Category: সারাদেশ

  • ৩১ দফা: বাংলাদেশে মুক্তির রূপরেখা এবং উন্নয়নের পথপ্রদর্শক

    ৩১ দফা: বাংলাদেশে মুক্তির রূপরেখা এবং উন্নয়নের পথপ্রদর্শক

    বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল গণতন্ত্র ও সমাজের উন্নয়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক দিশা সূচিত হয়েছে। তার নির্দেশে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ৩১ দফা প্রস্তাবগুলি জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রচার ও বিতরণ করা হচ্ছে। এই দফাগুলি কেবল একটি রাজনৈতিক ইশতেহার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির supply-রূপরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই আন্দোলন।

    গত রোববার সকাল ১১টায় নগরীর গোলকমনি পার্কে এই ৩১ দফা ভিত্তিক লিফলেট বিতরণের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, এই ৩১ দফা দেশের ইতিহাসে একটি আরেকটি স্বাতন্ত্র্যবিষয়ক উদ্যোগ, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তিনি আরও জানান, এই পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিভাজন ক্রমশ কমবে এবং সবাই একসাথে কাজ করবে দেশের উন্নয়নের জন্য।

    উদ্বোধন শেষে খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পিকসার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলা, ফেরিঘাট ও সঙ্গীতা সিনেমা হলের সামনে এই লিফলেট বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র সাবেক মেয়র ও নগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সারসহ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশবিধির উন্নত ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর সকল সংগঠন ও জনগণ। এই ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

  • খুলনায় নিমকোর আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে টাইফয়েড টিকাদান কর্মশালা

    খুলনায় নিমকোর আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে টাইফয়েড টিকাদান কর্মশালা

    খুলনায় জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (নিমকো)-এর উদ্যোগে গতকাল সোমবার (২০ অক্টোবর) খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫ বিষয়ক এক বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন। এই কর্মশালায় খুলনায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী মূল বক্তৃতায় সভাপতিত্ব করেন মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান।

    বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, দেশের প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েডের কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দিয়ে সুরক্ষা দেয়ার জন্য একটি বৃহৎ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনকে সফল করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। গণমাধ্যম এই প্রচার ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ সাধারণ মানুষ সংবাদকে গুরুত্বের সাথে বিশ্বাস করে। তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের মধ্যে ভ্যাকসিনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা দরকার। একই সঙ্গে, টিকাদান প্রক্রিয়ায় কোনও অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তা মিডিয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ন। এই ক্যাম্পেইনটি একদিকে যেমন শিশুদের জন্য নিরাপদ জীবন সমাজ গঠনে সহায়তা করবে, অন্যদিকে সুস্থ জাতি গঠনের পথ প্রশস্ত করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। মহাপরিচালক বলেন, গণমাধ্যম তাদের দায়িত্বশীল লেখনী ও প্রচার মাধ্যমে অন্ধবিশ্বাস দূর করতে পারে এবং জনমনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে পারে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ হুসাইন শওকত বলেন, বাংলাদেশের ইপিআই কর্মসূচি বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। চলমান এই টাইফয়েড ক্যাম্পেইনও সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মিথ্যা তথ্য বা গুজব প্রতিরোধে মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের মোকাবেলায় সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে উল্লেখ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান, স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান ও ইউনিসেফের খুলনা চিফ মোঃ কাউসার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন নিমকোর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পারভীন সুলতানা রাব্বী এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিসেফের ন্যাশনাল ইউপিআই কনসালট্যান্ট ডা. তাপস কুমার হালদার। এ ছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীর, প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলমসহ আরও অনেকে।

    এ কর্মশালায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং মোট ৬০ জন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে আজকের শিশুর সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • খুলনায় বিশ্ব ও জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত

    খুলনায় বিশ্ব ও জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত

    আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) খুলনায় সবার জন্য মানসম্পন্ন পরিসংখ্যান প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস এবং জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উদযাপন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম ছিল সকালবেলা খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোঃ ফিরোজ শাহ।

    প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, আমাদের প্রতিদিনই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে শুরু হয়। পরিসংখ্যান কী, সেটা আমরা সবাই কমবেশি বুঝি, কারণ এটি সংখ্যায় রূপান্তরিত হয়। আধুনিক যুগে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম; এটি ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা, পরিকল্পনা গ্রহণ ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এই ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগামী হয়ে কার্যক্রম বাড়িয়ে চলেছে। পরিকল্পনা তৈরি করার মূল উপকরণই হচ্ছে সঠিক ও সুবিন্যস্ত তথ্য, যা হচ্ছে পরিসংখ্যানের মাধ্যমে। যত বেশি কার্যকরভাবে পরিসংখ্যানের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে, আমরা ততই উন্নত হবো।

    তিনি আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে না জানা থাকলে নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সার্বিক সুবিধা প্রদান কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্বে এখন পরিসংখ্যানের মাধ্যমে গবেষণা ও বিভিন্ন পরিকল্পনা খুবই দ্রুত চালানো যায়। আধুনিক সফটওয়্যার ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যাপক দ্রুততা পেয়েছে। যে দেশ যত বেশি পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ, সে দেশে তত বেশি উন্নয়ন দেখা যায়।

