নগরীর আদালত প্রাঙ্গণে বাদী ও বিবাদী দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে খুলনার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় আদালত সূত্রে জানা গেছে, তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক মীর হত্যা মামলার আসামিরা আদালতে জামিন নিতে উপস্থিত হয়। বিচারক তানিয়া আক্তার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২, ওই দিন বিকেল ৩টায় জামিনের শুনানি ধার্য করেন। শুনানি শেষে প্রায় ৫০ জন আসামিকে ১৫ দিনের জামিন দেওয়া হয়। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসামিরা আদালত থেকে নামার সময় আসামের পক্ষ ও মামলার বাদীর মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে পাল্টা ধাওয়া-প্রতিঘাতের রূপ নেয়। এ সময় আদালত ভবনে থাকা অগ্নিনির্বাপনী গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়, যা পরিস্থিতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। খবর পেয়ে পুলিশ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উল্লেখ্য, এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর তেরখাদা উপজেলার উত্তর কোলা গ্রামের ফারুক হোসেন মীরকে দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট কোলা বাজার সংলগ্ন শরিফুল ইসলামের বাড়ির ভেতরে ভয়ংকরভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাকাণ্ডে আহত হয় আরও অন্তত ১০ জন। আহত ফারুক মীরকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মামলার বাদী তার পিতা গাউস আলী মীর দিঘলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই এলাকার মোহাম্মদ কাজী, দ্বীন ইসলাম সরদার, নিহাল উদ্দিন শিকদার, রিপন শেখ, মিলটন শেখ, লিটন শেখ, রবিউল শেখসহ মোট ৫৪ জনকে আসামী করে মামলা রুজু করা হয়েছে।
Category: সারাদেশ
-

ভোক্তা ক্ষমতা আরও বাড়ানোর আশায় ই-কমার্স সংশোধন
বর্তমান ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ এর দুর্বলতা কাটিয়ে ভবিষ্যতে ই-কমার্সসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য এর সংশোধন ও সংস্কারের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এই খবর জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ফারুক আহম্মেদ। তিনি জানান, সরকার দ্রুত এই প্রস্তাবটি পাস করলে ভোক্তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপালনে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন’ বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, আমাদের থাকা আইন কিছু সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতাসহ অনেক কমজোরি রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য সংশোধনমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে ই-কমার্সসহ অন্যান্য খাতে আমাদের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা আমরা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে এই আইনের অনেক দুর্বলতা থাকার কারণে অনেক দোষী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে আইনের আওতায় আসতে পারছে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইনে সংশোধনী আসলে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতগুলোও সরাসরি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় আসবে। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) দেবপ্রসাদ পাল সভাপতিত্বে, উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো: হুসাইন শওকত, এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। বক্তারা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর বিস্তারিত অবহিতকরণ, প্রয়োজনীয় সংশোধনী এবং এর বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ ছাড়াও সরকারি, বেসরকারি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ক্যাব সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নেয়।
-

দিঘলিয়ায় পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী রিপন গ্রেফতার
দিঘলিয়া উপজেলার घरাঘোড়া এলাকায় যৌথ বাহিনীর কঠোর অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী রিপনকে আটক করা হয়। এই উদ্ধার অভিযানে তার কাছ থেকে একটি ৫.৬ ক্যালিবারের পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। রিপন এলাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার আসামি, যার মধ্যে বেশিরভাগই অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এইচ এম শাহীনের নেতৃত্বে, নৌবাহিনীর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ জানায়, উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় একটি নিরিবিলি বাগানে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে রিপনকে গ্রেফতার করে। এলাকাবাসীরা জানায়, কনডম রিপন হিসেবে পরিচিত এই সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে আসছিল। তার গ্রেফতারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এইচ এম শাহীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল রিপন। তার দমন-পীড়নের মাধ্যমে এলাকার জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দাখিল করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ বলেছে, জঙ্গি বা সন্ত্রাসের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
-

