অবশেষে ৪০ দিন পর আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়া হলো

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সোমবার পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আল-আকসা মসজিদটি পুনরায় খোলেন, যা চলতি বছরের ৩ নভেম্বর থেকে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ ছিল। এই বিরতিটা ছিল নজিরবিহীন, যেখানে মুসল্লিদের জন্য এই পবিত্র স্থানটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলার পর এই প্রথমবারের মতো মুসল্লিদের জন্য আল-আকসা পুনরায় খুলে দেওয়া হলো। প্রথম দিন ফজরের নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০০-এর বেশি, যারা এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিতে দীর্ঘ সময়ের বিরতির পর ফিরে আসামাত্রই আনন্দে আত্মহারা হন।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, মসজিদের ফটক খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি সেখানে প্রবেশ করছে এবং তারা দীর্ঘদিন পর হতেই এই পবিত্র স্থানটিতে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত। একই সঙ্গে ভিডিওগুলো দেখাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পূর্ণ প্রস্তুতির কাজ, যেন আগের মতোই ইসলামি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য সব কিছু প্রস্তুত।

প্রায় দুবছর ধরে ইসরায়েল এই স্থানটি বন্ধ করে রেখেছিল, এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়েও আল-আকসা বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই বন্ধকে নিরাপত্তা উদ্বেগের নাম দিয়েও নির্দেশ দিয়েছে, তবে ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে, এই সমস্ত কঠোরতা এবং দখলদারিত্বের মাধ্যমে ইসরায়েল পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এই সময়ে অন্যত্র ইহুদিদের বড় ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে, যা তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে চলেছে।

অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে ইসরায়েল এই ঐতিহাসিক স্থানটির নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। প্রবেশের সময়, কার্যক্রম এবং কার্যপ্রণালীতে প্রবল পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা মূলত এই স্থানের প্রাথমিক কর্তৃত্বের সাথে সাংঘর্ষিক।

আল-আকসা মসজিদটি মূলত পুরোনো জেরুজালেম শহরে অবস্থিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম কর্তৃপক্ষকে এই স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া ছিল। কিন্তু ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার লঙ্ঘন করে আসছে, যেখানে মুসলিম ছাড়াও উগ্র জাতীয়তাবাদী কিছু ইসরায়েলি প্রার্থনা ও প্রবেশের অনুমতি পেয়ে থাকেন।

বিশেষ করে, পশ্চিম জেরুজালেমসহ এই অঞ্চলে দখলদারিত্বের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই কার্যক্রমের বিরোধিতা করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, দখলদার শক্তির এই নিয়ন্ত্রণের কোনও বৈধতা নেই এবং শর্ত অনুসারে এই ভূমির সার্বভৌমত্ব বর্তমান দখলদারদের নয়।

পুনরায় মসজিদটি খোলার পর থেকে এই অঞ্চলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রোজই উগ্র সম্প্রদায়ের প্রবেশ ও কার্যক্রম বাড়িয়েছে, এমনকি প্রবেশের সময়সীমাও বেড়ে গেছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে এই প্রবেশের সময়কাল সাড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি। আগে এই সময় ছিল ছোট ছোট পর্যায়ে বিভক্ত এবং সীমিত সংখ্যক মুসল্লির জন্য। এখন এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যা আল-আকসার নিয়ন্ত্রণ ও অবস্থা আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জেরুজালেমের গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধি নিয়ে বলছে, এটি হঠাৎ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং এই পরিবর্তনটি আল-আকসার পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তারা বলছেন, এই অপ্রত্যাশিত সময় বাড়ানো ‘স্ট্যাটাস-কো’ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলছে এবং নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি ও উদ্বেগের মধ্যেই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মুসলিম নীতিনির্ধারকেরা এই পরিস্থিতিকে শান্তিপূর্ণ ও ধারণাপূর্ণভাবে মোকাবেলা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।