Category: রাজনীতি

  • দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করণে গুরুত্ব দরকার: তারেক রহমান

    দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করণে গুরুত্ব দরকার: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাঁর জন্য এই শহরের সঙ্গে তার গভীর আবেগ বিদ্যমান। যিনি এই মাটিতে শহীদও হন। চট্টগ্রামের ছেলে খালেদা জিয়াকে তিনি ‘দেশনেত্রী’ উপাধি লাভ করেছিলেন। এসব কারণে এই শহর তাঁর পরিবারের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করছে। দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, যাতে প্রত্যেক নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিভিন্ন সমালোচনা করতে পারি; কিন্তু এতে কারো উপকার হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যা ক্ষমতা গ্রহণের সময়ে সব সময় মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের অ升তি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যাতে তারা সুবিধা পায়।

    তিনি আরও বললেন, চট্টগ্রামের অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা। খাল-নালা বন্ধ হয়ে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি বলেন, খাল কাটা উদ্যোগ নেওয়া হবে। চট্টগ্রামে বিভিন্ন ইপিজেড রয়েছে যেখানে লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এগুলি বিএনপির আমলে অনুষ্ঠিত হয়। আবার ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আমাদের ভোটে জয় লাভ করে ক্ষমতায় আসতে পারি, তাহলে আরও নতুন ইপিজেড তৈরি হবে। ফলে চট্টগ্রাম হবে দেশের অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

    তিনি বলেন, দেশের পরিকল্পনাগুলোর সফল বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি দরকার। প্রথম, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অতীতে বিএনপি দেশ পরিচালনা করে তখন যাতে অপরাধ ও অস্থিতিশীলতা কম হয়, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্বিতীয়, দুর্নীতি দমন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ সংগ্রাম করেছেন, এবং ভবিষ্যতে যদি কেউ দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়, তাহলে কোন ছাড় নয়।

    পরিশেষে তিনি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিতে অনুরোধ করেন। বলেন, এই বছর আগে থেকেই ধন্যবাদ জানিয়ে, তাহাজ্জুদে নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দেবেন। গত ১৫ বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আবার সেই ষড়যন্ত্র রুখতে এবার ধানের শীষে ভোট দিন।

    একই সঙ্গে, রোববার ভোর থেকেই নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। কেউ হেঁটে, কেউ মিছিল করে যোগ দেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পরে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। সমাবেশের অংশ হিসেবে নানা ব্যানার-ফেস্টুনে পুরো এলাকা সেজে ওঠে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ দিয়ে তারেক রহমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং রাত কাটান। তিনি রোববার সকালে তরুণ নেতাদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন, এরপর মহাসমাবেশে যোগ দেন। তার চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পথসভায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

    সেই সঙ্গে, মহাসমাবেশের জন্য চট্টগ্রাম শহর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সমাবেশের মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।

    উল্লেখ্য, তারেক রহমান ২০০৫ সালে শেষবার চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। তখন তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন ও লালদিঘী মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেন।

  • বিএনপি নেতাকে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

    বিএনপি নেতাকে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

    ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র, যার উদ্দেশ্য জনগণের মনোভাবকে অস্থিতিশীল করে তুলে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে আওয়ামী স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর পায়ে পা মুড়ে থাকা দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশকে অস্থির করে তুলছে। তারা নানাভাবে অরাজকতা ও নাশকতা চালিয়ে সরকারের অস্থিরতা বাড়িয়েছ으며, এই সব অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হাসান মোল্লার উপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব হবে। অন্যথায়, অপ্রতিরোধ্য অরাজকতা আরও বাড়তে পারে, যা দেশের জন্য হতাশাজনক।’

    ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, ‘তবে শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করে চলা সম্ভব নয়; আমাদের সবাইকে একত্রিত হতে হবে, যেন গণতন্ত্রেরacal ভবিষ্যত রক্ষা এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের সকল দল, মত ও পেশার মানুষ এক হয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে। গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে অবশ্যই এক নিরাপদ, ভয়শূন্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

