বাংলাদেশের খুলনায় সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে ‘মিডিয়া ক্যাম্পেইন’, যা বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (বিজেপিসি), ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড, আর্টিকেল ১৯ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আয়োজিত। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন যেখানে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পেইনে খুলনা প্রেসক্লাবের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিজেপিসির সভাপতি কৌশিক দে বাপী ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান কবির। উপস্থিত ছিলেন ধ্র“ব অ্যালান্সের টিম লিডার মোহাম্মদ নাসিমুল হক, সিনিয়র কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তফা জামান পপলু, প্রটেক্ট কমিটির অন্যান্য সদস্য ও সাংবাদিক নেতারা। বিভিন্ন পর্যায়ে বক্তৃতা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা সাংবাদিকের ঝুঁকি, নিরাপত্তা ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন খুলনা প্রেসক্লাবের চেয়ারম্যান এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক রফিউল ইসলাম টুটুল, দৈনিক খোলনাঞ্চলের সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন, দৈনিক সময়ের খবরের তরিকুল ইসলাম, খুলনা টাইমসের সম্পাদক সুমন আহমেদ, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, খুলনা সাংবাদিক সুরক্ষা মঞ্চের সদস্য সচিব মোঃ হেদায়েত হোসেন, দৈনিক কালের কণ্ঠের এইচ এম আলাউদ্দিন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কায়েজী শামীম আহমেদ, এবং আরও অনেকে। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিএমকেএস’র নির্বাহী পরিচালক আবুল হোসেন, ধ্র“ব, সিডাব্লিউএফ ও সিএমকেএস’র অ্যাডভোকেসি ও যোগাযোগ অফিসার ইভানা আরফিন, মনিরুল ইসলাম ও প্রশান্ত কুমার মন্ডলসহ কমিউনিটি ফোরামের সদস্যরা। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মোকাবিলা বিষয়ক সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Category: সারাদেশ
-

কয়রায় যুব সমাবেশে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিরার মৃত্যু
কয়রা উপজেলায় বিএনপি যুব সমাবেশে অংশগ্রহণের পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু তাহের হিরা (৫০) ইন্তেকাল করেছেন। তিনি बुधवार দুপুর ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুকালে তিনি পিতা-মাতা, স্ত্রী, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন। মরহুমের জানাজার নামাজ এশাবাদ নগরীর বসুপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে বসুপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আবু তাহের হিরার মৃত্যুতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জেলা ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে জয়গান্য কয়রা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে যুব সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি চলছিল। এই সময় তিনি পাইকগাছায় এক হোটেলে আলাপচারিতার জন্য বসে ছিলেন। তখনই তিনি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা বলেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পথিমধ্যে গদাইপুরে পৌঁছানোর সময় তিনি মারা যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সঞ্জয় কুমার মন্ডল বলছেন, আবু তাহেরের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় প্রেরণ করা হয়েছিল। এর আগে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা ইউনুস আলী বলেন, হীরা ভাই অসুস্থ হলে প্রথমে হাসপাতালে আনা হয়, এরপর পথিমধ্যে তার মৃত্যু ঘটে।
অন্যদিকে, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু জানান, তিনি যুব সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে পাইকগাছায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন ও হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয় এবং তিনি রাস্তায় মারা যান।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন খুলনা বিএনপি কর্মকর্তারা। নেতৃবৃন্দ তার জন্য দোয়া ও মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আজীবন রাজনৈতিক সংগ্রামে যুক্ত এই সহযোদ্ধার আকস্মিক মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই শোক প্রকাশ করেছেন ধানী শীষের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম কাগজি ও অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
-

যশোরে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫০.২০ শতাংশ
