Category: অর্থনীতি

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর পরিকল্পনা নিবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর পরিকল্পনা নিবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে দেশের উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম দিন অফিস করার সময় সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময়সীমা ডিফার করার জন্য পরিকল্পনা করছে এবং এ লক্ষ্যে যে সব পদক্ষেপ দরকার, তা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, এই প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সবার সাথে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পেছানো নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথম সপ্তাহেই এ বিষয়ে চিঠি পাঠানোর বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, আজ থেকেই এই বিষয়ে সরকার কাজ শুরু করেছেন।

    রপ্তানির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনও খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এক বা দুটো পণ্যের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা ও নতুন বাজারের সন্ধান অপটিমাইজ করতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে, বাংলাদেশ দরিদ্র দেশের মর্যাদা নিয়ে সীমিত সুযোগ নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই কম, কোন ভুলের জায়গা নেই। তাই, দীর্ঘ সময় ধরে দেখা মন্দিল গতি থেকে দ্রুত বের হওয়ার জন্য সরকার কাটছাঁট করছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। রমজান ও তার পরবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, যা বিক্রির জন্য প্রস্তুত। ফলে, এই পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

    সিন্ডিকেটের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন এলে তিনি জানান, তিনি শুধু সাউন্ড বাইট এড়িয়ে যেতে চান, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। বলেন, “আমি ভাষণে বলব না, কাজ করে দেখাব ইনশাআল্লাহ।”

    রমজানে কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মূলত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে পুরো না করতে পারলে হঠাৎ ভোগের হার বাড়ে, তবে এটি খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না বলে বলছেন।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসেনা। স্থিতিশীল পরিবেশই বিনিয়োগের প্রধান শর্ত। বিনিয়োগকারীরা তখনই পুঁজি ও শ্রমের বিনিয়োগ করবেন, যখন তারা নিশ্চয়তা পান যে, তাদের বিনিয়োগের ভাল প্রতিদান হবে।

    তিনি আরও জানান, দেশে বড় সংখ্যক যুবশক্তি রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত কয়েক বছর বিনিয়োগে স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন না হলে, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে রমজান শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বরেণ্য। তিনি বলেন, রমজানের মোকাবিলা এই সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে এবং এর বিকল্প নেই।

    তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এ জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে তিনি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। ভুল হলে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে সবাই একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতামুক্ত অর্থনীতি গড়ার আহ্বান

    নতুন অর্থমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতামুক্ত অর্থনীতি গড়ার আহ্বান

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে চালানো অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সচেষ্ট হবেন বলে জানান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অফিসের প্রথম দিন সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই দুর্বল অবস্থায় আছে। তাই প্রথমে আমাদের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালী করা যায়, তা নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এসব উপাদান অনুপস্থিত থাকলে কোনও বড় পরিকল্পনা বা উদ্যোগও সুফল বয়ে আনবে না।

    অর্থনীতিতে পৃষ্ঠপোষকতা তথা ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নতুন অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন সবাইকে সমান সুযোগ দেয়, সবার জন্য সুফল উপনীত হয়, এমন একটি সমবায় পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। দেশের প্রতিটি মানুষ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং এর সুফল সবাই পাবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।

    সীমিত সরকারি নিয়ন্ত্রণ রাখতে তিনি বলেন, অর্থনীতির ওপরে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো জরুরি। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। পৃষ্ঠপোষকতা ভিত্তিক রাজনীতির চাপে ওভাররেগুলেটেড অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে।

    অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার বিষয়ে তিনি জানান, সেই পথে হাঁটতে হবে। লিবারেলাইজেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে, সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। করেন, যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ সহজ হয় এবং এর সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়।