    অভিযোগের বিন্দুতে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তাকে সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার (৪২) উপর গুলি চালানো হয়। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

  • ভোটের মাঠে উত্তাপ ও হিংসাযুদ্ধ: প্রচারণায় বাড়ছে বিষোদগার ও সহিংসতা

    ভোটের মাঠে উত্তাপ ও হিংসাযুদ্ধ: প্রচারণায় বাড়ছে বিষোদগার ও সহিংসতা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দ্বিতীয় দিন থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান রাজনৈতিক উত্তাপে প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দেশের শীর্ষ স্থানীয় ও জাতীয় নেতারা নির্বাচনি জনসভার মাধ্যমে একে অন্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছুঁড়েছেন। একই সঙ্গে, কেরানীগঞ্জে গোলাগুলি ও ঢাকায় এক প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান বিকেলে রাজধানীর ভাসানটেকের বিআরবি স্কুল মাঠে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, “দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকার অতি গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৫ বছর ধরেই ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নানা পরিকল্পনার মাধ্যমে ভোটের যাবতীয় প্রক্রিয়া ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এবার জনতার সরকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।” এই স্মরণসভায় তিনি ভোটারদের সাথে সরাসরি কথা বলে এলাকার গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও দেন।

    উত্তরবঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যস্ত সময় কাটান। তিনি পঞ্চগড় চিনিকল মাঠের জনসভা শেষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে সমাবেশ করেন। দিনাজপুরে তিনি বিশেষ করে বিএনপি-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি করি না, কারও কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বিচারও হবে না। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রভাবশালী হবে।” অন্যদিকে, খুলনায় দলের মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তারেক রহমানের বক্তব্যের বড় ধরনের সমালোচনা করেন।

    কেরানীগঞ্জে সহিংসতা ও মির্জা ফখরুলের প্রতিবাদ:
    গত রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের পাশে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে দলীয় সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে আহত করে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এই ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার, যা নির্বাচনি পরিস্থিতিকে অশান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ।

    নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী জনসভা:
    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বা চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, “চব্বিশের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশ সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। আমরা প্রথমে ৫ দল ও পরে ৮ দলের সমন্বয়ে পরিচালিত ইসলামী নীতির মাধ্যমে দেশটিকে আলাউ করতে চেয়েছিলাম। তবে কিছু স্বার্থপর দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে ও ইসলামের নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশ্বাসী, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ চালাবে না, বরং ধর্মের লেবেল দিয়ে চতুরতা করছে।” শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জন্য হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হত্যাচেষ্টা:
    ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় সন্ধ্যায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণসংযোগে গেলে, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ওপরে ডিম ও নোংরা পানি ছুঁড়ে। এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাসীরুদ্দীন তার কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

    চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি:
    নগরীর বাড্ডার বাঁশতলা এলাকায় গঠন করা সমাবেশে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণজোয়ারে ভয় পেয়ে কিছু বড় দল আতঙ্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি ঘোষণা দিচ্ছি, নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের কঠোরভাবে প্রতিহত করব।”

    বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি:
    নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রচারণার সময় দলের নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছে। বিএনপি-প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সূত্রাপুর_LOCে এক সভায় হুশিয়ারি দেন, “বিএনপি চাইলে ঢাকায় জামায়াত-শিবিরের জনসমাগম নিষিদ্ধ করবে।” তিনি তাদের দমন-নিপীড়নের ওপর সরাসরি সতর্কতা জারি করেন।

    অন্যদিকে, খুলনায় জামায়াতের মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “লন্ডন থেকে এক ব্যক্তি মুফতি ডিগ্রি নিয়ে আসা একজনের নামে কুফরি ফতোয়া দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত বাড়াবাড়ি। দীর্ঘদিন সঙ্গেই থাকায় ধৈর্য ধরে থেকেছি। এর উত্তরে তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসনের নাম উল্লেখ না করে, কুফরি ফতোয়া দিচ্ছেন—এটি অনেক বাড়াবাড়ির উদাহরণ।” কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যারা বাসায় গেলে, তাদের আটকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এটি এক ধরনের হয়রানি।

