Category: জাতীয়

  • পঞ্চগড়ে অচেতন অবস্থায় শিকলবন্দি মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানী উদ্ধার

    পঞ্চগড়ে অচেতন অবস্থায় শিকলবন্দি মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানী উদ্ধার

    পঞ্চগড় থেকে গাজীপুরের টঙ্গী টিএন্ডটি এলাকার বিটিসিএল জামা মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীকে অপহরণের এক দিন পর আবারও পঞ্চগড়ে শিকলবন্দি ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা পঞ্চগড় সদর উপজেলার হেলিপ্যাড বাজারের এক রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে হাত-পা লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তাকে দেখতে পান। খবর পেয়ে অচিরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সদর থানা পুলিশ, যারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীর ছেলে আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তার বাবাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এর আগে বুধবার ফজর নামাজের পরে হাঁটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন মুফতি মাদানী। দীর্ঘ সময় পরেও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার টঙ্গী পূর্ব থানার কাছে লিখিত অভিযোগ করে। জানা যায়, মুফতি মাদানী জুমার খুতবায় সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক মূল্যবোধ ও আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করতেন। এর পাশাপাশি তিনি বহুবার ইসকন ও হিন্দু ছেলেদের মাধ্যমে মুসলিম মেয়েদের প্ররোচিত করার অভিযোগ সম্পর্কেও বক্তব্য রাখেন। এইসব বিষয় নিয়ে তার ওপর বিভিন্ন উড়ো চিঠি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মুফতি মুহिबুল্লাহ মাদানীকে উদ্ধার করেছি। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং ঘটনাটি তদন্তে রয়েছে।’

  • সালমান শাহ খুনের মামলায় ১২ লাখ টাকায় হত্যার সম্ভাবনা ও নতুন জবানবন্দি

    সালমান শাহ খুনের মামলায় ১২ লাখ টাকায় হত্যার সম্ভাবনা ও নতুন জবানবন্দি

    নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু আজও অনেকে আলোচনায় রেখেছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু ঘটলেও, তখন זאת শুধুমাত্র আত্মহত্যা বলে ধরা হয়। তখনকার সময়ে তার সাবেক মেয়ে বন্ধুর বাবা-মা, বিশেষ করে তার শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, এই মৃত্যুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু পরিচিত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য নিশ্চিত হয়নি।

    তবে, দীর্ঘ ২৯ বছর পরে এক বিভ্রান্তির অবসান ঘটানোর জন্য মামলা নতুন মোড় নেয়। গত ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার নির্দেশ দেয়। এর একদিনের মধ্যেই রমনা থানায় সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম নতুন করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    এই মামলার প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে এক নতুন জবানবंदी, যা ১৯৯৭ সালে একই সঙ্গে আসামি রেজভীর দেওয়া। এ জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, সালমান শাহকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এটি আসলে একটি হত্যাকাণ্ড। তিনি জানান, এই খুনের সঙ্গে তাঁর পরিবারসহ আরও অনেকে জড়িত।

    জবানবন্দিতে রেজভী স্বীকার করেন, হত্যার পেছনে ছিল ১২ লাখ টাকা। এর মূল হোতা ছিল সালমানের শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। দৃঢ় অভিযোগ আছে যে, খুনের পরিকল্পনায় ছিলেন বাংলা সিনেমার প্রভাবশালী কিছু খলনায়ক- ডন, ডেভিড, ফারুক ও জাভেদ।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের একটি বারেতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও রেজভী প্রথম মিলিত হয়েছিলেন। তখন ফারুক উল্লেখ করেন, তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, এবং পরবর্তীতে আরো ৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এই টাকা মূলত সালমান শাহর হত্যার জন্যই পাঠানো হয়েছিল।

    বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার রাত আড়াইটার দিকে সালমানের বাড়িতে পৌঁছায় একদল গুপ্তচর। ঘুমন্ত সালমান শাহর ওপর নারকীয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাকারীরা। সঙ্গে ছিলেন সালমানের প্রেমিকা সামিরা, তার মা লুসি ও একক আত্মীয় রুবি।

    সামিরা ক্লোলোফর্ম দিয়ে সালমানের জ্ঞান হারানোর পর, শুরু হয় ধস্তাধস্তি। সালমানের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

    সালমান শাহের মৃত্যু আজও রহস্যের ঘেরা, অথচ ওই সময় বিভিন্ন তদন্ত কমিটি চেষ্টা করেও প্রকৃত কারণ খুঁজে পেল না। বহু বছর ধরে এ ঘটনাকে একাধিকবার অপমৃত্যু হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, আসল সত্য প্রকাশিত হয়নি। ২৯ বছর ধরে চলমান এই মামলার মোট ১১ জন নামের তালিকায় রয়েছে সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম। দ্বিতীয় আসামির তালিকায় রয়েছেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, তার শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।

  • অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন সপ্তাহ পালনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন সপ্তাহ পালনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এক সপ্তাহব্যাপী অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ দেন তিনি প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে (সিএও) আয়োজিত এক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে। শফিকুল আলম, প্রেস সচিব, বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা বা ত্রুটি চিহ্নিত করতে এ পর্যাপ্ত সময়ের জন্য অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শন চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’ এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি বিকেলে, পররাষ্ট্রসেবা একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যেখানে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নাজরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। শফিকুল আলম আরো বলেন, অধ্যাপক ইউনূস দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সরকারের উপদেষ্টা ও সরকারি সংস্থাগুলোর অগ্নিরক্ষা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করার জন্য আহ্বান জানান। এর আগে, বৈঠকের সময়ে বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন সম্প্রতিক বিমানবন্দর অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতি বিস্তারিত ব্রিফ করেন। তিনি জানান, কার্গো ও ফ্লাইট পরিচালনা দ্রুতই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভবনটি এখনও পরিদর্শনাধীন। বুয়েটের ড. ফখরুল আমিনের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল ভবনের দ্রুত ব্যবহারযোগ্যতা মূল্যায়ন করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে সরকার যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডসহ অস্ট্রেলিয়া, চীন ও তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও ফরেনসিক সহায়তা চেয়েছে বলে প্রেস সচিব জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছিলেন, বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি-ক্যামরা ও ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যায়। এ বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

  • জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা বিফল, ফখরুলের মন্তব্য

    জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা বিফল, ফখরুলের মন্তব্য

    প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘মহাকালের মহানায়ক শহীদ জিয়া’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার পর অল্প সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু কেউ তা সফল করতে পারেনি। বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠার জন্য নানা ধরনের সংগ্রাম ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তিকে বলীয়ান করেছে। বারবার চেষ্টা করা হয়েছে বিএনপিকে নেগেটিভভাবে উপস্থাপন করতে, কিন্তু বাংলাদেশের সেই সব অর্জনের পিছনে মূল কারিগর ছিলেন বিএনপি। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্রকে দৃঢ় ও সুস্থ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করবো।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, চলমান ১৫ বছর দেশের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এখন দেশের জন্য দ্রুত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার দরকার। বিএনপি সহযোদ্ধা হিসেবে একটি অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত। তবে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে অব্যাহতভাবে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

    শেষে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় সবাইকে তিনি অনুরোধ জানান, সব সময় সত্যটিই তুলে ধরুন এবং দেশের সামনে সত্য কথা বলতে সাহস দেখান।

  • শেখ হাসিনার বিচার না হলে July শহীদদের ওপর অবিচার হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

    শেখ হাসিনার বিচার না হলে July শহীদদের ওপর অবিচার হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, 1971 সালে অনুষ্ঠিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা উল্লেখ করে তিনি warn করেছেন যে, যদি শেখ হাসিনা সহ অন্য আসামিরা বিচার না পান, তবে জুলাই মাসে শহীদ ও আহতদের ওপর অবিচার চলবে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সর্বশেষ শুনানিতে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন, প্রথমে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে শেখ হাসিনা ন্যায়বিচার পাবেন। কারণ, তিনি অন্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, সাহস থাকলে বিচারকের মুখোমুখি হন। কিন্তু এখন তিনি মনে করেন, তিনি এই কথা মন থেকে বলেননি, কারণ যদি বলতেন, আজকে তাঁরা দেশের আদালতে এসে বিচারকের সামনে দাঁড়াতেন।

    তিনি আরও জানান, এই আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি না দিলে দেশের আরও অসংখ্য মানুষ বিপন্ন হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে বাংলাদেশে অনেকেই ভীরু ও কাপুরুষের মতো জীবন কাটাবেন। তিনি সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    তার কথার পরে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, নিহত ও আহত পরিবারসহ সকল পক্ষই যথাযথভাবে বিচার পাবে।

    প্রসিকিউশন আজকের শুনানিতে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শেষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছে। এরপর সিদ্ধান্তের জন্য রায়ের দিন ধার্য করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

    এর আগে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মামলার শুনানিতে জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যা, নৃশংসতা, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুনসহ নানা জেলাজনিত নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ পায়। মামলায় বেশ কিছু সাক্ষ্যদান করেন প eyewitnesses, জনমত তৈরি করেছেন গুম-খুনের পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য ব্যক্তিরা।

    সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন বলছে, এখন পর্যন্ত উপস্থাপিত প্রমাণ ও সাক্ষ্যগুচ্ছ বিশ্বের যে কোনও আদালতেই আসামিদের অপরাধ নিশ্চিতের জন্য যথেষ্ট।

