Category: অর্থনীতি

  • ভ্যাট রিটার্নের সময় ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়লো

    ভ্যাট রিটার্নের সময় ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়লো

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরেকবার বাড়ানো হয়েছে। এই নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে ভ্যাট প্রদান করতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গতকাল রোববার রাতে, এনবিআর এর দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মোঃ বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে। সাধারণত প্রতিমাসের ১৫ তারিখের মধ্যে, আগের মাসের বিক্রির তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে। তবে পবিত্র শবে বরাত ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে দীর্ঘ সময়ের সরকারি ছুটি আর বিভিন্ন অনলাইন সিস্টেমের প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে জানুয়ারি মাসের অ্যানালাইসিসের জন্য ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় জনস্বার্থে এই সময়সীমা ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে আইন অনুযায়ী বিলম্ব ফি ও জরিমানার শাস্তি মৃত্যুবরণ করতে পারে। তাই, সার্ভার সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে করদাতারা অযথা জরিমানা থেকে বেঁচে থাকতে অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা নেওয়ার জন্য এই সময় বাড়ানো হয়েছে। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান Number সম্পূর্ণ ৬ লাখ ৪৪ হাজারের কাছাকাছি, তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই এখনও রিটার্ন দাখিল করেনি।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, এই গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে সরকার এই ব্যাপারে কাজ শুরু করে দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথমদিনের অফিসের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণের মেয়াদ পেছানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে দ্রুত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, সরকার এ উদ্যোগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং প্রথম সপ্তাহেই প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।

    রপ্তানি পরিস্থিতির নতুন চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এক ধরনের পণ্যে নির্ভরশীল। এই একঘেয়ে পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বিভিন্ন পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং রপ্তানি বিস্তারিত সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিরতায় পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ সীমিত সুযোগের মধ্যেই টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। দেশের মার্জিন কম, তাই ভুলের জায়গা নেই—এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাসের মন্থর গতি দ্রুততার সঙ্গে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ শুরু করবে।

    রমজান মাসের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বললেন, সবই স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। প্রয়োজনীয় পণ্য পর্যাপ্ত মজুদ আছে, পাইপলাইনে সরবরাহও অপর্যাপ্ত নয়। ফলে বাজারে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের কোনও কারণ দেখছেন না তিনি।

    রমজান এলেই বাজারে সিন্ডিকেটের কথা ওঠে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি শুধু কথা বলতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখিয়ে পরবর্তীতে সাফল্য প্রকাশ করবেন। বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    শুরুতেই কিছু পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করায় দাম চোখে পড়ে, কিন্তু এ প্রভাব বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। স্থিতিশীল পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাবেন, এই নিশ্চয়তা দরকার। তিনি আরও বলেন, দেশে তরুণ শ্রমশক্তি আছে, প্রতি বছর লাখ লাখ নতুন মানুষ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। দীর্ঘসময় বিনিয়োগের স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি থাকতে পারে।

    নতুন সরকারের উদ্বোধনের সঙ্গে রমজান শুরু হওয়া এক চ্যালেঞ্জ—এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, রমজান সামাল দেওয়া এখন প্রধান পরীক্ষার বিষয়। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সফল হতে হবে, আর এ জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, দেশের স্বার্থের বিষয়। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে দেশ অগ্রসর হতে পারে। মৌলিক উদ্দেশ্য হলো দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা, এবং এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী বললেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী বললেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী jasno করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিসের দিন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    অর্থমন্ত্রী জানান, আমাদের রাষ্ট্রের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সেই জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার করোনোর জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এই উপাদানগুলো না থাকলে কোন কর্মসূচির আলোকবর্তিকা প্রয়োজনেও সফলতা আসবে না।

    নতুন অর্থমন্ত্রী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশে অর্থনীতির মূলমন্ত্র হতে হবে সুবিন্যস্ত ও সকলের জন্য সমান সুযোগের ব্যবস্থা। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং এর সুফল পৌঁছে যায় প্রত্যেকের কাছে, সেজন্যই সব ধরনের সমালোচনা ও সেনসিটিভ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে হবে।

    অর্থনীতিকে মুক্ত করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশ মূলত ওভার রেগুলেটেড হয়ে গেছে। পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের কারণে এই রেগুলেশন অতিরিক্ত বাড়ে গেছে। তাই এখনই এটি ডিরেগুলেটেড এবং শিথিল করতে হবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে লিবারলাইজেশন বা মুক্ত বাজার নীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যাতে সবার সমান অধিকার আসে এবং অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ সম্ভব হয়।