  • নর্থ বেঙ্গলের উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

    নর্থ বেঙ্গলের উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি তারা সরকার গঠনে সক্ষম হন, তবে নর্থ বেঙ্গলের মরা নদীগুলোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে। নদীগুলোর জীবনী ফিরে এলে নর্থ বেঙ্গলের মানুষও আবার জীবনের স্বাভাবিকতা ফিরে পাবেন, ইনশাআল্লাহ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বল putihেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নর্থ বেঙ্গলকে একটি কৃষিক্ষেত্রভিত্তিক আধুনিক রাজধানীতে রূপান্তর করা। এখানকার মানুষ সহজ জীবন আর কঠোর শ্রমের মাধ্যমে জীবিকার অন্নসংস্থানের জন্য সন্তুষ্ট থাকেন। তাদের এই পরিশ্রমের ন্যায্য স্বীকৃতি দেয়া হবে। গত ৫৪ বছরে বহু নদী ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্য নদীগুলোর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে হবে। নদী যদি জীবিত থাকে, তাহলে উত্তরবঙ্গের মানুষও প্রাণ ফিরে পাবে। তিনি আরও বলেন, চুরি করা টাকা ফেরত নিয়ে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের হাত বন্ধ করে দিলে উন্নয়ন সম্ভব হবে। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না। আমাদের একমাত্র ভয় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। বাংলাদেশে কোনও আধিপত্যবাদের ছায়া দেখতে চাই না। তবে তবে সকল দেশের সভ্যতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে থাকতে চাই। কারো ওপর খবরদারি করতে চাই না, আবার কারো খবরদারিতেও চাই না। চাঁদাবাজদের ভীতি না দেখানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাতা নয়, আমরা কাজ দেবো। আপনাদেরও কাজে লাগাবো। আমরা আপনাদের সম্পদে পরিণত করতে চাই। এই মাটিকে ভালোবাসি বলেও তিনি উল্লেখ করেন, শত জুলুমের পরও আমরা কোথাও না গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। আল্লাহর ইচ্ছায় আগামী দিনেও আপনাদের সঙ্গে চলতে চাই। মায়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, হ্যাঁ, ভোটের জোয়ার তুলতে হবে। এই জোয়ারে অতীতের দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতি ভেসে যাবে। শেষে গাইবান্ধার ৫টি সংসদীয় আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। উল্লেখ্য, এই আসনের সবকটিই জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা। অন্য কোনো দলের প্রার্থী নেই। প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই পাঁচজনকে আপনি আমানত হিসেবে রাখুন। এই আমানত আমরা আপনাদের কাছে উপহার হিসেবে চাচ্ছি।

  • মির্জা ফখরুলের ভাষণে জামায়াতের স্বাধীনতা বিরোধিতা ও নির্বাচনের আহ্বান

    মির্জা ফখরুলের ভাষণে জামায়াতের স্বাধীনতা বিরোধিতা ও নির্বাচনের আহ্বান

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। একাত্তরে তাদের কারণে দেশের জনগণ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল এবং তারা লুটপাটও চালিয়েছিল। আজ আবার তারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটের জন্য আসছে, তবে আমরা (বিএনপি) স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলি। আমরা যুদ্ধ করে এই দেশ মুক্ত করেছিলাম, কখনো অন্যের依র ওপর নির্ভর করিনি।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কান্দরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আজও তাজা হয়ে ওঠে। আমরা নিজেদের রক্তে লালন করে এই স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে হুঁকুমত নিয়ে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলাম। কেউ বাহির থেকে এসে আমাদের জন্য যুদ্ধ করেনি। নিজস্ব সংগ্রামে নিজেদেরই স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘যারা তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আজ তারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট চাচ্ছে। আপনাদের বিচার করতে হবে—they স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না, নাকি বিপক্ষে।’

    অন্য এক বক্তব্যে তিনি জানান, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ড মা-বোনদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি হাতিয়ার যেখানে তারা পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য সরাসরি উপকৃত হবেন।’

    এছাড়াও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর কথা জানান মির্জা ফখরুল। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা নানা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতিতে স্বাস্থ্যকার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

    আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি আপনাদের ধানের শীষে ভোট চাই। আপনারা যখন আমাকে সমর্থন করেন, তখন আমি সংসদে বসে জনগণের জন্য কথা বলার চেষ্টা করি।’

    পথসভায় উপস্থিত অনেক ভোটার মঞ্চে উঠে বিগত সময়ে সংসদ সদস্য হিসেবে মির্জা ফখরুলের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। তারা কৃষি কাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পসহ অন্যান্য উন্নয়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নের জন্য প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    নির্বাচিত হলে গ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

  • মাহদী আমিনের দাবি: ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অপপ্রচার কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর

    মাহদী আমিনের দাবি: ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অপপ্রচার কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর

    বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ভারত ও বিএনপির মধ্যে চুক্তি নিয়ে প্রচার চালানো সম্পূর্ণ অর্বাচীনতা এবং অপপ্রচার। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালকে গুলশানে বরাবরের মতন তাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    মাহদী আমিন ব্যাখ্যা করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে যে দাবি করা হচ্ছে, তা একেবারেই ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নানা দল ও নেতাদের মাঝে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এই দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব নয়, কারণ সেটি সত্যের সঙ্গে মিল নেই।

    তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দোষারোপ আর বিতর্ক সৃষ্টি করা। যদি কেউ এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ায় বা ভুল তথ্য বিতরণ করে, তবে সেটি উনার অজ্ঞতা বা ষড়যন্ত্রের ফল। তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপি এখনও কোনও চুক্তি বা সমঝোতা করেনি, যা দেশবিরোধী বা অপ্রয়োজনীয় অপপ্রচারের অংশ।

    মাহদী আমিন বলেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বিএনপির রাজনীতি মূলত বাংলাদেশের স্বার্থকে কেন্দ্র করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের লক্ষ্য হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা।

    ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কেউ যদি এই নামে টাকা দাবি করে, তবে সেটি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং প্রতারকদের অপচেষ্টা। তিনি জানান, বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নারী ও কৃষকের ক্ষমতায়নের জন্য এই কার্ডগুলো উপকারভোগীদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণ হবে। যদি কখনো কেউ অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এ কর্মকাণ্ডে কর্পূর ছড়ানোর চেষ্টা করে, তবে জনগন তা অবশ্যই জানবেন।

    এর পাশাপাশি, আগামী পর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারেক রহমান আজ রাতেই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন জানিয়ে দেন দলীয় কর্মকর্তা। তিনি বললেন, সারাদিনের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী, যুবকদের উদ্দেশ্যে মতবিনিময়, সাংগঠনিক আলোচনা, নির্বাচন সমাবেশ ও জনসংযোগ। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সভা দিয়ে এরপর ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানেও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা ও সভা করবেন। সফর শেষে রাতেই তিনি গুলশানে ফিরে আসবেন।

    মোট মিলিয়ে, এই সফর বিএনপির তরুণ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন, যারা দলের দুর্বলতা আর অগ্রসরতার জন্য নিবেদিত। এই সফরের মাধ্যমে বিএনপি আবারো তাদের জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যত রাজনীতির গতি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে।

  • প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে ভোটময় উত্তেজনা: অভিযোগ, হামলা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে

    প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে ভোটময় উত্তেজনা: অভিযোগ, হামলা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর অলিগলি থেকে জেলা শহর পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা দলীয় জনসভায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেছেন এবং একই দিনের কয়েকটি সহিংসতায় ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়েছে।

    তারেক রহমানের জনসভা

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান সন্ধ্যায় ভাসানটেকের বিআরবি স্কুল মাঠে বিশাল নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘‘দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য। গত ১৫ বছরে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে ‘ডামি’ নির্বাচন করা হয়েছে; এবার জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।’’ তিনি সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এলাকায় গৃহহীনদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেন।