  • একাত্তরে জামায়াতের ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ডা. শফিকুর রহমান

    একাত্তরে জামায়াতের ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ডা. শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় দলের ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) নিউ ইয়র্কে কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনের (কোবা) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ক্ষমা প্রদান করেন। শফিকুর রহমান বলেন, শুধু একাত্তরই নয়, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, আমাদের দ্বারা যারা কষ্ট পেয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সকলের কাছে আমি বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছি। তিনি আরও বলেন, একজন ব্যক্তির মতোই একজন দলও ভুল করতে পারে। কোন সিদ্ধান্ত ভুলে পরিণত হবে বা সঠিক তা ইতিহাসই নির্ধারণ করবে। আজ যা ভুল বলে মনে করা হচ্ছে, কাল সেটা সবচেয়ে বড় সঠিক বলে প্রমাণিত হতে পারে। শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা একজন আদর্শবাদের দল। বিশ্বাস করি মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আমাদেরও নানা ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি হতে পারে, এবং এর জন্য আমি কোন শর্ত আরোপ না করে সরাসরি ক্ষমা চেয়েছি। তার কথায়, মাফ চাওয়া কোনো পরাজয় নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধের পরিচায়ক। তিনি বলেন, আমি আমার মানবিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বের স্থান থেকে এই ক্ষমা চেয়েছি। এরপর তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই পিআর এবং অন্যান্য ইস্যুতে গণভোটের দাবি জানান। শফিকুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির রোজার আগে নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না। যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা নির্বিঘ্নে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সমতাসূত্রে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় জামায়াতের।

  • সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য হাইকোর্ট থেকে আরও ৬ মাস সময় কর্তৃপক্ষের

    সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য হাইকোর্ট থেকে আরও ৬ মাস সময় কর্তৃপক্ষের

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের জন্য আরও ছয় মাস সময় অনুমোদন দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে এই সময়ের ভিত্তিতে আদালত উল্লেখ করেছে, এটি শেষবারের মতো সময় বাড়ানো, যাতে তদন্তের কাজ দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) এই আদেশ দেওয়া হয়, যখন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন অনুযায়ী উচ্চ আদালত এটা গ্রহণ করেন। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার আয়োজিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত নেন।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ, সাথে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুশফিকুর রহিম। অন্যদিকে, রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ ও শিশির মনির।

    এর আগে, ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে এই হত্যা মামলার তদন্তের জন্য পিবিআই প্রধানের নেতৃত্বে চার সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্সে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মী বা বিশেষজ্ঞরা ছিলেন। এই টাস্কফোর্সের জন্য হাইকোর্ট আগে ২২ এপ্রিল ছয় মাসের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

    ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হয়েছিলেন সাগর ও রুনি। তারা তখন বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছর বয়সী ছেলে মাহির সরোয়ার মেঘ। ঘটনার সময় ঘরে ছিলেন না, কারণ তারা কাজের জন্য বাসায় ছিল। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক ও রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

    ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন: রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম (অরুন), আবু সাঈদ, নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ, ও তানভীর রহমান খান। এর মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে আছেন।

    এখন পর্যন্ত এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১২১ বার সময় পিছিয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর।

  • মিটফোর্ডের মতো নৈশপ্রহরীকে ইট দিয়ে থেঁতলে নির্মম হত্যা

    মিটফোর্ডের মতো নৈশপ্রহরীকে ইট দিয়ে থেঁতলে নির্মম হত্যা

    নারায়ণগঞ্জে আবু হানিফ (৩০) নামে এক নৈশপ্রহরীকে নৃশংসভাবে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যা করার ভয়াবহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, পাঁচ থেকে সাতজনে সাজ-is না থাকা হামলাকারীরা একের পর এক ইট দিয়ে তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করছে, যা দেখে মনে হয় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি খুবই পরিকল্পিত। এই ঘটনা ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সাম্প্রতিক ব্যবসায়ী হত্যা মামলার সঙ্গে ব্যাপক মিল রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে হানিফকে তার নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের খানপুর জোড়া ট্যাংকি মাঠে নিয়মিত নির্যাতন চালানো হয়। তার বিরুদ্ধে এক শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে তাকে দফায় দফায় পিটিয়ে আহত করা হয়। নির্যাতনের পর হামলাকারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে চলে যায়। অন্তত একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, তারা হানিফকে অনেক আগে থেকে সন্দেহ করে এসেছিল।

    স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজন подозোষকে গ্রেপ্তার করেছে; তারা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগরের বাহার (৩৬), তার ভাই সাইদুল ইসলাম (২৫) এবং নারায়ণগঞ্জের মেট্রো এলাকায় শফিকুল রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান জিতু (২৯)।

    নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ অন্যান্য আসামিদের ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মামলার তদন্ত চলছে বলে জানান ওসি মো. নাসির।

    পরিবারের সদস্যরা জানায়, নিহত আবু হানিফ বাড়িতে থাকতেন নারায়ণগঞ্জের খানপুরে, তিনি বাগেরহাটের শরণখোলার আবুল কালামের ছেলে। তার স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে।

    হানিফের ছোট বোন রাবেয়া বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে কিছু ছেলে আমার ভাইকে মারতে মারতে নিয়ে যায়। আমরা বাধা দিলে তারা শুনেনি। পরে শুনি, তারা বলে ভাই বাচ্চা ধর্ষণ করতে চেয়েছিল—কিন্তু সেরকম কিছু আমি জানি না।’

    অভিযোগের পর, তার ভগ্নিপতি মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘ঘটনার খবর শুনে আমি দ্রুত কাজ থেকে ফিরে আসি। আমাকে ফোন করে জানানো হয়, কিছু ছেলে বাসায় ঝামেলা করছে। আমি ফিরে গিয়ে দেখি, তারা আমাকে ধরে খানপুর জোড়া ট্যাংকি মাঠে নিয়ে গেছে। সেখানে আমি হানিফ ভাইকে ভিতরে বসে থাকতে দেখেছি। তারা হানিফ ভাইকে অটোতে তুলে কোথাও নিয়ে যায়। অনেক পরে তাকে হাসপাতালে শনাক্ত করি।’

  • পুঁজিবাজারে শিবলী-রিয়াজ আজীবন নিষিদ্ধ

    পুঁজিবাজারে শিবলী-রিয়াজ আজীবন নিষিদ্ধ

    বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তার সর্বশেষ ৯৭৮তম কমিশন সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলো, যেখানে সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং এলআর গ্লোবাল এ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে পুঁজিবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    বিজ্ঞানী ও অ্যাকাউন্টিং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত তারেক বাংলাদেশ অর্থনীতি ও বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তা, যা নিশ্চিত করে যে পুঁজিবাজারে কেউই অবৈধ ও অনৈতিক কাজের মাধ্যমে নিজের স্বার্থ আদায় করতে পারবেন না।

    বিএসইসির এক বিজ্ঞপ্তি জানিয়েছে, করোনার সময় পদ্মা প্রিন্টার্স এ্যান্ড কালার লিমিটেডের বিনিয়োগ ও কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডের মূলধন ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক যোগাযোগ ও জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে তাদের এই কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। এর আগে, গত সেপ্টেম্বর মাসে পুঁজিবাজারের ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত কোয়েস্ট বিডিসির কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। ওই অনুসন্ধানে দেখা যায়, পরিচালক ও কর্মকর্তারা শেয়ার উচ্চ দামে ক্রয় করেছেন, বিনিয়োগের নামে অবৈধ লেনদেন করেছেন, সম্পদের ভ্যালুয়েশন চালিয়েছেন এবং অনুমোদনবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করেছেন।

    তদন্তের প্রক্রিয়ায় উঠে এসেছে, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত এক ঘটনাবহুল সময়ে, তখনকার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের সহায়তায় রিয়াজ ইসলাম এলআর গ্লোবালের মাধ্যমে পদ্মা প্রিন্টার্সের ৫১ শতাংশ শেয়ার কেনা হয়। এর মধ্যে উচ্চ দামে শেয়ার কেনাকাটা, ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের সহযোগিতায় পরিচালক পদে কর্মকর্তাদের বসানো, টাকাপয়সার অবৈধ ব্যবহার এবং সম্পদ মূল্যায়নে অনিয়মের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসা চালানো ছিল মূল কূটকৌশল।

    অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির জন্য প্ররোচিত করেছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে, এলআর গ্লোবালের ব্যবস্থাপনায় থাকা মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে মূলধনের ক্ষতি হেতু তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য তাদের কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দপ্তরের তদন্ত ও মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের জন্য দুদককে সংক্রান্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এবং পুঁজিবাজারের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • সিইসির সতর্কবার্তা: চাপের কাছে নতি স্বীকার নয়, আইনের প্রতি অটল থাকতে হবে

    সিইসির সতর্কবার্তা: চাপের কাছে নতি স্বীকার নয়, আইনের প্রতি অটল থাকতে হবে

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাশির উদ্দিন জোর দিচ্ছেন, কোনো ধরনের চাপ, প্রভাব বা নির্দেশের কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন না। তিনি বলেছেন, সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। চাপের কাছে মাথা নত না করে, আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনারস’ (ToT) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিইসি এই নির্দেশনা দেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউএনওদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করতে দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে তারা মাঠ পর্যায়ে অন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, এবং উপস্থিত ছিলেন অন্য চার কমিশনার।