এ বছর যশোর শিক্ষাবোর্ডে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার হয়েছে ৫০.২০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম এই তথ্য জানিয়েছেন। এই সংগঠন জানিয়েছে, মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৪ জন, এর মধ্যে পাস করেছে ৫৬ হাজার ৫০৯ জন শিক্ষার্থী। এ বছরের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন বিভাগে: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাসের হার ছিল আশার মতো, ১৫ হাজার ৯৩১ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। মানবিক বিভাগে পাসের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৩ জন, আর ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাসের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৭৫। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৫ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী, এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩ হাজার ৩৮১, মানবিক বিভাগের ২ হাজার ১৭৯ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৪৩৫ জন। তবে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৬৪.২৮ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৭৪৯ জন। এ বছর শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যাও বেড়েছে, মোট ২০টি কলেজে কোনও শিক্ষার্থী পাশ করেনি। শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আব্দুল মতিন বলেন, জুলাই মাসের আন্দোলনের কারণে কিছু শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় ক্ষতিসাধন হয়েছে। পাশাপাশি, খাতার মূল্যায়ন আরও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আতঙ্ক ও কঠোর প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে পরীক্ষায় ফলাফলের মান উন্নত হয়েছে। শূন্য পাসের কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আসমা বেগম জানান, ফলাফলের দিক থেকে কিছুটা আশানুরূপ না থাকলেও শিক্ষার মান উন্নত করতে আমি সচেষ্ট। আমাদের লক্ষ্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত ও উত্সাহিত করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজে মূল্যবান অবদান রাখতে পারে।
-

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তা হলে উপকূলীয় জনপদ কয়রায় টেকসই ও স্থায়ী ভেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। এই লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণের ভোটে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি আওয়ামীলীগের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন চালিয়েছে। মিথ্যা মামলায় হয়রানি, গুম, খুনের মাধ্যমে একটি স্বৈরশাসন চালানো হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা প্রায় লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ শক্তিহীন হয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে, যার মধ্যে দলের শীর্ষ নেতারা থাকলেও অনেক নেতা-কর্মীও পালিয়ে গেছে। এ ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য ও নজিরবিহীন। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে অত্যন্ত আগ্রহी।
আজিজুল বারী হেলাল এ কথা বৃকেল বিকেল ৩টার সময় কয়রা মদিনাবাদ সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়রা উপজেলা যুবদলের আয়োজনে এক তরুণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন। এই সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন যুবদলের খুলনা জেলা আহ্বায়ক মো. শরিফুল আলম, ও সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মোহতাসিম বিল্লাহ ও সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়াক এহছানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডাক্তার আব্দুল মজিদ, ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডাইরেক্টর সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজি।
প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন খুলনা জেলা যুবদলের আহ্বায়াক এবাদুল হক রুবায়েত, এবং বিশেষ বক্তা ছিলেন খুলনা জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান জনি। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা বিএনপি’র সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, আবু সাইদ বিশ্বাস, খুলনা জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক রুবেল মীর, ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুর রহমান শাওন, যুবদল নেতা হাবিবুন্নবী, পীর আলী, জাকারিয়া আহমেদ, নাসির উদ্দিন, কয়রার বিএনপি নেতা শেখ সালাউদ্দিন লিটন, সরদার মতিয়ার রহমান, এফ এম মনিরুজ্জামান মনি, এড. মঞ্জুর আলম নান্নু, গাজী সিরাজুল ইসলাম, আঃ সামাদ, আবুল কালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম, হাফিজুর, রওশন মোল্যা, আবুল বাশার ডাবলু, মঞ্জুর মোর্শেদ, যুবদল নেতা আকবার হোসেন, হাফিজুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ কাজল, আছাদুল ইসলাম, ইউনুস আলী, আনারুল ইসলাম ডাবলু, আহাদুর রহমান লিটন, দেলোয়ার হোসেন, কৃষক দল নেতা এস এম গোলাম রসুল, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা গোলাম মোস্তফা, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নুর ইসলাম খোকা, ডিএম হেলাল উদ্দিন, রবিউল ইসলাম, মহিলা দলের দিলরুবা মিজান, জাসাসের জামাল ফারুক জাফরীন, শ্রমিক দলের আকবার হোসেন, ছাত্রদল নেতা আরিফ বিল্লাহ সবুজ, মাহমুদ হাসান, ছাত্র নেতা ইমরান হোসেন, মামুন হোসেইন প্রমুখ।
-

বিকল্প কর্মসংস্থান না হলে শ্রমিকদের ইজিবাইক চালানো বন্ধ থাকবেই: বকুল
বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, দেশের তরুণ সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে হলে প্রথমত একটি সুস্থ ও পরিবেশবান্ধব প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজন খেলাধুলার প্রসার। তিনি গতকাল বুধবার খানজাহান আলী থানাধীন সোনালী জুট মিলস ও কেডিএ এলাকাবাসীর সাথে এক সভায় এসব কথা বলেন।
বকুল আরও বলেন, আমি হতবাক হই যখন দেখতে পাই স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের মাঠ বন্ধ করে দেয়। খেলাধুলার মাঠ বন্ধ থাকলে আমাদের সন্তানরা কীভাবে সুস্থভাবে বড় হবে? খেলাধুলার অভাব থাকলে তরুণদের মাদকের দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই তিনি স্কুল প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতি দ্রুত মাঠ খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি নিজেও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। খেলাধুলার প্রসার না থাকলে সুস্থ প্রজন্ম গড়া সম্ভব নয়।
অতীতের দাবি অনুযায়ী, বকুল তিনটি ব্যাচের ফুটবল জার্সি বিতরণের ঘোষণা দেন এবং বলেন, আগে পড়াশোনা, তারপর খেলাধুলা — এই দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই দুটোই তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখে।
বিএনপি নেতা আরও উল্লেখ করেন, খুলনার শিল্পাঞ্চল পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু কলকারখানা বন্ধ করেনি, বরং যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে দরজা-জানলা সব কিছু বিক্রি করে দিয়েছে। এর ফলে হাজারো শ্রমিক আজ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকে ইজিবাইক বা রিকশা চালিয়ে জীবন চালিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু তাদের জন্য কোনও কর্মসংস্থান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকদের ইজিবাইক বা রিকশা চালানো বন্ধ করতে দেওয়া হবে না। তা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। করোনা মহামারিকালে বিএনপি যে ভূমিকা রেখেছে, তা স্মরণ করে বকুল বলেন, ভয়াবহ সেই সময়েও বিএনপি শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার, খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ করেছে। তখন কেউ ভোট চাইতে আসেনি; আজও আমি ভোটপ্রার্থনা করছি না, আমার লক্ষ্য শুধুই জনগণের পাশে থাকা।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসে হবে বলে ধারণা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার। যারা ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয় না, তাদের জবাবদিহির প্রশ্ন উঠে না। এছাড়া, তিনি অভিযোগ করেন, একটি ষড়যন্ত্র চক্র নির্বাচন বন্ধ করতে চাইছে এবং জনগণের সরকারের প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বকুল ঘোষণা করেন, ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সামিল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ সরবরাহ, যা দেখিয়ে কম দামে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন এবং হাসপাতালে বিনা টিকিটে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, यदि আল্লাহ চান এবং বিএনপিকে দায়িত্ব দেন, তাহলে খুলনা-৩ আসনে প্রথম কাজ হবে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা। পাশাপাশি একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে যেখানে শ্রমিকরা সহজে এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পাবেন।
