Category: রাজনীতি

  • ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক

    ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন তারেক

    বিএনপি নেতা তারেক রহমান নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের ভোট গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোট বাক্স পাহারা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার বিকেল সাড়ে আটটায় চৌদ্দগ্রামের স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

    সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের দিন আগে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন, এরপর ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং ফজরের নামাজের পর সরাসরি ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দিবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যাতে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, কোনো প্রকার অনিয়ম বা জোরজবরদস্তি না ঘটে তাতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    তারেকের বক্তব্যে নেতাকর্মীরা সমর্থন জানালে তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মন্তব্য করেন। সমাবেশে বিকাল থেকেই গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল হয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন এবং মাগরিবের নামাজের আগেই পুরো মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

    কুমিল্লা-১১ আসন (চৌদ্দগ্রাম) এ বছর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করেছেন তিনি। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন দলের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার গঠনে পারলে বিএনপি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। কিছু লোক গত কয়েক দিন ধরে সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলছে বিএনপি মানুষের সাথে ঠকাচ্ছে—এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা আমাকে চেনেন, আমাদের প্রার্থীকে চেনেন। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের কী লাভ? আমাদের আপনাদের কাছে আসতেই হবে, আমরা রাজনীতি করি—ভোট চাই।’’

    তিনি আরো বলেন, বিএনপি পূর্বে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে, তাই অভিজ্ঞতা আছে; পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তা কিভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত করতে হবে সেটাও জানে। চৌদ্দগ্রামকে ‘শস্য ভাণ্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া, মসজিদ-মাদরাসার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানী এবং তাঁদের জন্য অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলেছেন। এছাড়াও চৌদ্দগ্রামে খাল খননের কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ভবিষ্যতে সরকার গঠিত হলে।

    সমাবেশে কথা বলার সময় তারেককে কাশির সমস্যা দেখা দিলে তিনি বলেছিলেন, ‘‘মাথায় ঠান্ডা লেগেছে, জ্বর আসছে—এজন্য জোরে কথা বলতে পারছি না। একটু ধীরে শুনেন।’’ তবে তা সত্ত্বেও তার বক্তব্যে জোরালো ন্যারেটিভ বজায় রেখেছেন।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিরোধীরা বিএনপির বিষয়ে বদনাম করছে — করুক, এতে আমাদের আপত্তি নেই; আমাদের কাজ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কি করতে পারি সেই পরিকল্পনাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে ‘‘ওয়ান-টু-থ্রি’’ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

    সমাবেশ শেষে তারেক আরও কুমিল্লা ও চাঁদপুরের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের নিয়ে মৌখিক সমর্থন ও প্রচার করেন। তিনি আগের ও পরের দিন চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দান, ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ ও সোয়াগাজী ডিগবাজি মাঠে বক্তব্য রাখেন। ভবিষ্যতে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের বালু মাঠেও সমাবেশ ও ভাষণ রাখার কথা রয়েছে।

    সমাবেশে তিনি আবারও ধানের শীষ প্রতীককে জোর দিয়ে দাবি করেন এবং ভোটারদের ওই প্রার্থীকে বিজয়ী করে তোলার আহ্বান জানান।

  • তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে

    তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এলে দলটি যে কোনও মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। তিনি এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে।

    সভায় তারেক রহমান বলেন, আমরা যত মত পরিকল্পনা গ্রহণ করই না কেন, দুটি বিষয় ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সেই পরিকল্পনা সফল হবে না। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি প্রমাণ করেছে—এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে শুধু বিএনপিই সক্ষম। তিনি এই দুইটি বিষয়কে আখ্যায়িত করেন জনগণের প্রাপ্য অধিকার; বিশেষ করে মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা নিরাপদে চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি নির্বাহ করতে পারে।

    দলের চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আইনশৃঙ্খলা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, অতীতে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন অনৈতিক কাজে জড়িত দলের লোকদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। একই নীতি প্রয়োগ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক রহমান সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে—সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’’ তিনি যোগ করেন, চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়; একটি নিরাপদ চট্টগ্রাম হলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হবে।

    শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের অঙ্গিকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার গঠন করলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরি ও দক্ষতাভিত্তিক করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেটই পাবেন না, বরং নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন এবং সহজে চাকরি পাবেন—এটাই সরকারের লক্ষ্য হবে।

    স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি জানান, গ্রামে-গ্রামে নারীর এবং শিশুর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এর ফলে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাবে। সম্পূর্ণ শারীরিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে সেবা পৌঁছে দেওয়া তাদের অগ্রাধিকার হবে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও যন্ত্রপাতি পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল-নালা খনন এবং পুনরুদ্ধারের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত পরিকল্পনায় তিনি বলেন, বিএনপির আমলে ইপিজেড তৈরি হয়ে লাখো মানুষকে কাজ করেছে—পুনরায় ক্ষমতায় এলে আরও ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

    তারেক রহমান শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ তিনি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন। দলের সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন এবং পরে পলোগ্রাউন্ডের মহান সমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরী কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছিল; প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন হয়েছিল এবং মঞ্চসহ এলাকা তিন স্তরে ভাগ করে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

    সমাবেশে তারেক রহমান ব্রিটিশ বাংলায় মতপ্রকাশ ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন এবং জনসমক্ষে আরও একবার বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে—দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা তাদের সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার থাকবে।

  • দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, ক্ষমতায় এলে তারা কোনো প্রকার দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতিকে সহ্যও করবে না। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই দেশ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য মসনদে বসতে চাই না; আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।’’

    প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একটি দল বলছে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, অথচ তাদের ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীরই ঋণখেলাপি হওয়া সন্দেহ আছে; কিভাবে তারা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?’’ তিনি সমালোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে বলেন, তাদের কায়দা করে প্রার্থী করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

    নিজের এক পূর্বোক্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমার একটি মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। আমি বলেছিলাম—এক জালিমকে বিদায় করে আর এক জালিমকে হাতে দেশ তুলে দেয়া মানুষ চায় না। আজ কি আমার সেই কথাই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?’’

    ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আগামী ১২ তারিখে যদি কোনো দুর্বৃত্ত ভোট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’’

    দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘সম্প্রতি বিভিন্ন দিক থেকে কিছু উৎপাত দেখা যাচ্ছে। যখন বাংলাদেশি জনগণ স্বাধীনতায় তার পথ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, তখন বহিরাগতরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে কিন্তু শক্ত কণ্ঠে অনুরোধ করব—মেহেরবানী করে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাবেন না। এতদিন নাক গলিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে সামলে নিন; আর নাক গলানো বন্ধ করুন। বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে।’’

    তিনি জানান, সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চান, তবে কারো আধিপত্য মেনে নেয়া হবে না। ‘‘আমরা দেশের বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির নাক গলানো মেনে নেব না,’’ যোগ করেন জামায়াত আমির।

    জুলাই ধর্মযুদ্ধ/সঙ্ঘর্ষ—যে আন্দোলন বোঝানো হয়েছে—কে কোনো ব্যক্তির সম্পদ বলে দেখতে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘‘জুলাই ১৮ কোটি মানুষের। কাউকে এককভাবে এই যুদ্ধের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হলে শহীদদের অবমাননা হয়। এই সংগ্রামের মাস্টারমাইন্ড ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষ।’’

    সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আবেদন করেন—দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে, ভোট দিয়ে তাদের একটা সুযোগ দেন। তিনি আশ্বাস দেন, ‘‘আল্লাহতে ভরসা রাখুন। আমরা চাঁদা নেব না, চাঁদা নিতে দেবও না। আমরা বলেছি—দুর্নীতি আমরা করব না, দুর্নীতি আমরা সহ্যও করব না।’’

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সব ধরনের দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান। শনিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে এক বিশাল সমাবেশে তিনি এই ঘোষণা দেন।