    জামায়াতের উত্তর সফর

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উত্তরাঞ্চলে ব্যস্ত সময় কাটান। পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জনসভা করে তিনি দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে সমাবেশে অংশ নেন। দিনাজপুরে তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘আমরা চাঁদাবাজি করি না এবং করতে দেবো না। অর্থের বিনিময়ে বিচার কেনা যাবে না; আইন সবার জন্য সমান হবে।’’ একই সময়ে খুলনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তারেক রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।

    কেরানীগঞ্জে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ

    গত রাতে কেরানীগঞ্জে নির্বাচনি কার্যালয়ের পাশে হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘নির্বাচন বানচাল করতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে।’’

    নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের কথা

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ফতুল্লার ফাজেলপুরের জনসভায় বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত করার সুযোগ এসেছে। তিনি জানান, তারা প্রথমে পাঁচ দল ও পরে আট দলে গঠনের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন, তবে কিছু দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে এবং শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনার আশ্বাস রেখে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে। (নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর সমর্থনে এসব বক্তব্য বলা হয়েছে।)

    আক্রমণ ও উত্তেজনা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনের ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণসংযোগে গেলে একটি ভবনের ওপরে থেকে অননুমোদিত ব্যক্তি একে লক্ষ্য করে ডিম ও নোংরা পানি নিক্ষেপ করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পাটওয়ারী তার কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বাড্ডার বাঁশতলা এলাকায় সমাবেশে বলেন, ‘‘১০ দলীয় জোটের গণজোয়ার দেখে একটি বড় দল ভয় পেয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’’ তিনি চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিহত করার কথা বলেন।

    বাক্যযুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত

    নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে তীব্র বাক্যযুদ্ধ চলছে। ঢাকা-৭ এলাকার বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন একটি সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘বিএনপি চাইলে ঢাকায় জামায়াত-শিবিরকে রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না।’’

    অন্যদিকে খুলনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বিদেশে থাকা কোনো ব্যক্তির বক্তব্যকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘লন্ডন থেকে কোনো ব্যক্তি আমাদেরকে কুফরি ফতোয়া দিচ্ছেন—এটি অত্যন্ত বাড়াবাড়ি।’’ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বিএনপি ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে সমালোচনা করে বলেন, ‘‘কেউ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যদি বাসায় যায়, তাকে আটকে রাখার মত পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।’’

    প্রচারণার তৃতীয় দিনে পরিস্থিতির ওপর সাধারণ মানুষের উদ্বেগ থাকতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র সমালোচনা ও স্থানেম 경ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় নির্বাচন শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান রয়েছে।

  • কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলি: মির্জা ফখরুলের তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা

    কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলি: মির্জা ফখরুলের তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা

    কেরানীগঞ্জে বিএনপির নেতা হাসান মোল্লাকে গুলি করে আহত করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার দুপুরে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ঘটনায় দ্রুত ও নিষ্ঠার সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের হামলা শুরু করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর ঘাপটি মেরে থাকা দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশের অস্থিতিশীলতাসহ নানা ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হাসান মোল্লার হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই; তা না হলে তারা আরও ভয়াবহ নাশকতা পালন করতে পারে।’’

    বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা এবং জনজীবন-সম্পত্তি সুরক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি আইনশৃঙ্খলার অবনতিশীল পরিস্থিতি দ্রুত সেরে তোলা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের ভয়ের অবস্থা শূন্য করে তোলার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত প্রায় ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে (৪২) গুলি করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং হামলার কারণ ও দায়ীদের দ্রুত বের করে আনার দাবি উঠেছে।

  • মির্জা ফখরুল: জামায়াত অনভিজ্ঞ, বিএনপি পরীক্ষা সইয়ে উত্তীর্ণ দল

    মির্জা ফখরুল: জামায়াত অনভিজ্ঞ, বিএনপি পরীক্ষা সইয়ে উত্তীর্ণ দল

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘‘জামায়াত কখনই সরকারে গিয়ে কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেনি; অন্যদিকে বিএনপি একটি পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ দল।’’

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল টহরী বাজারে নির্বাচনি গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি বলেন, ‘‘উন্নয়ন আনতে পারে একমাত্র ধানের শীষ — আর কেউ পারে না। আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সৈনিক, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সৈনিক। আমরা সেই দল, যেগুলোকে মানুষ নিজের মনে করে, ভরসা করে।’’

    ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। তিনি প্রশ্নবোধক কণ্ঠে বলেন, ‘‘কেউ যারা এখন আপনার কাছে ভোট চাইতে এসেছে, তারা কি কখনো সরকারে গিয়ে আপনার জন্য কাজ করেছে? তারা কি দেশটাকে এগিয়ে নিয়েছে?’’ এরপর তিনি দাবি করেন, ‘‘আমরা কাজ করেছি; আমরা পরীক্ষিত দল। আপনারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, আমরা সরকারে গিয়ে পরিষেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছি।’’

    ভোটের প্রতি আস্থাহীনতার প্রসঙ্গ তোলায় তিনি বললেন, ‘‘গত ১৫ বছরে কেউ সঠিকভাবে ভোট দিতে পেরেছেন কি—আপনারা নিজেরাই জানেন।’’ এই প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় ভোটাররা জানান তারা নির্বিচার ও সুষ্ঠু ভোট দিতে পারেননি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘কিছু ক্ষেত্রে ভোটের আগের রাতেই প্রতিফলন হয়ে গেছে, আবার কখনও ভোট ভাংতি হয়ে গেছে—এটাই গত ১৫ বছরের চিত্র। এবার একটি সুযোগ এসেছে, আপনারা সিদ্ধান্ত নিন।’’

    সরকারে থাকার সময় বিএনপির অযোগ্যতাবোধ দূর করার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি পুনরুচ্চারণ করেন যে, দেশের উন্নয়নে বিএনপির বিকল্প নেই এবং তাই সবাই ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    জাতীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘হাসিনা আপা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন; কিন্তু যারা তাকে সমর্থন করতেন, তাদের তিনি বিপদে ফেলে গেছেন।’’ পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন যে, ‘‘যারা নিরপরাধ, তাদের কেউ বিপদে পড়বে না—আমরা তাদের পাশে আছি।’’

    সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রাখা হলে মির্জা ফখরুল জানান, ‘‘আমার এলাকায় হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে আমি কাজ করি। আমরা সকলকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।’’ তিনি উদ্বিগ্ন সূত্রে যোগ করেন, ‘‘কিছু লোক হিন্দু-মুসলিম বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়—কিন্তু আমাদের সমাজে বিভাজনের কোনো জায়গা নেই; আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করি এবং শান্তিতে থাকতে চাই।’’

  • উত্তরবঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে: শফিকুর রহমান

    উত্তরবঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে: শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরবঙ্গ গরিব নয়—বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎমায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে, অথচ এই অঞ্চলই সারাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভূমিকায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের আর কোনো ঘর থেকে বেকারের মুখ দেখতে চান না তারা। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার সঙ্গে চাকরি ও কর্মসংস্থানে আনা হবে—এ জন্য বন্ধ হয়ে থাকা চিনিকলগুলো দ্রুত চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হবে।

    তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় আমরা দয়ার পাত্রমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই।” এ সময় তিনি দেশের জনগণকে বিপদের সময়ে কখনও পরিত্যক্ত করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা করা হবে না বলে আশ্বাস দেন।

    স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কথা বলায় তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকায় নির্ভর করতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কোনো জেলায় মেডিকেল কলেজ রাখা হবে না—প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে এবং পঞ্চগড়েও মেডিকেল কলেজ হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

    অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বিদেশে পাচার করা চুরি করা টাকা উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে আর কাউকে লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।

    জনসভায় শহীদ পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘‘আমরা তাদের ঋণী; সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সেই ঋণ শোধ করার চেষ্টা করা হবে।’’

    ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। দীর্ঘদিন ধরে ভোটে অংশগ্রহণে বঞ্চিত মানুষদের অধিকার রক্ষা করতে হবে এবং বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

    জনসভায় পঞ্চগড়-১ আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী সারজিস আলমকে শাপলা কলি প্রতীক এবং পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিকুল আলমকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াতের আমির।