খুলনায় মুজিব লোগো সম্বলিত লিফলেট বিতরণের ঘটনায় ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি
খুলনা জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌজন্যে কেএডিএ (খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) মুজিব শতবর্ষের লোগো সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করে। তবে এই কার্যক্রমের কারণে উপস্থিত অনেক অংশগ্রহণকারী এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে, বাধ্য হয়ে দ্রুত সব লিফলেট ফেরত নেয়া হয়। গত সোমবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি দোতলায় আয়োজিত হয়।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে কেএডিএ র্যালি, আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং আরও বেশ কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তবে এই অনুষ্ঠানের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলো এমন কিছু ঘটনা, যা ধীরে ধীরে মুখে উঠে আসে নানা অসঙ্গতির বিষয়।
আলোচনা সভায় অতিথি ও আমন্ত্রিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মুজিব লোগো সম্বলিত লিফলেট। কিন্তু বিষয়টি তদন্ত করে দেখা গেলো, এই লিফলেটগুলি ইতিহাসের এক অপ্রত্যাশিত দিক নির্দেশ করে—যেখানে দেখা যায়, এটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মত একই ধরনের। পরিস্থিতির এতটাই তৎক্ষণাৎ ক্ষোভের সৃষ্টি হয় যে, উপস্থিত অনেকেই তা অপসারণ করতে বাধ্য হন।
অংশগ্রহণকারী অনেকেরই অভিযোগ, এই ধরনের লিফলেট বিতরণ শুধুমাত্র অবহেলাজনিত ভুলই নয়, বরং একটি গুরুত্বহীনতা ও অসম্মানের প্রকাশ। তারা বলছেন, এই কাজের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
প্রকৌশলী মাহমুদ আলম জানান, সরকারের পরিবর্তনের পরেও কেএডিএর মতো সংস্থা যদি এতটাই পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে এমন লিফলেট বিতরণ করে, তা মানা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, এটি শুধুমাত্র ভুলই নয়, বরং একটি অযত্নের দৃষ্টান্ত। সরকারি সকল উপকরণ ও কার্যক্রমের যথাযথ যাচাই-বাছাই হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের জের ধরে, পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ জানান, তিনি এই লিফলেটের বিষয়ে কিছু জানেন না এবং কোন ভুল করেননি বলে দাবী করেন। তার দাবি, তিনি এই বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাংগীর হোসেন স্বীকার করেছেন, এটি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। তিনি বলেন, ‘দিবসের অনুষ্ঠানে অনেক লিফলেট তৈরি হয়। ভুলবশত এগুলো চলে এসেছে। তবে, আমি সবাইকে জানাচ্ছি, আমি এর জন্য দুঃখিত এবং ক্ষমা চাইছি।’
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘অফিসে কিছু পুরনো লিফলেট ছিল, সাধারণত ব্যবহারের জন্য রাখা। ভুলক্রমে কিছু বিতরণ হয়ে গিয়েছিল। আমরা তা দেখে তা দ্রুত তুলে নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছি। আমরা বিষয়টি বিস্তারিত তদন্ত করে দেখছি এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও ঘোষণা দিচ্ছি।’
-

ভৈবর নদে নোঙর অবস্থায় সুন্দরবনের ট্যুরিস্ট জাহাজ ডুবে গেল
খুলনার ভৈরব নদে নোঙর করা অবস্থায় এমভি জিলান নামে সুন্দরবনের একটি ট্যুরিস্ট জাহাজ ডুবে গেছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে যখন জাহাজটি নদীতে ভাসমান অবস্থায় ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। জানা গেছে, এই জাহাজটি কাস্টমস ঘাটে মেরামতের জন্য নোঙর করা ছিল। রোববার রাতে থেকে এটি কাস্টমস ঘাট সংলগ্ন ডকইয়ার্ডে রাখা ছিল। ওই সময় ধীরে ধীরে জাহাজটি ডুবে যেতে শুরু করে, তবে জোয়ারের সময় সোমবার সকালেই পুরোপুরি ডুবে যায়। এই জাহাজটি খুলনায় ‘রেইনবো ট্যুরস’ নামে সুন্দরবনে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আজম ডেভিড বলেন, সম্প্রতি এই জাহাজটি সুন্দরবনে তিন দিনের ট্যুর শেষে মেরামতের জন্য কাস্টমস ঘাটে রাখা হয়েছিল। জাহাজে এসি ও বাথরুমের কাজ চলছিল। কিন্তু এরই মধ্যে অসাবধানতার কারণে বাথরুমের পাইপলাইনে পানি ঢুকে যায়। এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে না রাখায় শেষ পর্যন্ত জাহাজটি ডুবে যায়।
জাহাজের মালিক হারুনুর রশিদের ছেলে মো. জামিল জানান, ডকইয়ার্ডে জাহাজটি মেরামতের জন্য রাখা হয়। এ সময় পানির ব্যবস্থা ছিল, কারণ জাহাজে গোসলের পানি ও অন্যান্য সামান্য লোড ছিল। ফলে জাহাজটি একদিকে কাত হয়ে যায়। আর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে ডুবে যায়।
নৌপুলিশের অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের জানিয়েছেন, ভৈরব নদে কাস্টমস ঘাটের ডকইয়ার্ডে নোঙর থাকা জাহাজটি একদিকে কাত হয়ে যায়। জোয়ারের পানির চাপ বাড়ার কারণে জাহাজের ভেতরে পানি ঢুকে শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়। জাহাজটি উদ্ধারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালাচ্ছে।
-