সভা শেষে বকুল বলেন, “আমরা আরও ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি, অনেক রক্তে আমাদের লালিত সংগঠন। শেখ হাসিনা যেমন পালিয়ে গিয়েছে, আমরাও রাজপথে নামতে প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে তিনি তাদের অনুরোধ করলে, তারেক রহমানের ডাক অনুযায়ী রাজপথে গর্জে উঠতে আমরা প্রস্তুত।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, খানজাহান আলী থানা বিএনপি সভাপতি কাজি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা সোহাগ, ইকবাল হোসেন মিজান, ইঞ্জিনিয়ার নুর ইসলাম বাচ্চু, কাজী জলিল, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক এবং ডা. রইস উদ্দিন প্রমুখ।
সভার সভাপতিত্ব করেন, ২নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও সোনালী জুট মিলস কারখানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল লতিফ সরদার, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন রাসেল মাহমুদ। এর আগে বিকেল ৩টায় রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনা মহানগর ওলামা দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোঃ আবু নাইম, হাফেজ মোঃ আল আমিন, মোঃ মানজারুল ইসলাম ও কাজী মোঃ সোলায়মান।
-

মুখে এক কথা, কাজে অন্যটা—এটাই তাদের মুনাফিকি রাজনীতি
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। তাদের পছন্দমতো সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হয়নি, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক গভীর অন্যায়। তবে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর স্বাভাবিকভাবেই গণতন্ত্র ফিরে আসবে, এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এড. মনা বলেন, “মানুষ এখন ভোট দিয়ে নিজের প্রতিনিধিকে বেছে নিতে চায়। এখন সবাই বুঝতে পেরেছে, যারা ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়, তারা প্রকৃত শ্রেণীর শত্রু। যারা এখন পিআর পদ্ধতির কথা বলছে, তারা আসলে ছয় মাস আগে থেকেই নিজেদের প্রার্থীরা ঠিক করে রেখেছে এবং ঘরে ঘরে ভোট চাইছে। মুখে কথা আলাদা, কাজে অন্য, এটাই তাদের মুনাফিকি রাজনীতি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের লড়াই কারো বিরুদ্ধে নয়, বরং ভোটাধিকার রক্ষা ও জনগণের ভোটে সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বিএনপি বিশ্বাস করে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।” মনা উল্লেখ করেন, “আজ জনগণ জেগে উঠেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে এক ত্বরিত উদ্যোগ জরুরি। বিএনপি ও অন্য দলগুলো গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ। দেশের ভবিষ্যৎ হবে মুক্ত, ন্যায়ের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং জনগণের ভোটে নির্ধারিত। এই আন্দোলন হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই, যা জনগণেরই।” সেখানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক বদরুল আনাম খান, মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক আকতার্জামান সজীব তালুকদার, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জলি, ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ আবু সাঈদ, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গাজী আফসার উদ্দিন মাস্টার, ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম দীপু, মোখলেছুর রহমান, মাহবুব উল্লাহ শামীম, সাকিব জমদ্দার, মিশকাত হোসেন, নুরুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম জুয়েল, মোল্লা নুরুল ইসলাম, সালাউদ্দিন বুলবুল, সিরাজুল ইসলাম লিটন, মাস্টার রফিকুল ইসলাম, মুরশিদুর রহমান লিটন, ওয়াইজ উদ্দিন শান্টু, মোঃ শফিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, কাজী ফেরদৌস, প্রভাষক মফিজুল ইসলাম, শামসুল বারিক পান্না, হাবিবুর রহমান হাবিব, এনামুল, জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু, আমিনুল ইসলাম মিন্টু, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিদ্দিক, ইসমাইল, মজিবর, মশিউর রহমান লিটন, সেলিম আলতাফ খান, মাফিজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মুকুল, আলী হোসেন, মিন্টু কাজী, শহিদুল আলম, জাহিদুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মোঃ নাসিম, রাহাত আলি লাচ্চু, মাহমুদুল হক টিটু, মিরাজ, শাহিন, শুভ, মনজুর, শাহীনের রুবেল, মোহাম্মদ মাসুদ, মাইদুল হকটুকু, গোলাম কিবরিয়া, সাজু হাওলাদার, শেখ তারিখ, শফিকুল ইসলাম, সজল, ফয়সাল অ্যামিন, দ্বীপ ইব্রাহিম নয়ন, আরিফা আশরাফির চুমকি, কাকলি, লাবনি, মেহেরুন্নেসা মিতু, সোনিয়া, সুজানা জলি, শিল্পী, লাকি, তিসা জুলি সুলতানা, সালমা আনোয়ারা চম্পা ফরিদা, রোজিনা, মিনার রহিমা, আনিকা প্রমুখ।
-

তারেক রহমানের ৩১ দফা লিফলেট বিতরণের প্রস্তুতি ও উদ্বোধন ঘোষণা
