Category: অর্থনীতি

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সরকার সরকার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য উদ্যোগ নেবে। তিনি বললেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে এই কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে তার প্রথম দিন অফিসে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণে দেরি করানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ লক্ষ্য পূরণের জন্য যা দরকার, তা দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। বিষয়টি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বহুমুখী চাপ ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে, সরকার আজ থেকেই এই বিষয়ে কাজ করছে।

    রপ্তানির নিম্নগতি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনও সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে এবং নতুন মার্কেটের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের যথাসত্ত্ব সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ, যেহেতু দরিদ্র দেশ, খুব সীমিত সুযোগের মধ্যে টিকে থাকছে। তার মতে, দেশের মার্জিন খুবই কম, ভুলের কোনো জায়গা নেই। তাই, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লক্ষ্য করা মন্থর গতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে বাজারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে। রমজান মাস এবং পরবর্তী সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও পাইপলাইনে পণ্য রয়েছে। এ কারণে বাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    রমজানে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    প্রথম দিকে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, সেই বিষয়টি জানিয়ে তিনি বললেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মাসের প্রথম থেকেই মানুষ একসঙ্গে বেশি কিনতে শুরু করে, ফলে দাম অস্থির হয়ে ওঠে। তবে এ অবস্থা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে আশা প্রকাশ করেন।

    বিবিধ বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ আসেনা। স্থিতিশীল পরিবেশই বিনিয়োগের শর্ত। দেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন মানুষ প্রবেশ করছে। তবে, বিগত দুই-তিন বছর বিনিয়োগের চাপ কম থাকায় কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পড়তেছে সংকটের মুখে। এই পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হলে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজানকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, বলেন, রমজান প্রস্তুতি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারের বড় পরীক্ষা। সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে। এসব কাজ দেশের স্বার্থের জন্য, বলেন তিনি। সবাইের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ভুল হলে তা দুঃখের বিষয় নয়, বরং ভুল ধরিয়ে দেওয়াই উত্তম। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিটেন্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিটেন্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশের জন্য অর্থ পাঠানোর হার বাড়ছে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাহাত্ম্যকে কেন্দ্র করে। এর ফলে ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই দেশে মোট ২ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলার से বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এটি অব্যাহত থাকে, মাস শেষে এই পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজান মহুমা ঘিরে বাড়তি খরচের জন্য প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য আনন্দের খবরে পরিণত হয়েছে, কারণ এটি প্রতিপাদন করছে যে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা) পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ একক মাসের রেকর্ড। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ ছিল মার্চ মাসের ৩২৯ কোটি ডলার, যা ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ছিল।

    ২০২৫ সালে দেশীয় প্রবাসী আয়ের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি, আগস্টে ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি, অক্টোবর ২৫৬ কোটি, নভেম্বর ২৮৮ কোটি, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে।

    ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছর একই সময়ের তুলনায় ২২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে আগের বছর প্রবাসী আয় ছিল ১১৫ কোটি ডলার কম।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এখনকার প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ের গতি বেড়ে গেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, ডলারের বিনিময় হার গত কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথেই অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এই সব উদাহরণ দেখাচ্ছে যে, দেশের অর্থনীতি গতিশীল হতে সক্ষম হচ্ছে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন ইজারা পাওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া দাম। যেখানে আগে সহজে পাট সংগ্রহ করা যেত, এখন কাঁচা পাটের খুচরা মূল্য দ্বিগুণের বেশি উঠেছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে এবং অনেক মিলের পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারানোর শঙ্কায় বসে রয়েছেন, পাশাপাশি মিলগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতিসহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা চোখে পড়ছে।

    দৌলতপুরে অবস্থিত দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আশাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত দেড় মাস ধরে মিলটি বন্ধ রয়েছে কারণ কাঁচা পাটের সংকট। তারা প্রতিদিন মিলের সামনে এসে অপেক্ষা করেন, কিন্তু কাজের জন্য কাঁচা পাটের অভাব থাকায় কর্মহীন থাকছেন। একই পরিস্থিতি অন্যান্য মিলগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন, যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে কাজ থেকে ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, মালিকরা পাটের জন্য এখন দ্বিগুণের বেশি দামে কিনছেন, কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি তবে উৎপাদন চালানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুম শুরুতে প্রতি মণ পাটের মূল্য ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বাড়ছে। ট্রান্সপারেন্সির মাধ্যমে তারা বলছেন, আগে যেখানে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে ৮০ টাকায় বিক্রি করতেন, এখন ৪০০০ টাকায় কিনে হলেও লাভের জন্য কেউ তেমন সুবিধা পাচ্ছেন না। এখন পাটের দাম skyrocket হওয়া এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল না থাকায় তারা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

