লন্ডন পুলিশ অ্যান্ড্রু অ্যান্ডারসন নামে একজন সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করেছে। পিটার ম্যান্ডেলসন নামে এই ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক ও তদন্ত চলছিল। তিনি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নতুন তথ্য প্রকাশের পরে, যেখানে জানা যায় এপস্টেইনের সাথে তার গভীর সম্পর্ক ও যোগাযোগ, তখন থেকেই তার অবস্থান অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। সেপ্টেম্বর মাসে তাকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরানো হয়, আর জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কার্যকলাপ নিয়ে। সম্প্রতি, ব্রিটিশ পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয় যে, একজন ৭২ বছর বয়সী সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি বোঝায় যে, এপস্টেইনের সাথে তার যোগাযোগের ব্যাপারে নতুন করে অঙ্কুরোদগম ঘটেছে, যেসব ইমেল ও ফাইলস প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য রয়েছে। এর আগেও, তিনি গর্ডন ব্রাউনের সরকারে মন্ত্রী থাকাকালে এপস্টেইনের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করেছিলেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে দোষারোপের মধ্যে রয়েছে গোপন নথি পাঠানো ও গভীর সম্পর্কের বিষয়। তবে, নিজেকে ওই সম্পর্কের জন্য অনুতপ্ত বলে স্বীকার করলেও, তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে, রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রুকের বিরুদ্ধে এপস্টেইনের কাছে গোপন নথি পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতারও হয়েছিল। এই সব ঘটনা ব্রিটিশ রাজনীতির মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিষয়ক তদন্ত চলমান রয়েছে।
Category: আন্তর্জাতিক
-

কারাগার থেকে হাসপাতালে ইমরান খান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ তাকে অ্যান্টি-ভিেজিএফ ইনট্রাভিট্রিয়াল ইনজেকশনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। পিআইএমএসের নির্বাহী পরিচালক ডা. ইমরান সিকান্দার এক মেডিকেল আপডেটে জানিয়েছেন, ৭৪ বছর বয়সী এই নেতাকে সেন্ট্রাল জেল আদিয়ালা থেকে ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসার প্রক্রিয়ার আগে এবং পরে তিনি শারীরিকভাবে স্থিতিশীল ছিলেন। প্রথম ডোজের পরে দৃষ্টিশক্তির কিছু উন্নতি দেখা গেছে, তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। সেখানে আরও বলা হয়েছে, তার দৃষ্টিশক্তির আরও উন্নতি হয়েছে। আগেরবার ২৪ ও ২৫ জানুয়ারির মাঝরাতে একই অপারেশন থিয়েটারে এই ইনজেকশনটি দেওয়া হয়েছিল, এখন এক মাস পার হয়ে গেলে দ্বিতীয় ডোজ হয়। এ সময় আল-শিফা আই ট্রাস্ট হাসপাতালের কনসালট্যান্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ আরিফ এবং ভিট্রিও-রেটিনাল সার্জন ডা. নাদিম কুরেশি মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে এই ইনজেকশনটি প্রয়োগ করেন। কঠোর মানসম্মত প্রটোকল অনুসরণ করে ডে-কেয়ার পদ্ধতিতে চিকিৎসাটি সম্পন্ন হয়। ইনজেকশনের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। একজন কার্ডিওলজিস্ট তার ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করেন, যেগুলোর ফলাফল স্বাভাবিক আসে। এছাড়াও, একজন ফিজিশিয়ান তার সামগ্রিক শারীরিক পরীক্ষা করেন। সবশেষে, তাকে ক্লিনিক্যালি স্থিতিশীল ও চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়।
-

পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন ও ভাঙচুর চালালে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে একটি মসজিদে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এই ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ জানায়, পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে সররা ও তাল শহরের মাঝামাঝি অবস্থিত ‘আবু বকর আস-সিদ্দিক’ নামক মসজিদে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে যায়।
সংবাদ সংস্থা এপি উল্লেখ করেছে, ফজরের নামাজের জন্য মুসল্লিরা যখন মসজিদে আসেন, তখন তারা প্রবেশপথে ধোঁয়া ও আগুনের আলামত দেখতে পান। মসজিদের প্রবেশদ্বারের কাঁচ ভাঙা এবং পোড়া দাগ দেখতে পাওয়া গেছে।
পাশের বাসিন্দা মোনির রামদান বলেন, ‘আমি দরজা খুলে দেখলাম সেখানকার ভেতরে আগুন জ্বলছে এবং জানালার কাঁচ ভাঙা।’ তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুইজন ব্যক্তি পেট্রোল এবং স্প্রে-পেইন্ট নিয়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে আসছিল এবং কিছুক্ষণ পর পালিয়ে যায়।
হামলাকারীরা দেয়ালে ‘প্রতিশোধ’ এবং ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দগুলো লিখে রেখে গেছে। ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা সাধারণত এই ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দটি ব্যবহার করে, যা ফিলিস্তিনিদের এবং তাদের সম্পত্তির ওপর হামলার সময় মনে করা হয়। সচেতন বাসিন্দা সালেম ইশতায়েহ বলেন, ‘তারা আমাদের ধর্মবিশ্বাস ও ইসলামকে আঘাত করে উস্কানি দিতে চাইছে, বিশেষ করে রমজানের এই সময়ে।’
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ি, গত বছর পশ্চিম তীরে কমপক্ষে ৪৫টি মসজিদে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হলে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১,০৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের পদ্ধতিগত বলপ্রয়োগ এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ নীতি ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘যুদ্ধাপরাধের’ পর্যায়ে পড়ে।
ইসরায়েলি সেনা ও পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনায় তদন্ত করছে এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে অন্য কথা। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বি-তসেলেম’ অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনের ভূমি দখলের জন্য এই ধরণের হামলা উস্কে দিচ্ছে এবং সহিংসতাকে ত্বরান্বিত করছে। এর আগে জাতিসংঘও জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ বা সহযোগিতায় এই হামলাগুলি পরিচালিত হয়।
-

ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা
ইরানে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় জড়িত এক নাগরিকের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। তেহরানের একটি বিপ্লবী আদালত মঙ্গলবার এই রায় দেন। এই রায় যদি কার্যকর হয়, তাহলে জানুয়ারির বৃহৎ গণবিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এটাই প্রথম মৃত্যুদণ্ড। এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, রায় এখনও মোহাম্মদ আব্বাসির বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত নয়, এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টও সেটি অনুমোদন করেনি। সূত্রের মতে, আব্বাসির বিরুদ্ধে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও তার পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইরানে চলমান সরকারের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপকভাবে রক্তক্ষরণের সঙ্গে দমন অভিযান চালিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই জানুয়ারির বিক্ষোভই ছিল সর্বশেষ ও সবচেয়ে মারাত্মকসহিংসতার ঘটনা। বিক্ষোভের সময়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তবে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। এদিকে, অভিযোগে মোহাম্মদ আব্বাসির মেয়ে ফাতেমেহ আব্বাসিকেও ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা তাদের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি; তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।
-

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা
মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটিতে কয়েকদিন অবস্থান করার পর আজ মঙ্গলবার এসব যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডাটায় দেখা গেছে, রয়্যাল এনএফএ ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর লেকেনহেথ ঘাঁটি থেকে এফ-২২ যুদ্ধবিমানগুলো উড্ডয়ন করছে। এর পাশাপাশি রয়েছে কেসি-৪৬ রিফুয়েলার বিমান, যা এসব যুদ্ধবিমানকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের এই ঘাঁটিতে এসেছে যুদ্ধবিমানগুলো এবং কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, রিফুয়েলার বিমানের কিছু সমস্যা থাকায় এগুলো সেখানে অবতরণ করে। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর জমা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-২২ সহ এফ-৩৫, এফ-১৫, ও এফ-১৬ সহ বহু বিমান। বিমানবাহী এই বহরের জন্য কয়েক ডজন বিমানকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চালানো হয়েছে বলে ট্র্যাকিং দল জানিয়েছে। তারা বলেছে, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে থেকে এসব যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি ট্যাংকার, বিশাল আকারের কার্গো বিমান কৌশলে ওই অঞ্চলে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সুপারশিপ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি ইরান থেকে মাত্র ২৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নৌবহরকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। এর উদ্দেশ্য ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি বাতিল, ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ কমানো ও শর্ত ভেঙে হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা। ট্রাম্প বারংবার হুমকি দিয়েছেন, যদি ইরান তাদের শর্ত মানে না, তাহলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে একের পর এক রণতরী ও যুদ্ধ জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে নিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ দিয়ে এসেছে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
-

