Category: অর্থনীতি

  • বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী যাতায়াত ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা

    বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী যাতায়াত ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা

    আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রী ও বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ে কোন ধরনের যাত্রী প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবেন না। একই সঙ্গে, এই তিন দিন বেনাপোল বন্দরে সমস্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে, যাতে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বিশাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করে নির্বাচন সূচীতভাবে সম্পন্ন করতে চাইছে। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাকিস্তানি, ভারতীয় ও বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের এই সময়ে চলাচল বন্ধ থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি এএম শাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার পেট্রাপোল-বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে কোন যাত্রী চলাচল করতে পারবেন না। তবে, শুক্রবার সকাল ৬টার পর পুনরায় আইনানুগ নিয়মে যাত্রী চলাচল চালু হবে। এর আগে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জরুরি অসুস্থতা থাকলে সাধারণত ইমিগ্রেশন খোলা থাকত, তবে এবার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

    অপরদিকে, বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রভাবশালী নির্দেশনায় ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্দরের সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এরপর, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবারও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।

    সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান আরো বলছেন, নির্বাচনের জন্য সকল সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, ট্রাকচালক ও হ্যান্ডলিং কর্মীরা নিজের নিজস্ব এলাকার ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ফলে এই তিন দিন দখলকৃত পথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম থেমে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শনিবার থেকে আবারও আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে, যেন ব্যবসা-বাণিজ্য বিঘ্নিত না হয়।

  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে জাল টাকার নোটের কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা

    ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে জাল টাকার নোটের কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা

    বাংলাদেশ ব্যাংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাল টাকার নোটের ডিজাইন ও কনটেন্টের বিরুদ্ধে এবার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, আসল নোটের মতো কাগজ তৈরি করে তা প্রচারণায় ব্যবহার করা বা ভিডিও ও ছবিতে দেখানো আইনসঙ্গতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

    সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে কিছু ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ছে যেখানে আসল নোটের ডিজাইন এবং আকারের অনুরূপ—কখনও আরও বড় আকারের—নমুনা নোট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

    আরও বলা হয়, বাজার বা উন্মুক্ত স্থানে আসল টাকার অনুরূপ কাগজ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড জাল নোটের প্রচলন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে এবং পুরো মুদ্রার ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করে দিতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করে, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৮৯(৬) অনুযায়ী, কেউ যদি এ ধরনের নথি, কাগজ বা বস্তু তৈরি, ব্যবহার বা বিতরণ করে যা প্রচলিত ব্যাংক নোটের সদৃশ এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তারা আরও সতর্ক করে বলেছে, ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা গুজবমূলক তথ্য প্রচার করলে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের মুখোমুখি হতে পারে।

    শেষে, বাংলাদেশ ব্যাংক জনসাধারণকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অননুমোদিত ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে এবং জাল নোটের প্রচলন রোধে সচেতন থাকার জন্য।

  • ভ্যাট রিটার্নের সময়সীমা ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি

    ভ্যাট রিটার্নের সময়সীমা ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় সীমা বাড়িয়েছে। এখন থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে জমা দিতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত নেন রোববার রাতে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মোঃ বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত একটি আদেশের মাধ্যমে। পূর্বে, প্রতিষ্ঠানগুলো মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের বিক্রয় তথ্য দিয়ে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করত। তবে, পবিত্র শবে বরাত এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ সময়ের সরকারি ছুটি এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে চলমান টেকনিক্যাল সমস্যা যেমন সিস্টেমের ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। এনবিআরের জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন না দিলে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও জরিমানার আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে। তবে, সার্ভার সমস্যার কারণে করদাতাদের অযথা জরিমানা এড়ানোর জন্যই এই সময়ের বৃদ্ধি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার হলেও, অনেক প্রতিষ্ঠানই যথাসময়ে রিটার্ন দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে, সময়ের বৃদ্ধি উদ্যোগটি করদাতাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • নতুন অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা: পৃষ্ঠপোষকতামূলক অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা: পৃষ্ঠপোষকতামূলক অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে চলা অর্থনীতি কখনই এগিয়ে যেতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, আমাদের অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আনতে হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিসের দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

    অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এ জন্য আগে জরুরি হলো দেশ থেকে এই প্রতিষ্ঠানের অবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া। পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও দক্ষতা বৃদ্ধি করাই এই সমস্যার সমাধানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ করেন, এগুলো না থাকলে বড় বড় পরিকল্পনাগুলির ফলাফল কাঙ্ক্ষিত হবে না।

    নতুন অর্থমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা সবাইকে দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত হতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করে সুফল পেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দরকার সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো বা ডিরেগুলেটেড পদ্ধতি চালু করা। বর্তমানে বাংলাদেশে অত্যধিক নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ভুল নিরসনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিতে হবে এবং অর্থনীতি liberalize করতে হবে।

    অর্থনীতির লিবারলাইজেশন ও সমতুল্য সুযোগ তৈরির প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি। সবাই যেন সমান অধিকার পায়, অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোর ভাগও যেন সবার মাঝে সমানভাবে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে তিনি অঙ্গীকার করেন।

    অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি বললেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রথম দিনের অফিসের শুরুতেই সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার চাইছে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে ডেফার করা, এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

    বাণিজ্য বিষয়ক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি স্মরণ করে তিনি জানান, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথম সপ্তাহে এই বিষয়ে একটি চিঠি দিতেও হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, আজ থেকেই এই উদ্যোগের কাজ শুরু করেছে সরকার।

    রপ্তানি ক্ষুদ্রতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো সংকুচিত। দেশের মোট রপ্তানি এর প্রায় ৮৫ শতাংশ নির্ভর করে একক একটি পণ্যের ওপর। এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং নতুন পণ্য যুক্ত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বেসরকারি খাতকেও কার্যকর সহযোগিতা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের টি্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে খুব সীমিত সুযোগের মধ্যেই টিকে রয়েছে। তাঁর মূল্যায়নে, দেশের মার্জিন অব এরোর অনেক কম, ভুলের সুযোগ থাকলে তা খুবই সীমিত। ফলে, গত কয়েক মাসে দেখা মন্থর গতি থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য সরকার কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজান মাস ও এর পরের সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য আছে। ফলে, বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    বিশেষ করে রমজান এলেই বাজারে সিন্ডিকেটের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তৃতা করতে চান না, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। তার ভাষায়, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    রমজানের শুরুতেบาง পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, মূলত এটি একচোট আপনিড়ির চাহিদার কারণে হয়। মানুষ সাধারণত পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে কেনাকাটা করে, ফলে ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে, এই দাম বৃদ্ধির স্থায়ী নয় বলে তিনি জানান।

    বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসেনা। একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীরা তখনই পদক্ষেপ নেন যখন তারা নিশ্চিত থাকেন তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিনিময়ে ভাল ফল পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, দেশের বড় একটি শ্রমশক্তি রয়েছে, প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি থাকায় দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। যদি এই পরিস্থিতি দ্রুত না কাটিয়ে ওঠা যায়, তবে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রমজান মাসের শুরুকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের জন্য এখন অন্যতম কাজ হচ্ছে রমজান সফলভাবে সামলানো। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এটা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এজন্য তিনি গণমাধ্যমসহ সকল সংশ্লিষ্টের সহযোগিতা চেয়েছেন। ভুল হলে তা সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করারও অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

  • বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী যাতায়াত ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা

    বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী যাতায়াত ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা

    বাংলাদেশে ত্রোদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি, এই সময় দুই দেশের বন্দর দিয়ে সকল ধরনের আন্ডারনিং, আমদানি ও রপ্তানির কার্যক্রমও তিন দিন বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্ত সরকারের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল এই তিন দিনে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। বেনাপোল চেকপোস্টের পুলিশ ও ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত একটি আদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রীরা চলাচল করতে পারবেন না, তবে শুক্রবার ভোর ৬টার পর থেকে পুনরায় সাধারণ যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক হতে থাকবে।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন জরুরি ও অসুস্থ যাত্রী ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে এই সময়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন দিন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

    বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন জানিয়েছেন, এই নির্দেশনা একটি চিঠির মাধ্যমে তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং নির্দেশ অনুসারে বৃহস্পতিবার থেকে এই সময়ে দু’দেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে, শনিবার সকাল থেকে আবার নিরাপদে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মারাত্মক অসুস্থ ও জরুরি পরিস্থিতিতে চলাচলে শর্ত থাকলেও, এই সময়ে যাত্রীরা বেরোতে পারবেন না।

    এছাড়া, স্বজন বা জরুরি কাজে আসা যাত্রীদের জন্যও এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনের কারণে আগামী তিন দিন বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। এই সময়ে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকলেও, শনিবার থেকে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে।

    সাধারণত: নির্বাচন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তবে নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে এই সব কার্যক্রম আবার পূর্ণরূপে চালু হবে বলে জানা গেছে।

  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে জাল নোটের কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা ও শাস্তির হুঁশিয়ারি

    ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে জাল নোটের কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা ও শাস্তির হুঁশিয়ারি

    বাংলাদেশ ব্যাংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাল নোটের মতো কনটেন্ট ও প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আসল নোটের মতো কাগজ তৈরি করে তা প্রচারণায় ব্যবহার করা বা ভিডিও ও ছবিতে দেখানো আইনত দণ্ডনীয় עב conduct।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে—যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউব—অল্প কিছু ভিডিও ও ছবিতে আসল নোটের ডিজাইন আর আকৃতির অনুরূপ বা বরং বড় আকারের নমুনা নোট দেখা যাচ্ছে। এগুলো দিয়ে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়াও বাজার বা উন্মুক্ত স্থানে আসল টাকার মতো কাগজ তৈরি করে ব্যবসায়িক প্রচারণার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। এসব কার্যক্রম জাল নোটের প্রচলন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে এবং সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

    এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৮৯(৬) অনুযায়ী, কেউ যদি এমন নথি, কাগজ বা বস্তু তৈরি, ব্যবহার বা বিতরণ করে, যা প্রচলিত ব্যাংক নোটের সদৃশ এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কাজে লিপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অতিরিক্তভাবে, ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর জন্য সাইবার নিরাপত্তা আইনের ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    সবশেষে, বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, জাল নোটের প্রচলন প্রতিরোধে সতর্ক থাকুন এবং অননুমোদিত বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রচার বা প্রচারণা থেকে বিরত থাকুন।

  • ভ্যাট রিটার্নের সময় বাড়লো ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    ভ্যাট রিটার্নের সময় বাড়লো ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় আরও বাড়ানো হলো। এখন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে তাদের ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এই নতুন সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মোঃ বদরুজ্জামান মুন্সী, যিনি গতকাল রোববার রাতে এ সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। আগে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতেন। তবে পবিত্র শবে বরাত এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে দীর্ঘ সময় সরকারি ছুটি থাকায় ও ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ-চালান সিস্টেমে ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নির্দেশে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে আইন অনুযায়ী বিলম্ব ফি ও জরিমানার শাস্তি Mandatory। তবে সার্ভার জটিলতার কারণে অনেক করদাতা অযথা জরিমানার মুখে পড়বেন না, এজন্যই এই সময় সম্প্রসারণ। বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৪ হাজার, যার মধ্যে বেশির ভাগই এখনও রিটার্ন দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে এনবিআর বলেছে, সময় থেকে রিটার্ন দেওয়ার জন্য সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি, যাতে কোনো করদাতা অযথা আর্থিক প্রভাব বা জরিমানা থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।

  • নতুন অর্থমন্ত্রীর সাফবানী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেয়া হবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রীর সাফবানী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেয়া হবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে গঠিত অর্থনীতি চলতে দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতিতে সত্যিকারের গণতন্ত্র আনতে হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে প্রথম দিন অফিস শুরু করার সময় সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও খুবই দুর্বল অবস্থায়, তাই প্রথমে তাদের পুনরুদ্ধার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এর জন্য পেশাদারিত্বের প্রাধান্য দেয়া দরকার, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। যদি এই উপাদানগুলো না থাকে, তবে আমাদের বড় কোনও প্রকল্প বা পরিকল্পনাও কাঙ্ক্ষিত ফল আনবে না।

    নতুন অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি নয়, সচেতন ও সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনীতি চালু রাখতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সব মানুষের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে গড়ে তোলা উচিত। সব মানুষ যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রত্যেকে পাবে, নিশ্চিত করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, এটি বাস্তবায়নে আমাদের ডিরেগুলেটেড (সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো) করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে অফিসিয়াল পর্যায়ে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যা পৃষ্ঠপোষকতা রাজনীতির কারণে ওভার রেগুলেটেড হয়ে গেছে। চলতি বাক্যতান অনুযায়ী এটি নিয়ন্ত্রণ কমানো জরুরি।

    অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে লিবারলাইজেশন (উদ্বৃতি) করবে সরকার, জানান তিনি। যাতে সবাই সমান অধিকার পায় এবং অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। অর্থনীতির সুফল যেন প্রত্যেকে পায়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করতে হলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এবং এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস করতে এসে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের ডেফার করতে চায় এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা এ দাবি জানিয়ে আসছেন, সরকারের পক্ষ থেকেও এ উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রথম সপ্তাহে চিঠি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, আজ থেকেই এই বিষয়ক কাজ শুরু করেছে সরকার।

    রপ্তানির অপ্রত্যাশিত নিম্নগতি প্রসঙ্গে পাত্রবাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও সংকটে রয়েছে। দেশের রপ্তানি বেশিরভাগই একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, যার কারণে বৈচিত্র্য আনা জরুরি। নতুন পণ্য ও বাজারের প্রসার করতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদেরও সরকারি সহায়তাও দেবে সরকার।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত বা সীমিত সুযোগে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের মার্জিন খুবই কম, ভুলের সুযোগ নেই, তাই দ্রুততর গতি ফিরে আনার জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। বলেন, মূলত পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ রয়েছে, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত স্টকও আছে। এজন্য বাজারকে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি।

    রামজান মাসে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে, তিনি বলেন, শুধু বক্তব্য দেওয়াই তাঁর কাজ নয়, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। বলেছেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    পণ্যের দাম অকাল বাড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেবল এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়। সাধারণত পুরো মাসে মানুষ একসঙ্গে বাজার করে, ফলে দামের অস্থায়ী বৃদ্ধি হয়, যা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগ আসতে চায় না। স্থিতিশীল পরিবেশই প্রধান শর্ত। দেশের বিশাল জনসংখ্যার শ্রমবাজারে প্রতিবছর ২০-২২ লাখ মানুষ প্রবেশ করে, কিন্তু গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ অনেকটা স্থবির থাকায় বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত কাটানো না গেলে, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজানের শুরুতে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রমজানকে সফলভাবে সামলানো দেশের জন্য বড় পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের কাজ সফল হওয়া জরুরি, এর জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি এই কাজটি ব্যক্তিগত বিষয়ের মতো নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয় উল্লেখ করে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুরোধ করেন, এবং সবাই মিলে একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস প্রকাশ করেন।