Category: জাতীয়

  • ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকীর

    ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকীর

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

    বিশ্বজয়ী এই হাফেজের মৃত্যুর জন্য দায়ী হয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে তার অবস্থা আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

    তিনি জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অনুষ্ঠিত কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয় করে তুলেছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশের বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন।

    তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন তার উস্তাদ, মারকাযুত তাহফিজের প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ কারী শায়খ নেছার আহমদ আন-নাছিরী। তিনি জানান, এ চলচ্চিত্রের পরে বাদ জোহর ব্যাংকুল মোকাররমের জাতীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার দেহ কুমিল্লার মুরাদনগরের গ্রামে তার পৈতৃক বাড়িতে দাফন করা হবে।

    জানা যায়, ২০১৭ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৬২টি দেশের মধ্যে প্রথম অবস্থানে আসেন হাফেজ ত্বকী। এরপর তিনি কুয়েত ও বাহরাইনে থেকে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।

    জন্ম হয় কুমিল্লার মুরাদনগরের ডালপা গ্রামে, ২০০০ সালে। তার বাবা মোখলেছ আলী একজন মাদরাসা শিক্ষক। নিজের ভবিষ্যৎ দেখে অনেক স্বপ্ন দেখতেন এই মেধাবী ছাত্র। তাঁর এ অপ্রত্যাশিত মৃত্যু পরিবারসহ সকলের হৃদয়ে গভীর শোক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

  • অস্ত্র মামলায় যুবলীগ নেতা সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    অস্ত্র মামলায় যুবলীগ নেতা সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    অস্ত্র আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। সম্রাট নিজে আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারের তারিখ থেকে তার সাজা কার্যকর হবে। এই মামলায় আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। রায়ে বলা হয়েছে, আসামি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এর ১৯ (ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তার সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। দণ্ড কার্যকর শুরু হবে তার আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারির তারিখ থেকে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগাঁও থেকে র‌্যাব তার গ্রেপ্তার করে। এরপর কাকরাইলের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার হয়। বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার জন্য তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতে। এরপর ৭ অক্টোবর র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তপ্রক্রিয়ায় ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর আদালতে অস্ত্র আইনের অভিযোগপত্র জমা দেয় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শেখর চন্দ্র মল্লিক। ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি বিচার শুরু হয়, তখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামি উপস্থিত না থাকার কারণে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বিচার চলাকালে মোট ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ করে আদালত আগামী ২৮ অক্টোবর রায় দেওয়ার দিন ধার্য করেন।

  • জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের

    জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের

    জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে সব দলেরই একমত হয়েছে যে, গণভোটটি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এর সময়সীমা নিয়ে বিতণ্ডা চলছিল— গনতন্ত্রের মূল নির্বাচন কি আগে হবে না কি গণভোটের পরে, এ নিয়ে চাপানউতোর চলছিল। এই পরিস্থিতিতে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজন করা হবে।

    মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরও বেশ কিছু কমিশনের সদস্য।

    সুপারিশমালার বিস্তারিত অনুযায়ী, জুলাই সনদের কার্যাদেশ তিন ধাপে আইনি ভিত্তি পাবে। প্রথমে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি আদেশ জারি করবে যা বলে দেবে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের। এরপর এই আদেশের ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন করা হবে। যদি গণভোটে সনদ পাস হয়, তবে নির্বাচিত সংসদ ২৭০ দিন (প্রায় ৯ মাস) এর মধ্যে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে। আর যদি সময়মতো বাস্তবায়ন না হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সনদ কার্যকর হয়ে যাবে বলে সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে ব্যানার টানানোর ঘটনায় সংঘর্ষে যুবদলকর্মীর মৃত্যু

    চট্টগ্রামে ব্যানার টানানোর ঘটনায় সংঘর্ষে যুবদলকর্মীর মৃত্যু

    চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার এক্সেস রোড এলাকায় সোমবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাতে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি সম্বলিত ব্যানার টানানো ও সরানোর বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক ঝড়ে রূপ নেয়। এরই নেপথ্যে গুলির খবর ও রক্তাক্ত দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে একজন যুবদলকর্মী মো. সাজ্জাদ (২৬) ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং অন্তত আটজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    সূত্রে জানা গেছে, রাতের ঘটনাটি ঘটে বাকলিয়ার এক্সেস রোডের একটি এলাকায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মিনহাজুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর তারা রক্ত বৃথা অবস্থায় আহতদের মূর্খে নিয়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত উত্তেজনা ও অন্যায্য শক্তির প্রয়োগের কারণে সংঘর্ষের বিবরণ আরও গাজা হয়, যেখানে একজনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছুজন আহত হয়।

