Category: অর্থনীতি

  • জ্বালানি সংকটের ভয়ে স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের ভয়ে স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দিতে ঝুঁকছে না—এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিসিআই সভাপতি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই অনেক ক্রেতা অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশের জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টের জন্য যেসব ক্রয়াদেশ শিডিউল করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকটাই ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, বড় কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা নেগেটিভ সিগনাল দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ইতোমধ্যে ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাদের ঢাকায় অবস্থিত অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দিতে পিছু হটছেন, যা তৈরি পোশাক খাত ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।

    অন্যদিকে বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লাভ-ক্ষতির পরোয়া না করে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বিশেষত ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হয়, ফলে তাদের জীবিকা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয় থেকে কর্তন (উৎস কর) কমানোর অনুরোধ জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বলে সংবাদে বলা হয়েছে।

    এ ছাড়াও আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অসীম ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং এটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার দাবি উত্থাপন করে। তারা করের বোঝা বাড়িয়ে ব্যবসাকে সংকীর্ণ করার বদলে একটি সহায়ক ও বন্ধুমুখী কর ব্যবস্থা গড়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    শিল্প-উদ্যোক্তারা বলছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ করা না হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। সময়োপযোগী উদ্যোগ না নিলে পোশাক খাতসহ রপ্তানি নির্ভর শিল্পগুলোর ওপর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া বাড়বে—এমন সতর্কতা তারা দিয়েছেন।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর ধরা হলে (প্রতি ডলার ≈ ১২২ টাকা) এর মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানিয়েছে।

    গত বছরের একই সময় রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তাই চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনের সময়ে গত বছরের তুলনায় বেশি এসেছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

    দেশে প্রবেশ করা রেমিট্যান্সের ধারার মধ্যে চলতি বছরের মার্চ মাস ছিল এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ — ওই মাসে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ এসেছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে (প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও নীতি নির্ধারকরা এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন—বিশেষত বৈদেশিক আয় নিশ্চিত ও রিজার্ভ বলবান রাখতে।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহ মার্চের সফল ধারা ধরে চলতি এপ্রিলেও ইতিবাচক রেকর্ড করে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪২ কোটি ডলার)। বর্তমান মধ্যরেঞ্জ বাজার দর ধরা হলে—প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে—এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৯,৫২৪ কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান।

    দেশে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে চলতি বছরের মার্চে—ওই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তার আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, যখন রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারি ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ, ওই মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি ডলার।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। এই অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

  • জ্বালানি অনিশ্চয়তায় ক্রয়াদেশ স্থগিত, তৈরি পোশাক খাতের উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি অনিশ্চয়তায় ক্রয়াদেশ স্থগিত, তৈরি পোশাক খাতের উদ্বেগ বাড়ছে

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন—এমন তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দিতে অনিচ্ছুক বা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

    বিসিআই সভাপতির মতে, এ অবস্থার প্রভাব তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে মারাত্মক হতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এসব কথাই তিনি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তুলে ধরেন।

    আলোচনায় তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুত্‌ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসের সম্ভাব্য অর্ডারগুলোর বেশিমাত্রাই ধীরগতিতে চলে বা স্থগিত হয়েছে। কিছু বড় ক্রেতা নেতিবাচক বার্তা পাঠাতে শুরু করেছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিদেশিদের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আসছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

    একই সঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব বলে মনে করছেন না। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে। অনেক প্রতিষ্ঠানে মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা তাদের টিকে থাকার সামর্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব জানান। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কর যাচাইয়ের নামে ব্যবসায়ীদের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা ব্যবসার পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলো প্রভাবিত হচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দাবি জানান—ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর আরোপিত উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার প্রয়োজন আছে। তারা সরকারের প্রতি করের বোঝা বাড়িয়ে নয়, বরং ব্যবসা-সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    শিল্প উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা দক্ষতা আরও দূর্বল হয়ে পড়বে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধান না আনলে তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো মারাত্মক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পোশাক অর্ডার স্থগিত, রপ্তানি খাতে উদ্বেগ

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পোশাক অর্ডার স্থগিত, রপ্তানি খাতে উদ্বেগ

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত রাখছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া সাপেক্ষে ক্রেতারা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন, যা তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান রপ্তানি উপার্জন খাতকে বড় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এই মন্তব্য তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার আয়োজন করা প্রাক-বাজেট আলোচনায় করেন।

    বিসিআই সভাপতি জানান, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে সরবরাহজনিত ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় বহু ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যেই ধীরগতিতে চলে যাচ্ছে। বড় কিছু ক্রেতা ইতোমধ্যেই নেতিবাচক সিগন্যাল দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, ঢাকায় থাকা বিদেশি ক্রেতাদের স্থানীয় অফিসরা পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করলেও তাদের শীর্ষvezetরা নতুন অর্ডার দেবার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আসছেন। এর প্রভাব রপ্তানি আয় তথা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর নেতিবাচক হতে পারে।

    একই সঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব নয় বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম করের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য ভারসাম্যহীন চাপ সৃষ্টি করেছে; বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা তাদের টিকে থাকা কঠিন করে তুলছে।

    তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয় থেকে উৎস কর কমানোর কথা বলেন। এ প্রস্তাব নিয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান্ড মোঃ আবদুর রহমান খান তা নাকচ করেছেন বলে আলোচনা হয়।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতি আরো বলেন, কর যাচাইয়ের নামে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অনবরত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর আরোপিত উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। ডিসিসিআই ব্যবসা-সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বানও জানিয়েছে।

    শিল্প উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। সময়োপযোগী সমাধান না হলে রপ্তানি আয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়ে যাচ্ছে।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনেও অব্যাহত আছে। ওই সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার—বর্তমান বাজারদর (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) অনুযায়ী যার পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

    গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স পৌঁছেছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে প্রায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে, যা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমমূল্য।

    রেকর্ড প্রসঙ্গ দেখালে, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে চলতি বছরের মার্চে—ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এরপর গত বছরের মার্চে ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চলতি বছরের জানুয়ারি ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্যের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে—বিশেষত গালফভিত্তিক দেশগুলো থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সে স্বল্পমেয়াদে ঝঞ্ঝাট দেখা দিতে পারে। তাই তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেছেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি বড় উৎস হওয়ায় এ প্রবাহের স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ, রপ্তানিতে উদ্বেগ

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ, রপ্তানিতে উদ্বেগ

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করায় তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

    বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি আরও এতটা খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এই শিথিলতা দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জে ফেলে দিতে পারে।

    আনোয়ার-উল আলম বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার সঙ্গে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে পৌঁছানো বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য ক্রয়াদেশ ইতিমধ্যেই ধীরগতির হয়ে গেছে। বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ঢাকার অফিসগুলো যতটা সম্ভব পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দিতে পিছছেন। এ অবস্থায় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও উৎপাদন-শিডিউলে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।

    বিসিআই সভাপতি বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব নয় বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মুনাফা নেই এমন সেক্টরেও কর দিতে হচ্ছে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানকে টিকে থাকা কঠিন করে দিচ্ছে।

    তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও রপ্তানি আয় থেকে কাটা উৎস কর কমানোর প্রস্তাব জানিয়েছেন। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করেছেন বলে সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অপরিসীম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এ রকম অনিশ্চয়তা ব্যবসার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কোম্পানির ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানোর এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার দাবি জানিয়েছে। ব্যবসা সংগঠনগুলো করের বোঝা বাড়ানোর বদলে ব্যবসা-সহায়ক ও সহজ কর কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

    শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো গতিশীলতা এবং প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও কর কাঠামো সরলীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা সতর্ক করেছেন, যদি এই দুইটি বিষয় দ্রুত সমাধান না করা যায়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগীতামূলক শক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলেছে এবারও। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা মোট প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার নয়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানানো তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এ পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    গত বছরের একই সময় রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার—যা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমমান।

    এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসে চলতি বছরের মার্চে; ওই মাসে দেশে পাঠানো হয়েছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছিল গত বছরের মার্চে, যখন রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স রেকর্ড করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ হিসেবে ছিল চলতি বছরের জানুয়ারি (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হয়, বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণে তারা দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন—ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

  • এপ্রিলের ২২ দিনে রেমিট্যান্স ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের ২২ দিনে রেমিট্যান্স ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলতি এপ্রিলেও অব্যাহত আছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার দেশ পাঠিয়েছেন। তথ্যটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বর্তমান বাজারদর হিসেবে প্রতি ডলারকে ১২২ টাকা ধরে নেওয়া হলে এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তার অর্থ, চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে—যার মূল্যমান প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, দেশের সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী অর্জন এসেছে চলতি বছরের মার্চে, যখন রেমিট্যান্স পৌঁছায় ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া গত বছরের মার্চ ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ছিল তৃতীয় (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার), এবং চলতি বছরের জানুয়ারি ছিল চতুর্থ (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান‍্য এলাকাগুলোর মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে; বিশেষত রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সাবধানী নীতি গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন।

    সরকারি তদারকি, প্রবাসী কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক খাত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বজায় রাখা এবং রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখা চলতি প্রয়োজনীয় কাজ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বেড়েইছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বেড়েইছে

    বৈদেশিক ক্রেতারা সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করায় তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানিপ্রধান খাতগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে—এমনই জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী।

    বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসে জ্বালানির পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দেবার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। এর প্রভাব রপ্তানি আয় ও দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    বিসিআই সভাপতি যোগ করেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি সমস্যার কারণে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টের সম্ভাব্য অর্ডারগুলো ইতোমধ্যেই ধীরগতিতে পড়ছে। কিছু বড় ক্রেতা নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত ক্রেতা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানত শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দিতে যাচ্ছে না।

    তিনি বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসাবান্ধব নয় বলে অভিহিত করে বলেন, লাভ-লোকসানের ভারবিহীনভাবে সর্বনিম্ন এক শতাংশ কর বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এর ফলে সবচেয়ে বেশি আঘাত পাচ্ছেন—অনেক সময় মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব করছেন। বিষয়ের প্রকৃততা তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করেছেন বলে আলোচনায় বলা হয়।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং ব্যবসার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—বলেন তিনি।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানায়। উদ্যোক্তারা করের বোঝা বাড়ানো নয়, বরং একটি ব্যবসা-সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের মতামত অনুযায়ী, জ্বালানি জোগান যদি স্থিতিশীল না করা যায় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাদের পর্যবেক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই তৎপর সিদ্ধান্ত না নিলে রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।