Category: অর্থনীতি

  • নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    সদ্য বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের উদ্যোগে খাদের কিনারা থেকে ব্যাংকিং খাতকে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর জন্য তিনি প্রশংসা পেয়েছেন। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনীতির সংকট কাটাতে — বিশেষ করে ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতের প্রতিকূলতা দূর করতে — যা কিছু ইতিবাচক সংস্কার কার্যক্রম চলমান ছিল, তা অব্যাহত রাখবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে এসব কথা জানান।

    তিনি বলেন, প্রথম দিনই তিনি নির্বাহী পরিচালক, ডেপুটি গভর্নর ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যতম লক্ষ্য হলো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে বন্ধ হওয়া কলকারখানাগুলোর পুনরায় চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

    আরিফ হোসেন খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র, জানান, গভর্নর পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই স্থিতিশীল ভিত্তি শক্ত করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনবেন। বিশেষ করে, গত এক বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় নীতিগুলো বাস্তবায়ন, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেক্টরে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এর ফলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

    সভায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়াও, উচ্চ সুদের হার কীভাবে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান গভর্নর।

    মুখপাত্র আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে নিয়মবিরুদ্ধ ও বৈষম্যহীন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে, বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘মবে’ প্রকল্পে জড়িত কর্মকর্তাদের বিষয়ে কতৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না, উল্লেখ করেন যে, নতুন গভর্নর বলেন, তিনি বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যারা এই ‘মবে’ কালচারে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নতুন গভর্নর কথা নয়, কাজের মাধ্যমে নিজস্ব দক্ষতা প্রমাণ করবেন

    নতুন গভর্নর কথা নয়, কাজের মাধ্যমে নিজস্ব দক্ষতা প্রমাণ করবেন

    বাংলাদেশের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান তার প্রথম দিনেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি কথার পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান। দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে তিনি ঘোষণা করেন, আপাতত কথাবার্তা নয়, মূল গুরুত্ব থাকবে কাজে।

    আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নররা ও ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। নতুন গভর্নর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, কথায় নয়, কাজে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রদর্শনই তিনি মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, তিনি কাজ শুরু করবেন, তারপরই কথা বলা সম্ভব হবে।

    এছাড়াও, পদে যোগদানের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখোমুখি হন মোস্তাকুর রহমান। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান এবং সেখানে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে ব্যাংকে ফিরে আসেন।

    বুধবার বিকেলে, সরকার তাকে চারে বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতির আদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের পদানুযায়ী তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, পাশাপাশি ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।

    মোস্তাকুর রহমানের জন্ম ১৯৬৬ সালে ঢাকায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে এফসিএমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

    তার যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ২৩তম সদস্য হওয়া, যেখানে তিনি বিএনপির ৪১ সদস্যের সচিব ছিলেন।

    অতিরিক্তভাবে, মোস্তাকুর রহমান পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এর সদস্য। তিনি হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। হেরা সোয়েটার্স নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত একটি পরিবেশবান্ধব কারখানা।

  • অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে কর বাড়ানোর পরামর্শ অর্থমন্ত্রীর

    অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে কর বাড়ানোর পরামর্শ অর্থমন্ত্রীর

    অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাছাকাছি খুবই খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হলে কর বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার মনে করে, এই কর বৃদ্ধি থেকে সংগৃহীত অর্থের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে, যা দেশের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি। তার কথায়, ‘আমরা যত বেশি কর সংগ্রহ করব, ততই দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সম্ভব হবে।’ আগামী বাজেটে বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। জোর দেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের উপর, কারণ এই বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভব নন। তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি নিয়ে পরিবর্তন আনতে হলে বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

  • স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন, ভরি কত অন্তর্গত?

    স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন, ভরি কত অন্তর্গত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আবারো স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি করেছে। এই নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা থেকে শুরু হবে, যেখানে আগে এটি ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। অর্থাৎ, ভরিতে কিছুটা বেশি বাড়ছে।

    শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, এবং নতুন দাম প্রযোজ্য হবে আজ সকাল থেকেই। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা স্বাভাবিক কারণ, বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বাড়ানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। তিন দফায় এই মানের স্বর্ণের মূল্য মোট ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অতঃপর, এখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের সর্বোচ্চ মানের বা সাধারণত যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের জন্য নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা, যেখানে আগে ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৪৩ টাকা, অর্থাৎ ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বেশি।

    তদ্ব্যতা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা, যা আগের চেয়ে ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা বেশি। এছাড়াও সনাতন পদ্ধতিতে বা সহজ ভাষায় হিসাব করলে এক ভরি স্বর্ণের মূল্য বেড়ে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা হয়েছে।

    গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায়, বৃহৎ মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬১ হাজর ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখনও একই সময়ে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৪১ টাকা বাড়িয়ে ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা।

    অপরদিকে, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্যে বৃদ্ধি হয়েছে ১ হাজার ৮০৮ টাকা, যা নতুন দাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতিতে হিসাব করলে এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

    এছাড়া, সোনা বিক্রির দামে একযোগে রুপার দামে বাড়তি যোগ হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম বাড়ানো হয়েছে ১৭৫ টাকা, ফলে নতুন দাম হয়েছে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, যখন আগে ছিল ৬ হাজার ৪১১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ক্ষেত্রে এই মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে মনসুরের পরিবর্তে মোস্তাকুর রহমান নিয়োগ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে মনসুরের পরিবর্তে মোস্তাকুর রহমান নিয়োগ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ ঘোষণা করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলেছে, ড. মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এই মুহূর্তে বাতিল করা হলো। আর মোস্তাকুর রহমানকে নির্ধারিত শর্তের ভিত্তিতে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে আরো জানানো হয়, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য ও হিরা সোয়েটারের মালিক। তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে নিয়োগ পেয়েছেন। তার বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই গ্রহণ করবেন। নিয়োগের বিস্তারিত শর্তাদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    এ আদেশ জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের অপসারণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিস ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবর শুনেছি। এর বাইরে আরো কিছু বলেননি।

    সূত্রের খবর অনুযায়ী, সকালে তিনি নিয়মিত কর্মসূচি শেষে অফিসে উপস্থিত ছিলেন—তারপর হঠাৎ করে এই অপসারণের খবর ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়টি জানার জন্য তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তা এড়াতে চেয়েছেন।

    অফিস ছাড়ার সময় তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি, যা ব্যাংকের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন। এরপর ১৩ আগস্ট ড. আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন তা অবশেষে পরিবর্তন হলো, যা ব্যাংকের ভবিষ্যত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • নতুন গভর্নর বলেন, কাজের মাধ্যমে সক্ষমতার প্রমাণ দেবো

    নতুন গভর্নর বলেন, কাজের মাধ্যমে সক্ষমতার প্রমাণ দেবো

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান তার প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কথা নয়, কাজের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করবেন। তিনি দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান ডেপুটি গভর্নর ও অন্যান্য কর্মকর্তা।

    সাংবাদিকদের তিনি জানান, আমি কাজের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা প্রকাশ করতে চাই। কাজ শুরু করা একমাত্র পথ, কথা তার পরই বলবো। নতুন গভর্নর হিসেবে যোগদান করার আগে তিনি অর্থ মন্ত্রালয়ে এসেছিলেন, সেখানে কিছু কার্যক্রম শেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করেন।

    এর আগে বুধবার বিকেলে তাকে চার বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হন। রাষ্ট্রপতির আদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, পাশাপাশি সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।

    মোস্তাকুর রহমানের জন্ম ১৯৬৬ সালে ঢাকায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরে তিনি দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে এফসিএমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

    তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত বিএনপির ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ২৩তম সদস্য ছিলেন। এছাড়াও, মোস্তাকুর রহমান পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর একজন সদস্য এবং হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। হেরা সোয়েটার্স নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত একটি পরিবেশবান্ধব কারখানা।

  • অর্থনীতির উন্নয়নে কর বাড়ানোর পক্ষে অর্থমন্ত্রী; বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ

    অর্থনীতির উন্নয়নে কর বাড়ানোর পক্ষে অর্থমন্ত্রী; বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ

    অর্থনীতি বর্তমানে খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের বিকল্প নেই। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তৈরি হবে কর্মসংস্থান, যা দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি।

    শুক্রবার তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা বানৌজা উল্কা আবাদ অঞ্চল-২ এর পশ্চিম পাশে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণ করা জমির পরিদর্শন করেন। পরে, পতেঙ্গায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর অধিগ্রহণ করা ১৪ দশমিক ২১৯০ একর এবং আরও ২ দশমিক ৭ একর জমি পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণাঞ্চলে এখনও কোনো হাসপাতাল নেই। সেখানে একসাথে একটি সাধারণ হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও টেকনোলজি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল হাসপাতাল নির্মাণের, তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।

    অর্থনীতির অস্থিরতা সংশ্লিষ্ট এক প্রশ্নে তিনি জানান, অর্থনীতির উন্নতির জন্য কর বাড়ানো অপরিহার্য। কর বাড়ানো арқылы বিনিয়োগকে আকর্ষণ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো বিনিয়োগ। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না, এ জন্য সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। বাজেটে শিক্ষাক্ষেত্র, স্বাস্থ্য সেবা এবং কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