    চমেক হাসপাতালে নেতা পরিচয় দিয়ে গুলিবিদ্ধ আহতদের মধ্যে জিএম সালাউদ্দিন আসাদ দাবি করেন, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই যুবদলের নামে অপকর্ম চালাচ্ছে। মেয়রের ছবি লাগিয়ে ব্যানার ও পোস্টার ঝুলিয়েছিল, যা মেয়র ও তার দলের লোকেরা সরাতে বলায় তাদের ওপর হামলা হয়। এ সময় ভবনের ছাদ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়, যার ফলস্বরূপ সাজ্জাদ ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

    চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা এমদাদুল বাদশা বললেন, হামলাকারীরা গুলি চালানোর আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং তাদের চালানো অপ্রকাশ্য অপকর্মের জন্য যুবলীগের বদলে যুবদলের নামে নানা অপমানজনক কাজ চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে তারা যুবদলের নাম ব্যবহার করে নানা দুষ্টচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

    চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক জানান, গুলিবিদ্ধ একজন যুবকদের মধ্যে একজন মারা গেছেন, যিনি বুকের গুলির আঘাতে নিহত হন। আহত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ওই ঘটনায় বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, রাতে এক্সেস রোডে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন, যাঁরা দ্রুত চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

  • ঘূর্ণিঝড় মোন্থার শক্তি বৃদ্ধি, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিমি

    ঘূর্ণিঝড় মোন্থার শক্তি বৃদ্ধি, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিমি

    বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত গভীর নিম্নচাপটি এখন ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সমুদ্রের তীব্র উত্তাল হচ্ছে। জানা গেছে, এটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে অতিক্রম করতে পারে।

    শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে আবহাওয়া অফিসের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তার আশপাশের দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে এখন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর কেন্দ্র বর্তমানে অবস্থিত ১১.৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫.৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের অঞ্চলে।

    আজ ভোর ৩টায় এই ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৬০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৩০০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১২৮০ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে। আসছে দিনগুলোতে এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, আগামী মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বা রাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই শক্তিশালী ঝড়।

    ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের বাতাসের সর্বোচ্চ গতি এখন ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, তবে ঝড়ো বা দমকা হাওয়ার সময় এই গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। আশঙ্কা রয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি যদি আরও শক্তি বৃদ্ধি করে এবং সিভিয়ার সাইক্লোনে পরিণত হয়, তবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাসের উদ্বেগ সৃষ্টি হবে।

    প্রসঙ্গত, এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে দ্বিতীয় অস্থায়ী সতর্কতা সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছে নিরাপদে চলাচল ও বিচরণ করতে বলা হয়েছে। গভীর সাগরে বিচরণ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ঝড়ের প্রভাবে কোনও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা না ঘটে।

  • চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: ৪২ হাজার ৭৬১ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে দেশের নির্বাচন

    চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: ৪২ হাজার ৭৬১ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে দেশের নির্বাচন

    নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অফশনে দেশব্যাপী ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৬১টি। আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এই তথ্য প্রদান করেন তিনি।

    সচিব বলেন, আমরা আজ ভোটকেন্দ্রের তালিকা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করেছি। দেশের ৬৪ জেলার ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২,৭৬১টি। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত কক্ষের সংখ্যা হলো ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি, এবং মহিলাদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। সব মিলিয়ে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি।

    আখতার আহমেদ আরও জানান, অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে ১৪টি, যেখানে প্রায় ১২ হাজার ভোটকক্ষ থাকবে। প্রত্যেকটি ভোটকক্ষে গড়ে ৩ হাজার ভোটার থাকতে পারে, যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি বা কম হতে পারে প্রয়োজন অনুযায়ী। এটি ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ হিসেবে ধরা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্ভবত প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা সমন্বয় করা হবে।

    ইসি’র খসড়া অনুযায়ী, প্রথমে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৬১৮টি, যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছিল ৪২ হাজার ১৪৮টি। এই নির্বাচনে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬টিতে, যেখানে পূর্বের নির্বাচনে ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪টি। অর্থাৎ, নির্বাচন বাড়লেও ভোটকক্ষের সংখ্যা কমেছে।

    এছাড়া, নতুন রাজনৈতিক দল ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চলতি সপ্তাহেই সম্পন্ন হবে বলে জানান ইসির সচিব।

    অপর দিকে, এনসিপির প্রতীকের বিষয়ে আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বিধিমালায় শাপলা প্রতীকের অনুপস্থিতির কারণে এনসিপিকে শাপলা প্রতীকের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। তবে, নির্বাচন কমিশন স্ববিবেচনায় অন্য কোনো প্রতীক নির্বাচন করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে কোনো গণভোটের বিষয়েও কোনও তথ্য আসেনি।

  • মেট্রো ও ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের মান নির্ণয়ে হাইকোর্টে রিট

    মেট্রো ও ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের মান নির্ণয়ে হাইকোর্টে রিট

