Category: অর্থনীতি

  • ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতে লোকসান ও সিএসআরে হ্রাস

    ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতে লোকসান ও সিএসআরে হ্রাস

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতের জন্য এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বছর ছিল। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন আর্থিক সংকটের কারণে বেশ কটি ব্যাংকই নিট মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সাফল্য অর্জনকারী ব্যাংকগুলোও প্রত্যাশিত মাত্রায় লাভ করতে পারেনি। এর ফলে দেশের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতেبان্কগুলোর ব্যয় অনেকখানি কমে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র অর্ধেকের কাছাকাছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬১ টি ব্যাংক মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকার সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে। এটি আগের বছর থেকে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এই অন্তর্মুখী প্রবণতা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে এসেছে। আগে ২০১৫ সালে সবচেয়ে কম ব্যয় ছিল ৫১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর চেয়েও এবার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম ব্যয় হয়েছে, যা খাতের জন্য নতুন অন্ধকারের ইঙ্গিত দেখাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলো এই খাতে মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে তা ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। ফলে, দুই বছরের ব্যবধানে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ একেছ ৫১৩ কোটি টাকার বেশি, যা প্রায় ৪৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস দেয়।

    বিশ্লেষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। একই সময় বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে অনিয়ম, লুটপাট, অর্থ পাচার ও ঋণ খেলাপির তথ্য প্রকাশিত হতে শুরু করে। এর ফলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার পেছনে সব সময়ের আসল আর্থিক ছবি উন্মোচিত হয়। এছাড়াও, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত ব্যাংক লোকসানের হিসাব স্পষ্ট হয়।

    বিশেষ করে শরিয়া ভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এসব ব্যাংকে বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণে অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র বিভিন্ন দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর ব্যয়ের হ্রাসের পিছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার। আগে রাজনৈতিক সরকার সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ সৃষ্টি করত। শিক্ষাখাতে, স্বাস্থ্যখাতে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বা অন্যান্য দানশীল কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোকে অর্থ ব্যয় করতে বলা হত। অনেক সময় এই ব্যয়গুলো প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেত। কিন্তু ২০২৪ সালের সালে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং আগস্টে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এই চাপ অনেক চাপ কমে গেছে। এখন ব্যাংকগুলো বিবেচনা করে তুলনামূলকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অব্যবহারযোগ্য বা অননুমোদিত খাতে ব্যয় হয়, যা মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বাধ্য। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় করতে বলা হয়। বাকি ২০ শতাংশ অন্য যেকোনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ব্যয় করা যাবে।

    তবে বাস্তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না বললেই চলে। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে তা ছিল উল্লেখযোগ্য অংশ, কিন্তু পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মাত্র ১০ শতাংশের কিছু বেশি ব্যয় হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এগুলো হলো-জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া, সরেজমিনে দেখা গেছে, এই খাতে ব্যয় করা ব্যাংকের মধ্যে বেশ কিছু ব্যাংক লোকসানে চলে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    অতিরিক্ত উল্লেখ্য, এসব ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক, যদিও মুনাফা অর্জনে না পারলেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে-এবিবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

  • সিএসআর ব্যয় অর্ধেকের কমে ৩৪৫ কোটি, ১৭ ব্যাংক ২০২৪ সালে লোকসানে

    সিএসআর ব্যয় অর্ধেকের কমে ৩৪৫ কোটি, ১৭ ব্যাংক ২০২৪ সালে লোকসানে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাতে বড় ধাক্কা লেগেছে—সেই বছরে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। আর এর প্রভাব পরের বছর, ২০২৫ সালে স্পষ্টভাবে দেখা গেল: ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) বছরে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা খরচ করেছে।これは আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশের কম।

    গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সবচেয়ে নীচু ব্যয়। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; তার তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমে গেছে।

    আসল ধারাবাহিকতাও উদ্বেগজনক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে তা নামল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকায় এবং ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি।

    খাতজোড়া বিশ্লেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়কার ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার ফলে প্রকৃত লোকসানের হিসাবও উন্মোচিত হয়েছে। ফলত অনেক ব্যাংকের খরচ কাটা এবং সিএসআর ব্যয় হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ব্যাংকারদের একটি অংশ বলছেন, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত; সেই চাপ কমায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযমী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, নতুবা এসব অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে—এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু মোকাবিলায় এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয়ের কথা বলা আছে। তবে বাস্তবে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি—৩৬%—ব্যয় হয়েছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় বিপরীতে খরচ কমে হয়েছে ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% ব্যয় হয়েছে।

    রিপোর্টে দেখা গেছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর-এ একটাও টাকা খরচ করেনি। এগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেন: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সম্প্রতি এই সংকটকে মোকাবিলা করতে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরানো যায় এবং গ্রাহক ও অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি কমানো যায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো, অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা ও অবিক্রিয় সম্পদ ও খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়াই জরুরি, যাতে সামাজিক উন্নয়ন ও দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করা যায়।

  • যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতির হার ১২% ছোঁতে পারে

    যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতির হার ১২% ছোঁতে পারে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক চাপ বাড়বে। প্রধান প্রতিকূলতার ধারা হবে টাকার মানের অবমূল্যায়ন ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া — যা সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে বাড়াবে এবং বৈদেশিক রিজার্ভে চাপ তৈরি করবে।

    প্রতিবেদনে মডেলগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, দেশের বাজারে তেলের দাম সমন্বয়, ডলারের হার ও রিজার্ভ ব্যবহারকে ধরা হয়েছে। একটি কন্ডিশনাল হিসাব অনুযায়ী, যদি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম ৭০% বেড়ে যায় এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৩০% বাড়ে, আর একই সময়ে টাকার মান প্রথম প্রান্তিকে ৫% এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৫% অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির উপর সমন্বিত ধাক্কায় হার বাড়ে প্রায় ১১.৬৭%—এ সময় ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ৯.৫৬%। এই কেসেই রিজার্ভও কমে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ডলারের মাপ থেকে নেমে আসতে পারে ২ হাজার ৬০৬ কোটি ডলারে।

    একটি আরও তীব্র পরিস্থিতি ধরলে—যেখানে প্রথম প্রান্তিকে টাকার অবমূল্যায়ন ৫% এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১০% ধরে নেওয়া হয় এবং জ্বালানি তেলের দাম অনিয়মিতভাবে বেড়ে যায়—তাহলে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ১২.২৮% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় রিজার্ভ কমে পড়ার সম্ভাব্য পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৪ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে আরেকটি সঙ্কেত ছিল যে, বর্তমান ভিত্তি অনুযায়ী রিজার্ভ ৩১.১২ বিলিয়ন থেকে ২৪.২৪ বিলিয়ন (অর্থাৎ প্রায় ২,৪২৪ কোটি ডলার) পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।

    তবে প্রতিবেদনে সতর্কতা জুড়ে বলা হয়েছে যে এই সব হিসাব ধারণাভিত্তিক; মডেলগুলোতে তেল ও ডলারের দাম ধরে নেওয়া হয়েছে। যদি বৈশ্বিক তেলের দামে আকস্মিক বড় ধরনের পরিবর্তন না ঘটে, তবু ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১০.৫%-এর মধ্যে থাকতে পারে বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে।

    পূর্বের বাস্তব চিত্র হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে গত মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১% এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে রোববার পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি ডলার।

    রিপোর্টে নীতিগত পরামর্শও দেওয়া হয়েছে — আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং রিজার্ভে চাপ পড়বে। মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজারে হস্তক্ষেপ করে ডলার বিক্রি করতে হতে পারে, যার ফলে রিজার্ভ দ্রুত কমে যাবে। ফলত, রিজার্ভ রক্ষা ও বাজারে যোগান শোধন করতে বিনিময় হারে কিছুটা নমনীয়তা আনতে হতে পারে, অথবা দরকার পড়লে ডলারের দাম বাড়াতে হবে। একই সাথে সরকার যদি অভ্যন্তরীণভাবে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করে এবং বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখে, তাহলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

    সংক্ষেপে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণ থেকে পরিষ্কার যে — জ্বালানি তেল ও ডলারের দামের অস্বাভাবিক উত্থান টাকার মূল্য ও আমদানি ব্যয়ের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোক্তা মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করবে। তাই সরকার ও নীতিনির্ধারকরা সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিলে ক্ষতিকর পরিণতি মোকাবেলা করা সম্ভব। সূত্র: যুগান্তর অনলাইন

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে

    দেশের ব্যাংক খাতে অর্ডার বদল—২০২৪ সালে শুরু হওয়া আর্থিক চ্যালেঞ্জ ২০২৫ সালে আরও স্পষ্ট রূপ নিয়েছে এবং এর সরাসরি দরদামে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয় শিগগিরই হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা—প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    এই ব্যয়ের পরিমাণ গত এক দশকে সর্বনিম্ন। আগের রেকর্ড নিম্ন অধ্যায় ছিল ২০১৫ সালে, তখন সিএসআর খরচ ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এবারের ব্যয় তার চেয়ে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কম—যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    ধারণা করা যায় যে, গত দুই বছরে সিএসআর খাতে ধারাবাহিক পতন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা—যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে খাতে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

