে পরিবর্তন

    যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কার্যক্রম বন্ধ করছে ট্রাম্পের আদেশে পরিবর্তন

    যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচালিত পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া বাতিল হচ্ছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টার পর থেকে এই শুল্ক সংগ্রহ বন্ধ হবে। এএফপি সূত্রে জানা গেছে, কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে জাহাজ চালকদের জন্য কার্গো সিস্টেমস মেসেজিং সার্ভিসের মাধ্যমে নির্দেশনা পাঠিয়ে দিয়েছেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ট্রাম্পের ১৯৭৭ সালের আইইপিএ সম্পর্কিত সব শুল্ক আজ থেকে বন্ধ করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন দেশের ওপর ১০% বেইসলাইন শুল্ক আরোপের পাশাপাশি পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) চালু করেছিলেন। চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশের সাথে এই শুল্ক নিয়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন বেড়ে যায়। ট্রাম্প এর আগে এসব শুল্কারোপের মাধ্যমে বিশ্ব জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন, এমনকি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস এর অধীন শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এই শুল্কের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করবেন।

    তবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই শুল্ক কার্যক্রমকে আনোথিভুক্ত করে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত বলেছে, আইইপিএ कानून প্রেসিডেন্টকে এককভার শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না এবং ট্রাম্প এর অপব্যবহার করেছেন। ওই রায়ের পর, আজ মধ্যরাতে কার্যকরীভাবে এই শুল্ক বন্ধ হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের কারণ বা কেন তিন দিন লাগল, এ বিষয়ে কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স

  • যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি, ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

    যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি, ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

    যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ব্যাপক তুষারঝড়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতি ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছে। এই কঠোর আবহাওয়ার কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল থেকে শুরু হওয়া এই তুষার ঝড়ের প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৭০০ এর বেশি বিমান ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসের কিছু অংশে আনন্দের সাথে রেকর্ড পরিমাণ ৩৭ ইঞ্চি (৯৪ সেন্টিমিটার) তুষারপাত হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কেও ১৯ ইঞ্চির বেশি তুষার জমেছে। ঘণিথ ঝড়ের কারণে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের যানচলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।

    পূর্ব উপকূলের প্রায় ৬ লাখ ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, এর মধ্যে নিউজার্সি ও ম্যাসাচুসেটস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তুষারপাতের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে রোড আইল্যান্ডের রাজধানী প্রভিডেন্সে ৩৬ ইঞ্চি তুষার জমে যায়, যা ১৯৭৮ সালের আগে দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিকে অনেক আবহাওয়াবিদ ‘বিস্ময়কর’ ও বিরল উল্লেখ করে থাকেন। সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য রোড আইল্যান্ড, কানেকটিকাট ও ম্যাসাচুসেটসে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মৌরা হিলি সতর্ক করে বলেছেন, হোয়াইটআউট বা প্রবল তুষারঝড়ের কারণে রাস্তাঘাট বেশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, সব নাগরিককে বাড়িতেই থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আকাশপথেও এই ঝড়ের প্রভাব ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে আনেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরের ৯৮ শতাংশ এবং জেএফকে বিমানবন্দরের ৯১ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়াও বোস্টন ও ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় ৮০ থেকে ৯২ শতাংশ ফ্লাইটের চলাচল বন্ধ রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আগামী মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আরও ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। এই তুষার ঝড়ের কারণে আমেরিকার পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাপক ব্যাহত হয়েছে এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লন্ডনে গ্রেফতার

    যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লন্ডনে গ্রেফতার

    লন্ডনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করেছে লন্ডন পুলিশ। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি আবারও আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন, কারণ তার সম্পর্কের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই Sussex পুলিশ তদন্ত শুরু করে। খবর রয়টার্সের মাধ্যমে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তার মধ্যে এ ধরনের অভিযোগ ওঠে। সে সময় স্পষ্ট হয়, এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের গভীরতা বেশ বড় ছিল।

    বিশেষ করে জানুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইনের সাথে ম্যান্ডেলসনের মধ্যকার ই-মেইল আদান-প্রদান প্রকাশ করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। জানা যায়, এপস্টেইনের সাথে তার সম্পর্ক ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ, যা খোলাখুলি স্বীকারও করেছিলেন তিনি। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়।

    এ বিষয়ে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে, দেশের একজন সাবেক মন্ত্রী হিসেবে, ৭২ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার করেছেন।