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জন্য ৩১ দফা নিয়ে লিফলেট বিতরণের পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে। সেই লক্ষ্যে সদর ও সোনাডাঙ্গা বিএনপি এক যৌথ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দলীয় কার্যালয়ে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন খোকন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পরীক্ষায় আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে এবং সব দেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রই একমাত্র ব্যবস্থা যেখানে সব ধরনের মানুষের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্রকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। এর জন্য দলের নেতাকর্মীরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন। তারা বলছেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তাঁদের সুসম্পর্ক রাখছে দলের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে আমরা গণতন্ত্রের প্রগতিতে আরও এগিয়ে যেতে পারবো। এরই অংশ হিসেবে, আগামী ১৯ অক্টোবর (রোববার) সকাল ১১টায় গোলকমনি শিশু পার্কে একটি জমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সকালেই বিএনপি কার্যালয়ে তারেক রহমানের ৩১ দফা ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। এই কর্মসূচিতে দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কাম্য। সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দিপু, এডভোকেট গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, সাদিকুর রহমান সবুজ, গিয়াস উদ্দিন বনি, মজিবর রহমান ফয়েজ, জালাল শরীফ, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, হাসান মেহেদী রিজভী, ইশহাক তালুকদার, আকরাম হোসেন খোকন, সরদার রবিউল ইসলাম রবি, মেজবাহ উদ্দিন মিজু, মহিউদ্দিন টারজান, জাহিদ কামাল টিটো, আব্দুল জব্বার, গোলাম মোস্তফা, আসলাম হোসেন, মেহেদী হাসান সোহাগ, রিয়াজুর রহমান, বাচ্চু মীর, ওমর ফারুক, ইকবাল হোসেন, মিজানুজ্জামান তাজ, শরিফুল ইসলাম বাবু, আলমগীর হোসেন আলম, নুরুল ইসলাম লিটন, হেদায়েত হোসেন হেদু, মোস্তফা জামান মিন্টু, নাহিদ মোড়ল, কামাল উদ্দিন, খাইরুল ইসলাম লাল, রবিউল ইসলাম বিপ্লব, মাহবুব হোসেন, মোহাম্মাদ আলী, ওমর ফারুক বনি, ইফতেখার জামান নবীন, মনিরুল ইসলাম মাসুম, আল বেলাল, শামীম খান, সুলতান মাহমুদ সুমন, ফিরোজ আহমেদ, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর হোসেন, জামাল মোড়ল, আলম হাওলাদার, গোলাম নবী ডালু, সমির সাহা, শাকিল আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন, শরিফুল ইসলাম সাগর, সেলিম বড় মিয়া, মুশফিকুর রহমান অভি, শাহাবুদ্দিন, মামুনুর রহমান, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, হুমায়ুন কবির, মাজেদা খাতুন, আব্দুল হাকিম, ওহেদুজ্জামান, এম এ হাসান, মাহমুদ হাসান মুন্না, খান মঈনুল ইসলাম মিঠু, ইউনুচ শেখ, রাজিবুল আলম বাপ্পি, মাসুদ রেজা, খান রাজিব, শহিদুল ইসলাম লিটন, শামীম রেজা, মোল্লা আবু তালেব, শামসুল আলম বাদল, সজল আকন নাসিব, এম এ সালাম, মাসুদ রুমী, খান আবু দাউদ, পারভেজ মোড়ল, কামরুল বিশ^াস, তরিকুল আলম, সালাউদ্দিন সান্নু, ঈসা শেখ, ইমরান খান, সোহেল খন্দকার, খায়রুল বাসার, এ আর রহমান, টিপু হাওলাদার, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মহিউদ্দDin মঈন, সিরাজুল ইসলাম বাবুল, সিদ্দিক মাতুব্বর, আসাদ সানা, হারুন মোল্লা, আসমত হোসেন, এমরান হোসেন, জামান চৌধুরী, আব্দুর রহিম, এস এম সজল, সাজ্জাদ আলী, পারভেজ আহমেদ, লাকি বেগম, নাজমা বেগম, রাকিব খান প্রমুখ।
-

জামায়াত ধর্মের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে: সেলিমা রহমান
গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক বেগম সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের সামনে-existing রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় অভিজ্ঞ নেতৃত্ব অপরিহার্য।” খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাব ব্যাংকুয়েট হলে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
-

সদর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদের আটকাদেশের তিন মাসের স্থগিতাদেশ ঘোষণা
খুলনা সদর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশের বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আদালত সেই আটকের ওপর তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে চার সপ্তাহের সময় নির্ধারণ করেছেন। মোল্লা ফরিদ আহমেদ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১ নম্বর স্যার ইকবাল রোডের বাসিন্দা।