    খাতের অভ্যন্তরে বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরে সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে নানা ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য সামনে আসায় বইয়ে দেখানো কৃত্রিম মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক অবস্থার আঁচ মিলেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক ব্যাংকের প্রকৃত লোকসান শেয়ার হল—বিশেষত কয়েকটি শরীয়াভিত্তিক ব্যাংক বড় ধরনের চাপে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে দুর্বল কয়েকটি ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিবেশ বদলাও সিএসআর ব্যয়ের সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সরকারের সময় নানা স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তা দেওয়ার চাপ থাকত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যয়ের অনুরোধের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয় প্রকৃত সিএসআর লক্ষ্য থেকে সরে যেত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর ঐসব চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে কড়াকড়ি নিয়ে সিএসআর ব্যয় নির্ধারণ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করান, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ কিংবা অনিয়মমূলক হাতিয়ার হিসেবে এই অর্থ ব্যবহার হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর হিসেবে ব্যয় করা বাধ্যতামূলক; সেখানে শিক্ষায় ৩০ শতাংশ, স্বাস্থ্যে ৩০ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০ শতাংশ এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে রাখার কথা বলা আছে। তবে বাস্তবে এই অনুপাত মেনে চলা হচ্ছে না—২০২৫ সালে ব্যয়ভাগে ‘অন্যান্য’ খাতে সবচেয়ে বেশি অংশ হয়েছে ৩৬ শতাংশ, শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থই খরচ করেনি। ওই ব্যাংকগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরো উদ্বেগজনক দিক হলো, ২০২৪ সালে যে ১৭টি ব্যাংক নিটভাবে লোকসানে পড়েছিল তাদের তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিআই ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এই তালিকার মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিআই ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে।

    সংক্ষেপে, ব্যাংক খাতে আর্থিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক পরিবর্তন মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ে অবস্থাগত পরিবর্তন এনেছে। ভবিষ্যতে সিএসআর-এর উদ্দেশ্য রক্ষা করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ব্যয়ের মানসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে জনকল্যোন্বিত প্রকল্পেই অর্থ সোজাসুজি পৌঁছে যায়।

  • সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ল

    সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ল

    দেশের বাজারে আবারো বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্যবান ধাতুটির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। একই ধরনের হারে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে রুপার নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি ৫ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটসম্মত দরে রুপার প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের মানে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে, ১৭ ব্যাংক লোকসানে

    সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে, ১৭ ব্যাংক লোকসানে

    ২০২৪ সালের আর্থিক পরীক্ষায় দেশের ব্যাংক খাতের কাঁপুনি স্পষ্ট। বছরভর টাকার সংকট ও আর্থিক চাপের ফলে ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। আর যারা মুনাফা করেছে, তাদের আয়ও প্রত্যাশিত স্তরে নেই—ফলে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় ব্যাপকভাবে কমেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) প্রতিবেদিত সময়সীমায় দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক যৌথভাবে সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সবচেয়ে কম ব্যয়।

    তুলনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; এবারের ব্যয় সেই বছরের তুলনায় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কমে নিম্নমুখী প্রবণতা ইঙ্গিত করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলো সিএসআর-এ ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা খরচ করেছিল—এটাও ২০২৩ সালের চেয়ে ৩০৮ কোটি টাকা (৩৩ শতাংশ) কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

    খাতশিক্ষিতরা বলছেন, ব্যাংকিং সেক্টরে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের প্রভাব বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। সেই সময় বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র বেরিয়ে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসান সামনে আসে এবং বিশেষত শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পরবর্তীতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূতও করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের একজন মন্তব্য করেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয়ের পতনের এক বড় কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহযোগিতার চাপ থাকত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যাংকগুলোকে ব্যয় করতে বলা হতো। ২০২৪ সালের জুলাই–অগাস্টের ঘটনা এবং সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে গিয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর বাজেট নির্ধারণ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর-এ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, যা সামাজিক দায়িত্বের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে—এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় করার নির্দেশ রয়েছে; বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি—৩৬ শতাংশ—ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক একটাও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেনি। তাদের মধ্যে রয়েছে—জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় আছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এই সীমান্তে থাকা কয়েকটি ব্যাংক সত্ত্বেও ছয়টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক সিএসআর খাতে কিছু ব্যয় করেছে—রবে এসংগে রয়েছে এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    মোটকথা, ব্যাংক খাতের আর্থিক দুরবস্থা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সিএসআর ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। নতুন পরিস্থিতিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যয়ের মাধ্যমে সিএসআর কার্যক্রমকে পুনরায় সক্রিয় ও ফলপ্রসূ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

  • সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়লো

    সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়লো

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম অনেকটাই বেড়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় এবং সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় মূল্যবান ধাতুটির দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দাম হচ্ছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও বাড়তি দেখা গেছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে: ২২ ক্যারেট (প্রতি ভরি) ৫ হাজার ৮৯০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা।

  • সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা ও এস আলমের অংশ

    সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা ও এস আলমের অংশ

    ২০২৫ সালের শেষের দিকে দেশে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বলছেন, ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্র“পের মালিকানা। সংসদে আলোচনাকালে কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ও তাদের ঋণের পরিমাণের কথা বলা হলেও মোট পরিমাণের কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি অর্থমন্ত্রী। শীর্ষ ঋণখেলাপির মধ্যে রয়েছে সিকদার গ্র“পের তিনটি প্রতিষ্ঠান এবং সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গোষ্ঠীর দু’টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও, বিএনপি’র সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান মালিকানাধীন দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম (সিটিসেল)-এর নাম শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় উঠে এসেছে।

  • অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

    অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় পৌঁছেছে ২৭۶৯ মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি, সরকার আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এটি একটি অসাধারণ অঙ্গীকার যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের একজন লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংসদ অধিবেশনটি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়।

    অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশের মানুষ গড়ে ২৭৬৯ ডলার আয় উপভোগ করছেন। তবে সরকারের লক্ষ্য আরও বেশি অগ্রসর হওয়ার, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলাই সরকারের মূল পরিকল্পনা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং স্পোর্টস ইকোনমিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

    মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার কেবল কোন খাতে নির্ভর করছে না বলেও অর্থমন্ত্রী জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কর্মসংস্থান বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি ও প্রবাস আয় বাড়ানো, পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও লক্ষ্য। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হচ্ছে।

    সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, সরকারের প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো: বেকারত্ব কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রকল্পে গুরুত্ব দেয়া। এছাড়াও শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা সহজ করা, শিল্পে উৎসাহ দেওয়া এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে এসএমই খাতের উন্নয়নেও সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা আরও স্বয়ম্ভর হন। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজতর করার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।

    এই সকল পদক্ষেপের বাস্তবায়ন সম্পর্কেও অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কিছু উদ্যোগ এই অর্থবছরেই কার্যকর হবে। বাকিগুলোর জন্য পরিকল্পনা রয়েছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমিক সম্পন্ন করার।

    অর্থমন্ত্রী বলছেন, এই সব সমন্বিত উদ্যোগ স্বার্থে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় থাকবে এবং একই সাথে ২০৩৪ সালের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হবে।

  • ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআর ব্যয়ের সংকোচন

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআর ব্যয়ের সংকোচন

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের এক কঠিন বছর। আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি ও নানা অস্থিরতার কারণে, স্বাভাবিক মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ১৭টি ব্যাংক। এছাড়াও, অন্য ব্যাংকগুলোও প্রত্যাশিত মাত্রায় লাভ করেনি। এর প্রভাব পড়ে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে, যেখানে ব্যয় অর্ধেকে নেমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরে ব্যাংকগুলো এই খাতে দুই শঙ্কা পূর্ণ সূচক দেখিয়েছে।

    ২০২৫ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর), দেশের ৬১টি ব্যাংক মোটক্ষেত্রে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন আকারে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এই কমতির হার অনেক বেশি, যা খাতটিতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় হয়েছে মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে এই ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, আর ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছরে এই খাতে ব্যয় কমে গেছে মোট ৫১৩ কোটি টাকা, যা ৪৫ শতাংশের বেশি।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই সংকুচিত ব্যয়ের বড় কারণ। ২০২৪ সালের জুন-জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দেয়। পাশাপাশি, একাধিক ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত খবর প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক চিত্রটি প্রকাশ পায়। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো কঠিন চাপের মুখে পড়ে, যেখানে ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের ঘটনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে, দুর্বল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার একাধিক ব্যাংকের সংহতকরণে উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকাররা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সিএসআর ব্যয়ের এই সংকোচনের পেছনে বড় একটি কারণ হচ্ছে। আগে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের চাপ থাকত, যাতে ব্যাংকগুলোকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি বা অন্য খাতে অনুদান দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই ব্যয় প্রকৃত সিএসআর এর আওতায় পড়ত না। তবে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলন ও পরে সরকার পরিবর্তনের ফলে এই চাপ অনেকটাই কমে গেলে, ব্যাংকগুলো এখন বিবেচনা করে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এই ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়, যা মূল লক্ষ্য—সামাজিক দায়বদ্ধতা—কে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের নিট লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে খরচ করতে বাধ্য। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ব্যয় হতে হবে শিক্ষা খাতে, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়। বাকি ২০ শতাংশ খরচ করা যাবে অন্যান্য দিকে।

    তবে বাস্তবে দেখা যায়, এই নির্দেশনা যথাযতভাবে মানা হয়নি। ২০২۵ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ে সামান্য কিছু হয়েছে, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এগুলো হলো-জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশের কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়াও, এই বছর লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশের কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে, যেমন- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। সকলেই বিভিন্ন শঙ্কা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এই বছরগুলোতে।