Category: সারাদেশ

  • নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়

    নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়

    খুলনা নগরীর ঐতিহাসিক শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনা ও সমাবেশে প্রধান অতিথি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমাধান শুধুমাত্র নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মধ্যদিয়েই সম্ভব। তিনি আরও বলেন, যে লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ এক হয়ে দেশের স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ মুক্ত করে সুন্দর একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হবে।

    মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আরো জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের ভিত্তিতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং ভোটের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি। তিনি বলেন, জোটের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বর্তমানে এই দাবিতে সমর্থন দিয়ে কাজ করছে। এ দাবি উপেক্ষা করে যেকোনো অপ্রকাশ্য ও একতরফা নির্বাচন দেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি তার মত মনে করেন, আগে দেশের ব্যাপক সংস্কার এবং দায়ের আঘাত থাকা গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় আন্দোলন চলতে থাকা প্রয়োজন।

    তিনি জানান, গত ২৪ আগস্টের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে কিছু ইতিবাচক রাজনৈতিক সূচনা দেখা গেলেও, এখন আবার পেশীশক্তির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন। এই ধরণের পরিস্থিতি একদিকে আবারও পুরনো ফ্যাসিবাদী কায়দায় নির্বাচন আয়োজনের ষড়যন্ত্র বলে মনে হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের আগেই যথোপযুক্ত আইনি ভিত্তি, পিআর পদ্ধতি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়াও সকল গণহত্যার বিচার ও আট দলের ষড়যন্ত্রের নির্মূলের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন।

    সমাবেশটি নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক থেকে শুরু হয়ে পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলো মোড়, ফেরিঘাট মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, সঙ্গীতা মোড় হয়ে শিববাড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি ছাড়াও মহানগর আমীর মাহফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এড. মুহাম্মদ শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মহানগর সেক্রেটারি এড. শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, জেলা সহকারি সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলনসহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনতা এক হয়ে জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি মনে করেন, ভোটাধিকার রক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে একসাথে থাকতে হবে। বর্তমান সরকার যদি দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় সচেষ্ট না হয়, তবে দেশের অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকবে। সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় থাকতে আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

  • সাতক্ষীরার সুদীপ্ত নোবেল-সদৃশ আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত

    সাতক্ষীরার সুদীপ্ত নোবেল-সদৃশ আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত

    শিশুদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৫ এর জন্য সাতক্ষীরার তরুণ সমাজসেবক সুদীপ্ত দেবনাথ (১৫) মনোনীত হয়েছেন। তিনি শিশু সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও শিক্ষার উন্নয়নে Impressive অবদান রেখেছেন বলে এই স্বীকৃতি লাভ করেছেন। সুদীপ্ত সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালে এসএসসি পাশ করেছেন এবং বর্তমানে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার যামিনী কুমার দেবনাথ ও সেজুতি দেবনাথ দম্পতির সন্তান।

    নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত শিশু সহায়তা ও এডভোকেসি সংস্থা কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ করে এমন তরুণদের মনোনীত করে এই পুরস্কারের জন্য। সুদীপ্ত ইতিমধ্যে গত তিন বছর ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে শিশু অধিকার নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। তিনি বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার মতো সামাজিক ব্যাপারগুলোর বিরুদ্ধে গ্রামীণ ও অনলাইন দুটো মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করেছেন। তার এই উদ্যোগের ফলে বহু বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে এবং অজস্র পরিবার শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে।

    সুদীপ্ত অনলাইনে ওয়েবিনার, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও ডিজিটাল প্রচারনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন হাজারো মানুষের কাছে। এছাড়াও, মাঠপর্যায়ে কর্মশালা ও কমিউনিটি ভিত্তিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে মূলত শিশু সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা ও শিক্ষার আগ্রহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    মনোনয়নের বিষয়ে সুদীপ্ত বলেন, “আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া আমার জন্য অনেক গর্বের। শিশুদের জন্য কাজ করতে ভালো লাগে। ভবিষ্যবে আরও ব্যাপকভাবে শিশু কল্যাণে কাজ করতে চাই।”

  • নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সম্ভব নয়

    নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সম্ভব নয়

    মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, খুলনার অধিকাংশ আলোচিত হত্যার পথশিল্পিরা এখনও ধরা পড়ছে না। এর ফলে খুনখারাবি অব্যাহত থাকছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হত্যাকাণ্ড, গুলি চালনা বা কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটছে। এই অসহনীয় পরিস্থিতিতে খুলনা নগরীর মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে গত ১৪ মাসে খুলনায় মোট ৩৮টি লাশ পড়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বা প্রায় ৩৪ শতাংশ হত্যা মাদক কারবার ও আধিপত্যের সঙ্গে জড়িত। নগরীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ আসামি এখনও শনাক্ত বা গ্রেফতার হয়নি। মাঠ পর্যায়ে পুলিশের নিষ्क্রিয়তা, হত্যার আসামিদের ধরা না পড়া, সামাজিক অস্থিতিশীলতা, অস্ত্র ও মাদকের সহজলভ্যতা, এবং সহযোগিতার অভাব খুলনা শহরকে অস্থির করে তুলেছে। গত শুক্রবার বিকেলে গণসংযোগ ও ৩১ দফার লিফলেট বিতরণের পর রূপসা ট্রাফিক মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড থেকে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ শুরু হয় এবং বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রূপসা ট্রাফিক মোড়ে এসে শেষ হয়।

  • যশোরে আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকিটকি ও খেলনা পিস্তলসহ চার যুবক গ্রেফতার

    যশোরে আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকিটকি ও খেলনা পিস্তলসহ চার যুবক গ্রেফতার

    যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ চার যুবককে গ্রেফতার করেছে। এই অভিযানে দেশের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তল, ধারালো অস্ত্র, পাঁচটি মোটরসাইকেল এবং আরও অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঝিকরগাছা থানার আওলিয়াপাড়া সোহাগের হাঁসের খামারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পুলিশকে দেখেই মূল অভিযুক্ত সোহাগসহ অন্য কিছুজন পালিয়ে যায়। পুলিশ মনে করছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য।

    ঝিকরগাছা থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিসি ও ডিবি পুলিশের একটি দলের নেতৃত্বে এই অভিযানে অংশ নেন এসআই আবু হাসান। অভিযান চালানোর সময় তারা খামার থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ইউনুস আলী (৩০), মাহবুব (৩৫), শিমুল হোসেন (৩৮), এবং হাসিব হোসেন (২৫)।

    অভিযানে উদ্ধার হয় দেশীয় অস্ত্র, খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকি, ধারালো অস্ত্র, মোটরসাইকেল পাঁচটি, রিফ্লেকটিভ জ্যাকেট, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়া, হাত করাত, বিদেশি মদ, ওয়্যারলেস সেট, স্বর্ণ মাপার মিটার, হাতুড়ি, ছুরি, চাকু, সিসি ক্যামেরা, মুখোশসহ অন্যান্য সরঞ্জাম।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আ বুল বাশার উল্লেখ করেন, এই অভিযান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। তারা দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • নিখোঁজের চারদিন পর যশোরের ঝিকরগাছায় ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    নিখোঁজের চারদিন পর যশোরের ঝিকরগাছায় ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    নিখোঁজের চার দিন পর যশোরের ঝিকরগাছা থেকে শার্শার এক ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মাসুদ রানা (২১) শার্শা উপজেলার উলাশী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চালক ছিলেন।

    গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার হেড়ে বায়সা ও আশ্বিঙ্গড়ি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে একটি নির্মাণাধীন বাড়ির একটি কক্ষের জানালার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। সাথে সাথে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

    নিহত মাসুদের বাবা আব্দুল আজিজ বলেন, তিনি বলেন, গত সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে তার ছেলে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। তিনি রাতে আছর নামাজের পর আবারও বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এশার আজান হওয়ার পরও তার ছেলে বাড়ি ফিরবেন না দেখে পরিবারের সবাই খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরিবারের খোঁজাখুঁজির পর, না পেয়ে পরের দিন শার্শা থানায় জিডি করেন। অবশেষে, নিখোঁজের চার দিন পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তিনি ধারণা করছেন, ছিনতাইকারীরা ভ্যান ছিনতাইয়ের জন্য তার ছেলেকে ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছে।

    ঝিকরগাছা থানার ওসি গাজী নুর মোহাম্মদ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহটি যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রথম ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনতাইয়ের জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চালানো হচ্ছে।

  • নগরীতে কেসিসি’র ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান

    নগরীতে কেসিসি’র ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপথ থেকে অবৈধ দখলদারদের দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে। কেসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহানের নেতৃত্বে দিনব্যাপী এই কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়।