    সমাবেশে তারেক বলেন, যে পরিকল্পনাই নেওয়া হোক না কেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। অতীত অভিজ্ঞতায় বিএনপি প্রমাণ করেছে দুর্নীতির মোকাবিলা একমাত্র তাদের দ্বারা সম্ভব। এজন্য ক্ষমতায় এলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির শিকড় নীচে করে দিতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি কেবল কাগজে কথা বলে না—গতবার সরকারে থাকাকালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। আগামী দিনে জনগণ যদি তাদের পাশে থাকে, ইনশাআল্লাহ তারা কঠোরভাবে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে—সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’’ সমাবেশে তিনি চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ ও কল্যাণমুখী পরিবেশ নিশ্চিতের আক্ষেপও ব্যক্ত করেন এবং নগরীর নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্ব প্রশ্নে দেন।

    শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে তারেক বলেন, জনতা যদি ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের রায়ে সরকার দায়িত্ব দিলে প্রতিটি স্তরে শিক্ষা পরিবর্তন করা হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট নয়, স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যোগ্যতা পাবে।

    স্বাস্থ্যখাতে তিনি বলেন, গ্রাম-গঞ্জে প্রত্যেক পরিবারের দরজায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। এজন্য প্রতি স্তরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা আছে, যাতে মা-মেয়ে ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পেতে পারে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষার বিষয়ে তারেক বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল কেটে ও নালা খোঁজার কর্মসূচি নেওয়া হবে—কারণ অনেক জায়গায় খাল-নালা বন্ধ হওয়ার ফলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করান, বিএনপির আমলে ইপিজেড গড়ে ওঠায় লাখো মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে আবার আনলে আরও ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

    পলোগ্রাউন্ড সমাবেশের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে এসেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, এরপর তিনি নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রাত্রিযাপন করেন এবং শনিবার সকালে তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। সমাবেশের পর তার পরিকল্পিত সফরে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভা রয়েছে।

    মহাসমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরী কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল; প্রায় দুই হাজার পুলিশ মোতায়েন করে মঞ্চসহ এলাকা তিন স্তরে—রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন; সে সময় তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেন ও লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তৃতা করেন।

  • চাঁদাবাজদের জন্য ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    চাঁদাবাজদের জন্য ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখন ‘চাঁদাবাজি’ নামক এক নিকৃষ্ট পেশার জন্ম হয়েছে এবং তাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা কারো সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। যারা এই পথ বেছে নিয়েছেন, তারা ফিরে আসুন; না হলে বিচারকে মুখোমুখি হতে হবে।’

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ নির্বাচনী আসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেন।

    বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান গত জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এক সম্মাননা স্মারক তিনি এক শহীদের বোনের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘এই সম্মান আমার প্রাপ্য নয়; এটি সেই শহীদদের প্রাপ্য যারা জালিমের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল।’

    যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা যুবকদের হাতে ‘বেকার ভাতা’ তুলে দিয়ে তাদের অলস করে রাখতে চাই না। তাদেরকে দক্ষ কারিগরে পরিণত করতে হবে, যাতে তারা দেশের গঠনকারী শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষা, আলিয়া বা কউমি—এই সব মাধ্যমেই কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

    নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আমির বলেন, ‘আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। তাদের কর্মক্ষেত্রে ও যাতায়াতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, শহরগুলোর ব্যস্ত সময়গুলোতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য বিশেষ ইভনিং বাস সার্ভিস চালু করা হবে এবং সরকারি বাসের নিচতলাটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে।

    নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি অ্যাপস চালু করবো—একটির মাধ্যমে চাঁদাবাজদের গোপনে চিহ্নিত করা যাবে, আর অন্যটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যা জানাতে পারবে।’ এছাড়া নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ছয় মাসে একবার সরাসরি জনগণের সামনে হাজির হয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর ও সম্পদের হিসাব দিতে হবে বলেও তিনি জানান।

    ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণ নিয়ে তিনি কঠোর এক হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, ‘যদি আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে ওই এলাকার এমপি, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরে চারবার সেই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করানো হবে। যখন তারা নিজে ওই পানিতে নামবেন, তখনই নদী পরিষ্কার রাখতে তাদের বাধ্য করা সম্ভব হবে।’

    জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা নেই। জুলাইয়ের চেতনা এখনও জাগ্রত। কেউ যদি নির্বাচনের ফলাফল নেওয়ার পরে অন্যভাবে বদলানোর চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে।’ প্রশাসনকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থেকে বিরত থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বানও করেন তিনি।

    বৃহৎ এই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা, শহীদ পরিবারগুলোর সদস্য এবং সাধারণ মানুষের বিশাল সমাগম ছিল। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ১২ তারিখ ‘ইনসাফ ও আজাদির’ পক্ষে রায় দেবেন—এভাবেই শেষ করে তিনি তাঁর বক্তব্য।

  • তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করবে

    তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করবে

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে দলটি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির উৎস বন্ধ ও দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করবে। তিনি আজ শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ কথা জানান।

    তারেক বলেন, পরিকল্পনা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়—আমরা যদি দুর্নীতি ও অনৈতিকতাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারি, তবে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। অতীতের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে তিনি দাবি করেন যে দুর্নীতি দমন করায় বিএনপির সক্ষমতা আছে এবং জনগণের সামনে এই দলের প্রতিশ্রুতি সেটা নিশ্চিত করবে।

    বক্তৃতায় তিনি স্মরণ করেন যে বিএনপি আগে ক্ষমতায় থেকে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা মজবুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলে দলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদেরও ছাড় দেয়া হবে না এবং সংহতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

    তারেক জনসমক্ষে ভোটের অধিকার রক্ষা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যাতে কারো দ্বারা ভোট অধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। চট্টগ্রামের মানুষসহ সারাদেশের জনগণ নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের দাবি জানায়; এ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনলেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনমান ফিরবে বলেও দাবি করেন তিনি।

    শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক বলেন, ক্ষমতায় এলে প্রতিটি স্তরে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দেয়া হবে—যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল সার্টিফিকেট না নিয়ে বাস্তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম হয়।

    স্বাস্থ্য খাতে তিনি বলেন, বিস্তৃত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়ার বদলে গ্রামে-গঞ্জে সেবা পৌঁছে দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ লক্ষে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা আনা হয়েছে, যাতে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষক সুরক্ষার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন সহায়তা পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল কেটে পুনরায় ঢালু ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে—কারণ অনেক এলাকা খাল-নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পানিতে ডুবে যায়।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সম্পর্কেও তারেক বলেন, বিএনপির আমলেই ইপিজেড গড়ে উঠেছে এবং লাখো মানুষ কাজ পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে দল পুনরায় ক্ষমতায় এলে আরও ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করা হবে।

    দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ দুই দশক পর শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে ফিরেছেন তারেক রহমান। তিনি ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যে ৭টা ২০ মিনিটের বিমান বিজি-১৪৭ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রাত্রিযাপনের পর রোববার সকালে তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে যোগ দেন এবং পরে পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশে অংশ নেন। সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

    সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীকে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে; প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং মঞ্চসহ পুরো এলাকা রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন—এই তিন স্তরে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    তারেক বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও পরবর্তী গণআন্দোলনের পরে দেশ একটি অর্থবহ পরিবর্তন চাইছে—যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসা পাবে। কেবল সমালোচনাই নয়, ক্ষমতায় এলে বিএনপি বাস্তব কাজ করে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে—এটাই তাদের বার্তা।

  • একটি দল চক্রান্তের জাল ফেলেই আমাদের একা করতে চেয়েছিল

    একটি দল চক্রান্তের জাল ফেলেই আমাদের একা করতে চেয়েছিল

    ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে বলেন, একটি দলের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে তারা আমাদের একা করে তুলতে চাইছিল। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, সেই দলই এখন নিজেদের একা হয়ে গেছে। শনিবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি ও ছনবাড়ি বাজারে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি। এই জনসভার আয়োজন হয় মুন্সিগঞ্জ-১ ও ২ আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে।