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লন্ডনে গ্রেফতার
লন্ডন পুলিশ সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করেছে। তাকে এই গ্রেফতারির মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্কের সংশ্লেষ যেনো যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে যুক্তরাজ্যে। খবর রয়টার্সের।
গত সেপ্টেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রকাশ পায়, তার এবং এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের গভীরতা এবং দাপট। এপস্টেইনের সঙ্গে তার কাছাকাছি সম্পর্কের বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর, ব্রিটিশ সরকার এই পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে, ব্রিটিশ সরকার এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের যোগাযোগের তথ্য দেশের গোপন নথির সঙ্গে সম্পর্কিত উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়। এরই ফলস্বরূপ, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, সরকারের একজন সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে ৭২ বছর বয়সি এই ব্যক্তিকে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানুয়ারির শেষে মার্কিন বিচার বিভাগ দ্বারা প্রকাশিত ই-মেইলগুলোর মাধ্যমে জানা যায়, ম্যান্ডেলসন ও এপস্টেইনের মধ্যে ছিল অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এর সরকারে থাকা অবস্থায়, এপস্টেইনের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করেছিলেন তিনি।
চলতি মাসের মধ্যে, তিনি স্টারমার লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্যপদ ছেড়ে দেন। অতীতে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে, এপস্টেইনের ফাইলসের সর্বশেষ কিস্তিতে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোন কথা বলেননি।
এদিকে, গত সপ্তাহে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুককে এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন নথি পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, যা আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
-

মসজিদে আগুন দিলো ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা পালিয়ে গেল
অধিকৃত পশ্চিম তীরে পবিত্র রমজান মাসের অশান্তির মধ্যেই একটি মসজিদে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতায়, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা গেছে, পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছাকাছি সররা ও তাল শহরের মাঝে অবস্থিত ‘আবু বকর আস-সিদ্দিক’ মসজিদে এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে মহানবী (সাঃ)-কে অবমাননা করে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে দেয়।
সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, ফজরের নামাজের জন্য মুসল্লিরা যখন মসজিদে আসেন, তখন তারা প্রবেশপথে ধোঁয়া ও আগুনের আলামত দেখতে পান। মসজিদটির প্রবেশদ্বারের কাঁচ ভাঙা এবং পোড়া দাগ দেখা যায়।
পাশের বাসিন্দা মুনির রামদান জানালেন, ‘আমি দরজা খুলতেই দেখলাম সব কিছু অগ্নিগর্ভ। সেখানে আগুন জ্বলছে এবং জানালার কাঁচ ভাঙা ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুইজন ব্যক্তি পেট্রোল ও স্প্রে পেইন্ট নিয়ে মসজিদে যাওয়ার পথে ছিল এবং কয়েক মিনিট পরে পালিয়ে যায়।’
হামলাকারীরা দেয়ালে ‘প্রতিশোধ’ ও ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দগুলো লিখে গেছে। প্রাইস ট্যাগ শব্দটি সাধারণত কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তির ওপর হামলার সময় ব্যবহার করে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা সালেম ইশতায়েহ বলছেন, ‘তারা আমাদের ধর্মবিশ্বাস ও ইসলামের ওপর আঘাত দিয়ে উসকানি দিতে চাইছে, বিশেষ করে রমজানের এই পবিত্র সময়ে।’
ফিলিস্তিনি সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত বছর পশ্চিম তীরে অন্তত ৪৫টি মসজিদে হামলা চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, এই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের হাতে কমপক্ষে ১,০৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এই পদ্ধতিগত বলপ্রয়োগ ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার নীতি ‘জাতিগত নিধন’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ এর পর্যায়ে পড়ে।
ইসরায়েলি সেনা ও পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে ভিন্ন কথা। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বি-তসেলেম’ অভিযোগ করে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের অংশ হিসেবেই ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের মধ্যে এই ধরনের সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছে। জাতিসংঘও আগের রিপোর্টে জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই হামলার সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী জড়িত।
-

ইরানে বিরোধী বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা
ইরানে গত জানুয়ারির সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় জড়িত এক নাগরিকের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। তেহরানের একটি বিপ্লবী আদালত মঙ্গলবার এই রায় কার্যকরে ঘোষণা করে। যদি এই রায় বহাল থাকে, তবে এটি হবে জানুয়ারির গণবিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা। এই তথ্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে, কারণ ওই ব্যক্তির পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে জানা যায়, ইরানের বিচার বিভাগ এখনো এই রায় ঘোষণা করেনি এবং দেশের শীর্ষ আদালতও এটির অনুমোদন দেয়নি। সূত্রের মতে, অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি মেহম্মদ আব্বাসির বিরুদ্ধে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত। তবে আব্বাসির পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ইরানে সাআপ্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী দমন-পীڑন চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ জীবন হারিয়েছেন। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর এই জানুয়ারির বিক্ষোভই ছিলো এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা বলে ধারণা করা হয়। বিক্ষোভের সময়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে জবাবদিহি করা হয়, তাহলে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। ওই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মোহাম্মদ আব্বাসির মেয়ে ফাতেমেহ আব্বাসিকেও ২৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে, অভিযুক্তরা নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর কাছে যাওয়ার সুযোগ পাননি, বরং রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।স্থায়ীভাবে, এই তথ্যসমূহ রয়টার্স থেকে আনা হয়েছে।
-