বাগেরহাটে সাংবাদিক হত্যার মামলা দুই দিনের মধ্যে
বাগেরহাটে সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা হায়াত উদ্দিন হত্যার ঘটনায় দেরিতে হলেও অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় হায়াত উদ্দিনের মা হাসিনা বেগম এই মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মোঃ ইসরাইল মোল্লাসহ আরও ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
অতীতের ঘটনা হলো, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের হাড়িখালি এলাকায় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ৪০ বছর বয়সী এস এম হায়াত উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে একদম নির্মমভাবে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলাকারীরা ছিলেন একই এলাকার মোঃ ইসরাইল মোল্লা ও তার সহযোগীরা। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল নেয়া হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়, এরপর এলাকায় উপস্থিত জনতার স্বস্তির জন্য তাকে দাফন করা হয়। জানাজা শেষে তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।
প্রধান অভিযুক্ত মোঃ ইসরাইল মোল্লা হাড়িখালি এলাকার মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লার ছেলে। তিনি বিএনপি’র কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির বাগেরহাট জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ-উল-হাসান বলেন, হায়াত উদ্দিনের মা হাসিনা বেগম মামলা দায়ের করেছেন এবং তদন্ত চালিয়ে আসামীদের বিচারের জন্য চেষ্টা চলছে।
-

অজ্ঞান করে টাকা-মোবাইল লুটের ঘটনায় যুবক হাসপাতালে
নগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকাগামী পথে অজ্ঞান পার্টির শিকার হন অয়াজেদুল (২৭) নামে এক যুবক। এই ঘটনাটি রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াপাড়া এলাকায় ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ডুমুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অয়াজেদুল ঢাকাস্থ এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, যার বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর বাজারে। তাঁর পিতা মোজাফফর হাওলাদার।
জানাগেছে, অয়াজেদুল জিরো পয়েন্ট থেকে রাজিব পরিবহনে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। চলন্ত পথে, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাকে সম্মোহিত করে ফেলেন। এর ফলে, তার কাছে থাকা স্যামসাং এবং রেডমি কোম্পানির দুটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন সহ মানিব্যাগে থাকা নগদ ৭০০ টাকা দ্রুত লুট করে নিয়ে যায় তারা।
পরে, অয়াজেদুলের কাছ থেকে তার এনআইডি কার্ডের সূত্রধরে তার পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে খুলনায় পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয়রা থানায় রিপোর্ট দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশও এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
-

জামায়াত ক্ষমতায় এলে মুসলমান হয়ে সার্টিফিকেট নিতে হবে, বললেন বিএনপি নেতা
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেছেন, যদি কখনও জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসে, তবে তাদের কাছে থেকে মুসলমান হিসেবে স্বীকৃতি নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ইতিমধ্যে বিদেশি শক্তিকে খুশি করতে দলীয় লোগো পর্যন্ত পরিবর্তন করেছে। এই ধরণের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে একদিন তারা হাফপ্যান্টও পরবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। গতকাল রোববার বিকেলে খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলা যুবদল আয়োজিত এক যুবসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
-