    চরমোনাই পীর জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, দেশ চালানোর জন্য স্পষ্ট নীতি ও আদর্শের দরকার। তিনি বলেন, আমরা ইসলামের পক্ষে ওয়ান বক্স পলিসির কথা বলেছি, যা এখনো আমাদের মূলনীতি। তিনি যোগ করেন, একমাত্র মুসলিম স্বার্থে কথা বলছি, অন্য কেউ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য বলছে না। জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক দল ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে আমাদের একা করে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদেরই এখন একা হতে হয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামারা আমাদের সঙ্গে রয়েছে, আল্লাহও আমাদের পাশে আছেন।

    চরমোনাই পীর আরো বলেন, বিগত ৫৫ বছরে ব্যক্তি ও দলের উন্নয়ন হয়েছে, তবে দেশের সার্বিক কল্যাণ হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশকে নতুন করে গড়ার জন্য এক সুযোগ এনেছে। যারা পূর্বে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন বন্দোবস্তে ভোট দিতে হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় এলে জনগণের টাকাপয়সা কারো পকেটে যাবে না, দুর্নীতি হবে না, টাকা পাচার রোধ হবে, সন্ত্রাসও থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

    সর্বোপরি, তিনি বলেন, আমরা ১৯৮৭ সাল থেকে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে আসছি, কোনো লোভ বা লালসায় নীতির পরিবর্তন করিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছে, যার কোনো লাভ হবে না। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানরা এই রাষ্ট্র ও এই জাতিকে গড়বে, এটাই আমার বার্তা। তিনি মুন্সিগঞ্জ-১ ও ২ আসনে নিজেদের দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন— মুন্সিগঞ্জ-১-এ সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ-২-এ দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি কে এম বিলাহ হোসেন।

  • নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড নেই: নাহিদ ইসলাম

    নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড নেই: নাহিদ ইসলাম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যাপ্ত সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার কথা মন্তব্য করেছেন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি পক্ষ তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু এতে তারা সফল হচ্ছে না। এই অপপ্রয়াসগুলো শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, যখন আসল দূর্ণীতির ফলাফলের প্রতিফলন হবে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট তুলে ধরে সমাধানের আশ্বাস দেন এবং বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন শুরু হচ্ছে। ভোটাররাও ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যকে একান্তভাবে পছন্দ করছেন।

    নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে তাদের ভোট দিতে পারেন, সে জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যাকে ইচ্ছে ভোট দিন, তবে চিন্তা-ভাবনা করে ভোট দিন। কারণ এই ভোট দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটাররা যেন কোনো প্রকার প্রলোভন, সুবিধা বা মিথ্যা আশ্বাসে বিভ্রান্ত না হন। বরং যতটা সম্ভব যোগ্য ও সত্যকার প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে, যে এলাকার উন্নয়ন ও দেশের পরিবর্তনে সক্ষম।

    প্রচারণা শেষে তিনি শাপলা চত্বরের ভোট দিতে ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

  • বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, জনগণের আস্থা হারাবো না

    বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, জনগণের আস্থা হারাবো না

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনো রাজনীতি করে নিজের বা তার পরিবারের সম্পদ সংগ্রহ করেননি। বরং বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, জনগণের বিশ্বাস ও আমানতের খেয়ানত তিনি করবেন না।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের বরুণাগাঁও মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী গণসংযোগে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই আমি ও আমার পরিবারের পরিচিত। আমরা রাজনীতি করে মালামাল বা অর্থসম্পদ সংগ্রহ করিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজে আদর্শ প্রতিষ্ঠা ও জনতার অধিকার রক্ষায় কাজ করা।

    তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, যদি কেউ আওয়ামী লীগের মতো দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি কখনোই সেই পথে হাঁটবে না।