    অর্থমন্ত্রীর আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সকলের জন্য সমানভাবে প্রসারিত হবে এবং প্রাপ্ত সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে।

    অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য, এবং এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীদের দেশের অর্থ পাঠানো আগের চাইতে আরও বেড়েছে devido জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাস। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের জন্য সুবিধাজনক উপায়ে বৈধভাবে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার ফলে ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আশাবাদী হচ্ছেন। এই সময়ের মধ্যে দেশে মোট ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা একটি ইতিহাসের রেকর্ড। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, মাসের শেষ নাগাদ এটি ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন এবং রমজানের কারণে পরিবারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য খুবই ইতিবাচক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, এই জানুয়ারিতে প্রবাসীরা মোট ৩১৬.৭৪ কোটি ডলার (৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসের রেকর্ড। এর আগে গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে মার্চে, ঈদুল ফিতরকেন্দ্রিক চাহিদার কারণে, তখন এই সংখ্যা ছিল ৩২৯ কোটি ডলার।

    সর্বশেষ টাটা বছরে (২০২৫ সালে), মোট প্রবাসী আয় এসে পৌঁছেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি। এই সময়ে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থ প্রবাহ দেশের মুদ্রা বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করছে।

    অর্থনীতির মাসভিত্তিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইতে রেমিট্যান্স ছিল ২৪৭.৭৮ কোটি ডলার, আগস্টে ২৪২.১৯ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৬৮.৫৮ কোটি, অগাস্টে ২৫৬.৩৫ কোটি, নভেম্বর ২৮৮.৯৫ কোটি, ডিসেম্বরে ৩২২.৬৬ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার।

    অর্থ্যাৎ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় হয়েছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় ২২.৩ শতাংশ বেশি। আগের বছরে এই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (আইএমএফের বিপিএম-৬ মোডে) হিসাব করলে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ে পুনরুত্থান শুরু হয়। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিত থাকায় প্রবাসীরা বৈধ উপায়ে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় আরও শক্তিশালী প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের әсерে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের әсерে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দাম বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু মিল নিজেদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, যা হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য কাজের অশান্তির মুখে ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক ক্ষতি ও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলসহ প্রায় এক ডজন মিলের প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা প্রতিদিন মিলের সামনে এসে কাজের জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু কাঁচা পাটের সংকটের কারণে তারা কিছুই করতে পারছেন না। শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যদি এ অবস্থা চলতেই থাকে, তবে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় আছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, গত দেড় মাস ধরে আমি এবং অন্য সহকর্মীরা মিল বন্ধ অবস্থায় আছি। কাঁচা পাট না থাকায় মালিকেরা মিল চালাতে পারছেন না। যদি এভাবে চলতে থাকলে, হয়তো তারা আমাদের কাজ থেকে ছাঁটাই করবে, আর আমাদের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। নতুন কোনও কাজের সন্ধানও পাবো না।

    আরেক শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেন, আমাদের দিয়ে কাজ করিয়ে মালিকরা দিনে দুই টাকা উপার্জন করেন, আর আমাদের দিতে হয় এক টাকা। গত তিন বছর ধরে এই মিল ভালোই চলছিল, কিন্তু গত দেড় মাস ধরে কাজ বন্ধ। মালিকরা বলছেন, যদি না বাঁচে, তবে আমাদের শ্রমিক হিসেবে রাখবেন না। কাঁচা পাটের এই সংকট সমাধানে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

    মিল মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রতি মণ প্রায় ৩২০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে গেলেও বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়নি, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েই চলেছে, কিন্তু লাভের রেট কমে গেছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মালিকের বক্তব্যে জানা যায়, বাড়তি দামে পাট কিনে মিল চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে প্রতি মণ ৩২০০ টাকা দরে পাট কিনে এক বস্তা ৮০ টাকা বিক্রি করতাম, এখন পাটের দাম দাঁড়িয়েছে ৫২০০ টাকা। বস্তা তৈরির খরচ ১২০ টাকার বেশি, অথচ বিক্রির মূল্য ততটা নয়। ফলে মিল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন।

    মালিকরা অভিযোগ করেছেন, কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাট মজুত রাখছে, যার কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, নতুন সরকারের কাছে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। কিছু অসাধু মহল অবৈধভাবে পাট মজুত করছে, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যাংক ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে, যা এই খাতে বড় সমস্যার সৃষ্টি করছে।