    অভিযানের সময় নগরীর ক্লে রোড ও স্টেশন রোডের সংযোগস্থলে ফুটপথ দখল করে জুতা ও স্যান্ডেল বিক্রয়ের অপরাধে মো. কালামকে পাঁচ হাজার টাকা এবং জোবায়ের রহমানকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। এছাড়াও কেসিসির অভিযানে কো ডি ঘোষ রোড, ডেক বাংলো বেবি স্ট্যান্ড, পাওয়ার হাউজ মোড়, শেরে বাংলা রোড এবং নিরালা এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও সংলগ্ন ফুটপথ থেকে অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের সরিয়ে ফেলা হয়।

    কেসিসির এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন, যারা অবৈধ দখলদারদের উৎखান ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ ধরনের জনস্বার্থে পরিচালিত এই অভিযানটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

  • নগরীতে তিন অপহরণকারীর গ্রেফতার

    নগরীতে তিন অপহরণকারীর গ্রেফতার

    নগরীতে মো. মুস্তাসিম বিল্লাহ নামে এক তরুণকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনা ঘটেছে গত মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে। অভিযুক্তরা হল রমজান আকন, ফেরদাউস ও মনিরুজ্জামান।

    জানা গেছে, ৩ অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে সাতরাস্তার মোড়ের গরীবে নেওয়াজ ক্লিনিকের সামন থেকে তরুণ মোস্তাসিম বিল্লাহকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে নগদ ২৪ হাজার টাকা ও পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৫৬ ডলার আদায় করে। এরপর তারা আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে। ভিকটিম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণকারীরা হত্যার হুমকি দেয়। জীবনের ভয়ে, পরিস্থিতি বুঝে ও আত্মরক্ষার্থে মোস্তাসিম তাদের দাবি মানতে বাধ্য হন, ফলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোস্তাসিম মঙ্গলবার খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

    পুলিশ গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সোনাডাঙ্গা এলাকার পশ্চিম বানিয়াখামারে অভিযান চালিয়ে তিন অপহরণকারীকেও গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

  • তারেক রহমানের ৩১ দফা দেশের মুক্তির ভিত্তি: নেতৃদ্বয়

    তারেক রহমানের ৩১ দফা দেশের মুক্তির ভিত্তি: নেতৃদ্বয়

    মহানগর বিএনপিের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য আমাদের নেতা তারেক রহমান দুই বছর আগে ৩১ দফা ঘোষণা করেছিলেন। এই দফাগুলো মূলত দেশের রূঢ় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের একটি চিত্র তুলে ধরেছে। এই ৩১ দফাই হলো দেশের মানুষের মুক্তির চেবার, যা দেশের সার্বিক মুক্তিলাভের সনদ হিসেবে পরিচিত। গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ভোটাধিকার হরণ করেছে, মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আশাবাদ প্রকাশ করে তারা বলেন, এবার জনগণ নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীর জন্য ভোট দিতে পারবেন।

    গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় যশোর রোডের বিভিন্ন স্পটে বিএনপি’র উদ্যোগে তারেক রহমান প্রণীত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহচররা।

    অন্যদিকে, দুপুরে নগর বিএনপি ১৭নং ওয়ার্ড ও ২৩নং ওয়ার্ডে পৃথক সাংগঠনিক সভা আয়োজন করে। এই সভাগুলোতেও দলের নেতারা বক্তৃতা করেন এবং তাদের পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ডের বিষয় আলোচনা করা হয়। এসকল সভায় নেতাকর্মীরা দলের বর্তমান পরিস্থিতি, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা করেন। শফিকুল আলম তুহিন বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে সবাই স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

  • তারেক রহমানের স্বপ্ন: বৈষম্য ও অবিচার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বার্তা

    তারেক রহমানের স্বপ্ন: বৈষম্য ও অবিচার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বার্তা