    বিএনপির ধর্মীয় ব্যবহারের মানসম্মততা নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার এখতিয়ারবিহীন। জামায়াতে ইসলাম ১৯৯১ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, তবে তারা কখনো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

    বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারেক রহমান সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম। রাজনীতি করলে সরকার গঠন হলে কৃষকরা সহজে সার পাবে, কোন সার সংকট হবে না। মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও যোগ করেন, আমরা একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই এবং অবাধ নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই। শুধু জোরজুলুম বা স্লোগানের মাধ্যমে ভোট পাওয়া যায় না, জনতাকে সঙ্গে নিয়ে সত্যিকারের কাজ করে মন জয় করতে হবে।

    এ সময় ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের আবেদন করেন ও দেশবাসীর জন্য দোয়া চান। গণসংযোগে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক।

  • জামায়াতের আমিরের চাঁদাবাজদের জন্য কঠোর বার্তা

    জামায়াতের আমিরের চাঁদাবাজদের জন্য কঠোর বার্তা

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যাপকভাবে স্পষ্ট করেন, দেশে বর্তমানে এক নীতিভ্রষ্ট ও অপবিত্র শিল্পের মতো চাঁদাবাজির উত্থান হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চাঁদাবাজদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কার্ড দেখানো হয়েছে—কমপ্লিট লাল। আমরা কোনভাবেই কারো সন্তানকে চাঁদাবাজিতে যুক্ত হতে দেব না। যারা এই পথে যেতে চান, তাদের উচিত ফিরে আসা, না হলে তাদেরকে কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

    আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি), ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন। এই জনসভা ছিল নির্বাচনের আগের প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক এক ক האירוע, যেখানে ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় আন্দোলনে শহীদ শহীদদের স্মৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সভার শুরুতেই তিনি এক শহীদ বোনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে বলেন, “এটি আমার নয়, এই সম্মান তাদের প্রাপ্য—শহীদ মাতৃভারতীরা যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়য় ছিল।”

    আমির যুবসমাজের জন্য বার্তা দেন, “আমরা তাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অকার্যকর করতে চাই না। বরং তাদের কর্মক্ষম করে তুলতে চাই, যাতে তারা দক্ষ কারিগর হয়ে নিজ নিজ খাতে দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। শিক্ষার যেকোনো মাধ্যম—সাধারণ, আলিয়া বা কউমি—সেখানে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “আমাদের মা-বোনদের সম্মান আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। তাদের নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ার) বড় শহরগুলোর বিভিন্ন রাস্তায় শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য ‘ইভিনিং বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে, এবং সরকারি বাসের নিচতলা মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।”

    নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, “আমরা দুটি অ্যাপ চালু করব—একটি চাঁদাবাজদের গোপন চিহ্নিত করতে, এবং অন্যটি থেকে জনগণ তাদের সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে পারবে। যদি নির্বাচন আমাদের হাতে থাকে, তবে প্রতি ছয় মাসে একবার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সামনে হাজির হয়ে তাদের কাজের হিসেব দিতে হবে।”

    জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণে তিনি সতর্কবার্তা দেন, বললেন, “যদি আমরা ক্ষমতা পাই, তবে ওই এলাকার এমপি, কাউন্সিলর ও মেয়ররা বছরে চারবার ওই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করবেন। তখন তাদের বুঝতে হবে, এই নদী পরিষ্কার না হলে তারা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

    জুলাই আন্দোলনের শহীদদের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান আদায়ের দাবিও জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা করা হবে না। juli গণহত্যার চেতনা এখনও বেঁচে আছে। কোন পক্ষ অবাঞ্চিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করলে, ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের পক্ষ নিতে হবে, কোন দলের নয়, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

    জনসভায় বিরাট অংশগ্রহণ ছিল—দেশের বিভিন্ন জেলা ও স্থান থেকে আসা নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, এবং সাধারণ জনগণ। ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি অনুরোধ করেন আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে স্বাধীনতা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য।