    তারা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাটের মজুত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত দুই বছর ধরে খুলনা ও আশপাশের जिलাগুলিতে পাটের উৎপাদন মোটেও কমেনি। তবে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কারণে বাজারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন সরকারের ভাষ্য, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মাধ্যমে মূলত অবৈধভাবে পাট মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। ফলে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ সুবিধাও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি সরকারের দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

    পাট অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার উল্লেখ করেন যে, একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবে এবং এ বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রোজ নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়।

    খুলনা অঞ্চলে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি। এসব মিলগুলোতে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন হয়, যার বড় অংশই বিদেশে রফতানি করা হয়। তবে চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অর্থনীতি ও রফতানি খাতে বড় ধাক্কা লাগার আশংকা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মত সরকার যদি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারে, তবে পাট শিল্পের অর্থনৈতিক ক্ষতি হাত থেকে রেহাই পাবে না।

  • সোনার দাম ভরিতে আরও ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম ভরিতে আরও ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ নিশ্চিত করেছে যে তারা সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতিভরি (ভরি) সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার বিক্রি মূল্য দাঁড়াল ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকায়, যা আগের তারিখে ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটির মতে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্য হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামে দেখা গেছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    এছাড়াও, স্বর্ণের সঙ্গে সমানভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে রূপার ক্ষেত্রেও। ২২ ক্যারেটের রূপার এক ভরি এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতিও ক্রমাগত স্বর্ণের দাম বাড়ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

    গত মাসে, অর্থাৎ জানুয়ারির শেষে, স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দাম আরও বেড়ে গিয়েছিল। ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারিতে এটির মূল্য ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বিশেষ করে ১৯ জানুয়ারি, বাজুস এক ভরি স্বর্ণের দাম ভেঙে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে আসে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত দর वृद्धि আগে কখনো দেখা যায়নি, যা স্বর্ণের বাজারে এক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বেড়ে গেল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বেড়ে গেল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এটি গত দুই দিনের মধ্যে আবার বেড়ে গেল, যা পূর্বে ২১ ফেব্রুয়ারিতে সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বেশি করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সমন্বয় করা হয়েছে। চালু হিসেবে, নতুন দামে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২৭ শিল্পের মূল্যে নির্ধারিত হয়েছে। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য দামও সংশোধন করা হয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে এসব মূল্যের উপর সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-এর ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরির যোগ হবে। গহনার নকশা ও মান অনুসারে মজুরির পরিমাণ আলাদা আলাদা হতে পারে বলে জানা গেছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারিতে বাজুস ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম আরও ৩,২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩২ দফায় সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বেড়েছে এবং ১২ দফায় কমেছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার বৃদ্ধি ও ২৯ বার কমেছিল।

    অপরদিকে, রুপার দাম স্থির রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দামও যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ৪ হাজার ৮০২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছর রুপার দাম ১৮ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ১১ দফায় বেড়েছে এবং ৭ দফায় কমেছে। গত বছর মোট ১৩ দফায় সমন্বয় হয়েছে, যেখানে ১০ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩ বার হ্রাস পেয়েছিল।

  • কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলি উৎপাদন বন্ধের পথে

    কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলি উৎপাদন বন্ধের পথে

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণেই। বর্তমান সময়ে কাঁচা পাটের খুচরা দাম প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর ফলে অনেক মিল পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা শ্রমিকদের জন্য ভাবিয়ে তুলেছে এবং তারা কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে মিলগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও অনেক শ্রমিকই ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন, কারণ তাদের জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন সরকার কার্যকরী উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যুজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস পরিচালনার সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা জানান।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণে দেরি করার পরিকল্পনা করছে এবং এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকেই শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

    বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট কিছু সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ মাসের মধ্যে চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যদিও এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা এখনও আরোপিত হয়নি।

    বাংলাদেশের রপ্তানি পরিস্থিতির বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনও বেশ সংকীর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি বা একাধিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন নতুন পণ্য ও বাজার খোঁজে বেরোতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়তা দেওয়া সরকারের অঙ্গীকার বলে জানানো হয়।

    বিশ্ব বাণিজ্যের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের জন্য এই পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের মার্জিন অব এরور খুবই সীমিত, ভুলের সুযোগ কম। তাই, চলতি মাসগুলোতে ধীর গতির অর্থনৈতিক গতি থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য সরকার জোর করে কাজ চালিয়ে যাবে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ রয়েছে এবং পাইপলাইনেও যথেষ্ট পণ্য আছে, ফলে বাজারে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।

    সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান, বক্তব্য দিয়ে নয়। রমজানে কিছু পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টি অনেক সময়ের জন্য হয়, কিন্তু তা সাময়িক এবং বাজারে বেশি দিন স্থায়ী হয় না বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনিশ্চিত পরিবেশেই বিনিয়োগ হয় না। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগের আশা ফসকে যায়। তিনি বলেন, দেশে তরুণ শ্রমশক্তির পরিমাণ খুবই বেশি, প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগদান করছে। তবে, গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজান মাসে আসাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না— এ প্রশ্নে তিনি বলেন, রমজান মোকাবেলায় এটা সরকারি জন্য বড় পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে এবং এ জন্য কোনো বিকল্প নেই।

    তিনি বলেন, এটা ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এ জন্য সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান, বিশেষ করে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে। ভুল হলে তা যেন দ্রুত সংশোধন হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবাই মিলেও একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্ভব।

  • বাংলাদেশে ভরিতে সোনার দাম আবার ৩ হাজার টাকা বাড়ল

    বাংলাদেশে ভরিতে সোনার দাম আবার ৩ হাজার টাকা বাড়ল

    বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর এই নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে, উচ্চ মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরির মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়, যা আগের তুলনায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বেশি। গতকাল ছিল এই দাম ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উচ্চ মানের তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামের ভিত্তিতে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দেড় লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা করা হয়েছে।

    সোনার দাম বাড়ার পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম ঊর্ধ্বমুখী। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি নামে বিশিষ্ট ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    গত মাসেরশেষের দিকে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ব্যাপক হারে বাড়তে থাকায় বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়, যেখানে এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে যায় ১৬ হাজার ২১৩ টাকা, এতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছায়। উচ্চমানের সোনার দাম এক ভরিতে তখন দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এর আগে কখনো এত দাম বেড়ানো হয়নি, যা দেশের স্বর্ণবাজারের ইতিহাসে রেকর্ড।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়িয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়িয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা জাতীয় নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর উৎসাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনের মধ্যে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে মাস শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানের কারণে বাড়তি পরিবারের খরচের প্রয়োজনীয়তা পূরণে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা রেকর্ডের তৃতীয় স্থান। এর আগে গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার এবং মার্চে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।

    অর্থবছর ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের অনুপাতে প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয় ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় ও অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমায় প্রবাসীরাও বৈধ পথেই অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতি জন্য খুবই শুভ সংকেত।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এই মূল্য গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, এবং তা সেই দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের ভরি মূল্য ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে সেই সঙ্গে জানা গেছে, এসব মূল্যের ওপর সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করা হবে। গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস একদফা সোনার দাম সমন্বয় করেছিল। তখন ২২ ক্যারেটের ভরি দামে ৩,২৬৬ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।

    বর্তমানে, চলতি বছর মোট ৩২ বার সোনার দাম পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বেড়েছে এবং ১২ দফায় কমেছে। ২০২৫ সালেও মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬৪ দফায় দাম বেড়েছে এবং ২৯ দফায় কমেছে।

    অপর দিকে, এক ভালো খবর হলো, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। অন্য ক্যারেটগুলো হলো, ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রির জন্য উপলব্ধ।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফা পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বেড়েছে ও ৭ বার কমেছে। গত বছর মোট ১৩ বার সমন্বয় হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং ৩ বার কমেছিল।