কারাগার থেকে হাসপাতালেও ইমরান খান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার চোখের চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে শেষ করেছেন। মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি), তিনি ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ পৌঁছে সেখানে তার চোখের উন্নত চিকিৎসা চালানো হয়। এই সফরে তাকে অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনট্রাভিট্রিয়াল ইনজেকশনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।
পিআইএমএসের নির্বাহী পরিচালক ডা. ইমরান সিকান্দার জানান, ৭৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে মূলত সেন্ট্রাল জেল আদিয়ালা থেকে পুনরায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়। প্রক্রিয়ার সবাই দৃঢ়ভাবে অনুশীলনে রক্ষিত হয়, যা তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকাকালীন সম্পন্ন হয়। প্রথম ডোজের পর তার দৃষ্টিশক্তি উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা নিশ্চিত করে দ্বিতীয় ডোজ নির্ধারিত সময়ে প্রদান করেন। তারা আরও জানিয়েছেন, এতে তার দৃষ্টিশক্তির আরও উন্নতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিক প্রথম ইনজেকশনটি ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি রাতের দিকে একই অপারেশন থিয়েটারে দেওয়া হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানের পরে, আজ দ্বিতীয় ডোজটি সম্পন্ন হয়েছে।
চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে আল-শিফা আই ট্রাস্ট হাসপাতালের কনসালট্যান্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ আরিফ ও ভিট্রিও-রেটিনাল সার্জন ডা. নাদিম কুরেশি ইনজেকশনটি পেশ করেন। সবচেয়ে কঠোর মান অনুসরণ করে এটি ডে-কেয়ার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, যেখানে প্রক্রিয়া শুরু করার আগে রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
একজন কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট তার ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করেন, যার ফলাফল স্বাভাবিক আসে। পাশাপাশি একজন ফিজিশিয়ানও তাকে পরীক্ষা করেন। এরপর তাকে ক্লিনিক্যালি স্থিতিশীল এবং চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়। একটি সফল ও নিরাপদ মেডিকেল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইমরান খান আবার তার চোখের উন্নতির পথে এগোচ্ছেন।
-

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি
মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নতুন করে যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটিতে অবস্থানরত এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলো আজ মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের দিকে উড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ফ্লাইটের ট্র্যাকিং তথ্য দেখাচ্ছে যে, রয়্যাল এয়ারফোর্সের লেকেনহেথ ঘাঁটি থেকে এফ-২২ বিমানগুলো উড্ডয়ন করছে, সঙ্গে আছে কেসি-৪৬ রিফুয়েলার বিমান, যা যুদ্ধ বিমানের জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। গত সপ্তাহে এই বিমানগুলো লেকেনহেথে পৌঁছায় এবং সেখানে কিছু দিন অবস্থান করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জ্বালানি খরচ ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য এই বিমানগুলোকে পরে অন্যত্র পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী, যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে বিশাল বাহিনী জড়ো করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫, এফ-২২, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। বিমান ট্র্যাকিং দল জানিয়েছে, মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে এই যুদ্ধবিমানগুলো আসছিল এবং জ্বালানি ট্যাংকারসহ বিভিন্ন কার্গো বিমানও এই অঞ্চলে উড়ে গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ রণতরী, ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছেছে। এই যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে ইরান থেকে মাত্র আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। গত কয়েক দিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়তে থাকায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান শর্ত মানলে পরিস্থিতি শান্ত হবে; অন্যথায়, তাদের পরমাণু কর্মসূচি বাতিল, মিসাইলের রেঞ্জ কমানো ও হিজবুল্লাহ বা হামাসের মতো proxy বাহিনীকে সহায়তা বন্ধ করার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ট্রাম্প বহুবার হুমকি দিয়েছেন, ইরান না মানলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে একটি রণতরীসহ বিশাল সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে, যেখানে যোগ দিচ্ছে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। এই পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
