Category: রাজনীতি

  • বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ হবে: এ্যানি

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ হবে: এ্যানি

    রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলমান বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তাহলে শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে না। এ সময় তিনি সরকারকে দ্রুত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি স্বাভাবিকভাবে মানার আহ্বান জানান।

    আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শহীদ মিনারে এক মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এ্যানি আরও বলেন, শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি পূরণে বিএনপি সব সময় শিক্ষকদের পাশে থাকবে। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের আন্দোলনকে সরকার অবজ্ঞা করতে পারে না, কারণ এটা জাতির অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এবং এই দাবি দায়িত্বশীলতা দেখার সময় এসেছে।

    শিক্ষকদের অনশন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি জাতির জন্য লজ্জাজনক। সরকারকে অবশ্যই তাদের তিন দফা দাবি মেনে নিতে হবে। এ জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, যদি তাদের সরকার আসে, তাহলে সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ করা হবে। তিনি জানান, শিক্ষকদের নয় দিন ধরে সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির তিন দফা দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের শ্রেণীকক্ষে ফিরতে সতর্ক করেছেন।

    আজও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি চলছে, যেখানে তারা সরকারের বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    এর আগে রোববার শিক্ষকরা ভুখা মিছিল করেন, যা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। পরে শিক্ষক নেতােরা আমরণ অনশন ও সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দেন। এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। শিক্ষকের হুঁশিয়ারিপ্রমাণ—তাদের তিন দফা দাবি মেনে এবং প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

  • নাহিদ ইসলাম: পিআর আন্দোলন ছিল কৌশলগত প্রতারণা, জামায়াত সংস্কার চায়নি

    নাহিদ ইসলাম: পিআর আন্দোলন ছিল কৌশলগত প্রতারণা, জামায়াত সংস্কার চায়নি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর আন্দোলন ছিল এক কৌশলগত রাজনৈতিক প্রতারণা। এই আন্দোলন ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পিত হয়েছিল ঐক্যমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করতে এবং সংলাপের মূল আলোচনাগুলো থেকে জনমতকে সরিয়ে দিতে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র ও সংবিধান পুনর্গঠনের প্রশ্নগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলা, যাতে আলোচনা সেদিক থেকে বাঁক নেয় না। তিনি রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এ মন্তব্য করেন।

    নাহিদ উল্লেখ করেন, ঝুকি সৃষ্টির জন্য শুরু হয়েছিল এই ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ আন্দোলন, যা মূলত জামায়াতে ইসলামীর পরিকল্পিত কৌশল ছিল। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য ছিল ঐক্যমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্তি ও বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেওয়া, যাতে জাতীয় সংলাপের মূল বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া যায়।

    তিনি আরও জানান, ভোটের ভিত্তিতে উচ্চতর সংসদীয় ইউনিট বা সেকেন্ড হাউস প্রতিষ্ঠার দাবির পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সাংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই সংস্কার ঘিরে ঐক্যমত্য তৈরির মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল জাতীয় ভিত্তির জন্য আমরা কাজ করতে চেয়েছিলাম।

    তবে, জামায়াত ও তার সহযোগীরা এই সংস্কার আন্দোলনকে ছিনতাই করে নেয় এবং এটিকে একটি প্রযুক্তিগত পিআর ইস্যুতে রূপান্তর করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। তাদের লক্ষ্য কখনোই সংস্কার প্রবলভাবে সমর্থন করা নয়, বরং কৌশলে প্রপাগান্ডা ও অন্যায় অপব্যবহার।

    নাহিদ জানান, জামায়াতে ইসলামি কখনোই সংস্কার বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেয়নি, সেভাবে কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব রাখেনি অথবা সাংবিধানিক ধারাগুলোর প্রতি আন্তরিক ছিল না। তারা কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি।

    তিনি বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনে তাদের অপ্রত্যাশিত সংস্কার সমর্থন ছিল বিশ্বাসের সুযোগ না, বরং একটি কৌশলগত অনুপ্রবেশ। এতে তারা সংস্কারে রঙ ধরে রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত চালানোর চেষ্টা করে। আজ বাংলাদেশের মানুষ এই প্রতারণা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছে, চোখে দেখছে ভিন্ন দৃষ্টিতে। তারা সত্যের পথে উদ্দীপ্ত হয়ে আর কখনো ধোঁকা খাবেন না। আল্লাহর রহমত, এই দেশের সার্বভৌম জনগণ আর কখনো নেক্কার শক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে দেবে না। তারা বিশ্বাস করে, সত্য ও ন্যায়ের জয় হোক, আর এই দেশের জনগণ নিরাপদ থাকুক।

  • সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলায় জুলাই যোদ্ধারা জড়িত নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ

    সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলায় জুলাই যোদ্ধারা জড়িত নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সম্প্রতি সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ঘিরে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সত্যিকার অর্থে অর্থে জুলাই যোদ্ধারা জড়িত থাকতে পারেন না। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদরা অপ্রকাশ্যভাবে প্রবেশ করে এই ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি জনোৎসাহী ও সম্মানের চোখে দেখে ঐ নিরীহ জুলাই যোদ্ধাদের, তাদের ক্ষতি বা অবমাননা এড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দলের ধারাবাহিক সংগ্রামের ফল Sj১৮ গত ছাত্র গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, যা জাতির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস। এই অভ্যুত্থানে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনকে সম্মানিত করার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা কোনভাবেই বিতর্কিত না হন—সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে বিএনপি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বিএনপিকে এই অভ্যুত্থানের বিপরীতে দাঁড় করানোর জন্য যারা উঠেপড়ে লেগে রয়েছে, তারা সফল হবে না। এ বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে বিএনপির নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে তিনি স্বাগত বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, দেশের কিছু ঘটনাকে একটি সূত্রে গেঁথে অপব্যাখ্যা করার অপচেষ্টা চলমান, এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, বিভ্রান্তি ছড়ানো ও বিভ্রান্তিকর অপব্যাখ্যা থেকে বিরত থাকতে।

  • শাপলা চত্বরের আন্দোলনে আসা সকলের জাতীয় স্বীকৃতি দাবি জামায়াতের গোলাম পরওয়ার

    শাপলা চত্বরের আন্দোলনে আসা সকলের জাতীয় স্বীকৃতি দাবি জামায়াতের গোলাম পরওয়ার

    ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে নাগরিকত্বের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সকলের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আব্দুল গনি রোডের ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শাপলা চত্বরের সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের অন্যতম ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর ঘটনার মধ্যে ছিল শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই হত্যাযজ্ঞের বহি:প্রকাশ। বর্তমান পরিস্থিতি মুসলিম উম্মতের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন তিনি।

    তিনি বলছেন, ‘শাপলা চত্বরের নীলনকশাকারীদের বিচার কার্যক্রম যদি প্রতিফলিত হয়, তবে তা জাতির জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শহীদদের দেহ পুড়িয়ে গুম করার কারণে শাপলা চত্বরে শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা আজও অজানা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের সেই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের মানুষ ভীতির মধ্যে রয়েছে।

    সভায় bekend করা হয়, আজ ৭৭টি পরিবারের জন্য ৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।

  • বিএনপিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই

    বিএনপিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই

    আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি মূল নেতৃত্বের মধ্যে কোনো দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নেই বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। এছাড়াও, জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে যোগদান করে নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির কথা, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশ কেমন ভাবছে বিশ্ব, আগামী নির্বাচন ও দলের প্রার্থী নির্বাচন, জোটের পরিকল্পনা, ইশতেহার, জুলাই সনদ, দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দলের কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপি’র অবস্থান, জামায়াত ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, আওয়ামী লীগের বিরোধিতা, ভবিষ্যতের নির্বাচন ও দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করেন।

  • মির্জা ফখরুলের আহ্বানে সবাইকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে এগিয়ে আসার আহবান

    মির্জা ফখরুলের আহ্বানে সবাইকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে এগিয়ে আসার আহবান

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, চলুন আমরা সবাই মিলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় রাজনীতির স্বচ্ছতা ও সামঞ্জস্য বাড়ানো জরুরি, যাতে জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকে।

    আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজিত জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের এক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকাল বেশিরভাগ ট্রেড ইউনিয়ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার ও তাদের স্বার্থে কাজ করতে হবে, যেন শ্রমিক শ্রেণी সমাজের মূল চালিকা শক্তি remains থাকেন।

    ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই চুক্তিতে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে। এটি দেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে আরও সুসংহত ও রাজনীতিকে স্বচ্ছ করে তোলে। এগুলো দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    অপর দিকে, সম্প্রতি পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এসব ঘটনা দেশবাসীর জন্য কোনো ভালো বার্তা দেয় না। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে যে জঞ্জাল সৃষ্টি করেছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে এবং এই প্রক্রিয়াকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও ধৈর্য্যে এগিয়ে নিতে হবে।

    বিজয় ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতি করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সব কাজ সংসদকে ভিত্তিব করে করতে হবে, কারণ গণতন্ত্রের অস্তিত্ব ও কার্যকারিতা একইভাবে অর্থবহ سيكون।

    ঐতিহ্যবাহী মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হবে পরীক্ষার একটি মাধ্যম, যেখানে নির্ধারিত হবে আমরা কি সত্যিই উদার ও অন্তর্ভুক্তিপূর্ণ গণতন্ত্র পাব কি না। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতিফলন।

    সবশেষে, তিনি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানান যে, চলুন সবাই মিলে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর না করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে নিই। তবে, ‘জুলাই সনদে’ এনসিপি স্বাক্ষর না করার বিষয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন, আশা প্রকাশ করেন, তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে স্বাক্ষর করবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

  • সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে উদ্ধারকর্মীদের জড়িত নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ

    সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে উদ্ধারকর্মীদের জড়িত নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সত্যিকার জুলাই যোদ্ধারা জড়িত থাকবেন না। তিনি মনে করেন, কেউ কেউ অপ্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে ঢুকিয়ে ঘটনায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি।

    সালাহউদ্দিন উল্লেখ করেন, বিএনপি-র দলটির জন্য জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান নস্যি করার কোনও সুযোগ নেই। তাদের অবদান ও সংগ্রামই দেশের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মেরুদণ্ড। তিনি এই অভ্যুত্থানকে দেশের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করার চেষ্টা চলছে, যাতে কারও ভাবাবেগ আঘাত না পায়।

    তিনি আরো বলেন, বিএনপি এই অভ্যুত्थানের বিপরীতে দাঁড়ানোর জন্য কেউ যদি অপচেষ্টা করে, তবে তা কোনো সফলতা পাবে না। পাওয়ার মধ্যে, তিনি ক্ষমা চাওয়ার জন্য নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

    সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, দেশের কিছু কিছু ঘটনা একই স্বার্থের সাথে যুক্ত। তিনি মনে করেন, দেশে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্ট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, বিএনপির বক্তব্য বিকৃতি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার।

  • ইসি স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

    ইসি স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনী আচরণ নিয়ে বড় অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী কমিশন নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেন না; তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অন্য কেউ রিমোট কন্ট্রোলে রয়েছেন। রোববার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদে সঙ্গে এক বৈঠকের পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

    হাসনাত আবদুল্লাহ আবেগে বলেন, “আমাদের জন্য শাপলা ছাড়া কোনো বিকল্পই নেই। নির্বাচন কমিশন শাপলা দেওয়ার জন্য কোনও আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারনি। সত্যিই বলতে গেলে, তাদের আচরণ মধ্যযুগীয় রাজা-বাদশাদের মতো।” তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচন কমিশনের এই আচরণ গণবিশ্বাসকে ধব্বন করে তুলছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছে, রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, অথচ এতে আমাদের সন্দেহ জাগে—কোথাও থেকে সুইচ চাপানো হচ্ছে।”

    তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে, এবং তাদের এই পদক্ষেপ নির্বাচনের জন্য বিপজ্জনক। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান কমিশনের উচিত নির্বাচনের দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্যতা নেই। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে নুরুল হুদার মতো পরিস্থিতি আবার ফিরে আসতে পারে।

    এনসিপি নির্দেশ করে, শাপলা ছাড়া অন্য কোনও প্রতীক এখন থেকে স্থানীয় বা রাষ্ট্রীয় নির্বাচনে ব্যবহার হবে না। অবশিষ্ট বিষয়েও বলছি, কমিশনের কাছে শাপলা নিয়ে কোনও আইনি ব্যাখ্যা নেই, তাই রাজনৈতিকভাবেই এই প্রতীকের ব্যবহারে তারা মোকাবিলা করবে।