তিনি চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ এর স্বাক্ষরিত একটি আদেশে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ৩(১) ধারায় ৬০ দিনের জন্য আটক হন। এরপর তিনি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন (নং ১৫৮৪০/২০২৫) দায়ের করেন। এই রিট শুনানি হয় ৬ অক্টোবর বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি মাহমুদ হাসান দ্বারা গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে। আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এড. মোঃ ওজি উল্লাহ ও তাসেব হোসেন, আর প্রস্থে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রাশেদুল হক ও মন্টু আলম।
আদালত রুল জারি করে সরকারকে জিজ্ঞেস করে কেন মোল্লা ফরিদ আহমেদের আটকাদেশ আইনগত বৈধতা থাকবে না বা বন্দি রাখা অযৌক্তিক হবে না, তার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য। একইসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোল্লা ফরিদ আহমেদকে আটক বা হয়রানি করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তে আইনজীবীরা আর সাধারণ মানুষরা শান্তি ও স্বস্তি পেয়েছেন, এটি সত্যিই একটি সাহসী এবং ন্যায়সংগত রায় বলে মনে করা হচ্ছে।
-

বকুলের অভিযোগ, জামায়াত এখন ধর্মকে ব্যবসায়ীক পণ্যে পরিণত করছে
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মিথ্যাচার ছড়ানোর জন্য একদল প্রশিক্ষিত বাহিনী তৈরি করেছে। এই দলের নেতারা ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা এমনকি জান্নাতের টিকিট বিক্রির মতো প্রতারণামূলক প্রচার চালাচ্ছে। জামায়াত এখন নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের কাজে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর পিআর, সংস্কার ও গণভোট ইস্যু সৃষ্টি করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড মূলত তারা একাত্তরের পরাজিত শক্তির অংশ, যারা ২৪ শে আন্দোলনের সময় সুযোগ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও চেতনা বিনাশের পরিকল্পনা করছে। এই সময় জামায়াত ধর্মকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে মহিলাদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে, যা এক ধরনের ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপকৌশল। এই ধরনের অপপ্রয়াস ইসলাম ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে পাশাপাশি ঘরে ঘরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজে লিপ্ত। বকুল এ সময় বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিশেষ করে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সজাগ থাকুন, মহানগর ও পাড়া-মহল্লায় নজর দিন যেন ধর্মের নামে কাউকে নারীদের মনে বিভ্রান্তি বা প্রলোভন ছড়াতে না পারে। মঙ্গলবার খালিশপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মহিলা দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে একথা বলেন তিনি। বকুল আরও বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে জনগণের অধিকার ও ভোটের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলাম ও শিবিরের পুরোনো কৌশল ব্যবহার করে তারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি সকলকে এ ধরনের অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। দেশের মানুষ এখন সচেতন, যারা ধর্মের নামে ব্যবসা করে, তারা ইতিহাসের দুষ্টচক্রে অন্তর্ভুক্ত। বিএনপি কখনোই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর রাজনীতির সমর্থক নয়। বকুল হুঁশিয়ার করে বলেন, আগামী নির্বাচনী ও আন্দোলনকারী যেকোনো ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা একযোগে হুঁশিয়ারি দেবে। যারা বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের অর্জন মুছে ফেলতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে—এটাই এখন আমাদের করণীয়। ৭নং ওয়ার্ডের মহিলাদলের মতবিনিময়কালে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র সমন্বয়ক এম এ সালাম, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক মহানগর যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী শফিকুর ইসলাম হোসেন, লিটন খান, জাকির হোসেন ও শাহনাজ সারোয়ার। সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড মহিলাদলের আহ্বায়িকা কামিনী বেগম। অন্যদিকে ১২নং ওয়ার্ডে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহিলা দলের এক সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, খাদ্যাসংঘের শফিকুল ইসলাম হোসেন, খালিশপুর থানার সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস ও মহিলা দলের আহ্বায়িকা শাহনাজ সারোয়ার। সভার সভাপতিত্ব করেন ১২নং ওয়ার্ড মহিলা দলের আহ্বায়িকা শায়েলা পারভিন সিবানি এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব পুতুল।
