বিএনপি নেতা তারেক রহমান নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের ভোট গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোট বাক্স পাহারা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার বিকেল সাড়ে আটটায় চৌদ্দগ্রামের স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের দিন আগে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন, এরপর ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং ফজরের নামাজের পর সরাসরি ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দিবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যাতে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, কোনো প্রকার অনিয়ম বা জোরজবরদস্তি না ঘটে তাতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তারেকের বক্তব্যে নেতাকর্মীরা সমর্থন জানালে তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মন্তব্য করেন। সমাবেশে বিকাল থেকেই গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল হয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন এবং মাগরিবের নামাজের আগেই পুরো মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
কুমিল্লা-১১ আসন (চৌদ্দগ্রাম) এ বছর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করেছেন তিনি। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন দলের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার গঠনে পারলে বিএনপি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। কিছু লোক গত কয়েক দিন ধরে সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলছে বিএনপি মানুষের সাথে ঠকাচ্ছে—এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা আমাকে চেনেন, আমাদের প্রার্থীকে চেনেন। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের কী লাভ? আমাদের আপনাদের কাছে আসতেই হবে, আমরা রাজনীতি করি—ভোট চাই।’’
তিনি আরো বলেন, বিএনপি পূর্বে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে, তাই অভিজ্ঞতা আছে; পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তা কিভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত করতে হবে সেটাও জানে। চৌদ্দগ্রামকে ‘শস্য ভাণ্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া, মসজিদ-মাদরাসার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানী এবং তাঁদের জন্য অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলেছেন। এছাড়াও চৌদ্দগ্রামে খাল খননের কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ভবিষ্যতে সরকার গঠিত হলে।
সমাবেশে কথা বলার সময় তারেককে কাশির সমস্যা দেখা দিলে তিনি বলেছিলেন, ‘‘মাথায় ঠান্ডা লেগেছে, জ্বর আসছে—এজন্য জোরে কথা বলতে পারছি না। একটু ধীরে শুনেন।’’ তবে তা সত্ত্বেও তার বক্তব্যে জোরালো ন্যারেটিভ বজায় রেখেছেন।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিরোধীরা বিএনপির বিষয়ে বদনাম করছে — করুক, এতে আমাদের আপত্তি নেই; আমাদের কাজ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কি করতে পারি সেই পরিকল্পনাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে ‘‘ওয়ান-টু-থ্রি’’ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
সমাবেশ শেষে তারেক আরও কুমিল্লা ও চাঁদপুরের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের নিয়ে মৌখিক সমর্থন ও প্রচার করেন। তিনি আগের ও পরের দিন চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দান, ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ ও সোয়াগাজী ডিগবাজি মাঠে বক্তব্য রাখেন। ভবিষ্যতে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের বালু মাঠেও সমাবেশ ও ভাষণ রাখার কথা রয়েছে।
সমাবেশে তিনি আবারও ধানের শীষ প্রতীককে জোর দিয়ে দাবি করেন এবং ভোটারদের ওই প্রার্থীকে বিজয়ী করে তোলার আহ্বান জানান।