    প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের সাথে তথ্য ভাগাভাগি করেছিলেন বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছেন, এবং সম্প্রতি লেনদেনের জন্য তার বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু হয়েছে।

    ম্যান্ডেলসনের এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীরই অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন, তবে এপস্টেইনের ফাইলের সবচেয়ে নতুন তথ্য নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর আগেও, রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুকেও এপস্টেইনের কাছে গোপন নথি পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় ব্রিটিশ ও আন্তর্জাতিক মহল ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।

  • ইসরায়েলি বসতস্থাপনকারীদের মসজিদে আগুনের ঘটনা

    ইসরায়েলি বসতস্থাপনকারীদের মসজিদে আগুনের ঘটনা

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে একটি মসজিদে ভয়ংকর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে সোমবার সকালে (২৩ ফেব্রুয়ারি), যখন অন্তঃত মুসল্লিরা ফজরের ইসলামি নামাজের জন্য মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, এই হামলায় মসজিদের দেয়ালে মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে দেয়া হয়।

    খবর অনুসারে, ফিলিস্তিনি সংস্থা ‘ওয়াফা’ জানায়, পশ্চিম তীরের নাবলুসের নিকটবর্তী সররা ও তাল শহরের মাঝামাঝি অবস্থিত ‘আবু বকর আস-সিদ্দিক’ মসজিদে এই হামলা হয়। হামলার সময়, ধোঁয়া ও আগুনের অদ্ভুত আলামত দেখতে পান মুসল্লিরা। মসজিদের প্রবেশপথের কাঁচ ভেঙে যায় এবং তার উপর পোড়া দাগ দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মুনির রামদান বলেন, “আমি দরজা খুলে দেখিন, তখন দেখলাম পুরো মসজিদে আগুন জ্বলছে এবং জানালার কাঁচ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে।” তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি পেট্রোল ও স্প্রে পেইন্ট নিয়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে এসে কিছুক্ষণ পর পালিয়ে যায়।

    হামলাকারীরা দেয়ালে ‘প্রতিশোধ’ ও ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দগুলো লিখে রেখে যায়। এই ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দটি সাধারণত কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের উপর হামলার সময় ব্যবহার করে। স্থানীয় বাসিন্দা সালেম ইশতায়েহ বলেন, “তারা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ইসলামকে আঘাত করার জন্য এই ধরনের উস্কানি দিচ্ছে, বিশেষ করে রমজান মাসে।”

    পশ্চিম তীরের বিভিন্ন মসজিদে ইসরায়েলি হামলার ঘটনাও চরম বেড়ে গেছে। গত এক বছরে কমপক্ষে ৪৫টি মসজিদে হামলা চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা আরও বেড়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা যায়, এই সময়ের মধ্যে পশ্চিম তীরে প্রায় ১,০৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহুই শিশু ও নারী রয়েছেন।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করে বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি পদ্ধতিগত বলপ্রয়োগ ও উচ্ছেদের নীতি ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘অপরাধের’ পর্যায়ে পড়ে। ইসরায়েলি সেনা ও পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলি বলছে, এই হামলার পেছনে বেশি কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর অংশ নেওয়া বা সহায়তা থাকলেও সেখানে সুকৌশলে মদদ দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক সময় এই হামলা চালানো হয় দখল ও দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে।

    সূত্র: আল-জাজিরা

  • কারাগার থেকে হাসপাতালে ইমরান খান

    কারাগার থেকে হাসপাতালে ইমরান খান

    Pakistans former Prime Minister Imran Khan has undergone the second phase of his eye treatment. On Tuesday, February 24, at the Pakistan Institute of Medical Sciences (PIMS) in Islamabad, he received the second dose of anti-VGEF intravitreal injection. According to Dr. Imran Sikander, the executive director of PIMS, the 74-year-old leader was brought to the hospital for follow-up care from Adiala Central Jail. Prior to and after the procedure, he remained physically stable. Following the improvement in his vision after the first dose, the second dose was administered as per medical advice. Doctors report that his eyesight has improved further. Earlier, on the night of January 24 and 25, he received the first injection in the same operating theater. This second dose was given after a month, marking the continuation of his treatment. The injection was administered with the help of a microscope by consulting ophthalmologists Dr. Muhammad Arif and Dr. Nadeem Qureshi, specialists at Al-Shifa Eye Trust Hospital. The procedure followed strict quality protocols and was carried out as a day-care process. Before administering the injection, a panel of specialist doctors examined his health. A cardiologist performed an ECG and echocardiogram, which yielded normal results. In addition, a general physician also examined him. After thorough assessments, he was declared clinically stable and suitable for further treatment.

  • আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ১৭

    আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ১৭

    আফগানিস্তানের সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা আরও জোরদার করে পরিস্থিতি। এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঘটেছে এই হামলা। পাশাপাশি অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। তালেবান সরকার এই হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তারা উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, পাকিস্তানি সেনারা আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে এ lourd আঘাত চালিয়েছে। বিশেষ করে ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে এই হামলা চালানো হয়। এই অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গিদের ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

    আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিরোধী। তারা আরও জানায়, নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে ধর্মীয় স্কুল এবং আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে এই হামলা হয়েছে, যাতে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

    এক সূত্রের বরাতে আল জাজিরাকে জানানো হয়, আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আফগান পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলা জাতীয় সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে পরিচালিত।

    পাকিস্তান এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আইন ও সৌহার্দ্যজনক সম্পর্কের বিরুদ্ধে এবং আফগানিস্তানকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে তারা বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, কাবুলের পক্ষ থেকে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছে।

    বিস্তারিত বলছে, কিছু ঘণ্টা আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। পাকিস্তানের মন্তব্য অনুযায়ী, এই সব হামলার পেছনে রয়েছে আফগানিস্তানভিত্তিক সংগঠনগুলি, যারা বলে, পাকিস্তানের সীমানার ওপারে থাকা গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে তালেবান সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

  • থাইল্যান্ডে চিড়িয়াখানায় ৭২টি বাঘের মৃত্যু, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়

    থাইল্যান্ডে চিড়িয়াখানায় ৭২টি বাঘের মৃত্যু, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়

    প্রাণঘাতী ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় এক বেসরকারি চিড়িয়াখানায় গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৭২টি বাঘট মারা গেছে। এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় চিয়াং মাই প্রদেশের প্রাণিসম্পদ দপ্তর, যা শনিবার এক বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে। খবর দ্যা গার্ডিয়ান।

    চিয়াং মাইয়ের প্রাদেশিক প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলেছে, চিকিৎসা ও পরীক্ষায় ভাইরাসের মধ্যে সবচেয়ে সংক্রামক ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রে প্রভাব ফেলা একটি ব্যাকটেরিয়াও দেখা গেছে।

    জাতীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক সোমচুয়ান রতানামুংকলানন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বাঘগুলো অসুস্থ হলে সহজে শনাক্ত করা যায় যেমনটি কুকুর বা বিড়ালে হয়, কিন্তু বাঘের ক্ষেত্রে তা এতটা সহজ নয়। যখন বুঝতে পারা যায় যে তারা অসুস্থ, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

    মৃত্যুতে আক্রান্ত চিড়িয়াখানার নাম হলো ‘টাইগার কিংডম’। এজন্য জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য শনিবার যোগাযোগ করা হলেও, তারা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

    তাদের ওয়েবসাইটে দর্শনার্থীদের জন্য বড় আকারের বাঘের সঙ্গে ছবি তোলার ও স্পর্শ করার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।

    প্রাণী অধিকার সংস্থা পেটা এশিয়া জানিয়েছে, এই বাঘগুলো দুর্দশা, বন্দিত্ব ও ভয়ঙ্কর পরিবেশের মধ্যে জীবনযাপন করলেও নিজের চরিত্রে তারা অল্প সময়ে মারা গেছে। এটি স্পষ্ট করে দেয়, প্রাকৃতিক পরিবেশের বাইরে এমন পরিস্থিতিতে বাঘগুলোর জীবন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

  • ইরানে আবার শুরু হয়েছে জেন-জি বিক্ষোভ

    ইরানে আবার শুরু হয়েছে জেন-জি বিক্ষোভ

    ইরানে আবারও জেন-জি বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যদিও এই সময় দেশে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিন ধরে চলে চলমান এই বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল। সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন আরও জোরদার হয়ে উঠছে।

    একটি প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, দীর্ঘ ডিসেম্বর-জানুয়ারি বিক্ষোভের চাপে নিহত মানুষের স্মরণে এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি নিয়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করে তরুণ প্রজন্মের অংশ। সেই আন্দোলনের পাল্টায় সরকারও পক্ষ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পতাকা হাতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন এবং রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিও উপস্থিত করছে।

    আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের মুদ্রা ইরানি রিয়াল এখন বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রা। অর্থনৈতিক চাপের কারণে জীবনে দুর্দশা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার প্রতিবাদে ডিসেম্বরের শেষে ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা আন্দোলনে নামে। কিন্তু ঈর্ষাকরভাবে, এই আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী প্রবণতায় পরিণত হয় এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রথম দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আন্দোলনে সমর্থন জানান এবং ইরানে সামরিক পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দেন। তবে দ্রুত তিনি নজর দেন- ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন হুমকি দিতে। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ব্যাপারে আলোচনা শুরু হলেও, এর মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভকে কঠোর দমন করে চলে ইরানের সরকার। সরকারি সূত্র বলছে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছে প্রায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ। অন্য একটি মানবাধিকার সংস্থা বলছে, নিহতের সংখ্যা এই চেয়ে অনেক বেশি। তবে, বিভিন্ন সূত্রের নিজেদের মতে, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে প্রায় ১৫,০০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

  • ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ

    ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ

    ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় দেশটিতে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় দপ্তর। ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সবাইকে নিশ্চিত করতে বলেছে যে, ইরানে থাকা ভারতের নাগরিকরা যেন দ্রুত তাদের বর্তমান অবস্থান ত্যাগ করেন। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা অন্য যে কোনও উপলভ্য পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান ছাড়তে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটি বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পর্যটকসহ সব ধরনের নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য।

    দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের পর থেকে এই পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সব ভারতীয় ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ বা প্রতিবাদমূলক এলাকার থেকে দূরে থাকাকরণে, ইরানের বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার, এবং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, ভারতীয় নাগরিকদের পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত অন্যান্য নথিপত্র সবার কাছে হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের সহায়তার জন্য ভারতের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।

    দূতাবাস বিভিন্ন যোগাযোগ নম্বর ও ইমেইল আইডি প্রকাশ করেছে, যাতে সহজে সাহায্য বা পরামর্শ গ্রহণ করা যায়: +৯৮৯১২৮১০৯১১৫, +৯৮৯১২৮১০৯১১০৯, +৯৮৯১২৮১০৯১১০২; ইমেইল: [email protected]। তারা আরও জানিয়েছে, ইরানে থাকা প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক যেন তাদের প্রশাসনিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।

    এই সতর্কতা ও নির্দেশনা আমাদের দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সবাইকে যথাযথভাবে নিজেদের প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • নেপালে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে নিহত ১৮

    নেপালে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে নিহত ১৮

    নেপালে ভয়াবহ একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধাডিং জেলার পোখারা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা করা একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ত্রিশুলি নদীতে ডুবে যায়। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৬ জন। নিহতদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের দুই পর্যটকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

    নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবর অনুযায়ী, সোমবার ভোরে (২৩ ফেব্রুয়ারি) এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি রাত আনুমানিক ১টার দিকে ধাডিং জেলার বেনিঘাট রোরাং পৌরসভা এলাকার ভৈসেপাটি এলাকার কাছ দিয়ে পার হচ্ছিলো। তখন সে প্রতিপক্ষের আনুমানিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চিনাধারা এলাকার কাছ দিয়ে প্রায় ৩০০ মিটার নিচে ত্রিশুলি নদীর তীরে পড়ে যায়। ফলে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    ধাডিং জেলা ট্রাফিক পুলিশের প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, मृतকের সংখ্যা বর্তমানে ১৮ জনে পৌঁছেছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। হাইওয়ে রেসকিউ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান রাজকুমার থাকুরি দাবি করেছেন, আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটিতে মোট ৪৪ জন যাত্রী সান্ত্বনা পেয়েছিলেন, তবে দুর্ঘটনায় নিহতের পাশাপাশি অনেকেই আহত হয়েছেন।

    বাসে থাকা দুইজন নিউজিল্যান্ডের পর্যটক—একজন নারী ও একজন পুরুষ—ও এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয় সেনা, আর্মড পুলিশ ফোর্স এবং নেপাল পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। স্থানীয় মানুষও এতে অংশ নেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, অন্ধকার পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর অভাবে উদ্ধার কাজের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।

    জেলা প্রশাসকের হিসেবে সুবেদি জানান, রাতের অন্ধকারে টর্চলাইটের সাহায্যে আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে ত্রাণের অভাব থাকায় উদ্ধার কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভয়াবह দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যেতে হয়।