    অর্থমন্ত্রী আরও জানান, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা সাধারণত দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতি ও পবিত্র রমজান মাসের জন্য অর্থ পাঠানোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, ফলে দেশে বৈধ উপায়ে অর্থ প্রবাহ বেড়েছে। এই ধারাবাহিক উন্নতির ফলস্বরূপ, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রবাসীদের এই অর্থনৈতিক সেহেতু ধারা চলমান থাকলে মাস শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজান উপলক্ষে পরিবারের খরচ যোগানোর জন্য প্রবাসীরা আরও বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে শীঘ্রই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ्यानুসারে, জানুয়ারি মাসে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার অর্থ পাঠিয়েছেন, যা বাংলায় হিসেব করলে ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার সমান। দেশের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ৩২২ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। সর্বোচ্চ রেকর্ড গত মার্চ মাসে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে, যেখানে প্রবাসীরা ৩২৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন।

    ২০২৫ সালের বাংলাদেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি, আগস্টে ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি, নভেম্বরেই ২৮৮ কোটি, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি, এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলারের মতো রেমিট্যান্স এসেছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই মাসগুলোতে দেশের প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। এর আগে, গত অর্থবছরে এই সময়ে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার বলে ধরা হয়।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাবও কমেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার বেশ কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ উপায়ে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

  • সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে তারা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে আরও সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার এক ভরি দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা আগে ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকার চেয়ে বেশি। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাবের কারণে এটি কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির মতে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দেশের বাজারেও এই দরভিত্তিক বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি মূল্য এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    আরো রয়েছে রুপার মূল্যেও সাম্প্রতিক বাড়তি দামে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    অন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আগের তুলনায় ক্রমশ বৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে, আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যেখানে গতকাল ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। ৩০ জানুয়ারি এর আগে এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে সোনার দামের এই অপ্রত্যাশিত উর্ধ্বমুখিতার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। গত মাসের শেষের দিকে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হঠাৎ করে অনেক বেশি বাড়ার কারণে, বাংলাদেশে বাজুস এক দিনের মধ্যে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছিল। তার ফলে, দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনো এই রকম দর বাড়ানো হয়নি বা এত বেশি দাম বৃদ্ধি দেখা যায়নি।

  • খুলনায় কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনায় কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলজুড়ে ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের পাটশিল্পের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে দেখা যায় কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। বাজারে দাম হাঁকার জন্য পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, যার কারণে অনেক মিলেই পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারানোর ভয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন, আবার মিলগুলোও আর্থিক চাপের মুখে বন্ধ হওয়ার পথে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলটি প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিকরা এখানে এসে কাজ না করেই সময় কাটাচ্ছেন, নীরব এই সংকটের মাঝে। এরকমই পরিস্থিতি দেশের অন্যান্য মিলেও দেখা যাচ্ছে। কিছু মিল সীমিত আকারে চালু থাকলেও অধিকাংশই বন্ধ বা স্থগিত। শ্রমিকেরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে তারা স্থায়ীভাবে কাজ থেকে বাদ পড়বেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন,

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নীত হওয়ার সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার একটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতিমধ্যে সরকার এ জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম দিনের অফিস কার্যক্রম শুরু করার সময় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে যা যা করণীয়, দ্রুত ও প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর অব্যাহতভাবে সমন্বয় করে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ও মনোভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। প্রথম সপ্তাহে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, এখন থেকেই বিষয়টির ওপর কাজ শুরু করা হয়েছে।

    রপ্তানি ক্ষুদ্রতার বিষয়টি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি একক একটি পণ্য বা পণ্য শ্রেণির ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারের সন্ধানে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য সরকারের সহায়তা বাড়ানোও তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন।

    বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের জন্য পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জের, কারণ আমাদের সীমিত সুযোগ। দেশের মার্জিন অব এরোর খুব কম থাকায় ভুলের সুযোগ নেই। গত কয়েক মাসে দেখা গেছে মন্থর অর্থনৈতিক গতি; তাই সরকার এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণে কাজ শুরু করেছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজান ও তার পরের সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যথাযথ মজুদ রয়েছে এবং পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পণ্যও আছে। ফলে বাজারে আতঙ্কের কিছু নেই বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

    বাজারে সিন্ডিকেটের বিষয় যখন আসরে আসে, তখন তিনি জানান, তিনি শুধু কথায় নয়, কাজে ফল দেখাতে চান। বলেন, আমি অতিরিক্ত কথা সৃষ্টি করতে চাই না, ইনশাআল্লাহ কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করব।

    রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে না, ফলে চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশিদিন থাকে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগ কমে আসে। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আশা করা যায় না। ব্যাকরণে বিনিয়োগকারীরা তখনই বিনিয়োগ করে, যখন তারা নিশ্চিত হন যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিনিময়ে যথাযথ রিটার্ন পাওয়া যাবে।

    তিনি বলেন, দেশের বড় একটি তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে, যেহেতু প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দুই-তিন বছর ধরে বিনিয়োগের স্থবিরতা এই দিক থেকে দেশের জন্য বড় শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত না থামলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে রমজান মাসের শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, রমজানকে সফল ভাবে সামাল দেওয়া এখন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকারকে সফল হতে হবে, এবং এ ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।

    অবশেষে, তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানান যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব। ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, সবাই মিলে সহযোগিতা করলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সকলের আন্তরিকতা ও একমাত্র প্রচেষ্টায় দেশের উন্নয়ন আসবে নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতেই দেয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতেই দেয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিক মূলধারাকে ফিরিয়ে আনাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিসের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা খুবই সমস্যাাপন্ন। তাই প্রথমে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কিভাবে করা যায়, সেটা নির্ধারণ করা। এরপর পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা চালু ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। যদি এসব উপাদান না থাকে, তাহলে আমাদের বড় বড় পরিকল্পনাও ফলপ্রসূ হবে না।

    তিনি আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেয়া যাবে না। বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য একটি সমান ভিত্তিতে অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। সব স্টেকহোল্ডার যেন সুযোগ পায় অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার, সেই সঙ্গে এই অর্থনৈতিক সুফল যেন প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে যায়।

    অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই লক্ষ্যে সফল হতে হলে সরকারী নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণশীল হয়ে গেছে, যা বাস্তবতায় সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন, অভার রেগুলেটেড পরিবেশ থেকে বের হয়ে আসা জরুরি। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, সকল নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে লিবারলাইজেশন বা মুক্তবাজারনীতিকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে সবই সমানভাবে সমতা বজায় থাকে।

    তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানো হবে এবং পাশাপাশি সবাইকে সমান অধিকার দিয়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে অর্থনৈতিক সম্পদ ও সুফল প্রত্যেকের কাছে পৌঁছবে।

    আলোচনায় তিনি জানান, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুটি বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুটি বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের কারণে অধিক অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ reaching 2 বিলিয়ন ডলার বা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। যদি এই ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় থাকে, তাহলে মাসের শেষের দিকে এর পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে অর্থনীতিবিদরা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানের সময় পরিবারের খরচ বাড়ানোর জন্য প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর এই ধারাটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম মাস হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। এর আগে, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল গত মার্চে, যখন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩২৯ কোটি ডলার প্রেরণ করা হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট রেমিট্যান্সের প্রবাহের দিক থেকে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, Augustে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    ১৮ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত, এই অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২% বেশি। তৎসহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসীদের আয়ে গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমে যাওয়ায় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

  • খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে, এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। বাজারে কাঁচা পাটের মূল্য এত বেশি বাড়ায়, উৎপাদন খরচ অনেকখানি বেড়ে গেছে, যার ফলে বেশ কিছু পাটমিল তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, অধিকাংশ কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক ক্ষতিও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে বন্ধ হওয়ার মুখে ঠেলে দিতে পারে তাদের।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলে প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা কাজে না গিয়ে কেবল সময় কাটাচ্ছেন। দেশের অন্যত্রও অন্তত একটি ডজনের বেশি মিলের বেশির ভাগই এখন কার্যকলাপে স্থবির। কিছু মিল কিছুটা চালু থাকলেও আকারে কম। শ্রমিকদের আশা, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘প্রায় দেড় মাস ধরে মিল বন্ধ, কাজ নেই। কাঁচা পাটের অভাবে মালিক মিল চালাতে পারছেন না। যদি এই অবস্থা থাকে, তবে হয়তো আমাদের কাজ থেকে ছাঁটাই করে দিতে পারেন। তো, আমরা কীভাবে আমাদের পরিবার চালাবো?’’ অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা কাজ করলে মালিক ২ টাকা আয় করেন, আর আমাদের দিতে হন ১ টাকা। শেষ তিন বছরে এই মিল ভালো চলছিল, কিন্তু এখন দেড় মাস ধরে আমরা বসে আছি। মালিক নিজে না বাঁচলে আমাদের বাঁচাবে কী করে?’’ তারা দাবি করেন, এই সংকটের জন্য সরকারই কঠিন পদক্ষেপ নেবেন।