    পাট অধিদফতর জানিয়েছে, তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার জানান, একজন আড়তদার এক মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারেন। কেউ যদি এই নিয়ম অমান্য করে বেশি মজুত রাখে, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।মূলত, বাজারে দাম সমন্বয় রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে। এই পাটকলগুলো মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদন করে, যার বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী চলাচল ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা

    বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী চলাচল ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা

    বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে সকল প্রকার পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল বন্ধ থাকবে। এর পাশাপাশি পুরো তিন দিন ব্যাপী স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বন্ধ থাকছে। এই সিদ্ধান্ত সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

    জানা গেছে, এবার প্রথমবারের মতো সরকারের নির্দেশনায় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যেন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে পরিবেশিত হয়। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, কঠোর নিরাপত্তার দাবিতে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সব ধরনের বহির্গত ও প্রেরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এই প্রথমবারের মতো নির্বাচন দিন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

    বেনাপোল চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা ও ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার প্রথম দিন পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল বন্ধ থাকলেও, শুক্রবার সকাল ৬টার পর থেকে আবারও দু’দেশের মধ্যে স্বাভাবিক ট্রাফিক পুনরায় শুরু হবে। অতিরিক্তভাবে, জরুরি ও মারাত্মক অসুস্থ যাত্রীদের জন্য আগের মতো ইমিগ্রেশন খোলা থাকত; এবার সেটাও স্থগিত থাকবে।

    ইমিগ্রেশন ও বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিশ্চিত করেছন, এই সময়ের জন্য সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একইভাবে, বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম তিন দিন বন্ধ থাকবে। দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শনিবার আবার সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চালু হবে।

    বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, নির্বাচনের কারণে এই সময়ে নিয়োজিত ট্রাকচালক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগে নিজ নিজ এলাকায় যাবেন। ফলে কার্যক্রম তিন দিন বন্ধ থাকবে, তবে শনিবার থেকে আবারও বন্দরের সব কার্যক্রম শুরু হবে।

    অন্যদিকে, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কল্যাণে এ সময়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। শনিবার সকাল থেকে ফের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে জাল নোটের কনটেন্ট: জেল-জরিমানা হতে পারে শর্তসাপেক্ষে

    ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে জাল নোটের কনটেন্ট: জেল-জরিমানা হতে পারে শর্তসাপেক্ষে

    বাংলাদেশ ব্যাংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাকার নোটের অনুরূপ কনটেন্ট ও প্রচারণা চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আসল নোটের মতো কাগজ তৈরি করে সেটি প্রচার বা ভিডিও ও ছবিতে দেখানোর কাজ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু ভিডিও ও ছবি ছড়িয়েছে, যেখানে আসল নোটের ডিজাইন এবং আকারের অনুরূপ—কখনো আরও বড়—নমুনা নোট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবমূল্যায়ন, জাল নোটের প্রচলন বৃদ্ধি ও অর্থনীতি বিনষ্টের আশঙ্কাও প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বাজারে বা উম্মুক্ত স্থানে আসল টাকার অনুরূপ কাগজ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক প্রচারণা চালানো কিছু ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরনের কার্যকলাপ জালনোটের প্রচার বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে এবং দেশের মুদ্রা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করতে পারে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৮৯(৬) অনুযায়ী, যদি কেউ বা কেউ এমন নথি, কাগজ বা বস্তু তৈরি, ব্যবহার বা বিতরণ করে, যা প্রচলিত ব্যাংকনোটের সদৃশ এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম, তাহলে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তাছাড়া, ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়ানোর জন্য সাইবার নিরাপত্তা আইনের ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তির ব্যাবস্থা থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    সবশেষে, ব্যাংক জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে, জাল নোটের প্রচলন প্রতিরোধে আরও সতর্ক থাকতে এবং অননুমোদিত কিংবা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বাস করে, এই সতর্কতা ও সচেতনতা দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রা ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অর্থনীতিকে চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনই অফিসে এসে তিনি এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের ব্যাংক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থার অবস্থা খুবই খারাপ। তাই প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব আনতে এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এছাড়া দক্ষতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি, কারণ এগুলো বিহীন কার্যক্রম কোনো লাভ আনবে না।

    তিনি আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চালিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশি অর্থনীতি সকল মানুষের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত ও প্রবেশযোগ্য করতে হবে। অর্থনীতিতে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে এবং এর সুফল যেন প্রত্যেক নাগরিকে পৌঁছে যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমাতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ওভার-রেগুলেটেড অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সুপারিশ করা হয়েছিল রেগুলেশনের পরিমাণ কমানোর। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে হবে এবং শক্তিশালী ডিরেগুলেটেড অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।