    মেট্রোরেল ও সব ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের গুণগত মান নিশ্চিত করতে একটি টিম গঠনের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। এই রিটের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে, পুরো ট্র্যাকের গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানের মান কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং সেটি ঠিক থাকলে কি না। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এসব উপাদনের মান সরাসরি জনসাধারণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী, ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন, মানবসেবার স্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে স্বপ্রণোদিতভাবে এই বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

    আদেশের অপেক্ষায় থাকা এই বিষয়ের ওপর চলতি সপ্তাহেই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ, বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বে, শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

    অন্যদিকে, মেট্রোরেল নির্মাণের সময় ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনা আরও দুঃখজনক। সোমবার সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কবরস্থানে আবুল কালাম (৩৬) নামে এক ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি গতকাল সকালে সেখানে একটি ব্যাপক দুর্ঘটনার শিকার হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল দিয়ে হাঁটার সময় ওপর থেকে ভারী ধাতব কোনো বস্তু নিচে পড়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনা বিস্ময়কর এবং গভীর উদ্বেগের বিষয়, যা নির্মাণ কাজের নিরাপত্তা ও মনিটরিং এর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

  • এনসিপির জন্য শাপলা প্রতীক থাকছে না, অন্য প্রতীকে গণবিজ্ঞপ্তি: ইসি সচিব

    এনসিপির জন্য শাপলা প্রতীক থাকছে না, অন্য প্রতীকে গণবিজ্ঞপ্তি: ইসি সচিব

    নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বিধিমালায় শাপলা প্রতীক না থাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই প্রতীক পাবে না। তবে তারা স্ববিবেচনায় অন্য কোন প্রতীক দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে। আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশের সময় তিনি এসব তথ্য জানান।

  • নোয়াখালীতে মাদরাসায় ঘুমের মধ্যে ছাত্রকে গলা কেটে হত্যা

    নোয়াখালীতে মাদরাসায় ঘুমের মধ্যে ছাত্রকে গলা কেটে হত্যা

    নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক মাদরাসা ছাত্রকে তার ঘুমের মধ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত ছাত্রকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুতই আটক করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ জীবনে এই নৃশংস ঘটনা এলাকায় স্তব্ধতা সৃষ্টি করেছে।

    আজ সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম এ হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অপরাধের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়, এই ঘটনা রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাটরা আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া মাখফুনুল উলুম মাদরাসায় ঘটেছে।

    নিহত ছাত্রের নাম মো. নাজিম উদ্দিন (১৩), সে উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের ওবায়েদ উল্ল্যার ছেলে। অপরদিকে, আটক ব্যক্তির নাম আবু ছায়েদ (১৬), তিনি ময়মনসিংহ জেলার টেঙ্গাপাড়া গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের মতে, নাজিম ও ছায়েদ একই মাদরাসার আবাসিক বিভাগের ছাত্র। তারা পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেন, নাজিম ২২ পারা ও ছায়েদ ২৩ পারা। কিছুদিন আগে, টুপি পরা নিয়ে তাদের মধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া হয়। মাদরাসার একজন শিক্ষক বিষয়টি মিটমাট করে দিলেও, এই ঝগড়ার জের ধরে আরেকটি অঘটন ঘটে।

    গত ১০-১৫ দিন আগে, ক্ষিপ্ত হয়ে ছায়েদ সোনাইমুড়ীর বাজার থেকে ৩শ টাকা দিয়ে একটি ধারালো ছুরি কিনে রাখে। রোববার রাতে, অন্য ছাত্ররা ঘুমালে, সে মনোযোগ না দিয়ে ঘুম থেকে উঠে নাজিমের গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় গ্রামের অন্য ছাত্র ও শিক্ষকরা ঘুম থেকে জেগে এ ঘটনাটি দেখতে পান।

    সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ভোরের দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। অভিযুক্ত ছেলেটিকে হেফাজত করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি টুপি পরে থাকা বিষয় নিয়ে ছোটখাটো বিরোধের ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে, যেখানে আইনি প্রক্রিয়া চলবে। এই ভয়ংকর ঘটনায় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, শান্তিপূর্ণ জীবন বিঘ্নিত হচ্ছে।

  • সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউলের গুমের তদন্ত প্রতিবেদন ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ

    সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউলের গুমের তদন্ত প্রতিবেদন ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) শুনানি শেষে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের গুমের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, যেখানে মামলার সঠিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।

    এছাড়াও, চানখারপুলে শহীদ আনাসসহ ৬ জন হত্যার মামলার মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ২০তম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রক্রিয়া চলাকালে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এই প্রবণতা গ্রহণ করে।

    এদিকে, এই মামলার এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল সুজন, ইমাজ হোসেন ও নাসিরুল। অন্যদিকে, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ চক্রবর্তী, রমনা জোনের ডিসি আকতার, এবং এসি ইমরুল পলাতক রয়েছেন।

    অপরদিকে, আজ রোববার ফার্মগেটের শহীদ গোলাম নাফিস হত্যার মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালকে প্রেরিত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অবহিত করবে বলে জানানো হয়েছে।