    মিল মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা মণ, এখন তা গিয়ে পৌঁছেছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি বাড়লেও বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়নি সে অনুযায়ী। এর জন্য উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে উদ্যোক্তারা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলি­ক বলছেন, ‘‘বর্ধিত দামে পাট কেনার কারণে এখন উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আগে ৩২০০ টাকা দরে পাট কিনে এক বস্তা কিনলে আমরা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়। তবে সর্বশেষ ৪০০০ টাকা দরেও পাট কিনে মিল চালিয়েছি। শ্রমিকদের জন্য লোকসান সত্ত্বেও মিল চালু রেখেছিলাম। কিন্তু এখন ৫২০০ টাকা দরে পাট কিনছি, আর এক বস্তার খরচ এখন ૧২০ টাকার বেশি, কিন্তু বিক্রির মূল্য তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে না। ফলে দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।’

    তাঁর দাবি, এই বছর কাঁচা পাটের উৎপাদন গত বছরের মতোই হয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম artificially বাড়িয়ে রেখেছেন। সরকার যদি নথিপত্র না দেখে, বাজার তদারকি না করেন, তবে মিল চালানো সম্ভব হবে না।

    কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে কাঁচা পাটের উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৩৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টর জবে ৯৪ হাজার ৬৬৬ মে:টন পাট উৎপাদিত হয়, আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ২৬৮ হেক্টরে ৯১ হাজার ১৩৫ মে:টন।

    মিল মালিকদের অভিযোগ, কয়েকটি ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট করে পাট মজুত করে রাখছে, যার ফলে বাজারে দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ জুট মিল এসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলছেন, ‘‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি জোরদার করা। অপরাধমূলকভাবে কিছু ব্যবসায়ী কাঁচা পাট মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে, যা বা মূলত দাম বাড়ার পিছনে দায়ী।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যাংকের ঋণ সমস্যা ও বাজারে বিভিন্ন সংকটের কারণে এই খাতের সমস্যা জটিল হয়ে পড়ছে। সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।’’

    এদিকে, পাট অধিদফতর নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, ‘‘আড়তদার বা ডিলাররা সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবেন, যা আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি। বেশি মজুত পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হতে পারে।’’

    খুলনা অঞ্চলে ইজারা ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে ২০টি পাটকল আছে। এসব মিলের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশই দেশের বাইরে রফতানি করা হয়। তবে যদি এই সংকট চলমান থাকে, তবে উত্পাদন ও রফতানি দুটোই বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

  • বাংলাদেশে ভরি সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশে ভরি সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে প্রতি ভরি সোনার সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সোনার মান সম্পন্ন ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে গতকাল একই সময়ে এর মূল্য ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম বাড়ানোর তথ্য প্রকাশ করে। নতুন দাম সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়।

    সংগঠনটি নিশ্চিত করেছে যে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামের পরিমাণ অনুসারে, সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়াও, অন্যান্য ক্যারেটের দামের মধ্যে রয়েছে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    অতিরিক্ত, সোনার পাশাপাশি রুপার দামো বাড়ানো হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামও বাড়ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৫ হাজার ১০৬ ডলারে, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

    এর আগে, ৩০ জানুয়ারি বিশ্বের বাজারে স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি এটি পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশের বাজারেও চরম মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একেবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করলে, এক মানের স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম। একই সময়ে সোনার দাম এতটা বৃদ্ধির নজির আর কখনো দেখায়নি।