    খুলনা মহানগর বিএনপি এর সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ কল্পনা করেন যেখানে বৈষম্য, নির্যাতন আর অবিচার কোথাও স্থান পাবে না। তারেক রহমানের এই স্বপ্ন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশের উন্নয়নের জন্য একটি ন্যায্য ও সমবায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যেখানে সকল নাগরিকের মধ্যে ভেদাভেদ থাকবে না, বরং থাকবে সমতা, গণতন্ত্র ও মানবিকতার চর্চা। মঙ্গলবার বিকালে সোনাডাঙ্গা থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ সব কথা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট মনা আরও বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিই দেশের পরিবর্তন ও উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। তিনি জনগণের ওপর অগাধ আস্থা রাখেন—গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন হলে দেশের প্রতিটি পরিবার অগ্রগতি অর্জন করবে, সব নাগরিকের মুখে হাসি ফুটবে।” এর পাশাপাশি তিনি বলেন, তারেক রহমানের ‘হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক বিপ্লব আনতে চলেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের যে কোন হাসপাতালে গেলে অর্ধেক ব্যয় সরকার দেবে, বাকি অংশ রোগীরা নিজেরা পরিশোধ করবেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল দেশের মৌলিক চাহিদা — বাসস্থান, খাদ্য, শিক্ষা এবং চিকিৎসা নিশ্চয়তা সৃষ্টি করা। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “প্রতিটি ঘরে ঘরে তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছাতে হবে। প্রতিটি দোকান, মসজিদ, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে মাঠের আশেপাশে থেকে।” মনা আরও উল্লেখ করেন, “বর্তমান প্রজন্ম দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানে না, ফলে তাদের মাঝে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে। যারা বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী, তারা যেন জনগণের পাশে থেকে দলকে আরও শক্তিশালী করে তোলেন।” সভার শুরুতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিরাজুর রহমান মিরাজ এই কর্মীসভা উদ্বোধন করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মুনতাসীর আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক বদরুল আনাম খান। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন নেতাকর্মী, যেমন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক আহমেদ সিরাজী রুবেল, আতিকুর রহমান বিশ্বাস, মো. মিরাজ হোসেন, তসলিম রেজা তানিম, ইবাদুল ইসলাম, মনজুর শাহীনের রুবেল, নাইম হাসান হাসিব, আসাদুজ্জামান মিঠু, সোনাডাঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ মামুন, সদস্য সচিব রাকিবুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক সৌরভ হাওলাদার সহ উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মীরা। এ ছাড়াও, সদর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম ও ওয়ার্ড ও থানার অন্যান্য পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এই কর্মীসভায়।

  • স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন মহানগরীর জন্য কমিউনিটির নেতাদের এগিয়ে আসার দরকার

    স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন মহানগরীর জন্য কমিউনিটির নেতাদের এগিয়ে আসার দরকার

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার বলেছেন, স্বাস্থ্যকর এবং পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে কমিউনিটি কেন্দ্রিক নেতৃবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি সবাইকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নগরীর প্রতিটি এলাকা ধারাবাহিকভাবে পরিষ্কার রাখা হবে। তবে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণের বিষয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য কমিউনিটি নেতা ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতা আন্তরিকভাবে প্রয়োজন।

    গতকাল মঙ্গলবার নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘‘স্ট্রেন্ডেনিং কমিউনিটি এঙ্গেজমেন্ট ফর হেলথ এন্ড ওয়েল-বিয়িং’’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মশালাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘নন কমিউনিক্যাবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ এর আওতায় অনুষ্ঠিত হয়, যা দু’দিন ব্যাপী চলবে।

    উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি সহায়তায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ‘স্বাস্থ্যকর শহর-খুলনা’ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান। এই প্রকল্পের আওতায় মহানগরীর ৩টি ওয়ার্ড (৬, ১৮ ও ২৫) এর বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির নাগরিকের শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও পরিচ্ছন্নতার বর্তমান পরিস্থিতি নিরীক্ষণ করা হয়। এরপর এসব বিষয় সম্মিলিতভাবে সমাধানের জন্য কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

    অপরাধের অংশ হিসেবে, কর্মশালায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ৩টি ওয়ার্ডে বিদ্যমান ৩টি পুকুর পরিষ্কার করা এবং শারীরিক পরিশ্রমকে উৎসাহিত করার জন্য একটি সাইকেল র্যলি আয়োজন করা হবে।

    কর্মশালার সভাপতি ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ আসিফ রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নগর পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, অপারেটর ওজোপাডিকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোছাঃ শাহীন আখতার পারভীন, বিটিসিএল খুলনার উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ তরিকুল ইসলাম, ডেপুটি সিভিল সার্জন মোঃ মিজানুর রহমান, কুয়েটের ইউআরপি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মনজুর মোর্শেদ ও প্রফেসর ড. তুষার কান্তি রায়, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসেন আলী খন্দকার ও শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহবুব আলম।