    বৈঠকParticipated by দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মূসা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই সময় অনুপস্থিত থাকায় দপ্তর সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জুন মাসে এনসিপি নির্বাচন কমিশনের কাছে শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোন প্রতীক চেয়েছিল। পরে তারা কলম ও মোবাইল থেকে সরে এসে শুধুমাত্র শাপলাতেই জোর দেয়। গত ৭ অক্টোবর আবারও শাপলার জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠায়, যেখানে সাতটি প্রতীকের নমুনা চাওয়া হয়। তবে, নির্বাচন কমিশন এই প্রতীকের ব্যাপারে অবহেলা করে বলেছে, নির্বাচনবিধির তালিকা থেকে কোনও প্রতীকের বাছাই করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে এনসিপির অবস্থান অব্যাহত রয়েছে।

  • আইনি ভিত্তি না থাকলে জুলাই সনদের স্বাক্ষর কেবল লোক দেখানো: নাহিদ ইসলাম

    আইনি ভিত্তি না থাকলে জুলাই সনদের স্বাক্ষর কেবল লোক দেখানো: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি কোনও চুক্তি বা সনদ আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে তার স্বাক্ষর কেবল লোক দেখানো এবং প্রতারণামূলক। তিনি শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে নিজ দলের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম জানান, ‘জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করেও এনসিপি রাজনৈতিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। ‘গতকালকের অনুষ্ঠানে যারা অংশ নিয়েছে, তারা হুকুমের অধীন বা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাইরে গেছে।’

    গত শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন কমিশনের সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহণ করে স্বাক্ষর করেন।

    আলোচিত এই সনদ চুক্তিও বলা হলেও, এই অনুষ্ঠানে আধুনিক ও বামপন্থি দলগুলোর মধ্যে কেবল চারটি দল — কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদসহ — অংশ নেয়নি। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ২৫টি দল এই স্বাক্ষরে অংশ নেয়।

    এনসিপির সই না করার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানানো হয়েছে যে, গত কয়েকদিন ধরে সরকারের পক্ষ থেকে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নানা আলোচনা এবং চাপ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সনদের স্বাক্ষরের শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদের স্বাক্ষর কেবল আনুষ্ঠানিকতা। জনগণের প্রত্যাশা বা চাওয়ার কোনও প্রতিফলন তার মধ্যে দেখা যায়নি। এ ছাড়া, যদি কোনও আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হতে পারে।’

    তিনি আরও জানান, ‘অন্য রাজনৈতিক দলগুলো যদি সনদে স্বাক্ষর করে থাকে, আমাদের কোনও আপত্তি নেই; তারা সেটা আনুষ্ঠানিকতার জন্য করে। তবে এখন আমরা দাবি করছি, এটিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হোক।’

    নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, পুরোনো ফ্যাসিস্ট পদ্ধতির সুবিধাভোগীরা আগের কাঠামো ধরে রাখতে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। কিছু রাজনৈতিক দল এই চুক্তিতে সমঝোতা করলেও, এনসিপি তা করেনি। তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এই সনদে স্বাক্ষর না করে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। যারা গতকালের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে, তারা গণঅভ্যুত্থান বা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘সনদটি আইনি দিক থেকে অপ্রতুল হওয়ার কারণে এবং সেটির বাস্তবায়নের ধারণা অস্পষ্ট থাকায় এনসিপি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি।’

  • নীতিগতভাবে শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একমত বিএনপি: মির্জা ফখরুল

    নীতিগতভাবে শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একমত বিএনপি: মির্জা ফখরুল

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন ও তাদের দাবির পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিতে তারা এই দাবিগুলোর সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। তবে, কেউ যদি এই আন্দোলনকে ভিন্ন উদ্দেশ্য করে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) এক গণমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই হুঁশিয়ারি দেন।

    বিনীতভাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাতে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। তারা অঙ্গিকার করে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভিত্তি করে শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য যত উদ্যোগই নেওয়া হয় না কেন, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা না বাড়ানো পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জন কঠিন।

    অতএব, দেশ যদি আবার ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করে বিএনপি।

    একই সাথে, নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, যদি শিক্ষকদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আন্দোলনের নামে স্বৈরাচারী ও অপ্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে কোনো দুষ্টচক্র বা সুবিধাবাদী দল গঠন ও শক্তিশালী করার অপচেষ্টা চালানো হয়, তাহলে বিএনপি কোনোভাবেই সে ধরনের কর্মকাণ্ডের কাছে নতি স্বীকার করবে না। এই ধরনের অপচেষ্টা অবিলম্বে প্রতিহত করতে দলটি দৃঢ় সংকল্প বেধেছে।