    অনুষ্ঠানে functioneren ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, যিনি সভাপতিত্ব করেছেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মোঃ খাইরুল আলম। স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্মপরিচালক মোঃ আব্দুল খালেক। এ ছাড়া, দিবসটি উপলক্ষে একটি পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আইয়ুব হোসেন।

    অতঃপর, দিবসের অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের চত্বরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। এটি শহরজুড়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে অবশেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যারা এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসের গুরুত্ব অনুধাবন করেন।

  • পিরোজপুরে চা দোকানিকে হত্যা: দুর্বৃত্তদের হামলা মোতাবেক তদন্ত

    পিরোজপুরে চা দোকানিকে হত্যা: দুর্বৃত্তদের হামলা মোতাবেক তদন্ত

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আলম হাওলাদার (৭০) নামে এক চা দোকানিকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতের দিকে ঘটে যখন আলম হাওলাদার তার চায়ের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে উদ্ধারকার্য চালিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোকে।

    ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রাতেই তিনজনকে আটক করেছে এবং ঘটনাস্থলের তদন্ত শুরু করেছে। মঠবাড়িয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হচ্ছে দোকানে বকেয়া পাওনা টাকা চাওয়া। আনুমানিক ধারণা, মাদকাসক্ত কিছু দুর্বৃত্ত এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।

    আলম হাওলাদার উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বড় শৌলা গ্রামের মৃত হাকিম হাওলাদারের ছেলে। তার ছোট ছেলে সাবেকি সরোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘‘পাওনা টাকা চাওয়ার জন্য বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিন তার দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে আহত করে।’’ সরোয়ার আরও বলেন, ‘‘বাবার হত্যার বিচার চাই।’’

    মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ বলছে, এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক ক্ষোভের পাশাপাশি পারিবারিক বিবাদের বিষয়ও থাকতে পারে।

  • সাত দফা দাবিতে নগরীতে শিক্ষকদের মানবিক প্রতিবাদ ও সমাবেশ

    সাত দফা দাবিতে নগরীতে শিক্ষকদের মানবিক প্রতিবাদ ও সমাবেশ

    বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের খুলনা মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে চলমান শিক্ষক আন্দোলনের অংশ হিসেবে, তারা সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সমর্থন ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে। আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যা থেকে একটি মিছিলসহকারে শিক্ষকরা সরাসরি খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা, তাদের মধ্যে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, যারা শিক্ষক আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও দাবিগুলো সমর্থন করেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পনের বছর ধরে চলা স্বৈরশাসন, বৈষম্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অমানবিকতা মোকাবিলার জন্য দেশের ছাত্র-শিক্ষক সমাজ এখন সত্যিকারের পরিবর্তন চায়। তারা এই পরিবর্তনের জন্য নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও আদর্শের ভিত্তিতে নতুন সংস্কার দরকার বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

  • রূপসায় ডোবা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

    রূপসায় ডোবা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

    খুলনার রূপসা উপজেলার পূর্ব রূপসায় সরকারি ডোবা থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার, ১৯ অক্টোবর, সকাল ১১টার দিকে। পূর্ব রূপসা ব্যাংকের মোড়সংলগ্ন রূপসা পার্কিং সেন্টারের (গ্যারেজ) পেছনের ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবক রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের আদর্শ গলি এলাকার বাসিন্দা, চা ও পান বিক্রেতা আব্দুল হাকিমের ছেলে রেজাউল ইসলাম। তিনি তার পিতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। স্থানীয় লোকজন দেখতে পান, রেজাউলের মরদেহ ডোব্যা ভাসছে এবং তখনই তারা খবর দেন পুলিশকে। ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে কোপের দাগ পাওয়া গেছে, যা তার মৃত্যুর কারণ হিসাবে সন্দেহের জন্ম দেয়।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন রূপসা থানার এসআই মোঃ ইমরান হোসেন এবং রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির টু-আইসি সহ তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে মরদেহটি উদ্ধার করেন। জনমত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

  • অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকসহ দুজন গ্রেফতার

    অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকসহ দুজন গ্রেফতার

    নগরীর দৌলতপুরের পাবলা খানপাড়া এলাকায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে দুইজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশী পিস্তল, চারটি গুলির ভরা ম্যাগাজিন, সাত বোতল ফেন্সিডিল ও ৩৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন দৌলতপুরের পাবলা খানপাড়া এলাকার নূর ইসলাম গাজীর ছেলে রহমান গাজী (২৬) এবং দেয়ানা মোল্লাপাড়ার মোঃ আব্দুস সাত্তার এর ছেলে আবুল কালাম আজাদ (২৭)। নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোঃ তৈমুর ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুরের ওই এলাকায় একটি অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে কুখ্যাত সন্ত্রাসী রহমান গাজী ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলির বরাদ্দ, সাত বোতল ফেন্সিডিল ও ৩৫০ পিস ইয়াবা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও থানার রেকর্ড অনুযায়ী, রহমান গাজীর বিরুদ্ধে একটি এবং আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা রয়েছে।