খুলনায় মুজিব লোগো সম্বলিত লিফলেট বিতরণের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন কেডিএ চেয়ারম্যান
খুলনার শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মুজিব দিবসের লোগো সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। বহু দর্শক ও উপস্থিত অতিথি এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একদিকে কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতির বোঝাপড়া না থাকায় বিষয়টি না জানার ভান করছেন, আবার অন্যরা ক্ষমা চাচ্ছেন সেই ভুলের জন্য।
আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে খুলনার শিল্পকলা একাডেমিতে বসতি দিবসের বিভিন্ন আর্দ্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। র্যালি, আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা সহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয়। তবে এরই মধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে পড়ে। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মুজিব লোগো সম্বলিত এই লিফলেট। এটি ছাপানো হয়েছিলো আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, যা বর্তমানে যোগ্যতার সাথে লড়াই করে চলা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও দেখা গেছে।
পূর্ববর্তী এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডে উপস্থিত অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে 이에 বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, খোভজনক এই কার্যক্রম জাতির গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি অসম্মান।
জানানো হয়, লিফলেটে পরিলপ্ত নামের একটি শাখার নাম রয়েছে। তবে এই ব্যাপারে পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ বলেন, তিনি এই লিফলেটে জড়িত নন এবং কোনো ভুল স্বীকার করেননি। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এই লিফলেট তৈরি বা বিতরণের সঙ্গে জড়িত নই, এজন্য এর দায় আমার নয়।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কারা দায়ী তার জন্য জিজ্ঞেস করুন যারা এর সঙ্গে যুক্ত।’
অপরদিকে, এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাংগীর হোসাইন। তিনি বলেছেন, ‘ভুলবশত এই লিফলেটগুলো চলে এসেছে। আমরা সকলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’ এর পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়ে দেন, দায়িত্বে অবহেলা বা এই ঘটনা ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
-

আগামী বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য ৩১ দফার রূপরেখা
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, জনগণের উচিত দেশের উন্নয়নের জন্য এখনই এগিয়ে আসা এবং ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করতে ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। তিনি একথা বলেন রোববার নগরীর দৌলতপুরের পূর্বপাড়া ৪নং ওয়ার্ডে এলাকাবাসীর সঙ্গে উঠান বৈঠককালে। বকুল উল্লেখ করেন, বিএনপি শুরুর দিন থেকেই শিক্ষাব্যবস্থা অবৈতনিক করে দিয়ে আখেরে দেশের সুশিক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চেয়েছিল। তখন বেগম খালেদা জিয়া বুঝেছিলেন, একজন সুশিক্ষিত মা সমাজকে বদলে দিতে পারে। এই ধারণা থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনা বেতনে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। তিনি বলেন, তখন ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে পথশিশুদের জন্য ‘পড়ালেখার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যেখানে সরকার তাদের শিক্ষার মাধ্যমে অর্থ ও খাওয়ার ব্যবস্থা করত। দুর্ভাগ্যবশত, গত ১৫ বছর ধরে এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, দেশনেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ৩১ দফা সংস্কার রূপরেখা প্রমাণ করে, তিনি দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কতটা দূরদর্শী। তিনি আরও জানান, এই দফাগুলোর প্রস্তাব ৫ আগস্টের বহু আগে তৈরি হয়েছিল, কারণ তিনি জানতেন যে এক সময় শেখ হাসিনাকে ছেড়ে যাবে, এবং তখনই দেশের পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। বকুল বলেন, ৩১ দফা একা তৈরি হয়নি; এটি বিভিন্ন সেক্টরের পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক মতামত নিয়ে গড়ে উঠেছে। যারা আজ সংস্কার নিয়ে বড় বড় কথায় থাকেন, তাদের পরিকল্পনার ৯০ শতাংশই তাদের সঙ্গে মিল রয়েছে। আমরা দেশের মঙ্গল ও জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি—এটাই ৩১ দফার মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, এই আলোচনা সভার মূল লক্ষ্য হলো জনগণের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যা, দলের দুর্বলতা বা ভবিষ্যতে প্রত্যাশা লিপিবদ্ধ করা। সরকারের কাছে পৌঁছে, এই বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে দেহের নেত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এসব সমস্যা স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুর থানা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম বাচ্চু। উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুরশিদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিতুল, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সরদার লিয়াকত হোসেন লাবলু, সাধারণ সম্পাদক শেখ আরমান হোসেন এবং বিভিন্ন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, যেমন রুবায়েত হোসেন বাবু, শেখ রফিকুল ইসলাম, এরশাদ হোসেন ডাবলু, কচি, কবীর, মফিজুল, মিজা, শেখ নাহিদ, খসরু, পলাশ, ডিকলার, আলমগীর কবীর প্রমুখ। এরপর বকুল খানজাহান আলী থানাধীন যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি নিজে। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন খানজাহান আলী থানার সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মামুন শেখ এবং ইউনিয়নের সভাপতি শেখ আলমগীর হোসেন। দিনের শেষ কর্মসূচিতে তিনি খুলনা আড়ংঘাটা থানাধীন খানাবাড়ি শাহী জামে মসজিদ ও নূরে মদিনা মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।
