বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এলে দলটি যে কোনও মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। তিনি এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে।
সভায় তারেক রহমান বলেন, আমরা যত মত পরিকল্পনা গ্রহণ করই না কেন, দুটি বিষয় ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সেই পরিকল্পনা সফল হবে না। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি প্রমাণ করেছে—এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে শুধু বিএনপিই সক্ষম। তিনি এই দুইটি বিষয়কে আখ্যায়িত করেন জনগণের প্রাপ্য অধিকার; বিশেষ করে মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা নিরাপদে চলাফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি নির্বাহ করতে পারে।
দলের চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আইনশৃঙ্খলা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, অতীতে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন অনৈতিক কাজে জড়িত দলের লোকদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। একই নীতি প্রয়োগ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
তারেক রহমান সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে—সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’’ তিনি যোগ করেন, চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়; একটি নিরাপদ চট্টগ্রাম হলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হবে।
শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের অঙ্গিকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সরকার গঠন করলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরি ও দক্ষতাভিত্তিক করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেটই পাবেন না, বরং নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন এবং সহজে চাকরি পাবেন—এটাই সরকারের লক্ষ্য হবে।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি জানান, গ্রামে-গ্রামে নারীর এবং শিশুর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এর ফলে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাবে। সম্পূর্ণ শারীরিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে সেবা পৌঁছে দেওয়া তাদের অগ্রাধিকার হবে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও যন্ত্রপাতি পায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল-নালা খনন এবং পুনরুদ্ধারের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত পরিকল্পনায় তিনি বলেন, বিএনপির আমলে ইপিজেড তৈরি হয়ে লাখো মানুষকে কাজ করেছে—পুনরায় ক্ষমতায় এলে আরও ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।
তারেক রহমান শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ তিনি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন। দলের সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন এবং পরে পলোগ্রাউন্ডের মহান সমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরী কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছিল; প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন হয়েছিল এবং মঞ্চসহ এলাকা তিন স্তরে ভাগ করে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সমাবেশে তারেক রহমান ব্রিটিশ বাংলায় মতপ্রকাশ ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন এবং জনসমক্ষে আরও একবার বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে—দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা তাদের সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার থাকবে।