  • অশান্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি নারী ও তরুণদের পথ রুদ্ধ করছে

    অশান্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি নারী ও তরুণদের পথ রুদ্ধ করছে

    সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) সম্প্রতি ‘নেতৃত্বে নারী ও তরুণ: বাধা কোথায়?’ শীর্ষক একটি সংলাপ ও কর্মশালার আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, তরুণ রাজনীতিবিদ, নারী নেতৃত্ব এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা। মূল লক্ষ্য ছিল নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। পাশাপাশি তরুণ নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বে লিঙ্গভিত্তিক মানদণ্ড নিয়ে সচেতনতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর জামায়াতের সভাপতি এড. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, নগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ, সিপিবি খুলনার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. মো: বাবুল হাওলাদার এবং এনসিপি খুলনা জেলার সংগঠক ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিজিএস’র প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান।

    এই কর্মশালা বাংলাদেশের অবদান থাকা নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ততা’ প্রকল্পের অংশ। মূল আলোচনাটির সূচনা করেন সঞ্চালক জিল্লুর রহমান, যিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি বুঝতে চান, খুলনা অঞ্চলে নারীরা ও তরুণ সংগঠকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও কেন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ছেন। তিনি আরও জিজ্ঞেস করেন, সমাজ, পরিবার বা রাজনৈতিক সংস্কৃতি—কোনটি সবচেয়ে বড় বাধা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পরিকল্পিত গণআন্দোলনের পর সৃষ্ট প্রজন্মের মধ্যে আস্থা সংকটের বিষয়টিও তিনি উত্থাপন করেন, যেখানে নেতৃত্বের পরিবেশ ও যোগ্যতার পরিবর্তে আনুগত্যকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আঙুল তোলে।

    অতিরিক্তভাবে, তিনি বাধ্যতামূলক প্রার্থী কোটা, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন এবং অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য প্যানেলিস্টদের অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত নেতৃত্বের জন্য গুণাবলী কি হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তাদের ধারণা জানা জরুরি।

    প্যানেল আলোচনার পর, উপস্থিত তরুণ ও নারী প্রতিনিধিরা দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মশালার মাধ্যমে দলীয় আলোচনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজনীতিতে নারীর ও তরুণের সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিবন্ধকতাগুলো আরও গভীরভাবে চিহ্নিত হয়, এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের খোঁজও চালানো হয়।

  • কুষ্টিয়ায় ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা

    কুষ্টিয়ায় ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা

    কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্যতম ঘটনা হলো মোশারফ হোসেন মুসা (৫৫) নামের এক ভ্যান চালকের মৃত্যু। তিনি তার নিজ বসতঘরের বারান্দায় দুর্বৃত্তদের দ্বারা কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের শান্তিডাঙ্গা গ্রামে।

    আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত মোশারফ হোসেন মুসা ওই এলাকার মৃত আকবর মণ্ডলের ছেলে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শনিবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যায়। মরদেহের বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোশারফ প্রতিদিনের মতো তার বসতঘরের বারান্দায় ঘুমোতেন। শনিবার রাতেও তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে ভোররাতে পরিবারের লোকজন বাইরে গিয়ে তার রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। বিভিন্নভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান চুরি করতে গিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আবার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি শত্রুতা ও পূর্বশত্রুতার জেরেএ ঘটানো হয়েছে।

    নিহত মোশারফের মেয়ে শিখা বলেন, ‘আমার বাবা মোটেও ভ্যান চুরির জন্য এতটা নির্মমভাবে মারা যেতে পারেন না। এটি শত্রুতার কারণে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’ তিনি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র মতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক ও সাংঘাতিক শত্রুতার নিয়মিত বিরোধ থাকতে পারে।

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি মেহেদি হাসান বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির বুকে হাঁসুয়া বা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি কেবল ভ্যান চুরির জন্য নয়, বরং অন্য কোন কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা হয়। যদি ভ্যান চুরি হয়ে থাকত, তবে সেটাও সাথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালেলছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে।’

  • কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধা নিহত

    কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধা নিহত

    ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের কাছে বাবরা রেলগেটে অজ্ঞাত এক নারী ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি রোববার ভোর সোয়া ৮টার দিকে ঘটে যখন খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাাজশাহীগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকাটিতে আসছিল। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের নিচে তার শরীর দু-খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, নিহত নারী মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।

    একজন কৃষক জানান, ট্রেন আসার আগে তিনি রেলগেটের পাশের মাঠে কাজ করছিলেন। তখন ওই নারীকেই দেখেন, তাকে দেখে মনে হয়েছিল সে মানসিক প্রতিবন্ধী।

    মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের চালকের মাধ্যমে জানতে পারেন যে বাবরা রেলগেট এলাকায় একটি নারী কাটা পড়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন পাঠিয়ে পরিস্থিতি দেখানো হয় ও খবর দেয়া হয় যশোর রেল পুলিশকে। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাচ্ছে।