    আসন্ন অর্থনীতির জন্য লিবারলাইজেশন তথা মুক্ত বাজার ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে যাতে সব মানুষ সমান অধিকার পায়। তিনি দৃঢ় করেছেন, সবাই যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং এর সুফল প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে যায়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নিজের অবদান রাখতে আগ্রহী এবং এ ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উল্লেখ্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি আগেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

  • ভ্যাট রিটার্নের সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধি, শেষ হলো ২২ ফেব্রুয়ারি

    ভ্যাট রিটার্নের সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধি, শেষ হলো ২২ ফেব্রুয়ারি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তার অনলাইон ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় রোববার রাতে এনবিআর এর দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মোঃ বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে। এর ফলে, প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের বিক্রয় সম্পর্কিত তথ্য জানিয়ে রিটার্ন জমা প্রক্রিয়া আবারো সম্পন্ন করা যাবে।

    নোটিশে জানানো হয়, পবিত্র শবে বরাত এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে দীর্ঘ ছুটি থাকায় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি আবারও ওটিপি সার্ভার বন্ধ থাকায়, দেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেয়। আইন অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা ও অর্থদণ্ডের সুযোগ রয়েছে। তবে, সার্ভার জটিলতার কারণে করদাতাদের অযথা জরিমানা থেকে রেহাই দিতে এই সময়সীমা আরও একটি সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

    এনবিআর সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার, যার মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই রিটার্ন দেয় না। ফলে, সময়ের এই প্রান্তিক বাড়ানোর মাধ্যমে করদাতাদের সুবিধা ও সময়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হয়েছে।

  • নতুন সরকারের পরিকল্পনা এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ

    নতুন সরকারের পরিকল্পনা এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নতির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পেছানোর পরিকল্পনা করছি। তিনি বলেছেন, এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম অফিসের দিন তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

    মন্ত্রীর বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময়সীমা আরও কিছুটা ডিফার করা। এজন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সমন্বয় করে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখছে। যদিও এ জন্য কোনও দফতর থেকে চিঠি পাঠানোর বাধ্যবাধকতা নেই, তবে আমরা এখন থেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি।

    চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রপ্তানির পতনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আউটপুট এখনো সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এক বা একাধিক নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশে জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেয়াও সরকারের অঙ্গীকার।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, যা একটি দরিদ্র দেশ, খুব সীমিত সুযোগের মধ্যে টিকে আছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই কম, ভুল করার সুযোগ নেই। এর ফলে গত কয়েক মাসে দেখা গেছে মন্থর গতি, যা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতির ব্যাপারে তিনি জানান, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ ও পাইপলাইন রয়েছে, ফলে মার্কেটের উদ্বেগের কিছু নেই।

    এমনকি যখন প্রশ্ন ওঠে, রমজানে বাজারে সিন্ডিকেটের অসঙ্গতি, তখন তিনি জানান, তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। তিনি বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    পণ্যমূল্যের অস্থিরতা নিয়ে তিনি বলেন, কিছু পণ্যের দাম এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে একটু বেড়ে যায়, যা সাধারণত পুরো মাস জুড়ে থাকে না। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে অল্প সময়ের জন্য থাকেযার পর মূল্য আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসেনা। একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বিনিয়োগের প্রথম ও জরুরি শর্ত। যখন বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত হন যে, তাদের পুঁজির নিরাপত্তা ও শ্রমের বিনিময়ে তারা প্রত্যাশিত রিটার্ন পাবেন, তখনই তারা বিনিয়োগ করবেন।

    সর্বত্র উল্লেখ করেন, দেশে বড় সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে, প্রতিদিনই কয়েক লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগ দিচ্ছেন। গত দু’টাকা তিন বছর ধরে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপে পরিণত হয়েছে। আর যদি দ্রুত এই পরিস্থিতি পরিবর্তন না হয়, তাহলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি থাকছে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে রমজান মাহের শুরু হওয়া এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। বলছেন, রমজানের জন্য প্রস্তুতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারের কাছে একটি বড় পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে এবং এর জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে দেশের অগ্রগতি সহজ হবে। এজন্য তিনি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানান, ভুল বোঝাবুঝি হলে তা ক্ষমা চেয়ে সংশোধন করতে বলেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।