    এই পরিদর্শনের সময় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান মন্ত্রীকে জমির অবস্থা, ভৌগোলিক পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পারিপার্শ্বিক সুবিধা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিয়া ভোলা, সদস্য সরফরাজ কাদের রাসেল, এডভোকেট মফিজুল হক ভুইয়া, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এইচএম রাশেদ খান।

  • নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    সদ্য বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকিং খাতকে খাদের কিনার থেকে তুলে আনায় 그의 দক্ষতা ও উদ্যোগের জন্য প্রশংসা পেয়েছেন। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন ও তার predecessor এর অসাধারণ কাজগুলো অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, অর্থনীতির ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে বাহিরে আনতে ড. মনসুরের নেতৃত্বে নেয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ছিল এবং তা চলমান থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত ১৪তম গভর্নর হিসেবে তার প্রথমদিনের ব্রিফিংয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।

    ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। এই সময় তিনি নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি গভর্নরদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

    এ tider, নতুন গভর্নর বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলোর পুনরায় চালু, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়া, এবং ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করাসহ ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর মনোযোগ দেন।

    গভর্নর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, উচ্চ সুদের হার বিষয়ক সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান।

    তাদের ভাষ্য, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও নিয়মতান্ত্রিক ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। ডেলিগেশন অব অথরিটি বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে কাজের গতি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে, নতুন গভর্নর বলছেন, ব্যাংকের অখণ্ডতা ও সুশাসন রক্ষা করতে তিনি জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। ‘মবে’ বা অব্যবস্থাপনা জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

  • স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন: ভরি কত ঘোষণা হলো?

    স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন: ভরি কত ঘোষণা হলো?

    বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে ফের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটি জানিয়েছে, এবার ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। এই নতুন দাম শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে এবং সকাল থেকেই তা প্রযোজ্য।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তেজাবি বা পিওর গোল্ড স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে, ফলে সাধারণ পরিস্থিতি বিবেচনায় সংগঠনটি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। এর আগে, ২৩ ফেব্রুয়ারিতে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পায়, এবং ২১ ফেব্রুয়ারিতে এই দামের বৃদ্ধি হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। ফলে তিন দফার মধ্যে ভালো মানের স্বর্ণের এক ভরি দাম বেড়েছে মোট ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা।

    নতুন হিসাব অনুযায়ী, এখন ২২ ক্যারেটের সর্বোচ্চ মানের স্বর্ণের এক ভরি দাম ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা, যা আগের থেকে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বেশি। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা বাড়িয়ে এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৯১৫ টাকা, ফলে দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।

    অন্যদিকে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারিতে সকাল ১০টার দিকে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়, যা পূর্বের মূল্য ছিল কম। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের ভরির দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, আগের চেয়ে ২ হাজার ৪১ টাকা বেশি। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ঐ দিন ১ হাজার ৮০৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা টাকা হয়। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বেড়ে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় পৌঁছায়।

    আজ সকাল ১০টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত এসব দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

    আর দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। অনুরূপভাবে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ১১৭ টাকা বেড়ে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ১১৮ টাকা বেড়ে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১১৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৪ হাজার ১৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • বাংলাদেশে ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশে ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে তারা জানিয়েছে যে দেশের বাজারে ভরের সোনার দাম প্রতি ভরি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই যুক্তির ফলে, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার বাজারমূল্য এখন পৌঁছেছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়, যা পূর্বে ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের এই ঘোষণা শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রকাশ্যে আসে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনার দাম বিশ্ববাজারে বৃদ্ধির প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।

    বিশেষত, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের বাজারে সোনার সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। নতুন নির্ধারিত দামে, ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, অন্যদিকে ২১ ক্যারেটের ভরি মূল্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের সোনার ভরিের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতিভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকায়।

    অপর দিকে, রুপার দামের ক্ষেত্রেও বাড়তি ছাড় দেয়া হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭۰৭ টাকায়। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের রুপার জন্য নির্ধারিত মূল্য ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্ব বাজারেও স্বর্ণের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ১১:২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যেখানে আগের দিন সেটা ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। আরেকটু পিছনে দেখা যায়, ৩০ জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারিতে দাম ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে চলমান এই উর্ধ্বগতি দেশের স্বর্ণের দামকেও প্রভাবিত করে। গত মাসের শেষের দিকে যখন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আকাশ ছুঁয়েছিল, তখন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধি করে দেশের বাজারে রেকর্ড করে। ফলে, ভালো মানের স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়। এই দামোৎসুতির মধ্যে একবারের জন্যও এতটা বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি।