Category: জাতীয়

  • অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের জন্য জেলে ডিভিশন, সাব-জেলে নয়

    অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের জন্য জেলে ডিভিশন, সাব-জেলে নয়

    গুমের শিকার ভুক্তভোগীরা ন্যায্য ও বৈষম্যhoffীন বিচার পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, অভিযুক্ত সেনা অফিসাররা আইন অনুযায়ী জেলে বিশেষ ডিভিশন পেতে পারেন, তবে সাব-জেল বা কোনও ধরনের বৈষম্য করা উচিত নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরার পর, আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে তারা এই দাবি তুলেছেন।

    এ সময় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহ হিল আমান আল আযমী ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ অন্যরা।

    আয়না ঘরে দীর্ঘ আট বছর গুমের শিকার জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের পুত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহ হিল আমান আল আযমী বলেন, অভিযুক্ত এই সেনা কর্মকর্তারা বাহিনীর বাইরে গিয়ে, বিশেষত র‍্যাবে এসে অপরাধে জড়িয়েছেন। তাদের সংখ্যা পুরো সেনাবাহিনীর এক শতাংশেরও কম। তাই তাদের জন্য পুরো সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সকলের জন্য কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।

    আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান অভিযুক্তদের প্রতি বৈষম্যের বিরোধিতা করে বলেন, এটি একেবারেই ঠিক নয় যে, তাদের সঙ্গে অন্য আসামিদের মতো বৈষম্য করা হবে। তাদেরও সাধারণ জেলে রাখা উচিত, যেমনটি করা হয়েছে গ্রেফতারকৃত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের ক্ষেত্রে। প্রয়োজনে তাদের জন্য আইনানুগভাবে বিশেষ ডিভিশন বা ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

    উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা পরোয়ানা অনুযায়ী, ২৫ সেনা কর্মকর্তা অভিযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সেনানিবাসের সাব-জেলে পাঠানো হয়েছে।

  • ইসি আনোয়ারুল: তত্ত্বাবধায়ক সরকার তৈরির জন্য প্রস্তুতি চলছে

    ইসি আনোয়ারুল: তত্ত্বাবধায়ক সরকার তৈরির জন্য প্রস্তুতি চলছে

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সবসময়ই দেখছি, দেশের কোনো না কোনো সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য প্রস্তুতির অনুভূতি কাজ করছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, এই মুহূর্তে সব ধরনের ব্যাকিং থাকবে এবং ভয়ের কিছু নেই। বুধবার (২২ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সতর্ক ও কনসিকন্সিয়াল (সতর্কতামূলক) ভূমিকা থাকবে। তিনি ইউএনওদের দক্ষতা ও সততার ওপর জোর দেন এবং নির্দেশ দেন যেন তারা যেন কারো পক্ষে না দাঁড়ান, সবাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। পাশাপাশি, তিনি বলেন, এই সময় পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এ জন্য হিম্মত ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং অস্তিত্বের প্রশ্নে যেন কেউ দ্বিধাগ্রস্ত না হন।

    ইসি সভাপতি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে দেশে কিছু অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে, তবে এখন কর্মকর্তাদের মধ্যে সেই ভীতি কমে এসেছে। তারা আরও উদ্বুদ্ধ এবং দৃঢ় হয়ে কাজ করছেন। তিনি জানান, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে সততা, নিষ্ঠা ও সতর্কতার সঙ্গে, এবং কেউ ভয় পাবেন না। নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর আশপাশে কেউ থাকবেনা—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে সবাই শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

  • 15 সেনা কর্মকর্তাকে সাবজেলে রাখবে বাংলাদেশ সরকার, জানালেন ব্যারিস্টার সারোয়ার

    15 সেনা কর্মকর্তাকে সাবজেলে রাখবে বাংলাদেশ সরকার, জানালেন ব্যারিস্টার সারোয়ার

    বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার শাসনকালীন সময়ে সংঘটিত গুম, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসে নির্মিত বিশেষ সাবজেলে রাখা হবে। এটি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন, যিনি এই কর্মকর্তাদের পক্ষের আইনজীবী।

    তিনি বলেন, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তারা তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল নাগাদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়ার পর এই আয়োজনে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ব্যারিস্টার সারোয়ার জানান, ৮ অক্টোবর তিনটি মামলায় ট্রাইব্যুনাল তিনটি আলাদা আদেশ জারি করে, যার ফলে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা issued হয়। এর পরে সেনা কর্তৃপক্ষ সেনা সদর দপ্তরে তাদের হেফাজত নেয়। আজ তারা যথাযথ আইনের পথে নিজ উদ্যোগে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, আদালত তাদের ওকালতনামা স্বাক্ষর এবং তিনটি আবেদন দাখিলের অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি জামিনের আবেদন, একটি প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন ও আরেকটি সাবজেলে রাখার অনুরোধ।

    সাবজেল প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সারোয়ার উল্লেখ করেন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ সিদ্ধান্ত নিবে। পলাতক আসামিদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে। পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ২০ নভেম্বর। আপাতত তাদের সেনানিবাসের নির্ধারিত সাবজেলেই রাখা হবে।

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি গ্রেপ্তার নয়, বরং নিজস্ব ইচ্ছায় আদালতে উপস্থিত হওয়ার শর্তে আত্মসমর্পণ। সকালেই তারা আদালতে হাজির হয়েছেন, পুলিশের কোনও পক্ষ থেকে কোনও গ্রেপ্তারি নির্দেশ দেয়া হয়নি। নিরাপত্তার জন্য একসাথে একটি গাড়িতে আনা হয়। এটি সম্পূর্ণ আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ।

    শনিবার সকাল ৮টার পর এই তিন মামলার শুনানি হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর আদালত ১৫ কর্মকর্তা ওকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    কারাগারে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে থাকছেন র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে. এম. আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন)।

    তাছাড়া, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মো. সারওয়ার বিন কাশেম, মো. রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলমও কারাগারে পাঠানো হয়।

    অতিরিক্তভাবে, ট্রাইব্যুনাল ডিজিএফআই’র সাবেক তিন পরিচালক, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকীকেও জামিন অথবা জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

  • সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক ফের ৫ দিনের রিমান্ডে

    সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক ফের ৫ দিনের রিমান্ডে

    অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত পতনের জন্য অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনের বাদে মামলায় বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইসতিয়াকের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে এই মামলায় দুই দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল।

    ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে মিন্টো রোডের মন্ত্রী পাড়ায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন এনায়েত করিম। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রাডো গাড়িতে করে ঘোরাফেরা করছিলেন। তখন পুলিশ তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোনও সন্তোষজনক উত্তর দেননি তিনি। পরে বিকেলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন পুলিশ। প্রথমে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে রিমান্ডের শুনানি ১৫ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়। সেই দিন তার রিমান্ডের দুই দিন মঞ্জুর হয়। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর তার সহযোগী গোলাম মোস্তফা আজাদকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত প্রত্যেকের জন্য একই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    গত ১৩ অক্টোবর আবারও ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবেদন করেন। আদালত সেই শুনানিতে, আসামি উপস্থিত থাকাকালীন, তার জামিনের আবেদন বাতিল করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে মিন্টো রোডে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করছিলেন এনায়েত করিম। তাকে গাড়ি থেকে নামানোর পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি। পুলিশ তার কাছ থেকে দুইটি আইফোন উদ্ধার করে এবং বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হয়। জানা যায়, তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ও মার্কিন নাগরিক এবং ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে কাতার এয়ারলাইন্সে করে ঢাকায় আসেন। তিনি জানান, তিনি এক বিশেষ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার চুক্তিভিত্তিক এজেন্ট। বর্তমানে অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক, কারণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব দুর্দশাগ্রস্ত এবং সেনাবাহিনীর সাথে দূরত্ব বাড়ছে। এনায়েত করিম গণমাধ্যমে বলেন, তিনি সরকারের পরিবর্তন করে নতুন সরকার গঠনের জন্য কাজ করছেন।

    তিনি আরো জানিয়ে ছিলেন, কেবল চলতি সময়ের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। তার মতে, অ্যামেরিকা বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে হতাশ, এবং ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরে, নতুন সরকার গঠন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। নতুন সরকারের অংশীদারিত্ব ও প্রধানের বিষয়টি আমেরিকা নির্ধারণ করবে, বলে তিনি দাবি করেন।

    এনায়েত করিম তার এই কর্মকাণ্ডের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থার জন্য তথ্য সংগ্রহ আর বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ।

    আসামির বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধের দায়ে তার সহযোগীসহ আরও কয়েকজন গ্রেপ্তার ও কারাগারে আছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন, রওশনপন্থী জাতীয় পার্টির মহাসচিব, সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

  • ইমপোর্ট কুরিয়ার সেকশনে আগুনের সূত্রপাত সন্দেহ: বেবিচক চেয়ারম্যান

    ইমপোর্ট কুরিয়ার সেকশনে আগুনের সূত্রপাত সন্দেহ: বেবিচক চেয়ারম্যান

    বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ঘটে যাওয়া আগুনের সূত্রপাত ইমপোর্ট কুরিয়ার সেকশন থেকেই হয়েছে বলে মনে হয়। তবে ঠিক কী কারণে আগুন লাগেছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়, এটি তদন্তাধীন। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই অংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নানা সংস্থা ছাড়াও তদন্তের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আসল কারণ জানা যাবে।

    মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বেবিচকের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক আরও বলেছিলেন, আগুনের সময় ১৫টি ফ্লাইট বিভিন্ন রুটে পাঠানো হয়। এ সময় বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী আটকা পড়েছিলেন, যারা পরদিন বিকেল ৪টার মধ্যে তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেন।

    তিনি আরও জানান, আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট উপস্থিত হয় এবং ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিসের আরও দল আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আনুমানিক দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনাল, বিশেষ করে ইমপোর্ট কার্গো সেকশনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রথমে টাওয়ার থেকে ধোঁয়া দেখা যায়, পরে আমরা ঘটনা স্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মোকাবিলা করি।

    প্রাথমিক পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের সূত্রপাত ইমপোর্ট কুরিয়ার সেকশনের থেকে হলেও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। একাধিক তদন্ত কমিটি এ ঘটনার সঠিক কারণ জানাতে কাজ করছে। সঠিক তথ্য ছাড়া কোনো মন্তব্য করা অবাঞ্ছিত বলে জানান তিনি।

    বেবিচক চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, আগুন লাগার সময় উত্তর পাশে বিমানবাহিনীর হ্যাঙ্গার ও দক্ষিণ পাশে মূল টার্মিনাল ছিল। কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সতর্কতার কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েনি। আল্লাহর রহমতে, কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।

    তিনি বলেন, ধাপে ধাপে নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। ১০ মিনিটের মধ্যে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে তিনটি ফায়ার ভেহিকল এসে পৌঁছায়। এরপর আরও ফায়ার ভেহিকল যোগ দেয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টির বেশি ফায়ার ফাইটিং ভেহিকল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

    চেয়ারম্যান জানিয়ে তুলেছেন, আগুন লাগার সময় টার্মিনালের ভেতরে বেশ কিছু বিমান ছিল। দ্রুত সেগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকে। উভয় পাশে কাট-অফ মেকানিজম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

  • ৪৫ কোম্পানির ২০০ কোটি টাকার ওষুধের কাঁচামাল জ্বলেছে: ঔষধ শিল্প সমিতির শোকপ্রকাশ

    ৪৫ কোম্পানির ২০০ কোটি টাকার ওষুধের কাঁচামাল জ্বলেছে: ঔষধ শিল্প সমিতির শোকপ্রকাশ

    হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে গত শনিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের سبب ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামাল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় দেশের ঔষধ শিল্পে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা। সংগঠনের মতে, আনুমানিক ৪৫টি শীর্ষ কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে গেছে।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলার সাড়ে ১১টার দিকে তেজগাঁওয়ে সমিতির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানা যায়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম মোসাদ্দেক হোসেন এবং মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বিশদে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরে তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করেন এবং প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন যে, সর্বনিম্ন ৪৫টি বৃহৎ কোম্পানির মূল্যবান কাঁচামালের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

    ডা. জাকির হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডে অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিক ও ক্যানসার ওষুধের কাঁচামালসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওষুধ উৎপাদন কারখানাগুলোর জন্য বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই আনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি শিল্প খাতে নানা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

    এ দিকে, সমিতির মতে, দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ১০০ শতাংশ ওষুধই উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে, এবং এই খেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের সুনাম উচ্চতর হয়েছে। বর্তমানে, বাংলাদেশে তৈরি ওষুধ বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়ে চলেছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া।

    সংগঠনটি জানায়, দেশের ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয় চীন, ভারত ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে। এ ছাড়াও প্যাকেজিং উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও স্পেয়ার পার্টসও সরবরাহ করা হয় আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে। এসব কাঁচামালের বড় অংশ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

    সদস্যরা বলেন, কিছু স্পেয়ার পার্টস ও যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আবার আমদানির জন্য অপেক্ষমান। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এখনো সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে ক্ষতি সীমিত করতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তারা আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

    তাদের আরো সতর্ক করে বলেন, যেসব পণ্য অন্য বিমানবন্দরে আনা হয়েছে, সেগুলোর নির্দিষ্ট তাপমাত্রা রক্ষা জরুরি, এবং এগুলোর ক্ষতি হয়ে গেলে সরবরাহ বন্ধসহ নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এই অগ্নিকাণ্ডে বেশ কিছু নারকোটিকস বিভাগ থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত পণ্য পুড়ে গেছে, যা পুনরায় আমদানি করতে জটিলতা তৈরি হবে।

    সমিতির ধারণা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে, কারণ কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদনও অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক Estimate অনুসারে, এই ঘটনায় দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হতে পারে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে, ফার্মা শিল্পের ঝুঁকি ও সংকট এড়াতে নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরে সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যগুলোর উপর শুল্ক, ডিউটি, ট্যাক্স ও ভ্যাট দ্রুত ফেরত দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যসমূহের এলসির ব্যাংক চার্জ ও সুদ মওকুফ, পুনরায় আমদানির জন্য সহজ শর্তে এলসি খোলা, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের জন্য প্রয়োজনীয় চার্জ বা জরিমানা মওকুফ ও অনুমোদিত নারকোটিকস পণ্য দ্রুত আমদানি, অফিসের ছুটির দিনেও কাস্টমস কার্যক্রম চালু রাখা, কোল্ড চেইন পণ্য দ্রুত মুক্তি দেওয়া, অক্ষত চুরানির দ্রুত মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে অবহিত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে সরকারি সংস্থাগুলোর জরুরি বৈঠক ডেকে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • শিক্ষকদের জন্য বাড়ি ভাড়া ১৫ শতাংশ বাড়ছে, দুই ধাপে কার্যকর হবে

    শিক্ষকদের জন্য বাড়ি ভাড়া ১৫ শতাংশ বাড়ছে, দুই ধাপে কার্যকর হবে

    বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার। এই বাড়িভাড়া বৃদ্ধি দুটি ধাপে কার্যকর হবে, যা এই অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে আরও সুসংগত ও কার্যকরী করবে। সোমবার (২১ অক্টোবর) শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন, যেখানে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    শিক্ষক নেতাদের পক্ষ থেকে দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানিয়েছেন, এই সমাধানটি শিক্ষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, বুধবার (২২ অক্টোবর) থেকে শিক্ষকরা আবার ক্লাসে ফিরে যাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ বলেন, আজকের দিনটি শিক্ষাবিষয়ক ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। তিনি জানান, চলতি বছরের নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে এবং ২০২৬ সালের জুলাই থেকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৭.৫ শতাংশ করে দুই ধাপে মোট ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া কার্যকর হবে। এখনই এই ভাতা নিশ্চিত হওয়ায় শিক্ষকরা অত্যন্ত খুশি ও গর্বিত। তিনি বলেন, শিক্ষককে আরও সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া দরকার এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে রাষ্ট্রের আরও সচেষ্ট থাকতে হবে।

    তার মতে, এই প্রক্রিয়া সহজ ছিল না; বিভিন্ন মতবিরোধ, বিতর্ক এবং অভিযোগের মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে। শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে গেছেন যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এটি কোনো একক কৃতিত্ব নয় — এটি একটি যৌথ সাফল্য।

    উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মাসিক ভাড়া ১০০০ টাকা করে দেয়া হত। ৩০ সেপ্টেম্বর তারা বাড়িভাড়া ৫০০ টাকা বৃদ্ধি চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছিল। তবে আন্দোলনের কারণে সেটি কার্যকর হয়নি। এরপর তারা শতভাগ ভাড়া বৃদ্ধির জন্য আলাদাভাবে অনুরোধ জানান।

    এর মধ্যে, ১৯ অক্টোবর সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া সংক্রান্ত ঘোষণা আসে। সেসময় শিক্ষকরা বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যাতে তারা বাড়িভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি করেছিলেন। মঙ্গলবার শিক্ষকরা কালো কাপড় পরে শাহবাগে অবস্থান নেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে। এখন শিক্ষকরা আবার শিক্ষার মূল কাজের শ্রেণিতে ফিরতে মুখিয়ে রয়েছেন, যাে শিক্ষার্থীদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এ প্রবণতা ও আলোচনা ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগে নতুন নিয়মানুবর্ধন

    সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগে নতুন নিয়মানুবর্ধন

    রেজিস্ট্রেশন বিভাগের কর্মরত কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো নিজস্ব নিয়োগবিধি পেলেন। সোমবার আইন মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে গেজেটের মাধ্যমে নিবন্ধন অধিদপ্তরের জন্য নতুন নিয়োগবিধিমালা-২০২৫। এই নিয়ম চালু হওয়ায় দেশের স্বাধীনের ৫৪ বছর অতিবাহিত হওয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পেলেন রেজিস্ট্রেশন বিভাগের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা। এর ফলে বিভিন্ন জটিলতা দূর হবে এবং পদের উন্নতির ক্ষেত্রে ব্যাপক সুনিশ্চিততা আসবে। সাব রেজিস্ট্রাররা শীর্ষ পদ আইজিআর পর্যন্ত পদোন্নতি পেতে পারবেন, যা দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। এই নতুন বিধিমালার মাধ্যমে সাব রেজিস্ট্রারদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি পেল পাশাপাশি পদোন্নতির দার নতুন করে উন্মোচন হলো। নিবন্ধন বিভাগের শীর্ষ পদ নিশ্চিত করার জন্য অ্যাডিশনাল আইজিআর এবং ডিআইজিআর পদও নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমানে আইআরও ও এআইজিআর পদসহ মোট ১৭টি পদ হয়েছে। বিধিমালায় প্রতিটি পদের জন্য সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির বিস্তারিত নিয়মসহ প্রয়োজনীয় উপবিধি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই বিধিমালা জারির ফলে গেজেটেড অফিসারদের রুলস, ১৯৭৯ কার্যকর থাকবে, যদিও এই রুলস রহিত হবে। তবে, এগুলোর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই নিয়োগ ও পদোন্নতিকে অটুট বলে গণ্য হবে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগ ও পদোন্নতি হবে সরাসরি, প্রেষণে বদলি বা পদের আওতায়। নিয়োগের জন্য গঠিত কমিটি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে সুপারিশ করবে। বেশিরভাগ পদেই নিয়োগ হবে পদোন্নতির মাধ্যমে, তবে কিছু পদে কোটা ও সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শীর্ষতর কোন পদ যেমন মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন (আইজিআর), পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হবে; যদি উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না যায়, তাহলে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। হাজার ভাগে নিয়োগদেয়া পদগুলো হলো অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, উপ-মহাপরিদর্শক, সহকারী মহানিবন্ধন পরিদর্শক ও জেলা রেজিস্ট্রার। জেলা রেজিস্ট্রার হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৭ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা আবশ্যক। সাব রেজিস্ট্রার পদে ৯৫ শতাংশ নিয়োগ সরাসরি হবে, আর ৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে। চাকরির জন্য প্রয়োজন: প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ৭ বছর, অধিদপ্তরের প্রধান সহকারী বা সাঁটলিপিকার, কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে ১২ বছর এবং জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান সহকারী বা উচ্চমান সহকারী হিসেবে ১৫ বছর অভিজ্ঞতা। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান। এইভাবে পদোন্নতি, সরাসরি নিয়োগ ও অভিজ্ঞতার সময়সীমার বিস্তারিত নিয়মাবলি উল্লেখ করে নতুন নিয়মানুবর্ধন চালু হয়েছে।

  • সিইসির মন্তব্য: এআই এর অপব্যবহার বিশ্বসবার মাথাব্যথা, একত্রে চিন্তা করলে সমাধান আসবে

    সিইসির মন্তব্য: এআই এর অপব্যবহার বিশ্বসবার মাথাব্যথা, একত্রে চিন্তা করলে সমাধান আসবে

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর অপব্যবহার বর্তমানে বিশ্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, এআইকে অস্ত্র বা যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা উচিত, ঠিক যেমন একজন ডাক্তার তা ব্যবহার করেন, তেমনি একজন ছিনতাইকারীও এটি ব্যবহার করতে পারেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এআই এর অপব্যবহার রোধের জন্য নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে।

    মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন আয়োজন করে ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এআই অপব্যবহার প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সিইসি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, আমাদের সবাইকে একসাথে চিন্তা করলে আরও ভালো এবং কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসবে। এই কর্মশালাটি সেই লক্ষ্যেই একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে যেখানে বিভিন্ন মতামত ও ধারণা একত্রিত হয়ে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এআই এর অপব্যবহার রোধে একটি শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরির জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দরকার। কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গুরুত্ব দিয়ে মৌলিক সুপারিশ চাওয়া হয়েছে, যেখানে কেবল নীতিমালা নয়, বরং তা বাস্তবায়নের উপায়ও চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। সিইসি বলেন, এই কর্মশালা থেকে আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ পেতে আশা করছি।

    সিইসি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময়, বিশেষ করে গভীর রাতে, নানা ধরনের ঘটনাক্রম ঘটতে পারে। তাই ভুল বা মিথ্যা তথ্য দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলার জন্য ২৪ ঘণ্টার নজরদারি ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। এ জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে উপযুক্ত লোকবল নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে তিনি বলেন, উন্নত ও দ্রুত তথ্য যাচাইয়ের জন্য কার্যকর পদ্ধতি এবং কাঠামো প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি, এই কাজ করবে কোন সংস্থা বা দলের উপর ভিত্তি করে জনবল ও সক্ষমতা নির্ধারণের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার।

    প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা ও সংযোগের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিইসি বলেন, পাহাড়ি এলাকাগুলো কিংবা সমুদ্র উপকূলের দ্বীপগুলো থেকে মিথ্যা বা অপ্রচলিত তথ্য প্রকাশ হতে পারে। এজন্য, এই অঞ্চলের সাথে কেন্দ্রীয় সংযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কর্মীদের নিয়োগ, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সুপারিশ করা দরকার।

    সিইসি আরও বলেন, এই কর্মশালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কাজের গতি ও গতিধারা আরও সমৃদ্ধ করবে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করা।

  • দেশে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৪ জন, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার

    দেশে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৪ জন, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুজনিত রোগে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৪৯ জনে। অন্যদিকে, একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৪২ জন ডেঙ্গু রোগী। এই হিসেবে, চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন পৌঁছেছে ৬০ হাজার ৭৯১ জনে। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে গেছেন ৫৭ হাজার ৭০২ জন রোগী।

    আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত দিনটিতে ডেঙ্গু সংক্রমণে নতুন রোগী ও মৃত্যুর আপডেট পাওয়া গেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন বিভাগের রোগীদের মধ্যে আট বিভাগের বিভাগে হাসপাতাল ভর্তি অবস্থায় রয়েছে। বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২০৩ জন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে রয়েছে ২১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯৯ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৩ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৩ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন ও সিলেট বিভাগে দুজন।

    মৃত্যুবরণ করা চারজনই পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা, একজন ময়মনসিংহ ও অন্য দুইজন রাজশাহী জেলার বাসিন্দা। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ৬৫, ৪০, ৭০ ও ৩২ বছর।

    এখন পর্যন্ত চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬০,০৭৯১ জন। মাস ভিত্তিতে সংখ্যা হল—জানুয়ারিতে ১,১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিল ৭০১ জন, মে ১,৭৭৩ জন, জুনে ৫,৯৫১ জন, জুলাই ১০,৬৮৪ জন, আগস্টে ১০,৪৯৬ জন, সেপ্টেম্বরে ১৫,৮৬৬ জন এবং অক্টোবরে এখন পর্যন্ত ১৩,৪৪৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৯১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ বছর মোট ৫৭,০৭২ জন রোগী এইভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    ডেঙ্গুতে এই বছর মোট ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাস ভিত্তিতে মৃত্যুর সংখ্যা হলো—জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, মার্চে কোনো মৃত্যু হয়নি, এপ্রিল ৭ জন, মে ৩ জন, জুনে ১৯ জন, জুলাইয়ে ৪১ জন, আগস্টে ৩৯ জন এবং সেপ্টেম্বর ৭৬ জন। অক্টোবর পর্যন্ত এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।